31/12/2014
"তেলের অতিরিক্ত উৎপাদন আর ঐতিহাসিক মহামন্দা"
১৯৩০ সালে তেলের উৎপাদনে ভেসে ছিল বিশ্ব, যা সেই সময়ের স্ফীতিহ্রাসের অন্যতম কারণ।
১৯৩০ সালে মহামন্দার সময় জৈব শক্তির চাহিদা হ্রাসের পাশাপাশি টেক্সাসে যখন বৃহৎ একটি তেল খনির সন্ধান মিলে, এতে তেলের দাম অনেক নেমে যায়। ১৯৩১ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এর দ্বারা শুধু তেল খাঁতে বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় নাই, সাথে বৈশ্বিক স্ফীতিহ্রাসও ঘটেছিল। বর্তমানে আবারো নিম্ন মাত্রার মুদ্রাস্ফীতি ও ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডাররা তেলের মূল্যহ্রাসের সম্মুখীন হবে।
এই বছরে তেল কোম্পানিগুলোর ক্ষতি একটা দুর্ভাগ্যই বলা যায়। পূর্ব মধ্য টেক্সাসে একটি উর্বর কিন্তু অগভীর তেলখনির সুযোগ আবিষ্কারের ফলে গত বছরে তেল কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ও ভোগের মধ্যে সমতা আনার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। সন্দেহাতীতভাবেই বলা যাই যে ৩০ মাইলেরও বেশী একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলখনির সন্ধান এটি। মার্চের শুরুতে এই নতুন কূপ থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫৫০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদন হত কিন্তু কোন ট্রাঙ্ক পাইপ-লাইন ছাড়াই বর্তমানে এর থেকে উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে দাড়াই দিনে ২৫৩০০০ ব্যারেল। এই সেই ঘটনা যা আমেরিকার তেল শিল্পকে আবারো ভারসাম্যহীন করে তুলেছে।
অশোধিত তেলের উৎপাদন অতো গুরুতর হতো না যদি আমেরিকান পরিশোধকেরা শোধনাগারে তেল সরবরাহ কমিয়ে দিত। এটা তাদের ঘোষিত মনোভাব ছিল যে তারা এই বছর শীতের মাসে পেট্রোল জমিয়ে রাখবে না, এমনটা তারা সব বছরেই করে থাকে। তারা চেয়েছিল গতবছরের এপ্রিলের প্রথমে জমা থাকা ৫৫০০০০০০ ব্যারেল এর সংখ্যার পরিমাণ কমিয়ে ৪০০০০০০০ ব্যারেলে নিয়ে আসবে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে। কিন্তু পরিশোধকেরা তাদের এই সৎ ইচ্ছা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। মার্চের শেষেই পেট্রলের পরিমাণ দাড়াই ৪৭০০০০০০ ব্যারেল যাকিনা এপ্রিলের ১৮ তারিখে ৪৬৩৮৪০০০ ব্যারেলে এসে দাড়াই। পেট্রোলের এই অতিরিক্ত মজুদ অশোধিত তেল এবং পেট্রোলের বাজারে দামের পতন ঘটিয়েছে।
এই বছরে তেলের দামে বিশাল হ্রাস সুনিশ্চিতভাবে এই শেয়ারহোল্ডারদের কাছে উদ্বেগের কারণ ছিল। তাদেরকে আরও দেখতে হবে তেল কোম্পানিগুলো তাদের খতিয়ানে আর কত তেল মজুদের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করে। আশা করা যায়, ডিসেম্বরের ৩১ তারিখের উদ্ধৃত্তপত্রের মন্দ অবস্থা থেকে পরিত্রান পাওয়া যাবে।
তেলের শেয়ারহোল্ডারদের কাছে এইটা সুষ্পষ্ট যে, ১৯৩১ সালের আয় এবং লভ্যাংশ ১৯৩০ সালের থেকে খারাপ ছিল। ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ তেলের শেয়ার উদ্ধৃতাংশ আমেরিকানদের থেকে বেশি স্ফীতিহ্রাসের স্বীকার হবে। Royal Dutch, Shell Transport, Anglo-Persian and Burmah Oil কোম্পানিগুলোর শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তি থাকার পরেও বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণে তাদের সক্ষমতা নিয়ে বর্তমান মার্কেটে হতাশাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী সৃষ্টি হতে পারে!
অনুবাদকৃত,
http://www.economist.com/news/business-and-finance/21637484-too-much-oil-flooded-world-early-1930s-contributing-deflation-oil-gluts-great
Oil gluts, Great Depression style
During the Great Depression of the 1930s, massive oil discoveries in Texas, alongside falling global demand for energy, sent oil prices tumbling downwards. As we...
28/11/2014
"সস্তা গৃহায়নের নতুন দিগন্ত"
উন্নত দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি উন্নয়নশীল অর্থনীতিতেও উপযুক্ত ও সস্তা গৃহায়ন বর্তমানে একটি উদীয়মান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। সস্তা গৃহায়নের চাহিদা, যোগানের তুলনাই বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়াই উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধির উপর প্রতিকূল প্রভাব পরছে। সৌভাগ্যবসত, শহর এলাকাই বাঁজার ভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সস্তা গৃহায়নের শূন্যস্থান পূরণের পথ তৈরি করা যায়।
পৃথিবীব্যাপি, ৩৩০ মিলিয়ন নিম্ন ও মধ্য আয়ের শহুরে পরিবার হয় নিকৃষ্ট মানের ঘরে বসবাস করেন অথবা ঘরভাড়ার চাপ সামলাতে গিয়ে তাদের জরুরী কিছু খরচ(চিকিৎসা, শিক্ষা) বাদ দিতে হয়। ২০২৫ সালের মধ্যেই এই সংখ্যা ৪৪০ মিলিয়নে গিয়ে দাঁড়াবে যা কিনা পৃথিবীর সব শহরের মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ। খুব গরিব যারা গ্রামে বা ফুটপাতে থাকে তাদের এই পরিসংখ্যান গণনার অন্তর্ভুক্তই করা হয় নাই। ২০২৫ সালের মধ্যে এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে হলে প্রায় ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন যা অবাক করার মত। কিন্তু চারটি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই খরচ ২০%-৫০% পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। যার ফলে ৫০%-৮০% মধ্য আয়ের পরিবার তাদের মোট আয়ের ৩০% ব্যয় করে বাসস্থান সুবিধা গ্রহন করতে পারবে।
প্রথম পদক্ষেপটি হল যথাপোযুক্ত জমি ব্যাবহার করা। সঠিক স্থানে, ন্যায্য মূল্যে জমি উন্নয়ন কাজ নেয়ার মাধ্যমে খরচ কমানু যায়।
জমির অবস্থানটি বিশেষ করে উন্নইয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অধিকাংশ এলাকায় সাধারণত পরিবহন, পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা পর্যাপ্ত থাকে না। এসব এলাকার অব্যবহৃত জমির ব্যাবহার কিংবা ঐ এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ কাজে বিনিয়োগ করে গৃহায়ন খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব।
একইভাবে,শহর কর্তৃপক্ষ জমি ব্যাবহারে বাধা-নিষেদ্গুলো কমিয়ে আনতে পারে যেমন অধিক বসতি সৃষ্টির জন্য গৃহায়ন ইউনিট সাইজ তুলে দিতে পারে, যার ফলে আরও অনেক মূল্যবান প্রকল্প সৃষ্টি হবে। গৃহায়ন ব্যবসায়ীদের এই সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে প্রকল্পের বা জমির কিছু অংশ সস্তা গৃহায়নে বরাদ্ধ রাখার নির্দেশ দিতে পারে। এইভাবে আন্তভর্তুকির ব্যবস্থা করে সরাসরি সাধারণ জনগণের টাকায় হাত না দিয়েই ভিন্ন আয়ের লোকের মাঝে গৃহায়ন সুবিধা সরবরাহ করতে পারে।
এছাড়াও জমির উন্নত ব্যাবহার বাড়ানোর লক্ষে জমি জিম্মি করে রাখার প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, চীন বর্তমানে অলশ-জমি কর নিয়ে থাকে। অর্থাৎ, যেসব জমির মালিক ১ বছরের মধ্যে তার জমিকে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে পারবে না তাদের থেকে এই কর আদায় করা হবে।
এর পর দ্বিতীয় পদক্ষেপ হতে পারে কার্যকর নির্মাণ শিল্প প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে দেখা যাই যে এই নির্মাণ শিল্পগুলো বহুভাগে খণ্ডিত, বিভক্ত যেটা এই শিল্পের ব্যয় সুবিধাকে বাঁধাগ্রস্ত করে। তাছাড়া বাসস্থান নির্মাতারা এখনও ৫০ বছর পদ্ধতিই ব্যবহার করে যাচ্ছে।
বাড়ির দেয়ালের উচ্চতা, অন্যান্য উপাদান। মেঝে তৈরির উপাদানগুলোর একটি সার্বজনীন মান নির্ধারণ করার মাধ্যমে কোম্পানিগুলো খরচ কমিয়ে, উৎপাদন বাড়াতে পারে। সার্বজনীন এই মান অনুসরণের ফলে বার বার একই ধরণের কাজ করতে গিয়ে কর্মীরা দক্ষ ও অভিজ্ঞ হয়ে উঠে। বাড়ি তৈরির বিভিন্ন উপাদানেরও যে শিল্পগুলো আছে তাদের যতাযত ব্যাবহার করেও খরচ কমিয়ে আনা যায়। যেমন, যদি মেঝে, দেয়াল সম্পূর্ণ অন্যত্র বানিয়ে এনে নির্মাণ কাজে লাগানো। অনেক গৃহ নির্মাণকারী সঠিক উপায়ে ও সঠিক দামে নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে জানে না। তাই সমন্বিতভাবে গৃহ নির্মাণ করলে খরচ ৩০% সাশ্রয়ী করে তুলবে এবং টা ভোক্তারা ৪০%-৫০% সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারবে।
তৃতীয় পদক্ষেপটি ব্যাবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত। ঘরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন থেকে শুরু করে মেঝেতে ফাটল সারানওর কাজ যাতে কিনা খরচ হয় পুরো গৃহায়ন খরচের ২০%-৩০%। এইসব বিষয় অর্থাৎ বায়ু চলাচল, আলোবাতাসের সঠিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ২০%-৩০% খরচ কমিয়ে আনার এক অপরূপ সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও সাশ্রয়ী করা সম্ভব হত যদিনা মেরামত কোম্পানিগুলো স্বচ্ছতা অবলম্বন করত এবং বড় আকারে পরিচালিত হত। এইক্ষেত্রে সরকারী সংস্থাগুলো প্রত্যয়নের মাধ্যমে তালিকা তৈরি করে তালিকাভুক্তদের থেকে যাবতীয় সামগ্রী ক্রিয়ের জন্য ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে পারে। এই পদ্ধতি ব্যাবহার করে ব্রিটেনের সামাজিক গৃহায়ন সংস্থাগুলো কিছু জিনিসের খরচ ২০% পর্যন্ত কমিয়ে এনেছিলো।
সর্বশেষে বলা যাই, সস্তা গৃহায়নের জন্য সহজ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে বিশেষ করে সেইসব নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য যারা কোন রকমে অর্থ জোগাড় করতে পারলেও উচ্চ ঋণের সুদের বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়। বর্তমান বিশ্বে অনেকেই পর্যাপ্ত অর্থ সঞ্চয় করতে পারে না, ঋণ নেয়ার মত সামর্থ্যও নাই অত্যাধিক জামানত ভারের কারণে।
আর্থিক সহায়তাকে সহজ করার লক্ষে দেশে ঋণ সহায়ক সংস্থার উদ্ভব ঘটাতে হবে যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তেমন একটা দেখা যাই না। এই সংথাগুলা গৃহের দাম নির্ধারণ করে দিবে। ফলে কোন কোম্পানি অত্যাধিক দাম আদায় করতে পারবে না। কিছু কিছু দেশে সমন্বিত সঞ্চয় ব্যাবস্থা চালু আছে। বিভিন্ন তহবিল সৃষ্টির মাধ্যমে এরা নিম্ন আয়ের মানুষদের গৃহায়নে এককালীন মূল্য পরিশোধে সহায়তা করে থাকে। নিম্ন সুদ জামানতের জন্যেও এইসব সংস্থা মূলধন যোগাড় করে দেয়।
