★ এক জন শিক্ষত মা, জাতিকে উপহার দিতে পারে একটি শিক্ষত সন্তান।
★ একজন শিক্ষত ব্যক্তি, একটি শিক্ষত জাতি গড়ে তুলতে পারে ।
Tafalbari College Library
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Tafalbari College Library, Library, Tafalbari, Shorankhola, Bagerhat.
★ শিক্ষাই পারে মানুষকে আন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখাতে ★
অমন দীননয়নে তুমি
চেয়ো না ।
অমন সুধা-করুণ সুরে
গেয়ো না ।
সকালবেলা সকল কাজে
আসিতে যেতে পথের মাঝে
আমারি এই আঙিনা দিয়ে
যেয়ো না ।
অমন দীননয়নে তুমি
চেয়ো না ।
মনের কথা রেখেছি মনে
যতনে ,
ফিরিছ মিছে মাগিয়া সেই
রতনে ।
তুচ্ছ অতি , কিছু সে নয় ,
দু চারি ফোঁটা অশ্রু ময়
একটি শুধু শোণিত-রাঙা
বেদনা ।
অমন দীননয়নে তুমি
চেয়ো না ।
কাহার আশে দুয়ারে কর
হানিছ ?
না জানি তুমি কী মোরে মনে
মানিছ!
রয়েছি হেথা লুকাতে লাজ ,
নাহিকো মোর রানীর সাজ ,
পরিয়া আছি জীর্ণচীর
বাসনা ।
অমন দীননয়নে তুমি
চেয়ো না ।
কী ধন তুমি এনেছ ভরি
দু হাতে ।
অমন করি যেয়ো না ফেলি
ধুলাতে ।
এ ঋণ যদি শুধিতে চাই
কী আছে হেন , কোথায় পাই —
জনম-তরে বিকাতে হবে
আপনা ।
অমন দীননয়নে তুমি
চেয়ো না ।
ভেবেছি মনে , ঘরের কোণে
রহিব ।
গোপন দুখ আপন বুকে
বহিব ।
কিসের লাগি করিব আশা ,
বলিতে চাহি , নাহিকো ভাষা —
রয়েছে সাধ , না জানি তার
সাধনা ।
অমন দীননয়নে তুমি
চেয়ো না ।
যে-সুর তুমি ভরেছ তব
বাঁশিতে
উহার সাথে আমি কি পারি
গাহিতে ?
গাহিতে গেলে ভাঙিয়া গান
উছলি উঠে সকল প্রাণ ,
না মানে রোধ অতি অবোধ
রোদনা ।
অমন দীননয়নে তুমি
চেয়ো না ।
এসেছ তুমি গলায় মালা
ধরিয়া —
নবীন বেশ , শোভন ভূষা
পরিয়া ।
হেথায় কোথা কনক-থালা ,
কোথায় ফুল , কোথায় মালা —
বাসরসেবা করিবে কে বা
রচনা ?
অমন দীননয়নে তুমি
চেয়ো না ।
ভুলিয়া পথ এসেছ , সখা ,
এ ঘরে ।
অন্ধকারে মালা-বদল
কে করে!
সন্ধ্যা হতে কঠিন ভুঁয়ে
একাকী আমি রয়েছি শুয়ে ,
নিবায়ে দীপ জীবননিশি
যাপনা!
