22/03/2026
বাগদাদ ছেড়েছে ন্যাটো: পোল্যান্ডে ফিরছে সৈন্যরা!
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর এবার বড় পরিবর্তনের খবর আসছে ইরাক থেকে। বাগদাদে অবস্থানরত ন্যাটো (NATO) মিশন তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে সেনাদের ইউরোপে সরিয়ে নিয়েছে।
পোলিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, ইরাকে অবস্থানরত তাদের সেনাদলকে (Polish Military Contingent) নিরাপত্তার কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই একটি বড় অংশ পোল্যান্ডে পৌঁছেছে এবং বাকিরা জর্ডানে অবস্থান করছে। শুধু পোল্যান্ড নয়, ন্যাটোর পুরো অ্যাডভাইজরি মিশন ইরাক থেকে তাদের কর্মীদের ইতালির নেপলসে সরিয়ে নিচ্ছে।
ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২০ দিনে বাগদাদ বিমানবন্দর ও 'ক্যাম্প ভিক্টরি'-তে ন্যাটোর অবস্থানের ওপর তারা একের পর এক ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দাবি—তাদের এই টানা হামলার মুখে টিকতে না পেরে বিদেশি সেনারা ইরাক ছাড়তে বাধ্য হয়েছে |
ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধারা ঘোষণা দিয়েছে, শেষ বিদেশি সেনাটি ইরাক ত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের এই অপারেশন চলবে। অন্যদিকে ন্যাটো বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা আবারও প্রশিক্ষণের কাজে ফিরবে। তবে বর্তমান উত্তেজনার মাঝে বাগদাদের গ্রিন জোন এখন কার্যত বিদেশি শূন্য হতে শুরু করেছে।
আপনার মতামত কী? ন্যাটো কি সত্যিই টিকতে না পেরে সরছে, নাকি এটা শুধুই কৌশলী পিছু হটা?
22/03/2026
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান
বিবিসির পাওয়া তথ্য বলছে, ইরান দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
বোঝা যাচ্ছে যে, হামলাটি ব্যর্থ হয়েছে, এবং ব্রিটিশ ঘাঁটিসমূহ যুক্তরাষ্ট্র আরো বেশি হারে ব্যবহার করতে পারবে যুক্তরাজ্যের এমন ঘোষণার আগেই ওই হামলা সংঘটিত হয়েছিল।
তবে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠিক কখন ছোড়া হয়েছিল তা জানা যায়নি।
এদিকে, ইরান অভিযােগ করেছে যে তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রটি আবারও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
যদিও তারা দাবি করছে, হামলায় কোনও ধরনের তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েনি এবং কেন্দ্রের আশপাশে বসবাসকারী বাসিন্দারা ঝুঁকিমুক্ত রয়েছেন।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধ 'গুটিয়ে নেওয়ার' কথা ভাবছে বলে জানিয়েছিলেন, তারপরও পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে না যে তারা তাদের আগ্রাসন বন্ধ করতে প্রস্তুত।
এদিকে, সামরিক অভিযানের ফলে যেন 'পরমাণবিক দুর্ঘটনা' ঝুঁকি তৈরি না হয় - সেজন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের পরমাণবিক সংস্থার প্রধান।
এর আগে ইরানের কিছু তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।বিবিসির প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদদাতা জনাথন বেইল বলছেন, দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত ব্রিটিশ সার্বভৌম ঘাঁটির দিকে দুইটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর সঠিক বলে জানতে পেরেছে বিবিসি।
তবে, দুইটি ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটিই ঘাঁটিতে পৌঁছাতে পারেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' প্রথম এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মারার খবরটি প্রকাশ করে।
বিবিসি পরে বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য ঘাঁটির দিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই অঞ্চলজুড়ে ইরানের এই বেপরোয়া হামলা 'ব্রিটিশ স্বার্থ এবং ব্রিটিশ মিত্রদের জন্য একটি হুমকি'।
এদিকে, যুক্তরাজ্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দিয়েগো গার্সিয়া থেকে তাদের ভাষায় 'প্রতিরক্ষামূলক বোমাবর্ষণ অভিযান' পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে।
ভারত মহাসাগরের এই ব্রিটিশ সার্বভৌম ঘাঁটি থেকে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালিয়েছে কী-না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তবে, যুক্তরাষ্ট্র গ্লস্টারশায়ারের 'আরএএফ ফেয়ারফোর্ড' থেকে হামলা চালিয়েছে।
সাইপ্রাসের 'আরএএফ আক্রোতিরি' থেকে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেয়নি।
19/03/2026
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে পাকিস্তান
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, পাকিস্তান এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে।
মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড সিনেটে এক প্রতিবেদনে বলেন, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দ্রুত এগোচ্ছে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি জানান, পাকিস্তান তাদের সামরিক শক্তি বাড়িয়ে এখন দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। এই ধারা চলতে থাকলে দেশটি শিগগিরই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরি করতে পারবে।প্রতিবেদনে রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পাশাপাশি পাকিস্তানকেও সম্ভাব্য হুমকির তালিকায় রাখা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে প্রায় তিন হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১৬ হাজারে পৌঁছাতে পারে।তবে পাকিস্তান এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা মূলত ভারতকে লক্ষ্য করেই গড়ে তোলা হয়েছে।
19/03/2026
ইউরোপ
‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়’: ট্রাম্পের দাবির মুখে ইউরোপীয় নেতারা
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। এই যুদ্ধের কারণে ইউরোপীয় নেতারা এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। একদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পূর্ণমাত্রায় চালু করার জন্য তাঁদের কাছে সাহায্য চাইছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার প্রতি চরম অনীহাও রয়েছে ইউরোপের নেতাদের মধ্যে।
সোমবার ইউরোপের বেশ কয়েকজন নেতা ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বক্তব্যে উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন এই যুদ্ধ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিলেও ইউরোপীয় অনেক নেতা তাঁদের দেশের নৌবাহিনীকে বিপদের মুখে হরমুজ প্রণালিতে পাঠাতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
গত রোববার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, তেল, গ্যাস ও সারবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় দেশগুলো যোগ না দিলে তা ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুব খারাপ হবে। এর আগে শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, হরমুজ বন্ধ করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো দ্রুতই সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।
ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলছেন ঠিক উল্টো কথা। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস সোমবার বলেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। আমরা এটি শুরু করিনি।’ তিনি বলেন, জার্মানি কূটনৈতিক সমাধান চায়। আর ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে। তবে তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা রক্ষণাত্মক অবস্থায় থাকবে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁর দেশ ইরানের সঙ্গে ‘বিস্তৃত এই যুদ্ধে জড়াবে না।’ ট্রাম্পের মন্তব্য সরাসরি উল্লেখ না করে স্টারমার বলেন, ‘আমার নেতৃত্বের লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ স্বার্থে অটল থাকা, যত চাপই আসুক না কেন।’ তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে সম্মিলিতভাবে কী করা যায়, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা ইউরোপীয় অংশীদারসহ সব মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছেন।
ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ এখন বাস্তব। জ্বালানির দাম ইতিমধ্যেই আকাশচুম্বী, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের স্মৃতিও কাজ করছে। বিশ্বনেতারা মনে রেখেছেন, কীভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের জেদ এবং ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকে হামলা চালানো হয়েছিল। এটি ছিল একটি ব্যয়বহুল ভুল।ইউরোপীয় নেতারা এখন উভয়সংকটে রয়েছেন। যদি তাঁরা কিছু না করে চুপচাপ বসে থাকেন, তবে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকবে। এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাধা আসবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেবে। আবার যদি তাঁরা যুদ্ধে যোগ দেন, তবে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। এটি ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইউরোপীয় নেতাদের আবার ট্রাম্পের এক পুরোনো অভিযোগও সামলাতে হচ্ছে। অভিযোগটি হলো পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য যথেষ্ট খরচ করে না। রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো দেশ আমাদের এই ছোট প্রচেষ্টায় সাহায্য করবে না, সেটা দেখাটা বেশ মজার হবে।’যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষাপ্রধান নিক কার্টার বিবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ন্যাটোর যোগ দেওয়া অনুচিত হবে। ন্যাটো একটি ‘রক্ষণাত্মক জোট’ হিসেবে তৈরি হয়েছিল। এর প্রতিটি ধারা আত্মরক্ষার জন্যই। এটি এমন কোনো জোট নয় যে একটি দেশ নিজের ইচ্ছায় যুদ্ধে যাবে, আর বাকিদের তা অনুসরণ করতে বাধ্য করবে।
19/03/2026
ইরানের সাথে সংঘাতের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্ব বৃহৎ রণতরী জেরাল্ট ইউএসএস ফোর্ড পাঠিয়েছিল ভূমধ্যসাগরে। এছাড়াও সর্বাধুনিক এ্যায়ারক্রাপ্ট ক্যারিয়ার ইউএস আব্রাহাম লিংকনও পাঠিয়েছিল। এরপরেও যখন হরমুজ প্রণালী দখল নিতে ব্যার্থ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তখন মার্কিন উভচর রণতরী LHA-7 জাপান সাগর থেকে পাঠানো হয়েছে। এসব রণতরীকে উদ্দেশ্য করে ক্রোজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রতিবেদনে আসছে মিসাইলগুলো রণতরীগুলোকে কিসড করেছে যার ফলে রণতরীগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
সবচেয়ে বৃহৎ রণতরী জেরাল্ট ইউএসএস ফোর্ডে টানা এক সপ্তাহ আগুন জ্বলেছে তারপরেও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি মার্কিন সৈন্যরা। যার ফলে রণতরীটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু আমেরিকার দাবি রণতরীটিতে ইরানের হামলার কারণে আগুন লাগেনি। তারা বলছে জাহাজটি লন্ড্রি রুম থেকে আগুন ছড়িয়েছে। রণতরীটিকে এখন গ্রীসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কারিগরি ত্রুটিগুলো মেরামত করার জন্য
19/03/2026
ধৈর্য ও সহনশীলতা অসীম নয়, ইরানকে সৌদি আরবের হুঁশিয়ারি
সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের এই আচরণের প্রতি রিয়াদ ও তার মিত্রদের সহনশীলতা ‘অসীম’ নয়। তেহরানকে অবিলম্বে তাদের রণকৌশল ‘পুনর্মূল্যায়ন’ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স ফয়সাল বলেন, সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘বিশাল সক্ষমতা ও শক্তি’ রয়েছে, যা প্রয়োজন মনে করলে তারা ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না। ইরানের কূটনীতিকরা এসব হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, প্রতিবেশীদের ওপর এই হামলাগুলো অত্যন্ত সুপরিকল্পিত।প্রিন্স ফয়সাল বলেন, “আমাদের দেশ এবং প্রতিবেশীদের ওপর যে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করা হয়েছে, তা থেকেই বোঝা যায় এগুলো পূর্বপরিকল্পিত, সুসংগঠিত এবং সুচিন্তিত কৌশল।”হামলার জবাবে সৌদি আরব ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে আগাম কোনও ইঙ্গিত দিতে রাজি হননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তিনি বলেন, “ইরানিদের এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে, আক্রান্ত হওয়া অংশীদার দেশগুলো এবং এই অঞ্চলের বাইরেও আমাদের বন্ধুদের বিশাল সক্ষমতা রয়েছে। আমাদের এই ধৈর্য কি একদিন, দুদিন না এক সপ্তাহ থাকবে? আমি তা আগে থেকে বলে দেব না। তবে আমি আশা করব তারা আজকের বৈঠকের বার্তাটি বুঝতে পারবে এবং দ্রুত তাদের কৌশল পরিবর্তন করে প্রতিবেশীদের ওপর হামলা বন্ধ করবে। যদিও তাদের সেই শুভবুদ্ধি উদয় হবে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।”
এর আগে বুধবার রিয়াদে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কাতারের রাস লাফান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাস ফিল্ডসহ বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলার বিষয়ে আলোচনা হয়।বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের ২০ শতাংশ আসে এই কেন্দ্রটি থেকে। হামলার পর সেখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আমিরাতের হাবশান গ্যাস ফিল্ডেও হামলার চেষ্টা চালানো হয়।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আগেই হুমকি দিয়েছিল যে, ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কাতার, সৌদি আরব এবং আমিরাতের তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানো হবে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার তারা রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া চারটি এবং দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। আমিরাত জানিয়েছে, তারা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৭টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ার ঘটনায় হাবশান গ্যাস ফিল্ডের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স ফয়সাল বলেন, যুদ্ধ একদিন শেষ হবে ঠিকই, কিন্তু ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর এই কৌশলের কারণে আস্থা পুরোপুরি চুরমার হয়ে গেছে। আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে ইরান গত এক দশক ধরে এই কৌশল তৈরি করেছে। এটা তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া নয়, বরং তাদের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিকল্পনার অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “ইরান যদি অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ না করে, তবে আমার মনে হয় না ভবিষ্যতে সেই আস্থা পুনরায় স্থাপনের মতো আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে।”
18/03/2026
ইরান যুদ্ধ থেকে কে কী পেতে চাইছে?
বিশ্বের সবাই না হলেও অধিকাংশ মানুষই চান ইরানের সাথে এই যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব শেষ হোক। কিন্তু কোন শর্তে?
এই যুদ্ধ ঘিরে একেকটি দেশের একেকরকম অবস্থান রয়েছে। ফলে যুদ্ধের কীভাবে অবসান হবে, তা নিয়ে তাদের আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো কিছুটা অস্পষ্ট। কখনো তাকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল সীমিত করার পক্ষে, কখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব দাবি মেনে নেওয়ার চাপে, আবার কখনো ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থার সম্পূর্ণ পতন ঘটানোর অবস্থানে দোদুল্যমান দেখা গেছে।
এখন পর্যন্ত ইরানের পতন ঘটেনি, দেশটি আত্মসমর্পণও করেনি। তবে ১৬ দিনের টানা নিখুঁত বোমা হামলায় দেশটির সামরিক বাহিনী মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ওমানের মধ্যস্থতায় ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল, তাতে পারমাণবিক বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছিল।
ওমানি কর্মকর্তাদের মতে, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না,এমন নিশ্চয়তা দিয়ে ইরান বড় ধরনের ছাড় দিতেও প্রস্তুত ছিল।
তবে ইরান যা নিয়ে আলোচনা করতে রাজি ছিল না, তা হলো তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং ইয়েমেনের হুথি বা লেবাননের হেজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক ছায়াগোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া সমর্থন বন্ধ করা।
ওয়াশিংটন এবং তাদের মিত্রদের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি হতো যদি এই যুদ্ধের মাধ্যমে আয়াতুল্লাহদের শাসনের অবসান ঘটে এবং দ্রুত সেখানে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার আসে; যারা নিজেদের জনগণ বা প্রতিবেশীদের জন্য আর হুমকি হবে না।কিন্তু সোমবার পর্যন্ত তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দ্বিতীয় সেরা ফলাফল হতে পারতো যদি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র তাদের আচরণ পরিবর্তন করে, নাগরিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে এবং ওই অঞ্চলের উগ্রপন্থী মিলিশিয়াদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে।
তবে ইরান যখন তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে বেছে নিয়েছে, তখন সেটি হওয়ার সম্ভাবনা কমই মনে হচ্ছে। কট্টরপন্থী প্রয়াত পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতাবাকে বেছে নেওয়া ওয়াশিংটনকে ক্ষুব্ধ করারই নামান্তর।
বিশ্ববাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম, হরমুজ প্রণালি আংশিক রুদ্ধ হওয়া এবং আমেরিকার আবারও মধ্যপ্রাচ্যের এক ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা অস্বস্তি-সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে।
কিন্তু তেহরানের শাসনব্যবস্থা যদি দমে না গিয়ে অবাধ্যই থেকে যায়, তবে ট্রাম্পের পক্ষে এই যুদ্ধকে ব্যর্থতা ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে তুলে ধরা কঠিন হবে।
ইরান
ইরান চায় যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব থামুক, তবে যেকোনো মূল্যে নয়। অর্থাৎ ওয়াশিংটনের সব দাবি মেনে নিয়ে নয়। তারা জানে যে, এই যুদ্ধে ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সময় টিকে থাকার মতো 'কৌশলগত ধৈর্য' সম্ভবত তাদের আছে; তার ওপর ভৌগোলিক অবস্থানও তাদের অনুকূলে।উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ইরানের উপকূলরেখা দীর্ঘতম। সরু হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যে যুদ্ধ ট্রাম্প শুরু করেছেন, তার পরিণতি সামাল দিতে তিনি অন্যান্য দেশের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাতে খুব একটা সাড়া মিলছে না।
যুক্তরাজ্য, ইউরোপ এবং অন্যান্য দেশগুলো তাদের নৌবাহিনীকে ঝুঁকির মুখে ফেলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিতে নারাজ, কারণ শুরু থেকেই তারা এই যুদ্ধের পক্ষে ছিল না।
আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান বলছে, যুদ্ধ শেষ হতে হবে এই অকাট্য গ্যারান্টির মাধ্যমে যে তাদের ওপর আর হামলা হবে না।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণও তারা চায়।
ইরান সম্ভবত জানে যে এর কোনোটিই তারা পাবে না।
কিন্তু ইরানের ইসলামি নেতৃত্ব এবং রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) যদি কেবল এই সংঘাতে টিকে থাকতে পারে, তবেই তারা নিজেদের জনগণ ও বিশ্বের কাছে একে বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবে।
ইসরায়েল
যুদ্ধে জড়িত তিনটি দেশ-যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে ইসরায়েলিদের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ করার তাড়া সবচেয়ে কম মনে হচ্ছে।
তারা ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের মজুদ, গুদাম, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, রাডার স্টেশন এবং আইআরজিসি ঘাঁটিগুলো যতটা সম্ভব ধ্বংস হতে দেখতে চায়।
অবশ্য যুদ্ধ থামলে এসবই আবার পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব।
তাই ইসরায়েল চায় ইরান এটা বুঝুক যে, পুনর্নির্মাণের চড়া মূল্য দিতে হবে-অর্থাৎ ইসরায়েলি বিমানবাহিনী কয়েক মাস পর আবারও ফিরে এসে সেগুলোতে বোমা ফেলতে সক্ষম।
ইসরায়েল ইরানের মিসাইল এবং বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।
যুদ্ধ শুরুর আগে পর্যন্ত ইরানের অত্যন্ত উন্নত নিজস্ব মিসাইল ও ড্রোন শিল্প ছিল (ইরান তাদের মিত্র রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছিল যা ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে)।
এছাড়া ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এই দ্বিমুখী হুমকিকে এমন কিছু হিসেবে দেখছে যার সঙ্গে ইসরায়েল আপস করতে পারে না।
18/03/2026
লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি ইরানের
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি হত্যার চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান আমির হাতামি।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মি. লারিজানিই ছিলেন দেশটির সবচেয়ে সিনিয়র নেতা।
ওদিকে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আভিভে দুজন নিহত হয়েছে। ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে।
এই যুদ্ধ ঘিরে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেটোসহ অন্য মিত্রদের সমালোচনা করে জানিয়েছেন যে এসব দেশ ইরান যুদ্ধে জড়িত হতে চায় না।র আগে হরমুজ প্রণালি রক্ষায় এগিয়ে আসতে সহযোগীদের প্রতি মি. ট্রাম্প যে আহবান জানিয়েছিলেন তাও ওইসব দেশ নাকচ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টার (এনসিটিসি)-এর পরিচালক জো কেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন 'বিবেকের তাড়নায়' তিনি ইরানের সাথে চলমান এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছেন না।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
16/03/2026
হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করতে এবার চীনের সহায়তা চাইছে ডোনাল্ড ট্রাম্প
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার আসন্ন বৈঠক নিয়ে কথা বলেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, বৈঠকের আগেই চীন হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে সহায়তা করবে।
তার ভাষায়, চীন তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল সংগ্রহে এই হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে থাকে।
চলতি মাসের শেষ দিকে, অর্থাৎ মার্চেই বেইজিংয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে চীনের তরফ থেকে কোনো পদক্ষেপ দেখতে চান। তার মতে, দুই সপ্তাহ অনেক দীর্ঘ সময়।
তিনি আরও জানান, এই সফর পিছিয়েও যেতে পারে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের কাছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান এমন সময়ে এলো, যখন তেহরানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় বেইজিংয়ের হয়তো নিজেদের তেলবাহী জাহাজ পার করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো জোটের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
এর আগে ভারতও জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে এক সমঝোতার মাধ্যমে তাদের দু'টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে।
16/03/2026
মার্কিনীদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার আহবান, হরমুজ রক্ষায় মিত্রদের সাহায্য চাইলেন ট্রাম্প
ইরান যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের কমপক্ষে ১২টি দেশ থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অতি দ্রুত ইরাক ছাড়তে বলা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে সহযোগী দেশগুলোকে আবারো আহবান জানিয়েছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্য ও অন্যদেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।
এনবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে মি. ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাথে চুক্তি করতে তিনি প্রস্তুত নন, বরং তিনি ইরানের খারগ দ্বীপে আরও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী তেহরানের 'শত্রুদের' জন্য বন্ধ থাকবে।
এদিকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা অব্যাহত আছে এবং ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে আগুন এখনো জ্বলছে।
আজ ভোরে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে আকাশেই প্রতিরোধ বা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
জরুরি সেবা সংস্থাগুলো বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
14/03/2026
আজ ১৫ মার্চ ২০২৬, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। যুদ্ধ শুধু সামরিক আঘাতের বিষয় নয়, এটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিলতাও প্রতিফলিত করছে।
🔹 মূল কারণ এবং প্রেক্ষাপট
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
🔹 যুদ্ধের ভৌগোলিক ও কৌশলগত প্রভাব
হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে বাধা, যা আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
ইরান বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো রক্ষা ও প্রতিক্রিয়ার জন্য নতুন কৌশল প্রয়োগ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং সহযোগী বাহিনী ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যগুলোতে ধ্বংসাত্মক হামলা চালাচ্ছে।
🔹 আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, যা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেশী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো যুদ্ধের প্রভাবশালী দিক বিবেচনা করছে, যা কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
🔹 বিশ্লেষণ
সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হলে যুদ্ধ দূরপ্রসারী এবং দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
কূটনৈতিক উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রোল গুরুত্বপূর্ণ — যুদ্ধের পরিধি আরও বড় হতে পারে যদি সংঘাত নিয়ন্ত্রণে না আসে।