এইসবের পাশাপাশি, গৃহায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ক্ষতি রোধ করার স্বার্থে পৌর কর্তৃপক্ষ বিল্ডিং তৈরির সরঞ্জাম স্বল্পমূল্যে এবং যথাযোগ্য ভাড়াটিয়া সরবরাহ করে দিতে পারে।
এই চারটি পদক্ষেপ যথাযতভাবে অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করে গৃহায়ন খরচ অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। এর ফলে যাদের গৃহ প্রয়োজন তারা সহজেই গৃহ পেয়ে যাবে অন্যদিকে সামর্থ্যবানরা তাদের ইচ্ছে ও পছন্দমত ঘর নির্বাচনের সুযোগ পাবে। সর্বোপরি, নগর কর্তৃপক্ষ যখন অভাবগ্রস্থদের চাহিদা নির্ধারণে অতিরিক্ত কিছু কাজ করছে, এর পাশাপাশি নগরবাসিরাও গৃহায়নের এই সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসাবে ভূমিকা রাখে।
এই একক সমাধান সব ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। তবে, সঠিকভাবে জমির জন্য নীতি নির্ধারণ, অর্থ যোগান এবং সঠিক ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে সম্ভাবনার দার উন্মোচিত হতে পারে।
N.B: Project Syndicate থেকে অনুবাদকৃত।
http://www.project-syndicate.org/commentary/solutions-to-affordable-housing-challenge-by-charles-s--laven-and-jonathan-woetzel-2014-11
New Frontiers in Affordable Housing
Providing decent, affordable housing is a growing challenge in developing and advanced economies alike. Fortunately, there are ways to narrow the affordable housing gap substantially, using mostly market-based approaches at the municipal level.
15/11/2014
"চীন কি এশিয়াতে নতুন একটি 'বিশ্ব ব্যাংক' খোলার প্রচেষ্টায়?"
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর নামের ঝুড়িতে (ADB, AFDB, CAF, EBRD, IADB) নতুন সেট যুক্ত হচ্ছে, AIIB অথবা এশিয়া অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক। অক্টোবরের ২৪ তারিখে ২১ টি এশীয় দেশের প্রতিনিধিরা AIIB প্রতিষ্ঠার সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটির নাম থেকেই বুঝা যাই যে, এটি রাস্তা বানানো, মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসানো সহ অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে এশিয়ার অনুন্নত অঞ্চলগুলাকে অর্থ ধার দিয়ে সাহায্য করবে। এই ব্যাংক গঠনে চীন অগ্রণী ভূমিকা রাখছে এবং আশা করছে যে আগামী বছরের মধ্যেই এর উদ্ভোদন করবে। জটিল সব প্রকল্পের জন্য অধিক অর্থের যোগান আপাদত ভালো মনে হতে পারে কিন্তু AIIB ইন্ধন জাগিয়েছে কারণ এশিয়াতে পূর্ব থেকেই বেশ কিছু বহুপাক্ষিক ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান আছে, যার মধ্যে অন্যতম এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক(ADB)। এতো প্রতিষ্ঠান থাকার পরও চীন কেনও আলাদা করে নতুন একটি ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক তৈরি করতে চাই?
চীনের উত্তর হলো, এশিয়ার বৃহৎ অবকাঠামো তহবিল শূন্যতা পূরণের চেষ্টা। ADB এর তথ্যমতে ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই শূন্যতা হবে প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন। বিদ্ধমান প্রতিষ্ঠানগুলো তা পূরণ করতে পারবে বলে আশা রাখে না, যেখানে ADB এর মূলধন(পরিশোধিত ও সদস্য রাষ্ট্রের অঙ্গীকারকৃত) আছে শুধুই ১৬০ বিলিয়নের চেয়ে সামান্য বেশী এবং বিশ্ব ব্যাংকের আছে ২২৩ বিলিয়ন। সেক্ষেত্রে AIIB ৫০ বিলিয়ন দিয়ে কাজ শুরু করবে, যা প্রয়োজনের তুলনাই খুবই নগণ্য যদিও এই পরিমাণ অর্থ কিছুটা উপকারী সাহায্য হতে পারে। তদুপরি, পরিবেশ রক্ষা থেকে শুরু করে লিঙ্গ বৈষম্যের সমস্যা সমাধানে ADB ও WB অর্থায়ন করে থাকে, তাই AIIB শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নে অর্থায়নের কাজ করবে। সর্বোপরি, ADB ও WB এর কর্মকর্তারা এই নতুন ব্যাংকটির সাথে মিলে কাজ করার মনোভাব ব্যক্ত করে এটিকে সতর্কতার সাথে অভ্যর্থনা জানাই।
এদিকে পর্দার আড়ালে, চীনা ব্যাংকটির উদ্যোক্তারা এক উষ্ণ কূটনৈতিক যুদ্ধের সূচনা করতে যাচ্ছে। আমেরিকা তার জোটকে AIIB তে যোগ না দিতে আহবান করে যাচ্ছে। জিন লিকুন, চীনা আমলা যিনি ব্যাংকটির নেতৃত্ব দিবেন, বিভিন্ন দেশের এতে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতের জন্য কাজ করছেন। ব্যাংকটির উদ্ভোদন অনুষ্ঠানে আষ্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার অনুপস্থিতি লক্ষ করা যাই। জনসম্মুখে আমেরিকা ও অন্যান্যরা যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে তা হল এই ব্যাংকের পরিচালনাই স্বচ্ছতার অভাব। সমালোচকদের মতে, এই চীনা নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকটি সম্ভবত পরিবেশগত, শ্রম ও তা আহরণ মান বজাই রাখতে ব্যর্থ হবে, আর এইসব মান বজাই রাখা একটি উন্নয়ন খাতে ঋণদান প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য। এখন, চীন জোর দিচ্ছে যাতে AIIB যথাযতভাবেই বিশ্ব ব্যাংকের মত প্রতিষ্ঠানগুলোর আদলেই কাজ পরিচালনা করা হই। এছাড়াও ব্যাংকটিকে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যার কারণে চীনের উপর আস্থা রাখার পিছনে কিছু যুক্তি খুঁজে নেয়া যায়।
কিন্তু আসল ও অব্যক্ত চিন্তার বিষয়টি আরো গভীর কৌশলেঃ এশিয়াতে আমেরিকা ও জাপানের প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে ব্যাবহার করেই চীন তার এই নতুন ব্যাংকের প্রভাবের বিস্তার ঘটাবে। চীন বর্তমানে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ না করে নতুন একটি বহুপাক্ষিক ব্যাংকে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত আসলে বিশ্বব্যপী অর্থনৈতিক পরিচালনা সংশোধনে মন্থর গতির প্রতি তার ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। ঠিক একই কারণেই গঠিত হয়েছিল BRICS(Brazil, Russia, India, China, South Africa) নামে নতুন একটি উন্নয়ন ব্যাংক। ADB আসলে জাপান কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত; এতে জাপানের ভোটের অধিকার চীনের চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি এবং জাপান থেকেই প্রতিবার ব্যাংকটির সভাপতি নিয়োজিত হয়ে আসছে যদিও এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনীতির ধারক চীন। চীনকে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলে অবদান রাখার জন্য যে সংশোধনী আনয়নের প্রস্তাবটিও পিছিয়ে আছে অনেক বছর ধরে। যদি চীনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েও থাকে, আমেরিকা চীনের চেয়েও অধিক শক্তি নিজের হাতেই রেখে দিবে। চীনের অবস্থা বোঝা যাচ্ছে যে সে খুবই অধির আগ্রহে পরিবর্তনের আশাই আছে। আর এই জন্যই সে নিজ উদ্যোগেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
The Economist explains থেকে অনুবাদ করা।
http://www.economist.com/blogs/economist-explains/2014/11/economist-explains-6
Why China is creating a new "World Bank" for Asia
TO THE alphabet soup of international development banks (ADB, AfDB, CAF, EBRD, IADB), add one more set of initials: AIIB, or for the uninitiated, the Asian...
13/11/2014
"আমি কেন চাকরী পাই না"
এটি শুনতে খুবই সাধারণ একটি প্রশ্ন মনে হই। তাই আমরা একটি সাধারণ উত্তরই খুঁজেছি।
-একটি নিখুঁত জীবনবৃত্তান্ত তৈরি।
-এটি সংখ্যার খেলার মতই, চেষ্টা চালিয়ে যান।
-নেটওয়ার্ক
-ভিন্ন কিছু গুণের সমন্বয় করুন।
চাকরী পাওয়ার এই সাধারণ প্রচেষ্টাটাই হলো সমস্যার মূল কেন্দ্রবিন্দু। কারণ মৌলিক সমাধান বলতে আসলেই কিছু নাই। এই চাকরীর সন্ধান কাজে এমন কোন লিভার নাই যাতে চাপ দিলেই ভেন্ডিং মেশিন থেকে চাকরী বেরিয়ে আসবে। প্রতিটা চাকরীর অনুসন্ধান কাজ সম্পূর্ণ আলাদা ও সতন্ত্র হই।আপনি চাকরী সন্ধানের প্রতিটা উপদেশ অনুসন্ধান করে হইত একটাও চাকরী পেলেন না।
কেন?
কারণ চাকরী অনুসন্ধানের জন্য পূর্বনির্ধারিত কোন যুক্তিভিত্তিক পক্রিয়া নাই। যেটা আসলে আমরা শুদুই মনে মনে ভেবে থাকি। দক্ষতা বাড়ানো এবং খরচ কমানোর নামে বা কখন শুধুই "কেন জানি পাচ্ছি না" এই দোঁহাই দিয়ে আমরা নিজেরাই কৌশল করি এবং এমন ভাবেই চাকরী খুঁজতে থাকি যেন এই কাজটি একটি গাণিতিক সূত্র ছিল অথবা কোন ভালো, উষ্ণ সূপের প্রণালী ছিল।
পেশা উন্নয়ন কর্মসূচী- পাঠদান কেন্দ্রে অথবা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান- তারা প্রায়ই চাকরী খোজা যে কোন যুক্তিভিত্তিক বা পূর্বনির্ধারিত ফর্মুলা না তা গোপন রাখার চেষ্টা করেন। অংশগ্রহণকারীদের কখনো জানতে দেয়া হই না ভিতরে কি হচ্ছে। তাদেরকে নতুন চিন্তার বিপরীতে কোন এক নির্দিষ্ট গণ্ডিতে রেখে ঘুরাতে থাকে। নতুন চিন্তা বলতে: কিভাবে আমি এই কাজের অংশ হব, কিভাবে আমাকে এরসাথে সংযুক্ত করব এইসব বেপার।
ডাউন পৃথিবীর অন্যতম বড় একটি বীমা কোম্পানিতে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত ছিল। এই কাজটি করতে গিয়ে তাকে প্রচুর শক্তি ব্যয় করতে হত। তিনি একজন উদ্যোগী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আরও ভালো কিছু খুঁজছিলেন। সে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনাই চাকরীর অনুসন্ধান করল কিন্তু তেমন কিছুই হল না। চাকরী না পেয়ে সে প্রতিষ্ঠানটির ব্যপারে পড়া শুরু করল। শুধুমাত্র অফিসের কর্মচারীদের ব্যপারেই নয়, সে বীমা নিয়েও পড়তে শুরু করল। সে 'ঝুঁকি' সম্পর্কে জানতে লাগল। সে একজন শান্ত প্রক্রিতির চিন্তাশীল মহিলা ছিল, তার বয়স ছিল ২৬। তাকে লাজুক বললেও ভুল হবে না। তাই তাকে যদি কেও কখনও বলত, ' শুধুই নেটওয়ার্কিং কর', সে হইত নত হয়ে ভদ্রভাবে তা মেনে নিতো কিন্তু কিছুই কাজে বাস্তবায়ন করত না।
অন্যদিকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ধারণাটি তাকে খুবই মুগ্ধ করে। সে বেপারটা অন্যদের সাথে আলোচনা করে। কিন্তু এটা করতে গিয়ে তার আগ্রহের প্রচার সে করে না। সে যা করল তা হলো একজন ঝুঁকি নিবন্ধক কি কাজ করে তা বুঝার চেষ্টা করা। কিভাবে নিবন্ধক ব্যবসাটির চালিকাশক্তি হিসাবে কাজ করে। একদিন যখন সে ঝুঁকি বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করছিলো, সে আমাকে বলল যে, 'Finding Work When There Are No Jobs' নামের একটি বই সম্পর্কে জানতে পেরেছে কারণ তার এক বন্ধু সেটা সম্পর্কে তাকে বলেছে যে, এই বইটিকে তুমি যেমন ভাবছ আসলে তেমন না। ডাউন বইটির যেকোন একটি পাতা খুললো এবং সেতার পঞ্ছম মূলনীতিটি তাকে তাড়িত করল, ' ন্যস্থ ভার অনুশীলন' এবং তখনই তার মস্তিষ্কের কড়া নেরে উঠলো। ঝুঁকিটা তার থেকেও বড় ছিল। ঝুঁকির প্রতি তার আগ্রহ, এই বিষয়টাই বুঝতে চেয়েছিল যখন বইটাতে ' ন্যস্থ ভার অনুশীলন' এর কথা বলা হয়েছিলো।
ডাউন আমাকে বলেছিল যে, বইটিতে একটি গল্পের মধ্যে এক দম্পতী যখন ডেইরী কুইন নামের একটি রেস্তোরার পাশদিয়ে হেটে যাচ্ছিল, তখন তাদের উদ্দেশ্য করে তার খুব বলতে ইচ্ছা করছিল যে, 'এই যে, নজর দিন! আপনারা সেই সব মানুষদের পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন যারা হইত আপানাদের চাকরীর জন্য সাহায্য দিতে পারে'।
এরি মধ্যে একদিন ডাউন এমন একটি কাজ করল যা সে তার জিবনে আগে কখনও করে নাই। এটা ঘতে স্টারবাক্সের লাইনে। তিনি বইটির 'when the women took charge' নামক গল্পটি পড়লো সেখানে মহিলার এমন এক বিবৃতি ছিল যা তাকে 'সাহসী' বললো। লাইনে দাঁড়িয়ে সে শুধু ঐ সাহসী ওয়েলস মহিলাটার কথাই ভাবছিল, এমন সময় সে খেয়াল করল যে ঝুঁকি নিবন্ধন কাজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তার ঠিক পিছনে দাড়িয়ে আছে। ডাউন ঘুরে দাঁড়ালো এবং তার প্রশ্নটিকে পরিবর্তন করে দিলো। সে চাকরীর ব্যাপারে কোন প্রশ্ন করে নাই। সে শুধু তার সাথে পরিচিত হলো এবং জিজ্ঞাস করল, 'আমি ঝুঁকি নিয়ে কাজের ব্যাপারে কিভাবে জানতে পারি? আমি অনেকদিন ধরে ঝুঁকি ব্যবস্তাপনা নিয়ে পড়ছিলাম, এটা খুবই মজার বিষয়। আপনার কি এই ব্যপারে কোনও উপদেশ আছে?'
ছয় মাস পরে ডাউন ঝুঁকি নিবন্ধনের উপর একটি প্রশিক্ষণ শেষ করলো। সেই সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তার পরামর্শদাতা ছিল এই সময়। এবং দুই সপ্তার মধ্যেই ডাউন ঝুঁকি নিবন্ধক হিসাবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।
চাকরী খুঁজার বিষয়টা একটু অন্যভাবে চিন্তা করা। একান্ত নিজের পথ খুজে বের করা। ভালো জীবনবৃত্তান্ত নয়, ভালো একটি পথ পেলেই হয়।
একান্তই আপনার নিজের পথ।
কারণ, হয়ত ' আমি কেন চাকরী পাচ্ছি না' এই প্রশ্ন আপনাকে কোনও সাহায্য করতে পারবে না। আপনার প্রশ্ন হতে হবে,
'চাকরী খুঁজার জন্য আমার ভিন্ন চিন্তা কি হতে পারে?'
Roger Wright এর লিখা থেকে আনুবাদ করা।
http://www.huffingtonpost.com/roger-wright/why-cant-i-get-a-job_b_6146848.html?utm_hp_ref=business&ir=Business