অমন দীননয়নে আর
চেয়ো না
গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা।
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।
একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসীমাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা—
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।
গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে,
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
ভরা-পালে চলে যায়,
কোনো দিকে নাহি চায়,
ঢেউগুলি নিরুপায়
ভাঙে দু-ধারে—
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
ওগো, তুমি কোথা যাও কোন্ বিদেশে,
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।
যেয়ো যেথা যেতে চাও,
যারে খুশি তারে দাও,
শুধু তুমি নিয়ে যাও
ক্ষণিক হেসে
আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।
যত চাও তত লও তরণী-’পরে।
আর আছে?— আর নাই, দিয়েছি ভরে।
এতকাল নদীকূলে
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে
থরে বিথরে—
এখন আমারে লহ করুণা করে।
ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই— ছোটো সে তরী
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
শ্রাবণগগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শূন্য নদীর তীরে
রহিনু পড়ি—
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
( ডিসেম্বর ৯ , ১৮৮০ - ডিসেম্বর ৯ ,
১৯৩২ )
উনবিংশ শতাব্দীর একজন খ্যাতিমান
বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ
সংস্কারক। তাঁকে বাঙ্গালী
নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য
করা হয়। [১]
জন্ম
রংপুরের পায়রাবন্দ
গ্রামে বেগম রোকেয়ার
জন্মস্থান
রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮০ সালে
রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে।
তাঁর পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু
আলী হায়দার সাবের সম্ভ্রান্ত
ভূস্বামী ছিলেন। তাঁর
মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধু
রানী। রোকেয়ার দুই বোন
করিমুননেসা ও হুমায়রা, আর তিন ভাই
যাদের একজন শৈশবে মারা যায়।
ব্যক্তিগত ও কর্মজীবন
প্রথম জীবন
তৎকালীন মুসলিম
সমাজব্যবস্থা অনুসারে রোকেয়া ও
তাঁর বোনদের
বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠানো হ
য়নি, তাদেরকে ঘরে আরবী ও উর্দু
শেখানো হয়। তবে রোকেয়ার বড়
ভাই ইব্রাহীম সাবের আধুনিকমনস্ক
ছিলেন। তিনি রোকেয়া ও
করিমুননেসাকে ঘরেই গোপনে
বাংলা ও ইংরেজি শেখান।
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সম্পর্কে বঙ্গের মহিলা কবি
গ্রন্থে লিখেছেন, [২]
“ বঙ্গের
মহিলা কবিদের
মধ্যে মিসেস আর,এস,
হোসায়েনের নাম
স্মরণীয়।
বাঙ্গালাদেশের
মুসলমান-নারী-
প্রগতির ইতিহাস-
লেখক এই
নামটিকে কখনো
ভুলিতে পারিবেন
না। রোকেয়ার
জ্ঞানপিপাসা ছিল
অসীম। গভীর
রাত্রিতে সকলে
ঘুমাইলে চুপি চুপি
বিছানা ছাড়িয়া
বালিকা মোমবাতির
আলোকে জ্যেষ্ঠ
ভ্রাতার
কাছে ইংরাজী ও
বাংলায় পাঠ গ্রহণ
করিতেন।
পদে পদে গঞ্জনা
সহিয়াও
এভাবে দিনের পর
দিন তাঁহার শিক্ষার
দ্রুত
উন্নতি হইতে লাগিল।
কতখানি আগ্রহ ও
একাগ্রতা থাকিলে
মানুষ শিক্ষার জন্য এরূপ
কঠোর
সাধনা করিতে পারে
তাহা ভাবিবার
বিষয়।
”
সাহিত্যচর্চার সূচনা
১৮৯৬ সালে ১৬ বছর বয়সে রোকেয়ার
বিয়ে হয় ভাগলপুরের
ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ
সাখাওয়াত হোসেনের সাথে।
বিয়ের পর তিনি 'বেগম
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন'
নামে পরিচিত হন। তাঁর
স্বামী মুক্তমনা মানুষ ছিলেন,
রোকেয়াকে তিনি লেখালেখি কর
তে উৎসাহ দেন এবং একটি স্কুল
তৈরির জন্য অর্থ
আলাদা করে রাখেন।
রোকেয়া সাহিত্যচর্চা শুরু করেন।
