KBSK Welfare Trust

KBSK Welfare Trust

Share

ক্ষিতীশ-বিজলী-শিমুল-কনিকা(KBSK) ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট।

19/05/2026

#আমি_কে_সেই_আমি_কোথায়_থাকে
#নির্বাণ_কি?
"আমি" কে? এবং "আমি'টা" কোথায় অবস্থান করে?
গৌতম বুদ্ধের মতে, স্থায়ী বা অপরিবর্তনীয় "আমি" বলতে আসলে কিছুই নেই। তিনি একে 'অনাত্ন' (Anatta) বা 'অনাত্মা' বলেছেন।
আমরা যেটিকে "আমি" বা "আমার শরীর" মনে করি, বুদ্ধ সেটিকে ৫টি উপাদানের একটি সমষ্টি বা প্রবাহ বলেছেন। এই ৫টি উপাদানকে বলা হয় 'পঞ্চস্কন্ধ' (Five Aggregates):
#রূপ (Form/Body): আপনার চারপাশের ভৌত জগৎ এবং আপনার শরীর।
#বেদনা (Sensation): সুখ, দুঃখ বা নিরপেক্ষ অনুভূতি।
#সংজ্ঞা (Perception): কোনো কিছু দেখে বা শুনে তা চিনতে পারার ক্ষমতা বা উপলব্ধি(যেমন: এটি আলো, ওটি শব্দ)।
#সংস্কার (Mental Formations): আপনার চিন্তা, ইচ্ছা, রাগ, ভালোবাসা এবং কর্মের মানসিক আকৃতি ।
বিজ্ঞান (Intention / consciousness ): প্রাথমিক সচেতনতা বা ইন্দ্রিয়গত চেতনা বা ইচ্ছাশক্তি।
#বুদ্ধের #উত্তর: এই ৫টি উপাদান প্রতিক্ষণ নদীর স্রোতের মতো পাল্টাচ্ছে। যেহেতু এগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল, তাই এর কোনো নির্দিষ্ট অংশে বা শরীরের ভেতরে "আমি" বলে কোনো স্থায়ী জিনিস অবস্থান করে না। "আমি" হলো এই ৫টি উপাদানের একটি সাময়িক নাম মাত্র (যেমন অনেকগুলো পার্টস মিলে একটি 'গাড়ি' হয়, কিন্তু একক কোনো পার্টস গাড়ি নয়)।
২. "কে দেখে? সে দর্শক কে?"
যখন আমরা বলি "আমি দেখছি" বা "আমার মন দেখছে", তখন বুদ্ধের শিক্ষা অনুযায়ী সেখানে কোনো স্থায়ী 'দর্শক' বা 'ব্যক্তি' বসে নেই।
বুদ্ধ একে 'প্রতীত্যসমুৎপাদ' (Dependent Origination) বা পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সূত্র দিয়ে বুঝিয়েছেন:
চোখ (ইন্দ্রিয়) + দৃশ্য (বস্তু) + চক্ষু-বিজ্ঞান (Eye-consciousness) = দর্শন (Seeing)।
এই তিনটি উপাদান যখন একসাথে মিলিত হয়, তখনই কেবল দেখার প্রক্রিয়াটি ঘটে।
সেখানে আলাদা করে কোনো "দর্শক" বা "দেখনেওয়ালা" ব্যক্তি বসে থাকে না। শুধু 'দেখার একটি প্রক্রিয়া' বা ঘটনা ঘটে।
সহজ উদাহরণ: একটি মোমবাতি থেকে যখন আরেকটি মোমবাতি জ্বালানো হয়, তখন আগের আলোটি কি পরের মোমবাতিতে চলে গেল? না। কিন্তু আগের আলোর ওপর নির্ভর করেই পরের আলোটি জ্বলে উঠল। ঠিক তেমনি, আমাদের চেতনা বা 'দর্শক' হলো এক একটি মুহূর্তের সচেতনতার প্রবাহ। আগের মুহূর্তের চিন্তা পরের মুহূর্তের চিন্তাকে জন্ম দিচ্ছে।
সংক্ষিপ্ত সারকথা
বুদ্ধের শিক্ষা অনুযায়ী:
আপনি কে? আপনি হলেন পরিবর্তনশীল উপাদান ও চেতনার একটি সুন্দর প্রবাহ।
আমি কোথায় অবস্থান করে? নির্দিষ্ট কোনো স্থানে বা স্থায়ীভাবে কোথাও 'আমি' নেই।
দর্শক কে? কোনো স্থায়ী ব্যক্তি দর্শক নয়; চেতনা এবং ইন্দ্রিয়ের সংযোগে তৈরি হওয়া 'সচেতনতার প্রক্রিয়াই' হলো দর্শক।
এই সত্যটি বা "আমি"-র অবাস্তবতা যখন মানুষ গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে ( #বিপাসনা_ধ্যানের_মাধ্যমে), তখনই মানুষ সমস্ত দুঃখ, লোভ এবং মোহ থেকে মুক্তি পায়, যাকে বৌদ্ধ ধর্মে 'নির্বাণ' বলা হয়।
( #পুনশ্চ - অনলাইন প্লাটফর্ম "বোধি অন্বেষন" এ,এই বিষয় নিয়ে আমি বহুবার বিস্তৃত ব্যাখা দিয়েছি, এখানে তা সংক্ষিপ্ত জানালাম)

প্রদীপ বড়ুয়া দাদার ওয়াল থেকে সংগৃহীত

19/05/2026

চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার এর প্রথম অধ্যক্ষ ১৮তম সংঘনায়ক সৌগতসূর্য অগ্রসার মহাস্থবির

- অভিজিৎ বড়ুয়া অভি

ডাঃ ভগীরত চন্দ্র বড়ুয়া চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার স্থাপন করেন বৌদ্ধ সমিতির নেতৃত্ব দান করার সময়! বিশেষ করে চট্টগ্রামে বসবাসরত মোগলটুলী এলাকার বৌদ্ধদের ধর্মচর্চার জন্য।

ঐ বিহারে সর্বপ্রথম বিহারাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন সংঘনায়ক অগ্রসার মহাস্থবির(মহাথেরো)। তিনি বেশ কিছুদিন ঐ বিহারে ধর্মদান করেন। তিনি বয়োবৃদ্ধ হলে উনার সুযোগ্য শিষ্য শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত ধর্মজ্যোতি মহাথেরো (প্রকাশ নোয়াপাড়ার ভান্তে) বিহারাধক্ষের দ্বায়িত্ব পালন করেন। ধর্মজ্যোতি মহাথেরো বিহারাধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে ধর্মবংশ ভিক্ষু উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য চট্টগ্রাম আসেন এবং বিহারে বসবাসের জন্য ধর্মজ্যোতি মহাথেরোর নিকট অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি প্রদান করেন। কিছুকাল পর ধর্মবংশ ভিক্ষু ঐ বিহারে দীপঙ্কর নামক এক শ্রামণ কে বিহারে আনেন। তিনি পরবর্তী সময়ে ভিক্ষু হয়ে ঐ বিহারের বিহারাধ্যক্ষের পদে আসীন হন।

তাহলে বলা চলে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠাতা মহাস্থবিরদলের দায়ক এবং ভিক্ষু মহাস্থবির দলের।

বিঃদ্রঃ- পাঠকের মন্তব্য ১] অগ্রসার মহাস্তবিরের প্রধান শিষ্য মহামান্য ধর্ম জ্যেতি মহাস্তবির নোয়াপারা গ্রামে জন্ম । শ্রীলংকা তে নয় । ওনি মহামান্য মহাসংঘনায়ক বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরোর শিক্ষা গুরু ছিলেন। ওনিই সর্বপ্রথম বৌদ্ধ তিরত্নাকুর সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন ॥ ওনার মৃত্যুর আরো ২০ বছর পরে শ্রীলংকা থেকে আগত মাননীয় ধর্ম কিত্বি মহাথেরো কলিকাতা মহাবোধি সোসাইটি তে সভাপতি হিসাবে আগমন করেন এবং পরবর্তীতে নোয়াপাডাতে আমার বাবর দীক্ষাগুরু ছিলেন। এখানে দুইজন আলাদা ভিন্ন ভান্তে ছিলেন। সেই নোয়াপাডার জন্মজাত ধর্ম জ্যোতি ভান্তেই ছিলেন নন্দন কানন বৌদ্ধ বিহারের ২য় অধ্যক্ষ॥ ইতিহাস বিকৃতি কারীরা কখনো সুখে থাকতে পারেনা। এরা সমাজে নিন্দিত হয়॥ ডাঃ ভগীরত বড়ুয়া ছিলেন অগ্রসার মহাস্তবিরের আপন কাকাতো ভাই এবং মহাসংঘনায়ক বিশুদ্ধানন্দ ভান্তের কাকা ॥

২] ধর্ম্বংশ ভান্তে চট্রগ্রাম কলেজে পালি পড়ানো চালু হলে সেখানে শিক্ষকতা করার জন্য আসেন।

৩] ধর্মকিত্বি নয় এটা হচ্ছে ধর্মকীতি মহাথের শ্রীলংকার জন্মজাত উচ্চবংশীয় সন্তান।যাদের প্রতিষ্টিত বিদ্যালংকার বিশ্ববিদ্যালয়।

৪] তিনি মহাবোধি সোসাইটির সভাপতি নয় তিনি ছিলেন প্রচার সম্পাদক।

৫] অধ্যাপক ধর্মকীতি মহাথের বাংলাদেশে এসেছিলেন ১৯৩৪ সালে। তিনি রাঙ্গুনীয়া কলেজের পালি বিভাগের প্রতিষ্টাতা অধ্যাপক ছিলেন,চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সে সময় পালি বিভাগ ছিল না তখন কার বাংলা বিভাগের যিনি প্রধান ছিলেন উনার সাথে সাক্ষাৎ করে ধর্মকীতি মাহাথের বাংলা বিভাগের অধীনে পালি বিভাগ চালু করতে বলেন আমার যদি ভুল না হয় ১৯৬৮-৬৯ সাল হবে, এবং পাকিস্থান বুদ্ধ বাণী প্রচার বোড প্রতিষ্টাতা সভাপতি ছিলেন পরবর্তীতে স্বাধীনতার পর নাম হয় বাংলাদেশ বুদ্ধ বাণী প্রচার বোড,শ্রদ্ধেয় ভান্তে শ্রীলংকার রাজ বংশীয় সন্তান ছিলেন তিনি কখনো নিকায ভাগ করেনি কিন্তু বাঙ্গলী বৌদ্ধ সমাজ সেগুলো স্বীকার করবে না।এমন আরো অনেক তথ্য আছে ভান্তে সম্পর্কে যে গুলো বর্তমান প্রজন্ম জানে না।

৬] বাংলাদেশ বুদ্ধ বানী প্রচার বোর্ড করে প্রায় ৫০ টি অধিক বৌদ্ধ ধর্ম দর্শন বিষয়ক পুস্তিকা প্রনয়ণ, সংকলন করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু ২৯ তম সংঘনায়ক অগ্গমহাসদ্ধর্মজোতিকাধ্বজঃ অধ্যাপক বনশ্রী মহাথের মহোদয়।

12/05/2026

মঙ্গলসূত্র শ্রবণে/ পাঠে সত্যি মঙ্গল আসে?
নাকি বাস্তব জীবনে সুষ্ঠু প্রয়োগ, অনুশীলন প্রতিপালন,আচরণে আসে?
___________________________________

বর্তমানে বৌদ্ধ সমাজে মঙ্গলসূত্রকে ঘিরে বা অন্যান্যসূত্র শ্রবণ /পাঠে যে ধারণা প্রচলিত, তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—মঙ্গলসূত্র কি সত্যিই শুধু আবৃত্তি করে “মঙ্গল” পাওয়ার বিষয়, নাকি এটি মানুষের বাস্তব জীবন গঠনের শিক্ষা? বাস্তবে মঙ্গলসূত্র পড়লে দেখা যায়, এখানে কোথাও জাদু, অলৌকিক শক্তি কিংবা দেবতার করুণায় দুঃখ দূর হওয়ার কথা বলা হয়নি।

বরং বলা হয়েছে মানুষের আচরণ, চরিত্র ও জীবনকে কীভাবে সুন্দর করা যায়। মূর্খের সঙ্গ ত্যাগ করা, জ্ঞানীদের সঙ্গ গ্রহণ করা, পিতামাতার সেবা করা, সৎ জীবিকা অর্জন করা, মদ-মাদক বর্জন করা, ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ হওয়া, আত্মসংযম চর্চা করা, সত্য উপলব্ধি করা—এসবই হলো মঙ্গলসূত্রের মূল শিক্ষা। অর্থাৎ এটি আসলে বাস্তব জীবন পরিচালনার একটি নৈতিক ও মানবিক নির্দেশনা।

বুদ্ধের ধম্মের মূল ভিত্তি ছিল প্রজ্ঞা, পর্যবেক্ষণ ও অনুশীলন। তিনি মানুষকে অন্ধবিশ্বাসে নয়, বরং বুঝে, বিচার করে ও যাচাই করে সত্য গ্রহণ করতে বলেছেন। তাই মঙ্গলসূত্রও কেবল শুনে যাওয়ার বিষয় নয়; এটি জীবনে প্রয়োগ করার বিষয়। যেমন আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ শুধু মুখে বললে ফল হয় না, বাস্তবে অনুশীলন করতে হয়, তেমনি মঙ্গলসূত্রের শিক্ষাগুলোও বাস্তবে পালন করতে হয়। একজন মানুষ যদি সত্যিই মদ্যপান বর্জন করে, সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করে, পিতামাতার যত্ন নেয়, কৃতজ্ঞ ও নম্র হয়,অবিদ্যা, কাম,ক্রোধ, লোভ,দ্বেষ, মোহ,তৃষ্ণা এইসব বিষাক্ত আচরণ গুলো নিয়ন্ত্রণ বা ধবংস করে --- তাহলে তার জীবন স্বাভাবিকভাবেই শান্ত ও সুন্দর হবে। কিন্তু যদি এসব কিছুই বাস্তবে পালন না করা হয়, তাহলে শুধু পালি ভাষায় আবৃত্তি শুনে জীবনের কী পরিবর্তন ঘটবে?

আজ অনেক জায়গায় দেখা যায়, মঙ্গলসূত্রকে বাস্তব জীবনদর্শনের চেয়ে এক ধরনের অলৌকিক রক্ষা কবচ হিসেবে বেশি উপস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে পালি সূত্র পাঠ করা হয়, দেবতা আমন্ত্রণ জানানো হয়, পরিত্রাণ প্রার্থনা করা হয়। অনেকেই বিশ্বাস করেন—শুদ্ধ উচ্চারণে সূত্র পাঠ করলে দেবতারা রক্ষা করবেন, অশুভ শক্তি দূর হবে, বিপদ কেটে যাবে। কোথাও কোথাও মঙ্গলসূত্রের পানি ছিটানো হয়, কেউ তা গলায়/ হাতে ধারণ করে, আবার কোথাও “মঙ্গলের শক্তি” দূরে ( বৈদ্যুতিক তারের মত,সাদা সূতায়) পৌঁছে দেওয়ার মতো অদ্ভুত নিয়ম দেখা যায়। এসব বিষয় ধীরে ধীরে এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, সূত্রপাঠকে অনেকেই এক ধরনের মন্ত্রতন্ত্র বা অলৌকিক শক্তি হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন। কিন্তুু,আগেকার সময়ে ওঝা,বৈদ্য দিয়ে মাধাধোয়া,বুরপাড়া ( আপদবিপদ দুঃখ দুর্দশা তাড়াতো ) করা হতো। ভিক্ষুকদের কল্যাণে এগুলো কমেছে কিন্তুু বিশ্বাসের বদলে বিশ্বাস এসেছে " সূত্রশোনা"।
ঘণ্টা দেড়েক প্যানেলের ভিতর চুপ করে মনযোগ দিয়ে শুনলে, সূতা হাতে,গলায় পড়লে, ঘটের পানি দিয়ে ঘরদুয়ার শুদ্ধসাঙ্গ করলেই -- কাম শেষ( মঙ্গল অর্জন)।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, বুদ্ধ কি সত্যিই এভাবে ধম্ম শিক্ষা দিয়েছিলেন? তিনি তো বলেছিলেন—“অত্তা হি অত্তানো নাথো”, অর্থাৎ মানুষ নিজেই নিজের আশ্রয়। বুদ্ধ কখনো বলেননি যে, দেবদেবী এসে মানুষের দুঃখ দূর করে দেবেন। তিনি বলেছেন, জীবনের দুঃখকে বুঝতে হবে এবং নিজের প্রজ্ঞা ও সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমে তা অতিক্রম করতে হবে। জরা, ব্যাধি, মৃত্যু, বিচ্ছেদ, অপ্রিয়ের সংস্পর্শ, চাওয়া পূরণ না হওয়া—এসবই জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা। বুদ্ধের ধম্ম হলো -- " দুঃখ মুক্তি" এসব বাস্তব সমস্যার সাথে
মোকাবিলা, বোঝাপড়া। কোন অলৌকিক পুণ্যফল পাওয়া নয়।

এগুলো থেকে মুক্তি পেতে হলে মানুষের মন ও আচরণের পরিবর্তন প্রয়োজন, শুধু শব্দ উচ্চারণ নয়।
এখানে ভাষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ভাষার মূল উদ্দেশ্য হলো যোগাযোগ ও বোঝানো। কিন্তু অধিকাংশ সাধারণ মানুষ পালি ভাষা বোঝেন না। অনেক সময় যারা পাঠ করেন, তাঁরাও গভীর অর্থ পুরোপুরি উপলব্ধি করেন না। ফলে যা হওয়ার কথা ছিল জ্ঞানচর্চা, তা অনেক ক্ষেত্রেই কেবল আনুষ্ঠানিক আবৃত্তিতে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। মানুষ মনে করে—“না বুঝলেও শুনলেই পুণ্য হবে।” কিন্তু যদি মানুষ বুঝতেই না পারে কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ, কোনটি অনুশীলন করতে হবে, তাহলে তার জীবনে পরিবর্তন কীভাবে আসবে? বিষয়টি এমন, যেন একজন বিদেশি সারাদিন এমন ভাষায় উপদেশ দিচ্ছেন যা শ্রোতা একেবারেই বোঝে না। শুধু শব্দ শুনলেই কি বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব?
অবশ্যই শান্ত সুরে সূত্রপাঠ শুনলে কিছু মানসিক প্রশান্তি আসতে পারে। ধর্মীয় পরিবেশ মানুষের মনে সাময়িক স্বস্তি দেয়। কিন্তু সেটিই চূড়ান্ত মুক্তি নয়। লোভ, ক্রোধ, মোহ, ভয়, হতাশা বা দুঃখ দূর করতে হলে বাস্তব জীবনে নৈতিকতা, সচেতনতা ও মানসিক শুদ্ধতার চর্চা করতে হবে। কারণ বুদ্ধের শিক্ষা ছিল কার্যকারণভিত্তিক। তিনি কখনো বলেননি যে, শুধু সূত্র শুনলেই সব বিপদ দূর হয়ে যাবে বা নির্বাণ লাভ হবে।
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় ধম্মচর্চার চেয়ে ধম্মীয় আনুষ্ঠানিকতাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। মানুষ ভাবছে সূত্রপাঠই মূল বিষয়, কিন্তু সূত্রের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গঠন করাই যে আসল উদ্দেশ্য, তা ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাচ্ছে। এর ফলে বৌদ্ধধর্মের প্রজ্ঞাভিত্তিক ও যুক্তিবাদী দিক দুর্বল হয়ে পড়ে, আর ভক্তিভিত্তিক ও অলৌকিক বিশ্বাস শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অথচ বুদ্ধের ধম্ম কোনো রহস্যময় জাদুবিদ্যা নয়; এটি মানুষের মন, আচরণ ও জীবনের বাস্তব বিজ্ঞান।

তাই আজ প্রয়োজন নতুনভাবে ভাবার। পালি সূত্র শুধু মুখস্থ বা আবৃত্তির জন্য নয়, বরং বোঝার ও জীবনে প্রয়োগ করার জন্য। মঙ্গলসূত্রের প্রকৃত শক্তি শব্দের ধ্বনিতে নয়; এর শক্তি নিহিত আছে বাস্তব অনুশীলনে। মানুষ যদি সত্যিই ৩৮ প্রকার মঙ্গল নিজের জীবনে ধারণ করতে পারে, তাহলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব ক্ষেত্রেই প্রকৃত শান্তি ও কল্যাণ আসতে পারে। শুধু শুনে নয়, বুঝে, চিন্তা করে এবং বাস্তবে পালন করার মধ্যেই বুদ্ধের ধম্মের আসল সৌন্দর্য ও শক্তি লুকিয়ে আছে।

ছবি:- প্রতীকী।

#যুক্তিবাদীদৃষ্টিভঙ্গি
#বুদ্ধের ধম্ম।
সংগৃহীত #

04/05/2026

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমায় নদ্দাস্থ প্রজ্ঞানন্দ বৌদ্ধ বিহারে।

01/05/2026
30/04/2026

মহামানব গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্বলাভ ও মহাপরিনির্বাণ এই ত্রিস্মৃতি বিজড়িত শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমায় সকলকে জানাই মৈত্রীময় শুভেচ্ছা। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

30/04/2026

আজ মেরুল বাড্ডাস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে আমাদের পরম আত্মীয় কানাডা প্রবাসী প্রিয় দাদা বাবু সমীর বড়ুয়া, তৎপুত্র
ডালিম কুমার বড়ুয়া ও নাতি অরিজিৎ বড়ুয়ার প্রবজ্জ্যা গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলাম।

28/04/2026

"বাদামের খোসায় বৌদ্ধদর্শন"

-

আমাদের অধিকাংশের কাছে বুদ্ধ মানেই কেবল বাণীসর্বস্ব এক চরিত্র, গল্পসর্বস্ব কোনো মহাপুরুষ, কিংবা মঠ-মন্দিরের দেয়ালে ঝুলে থাকা কোনো নান্দনিক প্রতিকৃতি। কারো কাছে তিনি নিছক ধ্যানমগ্ন এক মূর্তি, আবার কারো কাছে কেবলই পূজার অনুষঙ্গ।

এই যে বুদ্ধকে আমরা মূর্তির গণ্ডিতে আটকে ফেলেছি, এইখানেই আমাদের বড় ভুল।

বুদ্ধের দর্শনের যে মূল জায়গা- যা আজকের অস্থির, উদ্বিগ্ন এবং যান্ত্রিক পৃথিবীতে একজন মানুষকে দুই দণ্ড শান্তি দিতে পারে, সেই আলাপটি আমাদের আলোচনায় প্রায় অনুপস্থিত।

বুদ্ধ তো কেবল একজন ধর্মপ্রচারক ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইতিহাসের এক মহান মনোবিজ্ঞানী, একজন দক্ষ 'দুঃখের ডাক্তার'।

সারাটি জীবন তিনি একটি গবেষণায় উৎসর্গ করেছে, সেটা হল মানুষের ভেতরে দুঃখের উৎপত্তি কীভাবে হয় এবং কীভাবে এর সমাধান করা সম্ভব।

ওষুধ যেমন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা লিঙ্গভেদে আলাদা কাজ করে না, বুদ্ধের আবিষ্কৃত দর্শনও তেমনি সর্বজনীন। ফলো করলে কাজ করে।

তো বৌদ্ধদর্শনের সম্পূর্ণ ইমারত দাঁড়িয়ে আছে চতুরার্য সত্যের ওপর। এটি বুদ্ধের উপলব্ধির মূল নির্যাস। আজকে আমরা এই চার সত্যকে অল্পের উপরে জানবো।

-

প্রথম সত্য হলো 'দুঃখ'।

বুদ্ধের দৃষ্টিতে জীবন মানেই দুঃখ। এই দুঃখের ব্যাপ্তি অনেক গভীর। বুদ্ধ একে তিন ভাগে ভাগ করেছেন।

প্রথমত, 'দুঃখ-দুঃখ', অর্থাৎ জন্ম, জরা, ব্যাধি এবং মৃত্যুর মতো অনিবার্য শারীরিক ও মানসিক কষ্ট, যা থেকে কোনো মানুষই নিষ্কৃতি পায় না।

দ্বিতীয়ত, 'বিপরিণাম দুঃখ', যা আসলে সুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়। আমরা যা কিছুকে সুখ মনে করি, তা পরিবর্তনশীল। সেই প্রিয় বস্তু বা পরিস্থিতি হারিয়ে যাওয়ার বা বদলে যাওয়ার ভয়ই আমাদের অস্থির করে রাখে।

তৃতীয়ত, 'সংস্কার দুঃখ', যা আমাদের অন্তর্গত অতৃপ্তি। আমাদের মনে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চাহিদার যে উথাল-পাথাল, তা কখনোই পূর্ণ হয় না, আর এই অপূর্ণতাই আমাদের ক্লান্ত করে তোলে।

-

দ্বিতীয় সত্য হলো 'দুঃখ সমুদয়' বা দুঃখের কারণ।

বুদ্ধের মতে, আমাদের সমস্ত যন্ত্রণার মূলেও রয়েছে 'তৃষ্ণা' বা আসক্তি। এই তৃষ্ণা তিন ধরনের হতে পারে।

এক, 'সম্ভোগতৃষ্ণা', যা কেবল বস্তুকেন্দ্রিক আনন্দের আকাঙ্ক্ষা।

দুই, 'ভবতৃষ্ণা', যা আমাদের যশ, খ্যাতি এবং ক্ষমতার প্রতি আসক্ত করে তোলে।

তিন, 'বৈভবতৃষ্ণা', আমরা আমাদের দুঃখকষ্ট বা পরিস্থিতির প্রতি বিরক্ত থাকি, সেই বিরক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার যে অস্থিরতা, সেটিও এক ধরনের তৃষ্ণা।

বুদ্ধ আরও গভীরে গিয়ে বলছেন, আমাদের দুঃখের মূলে রয়েছে 'অবিদ্যা'। সত্যকে না জানা, নিজেকে ও বাস্তবতাকে অস্বীকার করাই হলো অবিদ্যা।

এই অবিদ্যা থেকেই জন্ম নেয় তিনটি বিষ— মোহ, রাগ এবং দ্বেষ।

যখনই আমরা সত্যকে দেখতে পাই না, তখনই মোহগ্রস্ত হয়ে কোনো কিছুর প্রতি আসক্ত হই, আবার কোনো কিছু থেকে দূরে থাকতে চাই— আর এই টানাটানির মধ্যেই আমাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় নষ্ট হয়।

-

তৃতীয় সত্য হলো 'দুঃখ নিরোধ'।

বুদ্ধের দর্শন যেখানে শুরু হয় দুঃখ দিয়ে, তার চূড়ান্ত পরিণতি হলো এই নিরোধ।

তৃষ্ণাকে যখন আমরা যুক্তিবোধ দিয়ে সংযত করি এবং ক্রমশ বর্জন করি, তখনই দুঃখের বিনাশ ঘটে। এটিই সেই অবস্থা, যেখানে মন আর কোনো কিছুকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায় না।

-

চতুর্থ সত্য হলো 'দুঃখ নিরোধ মার্গ' বা দুঃখ নিবারণের ব্যবহারিক পথ।

বুদ্ধ দুঃখ জয়ের আটটি উপায় বাতলে দিয়েছেন, যাকে তিনটি বড় ভাগে ভাগ করা যায়:

