08/09/2026
( একটু সময় নিয়ে পড়বেন )
আজ ইতালির ভেনিস শহরের একটি পার্কে আজমেরী হক বাঁধনকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকেই মানবতা ও সহানুভূতি দেখাচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশে গত দুই বছরে ঘটে যাওয়া অসংখ্য নির্যাতন, হামলা ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় কি একইভাবে সবাই সোচ্চার ছিলেন?
৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী বিভিন্ন ধরনের হামলা, নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছে। অনেক নেতা-কর্মী কারাগারে রয়েছেন এবং অনেকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসার এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া জরুরি তাকে কেউ বলেছেন?
বিশেষ করে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতা ও মব সৃষ্টি করে সাধারণ জনগণ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপরে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়।
৬ ফেব্রুয়ারি, অনেক মানুষ সেই স্থানটি দেখতে যান। তাদের মধ্যে একজন নারী ইতিহাসের একটি স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, শুধুমাত্র কান্না ও আবেগ প্রকাশ করার কারণেই তিনি একদল মানুষের রোষের মুখে পড়েন এবং তাকে বেধড়ক কিল, ঘুষি ও লাঞ্ছিত হতে হয় ও নিরাপত্তার জন্য তাকে ছুটোছুটি করতে হয়। যদি একজন মানুষের কান্না বা ভিন্ন রাজনৈতিক অনুভূতি প্রকাশ করাও অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা আসলে কেমন সমাজ গড়ে তুলছি?
আজ যারা মানবতা, সহনশীলতা ও অধিকার নিয়ে কথা বলছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন—মানবতা কি সবার জন্য সমান নয়?
রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, মত ও আদর্শ ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু কারও ওপর হামলা, ভয়ভীতি বা নির্যাতন কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মানবতা যদি সত্যিই আমাদের মূল্যবোধ হয়, তাহলে সেটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়—সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
তাই কোনো ঘটনা নিয়ে আবেগ প্রকাশের আগে আমাদের উচিত সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা, নিপীড়ন ও প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে একই অবস্থান নেওয়া। নির্বাচিতভাবে মানবতার কথা বললে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় না।
ধন্যবাদ🙏
✍️নাজমুল হোসেন বেপারী।
যুগ্ম আহ্বায়ক
রুপনগর থানা ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর।