Taqwa-تقوى

Taqwa-تقوى

Share

নফস এর তৃপ্তি আর আল্লাহর সন্তুষ্টির মাঝে, আল্লাহর সন্তুষ্টিটাকে বেছে নেওয়ার নামই তাকওয়া!

29/05/2026

নিজের বাড়ির গরু, নিজের ধর্মীয় অধিকার, নিজের দেশ— তারপরও যেন মানুষ আজ কত অসহায়। চাইলে নিজের গরুর মাংসও নিজের মতো করে খেতে পারবে না— এর চেয়ে বড় পরাধীনতা আর কী হতে পারে! একটি বৈধ ধর্মীয় কাজকে ঘিরে যখন ভয়, শাস্তি আর দমন-পীড়নের আবহ তৈরি হয়, তখন তা শুধু একটি সম্প্রদায়ের নয়, মানবিক স্বাধীনতারও প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। হিন্দুত্ববাদ নিপাত যাক, মানব মুক্তি পাক।

এ বছরে পশ্চিমবাংলার মানুষ যেন এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কুরবানির সেই চিরচেনা পরিবেশ আর আগের মতো রইল না। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ গিয়ে নোটিশ দিয়ে এসেছে— কুরবানি দিলে ১০,০০০ টাকা জরিমানা এবং এক বছরের জেলের বিধান কার্যকর হবে। ফলে বহু মানুষের মনে নেমে এসেছে ভীতি, অনিশ্চয়তা আর এক গভীর অসহায়তার অনুভূতি। যে উৎসব একসময় ছিল মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগ, ত্যাগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক, আজ সেখানে আতঙ্কের দীর্ঘ ছায়া। মানুষ নীরবে প্রশ্ন করছে— ধর্মীয় স্বাধীনতার এই সংকীর্ণ বাস্তবতা আর কতদূর গড়াবে? ইতিহাস হয়তো একদিন এই সময়কেও গভীর বিস্ময়ে স্মরণ করবে।

29/05/2026

এ বছরে পশ্চিমবাংলার মানুষ এক ভিন্ন বাস্তবতার সাক্ষী হলো। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কুরবানির পরিবেশ যেন আগের মতো রইল না। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ গিয়ে নোটিশ দিয়ে গেছে— কুরবানি দিলে ১০,০০০ টাকা জরিমানা এবং এক বছরের জেলের বিধান কার্যকর হবে। ফলে বহু মানুষের মনে ভীতি আর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যে উৎসব একসময় মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগ, ত্যাগ আর ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল, আজ সেখানে আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। মানুষ নীরবে প্রশ্ন করছে— ধর্মীয় স্বাধীনতার এই সংকীর্ণ বাস্তবতা আর কতদূর গড়াবে? ইতিহাস হয়তো একদিন এই সময়কেও গভীর বিস্ময়ে স্মরণ করবে।

29/05/2026

ইতিহাসের সেই মহান নেতা-মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ! যিনি না থাকলে পাক ভারত উপমহাদেশে মুসলমানদের ইতিহাস হতো প্যালেস্টাইনের মত নির্যাতিত নিপীড়িত একটা জাতি হিসেবে!

লুই ফ্রান্সিস অ্যালবার্ট ভিক্টর নিকোলাস লর্ড মাউন্টব্যাটেন, যিনি ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল ছিলেন, তাঁকে ঘিরে একটি বহুল আলোচিত বক্তব্য আজও ইতিহাসপ্রেমীদের মাঝে আলোচনার জন্ম দেয়। বলা হয়, তিনি একবার মন্তব্য করেছিলেন— যদি তিনি আগে থেকেই জানতে পারতেন যে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত, তাহলে ব্রিটিশ ভারতকে ভাগ করে মুসলমানদের জন্য স্বাধীন পাকিস্তান গঠনের অনুমতি দিতেন না। বরং সময়ক্ষেপণ করতেন, যেন জিন্নাহর মৃত্যুর পর পাকিস্তান সৃষ্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায় এবং ব্রিটিশ ভারতীয় উপমহাদেশ অখণ্ড অবস্থায় টিকে থাকে।

ইতিহাসের সেই উত্তাল সময়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন উপমহাদেশের মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তাঁর নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আপসহীন অবস্থানের ফলেই মুসলমানদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে সক্ষম হয়েছিল। বহু মানুষের বিশ্বাস, যদি তিনি সেই সময় দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ না করতেন, তাহলে মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্তিত্ব আজ ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারত।

আজ এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই মহান নেতাকে, যিনি না থাকলে পাক-ভারত উপমহাদেশে মুসলমানদের স্বতন্ত্র পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত। অনেকের ধারণা, তাঁর অবদান ছাড়া উপমহাদেশের মুসলমানরা হয়তো চরম বৈষম্য, নিপীড়ন ও অধিকারহীনতার শিকার হতো, যেমনভাবে বহু নিপীড়িত জনগোষ্ঠী বছরের পর বছর বৈষম্যের শিকার হয়ে এসেছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষার প্রশ্নেও তাঁর ভূমিকা অনেকের কাছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। মানুষের বিশ্বাস, স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলমানরা নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক পরিচয় ও জীবনধারা রক্ষা করার সুযোগ পেয়েছে। কোরবানি থেকে শুরু করে ধর্মীয় অনুশীলনের নানা বিষয় আজ স্বাধীনভাবে পালন করতে পারার পেছনেও অনেকে জিন্নাহর অবদানকে স্মরণ করেন।

আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। ইতিহাসে তাঁর নাম চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকুক একজন দৃঢ়চেতা, দূরদর্শী ও মুসলিম জাতিসত্তার জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে।

29/05/2026

কুফু মিলিয়ে বিবাহ করুন! বর্তমান সময়ে অধিকাংশ দাম্পত্য কলহ ও বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো—“কুফু” না মেলা। বাহ্যিক সৌন্দর্য, আবেগ কিংবা সাময়িক মোহ দেখে বিয়ে হয়ে গেলেও পরে দেখা যায় দু’জনের চিন্তাভাবনা, জীবনযাপন ও মানসিকতার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। আর সেখান থেকেই শুরু হয় অশান্তি।

ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে “কুফু” একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—“তোমরা ভবিষ্যৎ বংশধরদের কল্যাণের জন্য উত্তম নারী নির্বাচন করো এবং কুফু বিবেচনায় বিবাহ করো, আর বিবাহ দিতেও কুফুর প্রতি লক্ষ্য রাখো।”

“কুফু” (كَفُؤ) শব্দের অর্থ হলো—সমতা, সামঞ্জস্য, সমকক্ষতা। ইসলামী পরিভাষায় বর-কনের দ্বীনদারী, মানসিকতা, পারিবারিক পরিবেশ, জীবনযাত্রা ও সামাজিক অবস্থান কাছাকাছি হওয়াকেই কুফু বলা হয়।

ধরুন, একজন দ্বীনদার মেয়ে এমন একজন ছেলেকে বিয়ে করলো, যে দ্বীনের প্রতি উদাসীন। মেয়েটি চাইবে সংসারের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের ছাপ থাকুক, আর ছেলেটি চাইবে বাঁধনহীন জীবন। একজন দ্বীনকে আঁকড়ে ধরতে চাইবে, অন্যজন দুনিয়ার স্রোতে গা ভাসাবে। ফলাফল—অশান্তি, মনোমালিন্য, দূরত্ব; কখনো কখনো তালাক পর্যন্ত গড়ায়।

আবার অর্থনৈতিক দিক থেকেও কুফু খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার আয় যদি সীমিত হয়, অথচ এমন পরিবারে বিয়ে করেন যেখানে বিলাসী জীবনযাপন স্বাভাবিক—তবে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তুলনা শুরু হয়, অভিযোগ জন্ম নেয়, এবং একসময় সম্পর্কের সৌন্দর্য নষ্ট হতে থাকে।

মানুষ সাধারণত সেই পরিবেশেই স্বস্তি পায়, যেখানে তার অভ্যাস, চিন্তা ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে। তাই বিয়ের আগে শুধু রূপ বা আবেগ নয়; বরং চলাফেরা, পোশাক-আশাক, পারিবারিক সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, দ্বীনদারী ও মানসিকতা—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

যখন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারস্পরিক সামঞ্জস্য থাকে, তখন কেউ কাউকে ছোট করে না, খোঁটা দেয় না, কিংবা অহংকার প্রকাশ করে না। ভালোবাসা তখন নিরাপদ থাকে, সম্মান অটুট থাকে, এবং সংসার হয় প্রশান্তিময়।