১৯০২ সালে পিপাসা
নামে একটি বাংলা গল্পের মধ্য
দিয়ে তিনি সাহিত্যজগতে পদার্পণ
করেন।
মুসলিম
সমাজে নারীশিক্ষা বিস্তার
১৯০৯ সালে সাখাওয়াত হোসেন
মৃত্যুবরণ করেন। এর পাঁচ মাস পর
রোকেয়া সাখাওয়াত
মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল
নামে একটি মেয়েদের স্কুল
প্রতিষ্ঠা করেন ভাগলপুরে। ১৯১০
সালে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলার
ফলে স্কুল বন্ধ করে তিনি কলকাতায়
চলে যান। এখানে ১৯১১ সালের ১৫ই
মার্চ তিনি সাখাওয়াত
মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল পুণরায়
চালু করেন।[৩] প্রাথমিক অবস্থায়
ছাত্রী ছিল ৮ জন। চার বছরের
মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪-তে।
১৯৩০ সালের মাঝে এটি হাই
স্কুলে পরিণত হয়।
সাংগঠনিক কর্মকান্ড
স্কুল পরিচালনা ও সাহিত্যচর্চার
পাশাপাশি জীবনের শেষ দিন
পর্যন্ত
রোকেয়া নিজেকে সাংগঠনিক ও
সামাজিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত রাখেন।
১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম
বাঙালি নারীদের সংগঠন
আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম
প্রতিষ্ঠা করেন।[২] বিভিন্ন সভায়
তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। ১৯২৬
সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বাংলার
নারী শিক্ষা বিষয়ক
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।
রচনা
তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রচনা
Sultana’s Dream। যার অনূদিত রূপের নাম
সুলতানার স্বপ্ন। এটিকে বিশ্বের
নারীবাদী
সাহিত্যে একটি মাইলফলক ধরা হয়।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলি হলঃ পদ্মরাগ ,
অবরোধবাসিনী , মতিচুর। তাঁর প্রবন্ধ,
গল্প, উপন্যাসের মধ্য
দিয়ে তিনি নারীশিক্ষার
প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গসমতার
পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। হাস্যরস
আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের
সাহায্যে পিতৃতান্ত্রিক
সমাজে নারীর অসম অবস্থান
ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর
রচনা দিয়ে তিনি সামাজিক
সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন,
ধর্মের নামে নারীর প্রতি অবিচার
রোধ করতে চেয়েছেন, শিক্ষা আর
পছন্দানুযায়ী পেশা নির্বাচনের
সুযোগ
ছাড়া যে নারী মুক্তি আসবে না -
তা বলেছেন।
মৃত্যু
বেগম
রোকেয়া মেমোরিয়াল
সেন্টারে বেগম
রোকেয়ার প্রতিকৃতি,
পায়রাবন্দ, রংপুর
১৯৩২ সালের ৯ই ডিসেম্বর বেগম
রোকেয়া মৃত্যুবরণ করেন। সেসময়
তিনি ‘নারীর অধিকার’
নামে একটি প্রবন্ধ লিখছিলেন।
বেগম
রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র
মূল নিবন্ধ: বেগম
রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র
বেগম
রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র,
পায়রাবন্দ, রংপুর
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
স্মরণে বাংলাদেশ সরকার
একটি গণউন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপন
করেছেন। বাংলাদেশের রংপুর
জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার
পায়রাবন্দ গ্রামে পৈতৃক ভিটায় ৩
দশমিক ১৫ একর ভূমির ওপর নির্মিত
হয়েছে বেগম
রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র । এতে অফিস
ভবন, সর্বাধুনিক গেস্ট হাউজ, ৪
তলা ডরমেটরি ভবন, গবেষণা কক্ষ,
লাইব্রেরি ইত্যাদি রয়েছে।
স্মৃতিকেন্দ্র পরিচালনার
দায়িত্বে নিয়োজিত
রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের শিশু
ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।[৪]
স্বীকৃতি
মূল নিবন্ধ: বেগম
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশের ৭ম বিভাগ
হিসেবে রংপুর বিভাগের একমাত্র
পুর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
হিসেবে 'রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়' ৮
অক্টোবর ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
অতঃপর ২০০৯
সালে 'নারী জাগরণের অগ্রদূত'
হিসেবে তাঁর নামকে স্মরণীয়
করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
করা হয়।
এছাড়াও,
মহিয়সী বাঙালি নারী হিসেবে ব
েগম রোকেয়ার
অবদানকে চীরস্মরণীয় করে রাখতে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের
আবাসনের জন্য "রোকেয়া হল"
নামকরণ করা হয়।
( ডিসেম্বর ৯ , ১৮৮০ - ডিসেম্বর ৯ ,
১৯৩২ )
উনবিংশ শতাব্দীর একজন খ্যাতিমান
বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ
সংস্কারক। তাঁকে বাঙ্গালী
নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য
করা হয়। [১]
জন্ম
রংপুরের পায়রাবন্দ
গ্রামে বেগম রোকেয়ার
জন্মস্থান
রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮০ সালে
রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে।
তাঁর পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু
আলী হায়দার সাবের সম্ভ্রান্ত
ভূস্বামী ছিলেন। তাঁর
মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধু
রানী। রোকেয়ার দুই বোন
করিমুননেসা ও হুমায়রা, আর তিন ভাই
যাদের একজন শৈশবে মারা যায়।
ব্যক্তিগত ও কর্মজীবন
প্রথম জীবন
তৎকালীন মুসলিম
সমাজব্যবস্থা অনুসারে রোকেয়া ও
তাঁর বোনদের
বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠানো হ
য়নি, তাদেরকে ঘরে আরবী ও উর্দু
শেখানো হয়। তবে রোকেয়ার বড়
ভাই ইব্রাহীম সাবের আধুনিকমনস্ক
ছিলেন। তিনি রোকেয়া ও
করিমুননেসাকে ঘরেই গোপনে
বাংলা ও ইংরেজি শেখান।
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সম্পর্কে বঙ্গের মহিলা কবি
গ্রন্থে লিখেছেন, [২]
“ বঙ্গের
মহিলা কবিদের
মধ্যে মিসেস আর,এস,
হোসায়েনের নাম
স্মরণীয়।
বাঙ্গালাদেশের
মুসলমান-নারী-
প্রগতির ইতিহাস-
লেখক এই
নামটিকে কখনো
ভুলিতে পারিবেন
না। রোকেয়ার
জ্ঞানপিপাসা ছিল
অসীম। গভীর
রাত্রিতে সকলে
ঘুমাইলে চুপি চুপি
বিছানা ছাড়িয়া
বালিকা মোমবাতির
আলোকে জ্যেষ্ঠ
ভ্রাতার
কাছে ইংরাজী ও
বাংলায় পাঠ গ্রহণ
করিতেন।
পদে পদে গঞ্জনা
সহিয়াও
এভাবে দিনের পর
দিন তাঁহার শিক্ষার
দ্রুত
উন্নতি হইতে লাগিল।
কতখানি আগ্রহ ও
একাগ্রতা থাকিলে
মানুষ শিক্ষার জন্য এরূপ
কঠোর
সাধনা করিতে পারে
তাহা ভাবিবার
বিষয়।
”
সাহিত্যচর্চার সূচনা
১৮৯৬ সালে ১৬ বছর বয়সে রোকেয়ার
বিয়ে হয় ভাগলপুরের
ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ
সাখাওয়াত হোসেনের সাথে।
বিয়ের পর তিনি 'বেগম
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন'
নামে পরিচিত হন। তাঁর
স্বামী মুক্তমনা মানুষ ছিলেন,
রোকেয়াকে তিনি লেখালেখি কর
তে উৎসাহ দেন এবং একটি স্কুল
তৈরির জন্য অর্থ
আলাদা করে রাখেন।
রোকেয়া সাহিত্যচর্চা শুরু করেন।
১৯০২ সালে পিপাসা
নামে একটি বাংলা গল্পের মধ্য
দিয়ে তিনি সাহিত্যজগতে পদার্পণ
করেন।
মুসলিম
সমাজে নারীশিক্ষা বিস্তার
১৯০৯ সালে সাখাওয়াত হোসেন
মৃত্যুবরণ করেন। এর পাঁচ মাস পর
রোকেয়া সাখাওয়াত
মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল
নামে একটি মেয়েদের স্কুল
প্রতিষ্ঠা করেন ভাগলপুরে। ১৯১০
সালে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলার
ফলে স্কুল বন্ধ করে তিনি কলকাতায়
চলে যান। এখানে ১৯১১ সালের ১৫ই
মার্চ তিনি সাখাওয়াত
মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল পুণরায়
চালু করেন।[৩] প্রাথমিক অবস্থায়
ছাত্রী ছিল ৮ জন। চার বছরের
মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪-তে।
১৯৩০ সালের মাঝে এটি হাই
স্কুলে পরিণত হয়।
সাংগঠনিক কর্মকান্ড
স্কুল পরিচালনা ও সাহিত্যচর্চার
পাশাপাশি জীবনের শেষ দিন
পর্যন্ত
রোকেয়া নিজেকে সাংগঠনিক ও
সামাজিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত রাখেন।
১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম
বাঙালি নারীদের সংগঠন
আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম
প্রতিষ্ঠা করেন।[২] বিভিন্ন সভায়
তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। ১৯২৬
সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বাংলার
নারী শিক্ষা বিষয়ক
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।
রচনা
তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রচনা
Sultana’s Dream। যার অনূদিত রূপের নাম
সুলতানার স্বপ্ন। এটিকে বিশ্বের
নারীবাদী
সাহিত্যে একটি মাইলফলক ধরা হয়।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলি হলঃ পদ্মরাগ ,
অবরোধবাসিনী , মতিচুর। তাঁর প্রবন্ধ,
গল্প, উপন্যাসের মধ্য
দিয়ে তিনি নারীশিক্ষার
প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গসমতার
পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। হাস্যরস
আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের
সাহায্যে পিতৃতান্ত্রিক
সমাজে নারীর অসম অবস্থান
ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর
রচনা দিয়ে তিনি সামাজিক
সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন,
ধর্মের নামে নারীর প্রতি অবিচার
রোধ করতে চেয়েছেন, শিক্ষা আর
পছন্দানুযায়ী পেশা নির্বাচনের
সুযোগ
ছাড়া যে নারী মুক্তি আসবে না -
তা বলেছেন।
মৃত্যু
বেগম
রোকেয়া মেমোরিয়াল
সেন্টারে বেগম
রোকেয়ার প্রতিকৃতি,
পায়রাবন্দ, রংপুর
১৯৩২ সালের ৯ই ডিসেম্বর বেগম
রোকেয়া মৃত্যুবরণ করেন। সেসময়
তিনি ‘নারীর অধিকার’
নামে একটি প্রবন্ধ লিখছিলেন।
বেগম
রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র
মূল নিবন্ধ: বেগম
রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র
বেগম
রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র,
পায়রাবন্দ, রংপুর
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
স্মরণে বাংলাদেশ সরকার
একটি গণউন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপন
করেছেন। বাংলাদেশের রংপুর
জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার
পায়রাবন্দ গ্রামে পৈতৃক ভিটায় ৩
দশমিক ১৫ একর ভূমির ওপর নির্মিত
হয়েছে বেগম
রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র । এতে অফিস
ভবন, সর্বাধুনিক গেস্ট হাউজ, ৪
তলা ডরমেটরি ভবন, গবেষণা কক্ষ,
লাইব্রেরি ইত্যাদি রয়েছে।
স্মৃতিকেন্দ্র পরিচালনার
দায়িত্বে নিয়োজিত
রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের শিশু
ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।[৪]
স্বীকৃতি
মূল নিবন্ধ: বেগম
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশের ৭ম বিভাগ
হিসেবে রংপুর বিভাগের একমাত্র
পুর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
হিসেবে 'রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়' ৮
অক্টোবর ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
অতঃপর ২০০৯
সালে 'নারী জাগরণের অগ্রদূত'
হিসেবে তাঁর নামকে স্মরণীয়
করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
করা হয়।
এছাড়াও,
মহিয়সী বাঙালি নারী হিসেবে ব
েগম রোকেয়ার
অবদানকে চীরস্মরণীয় করে রাখতে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের
আবাসনের জন্য "রোকেয়া হল"
নামকরণ করা হয়।
" বই পড়ুন জ্ঞান আর্যন করুন "
" আপনার শিশুকে স্কুলে পাঠান "
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Bagerhat
9330
