মাশাআল্লাহ । আল্লাহ পাক যোগ্যতা দিয়েছেন কত সুন্দর করে কথা বলার!
Md. Delwar Hossain
Know Thyself, our society and cultures and contemporary technological info.
কামতাপুর রাজ্যের অংশ ছিল আগে রংপুর। কামতাপুরের রাজাদের রঙ্গালয় বলে তখন খ্যাতি ছিল রংপুরের। রঙ্গালয় থেকে রঙ্গপুর>রংপুর নামকরণ হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। এর আশেপাশের জেলাগুলোর নামকরণেও রঙের উল্লেখ দেখা যায়। লালমনিরহাট ও নীলফামারী তে আছে যথাক্রমে লাল ও নীল রং।
"সাদা-কালো এই জঞ্জালে ভরা মিথ্যে কথার শহরে, তোমার আমার নাল-নীল সংসার!"
আর রংপুরে রং তো মেলাই আছে বাহে।
এ রাজ্যের প্রাকৃতজনের মুখের ভাষা হল রাজবংশী ভাষা। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ছাড়াও অবিভক্ত ভারতের উত্তরাঞ্চল কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, গোয়ালপাড়া এলাকার সাধারণ মানুষের ভাষা এই রাজবংশী ভাষা। লেখক দেবেশ রায় ‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’ নামে যে বৃহৎ মহাকাব্যিক উপন্যাস রচনা করেছেন তাতে রংপুর তথা উত্তরাঞ্চলের মানুষের মুখের রাজবংশী ভাষা মুনশিয়ানার সঙ্গে ব্যবহার করেছেন পুরো উপন্যাসেই।
রংপুরের ভাষার কিছু বৈশিষ্ট্য আমাদের কাছে সুপরিচিত। এই ভাষায় ক্রিয়াপদের আগে না বসে। না যাঁও (যাই না), না খাঁও (খাই না)। র বর্ণের পরিবর্তে অ বর্ণ ব্যবহার বেশি, রংপুর হয় অংপুর, রসুন হয় অসুন। ল বর্ণের পরিবর্তে ন ব্যবহারের প্রবণতা। লাউ হয় নাউ, লাল হয় নাল। জায়গার নামের শেষে এ-কার থাকলে যেমন হাটে, মাঠে, ঘাটে হয়ে যায় হাটত, মাঠত, ঘাটত। উত্তম পুরুষে ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ায় হয় খাইম, যাইম, দেখিম। আরও হয় মুঁই (আমি), আমরা (হামরা), তুঁই (তুমি), অঁয় (সে), ওমরা (তারা)।
মুই হনু আসল অম্পুইরা। মাঝত মাঝত হামার সাথোত তোমরা আও কইরেন।
হামরা বোলে অ্যালা বাংলাদ্যাশ ছাড়ি নেপ্যালের মানুষ হনো। তা একান দিক থাকি ভালই হচি, ট্যাকা খরচ করি আর নেপ্যালোত ঘুরব্যার যাবার ন্যাগব্যানায়।
মুরুব্বির ঘর কয়, ছাওয়া পোয়াক বেশি নেকাপড়া করা ভালো নোয়ায়। কথায় কথায় ইংরেজি কইবে হামার সামনোত, এটা হামার সহ্য হবার লয়।
আজ থেকে আড়াইশো বছর আগে রংপুরের কৃষক নেতা নুরুদ্দীন ইংরেজদের কাছে মূর্তিমান বিভীষিকা হয়ে দেখা দেয়। পলাশীতে বিপর্যয়ের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অপশাসন ও লুটপাটের ফলে ১১৭৬ বঙ্গাব্দে সৃষ্ট ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে’ কোটি মানুষ বাংলা ও বিহারে মারা গেছে না খেয়ে। ১৭৮৩ খ্রিষ্টাব্দে নুরুদ্দীন রংপুরের কৃষকদের সংঘটিত করে ইংরেজদের কর প্রদান বন্ধ করেন। ইংরেজ সেনাদের বিরুদ্ধে অসম সাহসিকতার পরিচয় দেখিয়ে যুদ্ধ করেন। এই নুরুদ্দীন সৈয়দ শামসুল হকের লেখায় হয়ে ওঠেন কালজয়ী নূরুলদীন।
"আবার নূরলদীন একদিন কাল পূর্ণিমায়
দিবে ডাক, 'জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?"
