Real bhoot
বাস্তব সব ভুতের গল্প পরতে আমাদের পেজ?
14/02/2020
So funny
29/03/2017
মাশরাফি বিন মুর্তজা (বস) কে নিয়ে কিছু কথা,
যার ঋণ বাঙ্গালী জাতী কোনো দিন শোধ করতে
পারবে না।।
ডেভ হোয়াটমোর বলেছিলেন "মাশরাফির সাথে
পৃথিবীর কোনো খেলোয়াড় এর তুলনা চলেনা, তার
তুলনা সে নিজেই"
কারন........
✬ নিউজিল্যান্ডের গতিদানব 'শেন বন্ড' দুইবার
সার্জারীর পরই ভয়ে ক্রিকেট ছেড়ে দেন...
✬ বিশ্ববিখ্যাত ইংলিশ অলরাউন্ডার 'এন্ড্রু
ফ্লিন্টফ' মাত্র
একটি সার্জারীর ভয়েই ক্রিকেট কে গুডবাই
জানিয়েছেন.....
✬ একমাত্র ক্রিকেটার যিনি পরপর ৭টা মারাত্নক
সার্জারী করেও এখনো ক্রিকেট চালিয়ে
যাচ্ছেন... বিশ্বের কোন ফার্স্ট বোলারই দুইবারের
বেশি সার্জারী করে খেলতে পারেননি কিন্তু
তিনিই এই অসাধ্য ব্যাপার সাধ্য করেছেন ।
✬ একমাত্র পরিশ্রমী ক্রিকেটার যার ওজন বেড়ে
যাচ্ছে বলে ক্রিকেট ছাড়ার আশংকা ছিল তাই
তিনি ১মাসে ১২ কেজী ওজন কমিয়ে সবাইকে
আশ্চর্য করে দিয়েছিলেন।
✬ যেকোন আঘাতে তাঁর বাম পা পঙ্গু হয়ে যেতে
পারে এমন রিস্ক থাকা সত্ত্বেও তিনিই একমাত্র
সাহসী মানব যিনি প্রতিটি ম্যাচে এখনো হিংস্র
বাঘের মত বোলিং করে যাচ্ছেন !
✬ একমাত্র ক্রিকেটার যে প্রতি ম্যাচ শেষে
হাটুতে জমে যাওয়া রস নিজে সিরিঞ্জ দিয়ে বের
করে ফেলেন।
✬ তিনিই একমাত্র দেশপ্রেমিক যার একমাত্র
আদরের ৫ মাস বয়সী ছেলে এ্যপোলো হাসপাতালে
ভর্তি হয়ে টাইফয়েডের সঙ্গে মূত্রাশয়ের সংক্রমণ
রোগে মৃত্যুর মুখো-মুখি, অথচ দেশের স্বার্থে হাজার
হাজার মাইল দূরে থেকে একমাত্র ছেলের সুস্থ্যতার
জন্য দু'হাত তুলে দোয়া করে দেশের জন্য মাঠে
নেমেছেন।
✬ তিনিই সেই ক্রিকেটার যার প্রতিদিন ঘুম ভাঙ্গার
পর ১৫মিনিট সময় লাগে হাঁটু ভাঁজ করে বিছানা
থেকে নামতে।
✬ আমাদের একমাত্র প্লেয়ার যে কিনা ইনজুরি
বিধ্বস্ত অবস্থায় বোলিং এর কষ্টকে ভুলতে
নিজেকে সান্ত্বনা দেন এই বলে "মুক্তিযোদ্ধারা
পায়ে গুলি নিয়েও যুদ্ধ করে যেতে পারলে আমি
কেনো সামান্য অপারেশন নিয়েবোলিং করতে
পারবো না।"
আমি তার দীর্ঘয়ূ কামনা করি!!
collected
welcome
পুতুলটিকে ঘরে এনে আপনি হয়তো আপনার
মৃত্যু নিশ্চিত করে ফেলবেন !
পুতুলটিকে আদর করে 'রবার্ট' ডাকা হয় ।
এটি 'Robert the haunted doll' অথবা
'Robert
the enchanted doll' নামেও সুপরিচিত । এটি একসময় key west নামক জায়গার
সম্পত্তি ছিল এবং এর মালিকের নাম ছিল
ইউগিন
অটো ।
পুতুলের ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে ,
এটি একটি অভিশপ্ত পুতুল এবং পুতুলের ভিতরে একটি শয়তান আত্না বাস করে ! এই
কুখ্যাতি পুতুলটিকে দুনিয়াজোড়া পরিচিতি
এনে দি
এই অভিশপ্ত পুতুলটি যবে থেকে ফোর্ট
ইষ্ট মার্টেল জাদুঘরে রয়েছে ,
তবে থেকেই Key west এর টুরিষ্টদের ভৌতিক অভিযানের তালিকায় পুতুলের
নামটি থাকেই ।
রবার্টের চেহারার সাথে ২০ শতকের এক
নাভাল অফিসারের মিল পাওয়া গিয়েছিল ।
পুতুলটির
চুল মানুষের চুল দিয়ে তৈরী হয়নি , এর চুল তৈরীতে ব্যবহৃত হয়েছে সিনথেটিক উল ।
ইতিহাস অনুসারে , ১৯০৬ সালে ইউগিন
কে একজন আফ্রিকান চাকর এই পুতুলটি উপহার
দেয় । চাকরটি অটো পরিবারের অর্ন্তগত
ছিল । কিন্তু চাকরটি কালো জাদু এবং ভূডু
চর্চায় পারদর্শী ছিল এবং অটো পরিবারের জন্য
সে অশান্তির কারণ হয়ে দাড়ায় ।
এজন্য তাকে বিদেয় করে দেয়া হয় ।
চাকরটি চলে যায় । কিন্তু পুতুলটি থেকে যায়
।
ঘটনার শুরু এরপর থেকেই ! শীঘ্রই অটো পরিবার টের পায় যে , পুতুলটিতে কিছু
সমস্যা আছে ! ইউগিনের বাবা মা বলতেন ,
প্রায়ই নাকি তারা পুতুলটির সাথে ইউগিন
কে কথা বলতে শুনতেন !
এবং তাদের কাছে মনে হতো , পুতুলটিও
কথা বলছে ! প্রথমদিকে তারা মনে করতেন ইউগিনই কন্ঠস্বর পালটে অন্য গলায়
কথা বলছে , কিন্তু তারা পরবর্তীতে বিশ্বাস
করতে বাধ্য হলেন আসলে পুতুলটিই
কথা বলতো !!
প্রতিবেশীরাও দাবী করেছিলেন ,
অটো পরিবার যখন বাড়িতে থাকতোনা , তখন রবার্ট মহোদয় কে বাড়ির এক
জানালা থেকে অন্য জানালায় চলাচল
করতে দেখা যেত !
অটো পরিবার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন
এবং তারা আরো যোগ করেছেন , পুতুলটির
ভিতর থেকে মাঝে মাঝে চাপা এক ধরনের হাসি বের হয়ে আসতো এবং বাড়ির এক রুম
থেকে অন্য রুমে চোখের
নিমিষে পুতুলটাকে দৌড়াতে দেখা যেত !
দুইদিন গল্প দিতে পারিনি ভূতের ভক্তদের জন্য
আজ আবার আসলাম ভয়ংকর এক গল্প নিয়ে । পড়ে জানাবেন সবাই কেমন লাগলো
#ভূতের_ভবিষ্যৎ_৬
প্রেতের প্রতিশোধ (১)
"সে অনেকদিন আগের কথা"- বলছিলেন দাদু, এক কুয়াশামোড়ানো শীতের সন্ধ্যায়, জমজমাট এক গল্পের আসরে। "তখন চলছে ব্রিটিশ আমল। ভারতবর্ষের আনাচে কানাচে বাস করছে বহু ব্রিটিশ পরিবার। বন-জঙ্গল ঘেরা পাহাড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল তারা।
এখান থেকেই বের হয়ে এসেছে অনেক জগতখ্যাত শিকারি।" "জিম করবেট?"- ফট করে বলে বসল দিপু। দাদু বললেন, "গুড। আর কারো নাম জানো?" আমরা মাথা চুলকাই। "জিম করবেট সহ আরো অনেক বাঘা বাঘা শিকারি ছিলেন। এদেশীয় একজন কিংবদন্তিতুল্য শিকারী ছিলেন। তাদের নাম জানবে- তোমাদের হোমওয়ার্ক।" এই দিপুর প্রতি মহাবিরক্ত হই আমরা। গল্পের আসর শেষেই গুগল চালাতে হবে ভেবে মেজাজ গরম হয়।
"হ্যাঁ, যা বলছিলাম।" দাদু ফিরে আসেন গল্পে। " খুব নামকরা না হলেও মাঝারি মানের এক ব্রিটিশ শিকা্রীকে নিয়ে আজকের কাহিনী।"
দাদু ধুমায়িত চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিলেন। তারপর শুরু করলেন-
" ভদ্রলোকের নাম চার্লস দা সিলভা। রেলওয়েতে কাজ করতেন, থাকতেন পাহাড়ি বনঘেরা এক গ্রামে। একদিন রাত করে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। আকাশে কৃষ্ণার দ্বাদশী চাঁদ। মৃদু আলোতে এক অপার্থিব রূপ ধারণ করেছে বনানী। অপরূপ শোভা উপভোগ করতে করতে পথ চলছিলেন, হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন পিছনের 'টক টক টক টক' শব্দে। চকিতে ঘুরে দাঁড়ালেন আর দেখতে পেলেন-
বেঁটে মত একজন লোক এগিয়ে আসছে। ভালোমত খেয়াল করে ভয়ানক আঁতকে উঠলেন তিনি।
লোকাটার সর্বাঙ্গ অস্বাভাবিক সাদা।তার চোখ বলে কিছু আছে বলে মনে হল না। চাঁদের আলোয় মুখের কাছটা এক অশুভ গহ্বরের মত দেখাচ্ছিল। পাটকাঠির মত সরু দুই পা চালিয়ে সে এগিয়ে আসছিল।
সিলভা সাহেবের ভুত-প্রেতে বিশ্বাস ছিল না কোনকালে। কিন্তু এই রাতে অজানা আগন্তকের হঠাৎ আগমনে ক্ষণিকের জন্য যেন ভেঙে গিয়েছিল তার অবিশ্বাসের বাঁধ।
সহসাই বাস্তব বিচার-বুদ্ধি ফিরে পেলেন তিনি। অনুধাবন করলেন, এ কোন ভুত-প্রেত নয়, এক অন্ধ, খোঁড়া এবং মৃত্যুপথযাত্রী এক কুষ্ঠ রোগী।
লোকটা সাহায্য চাইছিল। বেশ খানিকটা বিচলিত বোধ করলেন সিলভা। কুষ্ঠকে তিনি যমের মতই ভয় পান।
এমন সময় পাশের ঝোপে ডেকে উঠল ফেউ। ফেউ হল বাঘের সঙ্গী, শিয়াল। এ ডাকের অর্থ একটাই, আশেপাশেই বাঘ আছে - অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায়।
কুষ্ঠরোগী লোকটি এবার ব্যাকুলভাবে সাহায্য চাইতে লাগল। ভয়ানক দোটানায় পড়ে গেলেন সিলভা।
তার হাতে রাইফেল আছে বটে, কিন্তু এই লোকটাকে বাঁচাতে গিয়ে এই আলো- আঁধারিতে বাঘের মুখোমুখি হওয়া তার জন্য মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়। সিলভা ঠিক বুঝতে পারলেন, খুব কাছের কোন ঝোপের আড়ালে সন্তর্পণে তাদের দিকে নজর রাখছে বাঘটা।
কুষ্ঠরোগীকে সাহায্য করতে সায় দিল না মন। ভাবলেন, 'এ লোক এমনিতে মৃত্যুর কাছাকাছি, এর নেই কোন পরিবার-পরিজন। একে বাঁচানোর জন্যে নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়াটা বুদ্ধির কাজ না।' পরিবারের লোকজনের কথা মনে পড়তেই তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলেন।
লোকটার ধারেকাছে ঘেঁষলেন না তিনি। বরং আত্নরক্ষার জন্য সুবিধাজনক এক জায়গায় গিয়ে ঘামতে লাগলেন।
মুহূর্তগুলো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছিল। হঠাৎ ভীষণ গর্জনে ঝাঁপিয়ে পড়ল বাঘ।
শোনা গেল কুষ্ঠরোগীর শেষ অসহায় আর্তনাদ।
এ যাত্রায় বেঁচে গেলেন সিলভা।
বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে বললেন, 'বাঘের মুখোমুখি হয়েছিলাম।' ঘূণাক্ষরেও টানলেন না অসহায় কুষ্ঠরোগীর কথা। সে রাতে ঘুম হল না তার।
তার পরের রাতেও না।
এরপর থেকে অনিদ্রায় ভুগতে শুরু করলেন তিনি।
কিছুদিন পর গ্রামবাসী তার কাছে অভিযোগ জানালো, গ্রামে নাকি এক মানুষখেকো 'সাদা' বাঘের উদয় হয়েছে। তারা অনুরোধ করল, সিলভা সাহেব যেন বাঘটা মারার জন্য ব্যাবস্থা নেন।
সিলভা কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইলেন, 'সাদা বাঘ? এ অঞ্চলে তো কোন সাদা বাঘ থাকার কথা নয়!'
তার চাকর বলল, 'শুনবেন না হুজুর, লোকেদের কথা! ওরা বলছে, বাঘটার নাকি কুষ্ঠ হয়েছে।
(চলবে)
অদৃশ্য হাতঃ সংগৃহীত
ঘটনাটি আমার কাকার মুখ থেকে শোনা।
আমার কাকার
গ্রামের বাজারে একটা মুদি দোকান
আছে।
সেখানে হাটের দিন অনেক রাত পর্যন্ত বেচা
কেনা হয়। কাকা মাঝে মাঝে আসতে
আসতে
নাকি
রাত১-২ টাও বেজে যেত। কাকার
দোকানে সেলিম নামের এক কর্মচারী কাজ করতো।
সে
কথা বলতে পারতো না। মানে, বোবা
ছিল।
কাকা
তাকে খুবই আদর যত্ন করতো। সেলিমের তিনকুলে কেউ নেই। সে তার দুঃসম্পর্কের
এক
মামার বাড়িতে থাকতো। সেই লোক
মারা
যাওয়ার পর
না খেয়ে ছিল। কাকার দয়া হয়। নিজের দোকানে
তাকে কাজ দেন।
সেলিম আমার দাদু বাড়িতেই থাকতো।
কাকার সাথেই
রাতে বাজার থেকে ফিরত। কাকা
প্রায়ই বলতেন,
সেলিম ছেলেটাকে দেখে উনার
মাঝে
মাঝে
সন্দেহ হয়। উনি নাকি অনেকদিনই
শুনেছেন গভীর রাতে সেলিমের ঘর থেকে
কথাবার্তার
আওয়াজ পাওয়া যায়(এমনকি কাকিমা
নিজেও শুনেছেন)।
কিন্তু সেলিম নিজে বোবা। তার কথা
বলার প্রশ্নই
আসে না।
একরাতে কাকা অনেক দেরি করে
বাসায়
ফিরছিলেন।
সেদিন হাটবার ছিল তাই বাজারে লোকজনও
ছিল
বেশি। তাই দোকান বন্ধ করতে করতে
সময়ও
লাগে বেশি। কাকা বাড়ির পথ ধরেন
রাত ১টার কিছু
পরে। সাথে সেলিম। আগামীকাল
বাসায়
মেহমান
আসার কথা তাই কাকা হাত থেকে বড়সড়
৪টা মুরগি
কিনে রেখেছিলেন। সেলিমের হাতে
মুরগিগুল।
কাকার হাতে পান-সুপারি।
চাঁদের আলোয় চারপাশ ভালোই ঝলমল
করছিলো। কাকা আনমনেই সেলিমের সাথে
কথা
বলছিলেন। দোকানে আজ কেমন
বেচাকেনা
হল
সে সব নিয়ে। সেলিম মাথা নিচু করে শুনছে
আর
পাশাপাশি হাঁটছে। বাজার থেকে
প্রায়
২০০-৩০০
হাত আসার পর রাস্তাটা বামে মোড় নিয়েছে
অনেকটুকু। কাকা কথা বলতে বলতে
আনমনেই
এগুচ্ছিলেন, হটাত দেখতে পেলেন
সামনে
গাছের আড়ালে কি যেনও নড়ে উঠলো। এখানে বলে রাখা দরকার, আকাশে
বিরাট
চাঁদ
ছিল, এবং এমনকি রাস্তার
সাদাবালিগুলোতে চাঁদের
আলো পরে চিকচিক করছিলো। পরিষ্কার দেখা
যাচ্ছিল চারপাশ। কাকা পাত্তা না
দিয়ে
এগুতে লাগলেন।
কিন্তু সেলিম থমকে দাঁড়ালো। চোখ মুখ
কুঁচকে কি যেনও দেখার চেষ্টা করলো। নাক দিয়ে ছোক ছোক করে কিসের
যেনও
গন্ধ নেয়ার চেষ্টা করলো। কাকা
সেলিমের
মধ্যে এমন ভাব আগে দেখেননি কখনো।
তিনি একটু বিরক্ত হলেন। তাড়া লাগালেন
জলদি
যাওয়ার
জন্য। কাকা পা বাড়ালেও সেলিম
দাঁড়িয়ে
রইলো। কাকা আবার পিছনে ঘুরে তাড়া লাগালে সে
দৌড়ে এসে কাকার হাত ধরে জোর করে
টেনে
পিছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়।
কাকা
বিরক্ত হয়ে হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলেন। কিন্তু
সেলিমের গায়ে
যেনও অসুরের শক্তি। সে কাকাকে প্রায়
টেনে
নিয়ে চলতে লাগলো বাজারের দিকে।
এইবার কাকা স্পষ্ট শুনলেন পেছন থেকে কে যেনও
উনার
এবং সেলিমের নাম ধরে জোরে
চিৎকার
করলো।
আওয়াজটা তিনবার শোনা গেলো। অপার্থিব সেই
আওয়াজ যেনও কাকার কানটা তালা
লাগিয়ে দিলো।
বিমুরের মতো চেয়ে রইলেন রাস্তার
দিকে।
কিভাবে যেনও উনার মনে এই শব্দগুলো আঘাত
করলো। এ কোনও মানুষের আওয়াজ হতে
পারে
না। হতে পারে না কোনও পশুর আওয়াজ।
তাহলে?
তাহলে, যা তিনি জীবনে বিশ্বাস করেননি,
তাই কি
হতে যাচ্ছে? এ কি ভূত প্রেত কিছুর
পাল্লায়
পড়লেন তিনি।
এদিকে সেলিম প্রায় বগলদাবা করে উনাকে
দৌড়ে
নিয়ে যেতে লাগলো বাজারের
দিকে।
সেলিমের হাত থেকে মুরগিগুলো পড়ে
গিয়েছিলো। কাকা শেষবার যখন একবার পিছনে
ফিরলেন তখন দেখলেন সেই মুরগিগুলো
যেনও অদৃশ্য কোনও হাতের ছোঁওয়ায়
সেই মোড়ের দিকে যেতে লাগলো।
সেইরাত কাকারা বাজারেই কাটিয়ে
দিলেন। সকালে ফেরার পথে আরো কিছু লোক নিয়ে
উনারা
দেখতে চললেন মোড়ের সেখানে
আসলে
কি হয়েছে। উনারা যেই মোড়টার
কাছাকাছি পৌঁছলেন তখন দেখলেন সেখানে
রাস্তার
উপর একটা বর্গের মতো আকৃতি বানিয়ে
৪টা
মুরগির
মাথা সাজানো। আর কিছুটা দূরে সেই মাথা
ছাড়া
দেহগুলো পড়ে আছে।
এই ঘটনা কাকার সাথে উপস্থিত বাকি
সবাইও
দেখে। বাসায় ফেরার পর কাকা এবং সেলিম
দুজনই
অসুস্থ
হয়ে পড়ে। সেলিমের প্রায় ১৫ দিন জ্বর
থাকে।
সে এই জ্বরের ঘোরে কার সাথে যেনও মনে
মনে কথা বলত। সেই ব্যাপারে কেউ আজ
পর্যন্ত
জানতে পারে নি।..................।।
রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর ভূতের
গল্প : অতৃপ্ত আত্মার কাণ্ড! অনেকেই বিশ্বাস করেন আমাদের চারপাশে সবসময়ই অতৃপ্ত আত্মারা ঘুরেফিরে বেড়ান। আমরা কখনও তাদের অস্তিত্ব টের পাই, আবার কখনও পাই না। জাপানের এমনই পাঁচ অতৃপ্তআত্মার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের কথা শোনা যায়যা সত্যিই ভয়ংকর। এই পাঁচ অতৃপ্ত আত্মার কথাই এখানে বলা হলো: ওকিকু পুতুল: ছোট্ট মেয়েটির নাম ওকিকু। ঘটনাটা অনেক বছর আগের। মেয়েটির একটি সুন্দর পুতুল ছিল যার পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী পোশাক আরমাথায় ছোট চুল। ওকিকুর সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিল পুতুলটি। একদিন ঠাণ্ডাজনিত অসুখে পড়ে মারা যায় মেয়েটি। কিছুদিন পর ঘটলো আশ্চর্যজনক ঘটনা। পুতুলটির চুল আগের চেয়ে লম্বা হয়ে গেছে। সবাই ধরে নিল ওকিকুর আত্মা ঢুকে গেছে এই পুতুলটির মাঝে। এরপর থেকেই পুতুলটিকে রেখে দেওয়া হলো মানেঞ্জি মন্দিরে। কুচিসাকে ওন্না: অপঘাতে মারা গিয়েছিল কুচিসাকে ওন্না। জীবিত অবস্থায় তার মুখে গভীর এক কাটা দাগ ছিল যা নিয়ে তার ভেতর গভীর দুঃখবোধ ছিল। মৃত্যুর পর ওন্নার অতৃপ্ত আত্মা প্রচণ্ড ক্রোধ নিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় আর কাইকে দেখলেই প্রশ্ন করে, আমি কি দেখতে সুন্দর? ট্রেঞ্চ কোট ও সার্জিকাল মাস্কে ঢাকা মুখ দেখে পথিক যদি তাকে সুন্দর বলে তবে ওন্না তার মুখ কেটে দাগ ফেলে দেয়। করে দিবে। আর কেউ যদি তাকে অসুন্দর বলে তাহলে তাকে মাথাটাই হারাতে হয়। হিতোবাশিরা: জাপানে প্রচলিত প্রাচীন কিছু ধারণার একটি হলো, বিভিন্ন স্থাপনায় মানুষ ব্যবহার করলে স্রষ্টা খুশি হন এবং স্থাপনা দীর্ঘস্থায়ী হয়। এভাবে বিভিন্ন স্থাপনায় কত শত নারী, পুরুষ ও বাচ্চাকে বলি দেওয়া হয়েছে তার ইয়াত্তা নেই। বলি দেওয়া এই সকল মানুষের আত্মা আজও পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। গার্ল ফ্রম দ্য গ্যাপ: এই আত্মা ঘরের কোনায় কোনায় লুকিয়ে থাকে। ঘরের লোকজন কারো যদি চোখাচোখি হয় তাকে সম্মোহন করে ফেলে। লুকোচুরি খেলার আমন্ত্রণ জানায়। এতে সায় দিলেই বিপদ। অজানা এক স্থানে নিয়ে যাবে যেখান থেকে ফিরে আসা যায় না। টিক টিক: এটা সুন্দরী এক নারীর অতৃপ্ত আত্মা। অনেক অনেক আগে ট্রেনে কাটা পড়ে মাঝ বরাবর কাটা পড়ে। এরপর থেকে নিচের অংশ খুঁজে না পেয়ে দুই হাতে ভর দিয়ে হাঁটে। হাঁটার সময় টিক টিক টিক আওয়াজ হয়। গভীর রাতে পথিমধ্যে কাউকে পেলে তারও একই হাল
করে সে।
দুর্বল চিত্তের মানুষরা এই পোস্ট টি
পড়বেন
না ।
বাকী সবার কাছে আকুল আবেদন
গল্পটি পড়ে প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করার...
গল্পের নামঃ ভয়ংকর সেই রাত... মুন্নি একা একা কখনো কোথাও যায় নি ।
একা একা এবার সে কক্স বাজার এসেছে ।
তার অফিসের বসের সাথে । অফিসের বস
আসিফ সাহেব মুন্নিকে অফার করেছেন
যে যদি তার সাথে কক্স বাজার
মিটিং করতে যায় তাহলে নিলার প্রমশান দেয়া হবে ।
আর যদি না যায় তাহলে চাকরি থেকে
ছাঁটাই
করে দেয়া হবে । মুন্নি বাধ্য হয়ে আসিফ
সাহেবের সাথে কক্স বাজার এসেছে ।
আসার সময় লোকটা বিশ্রি ভাবে তার গাঁয়ের
সাথে লেপটে বসে ছিল ।
মুন্নির একদম বমি বমি লাগছিল ।
আসলে বসের উদ্দেশ্য ভালো না । সুযোগ
পেলেই বস তার সাথে খারাপ ব্যাবহার
করেন । যেমন ঐ দিন ছুটির পর খালি অফিসে নিজের রুমে ডেকে এনে বস
মুন্নির সাথে নোংরা ইঙ্গিত করেছেন ।
মুন্নি হতবাক হয়ে আসিফ সাহেবের
দিকে তাকিয়েছিল কিছুক্ষণ ।
কি ভাবে পারে লোকটা? বাবার
বয়সী একটা মানুষ কীভাবে তার মেয়ের বয়সী মেয়ের সাথে...? ছিঃ
মুন্নি কক্সবাজার হোটেলে এসে রুমে গেল ।
তারপর আসিফ সাহেব কে জিজ্ঞেস করল,
- স্যার মিটিং কখন হবে?
- মিটিং হবে রাতে
- ওকে স্যার আপনার রুম কোনটা - আমার রুম? আমার রুম আপাদত এটাই?
- মানে স্যার ? রাতে আমি কোথায় থাকব?
- রাতে আমরা মিটিং করতে যাব ।
যেখানে যাব সেখানেই থাকব
এই বলে আসিফ সাহেব তার গা থেকে শার্ট
খুলে প্যান্ট বদলিয়ে লুঙ্গি পড়লেন । কাজ গুলো তিনি এমন ভাবে করলেন যেন
তিনি মুন্নি কে কোন কিছুর আহ্বান করছেন
।
আসির সাহেব মুন্নির হুট করেই হাত
ধরে ফেলল ।
মুন্নি হ্যাঁচকা টানে নিজেকে সড়াল । তারপর রাগে ফুঁসফুঁস করতে বলল,
- আমি এখনই ঢাকা ফিরে যাব । আপনি
আমার
চাকরি নট করে দিন । আমার
চাকরি লাগবে না
মুন্নির এমন ব্যবহারে আসিফ সাহেব কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন ।
তারপর
হাত জোর করে মুন্নির পায়ে পড়ার
ভঙ্গি করে বললেন,
- আমি সরি মুন্নি । আমাকে মাফ করে দেও
প্লীজ । আর এমন হবে না । মীটিং টা খুব গুরুত্বপূর্ণ
মুন্নি নিজেকে সামলাল । তারপর
বারান্দায়
গিয়ে বসে রইল ।
রাতের বেলা গাড়ি করে আসিফ সাহেব
মুন্নিকে একটা জঙ্গলের ভেতর একটা পুরানো বাড়িতে নিয়ে গেলেন ।
মুন্নি ভয়ে ভয়ে বলল,
- আসিফ স্যার আপনি আমাকে এটা কোথায়
নিয়ে আসলেন?
- হা হা । ভয় পাচ্ছ? এটা মীটিং করার
যায়গা আসো তোমাকে দেখাচ্ছি মুন্নি ঘরে ঢুকে অবাক হয়ে গেল ।
সেখানে আরও তিন জন লোক আছে । তাদের
পড়নে স্যুট ।
আসিফ সাহেব তাদের চোখের ইশারা
দিতেই
সবাই গোল হয়ে গেল মীটিং করতে । তারপর
মীটিং এক পর্যায়ে জোর করে চার জন
মিলে মুন্নিকে বেহুঁশ করে ফেলল ।
বেহুঁশ করে পালা ক্রমে যখন মুন্নিকে ভোগ
করবে ওরা চার জন । তখন শোনা গেল
ছাদের উপর কে যেন হাঁটছে । নুপুর পায়ে হাঁটছে ।
ঝুন ঝুন নূপুরের শব্দ হচ্ছে ।
তাদের দুইজন গেল ছাদে কাউকে পেল না ।
ফিরে আসতেই বাথরুমে পানির শব্দ
শোনা গেল । একই সাথে সিঁড়িতে হাঁটার
ধপ ধপ শব্দ শোনা গেল ।
আসিফ ও বাকীরা ভয় পেয়ে গেল ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই কারেন্ট চলে গেল । সব
অন্ধকার । বিড়াল ডাকার শব্দ শোনা গেল
।
মিউ মিউ । তারপর কেমন কচকচ শব্দ হল । কি যেন কে খাচ্ছে ।
আসিফ তার মোবাইলের টর্চ লাইট অন
করতেই
দেখল । কালো লম্বা চুলের
একটা বিশ্রি মহিলা জন্তুর মত মুখ মুন্নির
মুখে কামড়িয়ে কামড়িয়ে মাংস খাচ্ছে । আরমান ভয়ে তার মোবাইল ফেলে দৌর
দিতে গিয়ে দেখল তার পেছনে তার কোন
বন্ধু
নেই । সে একা ।
আসিফ রুম থেকে বের হবার জন্য দরজার
কাছে গেল । দরজা বাইরে থেকে তালা দেয়া । আসিফ
দরজা ধাক্কা দিতে লাগল । দরজা খুলে না
।
বাধ্য হয়ে বারন্দা দিয়ে লাফ দিল সে ।
মাটিতে পড়ে গিয়ে আসিফ এর পা ভেঙ্গে
গেল একটা । আসিফ মাথা ঘুরিয়ে দেখল ছাদের
রেলিঙে মুন্নি পা ঝুলিয়ে বসে আছে । ওর
একটা চোখ কে যেন খুঁচিয়ে বের
করে ফেলেছে । চোখটা মুখ
থেকে উপড়ে উঠে এসে নাকের কাছে ঝুলছে
। আসিফ ভাঙ্গা পা নিয়ে দৌড়ানো আরম্ভ করল
।
তার পেছনে কি যেন হেঁটে হেঁটে আসছে ।
বাচ্চা হাসছে । আসিফ
কিছুটা দৌড়ে এসে দেখল তার তিন বন্ধু
পাশাপাশি বসে আছে । আসিফ তাদের কাছে দৌড়ে গেল । বন্ধুর
কাছে যেতেই দেখল । কে যেন সব বন্ধুদের
বুকে রড ঢুকিয়ে বসিয়ে রেখেছে । আরমান
আবার দৌড়ানো শুরু করল ।
দৌড়িয়ে শেষে আবার সেই পুরানো
বাড়িটার সামনে এসে দাঁড়াল ।
তারপর দৌড়ে আবার রুমে ঢুকল ।
রুমে ঢুকে অবাক হয়ে গেল । সেখানে
মুন্নির
লাশটা নেই । কি যেন
চেটেপুটে খেয়ে ফেলেছে লাশটা । এমন সময়
কারেন্ট চলে আসল আসিফ
চারপাশে তাকিয়ে দেখল সব স্বাভাবিক ।
এমন সময় আসিফকে পেছন থেকে কে যেন
ঘাড়ে হাত রাখল । আসিফ পেছনে তাকাতেই
দেখল একটা জন্তুর মত কি যেন তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে । আরমান কিছু বলার
আগেই জন্তুটা আসিফর
মুখটা কামড়ে ঘাড়টা মটকিয়ে গিলে ফেলল
।
তারপর সেই ভয়ংকর
বস্তুটা জানালা দিয়ে লাফ দিল । কারেন্ট চলে গেল সাথে সাথে ।
অন্ধকারে ডেকে গেল ভয়ংকর সেই রাত...
ভয়ংকর সেই রাত..
ভয়ংকর ভূত পিচ্চি হান্নু
যে মেয়েটার সাথে আমার প্রেম ছিলো তার
সাথে সকাল-দুপুর-বিকাল-সন্ধ্যা-রাত-
গভীর রাত ফোনে গুজুরগুজুর ফুসুরফুসুর করেছি
আট বছর। পরিমিত ব্যয়ে গভীর রাতে যখন
আমরা দু'জন অপ্রয়োজনীয় আলাপ করতাম তখন প্রায়ই মেয়েটা কথার মাঝে বলতো - ভয়
করছে। নিঝুম রাতে বাসার সবাই ঘুমিয়ে,
একা অন্ধকার রুমে মেয়েটার ভয় পাওয়াটা
খুবই স্বাভাবিক। তবে আমি যথাসাধ্য
চেষ্টা করতাম সে যেন আরো ভয় পায়, শেষে
তার ভয় বাড়াবার জন্য তাকে ভূতের গল্প শোনাতাম। এমনই কপাল, আমার ভয়ংকর
ভয়ংকর সব ভূতের শুনে সে মজা পেত।
এমনকি মাঝে মাঝে ভয় না পেলেও দুষ্টুমি
মাখা আদুরে গলায় বলতো - অনেক ভয়
লাগছে, ভুতের গল্প শোনাও।
সে ছিলো আট বছর আগের কথা, এখন সে আমার সাথে একই রুমে থাকে তবুও প্রায়ই
ভুতের গল্প শোনার বায়না করে, আমি ঠিক
করেছি গল্পগুলো লিখে রাখবো এবং সে
রাতদুপুরে ভুতের গল্প শোনার আব্দার করলে
ব্লগ খুলে তাকে বসিয়ে দিবো। ভয়ংকর ভূত পিচ্চি হান্নু অনেক অনেক বছর আগের কথা, একদেশে এক
গ্রাম ছিলো সেই গ্রামে অনেক মানুষ
থাকতো। বড়রা হাটে মাঠে কাজ করতো আর
ছোটরা স্কুলে যেত। সেই গ্রামের এক
প্রান্তে অনেকগুলো বাঁশঝাড় ছিলো সেই
বাঁশঝাড়গুলোর ভেতর অনেক পুরনো এক তেঁতুল গাছ ছিলো, তেঁতুল গাছটা এতই প্রকান্ড
ছিলো যে দিনের বেলাতেও জায়গা
অন্ধকার করে রাখতো। এই তেঁতুল গাছটা
নিয়ে গ্রামে অনেক ভয়ংকর ভয়ংকর সব গল্প
ছিলো, গ্রামের সবার ধারনা তেঁতুল
গাছটাতে ভূত আছে তাই গ্রামের লোকেরা সেই দিকটা দিনের বেলাতেও যেতে সাহস
পেত না। সেই গ্রামে পল্টু নামের এক ছেলে থাকতো,
পল্টু ক্লাস ফাইভ এ পড়ে, তার গায়ের রং
শ্যামলা, হাত-পাগুলো লিকলিকে এবং
চুলগুলো ছিলো পাখির বাসার মত। পল্টুর
মা ছিলো না এমনকি পল্টুর কোন ভাই বোনও
ছিলো না, ওর বাবা ছিলো কৃষক তারা একটা মাটির বাড়িতে থাকতো। পল্টু রোজ হেঁটে
স্কুলে যেত, স্কুলে যাবার পথে দুরে তেঁতুল
গাছটা দেখা যেত, গাছটা প্রায়ই বাতাসে
অদ্ভুত রকম দুলতো। সেই দুলুনি দেখে পল্টুর
অতদুর থেকেই ভয় ভয় লাগতো। অনেক
বাচ্চাই ভয়ে সেদিকে তাকাতোও না। পল্টুকে সেদিক থেকে সাহসী বলা যেতে
পারে। একদিন পল্টু স্কুলে হোমওয়ার্ক করেনি বলে
তার টিচার পুরোটা ক্লাস বেঞ্চের উপর
দাড় করিয়ে রেখেছিলো। পল্টুর কি দোষ!
সে তো সকালে হোমওয়ার্ক করতে বসেছিলো,
তখন তার বাবা বললো - যা চুলগুলো
কামারুর সেলুন থেকে কাটিয়ে আয়। কামারু নাপিতের পুরো নাম কামারুজ্জামান, এই
ব্যাটা নাপিত না হয়ে কামার হলে মনে
হয় নামকরন সার্থক হতো, কামার-
উজ্জামান থেকে কামার। কামারু দেখতে
খুবই নোংরা, মুখ থেকে সারাক্ষন ভকভক
করে বিড়ির গন্ধ বের হয়, দাঁতগুলো হলুদ। বেটার দোকানে বাচ্চারা কখনো চুল
কাটাতে চায় না, কারন সে বাচ্চাদের
পেলে চুলগুলো এতই ছোট করে দেয় যে দুর
থেকে মনে হয় মাথা টাক বেল। খুব কাছে
আসলে তখন বোঝা যায় যে মাথায় ছোট ছোট
চুল আছে। যে সব বাচ্চারা কামারুর দোকানে চুল কাটায় তাদেরকে অন্যান্য
বাচ্চারা কয়েকদিন ধরে 'নাইড়া মাথা
চাইড় আনা, চাবি দিলে ঘুরে না' বলে
খেপায়। তার উপর কামারুর দোকানের
চিরুনিগুলোও বেশ ময়লা দেখলেই গা
ঘিনঘিন করে। তবে তার সেলুনের নামটা বেশ বাহারী 'গুলবাহার হেয়ার ড্রেসার'।
সেই গুলবাহার হেয়ার ড্রেসারে চুল
কাটাতে হবে শুনে পল্টু হোমওয়ার্ক না
করেই তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বের
হয়েছিলো আজ। যদিও বেঞ্চের উপর
দাড়িয়ে থাকতে তার খুব একটা খারাপ লাগছিলো না। দুপুর বারটায় স্কুল শেষে সবাই যার যার
বাড়ি গেলো, পল্টু বাড়ির পথে হাঁটতে
হাঁটতে ভাবছিলো বাসায় ফিরলে তো সেই
কামারুর সেলুনে যেতে হবে চুল কাটাতে,
বাজারে অবশ্য আরো কয়েকটা নাপিতের
দোকান আছে তবে সেগুলো একটু দুরে বলে বাবা সবসময় 'গুলবাহার হেয়ার ড্রেসার'
এ নিয়ে যায়। নাহ, সে কিছুতেই কামারুর
দোকানে চুল কাটাবে না, বন্ধুরা তাকে
'নাইড়া মাথা চাইর আনা, চাবি দিলে ঘুড়ে
না' বলে খেপাবে এটা সে কিছুতেই হতে
দিবে না। কোন মতে আজকের দুপুরটা পার করতে পারলেই আর চিন্তা নেই বিকেল হয়ে
গেলে বাবা আর চুল কাটার কথা বলবে না।
কিন্তু দুপুরটা কোথায় লুকিয়ে পার করবে?
এই সব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ সে দেখলো
দুরে তার বাবা রাস্তা দিয়ে আসছে, এটা
দেখেই পল্টু কোন দিকে না তাকিয়ে এক দৌড় দিলো, সে খেয়ালও করলো না যে সে
তেঁতুল গাছটার দিকে দৌড়াচ্ছে। বাঁশ ঝাড় পার হয়ে একটা গাছের তলায়
এসে থেমে সে হাঁপাতে হাঁপাতে হঠাৎ
খেয়াল করলো
সে তেঁতুল গাছটার নিচে দাড়িয়ে আছে। গা
ছমছমে সেই নিস্তব্ধ গাছের নিচে
দাড়িয়ে পল্টু খুবই ভয় পেলো, সে একপা একপা করে সেখান থেকে যেই পালাতে
যাবে তখনই গাছটার উপর থেকে নাকি
কণ্ঠে কেউ কথা বলে উঠলো -
- কেঁ রেঁ তুঁই?
পল্টু কিছুতেই উপরে তাকাবে না চিন্তা
করেও উপরে তাকালো, সেখানে আধো আলো আধো ছায়াতে সে শুধু একটা চিকন ডালে
বসা বাচ্চাদের মত ছোট ছোট এক জোড়া পা
দেখতে পেল। পল্টু যেই দৌড় দিবে তখনি
ডাল থেকে একটা ভূতের বাচ্চা শুকনো
পাতার মত উড়ে পল্টুর সামনে নেমে এলো।
পিচ্চিটার গায়ের রং হালকা বেগুনী, মাথায় ললিপপের মত দু'টো শিং সেগুলো
মনে হচ্ছে স্প্রিং দিয়ে বসানো একটু পরপর
সেগুলো তিড়িংবিড়িং করে নড়ছে। পল্টুর
সামনে এসে সে আবারো বললো-
- কেঁ রেঁ তুঁই! তোঁর নাঁম কিঁ?
পল্টু ভয়ে তোতলাতে তোতলাতে বললো- - ইয়ে.... মানে.... আমি কিছু করিনি।
পল্টুর ভয় দেখে ভূতের বাচ্চাটা ফিক করে
হেসে দিলো, সে কি প্রশ্ন করলো আর এই
ছেলে কি উত্তর দেয়! তার মানে সে ভয়
দেখাতে পেরেছে।
ভূতের বাচ্চাটার হাসি দেখে পল্টুরও বেশ হাসি পেল কারন ভূতের বাচ্চাটার
সামনের নিচের দুটো দাঁত নেই।
ভূতের বাচ্চাটা এবার বেশ মন খারাপ করে
ঠোঁট ফুলিয়ে বলে উঠলো-
- আঁমাঁকেঁ দেঁখে তুঁমি হাঁসঁছো! এঁজঁন্যই কেঁউ
আঁমাঁকে পঁছঁন্দ কঁরে নাঁ। আঁমি নাঁকি ভূঁত হঁবাঁর যোঁগ্যঁই নঁই। এঁই দেঁখো নাঁ সঁবাঁই
ভঁরদুঁপুঁরে বিঁলে গেঁছে মৃঁগেঁল মাঁছের কাঁটা
চাঁবাঁতে আঁমাঁকে কেঁউ নেঁয় নিঁ, আঁমাঁকে কেঁউ
পঁছঁন্দ কঁরে নাঁ।
পল্টুর এবার মন খারাপ হলো। আহারে
বেচারা মৃগেল মাছের কাটা না পেয়ে কতই না কষ্টে আছে! সে এবার সাহস নিয়ে বললো
-
- আমার নাম পল্টু। আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি,
রোল নাম্বার ১৯। তোমার নাম কি?
সাথে সাথে ভূতের বাচ্চাটা বললো-
- আঁমাঁর নাঁম হাঁন্নু, আঁমি সাঁইঁজে ছোঁট তোঁ তাঁই সঁবাঁই আঁমাঁকে পিঁচ্চি হাঁন্নু বঁলে
ডাঁকে। আঁমি তোঁ স্কুঁলে পঁড়ি নাঁ তঁবে আঁমি
অঁনেঁক কিঁছু পাঁরি। ভূঁতদেঁর অঁনেঁক কিঁছু
জাঁনঁতে হঁয়।
- কি কি জানো তুমি?
- এঁই যেঁমন ধঁরো উঁড়তে জাঁনি, ইঁচ্ছে কঁরলে অঁদৃশ্য হঁয়ে যেঁতে পাঁরি, পাঁনির নিঁচে
যঁতক্ষঁন খুঁশি থাঁকতে পাঁরি।
- ও আচ্ছা।
- কিঁন্তু তুঁমি এঁই ভঁরদুঁপুরে এঁখাঁনে কিঁ
কঁরছিঁলে?
- আমি তো কিছুক্ষন লুকিয়ে থাকতে এসেছিলাম। সরি তোমার গাছের কাছে
এসে তোমাকে বিরক্ত করলাম।
- আঁরে সেঁটা কোঁন সঁমস্যা নাঁ। কিঁন্তু তুঁমি
লুঁকিয়ে থাঁকতে এঁসেছো কেঁন?
পল্টু তখন পিচ্চি হান্নুকে পুরো ঘটনা খুলে
বলে। সব শুনে পিচ্চি হান্নু আবারো ফোকলা দাঁতে
হাসি দিয়ে বললো -
- আঁমাঁর তোঁ চুঁলঁই নেঁই তাঁই চুঁল কাঁটাঁবাঁর
ভঁয়ে আঁমাঁকে লুঁকাঁতে হঁয় নাঁ... হিঁ হিঁ হিঁ।
তঁবে তুঁমি যঁদি চাঁও তোঁমাঁকে আঁমি সাঁহাঁয্য
কঁরঁতে পাঁরি, আঁমি কাঁমাঁরু নাঁপিঁতকে ভঁয় দেঁখাঁতে পাঁরি যাঁতে সেঁ আঁর কঁখঁনো
বাঁচ্চাদেঁর চুঁল নাঁ কাঁটাঁতে পাঁরে। কিঁন্তু
তাঁর আঁগে তোঁমাঁকে আঁমাঁর দোঁস্তো হঁতে হঁবে,
আঁমাঁর তোঁ কোঁন দোঁস্তো নেঁই তাঁই সঁব সঁমঁয়
আঁমাঁর মঁন খাঁরাঁপ থাঁকে।
- ঠিক আছে তাহলে আমরা দু'জন বন্ধু হলাম। - উঁহু, বঁন্ধু নাঁ। দোঁস্তো।
- আচ্ছা ঠিক আছে দোস্তো।
এরপর পল্টু আর পিচ্চি হান্নু ফিসফিস করে
কিভাবে কামারু নাপিতকে শায়েস্তা
করবে সেই মহাপরিকল্পনা করলো। বাঁশঝাড় থেকে বেড়িয়ে পল্টু ভালো ছেলের
মত বাসায় ফিরলো, বাবা বাসাতেই ছিলো,
পল্টুকে দেখে বললো -
- এতক্ষন কোথায় ছিলিরে? চল গোসল করে
খেয়ে নে, আমি আবার মাঠে যাবো।
পল্টু উদাস গলায় মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো-
- বাবা সকালে যে চুল কাটাবার কথা
বলছিলে তখন তো স্কুলের সময় হয়ে
গিয়েছিলো তাই যেতে পারিনি, এখন গিয়ে
কাটিয়ে আসি তারপর গোসল করে খেয়ে
নিবো। বাবা ভাবলেন, বাহ! পল্টু তো লক্ষীছেলে
হয়ে গেছে!
বাবা পল্টুকে নিয়ে গুলবাহার হেয়ার
ড্রেসারে দিয়ে আবার মাঠের কাজে চলে
গেল, যাবার আগে পল্টুকে লক্ষী ছেলের মত
চুল কাটিয়ে বাসায় ফিরে গোসল করে ভাত খেয়ে পড়তে বসতে বলে গেল।
কেউ খেয়াল করলো না পল্টুর সাথে পিচ্চি
হান্নু নামের ভূতের বাচ্চাটাও আছে, সে
অনেক আগে থেকেই অদৃশ্য হয়ে পল্টুর সাথে
সাথে হাঁটছে।
কামারুর সেলুন একেবারে ফাঁকা, পল্টুকে দেখে কামারু নাপিত তার সবক'টা হলুদ
দাঁত বের করে কাঁচি আর ময়লা চিরুনী
হাতে কাছে ডাকলো। পল্টু ভদ্র ছেলের মত
উদাস মুখে চেয়ারে গিয়ে বসলো।
কামারু যেই পল্টুর চুলে চিরুনী চালাবে
তখনি চিরুনীটা তার হাত থেকে ছুটে গিয়ে কামারুর মাথায় ঠাস ঠাস করে কয়েকটা
বাড়ি দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলো। কামারু
ভড়কে গিয়ে 'ওরে বাপরে!' বলে চিৎকার
দিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো। শুধু
পল্টু বুঝলো তার দোস্তো পিচ্চি হান্নু 'কাজ'
শুরু করে দিয়েছে। কামারু ভয়ে ভয়ে চিরুনীটা যেই ধরতে
গেলো অমনি একটা কাঁচি ঘচাং ঘচাং করে
কামারুর মাথার সামনের কিছু চুল কেটে
দিলো। কামারু এবার ভয় পেয়ে কাঁপা কাঁপা
গলায় বলে উঠলো-
- এ সব কি হচ্ছে! এ সব কি হচ্ছে!! পিচ্চি হান্নু তখন অদৃশ্য থেকে বললো-
- হিঁ হিঁ হিঁ ... এঁই ব্যাঁটা কাঁমাঁরু! তোঁর চুঁল
দাঁড়ি সঁব আঁজ শেঁভিং জেঁল মাঁখিয়ে চেঁছে
নিঁবো... হিঁ হিঁ হিঁ !!!
কামারু ভয়ার্ত গলায় পল্টুর দিকে তাকিয়ে
বললো- - কে কথা বলছে!!
পল্টু হাই তুলতে তুলতে বললো-
- কই চাচা ! কে আবার কথা বলে!! আমি তো
কিছুই শুনছি না।
পিচ্চি হান্নু আবারো বলে উঠলো-
- তুঁই বাঁচ্চাদেঁর পেঁলেঁই চুঁল এঁকেবাঁরে ছোঁট ছোঁট কঁরে দিঁস! আঁজ তোঁর মাঁথা টাঁকবেঁল কঁরে
'টাঁকডুঁম টাঁকডুঁম বাঁজাই' গাঁন কঁরবোঁ আঁর তোঁর
মাঁথাঁয় ঢোঁল বাঁজাঁবো।
কামারু এবার প্রচন্ড ভয় পেলো। সে কাতর
গলায় হাঁটু গেড়ে বললো-
- আমি আর বাচ্চাদের চুল ছোট করবো না। তুমি যা বলবে আমি তাই করবো শুধু আমার
মাথায় ঢোল বাজিও না তাহলে একেবারে
মারা যাবো।
- তাঁহলে শোঁন, এঁই যেঁ বাঁচ্চাঁটা বঁসে আঁছে
চুঁল কাঁটাবাঁর জঁন্য তাঁর চুঁল সুঁন্দর কঁরে
কেঁটে দেঁ, যঁদি পাঁরিস তঁবে 'রাঁহুল ছাঁট' দিঁস, আঁর এঁটাই তোঁর জীঁবনেঁর শেঁষ চুঁল কাঁটা
এরঁপর থেঁকে তুঁই কাঁমাঁরের কাঁজ কঁরবি।
ব্যাঁটা কাঁমাঁর-উঁজ-জাঁমাঁন কাঁল থেঁকে তুঁই
সঁত্যিকাঁরের কাঁমাঁর হঁবি, মাঁটির হাঁড়ি
পাঁতিল বেঁচবি। কামারু নাপিত পিচ্চি হান্নুর কথা মত
পল্টুকে সুন্দর করে চুল ছেটে দিলো, এরপর
নাকে খত দিয়ে তার দোকানের সমস্ত কিছু
বিক্রি করে মাটির হাড়ি পাতিলের
দোকান দিলো। এরপর থেকে তার নাম হয়ে
গেল 'কামারুকামার'। আর কেউ কখনো জানতেও পারলো না পল্টুর
একটা নতুন দোস্তো হয়েছে সেই দোস্তের
সাথে পল্টু প্রায়ই ভরদুপুরেতেঁতুল তলায়
হাডুডু খেলে। বি:দ্র: - অবাক হইয়া খেয়াল করিলাম
এবিতে 'শিশু সাহিত্য' নামের কোন
ক্যাটাগরী নাই। মডুর কাছে তীব্র দাবী
জানাইলাম অতিস্বত্বর 'শিশু সাহিত্য'
জাতীয় ক্যাটাগরী খোলার নইলে ভয়ংকর
ভূত পিচ্চি হান্নুকে খবর দেয়া হইব
।। মৃত্যু শিকল (Death Chain) ।।
একটা দুঃস্বপ্ন। স্বপ্নটা চলছেই।
থামার কোন নাম নেই। হঠাৎ উঠে
বসল সুমন। সারা শরীর ঘামে ভিজে
গেছে। হাঁপ ছেড়ে বাঁচল যেন। এরকম
স্বপ্ন মানুষ দেখে!! ডানদিকে ফিরে তাকাতেই চমকে ওঠে। আরে
ওটাতো আয়না। আয়নায় নিজেকেই
দেখেছে ও। সারারাত আর ঘুম
আসবে বলে মনে হয়না। এমন একটা
দুঃস্বপ্ন। কে যেন ওকে বেঁধে
দিয়েছিল। পা দুটো খোলা ছিল। হাঁটছিল ও। আর কোথা থেকে যেন
অজস্র কুড়াল উড়ে আসছিল ওর
দিকে। কিভাবে যে বেঁচেছে
কয়েকবার। একবার ভাবে স্বপ্নটা
নিয়ে। তারপর চিন্তা করে দুঃস্বপ্ন
নিয়ে ভেবে কি হবে? ঘুমানোর চেষ্টা করি। শুয়ে শুয়ে কিছুক্ষণ
মিলির কথা ভাবলে হয়তো ঘুম চলে
আসবে। কিন্তু তাও হলনা। রাতটা
কোনমতে পার করল সুমন।
মিলি সুমনকে দেখে চমকে উঠল।
: কি হয়েছে তোমার? : কিছুনা।
: এমন চেহারা কেন?
: কিছুনা বললাম তো
: বলনা কি হয়েছে?
: চুপ কর তো। কথা বলতে ভাল
লাগছেনা। এটা ইদানীং সুমনের অভ্যাসে
পরিণত হয়েছে। কথায় কথায় রেগে
যায়। মিলি কিছু বলেনি। ভেবেছে
সময় হলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু
সুমনের এই অভ্যাসটা দিন দিন
বাড়ছে। কি হয়েছে ওর? কিছুতো বলেও না। এ দিকে সুমনের মাথায়
অন্য চিন্তা। ফটোগ্রাফী কোর্সের
জন্য ওকে সোনারগাঁ যেতে হবে।
আগামীকাল। কোনভাবেই মনোযোগ
দিতে পারছেনা। যেভাবেই হোক
আজ রাতে ওর ভালভাবে ঘুমাতে হবে। কোনভাবেই আজে বাজে কিছু
চিন্তা করা যাবেনা। বাসায়
ফিরে এল ও।
রাতে সময়মত ঘুমাতে গেল। কিছুক্ষণ
পর ওর ঠান্ডা লাগতে শুরু করল। এসি
টা বোধহয় বেশি বাড়ানো। রিমোট নিয়ে অফ করে দিল এসি। তারপরও
ঠান্ডা লাগছে। ব্যাপার কি?
বাইরে কি বাতাস বেশি? জানালা
তো সামান্য খোলা। উঠে বসল ও।
ডানে আয়নার দিকে তাকিয়ে
ভয়াবহ চমকে গেল। ওটা কি? গাছের উপর সাদা আলখেল্লা পরা কিছু
একটা দাঁড়িয়ে আছে।
না, শুধু দাঁড়িয়ে আছে তা না।
হাততালি দেয়ার মত করছে।
আয়নায় দেখছে। তারমানে
জিনিসটা ওর পেছনে। ভয়ের শীতল শিহরণ নেমে গেল ওর মেরুদন্ড
দিয়ে। পেছনে ফিরে তাকাবেনা
চিন্তা করেও পেছনে তাকাল।
কিছুই নেই। আবার আয়নার দিকে
তাকাল। সেখানেও কিছু নেই।
চোখের ভুল? মনের ভুল? সে রাতেও ঘুম হলনা ওর।
ভোরেই ঘুম ভাঙ্গল। সোনারগাঁ
যেতে হবে। খেয়ে দেয়ে রেডি হল।
বের হয়ে পড়ল। সঙ্গে থাকবে ওদের
টীম। সকাল ৯টার মধ্যে পৌঁছে গেল।
টীম নেমে প্রথমে এলাকাটা ভালভাবে ঘুরল। মনে খটকা লেগে
আছে সুমনের। জায়গাটা কোথায়
যেন দেখেছে ও। মনে করতে
পারছেনা। কিছুতেই পারছেনা।
ওইতো দাবার বোর্ডের মত মার্বেল
পাথরের মেঝে। ওপরে ঝাড়বাতি লাগানোর জায়গা। কিন্তু এটা ও
আগে কোথায় দেখেছে। মনে করতে
করতেই ক্যামেরার লেন্সে ছবি
তোলার জন্য চোখ লাগায়। আর
তখনই দেখতে পায় একটা কুড়াল ওর
দিকে ছুটে আসছে। সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়ে ও। কিন্তু কোথায় কি?
কিচ্ছু নেই। সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ল
কোথায় দেখেছে এই জায়গাটা।
স্বপ্নে। খুব ভয় পায় সুমন। ভয়ে ভয়ে
আবার ক্যামেরার লেন্সে চোখ
লাগায়। নাহ, এবার কিছু নেই। বিভিন্ন জায়গার ছবি তুলে টীমসহ
ফিরে আসে ঢাকায়।
দিনে দিনে কাজে অন্যমনস্ক হয়ে
পড়ছে সুমন। ও এ পর্যন্ত যা যা
দেখেছে সেগুলো নিয়েই ভাবে।
মনে মনে সেগুলো ওর করতে ইচ্ছা করে। পরের দিন রাতে গাড়িটা
নিয়ে চলে যায় আবার সেই
জায়গায়। চিন্তা করে আজ কিছু
একটা হয়ে যাক। মরে গেলে মরেই
যাব। চারদিক অন্ধকার। দূরে স্ট্রীট
লাইটের আবছা আলো। মেইন গেট খুলে ভিতরে ঢুকে ও। কিছু দেখতে
পায়না। হাটতে থাকে। কিছুক্ষণ পর
সেই ঘরটা খুজে পায়। কিন্তু চিন্তা
করে স্বপ্নের মত কে ওকে বেধে
দেবে যাতে শুধু পা দুটো খোলা
থাকে। চিন্তাটা বাদ দিল। সাথেই ছিল ক্যামেরা। ছবি তুলল কয়েকটা।
বাসায় ফিরে এল। ওয়াশ করল
ছবিগুলো। ছবিগুলো দেখে ভূত
দেখার মত চমকে উঠল সুমন।
প্রত্যেকটা ছবিতে সাদা কাপড়
পরা ভূতটা। লেন্সের সামনে বা আশেপাশে। কিন্তু একবারও দেখা
দেয়নি। ভয় পেল ও। মেজাজ ও
খারাপ হল। চিন্তা করল যেই গাছে
ভূতটা দেখেছিল সেখানে যাবে।
কিছুক্ষণের মধ্যে গাছটার নিচে
গিয়ে দাড়াল। কিছুই নেই। কিছুক্ষণ পর ভূতটা ভেসে এল কোথা থেকে।
ভয় পেল সুমন। থেমে গেল ভূতটা।
তারপর উল্টো দিকে ভেসে চলতে
লাগল। অবাক হল সুমন। কিন্তু ভূতটার
পিছনে পিছনে যেতে লাগল সে।
ভূতটাও যাচ্ছে। সুমনও হাঁটছে। কিছুক্ষণ পর মনে হল আর যাওয়া
উচিত হবেনা। ফিরতে হবে। কিন্তু
সুমন দেখে পিছনে যেতে পারছেনা
ও। সামনেই চলেছে ওর পা। সামনের
দিকে এগিয়ে চলেছে ভূতটার
পিছনে পিছনে। কখন যে একটা গোরস্থানের ভেতর ঢুকে পড়েছে
খেয়াল করেনি ও। হাঁটতে হাঁটতে
একটা গর্তে পড়ে গেল ও। ভূতটাকে
এখন আর দেখতে পাচ্ছেনা। উপুড়
হয়ে পড়েছে ও। ঘুরে আকাশের
দিকে তাকাতেই সজোরে একটা কুড়াল এসে আঘাত করল ওর মাথায়।
মারা গেল সুমন।
সুমনের বাসায় এসেছে মিলি। সুমন
মারা গেছে আজ চারদিন। মিলাদে
এসেছে ও। কেউ কিছু বোঝেনি যে
কেন সুমন ওভাবে মারা গেল। কেঁদে কেঁদে চোখ লাল হয়ে গেছে
মিলির। অনেক ভালোবাসতো ও
সুমনকে। সুমনের ঘরে ঢুকল ও। সুমন
ব্যবহার করে এরকম কিছু জিনিস
নেবে। সুমনের স্মৃতি হিসেবে।
সুমনের রুমের আয়নার সামনে বসল মিলি। চোখ লাল। নিজেকে
আয়নায় দেখে অঝোরে কান্না এল
ওর। মুখ নিচু করে কাঁদতে লাগল।
কিছুক্ষণ পর মুখ তুলে আয়না দিয়ে
জানালাটা দেখল। গাছটা চোখে
পড়ল। মুখ ঘুরিয়ে জানালার দিকে তাকাল মিলি।
কিন্তু........... মিলির প্রতিবিম্বটা
মিলির মত উল্টো দিকে জানালার
দিকে ফিরে তাকায়নি। আয়নায়
মিলির প্রতিবিম্বটা লাল চোখে
আর ক্রূর হাসি ঠোঁটে নিয়ে মিলির দিকেই তাকিয়ে আছে।
মিলি এখনও জানেনা কি অঘটন
ঘটিয়ে ফেলেছে ও.................
সুমনের পর এবার হয়ত ওর
পালা..........
আমি ভেবেছিলাম আজকে সন্ধ্যার
মধ্যেই ক্লাসের পড়া শেষ করে
তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাব। রোজ
রোজ রাত জাগতে ভাল লাগেনা।
তাছাড়া আম্মু ঢাকার বাইরে
গেছেন অফিসের কাজে। আম্মুর অনুপস্থিতিতে লক্ষী মেয়ে হয়ে
চলাটা আমার দায়িত্বের মধ্যে
পড়ে। কিন্তু কিভাবে কি হল
জানিনা,সারা বিকেল ফেসবুকে
গুঁতাগুতি করে যখন পড়ার বই
খুললাম তখন বাজে রাত দশটা। গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে পড়তে
বসেছি,এমন সময় হঠাৎ করে
একটা কাক “কা-কা” করে কেমন
যেন আর্তচিৎকার করে উঠল। আমি
খুব-ই অবাক হলাম। রাতের বেলা
কাক ডাকে,তাও আবার এরকম আর্তচিৎকার করে—সেটা এই
প্রথম শুনলাম।
যাইহোক,ব্যাপারটাকে বেশি
পাত্তানা দিয়ে আমি পড়া শুরু
করলাম। মাঝে দুই-এক বার কাক
ডেকে আমার পড়ার মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করছিল,কিন্তু গুরুত্ব
দেইনি। পড়া শেষ করে ঘড়ির
দিকে তাকালাম। এখন ঘুমানো
যায়। আড়াইটা বাজে প্রায়। আব্বু
মনে হয় ঘুমিয়ে গেছে। প্রচুর
ক্ষুধা লেগেছে। আমি পা টিপে টিপে ডাইনিং রুমের দিকে
গেলাম। যদি মুড়ি-টুড়ি কিছু
বাসায় থাকে তাহলে উদরপূর্তি
করা যাবে! ডাইনিং রুমের
টেবিলের উপর রাখা টিনটাতে
একটা ঝাঁকি দিলাম। ঠন ঠন করে টিনের মধ্যে শব্দ হল। যতটা
জোরে হওয়া উচিত,তার থেকে
অনেক জোরে। আমি একটু চমকে
ঊঠলাম।টিনটা খুলে দেখলাম
ফাঁকা। আশ্চর্য তো! এত জোরে শব্দ
হ্ওয়ার কারণ কি? আমার কেমন যেন ভয় ভয় লাগল। গা ছম-ছমে
একটা ভয়। যেভাবে পা টিপে টিপে ডাইনিং
রুমে গেছিলাম,সেভাবেই আমার
নিজের রুমে ফিরে আসলাম।
নিজের ঘরের দিকে তাকিয়ে
বুকের ভেতর ডিপ ডিপ করে শব্দ
হতে লাগল। আমার ঘরটা আজকে অন্যরকম লাগছে। অনেক বেশি
ঠান্ডা আর নীরব। জানালা দিয়ে
বাইরে তাকালাম। চারপাশটা
কেমন যেন নিকষ কালো হয়ে
আছে। অন্যদিন সাধারণত
আশেপাশের ফ্ল্যাটগুলোতে অনেক রাত পর্যন্ত আলো জ্বলে। আজকে
সেই আলোর চিহ্নমাত্র নেই।
এরকম তো কখনো হ্ওয়ার কথা না।
ভাল করে আবার বাইরে তাকাতেই
দেখি শোঁ শোঁ করে একটা শব্দ
হচ্ছে। ঝড় হচ্ছে নাকি?বুঝতে পারছিনা। ঝড় হলে বাতাস
থাকার কথা। কিন্তু বাইরে
বাতাস নেই। শুধু শব্দ। শব্দটা
তীব্র হচ্ছে ক্রমাগত। আমি আর
বেশি কিছু চিন্তা না করে লাইট
অফ করে দিয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুমিয়ে গেলে দুনিয়ার সব ভয়
ঠান্ডা। বিছানায় শুয়ে পড়ার পর
দেখি আর ঘুম আসেনা। চুপ করে
শুয়ে আছি আর কি সব যেন
আগামাথাহীন ভাবে ভাবছি।
এমন সময় খাটের নীচ থেকে হঠাৎ হিসহিস শব্দভেসে এল!
আতঙ্কে আমি একেবারে
জমেগেলাম। খাটের নীচে উঁকি
দেওয়ার চিন্তাটা মাথায় এসেই
আবার মিলিয়ে গেল। এই মুহূর্তে
খাটের নীচে উঁকি দেওয়ার মানেই নেই। তারচেয়ে ঘুমিয়ে
যাওয়াই উত্তম। আমি চোখ বন্ধ
করলাম। কতক্ষণ ঘুমিয়েছি
জানিনা,ভয়ংকর গোঙ্গানির
শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমি
নিথর হয়ে শুয়ে গোঙ্গানিটার
উৎস খোজার চেষ্টা করছি।
একবার মনে হচ্ছে খাটের নীচ থেকে শব্দ আসছে,আর একবার মনে
হচ্ছে ড্রেসিং টেবিলের কাছ
থেকে। এখন যে রাত কয়টা বাজে
সেটাও বুঝতে পারছিনা।
বাথরুমে যাওয়া দরকার। কিন্তু
ভয়ে বিছানা থেকে ঊঠতে ইচ্ছা করছেনা। ভূত-প্রেতে আমার তেমন
বিশ্বাস নেই—আমি আসলে
ভাবছি,খাটের নীচে চোর-টোর
লুকিয়ে আছে কিনা! গোঙ্গানির
শব্দ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
আব্বু পাশের রুমে ঘুমাচ্ছে। একবার ভাবলাম আব্বুকেঘুম থেকে
ডেকে তুলি। কিন্তু পরে মনে হল
সেটা ঠিক হবেনা। এমনিতেই
আব্বুর ব্লাড প্রেসার বেশি থাকে
সবসময়। আর তাছাড়া আমি তো
ভয়ে বিছানা থেকে নামতেই পারছিনা! হঠাৎ হাতের মধ্যে কিসের যেন
স্পর্শ পেলাম,ধাতব কিছু। জোরে
চিৎকার দিতে যাব,এমন সময়
বুঝতে পারলাম আমার মোবাইলটা
নিয়ে শুয়েছি। ধড়ে প্রাণ ফিরে
এল যেন। সাথে সাথে বাটন টিপে মোবাইলের টর্চটা
জ্বালালাম। টর্চ দিয়ে দেয়ালে
টাঙ্গানো ঘড়িটার দিকে আলো
ফেললাম। ঘড়িতে দুইটা চল্লিশ
বাজে। এতক্ষণে মাত্র দশ মিনিট
পার হয়েছে। আমি মাত্র দশ মিনিট আগে শুয়েছি! সব কিছু
কেমন যেন অবিশ্বাস্য লাগে
আমার। আমি খুব সাবধানে টর্চের
আলো মেঝের দিকে নিলাম।
মেঝেতে রক্ত! মেঝেতে জমাট
বেঁধে আছে রক্ত! আমি কান্ডজ্ঞানহীন ভাবে
বিছানা থেকে উঠে ছুটে গিয়ে
রুমের দরজার নবে হাত রাখলাম।
প্রচন্ড শক্তি দিয়ে নব ঘুরিয়েও
দরজা খুলতে পারছিনা। অথচ
আমার স্পষ্ট মনে আছে,ঘুমানোর আগে আমি দরজা খোলা রেখে
ঘুমিয়েছি। বিড়বিড় করে সূরা
পড়তে পড়তে নিজেকে প্রবোধ
দিলাম আসলে হ্যালুসিনেশন
হচ্ছে। আমি যা ভাবছি,শুনছি,
দেখছি সব মিথ্যা। মনে হয় বেশি বেশি হরর মুভি দেখার
ফল। আমি চিৎকার করে আব্বুকে
ডাকতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু
গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হলনা। ঘরের ভেতর জান্তব গোঙ্গানি
বেড়েই চলেছে। সাথে কান
ফাটানো শোঁ শোঁ শব্দ। আমি কোন
কিছু চিন্তা না করেই ঘরের
সাথে লাগানো বাথরুমে ঢুকে
পড়লাম। বাথরুমের লাইট অন করেই দেখি আমার পায়ের পাতা
রক্তে মাখামাখি হয়ে আছে! আমি
নিজেই বুঝতে পারছিনা আমার
জ্ঞান আছে কি নাই? হঠাৎ চোখে
পড়ল বাথরুমের এক কোণে বাক্সে
রাখা ফার্ষ্ট ইয়ারে পড়ার জন্য কেনা bones গুলোর দিকে। এক
কাজিনকে দেব দেখে সেগুলো আর
বিক্রি করা হয়নি। কেমন জীবন্ত
হয়ে আছে হাড্ডিগুলো! মনে হচ্ছে
এক একটা bones জোড়া লেগে
কঙ্কাল হয়ে এক্ষুণি ঝাঁপিয়ে পড়বে আমার উপর! আমি যথাসম্ভব
চিৎকার করে বাথরুম থেকে বের
হয়ে আছড়ে পড়লাম লক হয়ে
যাওয়া রুমের দরজার উপর!
আব্বুউউউউউ বলে চিৎকার ঢেকে
গেল জান্তব অট্টহাসিতে! পিছনে ঘুরে দেখি ফার্ষ্ট ইয়ারে
পড়ার সুবিধার জন্য সবগুলো
হাতের আঙ্গুল জোড়া লাগিয়ে
বাঁধানো কঙ্কালের হাত ভেসে
আসছে আমার দিকে। কব্জির কাছ
থেকে নাই হয়ে যাওয়া অংশটুকু থেকে টপটপ করে ঝরছে রক্ত।
আমি আরেকবার চিৎকার দেওয়ার
আগেই আমার কন্ঠরোধ করে ধরল
কঙ্কালের কাটা হাত। রাতের বেলা যে কেউ মেয়েটাকে
এক নজর দেখলে ভাববে মেয়েটা
ভুল করে মেঝেতেই ঘুমিয়ে গেছে।
কিন্তু ভোরের আলো যখন মেয়েটার
মুখে এসে পড়বে,তখন সবাই
দেখবে মৃতা মেয়েটার ঠান্ডা গলার কাছে কালসিটে
পড়া,সেখানে রয়েছে সরু একটা
হাতের ছাপ
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
5699
