17/04/2026
ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করার ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেল ও এলএনজির দাম কমতে শুরু করেছে। এতে -এর চলমান জ্বালানি সংকটে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি মিলতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারি সূত্র ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে ও -এর হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দেশের ১০০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং প্রায় ৭১ শতাংশ এলএনজি এই প্রণালী দিয়ে আমদানি করা হয়, যা মূলত , , ও থেকে আসে।
এ সময় গ্যাস সরবরাহ ৮৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি দৈনিক ১,০০০–২,০০০ মেগাওয়াটে পৌঁছে যায়। ফলে গ্রামাঞ্চলে ৩–৫ ঘণ্টা এবং শহরে ১–২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলতে থাকে। সংকট মোকাবেলায় সরকার অফিস সময় কমানো, বাজার আগেভাগে বন্ধ এবং জ্বালানি রেশনিংসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৯–১১ শতাংশ কমেছে। এতে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমবে এবং এলএনজি ও তেলবাহী জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এপ্রিলের শেষ নাগাদ গ্যাস সরবরাহ অনেকাংশে স্বাভাবিক হতে পারে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ অব্যবহৃত সক্ষমতা পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। এতে পিক আওয়ারে লোডশেডিং ৫০০–১,০০০ মেগাওয়াটে নেমে আসতে পারে। গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং ১–২ ঘণ্টায় সীমিত এবং শহরে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বল্পমেয়াদে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার খরচ কমবে এবং আগে ঝুঁকিতে থাকা এলএনজি কার্গোগুলো নিয়মিত দেশে পৌঁছাতে পারবে। এর ফলে গার্মেন্টস, সিমেন্ট ও সার কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক হতে পারে এবং মাসিক জ্বালানি আমদানি ব্যয় ৭৬০–৮৩০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, বর্তমানে ১৫,৭০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১৪,৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী খোলার ইতিবাচক প্রভাব আগামী ৭–১০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
প্রকাশনায়: বার্তাঅঙ্গন

05/04/2026
04/04/2026
03/04/2026
26/09/2025
30/08/2025
05/08/2025
03/08/2025