31/07/2026
দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা হওয়ায় আমার বুক ১২ ইঞ্চি ফুলে গেছে: এ কে এম মাহফুজুল হক
# দেশের অনেক স্থানেই উপজেলা থেকে থানার দূরত্ব কয়েক কিলোমিটার
# নয়াবাড়িতেই দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উপজেলা সঠিক সিদ্ধান্ত
# এমপি বাচ্চু ডাইনামিক মেম্বার অব পার্লামেন্ট: সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি
দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা প্রতিষ্ঠার সরকারি সিদ্ধান্তে নিজের গর্ব ও আবেগের কথা জানিয়ে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি) এ কে এম মাহফুজুল হক বলেছেন, 'দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমার বুক ৬ ইঞ্চি নয়, ১২ ইঞ্চি ফুলে গেছে। উপজেলা ভবনের যে স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছে সেটিই উপযুক্ত, স্কেল ক্যাম্পাস দিয়ে মেপে দেখলেও এই স্থানটিই আসবে। যারা এই স্থানটি নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আর দেশের অনেক উপজেলাই থানা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার নয়াবাড়িস্থ শাপলা চত্বরে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ফোরাম আয়োজিত পেশাজীবী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ কে এম মাহফুজুল হক বলেন, চাকরি জীবনে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বহুবার নিজের পরিচয় দিতে হয়েছে। তখন তিনি কখনো জেলার নাম বলেননি, বরং গর্বের সঙ্গে বলেছেন, ‘আমার বাড়ি গফরগাঁও।’ গফরগাঁওয়ের নাম উচ্চারণ করলেই তাঁর বুক গর্বে ভরে উঠত। আর দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা সরকারি গেজেটে অনুমোদন পাওয়ার পর সেই গর্ব আরও বেড়েছে।
উপজেলার জন্য নির্ধারিত স্থানকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আটটি ইউনিয়নের এই জনপদের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় স্থানটি সবচেয়ে উপযুক্ত। পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মাঝামাঝি হওয়ায় এটি ভবিষ্যতে যোগাযোগের কেন্দ্র (কমিউনিকেশন হাব) হিসেবে গড়ে উঠবে।
স্থান নির্ধারণ নিয়ে বিরোধিতাকারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে আবেগ নয়, বিবেক ও বাস্তবতা দিয়ে বিষয়টি মূল্যায়ন করা উচিত।
থানা ও উপজেলার দূরত্ব নিয়ে আপত্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক উপজেলাতেই থানা ও উপজেলা সদর কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। শরীয়তপুরের নড়িয়া ও নাটোরের লালপুরসহ বিভিন্ন স্থানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, থানা থেকে উপজেলা দুই-তিন বা ছয়-আট কিলোমিটার দূরে হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই এ বিষয়টিকে অযথা বিতর্কের কারণ বানানো উচিত নয়।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ৬০ ফুট প্রশস্ত এবং চার লেনের সড়ক নির্মাণ হলে যাতায়াতে কোনো সমস্যাই থাকবে না। বরং এ অঞ্চলের মানুষই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
স্থান নির্ধারণ ও উপজেলা প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের ভূয়সী প্রশংসা করে এ কে এম মাহফুজুল হক বলেন, 'আমি তাকে একটি নাম দিতে চাই—তিনি একজন ডাইনামিক মেম্বার অব পার্লামেন্ট। অল্প সময়ে তিনি যেসব কাজ সম্পন্ন করেছেন, তার জন্য যে শ্রম, সময়, মনোযোগ ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, অতীতে এ এলাকায় এমন উদ্যোগ আর কেউ নিয়েছেন বলে আমি বিশ্বাস করি না।'
তিনি আরও বলেন, আশির দশকের শুরুতেই এ এলাকায় থানা ও উপজেলা প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। তখন এমন একজন গতিশীল নেতৃত্ব থাকলে অনেক আগেই এ দাবি বাস্তবায়ন হতো।
উপজেলা নিয়ে চলমান রিট ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আদালতে রিট করার অধিকার সবার রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত একটি নির্ধারিত প্রশাসনিক ও জরিপ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আসে। তাই যৌক্তিক সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো প্রয়োজন।
তিনি সবাইকে বিদ্বেষ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলোচনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমেই সব মতপার্থক্যের সমাধান সম্ভব।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ফোরামের আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাম্মাদ হোসেন নয়ন, সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার আবু সাঈদ হিরন, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম আনছার উদ্দিন, একুশে টেলিভিশনের বার্তা প্রযোজক মু. আনোয়ারুল কাইয়ূম কাজল, আলিমুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক মো. শামসুল আলম, আলিমুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এম এম মমতাজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা।