Omar Faruque

Omar Faruque

Share

ফেসবুকের ইতিবাচক ব্যবহার চাই; যাতে নিজের অন্যর বা সমাজের উপকার হয় বা দেশের সম্মান বৃ্দ্ধি পায়।

23/10/2025
18/10/2025

আমি নয় আমরা🥰
-----------------

পৃথিবীর সব থেকে অশ্লীল শব্দ হচ্ছে 'আমি। কারণ এই 'আমি' টা তখন পৃথিবীর ভরকেন্দ্রে থাকি! এই 'আমি' টা তখন মনে করে আমাকে কেন্দ্র করেই সব। 'আমি'ই আসরের মধ্যমণি।

এক্ষেত্রে 'আমি' মানে কিন্তু তখন হয়ে যায় 'প্রত্যাশা'!

প্রশ্ন হলো কিভাবে?
কারণ তখন আমরা অন্যের ভুল ধরতে ব্যস্ত থাকি! মনে করি,
*আমার সাথে এমন ব্যবহার করা উচিত ছিল ওর;
*আমাকে এভাবে ভালোবাসা উচিত ছিল তার;
*আমার সাথে এভাবে মোকাবেলা করা উচিত ছিল ওর;
*আমাকে এভাবে সম্মান করে কথা বলা উচিত ছিল তার;
*আমাকে পরীক্ষায় এত নাম্বার দেয়া উচিত ছিল ওনার;
*আমাকে এটা দেয়া মোটেও উচিত হয়নি তার;
* আমাকে সেটা দেয়া উচিত ছিল ওর;
ইত্যাদি! ইত্যাদি!

এই 'আমি'টা কিন্তু অত্যন্ত উচ্চমাত্রার প্রত্যাশা নিয়ে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত পার করছে!

এই 'আমি'র চারপাশে তাহলে কি আছে?
তার চারপাশের পৃথিবী ভর্তি শুধু আমার মতামত, আমার সিদ্ধান্ত, আমার ইচ্ছা, আমার অনিচ্ছা, আমার পছন্দ, আমার অপছন্দ, আমি এটা ভালোবাসি, আমি সেটা চাই, আমি এটা চাই না এই ভাবনাগুলিই ঘুরেফিরে আসতে থাকে! আমি, আমি আর আমিই শুধু প্রতিধ্বনিত হয় ইথারে। এটাই আমিত্ববাদ!

আপনি কি মনে করেন এই আমিময় জীবনটি খুব আনন্দের, সুখকর?
নিজের চোখে একটু আয়না ধরুন তো; একবার কল্পনা করুন জীবনটা শুধু আমার চারপাশের 'আমি'কে কেন্দ্র করেই পাক খাচ্ছে! এরকম একটা জীবন আসলে কতটুকু স্বস্তির? এই 'আমি'টা তখন একদম একা কিন্তু। নিঃসঙ্গতর হয়ে 'আমি'টা টেবিলের একদিকে বসছে। বাকি সারা পৃথিবী টেবিলের উল্টো দিকে দল বেঁধে যুথবদ্ধ জীবন পরিক্রমায় ব্যস্ত। আর এই
নিঃসঙ্গতর 'আমি' কেবল চাইছে, আমাকে দাও, দাও, দাও! কি ভয়ানক একাকিত্ব ভাবা যায়?

অথচ এভাবেই আমাদেরকে ছোটবেলা থেকে বড় করা হয়েছে। মনোস্তত্বের ভাষায় একে সোশ্যাল কন্ডিশনিং বলে। কাজেই অবচেতন ভাবে আশৈশব আমরা শুধু ক্রমাগত নিতেই শিখেছি। আজ এটা, কাল সেটা। শুধু চাই চাই, আর নেই নেই গল্প।

ফলশ্রুতিতে অবচেতনভাবে 'আমি' বিশ্বাস করি অন্যরা আমার(!) চাহিদা মোতাবেক, আমার(!) প্রত্যাশা পূরণ করবেন, সবকিছু আমার(!) প্রত্যাশিত সীমারেখা/দাবিদাওয়া অনুযায়ী হবে!

