10/03/2025
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হবার পরে খবর এবং টেলিভিশন হচ্ছে রীতিমতো এক বিনোদনের মাধ্যম। রাগ, বিস্ময়, হতাশা, অভিমান, আনন্দ, ভয় সব ধরনের অনুভূতি পাওয়ার মত উপাদান পাওয়া যাচ্ছে শুধুমাত্র খবর দেখে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর নেতৃত্বে (নাকি ইলন মাস্ক এর?) যুক্তরাষ্ট্র তার ফরেন পলিসিতে বিশাল আকারের পরিবর্তন এনেছে-
১। সে তার বহু বছরের পুরনো মিত্র রাষ্ট্র ইউক্রেনকে একরকম পরিত্যাগ করেছে বলা যায়। ৩০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বুদাপেস্ট চুক্তির মাধ্যমে যে তারা সবসময় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। তারা তো সেই চুক্তি ভঙ্গন করেছেই বরং উল্টো এখন তাদের খনিজ সম্পদের অর্ধেক দাবি করে বসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে যে এতদিনের প্রতিরক্ষাতে আমেরিকা যে পরিমাণ খরচ করেছে, তার প্রতিদান হিসেবে এই দাবি খুবই যৌক্তিক।
২। এদিকে কানাডা এবং মেক্সিকোর মত প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথেও রীতিমতো বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছে বর্তমান প্রশাসন। তাদের প্রত্যেকটি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে টেরিফ বসিয়ে দিয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে তাতে আমেরিকার খুব একটা লাভ হবে না, কিন্তু বাকি দুই দেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ার কারণে ক্ষতিটা তাদের বেশি হবে।
৩। এদিকে ট্রাম্প ডেনমার্ক এর কাছে গ্রিনল্যান্ড দেশটাকে চেয়ে বসেছে এবং মোটামুটি বলা যায় জোর করে কিনে নিতে চাইছে।
৪। ওদিকে পানামা দেশটির কাছে তাদের মহা গুরুত্বপূর্ণ পানামা খাল এর মালিকানা ফেরত নিতে চাইছে। এই খাল আসলে আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ারদেরই তৈরি করা, কিন্তু এটাকে হস্তান্তর করা হয়েছিল পানামার কাছে, যেটা এখন ফেরত চাওয়া হচ্ছে। এই পানামা খাল হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে আটলান্টিক মহাসাগরের একমাত্র শর্টকাট। এই খালটি প্রাকৃতিকভাবে না থাকার কারণে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে অনেক খরচ করে। এই খালটি না থাকলে কয়েক হাজার মাইল ঘুরে পুরো দক্ষিণ আমেরিকার চারপাশ ঘুরে দক্ষিণে অথবা কানাডার উত্তর দিকে বরফ না থাকলে সেখান দিয়ে যাতায়াত করা লাগবে। তাতে সময় এবং অর্থ দুটিই বহু গুণে বেশি লাগবে। গত বেশ কয়েক বছর ধরে খালটির নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন চাইনিজ কোম্পানির উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ার কারণে আমেরিকা এই পদক্ষেপ নিতে চাইছে।
৫। আমেরিকার ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। সারা বিশ্বের স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন রকম উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করার এই প্রতিষ্ঠানটি কিন্তু আমেরিকার নিজেরই তৈরি। বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করার মত বিভিন্ন রকম প্রজেক্টে এই প্রতিষ্ঠান সুনামের সাথে বহু বছর ধরে কাজ করে আসছে।
৬। শুধু তাই নয়, তারা USAID (United States Agency for International Development) এর মত প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে চাইছে, যেটার কাজই হচ্ছে বিভিন্ন দেশে দরিদ্র মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করা। অন্যান্য ধনী দেশগুলোর চেয়ে আমেরিকা এই কাজটা অনেক বেশি করে থাকে এবং সেটা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই তারা করে আসছে। USAID এর টাকা বন্ধ করে দিলে বিভিন্ন দেশের এমন কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে যেগুলো গরিব মানুষের একমাত্র অবলম্বন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বাংলাদেশের মহাখালীর আইসিডিডিআরবি।
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য হচ্ছে বহু বছর ধরে এই অর্থ দিয়ে আসা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এবং এতদিনে তাদের স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে নিজেদের অর্থে নিজেদের চলার মত ব্যবস্থা করে নেওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে আমেরিকার প্রতি বিদ্বেষ দেখা যায়। কিন্তু আমেরিকার করা অসংখ্য ভালো কাজগুলোর কথা সারা পৃথিবীর মানুষ খুব একটা বলে না। ট্রাম্প তাই সেই ভালো কাজগুলো বন্ধ করে দিয়ে অন্য দেশের মানুষকে বুঝিয়ে দিতে চাইছে- যে আমরা আমাদের নিজের পয়সা খরচ করে এই কাজগুলো না করলে তোমাদের অবস্থা আরো খারাপ হবে। সুতরাং তোমাদের উচিত আমাদের প্রতি আরেকটু কৃতজ্ঞতা দেখানো।
যেই ট্যারিফ এর কথা বলা হচ্ছে সেটি কিন্তু সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক লেনদেনের যে নিয়মগুলো মানা হয় সেগুলোর পরিপন্থী। এই নিয়মগুলো কয়েক দশক ধরে আমেরিকাই তৈরি করেছে।
এই সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী আচরণ সারা বিশ্বের সবগুলো দেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছে। এবং সারা বিশ্বের রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে অপ্রত্যাশিত কিছু বিপ্লব ঘটে যাওয়ার মত অবস্থা তৈরি হয়েছে।
সিঙ্গাপুর একটি অত্যন্ত উন্নত দেশ। এর অবস্থান চায়নার খুব কাছাকাছি হলেও দক্ষিণ পুর্ব এশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এই দেশটি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আমেরিকার সাথে খুব ভালো সম্পর্ক সব সময় বজায় রাখে। খুব ছোট দেশ হওয়ার কারণে তাদের ফোকাস কিন্তু কেবলমাত্র ব্যবসা-বাণিজ্য ভিত্তিক। এখানে প্রতিরক্ষা খাতে অনেক বেশি ব্যয় করার মত পদক্ষেপ তাদের কখনোই নিতে দেখা যায়নি। তারপরও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী (Ng Eng Hen) যখন একটি কথা বলেন তখন একে গুরুত্বের সাথে নেওয়ার কারণ থাকে। তিনি বলেছেন, "আমরা আগে যুক্তরাষ্ট্রকে চিনতাম সারা বিশ্বের ত্রাতা হিসেবে, কিন্তু সেই ভাবমূর্তি এখন পরিবর্তিত হয়েছে। প্রথমে তাদের কাজকর্মে মনে হল তারা সারা বিশ্বের নিয়ম কানুনকে পুরোপুরি পরিবর্তন করে দিতে চাইছে, এরপরে মনে হল কোন এক বাড়িওয়ালা ভাড়া চাইতে এসেছে ভাড়াটিয়ার কাছে, কারণ অনেক মাসের ভাড়া বাকি পড়েছে।"
সম্প্রতি সিনিয়র মন্ত্রী লি সিএন লুং বেশ বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র এখন আর পৃথিবীর নিয়ম কানুন ঠিক করে দেওয়ার মত অবস্থায় নেই। তাদের এই আচরণের কারণেই সারা বিশ্বে বিভিন্ন অঞ্চলে ভূ রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ কেমন হবে, সেটা আগে থেকে বলার কোন উপায় থাকল না।"
সম্প্রতি জার্মানিতে হয়ে যাওয়া নির্বাচন এর পরে যিনি চ্যানসেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হিসেবে মনে করা হচ্ছে তার নাম হচ্ছে ফ্রেডরিক মার্জ। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, "এই মুহূর্তে আমার সবচেয়ে আগে যে কাজটি করতে হবে সেটা হচ্ছে ইউরোপের সামরিক শক্তি দ্রুত বাড়ানো। আমাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিয়ে আসতে হবে। আমি কোনদিন ভাবিনি যে আমাকে এই কথাগুলো বলতে হবে, কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প এর কিছু বক্তব্যের পরে এটা আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, আমেরিকা, অন্তত এর বর্তমান সরকার, ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে খুব একটা ভাবতে চায় না। "
পৃথিবীতে হয়ে যাওয়া দুই দুইটা বিশ্বযুদ্ধের মূল কারণ ছিল জার্মানি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আমেরিকা যে বিশ্বনীতি তৈরি করেছে তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জার্মানকে ঠান্ডা রাখা, যেন আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ না হয়। এখন যদি আমেরিকার বলয় থেকে জার্মান বেরিয়ে যায় তাহলে সে এই বিশ্বনীতি আর থাকবে না।
এমনকি যাদের সাথে তাদের বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল সেই মিত্র বাহিনী অর্থাৎ যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের সাথে তারা একটি যৌথ শক্তি গঠন করতে চাচ্ছে যাদের কাছে শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে। কারণ জার্মানির এখন সেই আত্মবিশ্বাস নেই যে যুক্তরাষ্ট্র বিপদের সময় তাদেরকে সাহায্য করবে। বিপদ বলতে রাশিয়ার সাথে তাদের কোন একটি সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা বলা হচ্ছে। এই ভয় থেকেই কিন্তু ন্যাটো তৈরি হয়।
