19/05/2024
I have reached 100 followers! Thank you for your continued support. I could not have done it without each of you. 🙏🤗🎉
আমি আমার মনের ভাবনাগুলো লিখিত আকারে আ?
19/05/2024
I have reached 100 followers! Thank you for your continued support. I could not have done it without each of you. 🙏🤗🎉
05/03/2024
আমার প্রথম গল্পগ্রন্থ “রক্তাক্ত লাল গোলাপ”, দ্বিতীয় উপন্যাস “ইট পাথরের শহরে স্বপ্নের খোঁজে এবং তৃতীয় উপন্যাস “চৌকাঠ” রকমারীতে পাওয়া যাচ্ছে।
রকমারী লিংকঃ
https://www.rokomari.com/book/286864/roktakro-lal-golap
https://www.rokomari.com/book/287171/it-pathorer-shohore-shopner-khoje
https://www.rokomari.com/book/388596/chowkat
27/02/2024
পঞ্চাশ লেখকের পঞ্চাশ গল্প" এই গল্পগ্রন্থটি পাঠকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। এই গল্পগ্রন্থে আমার লেখা একটি গল্প রয়েছে। গল্পের নাম "নব প্রভাতের আলো"। এটি পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলায় মাত্রাপ্রকাশ এর ৪৬৬-৪৬৭ নং স্টলে। এই বইটি এখন রকমারীতে পাওয়া যাচ্ছে। রকমারী লিংকঃ
https://www.rokomari.com/book/385152/panchash-lekhoker-panchash-galpo
এছাড়া, বাসায় বসে বই পেতে যোগাযোগ :
015 1111 7172
08/02/2022
বিশিষ্ট শিল্পপতি শফিক চৌধুরীর একমাত্র ছেলে রাফসান।শফিক চৌধুরীর খুব ইচ্ছা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিবিএ এমবিএ করা ছেলের হাতে এত বছর ধরে অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করার মাধ্যমে তিল তিল গড়ে তোলা বিজনেসের হাল তুলে দিয়ে এবার নিজে জীবনের বাকীটা সময় একটু শান্তিতে কাটাবেন। কিন্তু ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে পড়াশুনা করলেও রাফসানের বিজনেস একদমই পছন্দ নয়। তাছাড়া, সে অনেকদিন ধরে তার বুকের মধ্যে একটা স্বপ্নকে লালন করে আসছে। সেই লালিত স্বপ্ন পূরণ করার সে আর দশজন যে পথে হেটে সফলতা অর্জন করেছে সেই পথে না হেটে বরং নিজেই নিজের পথ তৈরী করে সেই পথে হাটতে চায়। বিষয়টা নিয়ে সে তার বাবার সাথে কথা বলে। ছেলের সব কথা শুনে প্রথমে শফিক চৌধুরী এ ব্যাপারে ছেলের পাশে থাকবেন না সেটা ছেলেকে সাফ জানিয়ে দেন এবং পরে অনেক ভাবে ছেলেকে বুঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বাবার মতোই জেদী, সাহসী ও আত্ববিশ্বাসী রাফসান তার নিজের নেওয়া সিন্ধান্তেই অটল থেকে নিজের দেখা কক্ষপথের শেষ সীমানায় পৌছানোর জন্য নিজেই নিজের কাছে দৃঢ় ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়....................
উপন্যাসঃ কক্ষপথের শেষ সীমানা
প্রকাশনীঃ গ্রন্থকুটির প্রকাশনা গ্রুপ
01/02/2022
অফিস থেকে বের হয়ে যতটা সম্ভব মানুষের ভীড় এড়িয়ে রাফসান সোজা মেইন রোডের এক পাশ দিয়ে হাঁটতে আরম্ভ করে।হাটতে হাটতে সে একমনে তার আগামীদিনের কাজগুলো নিয়ে চিন্তা করতে থাকে।সামনে অনেক কঠিন দিন আসছে।ধীরে ধীরে সে তার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ফাইনালি বুকের মধ্যে পুষে রাখা স্বপ্নটাকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার জন্য সামনের সেই কঠিন দিনগুলোতে তাকে যথেষ্ট পরিমানে মানসিক ও শারীরিক ভাবে ফিট থাকতে হবে। নিজের জন্য না হলেও যে মানুষগুলো তার স্বপ্ন পূরণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তার পাশে থেকে তাকে প্রতিনিয়ত সহায়তা করে যাচ্ছে তাদের জন্য হলেও তাকে দৃঢ়তার সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।শুভানুধ্যায়ীদের দোয়া, ভালোবাসা আর সহযোগীতা নিয়ে সে যে কক্ষপথ ধরে হেটে যাচ্ছে, শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও সফলতার সাথে তাকে সেই পথের শেষ সীমানায় পৌছাতেই হবে।হাটা থামিয়ে এক হাত মুষ্টিবদ্ধ করে অসীম খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে নিজেই নিজের কাছে সে প্রতীক্ষাবদ্ধ হয়..................
উপন্যাসঃ কক্ষপথের শেষ সীমানা
প্রকাশনীঃ গ্রন্থকুটির প্রকাশনা গ্রুপ
পৃষ্ঠাঃ ১৭৯
প্রকাশকালঃ অমর একুশে বইমেলা ২০২২
21/01/2022
গত বছর একুশে বইমেলা উপলক্ষ্যে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম বই গল্পগ্রন্থ “রক্তাক্ত লাল গোলাপ”। গতবছর বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর তখন থেকেই প্লান করি প্রতি বছর একটা করে নতুন বই প্রকাশ করার। সেই প্লানের অংশ হিসাবে আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীনের অশেষ রহমতে দিকদর্শন প্রকাশনী লিঃ এর অন্যতম অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গ্রন্থকুটির প্রকাশনা গ্রুপের ব্যানারে অমর একুশে বইমেলা ২০২২ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে আমার দ্বিতীয় বই আর প্রথম উপন্যাস “কক্ষপথের শেষ সীমানা”। গেল বারের মতো এই বছরও আসন্ন বইমেলা উপলক্ষ্যে উপন্যাসটি প্রকাশ করার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করায় দিকদর্শন প্রকাশনী লিঃ এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি রইলো আমার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও গভীর কৃতজ্ঞতা। আমার অনেকদিনের ইচ্ছা ছিলো একটা উপন্যাস লেখার। অবশেষে দৈনন্দিন ব্যস্ত সিডিউলের মধ্যেও কিছুটা সময় বের করে দেড় বছরের বেশি সময় নিয়ে ধীরে ধীরে উপন্যাসটা লেখা শেষ করেছি। কিছুদিনের মধ্যেই ইনশাল্লাহ এটি ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হবে।
এই সমাজের জাতি, ধর্ম, বর্ণ ভেদে নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষজন সবর্দা তাদের নিজ নিজ কক্ষপথ ধরে প্রতিনিয়ত ছুটে চলেছে। এদের মধ্যে কিছু মানুষ তার স্বীয় পরিশ্রম, অধ্যাবসায়, অভিন্ন লক্ষ্যে পৌছানোর তীব্র বাসনা ও অসীম ধৈর্য্যের গুণে শেষ অবধি পৌছে যাচ্ছে তার কক্ষপথের শেষ সীমানায় আবার কিছু মানুষ বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারনে নির্দিষ্ট গন্ত্যবে পৌছানোর আগেই ট্র্যাকচ্যুত হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে অজানার মাঝে।চিরচেনা পরিচিত পথের পথিক না হয়ে বরং নিজের মতো করে পথ তৈরী করে সেই পথের পথিক হয়ে না পাওয়ার অনিশ্চয়তা কে জয় করে নতুন কিছু পাওয়ার আনন্দে নিজেকে বিমোহিত করার প্রয়াসে এক স্বপ্নবাজ তরুণের দৃঢ়তার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গল্প কে উপজীব্য করে লিখেছি আমার প্রথম উপন্যাস “কক্ষপথের শেষ সীমানা”।
আমি ফরিদপুরের সন্তান।এই শহরের আলো বাতাস গায়ে মেখে বড় হয়েছি। লেখালেখির জগতে প্রবেশের পর ইচ্ছা ছিলো আমার লেখা কোন একটা উপন্যাস বা ছোটগল্পে আমার প্রাণের শহরটাকে তুলে ধরার। প্রথম উপন্যাসেই গল্পের প্রয়োজনে ফরিদপুরকে তুলে ধরার সুযোগটা হঠাৎ করেই হাতের মুঠোয় চলে আসায় আমি আর সুযোগটাকে মিস করিনি। এই উপন্যাসের একটি সম্পূর্ণ অংশ লেখার সময় আমি আমার প্রাণের শহরটাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।এছাড়া, গল্পের প্রয়োজনে এই উপন্যাসে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানের কথা উল্রেখ করা আছে। ইচ্ছা থাকলেও বিভিন্ন কারনে উপন্যাসে উল্লেখিত এ সকল স্থানে আমার পক্ষে সরেজমিনে ঘুরে আসাটা সম্ভব হয়নি। যেসব স্থানে সম্ভব হয়েছে ঘুরে এসেছি আর যেসব স্থানে সরেজমিনে যাওয়া সম্ভব হয়নি সেসব স্থানগুলো সর্ম্পকে নেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ইউটিউব থেকে ভ্রমণ বিষয়ক ভিডিও দেখে সংগ্রহীত তখ্যগুলো নিয়ে নিজের মতো করে পড়াশুনা ও বিচার-বিশ্লেষণ তারপর অনেক ভেবে চিন্তে সময় নিয়ে সাজিয়ে সিকোয়েন্সগুলো লিখেছি। সবমিলিয়ে আমি চেষ্টা করেছি উপন্যাসটা লেখার। তবে কতটুক লিখতে পেরেছি তার উত্তর পাঠক সমাজেই দিবে। আমার লেখা এই উপন্যাসটি যদি পাঠক সমাজের মনকে ছুঁয়ে যেতে পারে এবং মনের ভিতরে ঢুকে তাদের মনটাকে একটুকু নাড়া দিতে পারে তাহলেই আমার লেখা স্বার্থক হয়েছে বলে আমি মনে করবো। আপনারা সবাই আমার জন্য হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া করবেন জীবনের এই ব্যকিক্রমধর্মী ইনিংসে আমার পখচলাটা আরো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় এবং আমি যেন ভালো থেকে সুস্থ্য থেকে লেখালেখি চালিয়ে যেতে পারি।সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
ভালোবাসা অবিরাম......................
11/12/2021
আমি একাউন্টিং এর ছাত্র হলেও পেশা হিসাবে একাউন্টিং তথা গতানুগতিক ধারার কাজকে সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রেখে ক্রিয়েটিভ কোন কাজ কে আমার পেশা হিসাবে বেছে নেওয়ার ইচ্ছা ছিল। ইচ্ছা থাকলেও বিভিন্ন পারিপ্বার্শিক কারনে সেভাবে কোনদিন চেষ্টা করতে পারিনি বিধায় কখনোই ক্রিয়েটিভ কোন সেকশনে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরার কোন সুযোগ সেভাবে তৈরী করতে পারি নাই। তাই দিন শেষে এখন আমি আমার মরহুম দাদাজানের মতোই একাউন্স সেকশনে চাকরি করি। দুই বছরের বেশি সময় ধরে অফিস টাইমে প্রতিটা মূর্হূত্বে বিভিন্ন ধরনের হিসাব-নিকাশের মতো বিরক্তকর কাজ করতে করতে আজ আমি বড়ই ক্লান্ত।মাঝে মাঝে মনে চায় সবকিছু ছেড়ে অনেক দূরে কোথাও চলে যাই। কিন্তু পিছুটান থাকায় ইচ্ছা থাকলেও দূরে হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাটাকেও মাটি চাপা দিয়েছি। ফেসবুকে আগে থেকেই লেখালেখি করে আসছি ।আমি লেখালেখি করি মূলত নিজের ভালো লাগা থেকে।আর এখন সারাদিন অফিসে কাজের প্রেশারে থাকার পর বাসায় ফিরে রাতে যখন একটু লেখালেখি করি সেটা আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্ককে সতেজ করার জন্য এন্টাসিড প্লাসের মতো কাজ করে।
২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে ফেসবুকে যুক্ত হওয়ার প্রথমদিকে আমার ফেসবুক ছবি সর্বস্ব ফেসবুক ছিল। ফটো অ্যালবাম মার্কা ফেসবুক ভালো না লাগায় ২১০৭ সালের শুরু থেকে প্লান চেঞ্জ করে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা লিখিত আকারে ফেসবুকে তুলে ধরা শুরু করি। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে লিখিত ভাবে আমার মতামত প্রকাশ করি। আত্মজীবনীটা হয়তো এভাবেই বিক্ষিপ্ত ভাবে লিখিত হচ্ছে। ফেসবুকে আমার লেখা অনেকে পছন্দ করেন, ফেসবুকে আমার নতুন লেখা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন, অনেকে আবার বড় লেখা দেখে বিরক্ত হন। কেউ বলে এতো বড় ষ্ট্যাটাস কেন, কেউ বলে ছবি দেই কেন, আবার কেউ বলেন বড় লেখা পোষ্ট করলে প্রখমে সম্পূর্ণ লেখার একটা সার-সংক্ষেপ দিতে, যেন সার-সংক্ষেপ পড়েই পুরো লেখা বোঝা যায়। যাই হোক প্রসংশা আর সমালোচনা এই দুই নিয়েই কেটে যাচ্ছে আমার ফেসবুকে লেখালেখির জীবন।যদিও বিষয়টা আমার কোন চাকরি না, তারপরও দুটো লেখা পোষ্ট করার মধ্যে সময়ের ব্যাবধান একটু বেশি হয়ে গেলে কেন জানি নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগে।
ফেসবেুকে লেখালেখি করার পাশপাশি চাকরি-বাকরির ব্যস্ত সিডিউলের মধ্যেই কিছুটা সময় বের করে লিখে ফেলি ছোট ছোট সাতটা গল্প। পরবর্তীতে এই সাতটি গল্প “রক্তাক্ত লাল গোলাপ” শিরোনামে গেল একুশে বইমেলা উপলক্ষে দিকর্দশন প্রকাশনীর ব্যানারে প্রকাশিত হয়। প্রথম গল্পগ্রন্থ “রক্তাক্ত লাল গোলাপ” প্রকাশিত হওয়ার পর এত নামী দামী আর শক্তিমান লেখক ও সাহিত্যিকদের ভীড়ে আমার মতো একজন অতি নগন্য ও তুচ্ছ একজন মানুষের লেখা প্রথম বইটার কাটতি কেমন হয় সেটা নিয়ে বেশ চিন্তিতই ছিলাম।করোনার বিষাক্ত ছোবলে ইতিহাসের সবচেয়ে হতাশাজনক ও ম্যাড়মেড়ে বইমেলা আমার দুঃচিন্তার মাত্রায় বাড়তি ঘি ঢালে। তবে এখন পর্যন্ত হরেকরকম.