- সম্যক প্রজ্ঞা,
- সম্যক শীল
- এবং সম্যক সমাধি

প্রজ্ঞা মানে হলো জীবনের সত্যকে সঠিকভাবে দেখা ও সংকল্প গ্রহণ করা। শীল মানে হলো নিজের আচরণকে শুদ্ধ করা। সত্য ভাষণ, সৎ জীবিকা ও অহিংস আচরণ। আর সমাধি হলো মনের একাগ্রতা ও সচেতনতা।

যখন কোনো মানুষ সম্যক প্রযত্ন, স্মৃতি ও একাগ্রতার মাধ্যমে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তখন তার দুঃখের কারণগুলো এমনিতেই ফিকে হয়ে আসে।

এই চতুরার্য সত্যকে পরিপূর্ণভাবে জীবনমুখী করার জন্য বুদ্ধ 'বারো অন্তর্দৃষ্টি'র একটি প্র্যাকটিক্যাল ব্লু-প্রিন্ট দিয়েছেন। প্রতিটি সত্যের গভীরে প্রবেশের জন্য আছে তিনটি করে ধাপ বা পর্যায়।

প্রথমত, 'সচ্চ নান' বা সত্য সম্বন্ধে জানা, অর্থাৎ সমস্যার অস্তিত্বকে স্বীকার করা।

দ্বিতীয়ত, 'কিচ্চ নান' বা সত্য সম্বন্ধে কী করণীয় তা জানা, অর্থাৎ সমাধানের রোডম্যাপ তৈরি করা।

তৃতীয়ত, 'কত নান' বা যা করণীয় তা সম্পন্ন করা, অর্থাৎ কাজটি করে ফেলা।

প্রথম আর্য সত্যের ক্ষেত্রে আমাদের বুঝতে হয়, দুঃখ আছে; এরপর উপলব্ধি করতে হয় যে এই দুঃখকে বুঝতে হবে। এই উপলব্ধিটি যখন আমাদের চিন্তায় স্থায়ী হয়, তখন দুঃখের স্বরূপ আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় সত্যের ক্ষেত্রে, আমরা জানি যে দুঃখের কারণ আছে অর্থাৎ তৃষ্ণা আছে; এরপর আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে এই তৃষ্ণাকে দূর করতে হবে; এবং যখন আমরা নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে তৃষ্ণার টান কমিয়ে
ফেলি, তখন দ্বিতীয় সত্যের পাঠ সম্পন্ন হয়।

তৃতীয় সত্যের ক্ষেত্রে, আমরা জানি যে দুঃখের নিবৃত্তি সম্ভব; এরপর আমাদের মনের ভেতরে সেই নিবৃত্তির আকাঙ্ক্ষা ও উপলব্ধি তৈরি করতে হয়; এবং যখন আমরা বাস্তবে শান্ত থাকি, তখন তৃতীয় সত্যের উপলব্ধি সম্পূর্ণ হয়।

সবশেষে চতুর্থ সত্যের ক্ষেত্রে, আমরা জানি যে দুঃখ নিবৃত্তির মার্গ বা উপায় আছে; এরপর আমাদের লক্ষ্য স্থির করতে হয় যে এই পথ ধরে চলতে হবে; এবং যখন আমরা প্রতিদিনের জীবনে সম্যক কর্ম ও প্রজ্ঞা চর্চা শুরু করি, তখনই এই চার সত্যের বারোটি পর্যায় বা বারো অন্তর্দৃষ্টি আমাদের জীবনকে বদলে দিতে শুরু করে।

এটিই বুদ্ধের সেই প্র্যাকটিক্যাল ফিলোসফি একটা বাদামের খোসায় বললাম, যার প্রয়োগ মানুষকে তার নিজের জীবনের মালিক করে তুলতে পারে।
সংগৃহীত #

28/04/2026

আগামী ১ মে ২০২৬ তারিখে গাজীপুর সর্বজনীন অজন্তা বৌদ্ধ বিহার, মল্লিক বাড়ি, শিমুলতলীতে শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমায় অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

28/04/2026

শুভ সকাল,
সবাইকে বৃষ্টিস্নাত সকালের স্নিগ্ধ শুভেচ্ছা।

Want your business to be the top-listed Government Service in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Raozan, Chattagram
Chittagong
4346