বিশেষ করে একজন স্ত্রীর এমন মানসিকতা থাকা জরুরি, যাতে তিনি স্বামীর সামর্থ্যের উপর সন্তুষ্ট থাকতে পারেন। বারবার তুলনা, অসন্তুষ্টি কিংবা “আমার বাবার বাড়িতে ভালো ছিলাম” ধরনের কথা দাম্পত্য সম্পর্কে বিষ ঢেলে দেয়।

তবে সব কিছুর চেয়েও বড় বিষয় হলো দ্বীনদারী। যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে আল্লাহভীতি, পরস্পরের প্রতি দায়িত্ববোধ ও দ্বীনের প্রতি আন্তরিকতা থাকে—তবে অনেক অভাব-অভিযোগও সহজ হয়ে যায়। দ্বীনদার জীবনসঙ্গী দাম্পত্য সুখের সবচেয়ে বড় নিয়ামত।

তাই বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে শুধু আবেগ নয়, “কুফু” বা সামঞ্জস্যকেও গুরুত্ব দিন। কারণ সুন্দর দাম্পত্য কেবল ভালোবাসায় নয়, বরং বোঝাপড়া, মানিয়ে নেওয়া ও পারস্পরিক সামঞ্জস্যের উপরই টিকে থাকে।

29/05/2026

২০০১ সালে ঢাকার নয়া বাজারের কুরবানির পশুর হাটে একটি গরুর দাম হাঁকানো হয়েছিল এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই দামে গরুটি বিক্রি হয়নি, কারণ তখন এত বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে গরু কেনার সামর্থ্য অনেকেরই ছিল না।

ঠিক ২৫ বছর পর, ২০২৬ সালে এসে আমরা দেখি ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা দামের গরুও কুরবানীতে জবাই করা হচ্ছে। প্রশ্ন জাগে—এই সময়ের ব্যবধানে কি মানুষ সত্যিই এতটাই স্বাবলম্বী হয়েছে? নাকি বাস্তবতা অন্য কিছু?

আমি বলবো না, সবাই উন্নত হয়েছে বা সবাই স্বাবলম্বী হয়েছে। এই ২৫ বছরে পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার সাথে সাথে কিছু মানুষের মধ্যে বিবেক ও সততার অবক্ষয়ও ঘটেছে বলে অনেকেই মনে করে।

আজ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়—শিক্ষিতদের একটি অংশ প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, রাজনীতি অনেক জায়গায় দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, আর শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক রূপ নিয়েছে। একইভাবে চিকিৎসা ক্ষেত্রেও মানবিকতার ঘাটতির অভিযোগ শোনা যায়, যেখানে রোগী ও তার স্বজনদের অসহায়ত্বকে অনেক সময় সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি ওঠে।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—যেখানে একদিকে লাখ লাখ টাকার গরু কুরবানী হচ্ছে, সেখানে অন্যদিকে অনেক গরিব মানুষের ঘরে আধা কেজি মাংসও পৌঁছায় না। এই বৈষম্য আর বাস্তবতাই আজকের সমাজকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে।

29/05/2026

এই ঘটনাটি আমাদের হৃদয়ে সাহসের একটি ভিন্ন সংজ্ঞা দাঁড় করিয়ে দেয়—শুধু যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়ে থাকা নয়, বরং সত্যকে প্রকাশ করার সময় নিজের ঈমানকে কোনো ভয়-ভীতির কাছে লুকিয়ে না রাখা-ই প্রকৃত সাহস।

রাসূল ﷺ-এর প্রতি কুরাইশদের নির্মম নির্যাতনের সেই কঠিন মুহূর্তে যখন অনেক সাহাবীই নিস্তব্ধ ছিলেন, তখন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) এগিয়ে গিয়ে নিঃসংকোচে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর এই দৃঢ়তা, ঈমানের প্রকাশ্য ঘোষণা এবং আল্লাহর রাসূলের প্রতি অসীম ভালোবাসা—তাঁকে ইতিহাসে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আর হযরত আলী (রা.)-এর বর্ণনায় যে গভীর শিক্ষা পাওয়া যায়, তা হলো—সাহস মানে শুধু শারীরিক শক্তি নয়; বরং সত্যের সামনে অটল থাকা, ভয়কে জয় করা এবং ঈমানকে গোপন না রাখা।

ইসলাম আমাদের শেখায়, সবচেয়ে বড় সাহস হলো—অবস্থার চাপ, ভয় বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সত্যকে প্রকাশ করা এবং তার পথে দৃঢ় থাকা। এজন্যই এই ঘটনাটি মুসলিম ইতিহাসে শুধু একটি বর্ণনা নয়, বরং একটি চিরন্তন শিক্ষা।

29/05/2026

প্রতিবছর কুরবানীতে আমরা ১ পিস মাংসও ফ্রিজে তুলি না। শুধু ঈদের দিনে যতটুকু (২/৩ কেজি) রান্না হয়, সেটুকুই রাখি। বিয়ের পর ১৪ বছর ধরে আমি আমার স্বামীর মুখে একই কথা শুনে আসছি—তার ইচ্ছা, কুরবানীর সব মাংস দান করে দেওয়া হবে, নিজেদের জন্য কিছুই ফ্রিজে রাখা হবে না।

কিন্তু যখন সংসারের দায়িত্ব শাশুড়ীর হাতে ছিল, তখন এই ইচ্ছা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না। ছেলে চাইত, ঈদের দিনের রান্নাটুকু রেখে বাকি সব গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু মা তা চাইতেন না—এ নিয়ে মাঝেমধ্যে হালকা বাকবিতণ্ডাও হতো।

গত কয়েক বছর ধরে আমরা নিজেরাই কুরবানীর দায়িত্ব পালন করছি, আলহামদুলিল্লাহ। চার বছর আগে প্রথমবার তার পুরো সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুরবানী হয়—একটি গরু ও দুটি খাসি। সেবার ঈদের দিনের রান্নার টুকু রেখে বাকি সব মাংসই গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়।

আমি সবসময় আমার স্বামীর এই ইচ্ছাকে সম্মান করি। কখনো দ্বিমত করিনি। কারণ ১৪ বছর আগে থেকেই আমি দেখেছি, সে কতটা আফসোস করত—মন ভরে গরিবদের মাঝে মাংস বিতরণ করতে না পারার জন্য। সে স্বপ্ন দেখত, কবে সে নিজের ইচ্ছামতো সম্পূর্ণভাবে দান করতে পারবে।

সেই সময় থেকেই আমিও তার সঙ্গে সেই স্বপ্নে শরিক হয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, গত চার বছর ধরে আমরা এভাবেই কুরবানী করে আসছি। যতদিন বেঁচে থাকি, আল্লাহ যদি সামর্থ্য দেন, হয়তো ১০টা গরু একসাথে কুরবানী করার ইচ্ছাও পূরণ করব।

কারণ একদিন সে আমাকে বলেছিল—“আমরা তো সারাবছরই খেতে পারি, কিন্তু যারা পারে না, আমি চাই এই কুরবানীর মাংস শুধু তাদের জন্যই যাক।” সেই দিন থেকেই আমি তার এই সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করি।

এটাই আমাদের প্রশান্তি, এটাই আমাদের তৃপ্তি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমার স্বামীর এই ইচ্ছাকে কবুল করেছেন। আমিও এতে খুশি। আমরা এভাবেই ভাগ করে সব বিলিয়ে দিই। আমাদের কুরবানী কবুল করার মালিক একমাত্র আল্লাহ।

ঈদের দিনে রান্না করে খেয়ে, গরিব আত্মীয়, প্রতিবেশী, যারা কাজ করেন—এবং যতটুকু সম্ভব গরিব মানুষের মাঝে সব দিয়ে দিই। আলহামদুলিল্লাহ।

(কেউ দয়া করে নেগেটিভ মন্তব্য করবেন না। এটি কোনো শো-অফ নয়, বরং একান্ত ব্যক্তিগত ভালো লাগা ও আত্মিক প্রশান্তি থেকে লেখা।)

সত্যিই, এমন নিয়ত ও মানসিকতা খুবই বিরল। আল্লাহ তায়ালা তাদের এই নেক নিয়ত কবুল করুন, বরকত দান করুন এবং সবাইকে এমন ইখলাসের তাওফিক দিন। আমিন।

29/05/2026

“আমরা বাঁচি আর কয়দিন?” — কথাটা সত্যিই মানুষকে গভীরভাবে ভাবায়। এই ছোট্ট জীবনে শান্তি খুঁজতে গিয়ে কত অশান্তির মধ্য দিয়েই না যেতে হয়। কখনো প্রিয় মানুষ দূরে সরে যায়, কখনো পরিবারিক সমস্যায় মন ভেঙে পড়ে, আবার কখনো অকারণেই মন খারাপ এসে সমস্ত ভালো লাগাকে গ্রাস করে ফেলে। জীবনের হিসাব কষতে গেলে অনেক সময় মনে হয়, প্রাপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তির পাল্লাটাই যেন ভারী।

তবুও মানুষ বেঁচে থাকে একটু শান্তির আশায়, একটু ভালোবাসার আশায়। আমরা সবাই চাই প্রিয় মানুষদের পাশে নিয়ে সুন্দরভাবে বাঁচতে, এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করতে যা মনে প্রশান্তি দেয়। কারণ সত্যিই তো—এই জীবন খুব বড় না। অভিমান, হিংসা, অকারণ দূরত্ব কিংবা কষ্ট জমিয়ে রাখার মতো এত সময় আমাদের হাতে নেই।

দিন শেষে মানুষ আসলে শান্তি চায়, আপন মানুষ চায়, নির্ভরতার একটা জায়গা চায়। তাই যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন ভালোবাসাগুলো আগলে রাখা, মানুষকে গুরুত্ব দেওয়া আর নিজের মনকে একটু শান্তিতে রাখার চেষ্টাটাই হয়তো সবচেয়ে জরুরি। কারণ সত্যিই আমরা বাঁচি আর কয়দিন!

15/05/2026

প্রজন্মের 'মা' ধ্বংসের মাস্টার প্ল্যান! বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যা অর্জনের নামে যা ঘটছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক। ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েদের একটি অংশ দেহ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে, আরেক বড় অংশ প্রেমিকের সাথে রুমডেট, মেস, আবাসিক হোটেল, ডার্ক রেস্টুরেন্ট, হাইড আউট ও পার্কে সময় কাটাচ্ছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ প্রতিটি শহরে এই ঘটনা সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

আমার এক বন্ধু পড়াশোনার পাশাপাশি একটি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে। তার রাতের ডিউটিতে দেখা যায়, বিশাল এই হোটেলের কোনো রাতেই রুম প্রায় ফাঁকা থাকে না। বেশিরভাগই ভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রী, যারা এক রাতের জন্য স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ১৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা খরচ করে থাকে। অনেকে মুখে হিজাব পরে আসে, কিন্তু ক্যাম্পাসে দেখা হলে লজ্জায় মুখ ঢেকে চলে যায়। একটি হোটেলের এই চিত্র, অথচ শহরজুড়ে রয়েছে অসংখ্য এমন হোটেল।

আরেকটি অংশ ভার্সিটির খরচ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য এটাকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। একটি চক্র দালালের ভূমিকায় কাজ করে কন্টাক্ট করে দেয়। প্রিয় অভিভাবকেরা, এটাই আপনাদের মেয়েদের বাস্তব অবস্থা। যে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আপনারা তাদের পাঠিয়েছেন, সেখান থেকে তারা এভাবেই 'অর্জন' করে ঘরে ফিরছে।

অনার্সের এই বয়সে কনজারভেটিভ পরিবার থেকে আসা মেয়েরা ছেলেদের সাথে দীর্ঘ সময় একসাথে থাকতে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ছেলেদের তেমন ভয় না থাকায় তারা খোলাখুলি গোপন কথা বলে, যা শুনতে শুনতে মেয়েদের লজ্জাবোধ কমে যায়। জৈবিক চাহিদা নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে তীব্র হওয়ায় ভয়হীন ছেলে ও লজ্জাহীন মেয়ের মিলনে এসব অবাধ যৌন সম্পর্ক সহজ হয়ে যায়।

কিন্তু বড় পরিতাপের বিষয় হলো, এভাবে চলতে চলতে ভার্সিটি শেষে এই মেয়েরাই একদিন কারো না কারো ঘরে স্ত্রী হয়ে আসবে। তখন লজ্জাহীন এই নারী স্বামীকে মমতা, প্রেম ও তীব্র আবেগ দিতে পারবে না, সন্তানকে নৈতিকতার শিক্ষাও দিতে অক্ষম হবে। এভাবেই প্রজন্মের মায়েরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অভিভাবক হিসেবে আপনি কি চান আপনার কলিজার টুকরো মেয়েটি ক্যারিয়ারের নামে নিজের ইজ্জত বিলিয়ে দিক? বিকল্প অনেক আছে, কিন্তু পুঁজিবাদী মানসিকতা তা দেখতে চায় না।