কম থেকে আমার বই এর ব্যাপারে যে সংবাদ পেয়েছি তাতে আমি অনেক খুশি আলহামদুলিল্লাহ। প্রথম বইটা লেখা শেষ করে “কক্ষপথের শেষ সীমানা” নামে একটি উপন্যাস লেখা শেষ করেছি। ইনশাল্লাহ এই উপন্যাস টা ২০২২ অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে দিকদর্শন প্রকাশনী থেকেই প্রকাশিত হবে। প্রথম উপন্যাস লেখা শেষ করে “ইট কাঠ পাথরে মোড়া শহরে স্বপ্নের খোঁজে” শিরোনামে নতুন একটি উপন্যাস লেখা শুরু করেছি। এছাড়া, “কালো মেঘ দেয় উকি” শিরোনামে একটি গল্প লিখেছি। ইনশাল্লাহ এই গল্পটা অমর একুশে বইমেলা ২০২২ উপলক্ষে ফরিদপুর এর সাহিত্য ম্যাগাজিন “শব্দকাহন” এর ১২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে। এছাড়া নতুন করে “রঘুনন্দনপুর” আর “বটবৃক্ষ” নামে আরো দুটি উপন্যাস লিখবো বলে প্লান করেছি। এছাড়া, যথারীতি ফেসবুকে লেখালেখি চলছে চলবে।দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়। বাকীটা আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছা......................
07/12/2021
# ইট কাঠ পাখরে মোড়া শহরে স্বপ্নের খোঁজে
ছোটবেলা থেকেই আমি একজন স্বপ্নবাজ মানুষ
আমি স্বপ্ন দেখতে বড় ভালোবাসি
আমি সদা-সবর্দা স্বপ্নের মাঝে বিচরণ করি
দৈনন্দিন চলাফেরা উঠাবসার মাঝেই
প্রতিনিয়ত সকাল-সন্ধা নতুন নতুন স্বপ্ন
আমার চোখের ব্যালকনিতে এসে ভীড় করে
আমাকে শত-শহস্র বার করে ডাকাডাকি
মনে হয় যেন আমার মাঝেই তারা
খুঁজে পায় জীবনের সেরা আশ্রয়
বিন্দুমাত্র অবহেলা না
বরং হাসিমুখে ক্রমাগত আমি তাদের দিয়ে যাই প্রশয়
জীবনে এমন অনেক মুহুর্ত্ব এসেছে
যখন স্বপ্ন দেখার ইচ্ছেটাই মরে যেত
তখন হৃদয় মাঝে বসত করা
নতুন নতুন স্বপ্নগুলোকে দুঃস্বপ্ন বলে মনে হতো
প্রতিবারই জীবনে চলে আসা অনাকাঙ্খিত
সেই বাজে সময়কে পাশ কাটিয়ে
আমি নতুন ভাবে আমার মনের আকাশে উড়িয়েছি
কতশত স্বপ্নের রঙ্গিন ফানুস
প্রতিবারেই নিজের মনের মাঝে
জন্ম নিয়ছে একটা একটা নতুন মানুষ
এখন নিজের মনের আঙ্গিনায় ভীড় করা
কিছু স্বপ্নকে বাস্তবতার মাটিতে নামিয়ে আনতে
আমি যাবো ইট কাঠ আর পাথরে মোড়া
প্রানহীন দয়ামায়া বিহীন রাজশহরে
জানিনা প্রথম শ্রেণীর অভিজাত নগরী
তার দু হাত বাড়িয়ে
আমাকে কি সাদরে অভ্যন্থনা জানাবে
নাকি আমাকে দেখে উচ্চস্বরে হেসে
উপহাস করবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের স্বরে
আমার সাথে ভালো মন্দ যাই ঘটুক না কেন
আমি সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে
প্রাণপণ চেষ্টায় নিজের স্বপ্ন পূরণে
নিজের প্রতি নিজেই অঙীকারবদ্ধ থাকবো
আর ফাইনালি স্বপ্নপূরণ করে
নিজের এই প্রাণহীন শহরে আসার
কষ্টটাকে স্বার্থকতার চাদরে জড়িয়ে দিবো
এই প্রাণহীন নগরী বড় নির্মম বড় স্বার্থপর
এই শহরে দিবানিশি স্বপ্ন কেনা বেচা হয়
এটা মনে হলেই বুকের ভেতর টা
অজানা আশংকায় গুমড়ে কেঁদে ওঠে
আমার দেখা স্বপ্নটা কি অবশেষে পাবে বাস্তবতার জমিন
নাকি স্বার্থপরা আর ধোঁকাবজির খেলায়
চিরতরে হারিয়ে যাবে কোন অজানা অদেখা গোঁলকধাধায়
--------------------------------------
28/11/2021
# নিরাপদ সড়ক চাই
জীবনের তাগিদে প্রতিদিন আমাদের
সড়কে পথ চলতে হয়
কখন যেন দুর্ঘটনার কারনে
জীবনে নেমে আসবে ভয়াবহ বিপর্যয়
সবর্দা এই দুঃসহ ভাবনায়
আতংকে থাকে আমাদের মন
সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানোর জন্য
আইনের যথাযথ প্রয়োগ খুব বেশি প্রয়োজন
এখন কোটি মানুষের দাবী শুধু একটাই
নিরাপদ সড়ক চাই
এখন কোটি মানুষের চাওয়া শুধু একটাই
নিরাপদ সড়ক চাই
প্রতিদিন সড়কে যাচ্ছে ঝরে
কত শত অমূল্য প্রাণ
এক মূহুর্ত্বের একটি ভুলেই
চিরতরে জীবনের হয় অবসান
সড়ক নামের এই মরণফাঁদে আটকে
বিলীন হচ্ছে মানুষের জীবন
সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানোর জন্য
আইনের যথাযথ প্রয়োগ খুব বেশি প্রয়োজন
এখন কোটি মানুষের দাবী শুধু একটাই
নিরাপদ সড়ক চাই
এখন কোটি মানুষের চাওয়া শুধু একটাই
নিরাপদ সড়ক চাই
ঘর থেকে মানুষ বের হয়
দু চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে
বেপরোয়া যানের চাকার নীচে
সেই স্বপ্ন চিরতরে যায় হারিয়ে
তবুও মানুষ স্বপ্ন দেখে
জীবনটাকে হাতে নিয়ে সড়কে চলছে সারাক্ষণ
সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানোর জন্য
আইনের যথাযথ প্রয়োগ খুব বেশি প্রয়োজন
এখন কোটি মানুষের দাবী শুধু একটাই
নিরাপদ সড়ক চাই
এখন কোটি মানুষের চাওয়া শুধু একটাই
নিরাপদ সড়ক চাই
---------------------------
21/11/2021
# কক্ষপথের শেষ সীমানায়
আজ আমি ইট কাঠের এই প্রাণহীন শহরে
সদা ব্যস্ত নিজের জীবনের হিসেব কষতে
দিন শেষে আর সবার মতো
আমার নিজেরও অনেকটা সময় কেটে যায়
পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মিলাতে
ইচ্ছা ছিলো যে শহরের আলো বাতাস গায়ে মেখে আমি বড় হয়েছি
সেই শহরের জীর্ন-শীর্ণ এক কুটিরে বাস করে
প্রতিনিয়িত পাওয়া না পাওয়ার হিসাব কষব
পাওয়ার চেয়ে যদি না পাওয়ার পাল্লা ভারী হয়
তবে হতাশার সাগরে ডুব না পেরে
জীবনের রেওয়ামিলকে একটা ভদ্রস্থ চেহারায় দেখার জন্য
নিজেই নিজের কাছে শপথ নিয়ে নবরুপে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বো
কিন্তু হায় বড় আফসোস
এ শহর আমাকে রাখলো না
আমার চির চেনা বড় আপন এই শহরের বুকে আমার ঠাই হলো না
নিজের প্রাণের শহরে ঠাই না হওয়ায়
চিরচেনা পরিচিত নিজস্ব গন্ডীর আবহ থেকে
বের হয়ে আমি চলে এসেছি
ইট কাঠ পাথরের কাঠামোয় মোড়া
প্রথম শ্রেণীর প্রানহীন রাজকীয় নগরীতে
প্রাণহীন নগরীতে পা রেখে প্রথমে খানিকটা থিতু হয়ে
এখন স্বপ্ন দেখি গদবাঁধা জগৎ থেকে বের হয়ে
নিজের মতো পথ তৈরী করে সে পথে পথচলার
চলামান নাগরিক জীবনের কঠিন বাস্তবতা
আমাকে প্রতিনিয়ত স্বরণ করিয়ে দেয় স্বপ্ন দেখা
আমার জন্য বিলাসিতা ব্যতিত আর কিছু নয়
তবু হাল না ছেড়ে নতুন কিছু করার জন্য
আমি আপন মনে স্বপ্নের জাল বুনে যাচ্ছি
আমি কোনদিন স্বপ্নপূরণ করতে পারবো কিনা জানিনা
তবে গতানুগতিক ধারার বাইরেও যে নতুন কিছু নিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়
এই উপলদ্ধী বোধহয় এই প্রাণহীন শহরে পা না রাখলে
আমার মনের মধ্যে কভু উদয় হতো না
এজন্য চিরচেনা প্রাণের শহরের প্রতি
রইলো আমার ভালোবাসার শতকোটি লাল সালাম
এখন আমি ধৈ্র্যের প্রতিমূর্তি হয়ে বিরুদ্ধ স্রোতের বিপরীতে দাড়িয়ে
প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলেছি সেই সোনালী প্রভাতের প্রত্যাশায়
হয়তো একদিন আমি এই যুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে
আমি পৌছে যাবো আমার দেখা সেই কক্ষপথের শেষ সীমানায়
-----------------------------------------
17/11/2021
ক্লাস থ্রিতে ওঠার পর পাঠ্য বই এর পাশাপাশি গল্পের বই পড়া শুরু করি। আর ওপেনিং টা ছিল কমিকস এর বই দিয়ে।তখন স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে লাইব্রেরী থেকে চাচা চৌধুরি, বিল্লু, পিংকি সিরিজের একগাদা কমিকস এর বই কিনে আনতাম।ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন সময়ে গোয়েন্দা সিরিজ আর ভূতের গল্পই বেশি পড়া হত।।গোয়েন্দা গল্পের মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সিরিজের বইগুলো বেশী পড়া হত।এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর ফরিদপুর জেলা শাখার লাইব্রেরী থেকে বিভিন্ন আমলের রাজা, বাদশা আর নবাবদের জীবনী অবলম্বনে লেখা বইগুলো পড়ার জন্য নিয়মিত কিনতাম।যথাযথ সংরক্ষণহীনতার অভাবে আমার সোনালী সময়ের নিত্যসঙ্গী সেইসব বইগুলো আমি চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি।এস.এস.সি পরীক্ষার পর পাওয়া ছুটির সেই দিনগুলির বেশির ভাগ সময় কেটেছে আমার গল্পের বই পড়েই।এইচ.এস.সির বেড়া টপকানোর পর পরবর্তীতে আর কখনোই গল্পের বই কিনে পড়া হইনি। ছোট বোন প্রত্যেক ফি বছর কৃতি ছাত্রী হওয়ায় ও স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে বিজয়ীদের দলে নিজের নামটা লেখানোর সুবাদে স্কুল থেকে যে বইগুলো উপহারস্বরুপ পেত, শুধুমাত্র সেই বইগুলোই বারবার পড়া হত।এছাড়া, একটা সময় দুই ভাই মামাতো ভাই ঋদ্ধ আর ধ্রুবর কাছ থেকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ তিন গোয়েন্দা এবং হুমায়ন আহমেদ ও জাফর ইকবাল রচিত বেশ কিছু গল্প উপন্যাস এনে আমি পড়েছি।
নানাবাড়িতে দৈনিক পত্রিকার রাখার বিষয়টা আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। আমার নানা বাসায় রাখতেন দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা।দীর্ঘ একটা সময় ধরে টানা ইনকিলাব পত্রিকাটা পড়ার সুবাদে এই পত্রিকাটির প্রতি মনে এক ধরণের ভালোবাসার জন্ম নেয় এবং সেই সাথে নিয়মত পত্রিকা পড়ার একটা অভ্যাস নিজের মধ্যে গড়ে ওঠে।ক্লাস সিক্সে ওঠার পর আম্মুকে অনেক বলে রাজী করিয়ে আমাদের বাসায়ও পেপার রাখার ব্যবস্থা করি।তবে বিষয়টা দুই মাসের বেশি নিজের স্বায়িত্ব বজায় রাখতে পারিনি। ফলে তখন প্রতিদিন না হলেও সময় বের করে মাঝে মধ্যে নানাবাড়িতে গিয়েই পত্রিকা পড়ে আসতাম।পরবর্তীতে ২০০৩ সালের শুরুতে পুনরায় বাসায় প্রথম আলো পত্রিকা রাখা শুরু হয়।কিন্তু্ এর মাস ছয়েক পর আম্মু পত্রিকা রাখা বন্ধ করে দেন। এরপর রুটিন মাফিক না হলেও মাঝে-মধ্যে দোকান থেকে পত্রিকা কিনে পড়তাম। আবার রুটিনমাফিক না হলেও পুরোনো অভ্যসের জেরে কোন সময় ছোট মামার বাসায় গিয়ে সমকাল আর প্রথম আলো আবার কোন সময় ছোট খালার বাসায় গিয়ে কালের কন্ঠ পত্রিকাটা পড়তাম।
ফেসবুকে লেখালেখি অব্যাহত রাখার মধ্যেই মধ্যেই দুই বছর সময় নিয়ে লিখে ফেলি ছোট ছোট সাতটা গল্প। পরবর্তীতে এ বছর অমর একুশে বইমেলায় বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দিকদর্শন প্রকাশনীর অন্যতম অঙ্গ প্রতিষ্ঠান গ্রন্থকুটির এর ব্যানারে আমার লেখা সেই গল্পগুলো “রক্তাক্ত লাল গোলাপ” শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।আগামী বইমেলাকে সামনে রেখে জীবনে প্রথমবারের মতো “কক্ষপথের শেষ সীমানা” নামে একটি উপন্যাস লিখেছি।ইনশাল্লাহ এই উপন্যাস টাও গ্রন্থকুটির এর ব্যানারে প্রকাশিত হবে।এছাড়া, নতুন একটা উপন্যাস লেখা শুরু করেছি এবং আরো ভিন্নধর্মী তিনটা উপন্যাস এবং বারোটা ছোট গল্প লেখার প্লান করেছি।নিজের লেখা ইপ্রুভ করার জন্য এবং পাশাপাশি নতুন কিছু জানার জন্য ও শেখার জন্য হকশপ.কম আর বইপোক.কম থেকে থেকে প্রখ্যাত সহিত্যিক সমরেশ মজুমদার, বিভূতিভূষণ বন্ধ্যোপাধ্যায় আর বন্ধ্যোপাধ্যায় এর লেখা কালজয়ী কিছু উপন্যাস সংগ্রহ করেছি।আস্তে আস্তে এ তালিকায় এপার ওপার বাংলার আরো কিছু বিখ্যাত ও শক্তিমান লেখকদের গল্প, উপন্যাস যুক্ত হবে। বই পড়ার সেই পুরোনো অভ্যাসটা যদি পুনরায় আমার রপ্ত হয়ে যায় তাহলে হয়তোবা ফেসবুক ও ইউটিউবের বিষাক্ত মরণকামড় থেকে যতটা সম্ভব নিজেকে দূরে রেখে আগের মতো অবসর সময় কাটবে বই এর পাতায় চোখ রেখে.........................
13/11/2021
ছোটবেলা থেকেই আমি ক্রিকেটভক্ত একজন মানুষ।আগের মতো না হলেও এখনও প্রতিনিয়ত শুধুমাত্র মনের খোরাক মেটানোর জন্য মাঝে-মধ্যে আমার নিজ দলের পাশাপাশি বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক দলগুলোর ক্রিকেট ম্যাচ দেখে যাচ্ছি।এখন আমরা সবাই মনে-প্রাণে শুধু আমাদের জাতীয় ক্রিকেট টীম টাকে সার্পোট করলেও নব্বই দশকের শুরু থেকে এ্কটা সময় পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশীরা কম বেশি সবাই উপমহাদেশের তিন ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার রীতিমত অন্ধভক্ত ছিলাম। শুধু আমরা এই তিন দলের অন্ধভক্তই ছিলাম না, সনাথ জয়সুরিয়া, অর্জনা রানাতুঙ্গা, চামিন্দা ভাস, শচীন টেনন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি, সাইদ আনোয়ার, ওয়াসিম আকরাম, সাকলাইন মুস্তাক প্রমুখ সব মেগাস্টাররা সবসময় আমাদের মনের গহীনে বসত করতেন। আমি নিজেও এই সিলেবাসের বাইরের কোন মানুষ ছিলাম না।শুরুতে সাইদ আনোয়ার, আমির সোহেল, রমিজ রাজা, ইনজামামুল হক, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস এবং পরবতীর্তে মইন খান, আব্দুল রাজ্জাক, আজাহার মাহমুদ সহ আরো কিছু খেলোয়ারদের পারফর্মেন্স দেখতে দেখতে বড় হয়েছি বিধায় আমি ছিলাম পাকিস্তান ক্রিকেট দলের একজন সার্পোটার।দীর্ঘ একটা সময় শুধুমাত্র পাকিস্তান ক্রিকেট টীমকেই সার্পোট করার কারনেই হয়তোবা সময়ের সাথে সাথে আমার জীবনের গতিপথটা অনেকাংশে হয়ে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট টীমের মতোই আনপ্রেডিক্টেবল।জীবনের রানওয়েতে চলতে গিয়ে নিশ্চিত জেতা ম্যাচ যেমন হেরেছি, ঠিক তেমনি খানিকটা ভাগ্যের সহয়তায় জিতে গেছি নিশ্চিত ভাবে হেরে যাওয়া কিছু ম্যাচ।
ছোটবেলায় আমাদের বাসায় টিভিতে ক্যাবল টিভির কোন সংযোগ ছিলো না। আমার পড়াশুনার ক্ষতি হবে ভেবেই আম্মু এই কঠিনতম সিন্ধান্তটা সেই সময় নিয়েছিলেন। আব্বুও খবর দেখা ছাড়া খুব একটা টিভি দেখতেন না বিধায় আমার অনুরোধ সংসোদের নিয়মিত অধিবেশনগুলোতে কখনোই খুব একটা ধোপে টিকতো না। তাই সেই সময়টাতে শুধুমাত্র বিটিভিতে যে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হত, শুধু সেই খেলাগুলো দেখার সুযোগ পেতাম।তবে মাঝে-মধ্যে কিছু গুরত্বপূর্ণ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের খেলাগুলো দেখার জন্য তিন তলায় ছোটমামার বাসায় চলে যেতাম ক্রিকেট ম্যাচ দেখার জন্য। ছোটমামার বাসায় ২০ ইঞ্চি প্যানাসনিক কালার টিভিতে সবাই মিলে হইহই করে খেলা দেখতাম। খেলা দেখার সময় রাত বেশি হয়ে গেলে বাসায় বাইরে থাকার অনুমতি অটো ডিএক্টিভেটেড হয়ে যেতো বিধায় যদি অনুমতিটা নতুনরুপে রিনিউ না হয়, সেই ভয়ে খেলার টান-টান উত্তেজনাপূর্ণ মূহুর্ত্বে খেলা না দেখেই বাসায় ফিরে আসতাম।মাঝে-মধ্যে সবার সাথে হইহই করে খেলা দেখার জন্য নানা বাসার নীচ তলায় সৌরভদের বাসায় চলে যেতাম।সেখানে অনেক সময় ক্লাব ঘরের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হত। এ কারনে অনেক সময় আন্টি বিরক্ত বোধ করতেন। কিন্তু তারপরও হাসিমুখে আমাদের এই মধুর অত্যাচার তিনি সবসময় মেনে নিয়েছেন।আবার অনেকসময় ক্রিকেট ম্যাচগুলো দেখার জন্য নানাবাড়ী সংলগ্ন ট্রান্সপোর্টের অফিসে চলে যেতাম। সেখানে সবার সাথে কিছুটা সময় ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগ করে বাসায় ফিরে আসতাম।
আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা সবই ফরিদপুর শহরে। ১৯১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য প্রথম বড়মাপের আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উইলস মিনি বিশ্বকাপের সময় বিশ্বের সেরা সেরা খেলোয়ারদের নিজ চোখের সামনে দেখার জন্য কেন যেন বার বার আমার মন যেতে চাইতো বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।তখন মাত্রই ক্লাস সিক্সের ছাত্র হওয়ায় তৎকালীন সময়ে আমার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।এর ফলস্বরুপ সাদাকালো আবার কখনো কালার টিভির পর্দায় পুরো টুর্নামেন্টটাই আমাকে দেখতে হয়েছিলো। পরবর্তীতে ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সময়ও আমার মনের মধ্যে সেই একই ইচ্ছা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তখনও সেই ইচ্ছা আমার পূরণ হয়নি। তখন থেকেই মনে মনে প্লানিং করলাম যদি কখনো ঢাকায় থাকার সুযোগ পাই তাহলে সবার আগে এই ইচ্ছা টা পূরণ করব।আল্লাহপাক একটু দেরীতে হলেও আমার ফরিয়াদ শুনেছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে জীবিকার তাগিদে এখন ঢাকাতেই থাকি।শুধু তাই নয় আমাদের বাসা থেকে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দুরত্ব খুব বেশি নয়। তারপরও পূরণ না হওয়া সেই অতৃপ্ত ইচ্ছাটার সাময়িক মৃত্যু ঘটায় এখনো গ্যালারীতে বসে সাকিব, তামিম, মুশফিক দের খেলা দেখা হয়নি। যদি কখনো বা সেই অতৃপ্ত ইচ্ছা জীবন্ত হয়ে আমার মনের মধ্যে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তাহলে হয়তোবা আসন্ন বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের যে কোন একটা ম্যাচ শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে বসে সরাসরি উপভোগ করার মধ্য দিয়ে আমার সেই অতৃপ্ত ইচ্ছাটা এবার পূরণ হয়ে যাবে....................