এভাবেই প্রায় দু'শো বছর পূর্বে রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের 'জাগো, বাহে ,কোনঠে সবায় ডাকটি সমসাময়িক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বের দাবি রাখে।
আসামের গোয়ালপাড়ার কিছু লোকগান শুনলাম। ভাওয়াইয়া গান। রংপুর, কুচবিহার, জলপাইগুড়ি ও গোয়ালপাড়ার সম্বন্ধ খুবই ঘনিষ্ঠ। ব্রিটিশ আমলে রংপুরের সঙ্গে গোয়ালপাড়া একসঙ্গে ছিল। মূলত রংপুর, কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, গোয়ালপাড়া এদের একসঙ্গে বলা হত রত্নপীঠ। গোয়ালপাড়া বাংলাভাষী এলাকা। এটি এখন ভারতের আসাম রাজ্যের অধীনে। করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি, শিলচর, কাছাড় বাংলাভাষী অধ্যুষিত এলাকা।
১৮২৬ সালে ব্রিটিশরা আসাম দখল করার পর ১৮৭৪ সালে আসামকে চিফ কমিশনারের শাসনে আলাদা প্রদেশ বানায়। সিলেট বিভাগকে বাংলা থেকে কেটে আসামের সঙ্গে যোগ করে। ১৯৪৭ সালে সিলেট (করিমগঞ্জসহ) পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত হয়। করিমগঞ্জ ভোটে জিতেও ভাগ্যের ফেরে আসামে পড়ে। হাইলাকান্দি ও গোয়ালপাড়াতে ভোটই হয়নি। গোয়ালপাড়া বেশ বড় জেলা। ১৯৮৩ সালে এটিকে ভাগ করে মোট তিনটি জেলা করা হয়। গোয়ালপাড়া, ধুবড়ী ও কোকরাঝাড়। ১৯৮৯ সালে আরেকটি জেলার উদ্ভব ঘটে এখানে বঙাইগাঁও নামে।
রংপুর অঞ্চলের প্রধান গান ভাওয়াইয়া। ভাব (মনের অনুভূতি) থেকে ভাও+ইয়া, ভাওয়াইয়া শব্দের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। আরও অনেক মতবাদ আছে। ভাওয়াইয়া গানের চল আছে রংপুর, কুচবিহার, গোয়ালপাড়া জেলায়।
‘বাপুত চেংরা রে ওমুত গাছত চড়িয়া একখান জলপাই পাড়িয়া দে’ কিংবা ‘ওহে গাড়িয়াল ভাই হাঁকাও গাড়ি তুমি চিলমারীর বন্দরে’ ইত্যাদি গান শুধু রংপুর বা দিনাজপুর নয়, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, গোয়ালপাড়া অঞ্চলের অন্যতম প্রধান লোকসংগীত।
(গোয়ালপাড়ার কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী প্রতিমা বড়ুয়া পাণ্ডের গান কমেন্ট সেকশনে দেওয়া হল।)
-মোরশেদ হাসান
কচ্ছপ আর খরগোশের গল্পটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু মজার বিষয় হল আমরা গল্পের শুধু প্রথম অংশটাই পড়েছি।
এই গল্পের আরো ৩ টি অধ্যায় আছে! যা হয়তো আমরা কেউ কেউ পড়েছি বা শুনেছি, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই পড়িনি।
গল্পের বাকি অংশটুকু এবার জেনে নেই তাহলে🥰🥰
🔰১ম অংশ:
এই অংশটা আমরা ছোটবেলায় বইয়ে পড়ছি। এখানে খরগোশ ঘুমিয়ে যায়, আর কচ্ছপ জিতে যায়। প্রথমবার হেরে যাওয়ার পর খরগোশ বিশ্লেষণ করে দেখল তার পরাজয়ের মূল কারণ 'অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস।' তারমানে অতি আত্মবিশ্বাস যে কারো জন্যই ক্ষতিকর। আর কচ্ছপ বুঝল, লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই!
🔰২য় অংশ:
হেরে যাওয়ার পর এবার খরগোশ আবারো কচ্ছপকে দৌড় প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জ করল আর কচ্ছপও রাজী হল।
এবার খরগোশ না ঘুমিয়ে দৌড় শেষ করল এবং জয়ী হল। খরগোশ বুঝল, মন দিয়ে নিজের সামর্থের পুরোটা দিয়ে কাজ করলে দ্রুত সফল হওয়া যায়।
আর কচ্ছপ বুঝল, ধীর স্থির ভাবে চলা ভালো, তবে কাজে উপযুক্ত গতি না থাকলে প্রতিযোগীতা মূলক পরিবেশে জয়ী হওয়া অসম্ভব!
🔰৩য় অংশ:
কচ্ছপ এবার খরগোশকে আরেকবার দৌড় প্রতিযোগিতার আমন্ত্রন জানালো। খরগোশও নির্দিধায় রাজী হয়ে গেল। তখন কচ্ছপ বলল, "একই রাস্তায় আমারা ২ বার দৌড়েছি, এবার অন্য রাস্তায় হোক।" খরগোশও রাজী। অতএব নতুন রাস্তায় দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হল।
যথারীতি খরগোশ জোরে দৌড় শুরু করে দিল। কচ্ছপও তার পিছন পিছন আসতে শুরু করল। কচ্ছপ যখন খরগোশ এর কাছে পৌঁছাল, দেখল খরগোশ দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু দৌড়ের শেষ সীমানায় যেতে পারেনি।
কারণ দৌড়ের শেষ সীমানার আগে একটি খাল আছে। কচ্ছপ খরগোশ এর দিকে একবার তাকালো, তারপর তার সামনে দিয়ে পানিতে নেমে খাল পার হয়ে দৌড়ের শেষ সীমানায় পৌছে প্রতিযোগিতা জিতে গেল।
খরগোশ বুঝল, শুধু নিজের শক্তির উপর নির্ভর করলেই হবে না, পরিস্থিতি আর বাস্তবতা অনুধাবন করাও ভীষণ প্রয়োজনীয়! আর কচ্ছপ বুঝল, প্রথমে প্রতিযোগীর দূর্বলতা খুজে বের করতে হবে, তারপর সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে।
গল্প কিন্তু এখানেই শেষ নয়‼️
🔰চতুর্থ অংশ:
এবার খরগোশ কচ্ছপকে আরেকটি দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য আহবান জানালো এই একই রাস্তায়। কচ্ছপ ও রাজী। কিন্তু এবার তারা ঠিক করল, প্রতিযোগী হিসেবে নয়, বরংএবারের দৌড়টা তারা দৌড়াবে সহযোগী হিসেবে!
শুরু হল প্রতিযোগিতা। খরগোশ কচ্ছপকে পিঠে তুলে দৌড়ে খালের সামনে গিয়ে থামলো।এবার কচ্ছপ খরগোশ এর পিঠ থেকে নেমে খরগোশকে নিজের পিঠে নিয়ে খাল পার হল।তারপর আবার কচ্ছপ খরগোশ এর পিঠে উঠে বাকী দৌড় শেষ করল আর এবার তার দু জনই একসাথে জয়ী হল।
📚এখান থেকে আমরা আসলে কি শিখলাম?
আমরা শিখলাম, ব্যক্তিগত দক্ষতা থাকা খুবই ভালো। কিন্তু দলবদ্ধ হয়ে একে অপরের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলেই আসে সত্যিকারের সাফল্য যেখানে সবাই বিজয়ীর হাসি হাসতে পারে।
20/11/2023
শিক্ষায় আগ্রহীদের স্বার্থে বিষয়টি সংগৃহীত।
বাংলা অঞ্চলের প্রথম মানুষঃ
১. বাংলা অঞ্চলে বসতি স্থাপন করার জন্য প্রথম মানবগোষ্ঠী হিসেবে আগমন ঘটেছিল নেগ্রিটোদের।
২. এরপর অস্ট্রিক নরগোষ্ঠী এসে নেগ্রিটোদের পরাজিত করে এখানে বসতি স্থাপন করে। এক সময় অস্ট্রিকদের সংখ্যাধিক্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তির ফলে নেগ্রিটোরা ক্রমশ এই অঞ্চল থেকে বিলীন হয়ে যায়।
৩. এরপর আগমন ঘটে দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর। দ্রাবিড়রা অস্ট্রিকদের সাথে লড়াই করে এই বাংলা অঞ্চলে বসতি গড়তে সমর্থ হয়।
৪.দ্রাবিড়দের আগমনের পর মঙ্গোলীয় বা ভোটচীনীয়দের আগমন ঘটেছিল এই অঞ্চলে। অষ্ট্রিক ও দ্রাবিড়দের সাথে শক্তি ও সামর্থ্যে টিকে থাকতে না পেরে মঙ্গোলীয়রা এই অঞ্চল পরিত্যাগ করে।
৫. এরপরেই পুরো ভারতবর্ষসহ এই বাংলা অঞ্চলে আর্যদের আগমন ঘটে।
পরবর্তীতে আর্য, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় এসব নরগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে বাঙালি নৃগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়।
Most welcome to know about yourselves, your society and cultures and the global village, you live in.
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka
1217

13/08/2024