23/05/2026
চবিতে ২০২৫-২৬ সেশনের ১ম সেমিস্টারের কোর্স শিক্ষকদের নিয়ে ৩ দিনব্যাপী OBE কারিকুলামের বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন
======
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টারে পাঠদানকারী শিক্ষকদের নিয়ে 'আউটকাম বেসড এডুকেশন' (OBE) কারিকুলামের উপর তিন দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১২-১৪ মে ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে শিক্ষকদের প্রতি ব্যাচে ৩৫-৪০ জন করে মোট ৯টি ব্যাচে বিভক্ত করা হয়। প্রতিদিন মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের ১০৮, ৩১০ ও ৪১০ নম্বর কক্ষে সমান্তরালভাবে তিনটি ব্যাচে এই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সেশনগুলো পরিচালিত হয়।
তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালায় মোট ৬টি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সেশনগুলোর মূল বিষয়বস্তু ছিল:
• ওবিই (OBE) কারিকুলামের গঠন ও বিন্যাস।
• কোর্স প্ল্যান ও কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতকরণ।
• ব্লুমস ট্যাক্সোনমি (Bloom's Taxonomy) এবং কোর্সের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষণ ও শিখন (Teaching & Learning) কৌশল নির্ধারণ।
• ফলাফল-ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন পদ্ধতি।
• মূল্যায়ন নির্দেশিকা বা রুব্রিক্স (Rubrics) তৈরি এবং এর ব্যবহারিক প্রয়োগ।
• প্রোগ্রাম অ্যাক্রেডিটেশনের (Accreditation) শর্তপূরণে সর্বোত্তম উপায়ে কোর্স ফাইল সংরক্ষণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে ফলাফল-ভিত্তিক (OBE) কারিকুলাম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় বিষয়ে সম্যক ধারণা প্রদান এবং সম্ভাব্য বাধাসমূহ মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণে সহায়তা করাই ছিল এ ওয়ার্কশপের মূল উদ্দেশ্য।
'আউটকাম বেসড এডুকেশন' (OBE) কারিকুলাম বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ তিনজন প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে এই কর্মশালাটি সম্পাদিত হয়। কর্মশালায় মূল রিসোর্স পারসন (প্রশিক্ষক) হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (AIUB) কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স প্রফেশনাল এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (BAC) একাডেমিক অডিটর প্যানেলিস্ট প্রফেসর ড. এ. বি. এম. রহমতুল্লাহ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর ও আইকিউএসির (আইকিউএসি) অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মনিমুল হক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রুরাল প্ল্যানিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ও আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. সালাউদ্দিন।
প্রতিটি সেশনে মূল প্রশিক্ষকদের পাশাপাশি চবি আইকিউএসি টিমের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি করেন আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. শাহাদাত হোছাইন এবং অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন। এছাড়া একাডেমিক সাপোর্ট টিমে দায়িত্ব পালন করেন চবি ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রোকন উদ্দীন এবং অ্যাকাউন্টিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইকবাল হোছাইন।
কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান প্রশিক্ষণ ভেন্যুসমূহ পরিদর্শন করেন। তিনি অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং চবিতে ওবিই কারিকুলামের সফল বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
------------
স্বাক্ষরিত/-
(খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন)
ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য ও জনসংযোগ)
রেজিস্ট্রার দপ্তর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
21/05/2026
চবি উপ-উপাচার্যের (একাডেমিক) সঙ্গে ইরান এম্বাসির কালচারাল কাউন্সিলরের সৌজন্য সাক্ষাৎ
=====
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এর সঙ্গে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) দপ্তরে আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩.৩০টায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইরান এম্বাসির কালচারাল কাউন্সিলর সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মদী ও তাঁর সহধর্মিণী।
সাক্ষাৎকালে তাঁরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা বৃদ্ধি এবং উচ্চ শিক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান আগত অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমরা গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণাকর্মের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছি। এসময় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) চবি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) যৌথভাবে গবেষণামূলক কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আগত অতিথিকে মাননীয় উপ-উপাচার্যের (একাডেমিক) আন্তরিকতায় মুগ্ধ হন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চবি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. মো. নুরে আলম, প্রভাষক মিজানুর রহমান ও মো. আবু সালেহ।
------------
স্বাক্ষরিত/-
(খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন)
ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য ও জনসংযোগ)
রেজিস্ট্রার দপ্তর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
21/05/2026
চবিতে আইকিউএসির উদ্যােগে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উদযাপন
=====
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এর কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স শাখার নির্দেশনা মোতাবেক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এর উদ্যোগে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ (World Intellectual Property Day 2026) উদযাপন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের অডিটোরিয়ামে ‘Intellectual Property Rights: Linking Sports, Arts and Science’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আয়োজনে ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস শুধুমাত্র খেলাধুলা, শিল্পকলা ও বিজ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সবকিছুর মধ্যেই মেধাস্বত্ব রয়েছে। বিশেষ করে পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক, লোগো ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনের ক্ষেত্রে আইপি গুরুত্বপূর্ণ। যার যে যোগ্যতা, দক্ষতা রয়েছে, তাকে সেই প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন করতে হবে। নতুবা পরবর্তী প্রজন্ম উদ্ভাবনী কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তিনি বলেন, আমরা অনেক সফটওয়্যার, বই এবং ডিজাইন ব্যবহার করি, যা কপি করা। এমনটি করা উচিত নয়। কপি করার সংস্কৃতি বন্ধ করতে পারলে উদ্ভাবনী আইডিয়া বাড়বে এবং পরবর্তী প্রজন্ম আগ্রহ নিয়ে কাজ করবে। তিনি সেমিনারের সফলতা কামনা করেন এবং সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। তিনি বলেন, মেধাস্বত্ব সম্পর্কে আমাদের দেশের সবাই তেমন অবগত নন। আইপি হলো মূলত তিনটা বিষয়; কপিরাইট, ট্রেডমার্ক ও পেটেন্ট। প্রায়ই মূল লেখক বা কারিগরকে স্বীকৃতি না দিয়ে কপি করা হয়। বইপুস্তক, শীট ও লেখাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটা হয়। এক্ষেত্রে সচেতন হওয়া জরুরি। মূল লেখক বা কারিগরকে স্বীকৃতি দিতে হবে। আবার ট্রেডমার্ড নকল করে অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন৷ মূল স্বত্ব একজনের সেটা নকল করে বহুজন এখন ব্যবসা করছেন। যেমন কুমিল্লার রসমালাই মূল একটা সেটা নকল এখন অনেকগুলো হয়েছে। আরেকটা হলো পেটেন্ট, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যার আবিষ্কার বা উদ্ভাবন তাকে অধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, আজকের সেমিনারে আইপি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মতামত উঠে আসবে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে আসবে। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইপি-ক্রনিকলস প্রধান গবেষক ও পরামর্শদাতা মাহুয়া জহুর (এলএলএম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং এলএলএম ইন ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি ল, তুরিন, ইতালি)। তিনি খেলাধুলা, শিল্পকলা এবং বিজ্ঞানের সাথে মেধা সম্পদ অধিকারের যোগসূত্র ও এর গুরুত্বের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন। মূল বিষয়ের ওপর আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর মো. মোর্শেদ মাহমুদ খান। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন চবি জামাল নজরুল ইসলাম উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. রেজাউল আজিম।
বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে এবং উদ্ভাবনী মেধার সুরক্ষায় মেধা সম্পদ আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং চবি আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন চবি আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশ নেন।
এর আগে সকাল ১০.৩০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শুরু হয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে এসে শেষ হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন চবি জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ.এম. মাসুদুল আজাদ চৌধুরী, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
----------
স্বাক্ষরিত/-
(খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন)
ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য ও জনসংযোগ)
রেজিস্ট্রার দপ্তর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
21/05/2026
