25/05/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ ২৪/০৫/২০২৬
রামিসা থেকে এপস্টেইনের শিকার যত শিশু — বিশ্বের আজ প্রয়োজন ন্যায়পরায়ণ খিলাফত ব্যবস্থা
পিডিএফ আকারে পড়ুন: https://shorturl.at/TzWEE
আট বছরের নিস্পাপ শিশু রামিসা আক্তার, যে স্কুলে যেতে ভালোবাসত এবং যার স্বপ্নগুলো আর কেউ কখনও জানতে পারবে না; এক প্রতিবেশীর ঘরে প্রবেশ করার পর তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয় এবং শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়। সে কেবল একটি হ্যাশট্যাগের চেয়ে অনেক বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্য ছিল।
বাংলাদেশ আজ ক্ষোভে ফুঁসছে। রাজনীতিবিদগণ অপরাধীর ফাঁসি চাইছেন। কেউ কেউ শারী‘আহ্ আইনের কথাও বলছেন, কিন্তু সেই আইন বাস্তবায়নকারী পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা — খিলাফতের কথা তুলছেন না। মোমবাতি প্রজ্বলন আর হ্যাশট্যাগ কোনো পরিবর্তন আনে না। এগুলোর কোনোটাই পরবর্তী রামিসাকে বাঁচাতে পারবে না। একই নির্মম চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে: একটি শিশু প্রাণ হারায়, জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে, নেতারা ক্ষোভের অভিনয় করেন, আইনে সামান্য রদবদল হয়, তারপর নীরবতা। এরপর আবার আরেকটি শিশুর নির্মম পরিণতি।
আমরা এমন এক পুঁজিবাদী সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করছি, যা মুনাফার জন্য মানবদেহকে পণ্যে পরিণত করে। পর্নোগ্রাফি আজ এক মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের দানবীয় শিল্প। পুঁজিবাদ হিডোনিজম (ভোগবাদ)-কে উৎসাহিত করে — যেখানে আনন্দ ও ইন্দ্রিয়-সুখকে জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্নোগ্রাফি মানুষের মানসিক বিকৃতি ঘটায়, আগ্রাসন বাড়ায়, এবং শিশুদেরকে ভোগের বস্তু হিসেবে গণ্য করার বিষয়টিকে স্বাভাবিক করে তোলে। একটি সংস্কৃতি বা সমাজকে যদি প্রতিনিয়ত এই বিষাক্ত জিনিসে অভ্যস্ত করানো হয়, তবে সেখানে তো এমন দানবের জন্ম হবেই।
রামিসার হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী এই হিংস্র-শিকারী সংস্কৃতি মূলত সেই একই পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী সংস্কৃতি — যা সমাজের অভিজাত মহলে মহাসমারোহে উদযাপিত হয়। জেফ্রি এপস্টেইন কোনো একাকী ও বিচ্ছিন্ন দানব ছিল না। দশকের পর দশক ধরে সে একটি শিশু পাচার ও যৌন নিপীড়ন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এ সম্পর্কে অবগত ছিল। ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা সব জেনেও চোখ বুজে ছিল। যে উদারপন্থী, লাগামহীন, সম্পদপূজারী পুঁজিবাদ বিশ্বকে স্বাধীনতার সবক দেয়, সেই একই পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তরে সগৌরবে চলেছে শিশু পাচার ও নির্যাতনের মতো জঘণ্য কর্মকান্ড। আট বছরের রামিসা ছিল পল্লবীর একটি ঘিঞ্জি ফ্ল্যাটে। আর এপস্টেইনের শিকাররা ছিল সুরক্ষিত ব্যক্তিগত দ্বীপে। কিন্তু ব্যবস্থার এই চরম ব্যর্থতা হুবহু এক — এটি এমন এক পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী সংস্কৃতি যা শিশুদের সুরক্ষা দেয় না, কারণ এটি শিশুদেরকে কেবল ভোগের বস্তু কিংবা মুনাফার হাতিয়ার হিসেবে দেখে।
প্রতিবার যখনই রামিসার মতো কোন মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঘটে, তথাকথিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কেবল লোকদেখানো প্রতিক্রিয়াশীল বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে: গ্রেপ্তার করো, বিচার করো, ফাঁসি দাও। ব্যাস, মামলা শেষ! কিন্তু আসল সত্য হলো, আমাদের সমাজ এতে সুরক্ষিত হয় না। যে সমাজ আজ ধর্ষক ও খুনির ফাঁসির দাবীতে সোচ্চার, সেই একই সমাজ নরপিশাচ-ধর্ষকদের জন্মদাতা এই ভোগবাদী সংস্কৃতিকেই প্রতিনিয়ত গিলছে। ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শিশুদের সুরক্ষার জন্য কার্যকর কোনো বাস্তব উদ্যোগ নেই — নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে আগ্রাসী ও নোংরা কন্টেন্ট, নেই সামাজিক জবাবদিহিতা, আর বছরের পর বছর ধরে আদালতে বিচার ঝুলে থাকাতো রয়েছেই। অতএব, পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে এই প্রতিক্রিয়াশীল বিচার ব্যবস্থা আসলে একটি প্রতারণা। এই সংস্কৃতিকে অবাধে চলতে দিয়ে কেবল একজন মানুষকে ফাঁসি দেয়ার মানে ন্যায়বিচার নয়; এটি স্রেফ লোকদেখানো নাটক।
হে দেশবাসী! আমাদের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ এই পঁচে যাওয়া ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থার একটি বাস্তব ও কার্যকর বিকল্প খোঁজার সময় কি এখনো আসেনি? দীর্ঘ ১৪০০ বছর ধরে ইসলামী খিলাফত এক অনন্য পথের দিশা দেখিয়েছে — যা কোনো রূপকথার অবাস্তব স্বর্গ বা কাল্পনিক ‘ইউটোপিয়া’ ছিল না (কারণ ইসলাম কখনোই দাবী করে না যে সমাজ থেকে অপরাধ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে), বরং এটি ছিল এমন এক ব্যবস্থা যা অপরাধের উৎসগুলোকেই উপড়ে ফেলে এবং যখনই কোনো অপরাধ বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে, তখনই এটি দ্রুত, কঠোর, ও মর্যাদাপূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। যখন একজন দাস-তত্ত্বাবধায়ক এক দাসীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধ্য করেছিল, তখন খলিফা উমর (রা.) তাকে বেত্রাঘাত করেছিলেন এবং নির্বাসিত করেছিলেন; আর ভুক্তভোগী নারীকে কোনো শাস্তি দেননি, কারণ সে ছিল বাধ্য ও অসহায় — এভাবে তিনি চিরতরে প্রতিষ্ঠা করেন যে ইসলাম কেবলমাত্র নিপীড়ক ও অপরাধীকেই এককভাবে দায়ী করে, কখনোই অসহায়, দুর্বল ও ভুক্তভোগীকে নয়। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধুর রাজা দাহির যখন বণিকদের এতিম কন্যাদের বন্দি করেছিল, তখন আল-হাজ্জাজ মুহাম্মাদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে এক অকুতোভয় সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন, যারা অবরুদ্ধ এতিম কন্যাদের উদ্ধার করেছিল এবং ওই অঞ্চল বিজয় করেছিল। একইভাবে, আব্বাসীয় খলিফা আল-মাহদি এর আমলে যখন একটি শিশুকে অপহরণ করার পর তাকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়, তখন তিনি অবিলম্বে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন এবং অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করেন। সেসময়ে খিলাফত ব্যবস্থা কেবল মোমবাতি প্রজ্বলন ও হ্যাশট্যাগ প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি কিংবা হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি — বরং এটি অসহায় ও নিপীড়িত শিশুদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিল।
খিলাফত এমন এক সমাজ গঠন করেছিল যেখানে অশ্লীলতা কোনো বিনোদন ছিল না, নারী ও শিশুরা কোনো পণ্য ছিল না, পর্নোগ্রাফি মানুষের মনকে বিষাক্ত করত না, এবং রাষ্ট্র সবসময় অসহায় ও দুর্বলদের রক্ষা করত। সেখানে একজন নারীর একটিমাত্র আর্তনাদ একটি পুরো সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য মার্চ করাতে পারত। এটাই হলো পার্থক্য। নবুয়্যতের আদলে প্রতিশ্রুত খিলাফত রাশিদাহ্ কেবল শাস্তিদানের একটি ব্যবস্থা নয় — বরং এটাই হলো একমাত্র শাসন কাঠামো যা সমাজ থেকে ধর্ষক ও শিশু হত্যাকারীদের মতো নরপিশাচদের প্রজননক্ষেত্রকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে সক্ষম।
হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ-এর মিডিয়া অফিস
From Ramisa to Epstein’s Victims The World Needs the Khilafah BN.pdf
23/05/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ২০/০৫/২০২৬
আকসা (ACSA) ও জিসোমিয়া (GSOMIA): দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সচেতন দেশবাসী ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদদের এখনই এগিয়ে আসা উচিত
বাংলাদেশের জনগণের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জিসোমিয়া (GSOMIA) বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা কেবলমাত্র তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে ২০২২ সালের মার্চে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপে রূপ নেয়, যখন তৎকালীন মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড- ২০১৭ সালে ঘোষিত ও ২০১৯ সালে বিধিবদ্ধ মার্কিন ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (IPS)’-এর কাঠামোর আওতায়- জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (GSOMIA)-এর একটি খসড়া হস্তান্তর করে। সেই সময় নুল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর জিসোমিয়ার জন্য চূড়ান্ত মাইলফলক হলেও ‘অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট’ (ACSA) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৯ সালের এপ্রিলে উত্থাপিত হয় এবং ঢাকায় সপ্তম নিরাপত্তা সংলাপের সময় তা আরও জোরদার করা হয়। হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দেশের