21/09/2017
Institutionalizing Gender Equality: Urban Development Experience of the Bangladesh Local Government Engineering Department
This case study examines selected urban development projects of the local government engineering department in Bangladesh, with focus on mechanisms to foster gender equality and women empowerment.
ADB supports the institutionalization of gender equality in government agencies to enhance their gender-responsiveness and sustainability of gender equality results. The Bangladesh Local Government Engineering Department (LGED) is a trailblazer in mainstreaming gender equality in its policies, systems, and programs. This has resulted in women’s greater benefit from ADB-assisted projects and in their increased participation in decision making for inclusive urban development. This report presents the results of a stocktaking of LGED’s gender mainstreaming practices particularly in ADB-financed urban development projects. Find out more about the lessons identified and recommendations offered to enhance LGED’s approaches to achieving gender equality and women’s empowerment in Bangladesh.
www.adb.org
04/02/2017
মানুষ খেকো
*******************************
# # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #
১৯৭৫ সালের তোলপাড় করা নরমাংস খাওয়ার ঘটনা সারা দেশে লোকমুখে ফিরতে ফিরতে একসময় পর্দার আড়ালে চলে যায়। মানসিক চিকিৎসার জন্য খলিলুল্লাহকে পাবনা পাঠানোর মাধ্যমে ঘটনাটি মিলিয়ে যেতে থাকে। তবে যারাই ঘটনাটি শুনেছে, তাদের মনে তা বিভীষিকার সূচনা করেছে। ১৯৯৭ সালের দিকে অনেকটা কাকতালীয়ভাবে প্রতিবেদকের সঙ্গে নর মাংস খেকো খলিলুল্লাহর সাক্ষাৎ মেলে আজিমপুর কবরস্থানের গেটে। লম্বা, বয়সের ভারে কিছুটা কুঁজো, চাপ দাড়িওয়ালা, লুঙ্গি শার্ট পরা খলিলুল্লাহ নিজেকে সুস্থ দাবি করে। তবে সুস্থ হলে এখনো কেন কবরস্থানের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়, এ প্রশ্নের জবাবে সে বলে, তার কোনো আত্মীয় স্বজন বা জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সন্ধান জানে না। কেউ তার খোঁজ নিতেও আসেনি। যার কারণে কবরস্থানের এখানে সেখানে সে ঘুরে বেড়ায়। মানুষ তার পরিচয় পেয়ে দু'চার টাকা সাহায্য দেয়। তা দিয়ে তার পেট চলে যায়। রাতে কবরস্থানের বাইরে কোনো জায়গায় ঘুমিয়ে পড়ে। মানুষের মাংস ও কলিজা খাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে খলিলুল্লাহ প্রথমে কিছুটা ইতস্তত বোধ করে। পরে তাকে পেটপুরে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। এতে বেশ কাজ হয়। অনর্গল বলে যায় পুরনো দিনের কথা। তবে কেন সে নরমাংস খেত, তা ঠিকমতো বলতে পারেনি। হঠাৎ মাথায় গণ্ডগোল হলে সে কি করত তা নিজেই অনুভব করতে পারত না। তবে খলিলুল্লাহ প্রতিবেদকের কাছে আরো জানায়, পাবনা মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসায় সে ভালো হয়ে যায়; কিন্তু কলিজা খেকো বলে কেউ তাকে কাজ কিংবা আশ্রয় দেয়নি। অনেকে শারীরিকভাবে আঘাতও করেছে। যার জন্য শুধু বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে কবরস্থানকে বেছে নিয়েছে। তবে মরা মানুষের মাংসের লোভে নয়, শুধু নিজেকে সমাজ থেকে দূরে রাখার জন্য। যদি মানুষের মাংস খাওয়ার জন্যই কবরস্থানে আসি, তাহলে তো কবরস্থান কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই তাড়িয়ে দিত বলে সে দাবি করে।
দৈনিক বাংলা কিংবা বিচিত্রায় তাকে নিয়ে যখন কভার স্টোরি করা হয়, তখন সে ছিল উন্মাদ। প্রতিবেদক আরিফুর রহমান যখন খলিলুল্লাহকে বললেন তাকে বেশি বেশি লাশ খেতে দেওয়া হবে, তখন সে লাফ দিয়ে উঠে বলেছিল, 'স্যার, আমাকে লাশ খেতে দেবেন?' হা হা বলে একটা অট্টহাসিও দিয়েছিল। এরপর প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাব দেয়,
প্রশ্নঃ এখন বল তুই সত্যিই লাশ খাস?
উত্তরঃ হ, খাই।
প্রশ্নঃ কেন খাস?
উত্তরঃ ভালো লাগে।
প্রশ্নঃ না খাইয়া থাকতে পারস না?
উত্তরঃ ওই মাংস না খাইলে পাগল অইয়া যাইমু।
প্রশ্নঃ শোন। কয়দিন পর পর খাস?
উত্তরঃ দুই হপ্তা। আঙুল দিয়ে দুই দেখাল।
প্রশ্নঃ কয়দিন আগে খাইছিস?
উত্তরঃ পরশু দিন। একটা মাইয়া খাইছি। কইলজা স্যার। মুখে হাসি। তেল ভি খাইতে পারি।
প্রশ্নঃ কি খাইতে ভালো লাগে, কইলজা না তেল?
উত্তরঃ এইখানের মাংস। হাত দিয়ে ঊরু দেখাল।
প্রশ্নঃ শোন, আর মাংস খাবি না বুঝলি। আর খাবি?
উত্তরঃ খামু।
প্রশ্নঃ কেন, তোর খারাপ লাগে না? গন্ধ আসে না?
উত্তরঃ হা হা, ভালো লাগে।
এরপর প্রতিবেদক ইয়ার্কি করে বললেন, তুই যে মানুষের মাংস খাস তা কি বাস্তবে দেখাতে পারবি? সঙ্গে সঙ্গে খলিলুল্লাহ মর্গের ভেতরে ঢুকে ছুরি দিয়ে এক টুকরো মাংস নিয়ে আসে। সঙ্গে কলিজার টুকরো। তার সামনেই পৈশাচিকভাবে কলিজার টুকরো কচকচিয়ে খেতে লাগল। এরপর প্রতিবেদক খলিলুল্লাহকে ডেকে ২০ টাকা দিলেন, যাতে ঘটনাটি অন্য কোনো সাংবাদিককে না বলে। তবে খলিলুল্লাহর শর্ত ছিল একটাই সাংবাদিককে মর্গের ডোম রবিকে বলে দিতে হবে তাকে যেন মরা মানুষের কলিজা বেশি খেতে দেয়। এ প্রতিবেদক ১৯৯৭ সালের শেষের দিকে খলিলুল্লাহকে পেয়ে পুরনো ঘটনার অবতারণা করলে তার চোখ চঞ্চল হয়ে ওঠে। অতৃপ্ত মনের নরমাংস খাওয়ার নেশা যেন চোখেমুখে প্রকাশ পায়। পুরনো অভ্যাসটা এখনো ভুলতে পারেনি। তবে পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নেয়। বলে, স্যার অতীতকে ভুলতে চাই। সভ্য হয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বাঁচতে চাই।
28/12/2016
"২০১৬ সাল: ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি ও নাসিরনগর হামলাসহ বহু ঘটনা বছরজুড়ে আলোচনায়"
শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিকার্যকর
শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয় কয়েক বছর ধরে। তবে ২০১৬ সালেই জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামী এবং দলটির অর্থের মূল যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আর এর মধ্য দিয়েই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের অধ্যায় শেষ হয়।
মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করা হয় ১১ই মে দিবাগত রাত বারটা দশ মিনিটে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি বহাল ছিল সর্বোচ্চ আদালত থেকে।
তিনি ১৯৭১ সালে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা হিসেবে পাকিস্তানী বাহিনীর সহযোগী আল বদর বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন।
এই মিলিশিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর সব মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এই আল বদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতা ছিলেন মীর কাসেম আলী। তার ফাঁসি কার্যকর করা হয় গত ৩রা সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে দশটায়।
এই দু'জনের আগে ২০১৫সালে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোঃ মুজাহিদ এবং মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষ করে প্রথমে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল ২০১৩ সালে। তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই বিদেশে জামায়াতের নিয়োগ করা লবিষ্টের তৎপরতার কারণে সরকারকে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলা করতে হয়েছে।
তবে সর্বশেষ ২০১৬ সালে মতিউর রহমান নিজামী এবং মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করার সময় আন্তর্জাতিক চাপ অনেক বেশি ছিল বলে বলছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
"অনেক রাষ্ট্রপ্রধান,অনেক রাষ্ট্রের শক্তিশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং একপর্যায়ে জাতিসংঘের মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছিলেন, যাতে যুদ্ধাপরাধীদের সাজা কার্যকর করা না হয়।জনগণ যেহেতু এসব রায় কার্যকর করার পক্ষে ছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। সেজন্য তিনি কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করেন নাই।"
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত করে এবং স্বচ্ছতার সাথে এই বিচার হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর যদিও মাঠ পর্যায়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত রাখা হয়েছে। কিন্তু এই ইস্যুতে আলোচনা স্তিমিত হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি
আলোচনায় আবারও উঠে আসে বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় অংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা।
বছরের প্রথম দিকে অর্থাৎ গত ফেব্রুয়ারি মাসে দশ কোটি দশ লাখ ডলার রিজার্ভ চুরি হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে। কিন্তু ঘটনার এক মাস পর বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি প্রকাশ করলে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
তখন ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান চাপের মুখে পড়েন। এমন প্রেক্ষাপটে গত ১৫ই মার্চ তিনি পদত্যাগ করেন। তখন তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন- চাপের কারণে নয়, তিনি নিজে থেকেই সরে গেলেন।
কিন্তু সে সময় আতিউর রহমানের সাথে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের পুরনো বিরোধ প্রকাশ পেয়েছিল। সে সময় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, আতিউর রহমান গভর্নরের পদ থেকে সরে যাওয়ার পিছনে তাঁরও চাপ ছিল।
রিজার্ভ চুরির ঘটনার মামলায় সিআইডি পুলিশ তদন্ত করছে। সাবেক গভর্নর মোঃ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি কমিটি একমাস তদন্তের পর তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্ট প্রকাশ না করায় তা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। সরকার দেশে তদন্ত করার পাশাপাশি অর্থ উদ্ধারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলছে। কিন্তু চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তায় দুর্বলতার প্রশ্ন ওঠে।
একজন সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
"যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে। সে কারণে ব্যাংকিং সেক্টর তদারকির তাদের দায়িত্বের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। এই তদারকি শিথিল হলে পুরো ব্যাংকিং সেক্টর অস্থির হয়ে যায়। যেসব দুর্নীতি ঘটছে, সেটা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকে হাত যতটা প্রসারিত করার প্রয়োজন ছিল, সেটা তারা করতে পারছে না।"
চুরি যাওয়া অর্থের বড় অংশ আট কোটি দশ লাখ ডলারই চলে যায় ফিলিপিনে। এর ফেরত পাওয়ার প্রশ্নে বছর জুড়েই আলোচনা ছিল। যদিও এর কিছু অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে। কিন্তু সিংহভাগ অর্থ ফেরত আনতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি দল গত নভেম্বরে ফিলিপিন সফর করেছে। ফেরত পাওয়ার প্রশ্নে কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।
খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ মনে করেন,তদন্তের নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভিতরে এক ধরণের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। পরিস্থিতির ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রনালয়ের পদক্ষেপ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
"মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করার জন্যে অর্থমন্ত্রী দুই বার তারিখ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রকাশ করেননি। দেশের স্বার্থে রিপোর্ট প্রকাশ নাও করতে পারেন। কিন্তু তা নিয়ে তারিখ দিয়ে খেলা করার প্রয়োজন ছিল না। এমন অনেক পদক্ষেপ বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে।"
ভারতের সাথে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বিতর্ক
রিজার্ভ চুরির ঘটনার পাশাপাশি রামপালে ভারতের সাথে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক চলেছে সারা বছর ধরে ।
বামপন্থী দলগুলোর নেতা-কর্মী সমর্থক এবং সমমনাদের একটি ফোরাম তেল গ্যাস-বন্দর বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি সুন্দরবনের কাছে রামপাল অভিমুখে লংমার্চ করেছিল গত মার্চ মাসে।
গত নভেম্বরে তারা সারাদেশ থেকে তাদের সমর্থকদের এনে ঢাকায় সমাবেশ করেছে। তারা তাদের অবস্থানের পক্ষে বিভিন্ন পেশার মানুষেরও সমর্থন পাওয়ার কথা বলছেন।
বিরোধিতা বা সমালোচনার মুখেও রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের যৌথ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারে ঢাকায় বাংলাদেশ সরকার এবং ভারত সরকার মুল নির্মাণ চুক্তি সই করেছে গত জুলাই মাসে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও এর পক্ষে সরকারের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে আসছেন। এমন অবস্থানের পিছনে সরকারের যুক্তি ধোপে টিকছে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।
"সরকারের অনেক যুক্তি আছে। কিন্তু সেগুলো ধোপে টিকছে না। সেজন্য অন্য যুক্তি যেগুলো আসছে,সেগুলো সরকারের বিবেচনা করা উচিত।"
সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে রামপালে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে বন ধ্বংস হবে বলে আন্দোলনকারীরা বলছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিদ্যুতের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাকে যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। উন্নয়ন এবং পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের উদ্যোগের ব্যাপারে তাগিদ বেড়েছে বলে মনে করেন সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।
"উন্নয়ন নাকি পরিবেশ,এ বছর অত্যন্ত অপ্রয়োজনীয় এই বিতর্ক চলেছে। উন্নয়ন আমরা চাই।সুন্দরবন ধ্বংস করবে, এমন উন্নয়ন আমরা চাই না।"
নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়ি ও মন্দিরে হামলা
রামপাল নিয়ে বিতর্কের মাঝেই নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়ি এবং মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালে দেশের কয়েকটি জায়গায় হিন্দুদের মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছিল।
কিন্তু গত ৩১শে অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে নাসিরনগরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। সেখানে হিন্দুদের অন্তত পাঁচটি মন্দির এবং বহু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয় মুসলমানদের কাবাঘরের জন্য অবমাননাকর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার জের ধরে।
হামলার সেই ঘটনার আগে হেফাজতে ইসলাম এবং আহলে সুন্নত নামের দু'টি সংগঠন নাসিরনগরে সমাবেশ করেছিল কাবাঘরের অবমাননার অভিযোগ তুলে।সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় ,ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় দু'টি গোষ্ঠীর বিরোধ এই হামলার অন্যতম কারণ হতে পারে। আওয়ামী লীগ তা অস্বীকার করেছে।
মামলায় তদন্ত করলেও বড় ধরণের হামলার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দুদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে। তবে হামলার ঘটনার বিরুদ্ধে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ হয় এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
গাইবান্ধায় সাঁওতাল উচ্ছেদ
নাসিরনগরের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরাঞ্চলীয় জেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলে বিরোধপূর্ণ জায়গা থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করা হয়। সেই ঘটনায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে গুলিতে কমপক্ষে তিনজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়।
সাঁওতালদের দেড় হাজারের মতো বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধেও সারাদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। এই ঘটনায় ক্ষেত্রেও সরকার এবং প্রশাসন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
বাড়িঘরে আগুন লাগিয়েছিল কারা, সেই প্রশ্ন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবে আল জাজিরা টেলিভিশন একটি ভিডিও প্রচার করেছে। তাতে দেখা যায়, উচ্ছেদের সময় সংঘর্ষ বেঁধে গেলে পুলিশ গুলি চালাচ্ছে।একপর্যায়ে পুলিশ সাঁওতালদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। এই ভিডিও নিয়ে গণমাধ্যমে এবং সামাজিক নেটওয়ার্কে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
নাসিরনগর এবং গোবিন্দগঞ্জের , দু'টি ঘটনার ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায় বলে মনে করেন মানবাধিকার সংগঠক সুলতানা কামাল।
"ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি একটা অসহিষ্ণুতাকে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে। এখন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পক্ষের সরকারও সেখানে দৃঢ় কোনো অবস্থান দেখাচ্ছে না।"
তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা সরকার বলছে। কিন্তু সুলতানা কামাল মনে করেন, সংখ্যালঘুদের বিশ্বাসের জায়গায় জায়গায় একটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সে বিষয়ে রাষ্ট্রকে নজর দিতে হবে।
যে ইস্যুগুলো আলোচিত হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা শেষ হয়ে যায়নি। এর প্রভাব নতুন ইংরেজি বছরেও থাকবে, সেটা নি:সন্দেহে বলা যায়। সূত্র : বিবিসি বাংলা
21/12/2016
Bangladesh recorded a government budget deficit of 70623 BDT Billion in 2015. Government Budget Value in Bangladesh averaged -22541.95 BDT Billion from 1995 until 2015, reaching an all time high of -6697.00 BDT Billion in 1997 and a record low of -70623.00 BDT Billion in 2015.