18/10/2026
বিচার ছাড়া মৃত্যুদণ্ড নয়, আইনের নামে হত্যাও নয়!
কোনো সমাজের নিষ্ঠুরতা তখনই প্রকাশ পায়, যখন ন্যায়বিচারের বদলে প্রতিশোধ, আইনের বদলে ক্ষমতা আর মানবতার বদলে ধর্মীয় উন্মাদনা জায়গা করে নেয়।
আমার দৃষ্টিতে, একজন নারীকে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়া এক কোপে শিরশ্ছেদ করা শুধু একটি প্রাণহানি নয়, এটি ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও আইনের শাসনের চরম অবমাননা।
প্রশ্ন হলো, কোন আইনে এই মৃত্যুদণ্ড? কোথায় সেই ন্যায়বিচার? ধর্মের নাম নিলেই কি যেকোনো নিষ্ঠুরতাকে বৈধতা দেওয়া যায়? কোরআনের দোহাই দিয়ে কোনো কাজের নৈতিকতা প্রমাণ করতে হলে কোরআনের প্রাসঙ্গিক নির্দেশনাও সামনে আনতে হবে।
আমেরিকার ক্ষমতার রাজনীতি, সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা কিংবা জামায়াত-বিএনপি ও বাংলাদেশের ধর্মীয়-সামরিক ক্ষমতাকাঠামো, কাউকেই সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখা যায় না। যে পক্ষই মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারকে পদদলিত করবে, তার জবাবদিহি চাইতেই হবে।
শয়তানকে খুঁজতে দূরে যেতে হয় না। যখন মানুষ নিষ্ঠুরতাকে ন্যায়, অন্যায়কে ধর্ম আর ক্ষমতাকে সত্য বলে চালাতে চায়, তখনই অমানবিকতার মুখোশ খুলে পড়ে।
আমেরিকা হোক, সৌদি আরব হোক কিংবা বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় শক্তি, কারও জন্যই ন্যায়বিচারের মানদণ্ড আলাদা হতে পারে না।
ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পতন নয়, অন্যায় ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির পতন চাই। ক্ষমতার নয়, মানবতার জয় চাই।