The messenger source of truth

The messenger source of truth

Share

May Allah give us all the opportunity to become perfect human beings. (Amen)

১. অপারেশন তেলআবিব-১
২. অপারেশন তেলআবিব-২
৩. মিন্দানাওয়ের বন্দী
৪. পামিরের আর্তনাদ
৫. রক্তাক্ত পামির
৬. রক্ত সাগর পেরিয়ে
৭. তিয়েনশানের ওপারে
৮. সিংকিয়াং থেকে ককেশাস
৯. ককেশাসের পাহাড়ে
১০. বলকানের কান্না
১১. দানিয়ুবের দেশে
১২. কর্ডোভার অশ্রু
১৩. আন্দালুসিয়ার প্রান্তরে
১৪. গোয়াদেলকুইভারে নতুন স্রোত
১৫. আবার সিংকিয়াং
১৬. মধ্য এশিয়ায় কালো মেঘ
১৭. ব্ল্যাক ক্রসের কবলে
১৮. ব্ল্যাক ক্রসের মুখোম

20/09/2021

৫৫. ডেথ ভ্যালি
(পৃষ্ঠা ২২-২৫)
২২
আহমদ মুসা যে জায়গাটায় যেতে চায় সেটা নূর ইউসুফরা যেখানে থাকে তার পাশেই। রক ক্রিক নদী থেকে যে ছড়াটা পশ্চিম দিকে ঢুকেছে, তার শেষ মাথার ডান পাশে মানে উত্তর পাশে থাকে নুর ইউসুফরা। আহমদ মুসা যে জায়গটা দেখতে চায় সেটা নূর ইউসুফদের বাসস্থান থেকে শুরু হয়ে ছড়াটার মাথা হয়ে দক্ষিণ দিকে একশাে গজের মত এগিয়ে পাহাড়ের দেয়ালে গিয়ে শেষ হয়েছে। ছড়ার দক্ষিণ ধার ঘেষে মাথা পর্যন্ত এসে পাহাড়ের দেয়ালটা দক্ষিণ দিকে বেঁকে গিয়ে অর্ধবৃত্তাকার প্রায় সমতল একটা পকেট সৃষ্টি করেছে। ছড়ার মাথার সামনে দিয়ে যাওয়া প্যাসেজটা এই কারণেই একশাে গজের মত দীর্ঘ হতে পেরেছে। প্যাসেজটার দক্ষিণ মাথাটা ঢুকে গেছে পাহাড়ের ঐ পকেটে। এই পকেটের শেষ মাথাটা পর্যন্ত দেখতে চায় আহমদ মুসা। | ছােটখাটো আগাছা, লতা-গুল্ম মাড়িয়ে চলছে আহমদ মুসারা । পায়ের নিচে শক্ত পাথরের উপরে মাটির পাতলা লেয়ার । পুরু লেয়ার সম্ভবত গড়ে উঠতে পারেনি বৃষ্টির কারণে। বৃষ্টির পানিতে অব্যাহত ভাবেই কিছু কিছু করে মাটি ধুয়ে নিচের ছড়ায় নেমে যায়। মাটির পাতলা লেয়ারেই জন্মেছে ঘাস, গুল্ম জাতীয় আগাছা। পাথরের জোড়াগুলােতে মাটির লেয়ার পুরু। এসব জায়গাতেই জন্মেছে ছােট ছােট গাছ, লতা-পাতার ঝােপ। এসব মাড়িয়ে, কখনও পাশ কাটিয়ে সামনে এগােতে হচ্ছে আহমদ মুসাদের ।
সামনে এগােবার এ প্যাসেজটা আড়াই থেকে তিন গজের মত প্রশস্ত । পশ্চিম পাশ বরাবর খাড়া পাহাড়ের দেয়াল। পাহাড়ের গা একেবারেই নগ্ন । খাড়া বলেই গায়ে ধুলা-বালি জমতে পারে না, তার উপর রয়েছে। বৃষ্টির আঘাত। আর পুব পাশেও পাহাড়ের খাড়া দেয়াল নেমে গেছে। নচের গভীর খাড়িতে। ভীতিকর এক দৃশ্য। সে দৃশ্য এড়াতেই যেন। সবাই হাঁটছে প্যাসেজের পশ্চিম পাশের পাহাড়ের গা ঘেষে ।
আহমদ মুসার সন্ধানী দৃষ্টি পায়ের তলার রাস্তার গঠন, পাশের পাহাড়ের গা, পাথরের রকম ইত্যাদি সব বিষয়েই চোখ বুলাচ্ছিল ।
পাহাড়ের সামনের দেয়াল পর্যন্ত পৌছল তারা।
প্যাসেজের মাথা যেখানে শেষ হয়েছে সে দেয়ালটাও খুঁটে খুঁটে দখল আহমদ মুসা। আনন্দিত হবার মত কিছুই পেল না।
২৩
পেছন ফিরে চারদিকে তাকাল আহমদ মুসা। তার মন বলছে, দিব্য ‍দৃষ্টিতে যেন সে দেখতেও পাচ্ছে, এ যেন চলাচলের একটা পথ ।
স্যার, আপনি যেন কিছু খুঁজছেন।' বলল মরিয়ম মারুফা।
‘হ্যা মারুফা, খুঁজতেই তাে এসেছি। কিন্তু পাচ্ছি না কিছু।' আহমদ
মুসা বলল। |
‘কি খুঁজতে এসেছেন স্যার?' বলল দাউদ ইব্রাহিম।
‘কি খুঁজছি আমি নিজেও জানি না। কিন্তু কেন জানি আমার মনে। হচ্ছে, এটা চলাচলের একটা পথের মত।’ আহমদ মুসা বলল।
সবাই আহমদ মুসার দিকে তাকাল। সবার চোখেই বিস্ময় দৃষ্টি।
বলল নূর ইউসুফ, ‘একে আপনার চলাচলের পথ মনে হলাে কেন? আমরা ছাড়া তাে এখানে কেউ বাস করে না। আর সামনেও দেখুন। পাহাড়ের দেয়ালে, ঐ দিকের পথটা যে একেবারেই বন্ধ সেটা আপনিও। দেখেছেন। এটা চলাচলের পথ হতে পারে কেমন করে?'
আহমদ মুসা পশ্চিম পাশের পাহাড়ের দেয়ালের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল । ঐভাবে থেকেই বলল, ‘এর উত্তর আমিও জানি না। আমার মনে হয়েছে তাই বললাম।’
আহমদ মুসার দু'চোখের দৃষ্টি হঠাৎ তীক্ষ হয়ে উঠল। আহমদ মুসা। এগিয়ে গেল পশ্চিম পাশের পাহাড়ের দেয়ালের দিকে। দাঁড়াল তুলনামূলকভাবে মসৃণ একটা পাথরের সামনে। আরও ভালােভাবে তার চোখে পড়ল, পাথরের গায়ের সমান্তরালে কিছু জায়গা জুড়ে আঁকা-বাঁকা। রেখায় পাথরের গায়ে ধুলা-মাটি যেন বেশি জমেছে। আহমদ মুসা। পকেট থেকে চাকু বের করে চাকুর আগা দিয়ে আঁকা-বাঁকা গােটা রেখা। থেকে ধুলা-মাটি সরিয়ে দিল । | সবাই আহমদ মুসার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। সবাই দেখছে। আহমদ মুসার কাজ। | ধুলা-মাটি সরানাের পর রেখাগুলাে স্পষ্ট হয়ে উঠল ।।
রেখাগুলাের ঢেউ খেলানাে রূপ দেখে ভ্র-কুঞ্চিত হলাে আহমদ মুসার । চোখ তার উজ্জ্বল হয়ে উঠল ।।
পেছন ফিরে সবার দিকে তাকিয়ে আহমদ মুসা বলল, ‘রেখাগুলাে। দেখে আপনাদের কি মনে হচ্ছে বলুন তাে?”
২৪
সবাই ভালাে করে তাকাল।
আপনি কি মনে করছেন রেখাগুলাে প্রাকৃতিক নয়, মানুষের তৈরী? বলল নুর ইউসুফ।
‘আমার তাই মনে হচ্ছে, আপনাদের মত জানতে চাচ্ছি । মুসা বলল ।।
নুর ইউসুফদের সবার চোখে-মুখে বিস্ময়! দ্রুত কথা বলে উঠল মরিয়ম মারুফা, ‘মানুষের তৈরি? মানুষ আসবে কোথেকে এখানে? কেনই বা পাথরে আঁকবে ওসব?'
‘কেন আঁকবে এটাই তাে খোঁজার বিষয়। তার আগে কি একেছে এটা জানার বিষয়।’ আহমদ মুসা বলল।
“কিন্তু রেখাগুলাের কোন অর্থ আছে বলে মনে হচ্ছে না।' বলে দাউদ ইব্রাহিম।
দাউদ ইব্রাহিম, মরিয়ম মারুফা, তােমরা ছােটবেলায় এ রকম কি একেছ কি না, স্মরণ কর ।’ আহমদ মুসা বলল ।
দু’জনের চোখে-মুখে ভাবনার চিহ্ন ফুটে উঠেছে। ভাবছে দু’জনেই ।
মরিয়ম মারুফাই প্রথম আনন্দে চিৎকার করে উঠল। বলল, মেঘের ছবি আমরা এভাবে আঁকতাম।
