স্বপ্নসিঁড়ি ShopnoShiri -একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরী

স্বপ্নসিঁড়ি ShopnoShiri -একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরী

Share

আমরা পাঠকদের বিনামূল্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বই দিয়ে থাকি।

06/06/2025

স্বপ্নসিঁড়ি ( একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি ) পক্ষ থেকে সকলকে জানাই, পবিত্র ঈদ উল আযহার শুভেচ্ছা,

ঈদ মুবারক!

30/03/2025

ঈদ মুবারক!

Photos from স্বপ্নসিঁড়ি ShopnoShiri -একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরী's post 24/10/2024

স্বপ্নসিঁড়ি ( একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি )

কার্যনির্বাহী কমিটি ২০২৪

অভিনন্দন!

24/10/2024

অভিনন্দন সবাইকে!

03/10/2024

প্রিয় পাঠক,
আমাদের কার্যক্রম পূনরায় শুরু হয়েছে।
বিনামূল্যে বই পড়তে আপনারা স্বপ্নসিঁড়িতে আমন্ত্রিত।

29/01/2023

"আজকের পত্রিকার" ক্যাম্পাস পাতায় স্বপ্নসিঁড়ি...

03/09/2022

#বুক_রিভিউ

বইয়ের নামঃ আহ! কাশ্মীর
লেখকঃ মেহেদী হক ও নাসরীন সুলতানা মিতু।
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০/=
প্রকাশনীঃ আদর্শ
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭।
জনরাঃ নন-ফিকশন ভ্রমণমূলক। (স্কেচ ট্রাভেলগ)

বইটা শেষ করার পর আফসোস হচ্ছে! ইশ! এত পরে বইটা আমার হাতে এলো। আমি কেবল ভাবছিলাম যদি বইটা আরো কয়েকদিন আগেই পেতাম তাহলে আমি কাশ্মীরের এত সৌন্দর্য সম্পর্কে আরো আগেই জানতে পারতাম।

মজার ব্যাপার কি জানেন? বইটার ফন্ট গুলো একদম হ্যান্ড রাইটিং এর মতো। মনে হবে কারো হাতে লেখা ডায়েরিতে কোন ঝরঝরে এক লেখা পড়ছি যেন।

বইটা মূলত দুজন নবদম্পতির সম্মিলিত লেখা। দুজনেই কার্টুনিস্ট। বিবাহিত জীবনের ৯মাসের মাথায় ওরা হানিমুনে যেতে চায় এবং তাদের ডেস্টিনেশন ছিলো কাশ্মীর। সেখানে যাওয়ার আগে থেকে শুরু করে তাদের প্ল্যানিং এবং কিভাবে সেটা এক্সিকিউট করবে, কোন দলের সাথে যাচ্ছে, গিয়ে কোথায় উঠলো, কি কি দেখলো, সমস্ত কিছু একদম বিস্তারিত লেখা আছে বইটিতে।

আপনি যখন বইটা পড়তে শুরু করবেন তখন আপনার মনে হবে যে দৃশ্য গুলো আপনি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছেন কারণ খুবই সহজ ভাষায় নিজেদের মত করে লেখা। ওরা রওনা দিলো, এয়ারপোর্টে গেল তারপর এসে নামল। তারপরে শ্রীনগর গেল, দাল লেক গেল, মোগলাই বাগান দেখলো, সোনমার্গ দেখল, গুলমার্গে গেলো, দুদপাতরি ঘুরলো, শংকরাচার্যের মন্দির অভিযান করলো, ইয়ুসমার্গে গেলো আরো কত কি!

ওই মুহূর্তে তারা যা যা দেখেছেন প্রত্যেকটা দুজন মিলে স্কেচ এর মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, বইটিতে কোন ক্যামেরায় তোলা ছবি ছিল না বরং ওনাদের নিজেদের আঁকা স্কেচ গুলো লেখার সাথে জুড়ে দিয়েছেন ব্যাপারটা খুবই ইন্টারেস্টিং ছিল।

বইটার নাম তো হচ্ছে আহ! কাশ্মীর। আমার বইটা পড়া শেষ করে মনে হচ্ছিল আসলেই, "আহ! কাশ্মীর! এত সুন্দর কেন" বর্ণনা গুলো যেন মন ছুয়ে গেছে। আমাকে যেন কাশ্মীর তার সৌন্দর্য দেখার জন্যে টানছিলো। আর জায়গাগুলোর ছবি-ভিডিও আমি গুগল-ইউটিউব এ সার্চ দিয়ে দেখছিলাম সাথে সাথেই। কাজেই বর্ণনার সাথে রিলেট করতে পারছিলাম। কাশ্মীরকে নাকি 'জান্নাত ই কাশ্মীর বা পৃথিবীর স্বর্গ' বলা হয়। সুনীল নাকি এ নিয়ে লিখেছেন ও 'স্বর্গের খুব কাছে'। জানি না কখনো সরাসরি দেখার সুযোগ পাবো কি না। যদি সুযোগ পাই তবে হয়তো এই উপমা গুলো পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারবো!

