03/06/2026
মায়ের প্রতি অবহেলা
পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনানুযায়ী যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
— জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী
👇
রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর সন্তানদের অবহেলার বিষয়টি গণমাধ্যমে এসেছে। নূর জাহান বেগম নামের এই নারীর এক ছেলে যুগ্ম সচিব, এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর এই নারীর যে ছেলে যুগ্ম সচিব, তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তার (যুগ্ম সচিব) বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে আজ প্রথম আলোয় ‘মায়ের প্রতি এ কেমন অবহেলা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নূর জাহান বেগম তাঁর মেয়ের সঙ্গে যে বাসায় থাকতেন, সেই বাসার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নূর জাহান বেগমের ঘরসহ পুরো ফ্ল্যাটের অবস্থা অত্যন্ত নোংরা, অস্বাস্থ্যকর। মরদেহের ফুটেজেও নূর জাহান বেগমের ডান চোখে সাদা ফাঙ্গাসের মতো পড়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পল্লবী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলছেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাতে পোকার অস্তিত্ব দেখেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরের সেকশন ৬, ব্লক সি, ১৩ নম্বর সড়কের ভবনটির চতুর্থ তলায় গিয়ে প্রথম আলোসহ অন্যান্য গণমাধ্যমের কর্মীরা দীর্ঘ সময় কলবেল দিয়ে অপেক্ষা করলেও কেউ দরজা খোলেননি। তবে ভবনটিতে থাকা এবং আশপাশের প্রতিবেশীরা বলছেন, ঘরের ভেতরে একজন প্রবীণ নারী যেভাবে মারা গেলেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এলাকাবাসী এমন মৃত্যুকে অমানবিক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নূর জাহান বেগমের মরদেহ পুলিশ উদ্ধারের পর আবার আলোচনায় এসেছে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনটি। ২০২৩ সালে এ আইনের বিধিমালাও করা হয়। আইনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে সন্তানেরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন। পিতা ও মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবেন। আইন না মানলে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন বা অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
প্রথম আলো/ জুন ৩, ২০২৬
03/06/2026
দেশের প্রতিটি নাগরিককে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ঋণের চাপের মধ্যেও সরকার একটি জনমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট তৈরির চেষ্টা করছে।
বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট তৈরি করছি। অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা কঠিন, ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই আমাদের এগোতে হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ ঋণের চাপে রয়েছে। অতীতের নীতিগত দুর্বলতার কারণে অর্থনৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ অবস্থাকে ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি উল্লেখ করেন, বাজেটের একটি বড় অংশ সুদ পরিশোধেই চলে যাচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্টে সংস্কার আনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন বিনিয়োগনির্ভর কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনা এবং বেসরকারি ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোই সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই ঋণনির্ভরতা কমিয়ে একটি টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে। লক্ষ্য হলো এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলমান উদ্যোগগুলো সফল হলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।
03/06/2026
বিএনপি সরকারের ১০০ দিন — জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
#সবারআগেবাংলাদেশ
#বিএনপির_সরকার #গণমানুষের_সরকার
#তারেকরহমান #বিএনপি #সরকারের_১০০_দিন
03/06/2026
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি ও গণতন্ত্রহীন বাংলাদেশকে একটি সুদৃঢ় অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তাঁর প্রবর্তিত ‘উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি’ কেবল তৎকালীন সংকটই দূর করেনি, বরং আজকের আধুনিক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুদূরপ্রসারী পথও তৈরি করে দিয়েছে।
৩০ মে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাসস’কে দেওয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা এসব কথা বলেন।
মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে একটি ‘বাস্কেট কেস’ (তলাবিহীন ঝুড়ি) থেকে ‘সাকসেস কেস’ (সফল রাষ্ট্র)-এ রূপান্তর করেছিলেন বর্ণনা করে ড. মঈন খান বলেন, ‘স্বাধীনতার পরবর্তী নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে তিনি মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণা প্রবর্তন করেন এবং এদেশের কোটি কোটি মানুষের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন। তার খাল খনন কর্মসূচি এবং কৃষিতে বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে এবং উদ্বৃত্ত চাল বিদেশে রপ্তানি করার সক্ষমতা অর্জন করে।’
তিনি বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান দুই চালিকাশক্তি- তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি) এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের যে ভিত্তি, তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তাধারারই ফসল। পোশাক শিল্পের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধাসহ বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করে তিনি এই খাতকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছিলেন।
জিয়াউর রহমান কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং সামাজিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন উল্লেখ করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘জিয়াউর রহমান তৎকালীন বিশ্ব প্রেক্ষাপটে নারী ও শিশুর অধিকারের গুরুত্ব অনুধাবন করে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করে তিনি রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে বিশেষ বিভাগ খোলার পাশাপাশি গবেষকদের আধুনিক গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। এছাড়া শিক্ষা ক্ষেত্রে নিরক্ষরতা দূরীকরণে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে তিনি একটি সামাজিক বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন।’
ড. মঈন খান বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বলয় থেকে বেরিয়ে এসে আমেরিকা এবং চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করে। একইসঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সাথেও বাংলাদেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। মুসলিম দেশগুলোর সাথে ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য তিনি বাংলাদেশের সংবিধানে একটি অনুচ্ছেদও যুক্ত করেন।’
তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জোট ‘সার্ক’ গঠনের ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া জিয়াউর রহমানের শাসনামলেই বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ ৪৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে যে নতুন প্রজন্ম এসেছে, তারা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে অনেক কিছুই জানে না। এ কারণেই তাদের সামনে জিয়াউর রহমানের জীবনের সত্যিকারের দর্শন তুলে ধরতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কে? সেটা দেশের মানুষ সবাই জানেন। তবে তাঁকে সরাসরি জানার সুযোগ আমারও হয়নি। আমি তাঁকে জেনেছি দ্বিতীয় প্রজন্মের মাধ্যমে। প্রথম প্রজন্মে জিয়াউর রহমানকে সরাসরি চিনেছিলেন আমার বাবা আব্দুল মোমেন খান, যিনি জিয়াউর রহমানের সময়কালে খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন। তবে দেশের বর্তমান তৃতীয় প্রজন্মের নাগরিকরা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি জানার সুযোগ পায়নি।’
জিয়াউর রহমানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি চারণ করে বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন, ‘আমার সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যখন প্রথম সাক্ষাৎ হয়, আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি টিমকে বঙ্গভবনে ডেকে বলেছিলেন, আপনাদের এখানে ডেকেছি আমাকে একটি পরামর্শ দেওয়ার জন্য। অসীম ক্ষমতাবান একজন রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি শিক্ষকদের কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আপনারা আমাকে পরামর্শ দেবেন বাংলাদেশের এনআরবি পলিসি (প্রবাসী বাংলাদেশি বিষয়ক নীতিমালা) কী হওয়া উচিত। সে সময় আমরা তাকে এনআরবি বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছিলাম, যা তিনি সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। এতেই প্রমাণিত হয়, ক্ষমতার অহঙ্কার তার একেবারেই ছিল না।
জিয়াউর রহমানকে কাছ থেকে দেখা বিএনপির সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে আমরা হারিয়েছি এমন এক সময়ে, যখন দেশের কল্যাণ প্রত্যাশী জনগণ তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে উন্নয়ন ও শান্তি অর্জনের কর্মযজ্ঞে সক্রিয় ছিল এবং একটি নিশ্চিত ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় উজ্জীবিত ছিল। দেশ-বিদেশে যখন বাংলাদেশ মর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে ১৯৮১ সালের ৩০ মে শুধু জিয়াউর রহমানকে কেড়ে নেওয়া হয়নি; এ দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির জোয়ারও থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। লাখ লাখ অশ্রুসিক্ত মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর যে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা তাঁকে যে অতুলনীয় মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে; তা অতিক্রম করার সৌভাগ্য আর কারও হবে কিনা, তা শুধুই ভবিষ্যৎ বলতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞে বিপর্যস্ত এ দেশের মানুষ একাত্তরের ২৭ মার্চ প্রথমবার ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’ শুনে যেমন উদ্বুদ্ধ ও সাহসী হয়েছিল; ঠিক তেমনি ’৭৫-এর ৭ নভেম্বর দেশের আরেক ভয়াবহ দুঃসময়ে ‘আমি মেজর জেনারেল জিয়া বলছি’ শুনে আশ্বস্ত ও নিশ্চিন্ত হয়েছিল। সবাই এসব সত্য জানে বলেই শহীদ জিয়ার স্মৃতি মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা যায়নি এবং কখনো মুছে ফেলা যাবেও না।’
জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’-এর ধারণা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে ড. মঈন খান বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজের কিংবা পরিবারের জন্য কিছুই রেখে যাননি। এমন একজন মহাপ্রাণ দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা, মাতৃভূমিতে শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী, দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির সোপান রচনাকারী, মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ ফসল বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী এবং বাসযোগ্য ও মর্যাদাবান একটি রাষ্ট্র গঠনে তিনি ছিলেন জনগণের নির্ভরযোগ্য ও প্রত্যাশার বাতিঘর। দেশের ক্রান্তিলগ্নে তিনি দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।’
03/06/2026
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের অন্যতম বৃহৎ ট্রেডিং ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোং-এর একটি প্রতিনিধিদল।
আজ বুধবার সকালে (৩ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
মিতসুই অ্যান্ড কোং জাপানের অন্যতম বৃহৎ ট্রেডিং ও বিনিয়োগ কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক পর্যায়ে লজিস্টিকস, অবকাঠামো, ধাতু, জ্বালানি এবং খাদ্য বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অর্থ সচিব মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
মিতসুই প্রতিনিধিদলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকাতো সাতো, এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস ইউনিটের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার তাকানোবু মুরায়ামা, মিতসুই বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনইচিরো কাওয়ামোতো এবং ঢাকা শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ মনিরুজ্জামান।
03/06/2026
বিএনপি সরকারের ১০০ দিন — গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য 'সর্বোচ্চ স্বাধীনতা' নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
#সবারআগেবাংলাদেশ
#বিএনপির_সরকার #গণমানুষের_সরকার
#তারেকরহমান #বিএনপি #সরকারের_১০০_দিন
03/06/2026
বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের ভয়াবহ যানজট নিরসন, নিরাপদ রেল যোগাযোগ নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শহরকে বাইপাস করে নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের রাণীরহাট জংশন থেকে বগুড়া শহরে প্রবেশের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে সরাসরি গাবতলী পর্যন্ত নতুন রেল সংযোগ স্থাপন করা হবে।
এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।
পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি শহরের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। এই রুটে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং রয়েছে। প্রতিদিন ট্রেন চলাচলের সময় এসব ক্রসিং দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত থাকে।
এর ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নগরায়নের বর্তমান বাস্তবতায় এই রেলপথকে বগুড়া শহরের অন্যতম বড় অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী রাণীরহাট জংশনকে কেন্দ্র করে রাণীরহাট-গাবতলী নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথ অপসারণ করে কাহালু-রাণীরহাট-গাবতলী রুটে আধুনিক ও যুগোপযোগী রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শহরের অভ্যন্তরে রেলক্রসিংজনিত যানজটের স্থায়ী সমাধান হবে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও নিরাপদ, দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও জনবান্ধব হবে। ভবিষ্যৎ নগর সম্প্রসারণ এবং পরিকল্পিত উন্নয়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়াও বগুড়া শহরের মধ্যে থেকে অপসারিত রেল পথটি গাবতলী থেকে বগুড়া হয়ে কাহালু পর্যন্ত ফোর লেন রাস্তা হিসেবে উন্নতি করার পরিকল্পনা রয়েছে ।এছাড়াও বগুড়ার বিদ্যমান রেলস্টেশন কে সংস্কার করে দুর পাল্লার পরিবহন গুলির বাসস্ট্যান্ড করারও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিমন্ত্রীর ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শহরকে রেলক্রসিংভিত্তিক যানজট থেকে মুক্ত করার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বগুড়ার সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে শহরের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত পরিবর্তন, যা কয়েক দশকের পুরোনো যানজট সমস্যার টেকসই সমাধান এনে দেবে।
02/06/2026
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন।
এই অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান ও গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংযোগ, সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখবেন। এই নতুন দায়িত্ব পালনে আমরা তাঁর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।
—
তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার