ইচ্ছে থাকলে পাহাড় ও সমান করা যায়।
Helal uddin
education I am a primary assistant Teacher.
05/07/2023
পা পিছলানো অপেক্ষা জবান পিছলানো অধিক ভয়ংকর। এক হাদিসে আছে, "যে ব্যক্তি কৃত পাপের জন্য কাহাকে ও লজ্জা দিবে, মৃত্যুর আগে সে ঐ পাপে লিপ্ত হইবে।"
কিছুদিন আগে একটা লেখা পড়েছিলাম, "আল্লাহ দিতে দেরিও করেন না, তাড়াতাড়িও করেন না, আল্লাহ সঠিক সময়ে দেন।"
অনেক সময় অনেক কিছু খুব করে চেয়েও যখন পাইনা; তখন এই লেখাটা আমাকে প্রচন্ড অনুপ্রেরণা দেয়। আল্লাহ হয়তো একদিন দিবেন। সঠিক সময়েই দিবেন। ইনশাআল্লাহ!❤
কিছু নছিহতঃ
(পড়ে একটা বা দুইটা মনে রাখতে পারলেও অনেক ফায়দা হবে)।
১. একটি জায়নামাজ কিনে মসজিদে রেখে দিন, যে ব্যক্তি তাতে নামাজ আদায় করবে, ইনশাআল্লাহ আপনি সেই আমলের জন্য পুরস্কৃত হবেন।
২. একটি বাটি বা গ্লাসে কিছু পানি আপনার জানালায় রেখে দিন পাখিদের জন্য; এটাও এক ধরনের সদকা। এটিকে অভ্যাসে পরিণত করুন। আপনি পুরস্কৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।
৩. আপনার পুরাতন অথবা ব্যবহার হচ্ছে না এমন পোশাক গরিবকে দান করুন। সুযোগ থাকলে নতুন জামা যেদিন কিনবেন, সেদিনই এক সেট পুরাতন জামা দান করুন।
৪. আপনার রুমে একটি বক্স রাখুন এবং যখনই আপনি মনে করবেন যে আপনি কোনো অন্যায় করেছেন, তখনই তাতে সাধ্যমতো টাকা-পয়সা রাখুন। মাস শেষে তা খুলে দেখুন এবং তা দান করে দিন। এতে নিজের ভুলগুলোর পরিমাণ বুঝতে পারবেন এবং অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে সংশোধনের জন্য এটা সুন্দর একটি পন্থা।
৫. বাড়িতে ঢুকার ও বের হবার পথে দুআ লিখে রাখুন একটি কাগজে। যে এই দোয়াগুলো দেখতে পেয়ে পাঠ করবে, ইনশাআল্লাহ আপনি সেজন্য পুরস্কৃত হবেন৷ একইভাবে ঘরের এমন কোনো স্থানে দুআ লিখে রাখতে পারেন, যেটা সবার নজরে আসে।
৬. আপনার হাত খরচের টাকা দিয়ে একজন এতিমকে সহায়তা করুন আপনার সাধ্যমতো। মাসের কোনো একদিন নাস্তা না করে এতিম কোনো শিশুকে খাবার খাইয়ে দিন।
৭. আপনার বাড়ির আশপাশে যদি কোনো নির্মাণ কাজ চলে কিংবা শ্রমিকেরা কাজ করে, তবে কিছু ঠাণ্ডা পানি বা খাবার তাদেরকে দিতে পারেন। ইনশাআল্লাহ আপনি পুরস্কৃত হবেন।
৮. কোনো মসজিদে কুরআন মাজিদ রেখে দিন; যে কোনো ব্যক্তি যখন অন্তত একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য ১০ গুন সওয়াব লিখিত হবে আপনার আমলে।
৯. আপনার পান করা গ্লাসে পানি অবশিষ্ট থেকে গেলে তা একটি ফুলদানির পাত্রে রেখে দিন, অপচয় করবেন না।
১০. আপনার মুসলমান ভাইবোনদের উৎসাহ দিন, দুর্দিনে সাহায্য করুন, সহানুভূতিশীল হোন, যখন তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে।
১১. অসুস্থ আত্মীয় কিংবা পরিচিতদের দেখে আসুন। একটু হাসুন, কথা বলুন। এটাও সাদাকা। মৃদু হাসি বিনিময় করাও সাদাকা।
১২. ততক্ষণ পর্যন্ত ঘুমাবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে যারা কষ্ট দিয়েছে তাদের ক্ষমা করেছেন।
১৩. কাউকে এক অক্ষর হলেও দ্বিন শিক্ষা দিন। সেই ব্যক্তি যখন তার সন্তানসন্ততি, বন্ধুবান্ধব কিংবা তার সন্তানদের মাধ্যমে তার পরের প্রজন্ম এই দ্বিন অর্জন করবে, সে সকল সওয়াব মৃত্যুর পরেও আপনার কবরে পৌঁছাবে ইনশাআল্লাহ।
১৪. সামর্থ্য থাকলে মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল স্থাপনে সহায়তা করুন। গাছ লাগান, টিউবওয়েল বা পান করার পানির ব্যবস্থা করুন। আপনার মৃত্যুর পরেও মসজিদ মাদ্রাসা দ্বিন শিক্ষা দিতে থাকবে, হাসপাতালে রোগী সেবা পেতে থাকবে, গাছ থেকে মানুষ অক্সিজেন এবং খাবার পাবে, পান করার পানি পান করতে পারবে আপনার ব্যবস্থা করে দেওয়া পানির উৎস থেকে। এসকল কিছু সদকায়ে জারিয়া। এগুলো মৃত্যুর পরেও আপনাকে পরকালের জন্য ধনী করতে থাকবে।
১৫. সন্তানদের উত্তম সন্তান হিসেবে গড়ে তুলুন। দ্বিন এবং মানবতা শিক্ষা দিন। এদের দুআ কবর পর্যন্ত পৌঁছাবে, আপনার থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা এদের সঠিক মানুষ হতে সাহায্য করবে।
১৬. এই সাদাকার পন্থাগুলো মানুষের সাথে শেয়ার করুন, তাদের শিক্ষা দিন। এটিও সাদাকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
একদিন রাতের বেলা
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আরবের গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ এক ঘর থেকে অসহায় এক কান্নার আওয়াজ শুনে নবীজি সেই ঘরে গিয়ে দেখলেন,একজন হাতে চক্কি ( হাত দিয়ে আটা তৈরির এক যন্ত্র) ঘুরাচ্ছে।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি হল তোমার। কান্না করছো কেন.? প্রতি উত্তরে তিনি বললেন, আমি মক্কার সর্দার উমাইয়ার ক্রয় করা গোলাম (ইসলামের প্রাথমিক সময়) । অনেক যন্ত্রণায় আছি আমি। সারাটিদিন মাঠে তার ছাগল দুব্বা ছড়াই,আর রাতে সে আমাকে দিয়ে গম থেকে আটা তৈরি করায়।
ভালো করে খেতে ও দেয়না, ঘুমাইতে ও দেয় না।
শরীরে খুবী অসুস্থতা বোধ হচ্ছে।
এই কথা শুনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম,সেই ব্যক্তিকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, তুমি কিছুক্ষণ আরাম কর। আমি ই তোমার কাজ করে দিচ্ছে, এই বলে নবীজি হাতে চক্কি নিয়ে কাজ শুরু করে দিলেন। আর বড় ক্লান্ত শরীর নিয়ে সেই গোলাম কে ঘুমানোর সুযোগ করে দিলেন।
এইভাবে প্রতি গভীর রাতে নবীজি তার ঘরে গিয়ে তাকে সাহায্য করতেন। এবং নিজে কাজ করে তাকে ঘুমানোর সুযোগ করে দিতেন।
একদিন সেই গোলাম বলে, সাবধানে থাকিয়েন, এইখানে নাকি এক মোহাম্মদ আছে। তার থেকে দুরে থাকবেন, সে নাকি অনেক বড় যাদুকর। তার কাছে যে একবার যায় সে নাকি ফেরত আসতে পারেনা। ওর ধর্ম গ্রহণ করে নেয়।
এমন কথা শুনে দয়াল নবীজি মুচকি হাসলেন..
গোলাম বলে, আপনি হাসছেন কেন.?
নবীজি বলেন, তুমি যে মোহাম্মদ এর কথা বলছো, আমি ই হলাম সে মোহাম্মদ।
এই কথা শুনে, নবীজির সুন্দর চারিত্রিক বাস্তব প্রমাণ দেখে ওই গোলাম অঝোর নয়নে কান্না করতে লাগলেন। সাথে সাথে নবীজির কাছে কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে যান।
সুবহানআল্লাহ।
(সিরাতে নববী-৬৮৩)
©
হাদিসটি একবার পড়ুন আসা করি ভালো লাগবে।
একবার রাসূল ﷺ কে খুবই প্রফুল্ল দেখে আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনি তো খুবই খোশ মেজাজে আছেন, আমার জন্য এখন একটু দুআ করুন না.!
আয়িশা (রাঃ) এমন আবদারে মুচকি হেসে রাসূল ﷺ আল্লাহকে বলতে লাগলেন -ইয়া আল্লাহ্, আয়িশা পূর্বে করেছে এমন সকল গুনাহ আপনি ক্ষমা করে দিন। আয়িশা পরে করবে এমন সকল গুনাহও আপনি ক্ষমা করে দিন। আয়িশা প্রকাশ্যে করেছে এমন গুনাহ আপনি ক্ষমা করে দিন। আয়িশা গোপনে করেছে এমন গুনাহও আপনি ক্ষমা করে দিন। আয়িশা বুঝে করেছে এমন গুনাহ আপনি ক্ষমা করে দিন, না-বুঝে করেছে এমন গুনাহও আপনি ক্ষমা করে দিন।
রাসূল ﷺ এর মুখে নিজের জন্য এত সুন্দর দু'আ শুনে খুশিতে আয়িশা (রাঃ) আ'ত্মহারা। আম্মাজান আয়িশা (রাঃ) কে খুশি হতে দেখে প্রীত হলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'আয়িশা, আমার দু'আয় তুমি খুশি হয়েছো.? আয়িশা (রাঃ) বললেন, 'আমি খুবই খুশি হয়েছি ইয়া রাসুলাল্লাহ।'
তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, জানো আয়িশা! তোমার জন্য যে দু'আ করলাম, ঠিক একই দুআ প্রতি সালাতের পর আমি আমার প্রতিটা উম্মতের জন্যই করি।'
সুবহানাল্লাহ
(সহিহু ইবনি হিব্বান ৭১১১; মুসনাদুল বাযযার ২৬৫৮)
আফসোস আমরা বুঝিনা!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Telephone
Address
Chittagong