জনগণ ও রাজনীতিবিদদের সতর্ক করে আসছে যে, বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বড় ধরণের দুটি সামরিক চুক্তি-জিসোমিয়া ও আকসা স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব হরণকারী এই চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন লবিং এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এগুলোর প্রকৃত বিপদসমূহ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এই কাঠামোর আওতায় জিসোমিয়া চুক্তি বাংলাদেশের গোয়েন্দা কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক লক্ষ্য অনুযায়ী সাজাতে বাধ্য করবে, যা আমাদেরকে অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্ব বা সংঘাতে জড়িয়ে ফেলবে। অন্যদিকে, আকসা চুক্তি কক্সবাজারের মতো কৌশলগত এলাকায় মার্কিন বাহিনীকে পরোক্ষ সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ করে দিবে, যা নব্য-উপনিবেশবাদী প্রভাবেরই একটি রূপ। এতে বাংলাদেশ তার কৌশলগত নিরপেক্ষতা হারিয়ে সুস্পষ্টভাবে মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নিবে।
সেই ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে মার্কিন নব্য-উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা একমাত্র রাজনৈতিক দল হচ্ছে হিযবুত তাহ্রীর। আমরা উম্মাহ্-কে সতর্ক করছি, কৌশলগত জলসীমা নিয়ন্ত্রণের জন্য ৯/১১-এর পর শ্রীলঙ্কার উপর চাপিয়ে দেয়া একই ধরনের আকসা সামরিক চুক্তি আজ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য একই রকম হুমকি। আমরা হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ, ২০২৬ সালের মার্চে, মার্কিন সহকারী সচিব পল কাপুরের সফর এবং জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তির বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী লবিংয়ের বিপক্ষে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করি, যা ঢাকায় ও চট্টগ্রামে জুমু'আ’র নামাজের পর অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়, সার্বভৌমত্ব হরণকারী এই চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করতে “দৃঢ় পদক্ষেপ” নিতে কীভাবে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোর তাগিদ দিচ্ছে।
এমতাবস্থায়, এদেশের শাসকগোষ্ঠীর নিকট প্রশ্ন, তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকা কি ওয়াশিংটনের উপর নির্ভরশীল? অথচ ইতিহাস সাক্ষী, ওয়াশিংটন কখনোই কোনো শাসককে জনরোষ থেকে রক্ষা করতে পারেনি। বরং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জনবিচ্ছিন্ন শাসকগোষ্ঠীর পতনের সময়ে জনগণের সাথে একাত্ম হওয়ার ভন্ডামি করে নিজেদের হাত ধুয়ে ফেলে, এবং এরপর নতুন বিকল্পের সন্ধান করে। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদেরকে সেসব “রুওয়াইবিদাহ্” (নিকৃষ্ট ও মূর্খ) শাসকদের সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, যারা পশ্চিমাদের গোলামী করে এবং জনগণের আস্থার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এতদসত্ত্বেও, এসব শাসকেরা উম্মাহ্’র ভবিষ্যৎকে বন্ধক রেখে নিজেদের সাময়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, এবং অনুগত দাসের মতো আচরণ করে। আমরা কি বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে কোনো আশা রাখতে পারি, যারা ওয়াশিংটনকে জোরালোভাবে ‘না’ বলতে এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে বিন্দুমাত্র প্রস্তুত নয়?
আর, জুলাই অভ্যুত্থানের সেই ‘তরুণ তুর্কিরা (Young Turks)’ আজ কোথায়? মার্কিন নব্য-উপনিবেশবাদ এবং এই সার্বভৌমত্ববিরোধী চুক্তিগুলোর বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ নীরব, অন্য সব দলের মতোই তারাও আমেরিকার সুনজরে থাকার আকুল চেষ্টায় লিপ্ত। তারাও কি উপনিবেশবাদী মার্কিনীদের ক্রীড়নকে পরিণত হচ্ছে? এই নীরবতা স্পষ্টতই এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা। জনগণের প্রতিনিধি দাবী করা এই রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এই বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তিগুলো হচ্ছে বিশেষ অগ্নিপরীক্ষা, যার সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা ইতিহাস বলে দেয়। তারা ‘ভারত’ থেকে রক্ষা পেতে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে’ আমন্ত্রণ জানানোর যুক্তি দেয়! এটা কি ‘ভাল্লুকের’ হাত থেকে রক্ষা পেতে ‘নেকড়ে’ ডেকে আনার শামিল নয়?
হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ দেশের প্রত্যেক সচেতন নাগরিক এবং নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, আপনারা আর এসব দলের পেছনে নিজেদের শক্তি অপচয় করবেন না; এই প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোর ব্যাপারে তাদের নীরবতা প্রমাণ করে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কোনো সদিচ্ছাই তাদের নেই। তাদের চটকদার স্লোগানে বিভ্রান্ত হবেন না। তারা নিজেদের ক্ষমতার জন্য আপনাদেরকে বিক্রি করে দিতে চায়। কেবলমাত্র নবুয়তের আদলে খিলাফত প্রতিষ্ঠার রাজনীতিই প্রকৃত অর্থে আন্তরিক ও সত্যনিষ্ঠ। খিলাফত রাষ্ট্রেরই রয়েছে সেই সাহস ও সক্ষমতা, যা দ্বারা এটি মার্কিন সামরিক ব্ল্যাকমেইল, অর্থনৈতিক চাপ, এবং কৌশলগত পরিবেষ্টনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াবে। খিলাফত কখনও নিজের ভূখণ্ডের বিনিময়ে বাণিজ্য চুক্তির জন্য ভিক্ষা করবে না। এটি কখনও পোশাক রপ্তানির শুল্ক সুবিধার বিনিময়ে নিজের সমুদ্র বন্দর হস্তান্তর করবে না। খিলাফত শুধুমাত্র আল্লাহ্ ﷻ-এর সামনেই মাথা নত করবে।
﴿... وَلَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلاً﴾
“...এবং কিছুতেই আল্লাহ্ মু‘মিনদের উপর কাফিরদের কর্তৃত্বকে মেনে নিবেন না।” [সূরা আন-নিসা: ১৪১]
হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ-এর মিডিয়া অফিস
20/05/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
*‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (ART)’ বাংলাদেশকে উপনিবেশবাদী মার্কিনীদের ‘প্রক্সি রাষ্ট্রে’ পরিণত করার অপচেষ্টা; রাজনৈতিক স্বদিচ্ছাই এই গোলামী চুক্তি থেকে বের হওয়ার জন্য যথেষ্ট*
ট্রাম্পের একতরফা শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত “পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি” (ART) কোনোভাবেই সাধারণ চুক্তি নয়, বরং এটি এক অভূতপূর্ব দাসত্বমূলক চুক্তি। যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের শিল্প-বাণিজ্য-কৃষি, সাইবার সিকিউরিটি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সামরিক বাহিনীর উপর উপনিবেশবাদী মার্কিনীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এই চুক্তিটি পতিত হাসিনার আমলে স্বাক্ষরিত (নভেম্বের ২৫, ২০১৩), বিতর্কিত "Trade and Investment Cooperation Forum Agreement (TICFA) চুক্তির নব্য সংস্করণ। এই চুক্তির অধীনে দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী প্রতিরক্ষা চুক্তি: ‘জেনারেল সিকিউরিটি অফ মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট’ (GSOMIA) এবং ‘অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট’ (ACSA) দ্রুত কার্যকরের পথ তৈরি করা হলো। GSOMIA স্বাক্ষরিত হলে আমাদের সামরিক স্থাপনাগুলো বিদেশী নজরদারীর আওতায় চলে যাবে, আর ACSA কার্যকর হলে দেশের ভূখণ্ডকে কার্যত একটি অঘোষিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করার পথ খুলে যাবে। এতে মার্কিন অস্ত্রের উপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেশকে কৌশলগতভাবে এক ধরনের ফাঁদে আবদ্ধ করে ফেলা হবে। এক কথায়, ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (ART)’-এর আড়ালে উপনিবেশবাদী মার্কিনীরা বাংলাদেশকে তার প্রক্সি রাষ্ট্রে পরিণত করার মাধ্যম তার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। অর্থাৎ, চীনের উত্থানকে নিয়ন্ত্রণ এবং মুসলিম উম্মাহ্’র রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা-খিলাফত রাষ্ট্রের আবির্ভাবকে প্রতিহত করতে চায়। সুস্থ মস্তিষ্কের কোন সচেতন নাগরিকের পক্ষে এই চুক্তিকে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ্ ﷻ বলেন, “...যদি তারা তোমাদের উপর আধিপত্য অর্জন করতে পারে, তবে তারা তোমাদের বন্ধুত্ব ও চুক্তির কোন মর্যাদা দেবে না …” [সূরা আত-তাওবাঃ ৮] ।
দেশবিরোধী এই বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে দেশের সর্বস্তরের সচেতন জনগণ তাদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে, কিন্তু রহস্যজনকভাবে সরকারী ও বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দলসমূহ এই বিষয়ে নিষ্ক্রিয়-নিশ্চুপ। তাই জনগণের প্রশ্ন, তারা কি ক্ষমতায় টিকে থাকতে জনগণের শক্তির উপর নির্ভরশীল না হয়ে মার্কিনীদের সমর্থনের উপর নির্ভরশীল? তাহলে তাদের জেনে রাখা উচিত, অতীতে মার্কিনীদের স্বার্থ রক্ষার পরও ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে হতে হয়েছে মার্কিনীদের লক্ষ্যবস্তু! ইরানের ডিজিটাল খাত (বিশেষ করে, স্টার লিংকের অবস্থান) মার্কিনীদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে তারা ইরানের উচ্চপদস্থ শাসক, সামরিক কমান্ডার ও বিজ্ঞানীদের হত্যার সুযোগ পেয়েছে। “ফলে আল্লাহ্ তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ভোগ করালেন, আর আখিরাতের শাস্তি তো আরো কঠিন। যদি তারা জানত!” [আয-যুমারঃ ২৬] ।
প্রকৃতপক্ষে, রাজনৈতিক স্বদিচ্ছাই এই গোলামী চুক্তি থেকে বের হওয়ার জন্য যথেষ্ট। যেখানে আমাদের প্রবাসীরা বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশী বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করে, সেখানে মার্কিনীদের সাথে ৭.২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতির তোয়াক্কা না করাই সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত- যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদেরকে স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। পোশাক শিল্পের উপর একক নির্ভরতাকে কমিয়ে, প্রবাসী শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান, চামড়া শিল্পসহ স্থানীয় কাঁচামালনির্ভর রপ্তানীমুখী শিল্পকে পৃষ্টপোষকতা প্রদান এবং রপ্তানী বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া, বাংলাদেশের তেল-গ্যাস খাতে শেভরন-এক্সিলারেটেড এনার্জি যে লুটপাট করছে সেখান থেকে দেশকে মুক্ত করে এসব সম্পদ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসতে হবে। হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ ইতিপূর্বে জাতির সামনে স্বনির্ভর অর্থনীতির রূপকল্প প্রদান করেছে, যা সচেতন মহলে যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে। তাই, দেশের নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদদেরকে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে এবং এই চুক্তি বাতিল করতে সক্রিয় হতে হবে। এবং জনগণকেও এই চুক্তির বিষয়ে রাজনৈতিক দলসমূহের নিকট সুস্পষ্ট অবস্থানের দাবী জানাতে হবে।
হে দেশবাসী, আপনারা জানেন, একমাত্র হিযবুত তাহ্রীর-এর নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক নেতৃত্ব খিলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্‘কে কাফির উপনিবেশবাদীদের কবল থেকে মুক্ত করতে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনা করে আসছে। তাই, আপনাদেরকে আল্লাহ্ ﷻ প্রতিশ্রুত খিলাফতে রাশিদাহ্ প্রতিষ্ঠায় হিযবুত তাহ্রীর-এর নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই কাজকে বেগবান করতে হবে। আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র মুসলিম উম্মাহ্‘কে ঐক্যবদ্ধ করবে, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বর্তমান যুলুমের পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থাকে প্রতিহত করে ইসলামের ভিত্তিতে ন্যায়পরায়ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলবে, ইনশা‘আল্লাহ্।
﴿يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱسْتَجِيبُوا۟ لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ ۖ ﴾
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সেই আহ্বানে সাড়া দাও, যখন তোমাদেরকে এমনকিছুর দিকে আহ্বান করা হয় যা তোমাদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করে।” [সূরা আল-আনফালঃ ২৪]
09/03/2026
*বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে পরিচালিত মার্কিনীদের উপনিবেশবাদী প্রকল্পের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে*
হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ, আজ শুক্রবার (৬ মার্চ, ২০২৬) বাদ জুম্মা, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন মসজিদ প্রাঙ্গণে বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে পরিচালিত মার্কিন উপনিবেশবাদী প্রকল্পের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তগণ মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের ঢাকা আগমনকে ঘিরে দেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক মাস না পেরোতেই এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি মূলত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী লবিংয়ের বহিঃপ্রকাশ- যার লক্ষ্য হলো বিতর্কিত দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তি: 'জেনারেল সিকিউরিটি অফ মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট' (GSOMIA) এবং 'অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট' (ACSA) দ্রুত কার্যকর করা। তাই এই ধরণের সফরগুলোকে নিছক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা স্রেফ ভণ্ডামি কিংবা মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
বক্তাগণ আরও বলেন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তথাকথিত “রুটিন” প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো নিয়ে “দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ” গ্রহণের প্রত্যাশার কথা বলা হলেও, এই কূটনৈতিক ভাষার আড়ালে লুকিয়ে আছে দেশের সার্বভৌমত্বের উপর এক গভীর ও উদ্বেগজনক হুমকি। GSOMIA স্বাক্ষরিত হলে আমাদের সামরিক স্থাপনাগুলো বিদেশি নজরদারির আওতায় চলে যাবে, আর ACSA কার্যকর হলে দেশের ভূখণ্ডকে কার্যত একটি অঘোষিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করার পথ খুলে যাবে। এতে মার্কিন অস্ত্রের উপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেশকে কৌশলগতভাবে এক ধরনের ফাঁদে আবদ্ধ করে ফেলা হবে।
কাপুরের সফরের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য হলো, নতুন বিএনপি সরকারকে আলোচনার কোনো সুযোগ না দিয়ে অবিলম্বে এই চুক্তিগুলো সম্পাদনে বাধ্য করা। নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে, গত ৯ই ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এবং তড়িঘড়ি করে একটি সর্বনাশা বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় এখন এই সামরিক চুক্তির চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই আত্মঘাতী চুক্তি বাংলাদেশকে বেশ কিছু কঠোর শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ করে ফেলেছে। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে: “মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী” হতে পারে এমন কোনো ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি নিষিদ্ধ করা, চীন বা রাশিয়ার মতো নন-মার্কেট (non-market) অর্থনীতিভুক্ত দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের চুক্তি বাতিল করার ক্ষমতা ওয়াশিংটনকে প্রদান করা, এবং ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন এলএনজি (LNG), বোয়িং বিমান, ও কৃষিপণ্য আমদানির বাধ্যবাধকতা- যা মূলত আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে কার্যত মার্কিন কর্পোরেট স্বার্থের কাছে জিম্মি করে ফেলছে। আর একটি ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (NDA)’ বা গোপনীয়তা চুক্তির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে জনগণকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে।
তাছাড়া, কাপুরের সফরের সময়কাল ও সফরসূচিই অনেক কিছুর ইঙ্গিত দেয়। ঢাকায় আসার আগে তার নয়াদিল্লি সফর স্পষ্ট করে, ওয়াশিংটন তার ইন্দো-প্যাসিফিক ভূরাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুনভাবে সাজাতে চায়। এতে এক বিপজ্জনক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অর্থাৎ বাংলাদেশ আবারও যুক্তরাষ্ট্র-ভারত এবং চীনের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আটকা পড়তে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে হাসিনা আমলের সেই বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকিই দেখা দিচ্ছে, যখন মার্কিন-ভারতের স্বার্থ রক্ষার কারণে এই ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল।
বক্তাগণ বিএনপি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন: তারা যেন বৃহৎ শক্তিগুলোর ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বলির পাঁঠা না হয়- যার সাথে আমাদের স্বার্থগত কোনো সম্পর্কই নেই। তাই কাপুরের সঙ্গে নিরাপত্তা–সংক্রান্ত আলোচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দূরদর্শিতা অবলম্বন করা অপরিহার্য। বিশেষ করে যখন তার এজেন্ডায় “সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা” বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, তখন সরকারকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ নিরাপত্তা সহযোগিতার নামে যেন কোনোভাবেই বিদেশি শক্তির নির্দেশনায় ইসলামী ব্যক্তিত্ব, আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দমন–পীড়নের পথ তৈরি না হয়। বিগত সরকারের সেই ভয়াবহ ভুলের পুনরাবৃত্তি অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট স্বৈরাচারে পরিণত করেছিল।
পরিশেষে বক্তাগণ বলেন: আমাদের শাসকদের এই ভ্রান্ত ধারণা পরিত্যাগ করতে হবে যে ক্ষমতায় টিকে থাকা কেবল ওয়াশিংটনের সমর্থনের উপর নির্ভরশীল। কারণ, মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী ও অনিশ্চিত: ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একজন ঊর্ধ্বতন সৌদি কর্মকর্তার বক্তব্যেও এর প্রমাণ মেলে। যিনি বলেছেন, ইসরায়েলকে রক্ষা করতে গিয়ে ওয়াশিংটন তার উপসাগরীয় মিত্রদেরও ত্যাগ করেছে যারা নিজেদের দেশে স্থায়ীভাবে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে। ইতিহাসের পাতায় বারবার এই একই সত্যের প্রমাণ পাওয়া যায়: সাদ্দাম হোসেন, হোসনি মোবারক, কিংবা বাংলাদেশের বিগত শাসকগোষ্ঠী- সকলেই মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় বিশ্বস্তভাবে কাজ করার পরেও ‘টিস্যু পেপারের’ মতো পরিত্যক্ত হয়েছে। এমনকি ইরানের নেতৃত্বও বছরের পর বছর ধরে মার্কিন কৌশলগত লক্ষ্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলার পর আজ নিজেদেরকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পাচ্ছে। সরকারকে অবশ্যই পশ্চিমা আধিপত্যবাদের হাতিয়ার বা প্রক্সি হয়ে কাজ করাকে অস্বীকৃতি জানাতে হবে- যে আধিপত্যবাদ আমাদের বোঝাতে চায়, তাদের প্রভাববলয় থেকে মুক্তি পাওয়া নাকি অসম্ভব। প্রকৃত সার্বভৌমত্বের জন্য এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা ওয়াশিংটনের রক্তচক্ষুকে নয়, বরং আল্লাহ্ ﷻ ও জনগণের আমানতকে ভয় করেন; এবং যাদের মূল শক্তি কোনো বিদেশি দূতাবাস নয়, বরং এ দেশের জনগণ। আল্লাহ্ ﷻ পবিত্র কুর‘আন-এ বলেন:
إِن يَثْقَفُوكُمْ يَكُونُوا۟ لَكُمْ أَعْدَآءًۭ وَيَبْسُطُوٓا۟ إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ وَأَلْسِنَتَهُم بِٱلسُّوٓءِ وَوَدُّوا۟ لَوْ تَكْفُرُونَ
“তোমাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারলে, তারা তোমাদের শত্রু হবে এবং অনিষ্ট সাধন করার উদ্দেশ্যে তোমাদের প্রতি তাদের হস্ত ও রসনাসমূহ প্রসারিত করবে, এবং তারা চাইবে যে তোমরাও যেন কাফির হয়ে যাও” [সূরা আল-মুমতাহানাহ: ২]
07/03/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ০৫/০৩/২০২৬
*বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে সম্পাদিত মার্কিন উপনিবেশবাদী প্রকল্পকে রুখতে, দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে
মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের ঢাকা আগমনকে ঘিরে দেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক মাস না পেরোতেই এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি মূলত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী লবিংয়ের বহিঃপ্রকাশ- যার লক্ষ্য হলো বিতর্কিত দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তি: 'জেনারেল সিকিউরিটি অফ মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট' (GSOMIA) এবং 'অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট' (ACSA) দ্রুত কার্যকর করা। এই ধরণের সফরগুলোকে নিছক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা স্রেফ ভণ্ডামি কিংবা মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তথাকথিত “রুটিন” প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো নিয়ে “দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ” গ্রহণের প্রত্যাশার কথা বলা হলেও, এই কূটনৈতিক ভাষার আড়ালে লুকিয়ে আছে দেশের সার্বভৌমত্বের উপর এক গভীর ও উদ্বেগজনক হুমকি। GSOMIA স্বাক্ষরিত হলে আমাদের সামরিক স্থাপনাগুলো বিদেশি নজরদারির আওতায় চলে যাবে, আর ACSA কার্যকর হলে দেশের ভূখণ্ডকে কার্যত একটি অঘোষিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করার পথ খুলে যাবে। এতে মার্কিন অস্ত্রের উপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেশকে কৌশলগতভাবে এক ধরনের ফাঁদে আবদ্ধ করে ফেলা হবে।
কাপুরের সফরের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য হলো, নতুন বিএনপি সরকারকে আলোচনার কোনো সুযোগ না দিয়ে অবিলম্বে এই চুক্তিগুলো সম্পাদনে বাধ্য করা। নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে, গত ৯ই ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এবং তড়িঘড়ি করে একটি সর্বনাশা বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় এখন এই সামরিক চুক্তির চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই আত্মঘাতী চুক্তি বাংলাদেশকে বেশ কিছু কঠোর শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ করে ফেলেছে। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে: “মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী” হতে পারে এমন কোনো ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি নিষিদ্ধ করা, চীন বা রাশিয়ার মতো নন-মার্কেট (non-market) অর্থনীতিভুক্ত দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের চুক্তি বাতিল করার ক্ষমতা ওয়াশিংটনকে প্রদান করা, এবং ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন এলএনজি (LNG), বোয়িং বিমান, ও কৃষিপণ্য আমদানির বাধ্যবাধকতা- যা মূলত আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে কার্যত মার্কিন কর্পোরেট স্বার্থের কাছে জিম্মি করে ফেলছে। আর একটি ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (NDA)’ বা গোপনীয়তা চুক্তির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে জনগণকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে।
তাছাড়া, কাপুরের সফরের সময়কাল ও সফরসূচিই অনেক কিছুর ইঙ্গিত দেয়। ঢাকায় আসার আগে তার নয়াদিল্লি সফর স্পষ্ট করে, ওয়াশিংটন তার ইন্দো-প্যাসিফিক ভূরাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুনভাবে সাজাতে চায়। এতে এক বিপজ্জনক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অর্থাৎ বাংলাদেশ আবারও যুক্তরাষ্ট্র-ভারত এবং চীনের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আটকা পড়তে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে হাসিনা আমলের সেই বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকিই দেখা দিচ্ছে, যখন মার্কিন-ভারতের স্বার্থ রক্ষার কারণে এই ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল।
বিএনপি সরকারকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে, তারা যেন বৃহৎ শক্তিগুলোর ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বলির পাঁঠা না হয়- যার সাথে আমাদের স্বার্থগত কোনো সম্পর্কই নেই। তাই কাপুরের সঙ্গে নিরাপত্তা–সংক্রান্ত আলোচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দূরদর্শিতা অবলম্বন করা অপরিহার্য। বিশেষ করে যখন তার এজেন্ডায় “সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা” বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, তখন সরকারকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ নিরাপত্তা সহযোগিতার নামে যেন কোনোভাবেই বিদেশি শক্তির নির্দেশনায় ইসলামী ব্যক্তিত্ব, আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দমন–পীড়নের পথ তৈরি না হয়। বিগত সরকারের সেই ভয়াবহ ভুলের পুনরাবৃত্তি অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট স্বৈরাচারে পরিণত করেছিল।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের শাসকদের এই ভ্রান্ত ধারণা পরিত্যাগ করতে হবে যে ক্ষমতায় টিকে থাকা কেবল ওয়াশিংটনের সমর্থনের উপর নির্ভরশীল। কারণ, মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী ও অনিশ্চিত: ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একজন ঊর্ধ্বতন সৌদি কর্মকর্তার বক্তব্যেও এর প্রমাণ মেলে। যিনি বলেছেন, ইসরায়েলকে রক্ষা করতে গিয়ে ওয়াশিংটন তার উপসাগরীয় মিত্রদেরও ত্যাগ করেছে যারা নিজেদের দেশে স্থায়ীভাবে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে। ইতিহাসের পাতায় বারবার এই একই সত্যের প্রমাণ পাওয়া যায়: সাদ্দাম হোসেন, হোসনি মোবারক, কিংবা বাংলাদেশের বিগত শাসকগোষ্ঠী- সকলেই মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় বিশ্বস্তভাবে কাজ করার পরেও ‘টিস্যু পেপারের’ মতো পরিত্যক্ত হয়েছে। এমনকি ইরানের নেতৃত্বও বছরের পর বছর ধরে মার্কিন কৌশলগত লক্ষ্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলার পর আজ নিজেদেরকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পাচ্ছে। সরকারকে অবশ্যই পশ্চিমা আধিপত্যবাদের হাতিয়ার বা প্রক্সি হয়ে কাজ করাকে অস্বীকৃতি জানাতে হবে- যে আধিপত্যবাদ আমাদের বোঝাতে চায়, তাদের প্রভাববলয় থেকে মুক্তি পাওয়া নাকি অসম্ভব। প্রকৃত সার্বভৌমত্বের জন্য এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা ওয়াশিংটনের রক্তচক্ষুকে নয়, বরং আল্লাহ্ ﷻ ও জনগণের আমানতকে ভয় করেন; এবং যাদের মূল শক্তি কোনো বিদেশি দূতাবাস নয়, বরং এ দেশের জনগণ। আল্লাহ্ ﷻ পবিত্র কুর‘আন-এ বলেন:
إِن يَثْقَفُوكُمْ يَكُونُوا۟ لَكُمْ أَعْدَآءًۭ وَيَبْسُطُوٓا۟ إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ وَأَلْسِنَتَهُم بِٱلسُّوٓءِ وَوَدُّوا۟ لَوْ تَكْفُرُونَ
“তোমাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারলে, তারা তোমাদের শত্রু হবে এবং অনিষ্ট সাধন করার উদ্দেশ্যে তোমাদের প্রতি তাদের হস্ত ও রসনাসমূহ প্রসারিত করবে, এবং তারা চাইবে যে তোমরাও যেন কাফির হয়ে যাও” [সূরা আল-মুমতাহানাহ: ২]
হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ-এর মিডিয়া অফিস
12/02/2026
“যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখতে চায়”- মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য জুলাই অভ্যুত্থানে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখতে চায় বলে মন্তব্য করে এদেশের জনগণের বিরুদ্ধে মার্কিনীদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ভারত যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে উদ্বিগ্ন, তখন এই রাষ্ট্রদূত আমাদের শত্রুরাষ্ট্র ভারতকে মার্কিনীদের সমর্থন ও মদদের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে। অথচ, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল ভারতের আধিপত্য থেকে মুক্তি এবং অন্যতম স্লোগাণ ছিল, “দিল্লি না ঢাকা - ঢাকা, ঢাকা”। এই বক্তব্যের মাধ্যমে এই অঞ্চলে চীনকে নিয়ন্ত্রণ ও খিলাফত ব্যবস্থার উত্থানকে ঠেকাতে মার্কিন-ভারতের কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টি পুনব্যক্ত হয়েছে মাত্র, যা আমরা, হিযবুত তাহ্রীর ধারাবাহিকভাবে সতর্ক করে আসছি। আর বাংলাদেশকে তারা এই কৌশলের জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করতে মরিয়া। নিঃসন্দেহে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এরকম বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ। অন্তবর্তী সরকারকে তার এই মন্তব্য বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ করা উচিত। আর দেশের সকল নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে মার্কিনী ও তাদের আঞ্চলিক চৌকিদার ভারতের এই হীন স্বার্থের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে, অন্যথায়, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তাই, তাদেরকে অবশ্যই পতিত হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
হে সচেতন জনগণ! ভারতের আগ্রাসন মোকাবেলায় যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব করছে তাদের জন্য এটি একটি সতর্ক বার্তা। তাদের উদ্দেশ্যে আমরা এই বিষয়টি আবারও পুনব্যক্ত করতে চাই, মার্কিনীরা তাদের আঞ্চলিক চৌকিদার ভারতকে শক্তিশালী করছে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের সামরিক জোট (QUAD)-এ ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সুতরাং, যারা ভারতের আগ্রাসন মোকাবেলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব করছে, তারা জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। প্রকৃতপক্ষে, মার্কিনীদের অনুগত রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবীরা জনগণের ভারতবিরোধী মনোভাবকে ব্যবহার করে এই অঞ্চলে উপনিবেশবাদীশক্তি মার্কিনীদের উপস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশলকে ন্যায্যতা দেয়ার অপচেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম দেশ, যাদের অধিকাংশ তরুণ। এদেশের জনশক্তি, কৌশলগত অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করে আমাদের পক্ষে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে নেতৃত্বশীল হওয়া সম্ভব, যার জন্য দরকার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশের জনগণকে হিযবুত তাহ্রীর-এর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আল্লাহ্ ﷻ বলেন,
﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَتَّخِذُوا الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَتُرِيدُونَ أَنْ تَجْعَلُوا لِلَّهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَانًا مُبِينًا﴿
“হে মু’মিনগণ! তোমরা মু’মিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা কি আল্লাহ্’র জন্য তোমাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রমাণ দিতে চাও?” [সূরা আন-নিসা : ১৪৪]।