15/05/2026

শুভেন্দু পশ্চিম বঙ্গের মুসলমানদের ঘরবাড়ি প্রার্থনালয় সব খেয়ে নেবে তাড়াহুড়ো- পরে যদি সময় না পায় ২৪ ঘণ্টার নোটিশ তারপর বুলডোজারের গর্জন। কাগজ দেখানোর সুযোগও পেলেন না বাড়ির মালিক। মুহূর্তের মধ্যেই মাটির সঙ্গে মিশে গেল বহু বছরের স্বপ্নে গড়া এক অট্টালিকা। পশ্চিমবঙ্গের টিলজলার ঘটনাকে ঘিরে আজ উত্তাল জনমত, ভারী হয়ে উঠেছে বাংলার বাতাস।

প্রশাসনের ভাষ্য— এটি ছিল ‘অবৈধ নির্মাণ’। কিন্তু যাদের ঘর ভেঙে ধুলো করা হলো, তাদের কণ্ঠে একটাই প্রশ্ন— “যদি সবই অবৈধ হয়, তবে আমাদের বৈধ কাগজপত্র দেখানোর সুযোগ কেন দেওয়া হলো না?” আদালতের পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কেন নেমে এলো এই বুলডোজার বিচার?

একদিকে কান্নায় ভেঙে পড়া পরিবার, অন্যদিকে নীরব প্রশাসন। ভাঙা ইটের স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ খুঁজছে সন্তানের বই, কেউ বৃদ্ধ বাবার ওষুধ, কেউবা বহু বছরের সঞ্চয়ে গড়া জীবনের শেষ আশ্রয়টুকু। ধুলোয় চাপা পড়ে গেল শুধু দেয়াল নয়, এক পরিবারের ভবিষ্যৎও।

যে শিশুটি গতকালও নিজের ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিল, আজ সে খোলা আকাশের নিচে আতঙ্কে মায়ের আঁচল আঁকড়ে আছে। যে বৃদ্ধ বাবা ভেবেছিলেন জীবনের শেষ বয়সে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে, তিনিও আজ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছেন নির্বাক হয়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ আরও গভীর। তাদের প্রশ্ন— “আইনের নামে কি এখন শুধু শক্তির প্রদর্শন চলছে? মানুষের কথা শোনার সময় কি আর নেই প্রশাসনের?” এই প্রশ্ন আজ শুধু টিলজলার নয়, সমগ্র বাংলার অলিগলিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি কাঁপিয়ে দিয়েছে সেই অসহায় মানুষের আর্তনাদ— “আমার কাছে সব বৈধ কাগজ আছে… আগে দেখুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন…” কিন্তু সেই কান্নাভেজা কণ্ঠ কি পৌঁছেছিল ক্ষমতার দরজায়? নাকি বুলডোজারের শব্দেই চাপা পড়ে গেল একজন নাগরিকের শেষ আবেদন?

গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য তো আইনের শাসনে, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের কথা বলার সুযোগ পায়। কিন্তু বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগেই যদি শাস্তি নেমে আসে, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? কার কাছে ন্যায়বিচার চাইবে?

আজ বাংলার বহু মানুষ মনে করছেন, প্রশাসনের এই কঠোরতা কেবল একটি বাড়ি ভাঙার ঘটনা নয়; এটি মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার এক অশুভ বার্তা। যেখানে নাগরিকের অধিকার ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসে, আর ক্ষমতার শব্দই হয়ে ওঠে শেষ সত্য।

টিলজলার ধুলোয় আজ শুধু ইট-পাথর ছড়িয়ে নেই। সেখানে ছড়িয়ে আছে মানুষের কান্না, ভাঙা স্বপ্ন, আর এক অদৃশ্য আতঙ্ক— কাল হয়তো এই পরিণতি অন্য কারও দরজায় গিয়ে দাঁড়াবে।

বাংলা আজ জানতে চায়— যদি বিচারের আগেই শাস্তি হয়ে যায়, তবে গণতন্ত্রের অর্থ কোথায়? মানুষের বিশ্বাস কোথায় দাঁড়াবে? টিলজলার ধ্বংসস্তূপ আজ সেই প্রশ্নই নীরবে ছুড়ে দিচ্ছে সমগ্র সমাজের দিকে।

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address

Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00