একটা কথা না বলে পারছি না, এই বইটা আমার মনে একরাশ মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়ে গেলো....

রিভিউ টি লিখেছেনঃ সুমাইয়া আহমেদ নুসরাত। জবি, ১২তম ব্যাচ।

31/08/2022

#বুক_রিভিউ

বইয়ের নাম: স্টিল লাইক অ্যান আর্টিস্ট
লেখক: অস্টিন ক্লিয়ন
অনুবাদ: নুসরাত মিতু
প্রকাশনী: জ্ঞানকোষ
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২২
মুদ্রিত মূল্য: ২০০/=

বইটি সম্পর্কে আমি প্রথম জানি সাদমান সাদিক ভাইয়ার বুক রিভিউ দেখে। এরপর আসাদুজ্জামান জয় এর ও রিভিউ চোখে পড়ে, খাদিজাতুল কোবরা সোনিয়া আপুও এই বই নিয়ে রিভিউ করেন। এরপর থেকে বইটা পড়ার ইচ্ছে জাগে কারণ তারা প্রত্যেকেই বইটা নিয়ে অসাধারণ কিছু কথা বলেছেন।

হয়তো অনুবাদ পড়েছি বলে তাদের মত অত চমৎকার ভাবে বইটি ধরা পড়েনি আমার কাছে। এরজন্যে অনুবাদ বই আমার কাছে বেশিরভাগ বোরিং লাগে। যদিও বইটার কন্টেন্ট চমৎকার বলে অতটা খারাপ লাগেনি বইটা। কিন্তু অনুবাদ আরেকটু ঝরঝরে হয়তো হতে পারতো যেমন টা আমি পেয়েছিলাম ইকিগাই বইটিতে।

যাইহোক, এবার বইয়ের প্রসঙ্গে আসি। স্টিল লাইক অ্যান আর্টিস্ট, সৃষ্টিশীল হওয়া নিয়ে যে দশটি বিষয় আপনাকে কেউ বলেনি। বইটিতে লেখক বিভিন্ন বিখ্যাত মানুষদের খুব ই সুন্দর কিছু কোটেশন তুলে ধরেছেন। যেমনঃ

" যা কিছু বলার তা অনেক আগেই বলা হয়ে গিয়েছে। তবে যেহেতু কেউ শুনেনি, তাই সবকিছু অবশ্যই পুনরায় বলতে হবে। "
-ফ্রেঞ্চ লেখক আন্দ্রে জিদে।

"আমি স্কুলে যাই আর না যাই, আমি সবসময়ই শেখার মধ্যেই থেকেছি"
- আরজেডএ।

"যা আপনার নয় তা অবহেলায় পড়ে থাকার চেয়ে তুলে নেয়াটাই ভালো"
- মার্ক টোয়েন।

"আমার সার্কেলে এমন লোকজন থাকে, যাদের থেকে আমি কিছু না কিছু শিখতে পারি"
-কুয়েস্টলাভ।

লেখক মূলত বইটিতে ব্যাখা করার চেষ্টা করেছেন, এই পৃথিবীতে কোন কিছুই অরজিনাল না। কারো না কারো কাছ থেকে নিয়ে সেগুলো মডিফাইড করে নতুন কিছু একটা তৈরী করে ফেলা। অন্যের কাছ থেকে কপি কিংবা চুরি করাটা সবাই নেগেটিভ দৃষ্টিতে দেখলেও লেখক সেটিকে পজিটিভলি ব্যাখা করেছেন কীভাবে অন্যের কাছ থেকে কিছু নিয়ে নিজে কিছু করা যায়।

এছাড়াও বইটিতে তিনি কিছু লাইফ হ্যাকস নিয়ে বলেছেন যেমন কোন একটা কাজ হাতে নিলে সেটা শেষ হলে প্রতিদিন ক্যালেন্ডার ধরে ক্রস করা। ক্রসের একটা চেইন যে প্রতিনিয়ত তৈরী হবে সেটা না ভাঙ্গার জন্যে হলেও কাজটি রেগুলার করা হবে। এছাড়াও সাথে সবসময় একটা নোট বুক ও কলম রাখা। কোন আইডিয়া মাথায় এলে তৎক্ষনাৎ সেটা লিখে ফেলা। কারণ মাথায় যেটা আসবে হুট করে, সেটি হুট করেই আবার চলে যাবে। লিখে রাখলে সেটি পাকাপোক্ত হবে।

ঋণ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। এখানে তিনি একটি চমৎকার কথা বলেছেন, "তুমি কতটা উপার্জন করছো তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তুমি কত টাকা ধরে রাখতে পারছো" একটু চিন্তা করলেই বুঝা যায়, আসলেই তো! যে যত টাকা আয় করছে সেরকম খরচ ও করছে। ফলশ্রুতিতে দিন শেষে হাতে আর কিছু রইছে না। এরকম আরো বেশ কিছু অসাধারণ বিষয়ের বিশ্লেষণ পাবেন বইটিতে।

ওভার অল আমার কাছে বইটা খুব ই ভালো লেগেছে কারণ বইয়ের টপিক+ বর্ণনা গুলো কাঠখোট্টা টাইপ নয় বরং চমৎকার। তবে অনুবাদ টা পড়ে আমার খুব একটা তৃপ্তি লাগেনি তাই আমি ইংরেজি ভাষার টাও কালেক্ট করে আবার পড়ার ইচ্ছে আছে।

রিভিউ টি লিখেছেনঃ Sumaiya Ahmed Nusrat, Student (12th Batch), Jagannath University.

23/08/2022

#বুক_রিভিউ

বইয়ের নামঃ নীলডুমুর
লেখকঃ Kingkor Ahsan
প্রকাশনীঃ জ্ঞানকোষ।
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
মুদ্রিত মূল্যঃ ৪০০/=
জনরাঃ ফিকশন- উপন্যাস

"রাতভর বৃষ্টির মতো কুয়াশা যায় ঝরে,
চশমার কাচ, ঝাপসা চোখ, তোমার অধরে,
আমি শীত হয়ে নামি, ভেজাই শীতলপাটি ঘাস,
কেন পালাও রোদ হয়ে?
জেনে যাও ঠিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস!"

এরকম ছোট্ট একটি কবিতা দিয়ে বইটি শুরু৷ মজার ব্যাপার হলো, পুরো বইটা পড়লে খেয়াল করবেন একেকটা পার্ট শুরু হওয়ার শুরুতে এরকম ছোট ছোট কবিতা লেখক পুরো বইটাতেই জুড়ে দিয়েছেন এবং অসাধারণ সে সকল কবিতাগুলো।।।

গল্পটি লেখক তার এক বন্ধুর কাছ থেকে পেয়েছেন। অনেকদিন না লিখতে লিখতে লেখায় জং ধরে গিয়েছিল। এদিকে প্রকাশকের চাপে লেখতে বাধ্য হওয়ায় নিজের বন্ধুর জীবনের গল্পের রেশ টুকু নিয়ে আত্মজৈবনিক ভাষায় পুরো উপন্যাসটি লিখেছেন। পাঠকদের কাছ লেখক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। 'এটা কি আত্মজীবনী ধরনের কিছু?' লেখক তার খোলাসা করেন নি।

অবশ্য আমার পড়তে গিয়ে বারবার কেবলই মনে হচ্ছিলো লেখকের নিজের জীবনের গল্প এটা। লেখকদের লেখার বোধ করি, এই জায়গা টাতেই স্বার্থকতা। জীবনের গল্প নিয়ে, জীবন থেকে নেয়া টুকরো টুকরো মুহূর্ত গুলো নিয়ে এক সুতোয় বেধে উপন্যাসের একটা বেড়াজাল তৈরী করে ফেলা যেটা পুরোপুরি সত্যি বলে পাঠক রা দ্বিধাদ্বন্দে ভোগে। হয়তো তার কিছুটা সত্য কিছুটা বানোয়াট৷ সে যাক! এ প্রসঙ্গ থেকে এবার বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

গল্পকথক একজন লেখক। কোন এক উৎসবের দিনে সে তার বাবা-মা, স্ত্রী সোমার সাথে রাগারাগি করে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় এবং অনুভব করে পৃথিবীতে সে ভীষণ একা। পথে এক রেস্টুরেন্টে আচমকাই দেখা হয়ে যায় পরিচিত এক বড় ভাইয়ের সাথে। সে তাকে তার বাসায় নিয়ে যায়৷ অতঃপর তিনি সেই লেখককে তার গ্রামের বাড়ি থেকে কয়েকদিনের জন্যে বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং কোথায় যাবে, থাকবে সকল কিছুর ব্যবস্থা করে দেয়। গল্পকথক ও আর কিছু না ভেবে গ্রামের পথে রওনা দেয়।

সেই গ্রামে এসে তার প্রাক্তন নেহা মেহতার স্মৃতিচারণ এবং জীবনে ঘটে যাওয়া নানান রকম ঘটনা, দার্জিলিং এর স্মৃতি গুলো মনে করতে থাকে এবং সেগুলো নিয়ে লিখতে থাকে লেখক। এদিকে সেখানে পৌছানোর পর ঘটতে থাকে আচমকাই অদ্ভুত কিছু ঘটনা। তাকে দেখাশোনা করার জন্যে বলা হয়েছে যে মেয়েটিকে, সে কীভাবে যেন তার অতীতের অনেক কিছু জানে এবং চেহারাটাও তার পরিচিত মনে হয়। কিন্তু শিফা নামের এত অল্প বয়সী মেয়েটার সাথে তার আগে কখনো কোথাও দেখা হয়েছে বলে সে মনে করতে পারে না। লেখকের তখন আরো বেশ কিছু মানুষের সাথে পরিচিত হয়ে এমনকি তাদের সাথে হাত মিলিয়ে চাষাবাদ পর্যন্ত শুরু করে দেয়। কিন্তু তার রহস্যের খোলাসা হয় একদম শেষে গিয়ে৷ অতীতে করা কিছু ভুলের মাশুল তাকে দিতে হয় এবং সেই মুহুর্ত টা যেন গল্পকথকের ভিতরটা দুমরে মুচরে যেতে থাকে।

কি সেই ঘটনা? যার জন্যে লেখকের শেষে এহেন অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়? জানতে হলে আপনাকে পুরো বইটা পড়ে ফেলতে হবে....

রিভিউটি লিখেছেনঃ Sumaiya Ahmed Nusrat

02/08/2022

#বুক_রিভিউ

বইয়ের নামঃ নিজের ভাষায় মার্কেটিং।
লেখকঃ তৌফিকুর রহমান।
প্রকাশনীঃ স্বরে অ
প্রথম প্রকাশঃ অক্টোবর, ২০১৮
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০/=
জনরাঃ নন-ফিকশন মার্কেটিং বিষয়ক।

লেখক এই বইটির টোটাল ৩টি সিরিজ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি হলো, 'নিজের ভাষায় মার্কেটিং'। পরবর্তী দুইটা ব্র‍্যান্ডিং আর মার্কেটিং প্ল্যানিং বিষয়ক। এই বইটি একদম মার্কেটিং এর বেসিক বিষয়গুলো নিয়ে লেখা। যেমনঃ মার্কেটিং এর সংজ্ঞা, মার্কেটিং মিক্স যেমনঃ প্রোডাক্ট, প্লেস, প্রাইস, প্রমোশন, বাজার গবেষণা, মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটিজি বা কৌশল, মার্কেটিং মিক্স এর বর্ধিত বাকি ৩পি এসব কিছুই বইটির মূল উপাদান।

বলতে গেলে পুরো বইটিতে যা যা পড়লাম পুরোটা একটা সামারি বলা যায় যা আমি বিবিএ+এমবিএ তে গত ৫বছর যাবত পড়ছি। তাই যে অংশেই যাই রিকল করতে পারছিলাম আগের পড়া গুলো৷ তখন মনে হচ্ছিলো বইটা আসলে যে সকল শিক্ষার্থী ১ম কিংবা ২য় বর্ষে পড়ে তাদের জন্যে উপযুক্ত একটি বই কেননা যেহেতু মার্কেটিং এর সকল একাডেমিক টার্ম গুলো ইংরেজিতে ব্যাখা থাকে কাজেই সেগুলো পড়তে কিংবা বুঝতে প্রাথমিক ভাবে হয়তো একটু কষ্ট সাধ্য হতে পারে শিক্ষার্থীদের জন্যে। কিন্তু এই বইটিতে সে সমস্ত টার্ম গুলোই বাংলা ভাষায় লেখক ব্যাখা করেছেন। পাশাপাশি কিছু জায়গায় উদাহরণ দিয়েও ব্যাখা করেছেন। তবে এই উদাহরণ যদি আরেকটু বেশি এড করতেন তাহলে বইটা পড়তে আরো বেশি ইন্টারেস্টিং লাগতো বলে আমার মনে হয়।

কিছু কিছু জায়গায় লেখক বেশ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন যেমনঃ মার্কেটিং মিক্সের উপাদান গুলোর মধ্যে কত ধরনের প্রোডাক্ট বিদ্যমান রয়েছে, পণ্যের মোড়ক ও প্যাকেজিং, নতুন পণ্যের উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ সে সমস্ত কিছু। এছাড়াও প্রাইজিং এর প্রকারভেদ, কোন ধরনের পণ্যে কোন প্রাইজিং মানানসই, মুল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়, প্রোডাক্ট সেল করার জন্যে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ সহ প্রচারের নানান মাধ্যম, ভোক্তা বিভাজন (কাস্টমার সেগমেন্টেশন) সোয়াট এনালাইসিস, প্রোডাক্ট লাইফ সাইকেল, বিসিজি মেট্রিক্স এর ছকসহ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন।

ওভার অল যদি বলতে হয়, পুরো বইটিতে তাত্ত্বিক জ্ঞান এ পরিপূর্ণ থাকলেও লেখক সেই সমস্ত বিষয় ই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বইটিতে যেগুলো মার্কেটিং এ অপরিহার্য। ছোট একটা বই, শেষ করতে বেশি সময় লাগেনি। আশা করি, পরবর্তী সিরিজ গুলোও ভালোই হবে। আমার ফ্রেন্ড লিস্টের যারা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম কিংবা ২য় বর্ষে আছেন তাদের জন্যে আমি রিকমেন্ড করবো বইটা পড়ে দেখার...

-রিভিউটি লিখেছেন,
সুমাইয়া আহমেদ নুসরাত,
শিক্ষার্থী, এমবিএ (মার্কেটিং), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

19/03/2022

বিভিন্ন সময় অনেকেই স্বপ্নসিঁড়ির সাথে বই নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।❤️
খুব শীঘ্রই আগ্রহীদের জন্য ঘোষণা আসবে।

17/03/2022

বুক রিভিউ

বইয়ের নামঃ হাটি হাটি পা পা
লেখকঃ ফিরোজা বহ্নি
প্রকাশনীঃ আদর্শ
প্রকাশকালঃ ৬ই এপ্রিল, ২০২১
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৮০/=

অনেকদিন পর এমন এক বই পড়লাম যেটার মোহ থেকে গত ৩দিন যাবত বেরোতেই পারছি না। আমার কেবলই মনে হচ্ছিল মাত্র এক বছর আগে প্রকাশিত এত অসাধারণ একটা বইয়ের খোজ আমি এতদিনে পেলাম! টানা ৫ঘন্টা বইটা পড়ে এক বসাতেই শেষ করে ফেলেছিলাম। আর মনে হচ্ছিলো যেন গোগ্রাসে গিলছি বইটি। কিন্তু এরপর তো আর এই বইয়ের আবেশ থেকে বেরোনোই যাচ্ছে না।

একটা শিশুর ভালোভাবে গড়ে উঠার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অবদান যে কতখানি সেটা হয়তো সবাই জানে। কিন্তু কজন সেটা উপলব্ধি করে বাচ্চাকে সে অনুযায়ী গড়ে তুলতে জানে। বইটির লেখিকা ফিরোজা বহ্নি ও চমক হাসান তাদের মেয়েকে এত সুন্দর ভাবে গড়ে তুলছেন তার আসলে তুলনা চলে না। একটা মেয়ের মা হয়ে উঠা থেকে শুরু করে পরের জার্নি গুলো পার করা, বাচ্চার ঘুম, খাওয়া, পটি ট্রেনিং, কথা বলা শেখানো, বর্ণমালা শিখানো এই সব কিছু লেখিকা তার মেয়েকে একদম ভিন্ন ভাবে করেছেন।

আপনি শুনলে অবাক হবেন, আমরা কি করি? বাচ্চা ঘুমালে আলো নিভিয়ে, চারপাশ নিঃশব্দ করে তারপর ঘুমানোর একটা পরিবেশ করি, তাই তো? কিন্তু লেখিকা তার মেয়েকে এসবের কিছুই করেন নি। বরং তার মেয়ে যেনো যেকোন পরিস্থিতি তে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছেন, আলো জালিয়ে রেখে, টুকটাক শব্দ করে! কি অদ্ভুত তাদের ভাবনা গুলো তাই না? আমরা এভাবে ভাবি ই না।

আরেকটা ব্যাপার যেটা মুগ্ধ করার মতো ছিলো সেটা হলো, আমরা কি দেখতে পাই, একটা বাচ্চা, মায়ের কিছু একটা পেয়ে বাবার কাছে নালিশ করে। বাবা তখন মাকে বকুনি দিয়ে বাচ্চাকে খুশি করে। কিন্তু ফিরোজা বহ্নি আর চমক হাসান এই কাজটা কখনো করেননি। তাদের মেয়ে বর্ণমালা যদি মায়ের কাছে এসে বলতো দেখো বাবা এই ভুল করেছে। লেখিকা তখন তার মেয়েকে বুঝিয়ে বলতেন, তার বাবা ইচ্ছে করে এমনটা করেনি, ভুল করে করেছে। আর করবে না। আবার বর্ণমালা যদি তার বাবার কাছে এসে নালিশ করতো মা তার সাথে খেলছে না তখন বাবা বুঝাতো যে মা তো কাজে ভীষণ ব্যস্ত আছেন, ফ্রি হলেই খেলবে তোমার সাথে। চলো ততক্ষণে আমি তোমার সাথে খেলি। আমি অবাক হয়ে গেলাম তাদের পরস্পর পরস্পরের কি পরিমাণ শ্রদ্ধাবোধ আর ভালোবাসা এবং সেটা তারা তাদের মেয়ের ভিতরেও তৈরি করে দিচ্ছেন একটু একটু করে।

একটা মেয়ে যখন মা হবে তখন চারপাশ থেকে নানান গুঞ্জন শুরু হতে থাকে। এটা করো, ওটা করলে তোমার বাচ্চা ফর্সা হবে। এটা খুব ই ব্যাড প্র‍্যাক্টিস। লেখিকা বইতে দেখিয়েছেন, বাচ্চা সাদা-কালো হওয়ার আগে সুস্থ হওয়াটা খুব বেশি জরুরী। আমিও সেটাই মনে করি।

আরেকটা ব্যাপার লক্ষণীয় ছিলো যেটা তারা কখনো নিজেদের মেয়ের সামনে ঝগড়া করতেন না। মেয়ে ঘুমিয়ে থাকলে হয়তো হালকা কথা কাটাকাটি হতো। কিন্তু জেগে গেলে আবার তারা আগের মতো হাসি-খুশি। নিজেদের হ্যাপি ফেইস সবসময় মেয়েকে দেখিয়েছেন যা তাদের মেয়েকে প্রাণবন্ত হতে সহায়তা করেছে।

আমাদের সমাজের অন্যতম প্রধান যে সমস্যা, বাচ্চারা ডিজিটাল ডিভাইস কিংবা বোকা বাক্সে আসক্তি হয়ে যাওয়া৷ ফিরোজা বহ্নি কি সুন্দর ভাবে তার মেয়ে বর্ণমালাকে সেসব থেকে দূরে রেখেছেন সেটা পড়ে একদম মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি আমি! কোন গান, কবিতা কিংবা ছড়া, অথবা বর্ণমালা শেখানো সবকিছুতেই মেয়েকে গল্পের মাধ্যমে শিখিয়েছেন।

আপনি যদি নতুন বাবা-মা হয়ে থাকেন তাহলে তো আপনার জন্যে এটি অবশ্যপাঠ্য আর না হয়ে থাকলেও এটি পড়তে আপনার এতটুকু বোরিং লাগবে না। এখানে কোন উপদেশ নেই কিংবা নেই কোন কাটখোট্টা পরামর্শ বরং নিজেদের জীবন থেকে নেয়া কিছু কাহিনীর সমন্বয় যা আপনাকে গতানুগতিক নিয়ম থেকে বের হয়ে একটু অন্যভাবে ভাবতে শিখাবে, মুগ্ধ করবে আপনাকে....

রিভিউটি লিখেছেন সুমাইয়া আহমেদ নুসরাত।
শিক্ষার্থী, মার্কেটিং বিভাগ, জবি।

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address

Ground Floor, Social Science Building-1, Jagannath University
Dhaka
1100