ঠিক এভাবে বিয়ে, সন্তান, প্রেম, আন্তসম্পর্কের ব্যাকরণ, বন্ধুত্ব, পেশাগত সম্পর্ক ইত্যাদি সবই 'আমার' প্রত্যাশার মাপকাঠিতে স্থির হবে; এটাই আমাদের অবচেতন মনের চাহিদা। এর বাত্যয় ঘটলেই যতো বিবাদ, বিসংবাদ, বিতর্ক! সব কি পাওয়া সম্ভব সচেতন মন যুক্তির খাতিরে একটু বলবার চেষ্টা করলেও অবচেতন মন তো মানে না।

আপনি কি মনে করেন আমরা ধর্মকেও এই 'আমিত্ব' থেকে রেহাই দিয়েছি? আমরা যদি ছোট বাচ্চাদেরকেই রেহাই না দিয়ে থাকি তাহলে ধর্ম কোন ছার!

একটা উদাহরণ দেই! ধরুন, একজন মানুষ যখন উপাসনায় বসেন তখন, শুধু স্রষ্টার কাছে তিনি শুধুই চাইতে থাকেন যে, "আমাকে এটা দিন, সেটা দিন, এটা দেবেন না, সেটা দেবেন না"! প্রার্থনার আলাপ শতকরা কতো ভাগ 'আমি চাই' আর 'আমি চাই না'তেই সীমাবদ্ধ সেটা নিজেই একটু ভাবুন।

অথচ দিনশেষে কয়জন বলেন যে, " হে আমার স্রষ্টা আমি আপনাকে নিঃশর্ত ভালোবাসি বিধায় আপনাকে এটা দিতে চাই, সেটা দিতে চাই, এটা নিন, সেটা নিন!"

তাই প্রশ্ন হলো কৃতকর্মের পাপের জন্য শাস্তির বিধান না থাকলেও কি রীতিবদ্ধ সদাচারণ মানুষ করতো?

কয়জন মানুষ মৃত্যুর পরে শাস্তির ভয়ে শুধু মাত্র সদাচারণ করেন সেটা মনোআধ্যাত্মিক মৌলিক গবেষণার বিষয় হলেও এখানে আলোচ্য নয়।

জন এফ কেনেডি যখন প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠেন তখন তিনি প্রথমেই বলেন, "দেশ আপনার জন্য কি করতে পারছে সেটা জানতে চাইবেন না, বরং আপনি দেশের জন্য কি দিতে পারছেন সেটা ভাবেন প্রথমে!"

ঠিক সেভাবে বলা যায়, মানুষ আপনার সাথে কি করলো সেটা ভেবে কাতর না হয়ে বরং আপনি আপনার সীমিত সক্ষমতায় একটি মমতাময় সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজে কি করছেন? কিন্তু কয়জন সেটা নিজেকে জিজ্ঞেস করেন?

নিজের চোখে এই আয়নাটি 'আমি' ধরি না কারণ 'আমি' শব্দটি তখন মনোজগতের ক্যানভাস জুড়ে বিশালাকার ধারণ করে। তখন আমার চাহিদা, আমার প্রত্যাশা, আমার চিন্তা, আমার ইচ্ছা, আমার অনিচ্ছা এত বড় হয়ে যায়, এত শক্তিশালী হয়ে যায় যে আমরা স্রষ্টার সামনে মাটিতে মাথা কুটলেও নিজের মনে বারবার বলতে থাকি, "হে সৃষ্টিকর্তা, আমাকে এটা দিন,আমাকে সেটা দিন, আমি এটা চাই, আমি সেটা চাই, আমি, আমি, আমি।"

যত বেশি জীবন 'আমি' শব্দটা দিয়ে পরিচালিত করব, ততো বেশি এই 'আমি' হতাশায় নিমজ্জিত হবে। কারণ পৃথিবীর মানুষ আমার প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য বেঁচে থাকেন না। আমার ইচ্ছা অনিচ্ছার মূল্য দিতে বাধ্য নয়।

তাই 'আমি' একটি অশ্লীল শব্দ। সামাজিক স্বাস্থ্য এটা অবশ্য পরিত্যাজ্য।

এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে আমরা কিভাবে এই 'আমি'কে পরিত্যাগ করব?

উত্তর হল,
প্রথমত, বাস্তবসঙ্গত প্রত্যাশা করতে দোষ নেই কিন্তু মনে রাখতে হবে সবাই আমার প্রত্যাশা পূরণ করবেন না।

দ্বিতীয়ত, অন্যদের দিকে প্রকৃত (লোক দেখানো না) মমতার হাত বাড়িয়ে দিলে আমিত্ব কমে। কারণ,
* যখন আপনি অন্যের থেকে যত্ন চাইবেন তখন আপনি আদৌ যত্ন পাবেন কিনা বিষয়টা অন্যের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু যখন আপনি নিজে খোলামেলা, স্বচ্ছ, সততার সাথে অন্যকে যত্ন করতে চাইবেন তখন আপনাকে কে আটকাবে? সেই মুহূর্তে আপনার কাউকে তোয়াক্কা করবার দরকার নেই।
* আপনি যখন অন্যের কাছ থেকে মর্যাদা, সম্মান চাইবেন তখন অন্য ইচ্ছা হলে দেবে, ইচ্ছা না হলে দেবে না; কিন্তু যখন আপনি অন্যকে সম্মান দেবেন, মর্যাদা দেবেন তখন আপনাকে আটকায় সাধ্য কার?
* যখন আপনি অন্যের থেকে ভালোবাসা, মমতা চাইবেন অন্যের থেকে সে দিতেও পারে নাও দিতে পারে; কিন্তু যখন আপনি নিজে ভালোবাসা, মমতা অন্যকে দেবেন তখন কার ক্ষমতা আছে আপনাকে আটকানোর?
* যখন আপনি অন্যের কাছে সাহায্যে চাচ্ছেন মানুষ আপনাকে তখন সাহায্য করতেও পারে নাও করতে পারে; কিন্তু যখন আপনি আপনার সীমিত সক্ষমতার মধ্যে অন্যকে সাহায্য করতে চাইবেন তখন কার দুঃসাহস আছে আপনাকে আটকানোর?

আর ঠিক এভাবেই যাত্রা শুরু হয় আমি থেকে আমরাতে! মূলকথা হলো মানুষ যত 'আমি', 'আমি' বলে নিজের জন্য চাইবে তত হতাশ হবে, আর বদলে যত অন্যকে দিতে চাইবে আনন্দ ততই বাড়বে। তাই বলছি আমি একটি অশ্লীল শব্দ।

কারণ দিন শেষে, we are not independent we are interdependent.

একটা সময় আমার মধ্যে খুব আমি আমি ভাবছিল। আমার ধারণা ছিল আমি খুব ভালো বুঝি। ইদানিং যত দিন যাচ্ছে নিজের সীমাবদ্ধতা তত স্পষ্ট হচ্ছে। নিজের চোখে আয়না ধরলে আগের সেই আমিত্য সম্পন্ন মানুষটিকে নিয়ে এখন হাসি পায়।

যারা 'আমি' 'আমি' করতে ব্যস্ত তাদের একটু নিজেকে খোঁজ নিতে বলবো তার নার্সিসটিক পার্সোনালিটি আছে কিনা। কারণ তিনি মনে করছেন তিনি ঠিক, অথচ আশেপাশের মানুষগুলোর প্রচন্ড ভোগান্তি তৈরি করছেন নিজের অজান্তে এই 'আমিময়' চিন্তা থেকে। এহেন মানুষ পরিত্যাজ্য।

যাঁরা আমি'র সীমানা ছাড়িয়ে আমাদের বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন তাদের প্রতি স্বশ্রদ্ধ ভালোবাসা।

[একজন মনোচিকিৎসকের পোষ্ট হতে কপি]

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


238 Dogair Purbopara, Mohakash Road, Sharulia, Demra
Dhaka
1361