পবিত্র ঈদুল আযহা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি
21/05/2026
অফিস খোলা রাখা সংক্রান্ত জরুরী বিজ্ঞপ্তি
20/05/2026
র্যাগিং (Ragging) ও বুলিং (Bullying) সংক্রান্ত প্রক্টর অফিসের জরুরী বিজ্ঞপ্তি
19/05/2026
চবিতে জামাল নজরুল ইসলাম উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রে 'বরণ ও বিদায় ২০২৬' অনুষ্ঠিত
====
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল ইসলাম উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং বিদায়ী গবেষক ও শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আজ মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) বেলা ১২টায় কেন্দ্রের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামাল নজরুল ইসলাম উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. রেজাউল আজিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান নবীনদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, জামাল নজরুল ইসলাম উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম একটি গৌরবময় স্থান। এখানকার বিদায়ী গবেষকদের অভিজ্ঞতা এবং নবীনদের নতুন চিন্তার সমন্বয়ে দেশের উচ্চতর গবেষণা ও একাডেমিক ক্ষেত্র আরও সমৃদ্ধ হবে। তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর এ সেন্টারের নাম পরিবর্তন করেছি। অনেক আলাপ-আলোচনার প্রেক্ষিতে এ গবেষণা সেন্টারকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করেছি। সত্যিকার অর্থে যাতে গবেষণা সেন্টার হিসেবে সবাই গবেষণা করতে পারে এবং পরিচিত পায় সেই লক্ষ্যে কাজ করেছি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মনে রাখবেন আপনারা জামাল নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত এবং নামকরণ করা একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা বা গবেষণা করছেন। এজন্য নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে গবেষণা করবেন। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা এ প্রতিষ্ঠানের এম্বাসাডর। দেশে-বিদেশে সুনামের সাথে কাজ করবেন। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম খুবই চমৎকার মানুষ ছিলেন। বিজ্ঞানের পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কেও উঁনার খুব ভালো জ্ঞান ছিল। বিজ্ঞানে পদার্থ ও গণিতের গুরুত্ব অনেক বেশি। গণিতের সাথে অনেক কিছুই জড়িত রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এ গবেষণা কেন্দ্রকে ভালো মানের গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছি। আরও যা যা করা লাগে আমরা করবো। তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি সকল শিক্ষার্থীর এবং গবেষণা কেন্দ্রের সফলতা কামান করেন। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন নবীনদের শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান এবং বিদায়ীদের শুভ কামনা জানান। তিনি বলেন, আপনারা এমন একটি গবেষণা কেন্দ্রে পড়াশোনা করতে পেরে সৌভাগ্যবান বলে মনে করি। আপনারা জামাল নজরুল ইসলামের লিগ্যাসি বহন করছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণায় আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জামাল নজরুল ইসলাম উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. রেজাউল আজিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় অতিথিবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রসারে এই কেন্দ্রটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নবীন শিক্ষার্থীদের মেধা ও বিদায়ীদের অভিজ্ঞতা-উভয়ই এই কেন্দ্রের অগ্রযাত্রাকে সচল রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন পদার্থবিদ্যা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম, গণিত বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জালাল আহাম্মদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী, বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাসির উদ্দিন চৌধুরী, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাইমুল ইসলাম এবং নবীনদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আলফাজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন গবেষণা কেন্দ্রের শিক্ষার্থী রুপা রানী দাস। অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। এরপর অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এছাড়া নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ এবং বিদায়ীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে গবেষণা কেন্দ্রের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাসির উদ্দির চৌধুরীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
----------
স্বাক্ষরিত/-
(খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন)
ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য ও জনসংযোগ)
রেজিস্ট্রার দপ্তর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
19/05/2026
চাকসুর উদ্যােগে ‘জুলাই স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫’ এর পুরস্কার বিতরণ
===
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫’ এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আজ মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) বিকাল ৩.৩০টায় চাকসু ভবনের ভিপি রুমে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাকসুর কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর, চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ২৪ এর জুলাইয়ের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে। এ আন্দোলন ছিল ছাত্রজনতা, কৃষক, শ্রমিক ও শিক্ষকসহ আপামর জনসাধারণের আন্দোলন। তিনি বলেন, স্বৈরাচারি আমলে ছাত্র সংসদগুলো অকার্যকর ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অছাত্ররা থাকতো। জুলাইয়ের পর এসবের পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও নৈতিকতা সম্পন্ন জ্ঞান অর্জন করার আহ্বান জানান। মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) জুলাইকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে আগামীতে কেউ ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠলে চাইলে ছাত্র সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতাব্বরের সভাপতিত্ব সঞ্চালনা করেন চাকসুর সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ হোসাইন (আহনাফ)। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ লিখন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তাঁদের সেই ত্যাগের কাহিনী ও আজাদির চেতনাকে ধরে রাখতে তরুণদের এই সাহিত্যিক আয়োজন করা হয়েছে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম এবং সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
---------
স্বাক্ষরিত/-
(খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন)
ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য ও জনসংযোগ)
রেজিস্ট্রার দপ্তর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
18/05/2026
চবিতে ফারাক্কা লং মার্চ দিবস উপলক্ষে চাকসুর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
====
ফারাক্কা লং মার্চ দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এর উদ্যোগে "ফারাক্কা বাঁধ: আধিপত্যবাদের নির্মম গ্রাসে বাংলাদেশ" শীর্ষক এক আলোচনা সভা আজ সোমবার (১৮ মে ২০২৬) দুপুর ২:৩০টায় চবি সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চবি সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ফারাক্কা বাঁধ ইস্যু দীর্ঘমেয়াদী একটি অমীমাংসিত বিষয়। বাংলাদেশের মানুষের জন্য ফারাক্কা বাঁধ ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফারাক্কা আপাত দৃষ্টিতে একটি বাঁধ আর পানির ইস্যু দেখলেও আসলে এটা ভূ-রাজনৈতিক বড় একটি বিষয়। ভারত এটাকে ব্যবহার করে আধিপত্যবাদ জিইয়ে রেখেছে। ভারত কলোনিয়াল মানসিকতা পোষণ করে। এজন্য পানি থেকে শুরু করে সবকিছু দিয়ে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে চায়। যার কারণে আমরা যখন চাই তখন পানি পাই না, আবার যখন দরকার হয় না তখন পানি উপচে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সাথে আমরা অসম সম্পর্কের মধ্যে রয়েছি। ভারতের সাথে আমাদের একমুখী যোগাযোগ কার্যকর রয়েছে। এর কারণ হচ্ছে রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক হয়নি, সরকারের সাথে সরকারের সম্পর্ক হয়েছে। ভারতকে যেমন আমাদের প্রয়োজন রয়েছে, তেমনিভাবে বাংলাদেশকে ভারতের প্রয়োজন রয়েছে, এটা বুঝতে হবে। তিনি বাংলাদেশের ফরেন পলিসি যথাযথভাবে নির্ধারণ এবং কার্যকর করার আহ্বান জানান। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন৷
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। এমন আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, ফারাক্কার ইস্যুটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের ইতিহাস চর্চা করতে হবে। ভারতের আগ্রাসী মনোভাব অনেক আগ থেকেই আমাদের ওপর শুরু হয়েছে। যার কারণে তারা ফারাক্কা ইস্যুসহ নানাভাবে আধিপত্য দেখাতে চায়। এ ফারাক্কা নিয়ে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কথা বলেছিলেন। আজকে উনার মতো নেতা প্রয়োজন। তিনি সবাইকে অধিকার সচেতন হওয়ার আহ্বানা জানান এবং ধন্যবাদ জানান।
অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক মোনায়েম শরীফ। আলোচনা সভায় চাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে চাকসু কর্তৃক আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বই পাঠ প্রতিযোগিতা ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
------------
স্বাক্ষরিত/-
(খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন)
ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য ও জনসংযোগ)
রেজিস্ট্রার দপ্তর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
18/05/2026
চবিতে ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর: এডুকেশন এক্সপো’ শীর্ষক প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
====
পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্বিতীয় বারের মতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আজ সোমবার (১৮ মে ২০২৬) সকাল ১০.৩০টায় চবি সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর: এডুকেশন এক্সপো’ শীর্ষক একটি প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
চবি অফিস ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স এর সহায়তায় আয়োজিত চবি সমাজবিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম (প্রোগ্রাম) সম্পর্কে প্রদর্শনী করেন। পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা খরচে বৃত্তির ব্যবস্থা করবে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ স্কলারশিপে পড়ার সুযোগ পাবে। প্রোগ্রামটিতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে চবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। অনুষ্ঠান শেষে আগত অতিথিবৃন্দ চাকসুর প্রতিনিধিবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন।
বক্তব্যে চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যােগ। এর মাধ্যমে দুই দেশে উচ্চশিক্ষায় সেতুবন্ধন রচিত হবে। ইতোমধ্যে পাকিস্তানে আমাদের বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি টিম সফরে রয়েছেন। সেই টিমে আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ও রয়েছেন। আমাদের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য এ উদ্যােগ নতুন দরজা খুলে দিবে। এ উদ্যােগের সফলতা কামনা করেন তিনি। আলোচনা পর্ব শেষে তিনি প্রত্যােকটি স্টল পরিদর্শন করেন এবং যাবতীয় বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি আগত অতিথিবৃন্দসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান।
মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। তিনি বলেন, গত বছর এমন একটি প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আমাদের বহু শিক্ষার্থী পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেয়েছে। এটা সত্যি আনন্দের খবর। এজন্য পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এ উদ্যােগ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য দারুণ একটি সুযোগ। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। আশা করি, এবারও শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগ কাজে লাগাবে এবং উভয় দেশের শিক্ষা বিনিময়ে সহায়ক হবে। মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আগত অতিথিবৃন্দসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ ওয়াসিফ ও পাকিস্তানের হায়ার এডুকেশন কমিশনের হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ডিসিশনের প্রজেক্ট ডিরেক্টর জেহানজেব খান ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী। চবি অফিস ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন চবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেলের অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. ইকবাল শাহীন খান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ.এম. মাসুদুল আজাদ চৌধুরী ও মেরিন সায়েন্সস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শাহাদাত হোসেন, পাকিস্তানের হায়ার এডুকেশন কমিশনের কাউন্সিলর আতহার হামীদ খান, চবি হলসমূহের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, চাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই 'নলেজ করিডোর' কেবল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগই তৈরি করবে না, বরং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, ফ্যাকাল্টি বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা এবং ব্যবসা শিক্ষার ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা পর্ব শেষে ফিতা কেটে এডুকেশন এক্সপো উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। দিনব্যাপী আয়োজিত এই এডুকেশন এক্সপোতে চবির বিভিন্ন বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এবারের শিক্ষা প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পাকিস্তানের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, সম্পূর্ণ ও আংশিক স্কলারশিপ এবং গবেষণার ক্ষেত্রসমূহ সরাসরি উপস্থাপন করা। এক্সপোতে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের ভর্তি যোগ্যতা, ক্রেডিট ট্রান্সফার এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে সরাসরি কাউন্সিলিং প্রদান করেন।
-----------
স্বাক্ষরিত/-
(খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন)
ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য ও জনসংযোগ)
রেজিস্ট্রার দপ্তর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
18/05/2026
অফিস ছুটির বিজ্ঞপ্তি (পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ২০২৬)