এদিকে তাইওয়ানের জনগণ খুব ভয়ে ভয়ে পর্যবেক্ষণ করছে আমেরিকার সাথে কিভাবে ইউক্রেনের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি হয়েছে। ইউক্রেন যেমন শক্তিশালী একটি শত্রু দেশের পাশে অবস্থান করে, ঠিক তেমনি তাইওয়ানও শক্তিশালী চায়নার পাশে। আমেরিকার বন্ধু হিসেবে এতদিন তার বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সম্প্রতি চায়নার বিভিন্ন উস্কানিমূলক আচরণের বিপরীতে তাইওয়ানকে কোন সহায়তার কথা না বলে ট্রাম্প প্রশাসন বরং তাদেরকে নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে যথেষ্ট ব্যয় না করার জন্য ভৎসনা করেছে। এমনকি এই আশেপাশের দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো আশঙ্কা করছে, ট্রাম্প হয়তো চায়নার সাথে হাত মিলিয়ে গোপনে তাদেরকে বর্জন করবে ঠিক ইউক্রেনের মতো।
আমেরিকার এই কাজকর্মগুলো কিন্তু বিশাল প্রভাব ফেলবে বিশ্ব রাজনীতিতে। ভুরাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হবে বিভিন্ন দিকে। যেসব দেশের হাতে অর্থ আছে, যেমন জার্মানি এবং জাপান, কিন্তু প্রতিরক্ষা খাতে তেমন ব্যয় করছে না, তারা কিন্তু এখন নিজেদের ভাবনাটা নিজেরাই ভাবতে শুরু করবে এবং সামরিক শক্তি বাড়ানোর পদক্ষেপ নিবে। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়াও এই দলে যোগ দিতে পারে। গত ৮০ বছরে আমরা দেখেছি যে সব দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকে, তাদেরকে সবাই সমীহ করে চলে। তাই আমেরিকার প্রতিরক্ষা গ্যারান্টি না পেলে তারা সেই পথে পা বাড়াবে - এটাই অনুমান করা হচ্ছে। যতদিন আমেরিকা সারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে গিয়ে বন্ধুত্ব তৈরি করেছে এবং তাদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে, ততদিন আমরা দেখেছি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীর ক্ষেত্রে কাউকেই খুব একটা মনোযোগী না হতে। গত ৮০ বছর ধরেই মনে করা হচ্ছিল- এটা পৃথিবীর জন্য নিরাপদ একটি পদক্ষেপ। খুব অল্প সংখ্যক দেশই আছে যারা এমন ব্যাপক বিধ্বংসী মারনাস্ত্রের অধিকারী।
যেহেতু এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আমেরিকার কাছ থেকে নিজেদের 'স্বাধীনতা' ফিরে পেতে চাইছে, সেহেতু তারা প্রতিরক্ষার সাথে সাথে অন্যান্য নির্ভরশীলতা কমাতে চাইবে। পরবর্তী ধাপে হয়তোবা তারা মার্কিন ডলার দিয়ে বাণিজ্য করা থেকে বিরত থাকতে চাইবে। এই চেষ্টাটা অনেক বার করা হয়েছে অনেক দেশে, কিন্তু কেউ সফল হতে পারেনি কিংবা তাদেরকে সফল হতে দেওয়া হয়নি। এই মুহূর্তে ব্রিকস (BRICS - Brazil, Russia, India, China, South Africa) নামক জোটের দেশগুলো সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে কয়েক বছর ধরে, কিন্তু সফলতা সেভাবে আসেনি। যদিও তাদের সদস্য সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। সমস্যা হচ্ছে এদের একটি দেশের মুদ্রার উপর অন্য দেশের আত্মবিশ্বাস নেই। তাই বড় বড় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এখনো মার্কিন ডলার পৃথিবীর সব দেশের প্রথম পছন্দ।
এই ক্ষেত্রে ইউরোপ হয়তোবা সত্তিকারের একটি বিকল্প পদক্ষেপ নিতে পারে- যেটি মার্কিন ডলারকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করবে। হয়তোবা তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পক্ষ থেকে EU বন্ড ছাড়তে পারে, যেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড কিনে রাখে এবং সেখান থেকে আমেরিকার যথেষ্ট অর্থের যোগান হয়। যদি EU বন্ড US ট্রেজারি বন্ড এর বিকল্প হয় তখন এর মূল্য কমে আসতে পারে! সারা বিশ্বের মুদ্রা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করার যেই বিলাসিতা এখন যুক্তরাষ্ট্রের আছে তখন সেটা থাকবে না। সারা বিশ্বের সকল দেশের রিজার্ভ কারেন্সি মার্কিন ডলারে জমা রাখে সবাই। এই কারণে এত বড় ডেফিসিট কিংবা অর্থনৈতিক ঘাটতি থাকার পরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার বহাল তবিয়তে তাদের অর্থনীতির কোনরকম পরিচর্যা করছে না। এই সুবিধা খুব দ্রুত হয়তোবা চলে যাবে। এই সবগুলো ঘটনা যে দুটো দেশকে লাভবান করবে, তারা হচ্ছে রাশিয়া এবং চায়না। তাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে বিশ্বব্যাপী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল থেকে দুর্বলতর করা। রাশিয়ান এক অর্থনীতিবিদ সম্প্রতি বলেছেন, দেখে মনে হচ্ছে রাশিয়াতে ঈদ, ক্রিসমাস, পূজা, হানুকা এবং পুতিনের জন্মদিন সব একই সাথে উদযাপন হচ্ছে!
যারা ভাবছেন যে আসলেই এখন উপযুক্ত সময় আমেরিকার বলয় থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশকে বের করে দেওয়ার, কারণ আমেরিকা নিজেই অর্থনীতিতে খুব একটা ভালো করছে না- তাদেরকে আমি বলব লাভ ক্ষতির হিসাবটা আরেকবার চিন্তা করে দেখুন। পুরো বিশ্বের রাজনীতি অর্থনীতি এবং সংস্কৃতি গত ৮০ বছরে তিলে তিলে গড়ে তুলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবং এই কারণেই গত ৮০ বছরে বড়সড় যুদ্ধ বহুবার এড়ানো গিয়েছে। বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ছাড়াও সারা বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে শান্তি থাকার কারণেই। বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক স্বাভাবিকতা এবং নিয়ম-কানুন গুলো তৈরি হয়েছে এই আমেরিকান প্রভাবেই। মানব সভ্যতার ইতিহাসে বিশ্বব্যাপী এত দ্রুত উন্নয়ন আর কখনোই ঘটেনি। আর এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দেশটির নাম হচ্ছে আমেরিকা।
সারা বিশ্ব থেকে সেরা ট্যালেন্ট গুলোর সমাবেশ ঘটে এই দেশে এবং সেই ট্যালেন্টদের কাজগুলোর প্রকাশ ঘটে এই দেশে, তাই সেখান থেকে সুবিধা তারাই পায়। শুধু শুধু আমেরিকাতে এত বুদ্ধিমান মানুষের একজোট হওয়ার কোন কারণ নেই। এটা ভাবার কোন কারণ নেই কেবল আমেরিকাতেই বেশি সক্ষম মানুষের জন্ম হয়। বরং সারা বিশ্ব থেকে সক্ষম মানুষরা আমেরিকার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে চলে আসে। যুগে যুগে এভাবেই বড় বড় সভ্যতা গুলো গড়ে উঠেছে, কারণ তারা অন্যান্য দেশ থেকেও বিভিন্ন দিকে সক্ষম মানুষদেরকে আকৃষ্ট করতো। যদি আমেরিকার এই সুপ্রিমেসী সারাবিশ্বে বজায় না থাকে, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হবে তাদেরই। এই বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব পৃথিবীর মানুষকে তাদের প্রতি আরো সন্দিহান এবং অসহিষ্ণু করে তুলবে। আমেরিকার অভিভাবকত্বহীন দুনিয়া হয়তোবা আমরা অচিরেই সামনে দেখতে পাবো।
আমি নিজে স্কুলে শ্রেণীতে প্রথম ছিলাম। শ্রেণীতে প্রথম হলেই যে ভালো নেতা হওয়া যায় এটা মোটেই ঠিক নয়, বরং তার জন্য বেশ কিছু গুণ আয়ত্ত করে নিতে হয়।
আমেরিকা হচ্ছে ক্লাসের ফার্স্টবয়, তাকে হিংসা কিংবা ঘৃণা করা সহজ। তাই সত্যিকারের নেতৃত্ব বজায় রাখতে হলে ফার্স্টবয়কে কিন্তু সংকীর্ণ মনের হলে চলবে না। তাকে ব্যবহার করে পিছিয়ে পড়া ছাত্ররা বিভিন্ন সময়ে বিপদ থেকে উদ্ধার পাবে, দাবি দাওয়া আদায় করবে, তাতে তার লাভ আপাতত না থাকলেও ভবিষ্যতে থাকবে। পিছিয়ে পড়া ছাত্ররা যদি আন্দোলন করে পরীক্ষাই হতে না দেয় তাহলে ফার্স্টবয় আর কিভাবেই বা ফার্স্ট হবে ❓
(কপি)