‘ঠিক মারুফা।’ দাউদ ইব্রাহিম বলল ।
‘হা, তােমরা ঠিকই বলেছ, এটা মেঘের সিম্বলিক ছবি ।’ বলল আহমদ মুসা।
কিন্তু কে আঁকবে? কেন আঁকবে?’ নূর ইউসুফ বলল ।
‘কেন একেছে, আমি বােধ হয় বুঝেছি জনাব।' বলল আহমদ মুসা ।
‘কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এঁকেছে? সেটা কি?' বলল নুর ইউসুফই ।।
আহমদ মুসা শূন্য দৃষ্টিতে আকাশের দিকে চাইল। ভাবল একটু। তাকাল আবার সেই আঁকা-বাঁকা রেখাগুলাের দিকে। চোখ নামিয়ে আরও একটু নিচে তাকাল গরুর দুই শিং দিয়ে তৈরি অস্পষ্ট একটা সার্কেলের দিকে । বলল, ‘মেঘের সিম্বল একে উপরের দিকে ইংগিত করা হয়েছে। আর এটা একেছে এই এলাকার পিসকাটাওয়ে রেড ইন্ডিয়ান ট্রাইব। | ‘পিসকাটাওয়ে রেড ইন্ডিয়ান ট্রাইব?’ নুর ইউসফরা প্রায় একসাথে বলে উঠল ।
২৫
‘হ্যা, পিসকাটাওয়ে রেড ইন্ডিয়ান ট্রাইব।’ বলল আহমদ মুসা।
তা অনেক আগের কথা। ওরা এখানে আসবে কেন? কেনইবা আকবে এই মেঘের সিম্বল? আর এটা বুঝা গেল কি করে যে, ওটা পিসকাটাওয়ে রেড ইন্ডিয়ানদের কাজ?' বলল নূর ইউসুফ।
আহমদ মুসা রেখাগুলাের নিচে গরুর দুই শিং-এর সার্কেলের দিকে ইংগিত করে বলল, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য পূর্ব উপকলের রেড ইন্ডিয়ান, বিশেষ করে পিসকাটাওয়ে রেড ইন্ডিয়ানরা এই সিম্বল ব্যবহার
করে থাকে।’
মূহুর্তের জন্যে থেমেই আবার শুরু করল আহমদ মুসা, ‘পিসকাটাওয়ে রেড ইন্ডিয়ান পটোম্যাক নদীর তীরসহ রক ক্রিক নদীর এই এলাকাতেই বাস করতাে। পিসকাটাওয়ে একটা গ্রামের নাম ছিল । পিসকাটাওয়ে থেকেই পটোম্যাক নদীর নাম হয়েছে ।
পটোম্যাককে এক সময় বলা হতাে পাটাওমেক, সেখান থেকেই পটোম্যাক। পটোম্যাক থেকে এই রক ক্রিক হয়ে পশ্চিম-উত্তরে ওয়াশিংটন ডিসি ও মেরিল্যান্ডের ওকোমা পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে পিসকাটাওয়ে রেড ইন্ডিয়ান ট্রাইবের বাস ছিল । তারা প্রধানত বাস করত নদীর তীর এলাকায়। এই রক ক্রিক নদীর তীর এলাকাতেও । আমার নিশ্চিতই মনে হচ্ছে এই সংকীর্ণ প্যাসেজটা এক সময় সংকীর্ণ ছিল না। চলাচলের একটা প্রশস্ত পথ ছিল। পাহাড়ের দেয়ালে পাথরের গায়ে তাদের সিম্বল ও মেঘের ড্রইং এটাই প্রমাণ করছে।’
‘কিন্তু পথ কোথায়? পাহাড়ের দেয়ালে প্যাসেজটা তাে থেমে গেছে?’ বলল নূর ইউসুফ।
মরিয়ম মারুফাদের চোখে বিস্ময় দৃষ্টি! নূর ইউসুফ থামতেই মরিয়ম মারুফা বলে উঠল, 'স্যার, আমাদের এলাকা ও এলাকার। ইতিহাস সম্পর্কে আপনি যা বললেন তার কিছুই আমরা জানি না। পিসকাটাওয়ে রেড ইন্ডিয়ানরা ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় বাস করত, এটুকুই মাত্র জানি ।
‘জানার সময় শেষ হয়ে যায়নি মারুফা । আর মানুষের আবাল্য পরিচয়ের জায়গা সম্পর্কে জানার আগ্রহ কম থাকাটাই স্বাভাবিক।’
আহমদ মুসা থামল ।

09/09/2021

৫৫. ডেথ ভ্যালি
(পৃষ্ঠা ২০-২১ )
‘চেষ্টার পর কোন পথ যদি বের না হয়, তাহলে নিশ্চিত হব আমার সন্দেহ ঠিক নয়। আর সন্দেহ যদি ঠিক হয়, আল্লাহ আমাকে সাহায্য করবেন। আমি পথ পেয়ে যাব।’ আহমদ মুসা বলল।
‘আলহামদুলিল্লাহ আপনার বিশ্বাসের এ দৃঢ়তা আছে বলে আপনি নিশ্চিন্তে সামনে অগ্রসর হতে পারেন। আল্লাহ যাকে ভালবাসেন, তাকে তিনি এই দুর্লভ শক্তি দেন।’ বলল নুর ইউসুফ।
‘এই শক্তির দুর্লভ নয়। আল্লাহ সবার জন্য এর অর্জনকে উন্মুক্ত রেখেছেন। আল্লাহকে ভালোবাসলে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।’ আহমদ মুসা বলল।
‘কিন্তু স্যার, এমন ভালোবাসা কঠিন। তাই তার ভালোবাসা পাওয়াও কঠিন।’ বলল মরিয়ম মারুফা।
‘এটা ভুল ধারণা মারুফা। তাকে ভালোবাসা কঠিন হবে কেন? তিনি তো কিছু চান না। আল্লাহ স্রষ্টা, প্রতিপালক, মালিক, সবকিছুর নিয়ন্তা এটা মানা কি কঠিন? শেষ রাসূলকে রাসুল হিসেবে মানা কি কঠিন?
নামাজ পড়া, রোজা রাখা, যাকাত দেয়া কঠিন কোন দিক দিয়ে? মন্দ পরিহার করা, ভালোকে গ্রহণ করা কতটা কঠিন? এসব যতটা কঠিন, আল্লাহকে ভালোবাসা মাত্র ততটাই কঠিন।’ আহমদ মুসা বলল।
‘স্যার, একাজ সহজও নয়, আবার কঠিনও নয়। আমি পড়েছি স্যার, ঈমানদারদের জন্য এসব কাজ খুবই, সহজ অন্যদের জন্য কঠিন।’ বলল মরিয়ম মারুফা।
‘ঠিক বলেছ মারুফা। এই ঈমান বা বিশ্বাসই ভালবাসার আসল শক্তি। যাক এ প্রসঙ্গ। আমি এখনই একটু বেরোতে চাই।’ খাওয়া শেষে হাত পরিষ্কার করতে করতে বলল আহমদ মুসা।
সবাই খাবার শেষ করে বসল কমিউনিকেশন রুমটায়।
‘কোথায় বের হবেন বললেন?’ দাউদ ইব্রাহিম বলল।
‘দক্ষিণ পাশের সংকীর্ণ বিলম্বিত স্থানটায় প্রবেশ করব।’ বলল আহমদ মুসা।
নূর ইউসুফসহ সবাই তাকালো আহমদ মুসার দিকে। সবারই চোখে মুখে প্রশ্ন। সবাই মুখ খুলেছিল।
কিন্তু সবার আগে কথা বলল মরিয়ম মারুফা। বলল, ‘স্যার ওখানে কি আছে? পাথর, টিলা, জঙ্গলে ভরা

২০

একটা সংকীর্ণ প্যাসেজ। কিছুদূর এগিয়েই তো পাহাড়ের উঁচু দেওয়াল।’
‘আমি ওদিকে যাইনি। কিন্তু পাহাড়ে উঠে ওদিকটা দেখেছি। ওই প্যাসেজটা জুড়ে বড় গাছ একটাও নেই। পাথরের উপর যে ধুলাবালি জমেছে, তাতেই জন্মেছে লতাগুল্ম জঙ্গল। কোন পাথুরে পথে সাধারণ চরিত্র কিন্তু এটাই। তাই অন্য কিছু ভাবার আগে জায়গাটা দেখতে চাই।’ বলল আহমদ মুসা।
নূর ইউসুফ হাসল। বলল, ‘জনাব আহমদ মুসা, আল্লাহ বুদ্ধি জ্ঞান সব আপনাকে ঢেলে দিয়েছেন । আপনি এক দিন একবার সেদিকে তাকিয়ে যা বুঝলেন, আমি প্রায় সারা জীবন ওদিকে ঘোরাঘুরি করেও তা বুঝিনি। আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে সত্যিই জায়গাটা একটু বেশি রকম পাথুরে।’
আহমদ মুসা কিছু বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই মরিয়ম মারুফা বলল, ‘কখন যাচ্ছেন আপনি সেখানে?’ ‘একটু রেস্ট নিয়ে আমি যাব।’ বলেই তাকাল আহমদ মুসা ইব্রাহীমের দিকে বলল, ‘আমার একটা টর্চ দরকার হবে আছে?’ ‘অবশ্যই স্যার, আমাদের সবারই টর্চ আছে।’ বলল দাউদ ইব্রাহিম।
‘প্রস্তুত থেকো তুমিও আমার সাথে যাবে। আপত্তি নেই তো?’ আহমদ মুসা বলল।
‘আপত্তি থাকবে কেন স্যার আপনার সাথি হবার সুবর্ণ সুযোগ কেউ পায় ঠেলে?’ দাউদ ইব্রাহিম বলল।
আনন্দ উপচে পড়ছে তার চোখ মুখে। ‘জনাব এই সুযোগ থেকে আমি বঞ্চিত থাকবো।’ বলল নূর ইউসুফ। ‘আমার আপত্তি নেই জনাব।’ আহমদ মুসা বলল।
‘আর আমি? বলল মরিয়ম মারুফা।
‘তুমি একা বাড়ি থাকবে কেন? আর কিছু না হোক বেড়ানোর কাজটা তো আমাদের হবে।’ বলল নূর ইউসুফ।
বিকেলে সাড়ে তিনটায় বেরুল আহমদ মুসারা।
সবার সামনে আহমদ মুসা। তার পেছনে দাউদ ইব্রাহিম, মরিয়ম মারুফা। সবার পেছনে নুর ইউসুফ ।
২১

18/03/2020

নতুন ভলিউম....!!!
নিকটস্থ লাইব্রেরী থেকে শীঘ্রই সংগ্রহ করুন।

Photos from The messenger source of truth's post 27/02/2020

৫৫. ডেথ ভ্যালি
(পৃষ্ঠা ১৯ )
‘এই পাহাড়ের চূড়ায় উঠে ডেথ ভ্যালির চারদিকটা দেখেছি । তাতে আপনাদের কাছ থেকে যেটা শুনেছি সেটাই ঠিক। ডেথ ভ্যালিতে প্রবেশের একমাত্র গিরিপথ বন্ধ হবার পর এখানে প্রবেশের সত্যি আর কোনো পথ নেই । তবে আগে আমি ইন্টারনেটে দেখেছি, ডেথ ভ্যালি উত্তর সীমানার পাহাড়টা উঠে এসেছে গভীর একটা ক্রিক থেকে । গোড়ার প্রান্তটা ক্রিকের পানিতে নেমে গেছে । ও প্রান্তে যাওয়ার জন্য ক্রিকের জলপথ দিয়ে যাওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ওইদিকের পাহাড়ের উচ্চতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম । পাহাড়ের পথে ওই প্রান্তে যাওয়ার পথ পেলেও সেটা ডেট ভ্যালিতে প্রবেশের কোনো বিকল্প নয় । উত্তর প্রান্তের স্লোপিংটা উপরের দিকে খাড়া হলেও নিচের জঙ্গলাকীর্ণ দিকটা কম খাড়া । ডেথ ভ্যালি ওই প্রান্তের ভেতরের পাস টা কম খাড়া হলেও ওঠানামার জন্য অনুকূল নয় তবে মন্দের ভালো হিসেবে এ পাশটাকে ধরা যায় ইতিবাচক । সব মিলিয়ে অবশিষ্ট সবদিক ভালো করে দেখতে চাই, তবে উত্তর দিকটা আমার বেশি পছন্দ হয়েছে।’ থামল আহমদ মুসা।
‘ধন্যবাদ জনাব। চারদিকে পাহাড়ের যে বিবরণ দিলেন, তা আমাদের কাছে একেবারেই নতুন। বহু বছর ধরে এখানে আমরা বাস করছি বটে, কিন্তু আমাদের গণ্ডির বাইরে কোথাও যায়নি । যাওয়া কোন সময় সম্ভব নয় বলে আমরা মনে করে আসছি। আপনি পাহাড়ের অবস্থানকে যেভাবে পর্যালোচনা করলেন, তাতে এখন নিশ্চিত যে আপনি ডেথ ভ্যালি ঢুকতে চান।কিন্তু এখান থেকে কিভাবে সামনে এগোবেন’ বলল নুর ইউসুফ।
‘হ্যাঁ জনাব, পাহাড়ে উঠেছিলাম চারদিকের পাহাড় সম্পর্কে একটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য। আজকেই বিকেলে আমি ডেথ ভ্যালিতে প্রবেশের জন্য কাজ শুরু করব।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কিভাবে? আপনি যে বর্ণনা দিলে, তাতেই তো পরিষ্কার ডেথ ভ্যালিতে প্রবেশের কোনো পথ খোলা নেই।’ বলল নুর ইউসুফ।
‘পথ বের করতে হবে। ডেথ ভ্যালি সম্পর্কে আমাদের সন্দেহ যদি সত্য হয়, তাহলে একটা পথ অবশ্যই আছে। না থাকলে অন্যরা গেল কি করে।’ বলল আহমদ মুসা ।
‘সন্দেহ সত্যি নাও তো হতে পারে স্যার?’ বলল মরিয়ম মারুফা ।

22/01/2020

হে আল্লাহ...!!!
আপনি মুসলিমদের হিম্মত বাড়িয়ে দিন।
সত্যের পক্ষে কথা বলার সৎ সাহস দান করুন।
আমাদের প্রিয় স্যারকে নেক হায়াত দান করুন এবং জালেমদের থেকে মর্যাদা বাড়িয়ে দিন।

Photos from The messenger source of truth's post 14/12/2019

তারিখ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯
বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতৃবৃন্দের উদ্বেগ
দৈনিক সংগ্রাম কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও সম্পাদক আবুল
আসাদকে আটকের তীব্র নিন্দা
==============================================
দেশের প্রাচীন সংবাদপত্রগুলোর অন্যতম দৈনিক সংগ্রামের মগবাজারস্থ কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর, তছনছের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। একই সঙ্গে পত্রিকাটির বয়োজ্যেষ্ঠ সম্পাদক, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আবুল আসাদকে পুলিশ ধরে থানায় আটকে রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, একটি সংবাদপত্র অফিসে ঢুকে কম্পিউটার, আসবাদপত্র, দরজা-জানালাসহ সবকিছু তছনছ করা ফ্যাসিবাদী আক্রমন ছাড়া কিছুই নয়। কোন সংবাদপত্র প্রকাশিত সংবাদে সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিবাদ জানানো এমনকি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও অধিকার রয়েছে। কিন্তু তা না করে পেশীশক্তির মহড়া কোন সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন,যারা হামলা করেছে তারা ঘোষণা দিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে করেছে। এতে ধারণা করা অমুলক হবে না যে সরকারের ছত্রছায়ায় সিদ্ধান্ত নিয়েই এই বর্বরোচিত হামলা করা হয়েছে। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা গোটা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাছাড়া কোন মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়াই একজন প্রবীণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সম্পাদককে পুলিশ তাঁর অফিস থেকে যেভাবে তুলে নিয়ে গেছে তাতে গোটা সাংবাদিক সমাজ ও বিবেকবান মানুষকে স্তম্ভিত করেছে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং সম্পাদক আবুল আসাদকে সসম্মানে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টা থেকে জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে ৫০/৬০ জন যুবক মগবাজার ওয়ারলেস রেল গেট সংলগ্ন দৈনিক সংগ্রাম অফিস ঘেরাও করে হুমকিমূলক শ্লোগান দিতে থাকে। এর আগে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির নামে সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল-মামুনের নেতৃত্বে এ ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পত্রিকার সাংবাদিকরা যখন আগামী কালের সংবাদপত্র প্রকাশের জন্য কর্মব্যস্ত ঠিক তখনই অতর্কিতে গেট ভেঙ্গে অফিসে ঢুকে একে একে সব কয়টি কক্ষে ভাংচুর চালায়। সংগ্রামের সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ৫৫টি কম্পিউটার, ৩টি টেলিভিশন, সকল আসবাবপত্র, দরজা-জানালা সবকিছু ভেঙ্গে তছনছ করে। আধাঘন্টা ধরে এ তান্ডব চলার সময় পুলিশ অফিসের নিচে ছিল। পরে তারা অফিসে ঢুকে সম্পাদক আবুল আসাদকে আটক করে হাতিরঝিল থানায় নিয়ে যায়।
বার্তা প্রেরক
আবু ইউসূফ
দফতর সম্পাদক, বিএফইউজে

13/12/2019

২য় অংশ

12/12/2019

শুরু থেকে যারা খুজে পাচ্ছেন না তাদের জন্য...

13/10/2019

৫৫. ডেথ ভ্যালি
(পৃষ্ঠা ১৫-১৮)
যোগাযোগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেই সম্পূর্ণ নতুন এক ওয়েভ লেংথে সে কথা বলেছে। উদ্বেগ-‌আতংকে ছেয়ে গেছে জোসেফাইন ও সারা জেফারসনের মুখ।ভয়ংকর একটা সংকটে আমেরিকা ও আহমদ মুসাও।আহমদ মুসা বেঁচে আছে,এ কথা প্রকাশ হ‌ওয়াও বিপজ্জনক।কিন্তু এ সংকটের সমাধান কিসে! এই প্রশ্ন‌ই করল সারা জেফারসন জর্জ আব্রাহাম জনসনকে। বলল, 'আংকেল,এই সংকটে আপনারা কি করবেন ভাবছেন?কেমন করে এ ভয়ংকর সংকটের সমাধান হবে?' 'সেই পথটাও আমাদের আহমদ মুসাই দেখিয়ে দিয়েছেন। বলছেন, তিনি পরিকল্পনা করেছেন ওদের অপরেশন ঘাটতে ঢোকার। তিনি মনে করেছেন ওদের অপারেশন ঘাঁটি তিনি চিহ্নিত করতে পেরেছেন।'বলল আব্রাহাম জনসন। 'তিনি একা,এত বড় সাংঘাতিক মিশন...?'মারিয়া জোসেফাইন বলল অনেকটা আতংকের সুরে। 'হ্যাঁ মা, তিনি একা। আমরা বলেছিলাম আরও লোক নিয়ে অভিযানের কথা। কিন্তু তিনি বলেছেন,ওদের আক্রমণের শক্তি অচল করে দেবার একটাই পথ, সেটা হলো ওদের সংশ্লিষ্ট মারণাস্ত্রের উপর আঘাত হানা,তাকে অচল করে দেওয়া। এই অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।ওরা সামান্য পরিমাণেও যদি সন্দেহ করে যে তাদের অপারেশন ঘাটি চিহ্নিত হয়েছে এবং তা আক্রান্ত হতে পারে,তাহলে সেই মুহূর্তে তারা আক্রমণে যেতে পারে।সুতরাং অভিযান অত্যন্ত গোপনে এবং সেই কারনে একক ধরনের হ‌ওয়াই উচিত হবে। তাঁর যুক্তি আমরা মেনে নিয়েছি, মা'।বলল জর্জ আব্রাহাম জনসন। 'আমরাও মেনে নিচ্ছি, আংকেল। তাঁর চিন্তায় সবচেয়ে ভালো যেটা,সবচেয়ে কল্যাণ যা, সেটাই গ্রহন করছেন। বাকি আল্লাহ ভরসা। 'জোসেফাইন বলল। 'ধন্যবাদ মা, তুমি টিক‌ই বলেছো। 'বলল জর্জ আব্রাহাম জনসন। 'আংকেল, ওর প্রয়োজন জানা, তাকে সাহায্য করার কাজটা তো হ‌ওয়া উচিত। 'সারা জেফারসন বলল।(পৃষ্ঠা ১৫)
'সেটা আমরাও চিন্তা করেছি, প্রেসিডেন্ট এই নির্দেশ‌ই দিয়েছেন। কিন্তু তার সাথে যোগাযোগের পথ তো আমাদের হাতে নেই।তিনি যোগাযোগ করলেই শুধু আমরা কিছু করতে পারি।'বলল জর্জ আব্রাহাম জনসন। কথা শেষ করে জর্জ আব্রাহাম আবার বলল, 'এস আমরা সকলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। তিনি যেন আহমদ মুসাকে সফল করেন এবং আমেরিকাকে অকল্পনীয় এক বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।' বলল জর্জ আব্রাহাম জনসন। 'আমিন।'বলল জোসেফাইন ও সারা জেফারসন দু'জনেই। 'আংকেল,আমার মা টেবিলে চা দিয়েছেন। আপনি এগোলে আমরাও তাড়াতাড়ি থেতে পারি। সারা জেফারসন বলল। 'অবশ্যই এগোব মা,চল।আমি এমনটাই আশা করেছিলাম।' বলে জর্জ আব্রাহাম জনসন উঠে দাঁড়িয়ে পা বাড়াল। খাবার টেবিলে সবাই বসে। দেরিতে টেবিলে এল দাউদ ইব্রাহিম। বুঝাই যাচ্ছে সে মাত্র গোসল করেছে। 'ভাইয়ার একটু দেরি হয়েছে, তুমি কিছু মনে করো না,বাবা।সে পাহাড় থেকে নেমেই ঘুমিয়ে পরেছিল। 'কিন্তু জনাব আহমদ মুসা এবং সে এক সাথেই নেমেছিল!'বলল নূর ইউসুফ। 'তা নেমেছিল।কিন্তু আমাদের অতিথি স্যার এসেই ঝর্নায় গিয়েছিলেন গোসল করতে।আর ভাইয়া ঘুমিয়ে পড়েছিল। 'বসেই আবার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল দাউদ ইব্রাহিম। আহমদ মুসার সামনে দাঁড়িয়ে একটা ছোট বাউ করে তার পিতার দিকে তাকিয়ে বদদ, 'বাবা, পাহাড়ে উঠতে গিয়ে বুঝলাম আমাদের অতিথি স্যার স্টিলের মানুষ এবং আমি নিছক‌ই মাটির মানুষ।'থামল দাউদ ইব্রাহিম। 'তোমাদের পাহাড়-‌অভিযানের গল্প শোনার জন্যে আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। কিন্তু তোমার এ কথার অর্থ কী?'বলল নূর ইউসুফ।(পৃষ্ঠা ১৬)
'বাবা, আমার ছোট বেলা থেকেই পাহাড়ে উঠা আর বেড়ানোর অভ্যাস আছে। কিন্তু আমাদের পাশের পাহাড়ে আমি কখনো উঠিনি। ক্লাইমবারদের জন্য এটি বিপজ্জনক পাহাড়। বাবা, পাহাড়ের গা মসৃণ এবং পাথর অত্যন্ত শক্ত।পাহাড়ের গা থেকে কতবার যে পিছলে পড়েছি, শুধু গাছের সাহায্যে বেঁচে গেছি!কিন্তু স্যার ক্লাইম্বিং,গাছে ওঠা, গাছ ও পাহাড়ের মাঝে রোপ‌ওয়ে তৈরি করা ও ব্যবহারে অসম্ভব দক্ষ। আমার মনে হয়েছে তিনি প্রফেশনাল ক্লাইম্বার।দশ ঘন্টার ক্লাইম্বিং-এর পর‌ও তার মধ্যে কোন ক্লান্তি নেই। এসেই উনি গোসলে গেলেন আর রাজ্যের ক্লান্তি নিয়ে আমাকে ঘুমাতে হলো।'বলল দাউদ ইব্রাহিম। নূর ইউসুফ ও মরিয়ম মারুফ দুজনেই তাকালো আহমদ মুসার দিকে। 'জনাব আহমদ মুসা, আপনার সম্পর্কে যতটা জানি, মাউন্টেনেয়ারিং-এর ধারে কাছে আপনি নন। কিন্তু দাউদ ইব্রাহিম যা বলল,সেটাতো সত্য।সেটা কিভাবে সম্ভব?'বলল নুর ইউসুফ। 'পাহাড়ে উঠা, পাহাড়ে হাঁটা ছোট বেলা থেকেই করেছি।কিন্তু মাউন্টেনেয়ারিং শেখা যাকে বলে,সেটা আমি শিখিনি।আমার বিশ্বাস,আল্লাহর দেওয়া জ্ঞান-বুদ্ধি ও কমনসেন্স কাজে লাগিয়ে সম্ভব সবকিছুই করা যায়। আমি সেটাই করেছি জনাব।'আহমদ মুসা বলল। 'ঠিক।তবে সবার জন্য এটা নয়। যা আহমদ মুসার পক্ষে খুব‌ই সম্ভব।' বলে মুহূর্তকাল নূর ইউসুফ চুপ থেকে আবার বলে উঠলো,'কিন্তু এত কষ্ট করে পাহাড়ে উঠে কি পেলেন?'সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলনা আহমদ মুসা। ভাবছিল প্রথমে সে। 'আমার প্রথম দেখার বিষয় ছিল,এই পাহাড়ের পথে ডেথ ভ্যালিতে যাওয়া যায় কিনা।ঢ় আর...।' আহমদ মুসার কথার মাঝেখানেই নূর ইউসুফ বলল, 'কি দেখলেন জনাব মুসা? আর আপনি কি নিশ্চিত,ওখানে গিয়ে কাজ হবে? 'যখন জানার সব পথ বন্ধ হয়,তখন মানুষের মন কথা বলে উঠে। আর মন বা আত্মা যখন পরিপূর্ণভাবে আল্লাহমুখী হয়ে দাঁড়ায়, তখন মনের কথা হয় আল্লাহর ইচ্ছার প্রতিধ্বনি।জনাব, আমি আমার মনের কথাকে মেনে নিয়েছি।'বলল আহমদ মুসা।(পৃষ্ঠা ১৭)
'ধন্যবাদ জনাব আহমদ মুসা। আলহামদুলিল্লাহ, আপনার কাছে বহু বিষয় শেখার আছে।সত্যই মন কথা বলে। তবে আমাদের মত লোকদের মনের কথায় শয়তানি কথার ভেজাল থাকতে পারে।'নূর ইউসুফ বলল। 'না জনাব,আসলেই যা মন বা আত্মার কথা,সেখানে শয়তান ঢুকতে পারেনা।ওটা আল্লাহর ইচ্ছার জন্য বরাদ্দ।সেখানে দেখা যাবে, চোর যখন চুরি করে, তখন‌ও সে ভাবে সে ভালো কাজ করছেনা। কিন্তু জাগতিক নানা যুক্তি তাকে চুরির দিকে ঠেলে দেয়।'বলল আহমদ মুসা। 'ধন্যবাদ জনাব আহমদ মুসা। ঠিক বলেছেন। সব অপরাধীই অপরাধকে খারাপ মনে করে। মানুষের বিবেক বা আত্মা কোন মন্দ,অন্যায় নির্দেশ দেয়না। মেনে নিলাম শয়তান এখানে ঢুকতে পারেনা।'নূর ইউসুফ বলল। 'ধন্যবাদ জনাব।'বলল আহমদ মুসা। 'ওয়েলকাম জনাব আহমদ মুসা। ডেথ ভ্যালিতে যাওয়ার কি ঠিক করলেন?'নূর ইউসুফ বলল।'যেতে চাই।কিন্তু এ পাহাড়ের পথে যাওয়া অসম্ভব।' আপনার কাছেও অসম্ভব কিছু আছে স্যার?'মরিয়ম মারুফা বলল। গাম্ভীর্য নেমে এলো আহমদ মুসার চোখে-মুখে।বলল, 'আমরা যারা মানুষ,তাদের সামর্থ্যের সীমা আছে,আল্লাহ‌ই শুধু অসীম।আমাদের চিন্তা-কর্ম,জ্ঞান-বুদ্ধি সব‌ই সসীমতার ঘেরা টোপে আটকানো।' বলে একটা দম নিয়ে আবার বলল, 'এমন বিপজ্জনক পাহাড় আমি এর আগে কোথাও দেখিনি।পাহাড়ের এ পাশটা কিছুটা স্লোপিং,গাছ-গাছড়াও যথেষ্ট আছে। কিন্তু ও পাশটা একদম খাড়া। গাছপালা কিছুই নেই। পাহাড়ের মাথা থেকে দড়ি নামিয়ে দিয়ে সেটাকে অবলম্বন করে নিচে নামা সম্ভব।কিন্তু এভাবে নামা নিরাপদ নয়। ডেথ ভ্যালিতে ওদের ঘাঁটি থাকার সন্দেহ যদি সত্যি হয়,তাহলে কিছু করার আগেই ধরা পড়ে যেতে হবে। ' 'তাহলে এখন কি ভাবছেন?ডেথ ভ্যালিতে যাবার উপায় সম্পর্কে কি চিন্তা করেছেন? 'মরিয়ম মারুফা বলল।(পৃষ্ঠা ১৮)

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Moghbazar
Dhaka
1203