05/07/2025
হানাফি মাযহাবের উপর আরোপিত আপত্তির জবাব
জবাব
আগা নাই , মাথা নাই, প্রেক্ষাপটের বালাই নাই। কথা একটা কাট ছাট করে নিয়ে এসে অভিযোগ করতে পারাটাই মনে হয় তাদের সফলতা।
তিনটি পয়েন্টে আপত্তির জবাব দিব।
সাথে সাথে তাদের জালিয়াতি এবং অজ্ঞতাও প্রমাণিত হয়ে যাবে।
🌻প্রথম পয়েন্ট:
''''''''''''''''''''''''''''''''''
এই পয়েন্টে দুটি বিষয় আলোচনা করব।
✍🏻এক. إجارة বা চুক্তির পরিচয়।
✍🏻দুই. আপত্তি উত্থাপনকারী ভাইদের ফাতওয়ায়ে শামির ইবারত বুঝার ক্ষেত্রে অক্ষমতা।
✴১ম বিষয়:
✍ ইজারাহ বা إجارة এর অর্থ হলো,
চুক্তি করা, কন্ট্রাক করা ইত্যাদি।
✍🏻*** পরিভাষায় إجارة বলা হয়,
العقد على المنافع بعوض هو مال
অর্থাৎ সম্পদের বিনিময়ে কোন কাজের উপর চুক্তিবদ্ধ হওয়া।
✍ হালাল কাজের বিনিময় গ্রহণ করার ক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়া জায়েজ।
আর হারাম কাজের বিনিময় গ্রহণ করার ক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়া নাজায়েজ।কেননা রাফি' বিন খাদিজ রাযি. এর হাদিসে এসেছে,
مهر البغي خبيث
অর্থ: ব্যভিচারের বিনিময় গ্রহণ করা নিকৃষ্ট তথা হারাম।
( মুসলিম: হা/ ১৫৬৮)।
উক্ত হাদিস দ্বারা বুঝা যায় যে, হারাম কাজের বিনিময় গ্রহণের ক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়া নাজায়েজ।
✍ ইজারাহ তিন প্রকার:
✍🏻এক.
ইজারায়ে সহিহাহ বা বৈধ চুক্তি।
পরিভাষায় ইজারায়ে সহিহাহ বা বৈধ চুক্তি হলো,
ما يكون مشروعا بأصله ووصفه
অর্থাৎ যেই কাজের উপর চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সেই কাজটিও হালাল এবং সাথে যেই শর্ত করেছে সেটিও হালাল।
উদাহরণস্বরুপ, কেউ তাঁর গাড়ি ড্রাইভ করার জন্য এক ড্রাইভারের সাথে এভাবে চুক্তিবদ্ধ হলো যে, ড্রাইবার প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ডিউটি পালন করবে।মাস শেষে ১০ হাজার টাকা বেতন পাবে।
তো উক্ত চুক্তির মধ্যে ড্রাইভিংয়ের কাজটিও হালাল এবং ৮ ঘণ্টা ডিউটির যেই শর্ত করেছে , সেটাও হালাল। এটাই হলো ইজারায়ে সহিহাহ বা বৈধ চুক্তি।
✍ ইজারায়ে সহিহাহ বা বৈধ চুক্তির হুকুম:
শর্ত অনুযায়ী কাজ সম্পূর্ণ করার পর শ্রমিককে পুঙ্খানুপুঙ্খ পারিশ্রমিক দিয়ে দিতে হবে। আর শ্রমিকের জন্য তা নেওয়া হালাল হবে।
কেননা আবু হুরাইরা রাযি. বর্ণিত এক হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো। এর মধ্যে একজন হলো,
رجل استأجر أجيرا فاستوفى منه ولم يعط أجره
অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি যে কোন শ্রমিকের কাছ থেকে সম্পূর্ণ কাজ আদায় করল। কিন্তু, তাকে তার পারিশ্রমিক দিল না।
( বুখারি: হা/ ২২২৭)।
উক্ত হাদিস দ্বারা ইজারায়ে সহিহাহ বা বৈধ চুক্তির হুকুম স্পষ্ট হয়ে যায়।
✍🏻দুই.
ইজারায়ে ফাসিদাহ বা নষ্ট চুক্তি।
পরিভাষায় ইজারায়ে ফাসিদাহ বা নষ্ট চুক্তি হলো,
ما يكون مشروعا بأصله ولا وصفه
অর্থাৎ যেই কাজের উপর চুক্তিবদ্ধ হয়েছে , সেই কাজটি হালাল।কিন্তু, সাথে যেই শর্ত করেছে সেটি হারাম।
উদাহরণস্বরুপ, কোন ব্যক্তি এক মহিলার সাথে এভাবে চুক্তিবদ্ধ হলো যে, মহিলাটি প্রতিদিন তিন বেলার খাবার রান্না করে দিবে এবং সপ্তাহে একদিন তার সাথে রাত্রি যাপন করবে।মাস শেষে তাকে ১৫ হাজার টাকা বেতন দিবে।
উক্ত চুক্তির মধ্যে তিন বেলা রান্নার কাজ হালাল।কিন্তু, সপ্তাহে একদিন ঐ ব্যক্তির সাথে রাত্রিযাপনের যে শর্ত করা হয়েছে তা হারাম।এটাই হলো ইজারায়ে ফাসিদাহ বা নষ্ট চুক্তি।
✍🏻 ইজারায়ে ফাসিদাহ বা নষ্ট চুক্তির হুকুম:
'আজরে মিসিল' নেওয়া জায়েজ। 'আজরে মুয়াইয়ান' নেওয়া জায়েজ নেই।
✍🏻আজরে মুয়াইয়ান মানে হলো,
যতটুকু পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করা হয়েছে, ততটুকু পারিশ্রমিককে 'আজরে মুয়াইয়ান' বলা হয়।
✍🏻 'আজরে মিসিল' হলো,
যেই কাজের ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে , ঐ কাজের জন্য সমাজে যতটুকু পারিশ্রমিক প্রচলিত ততটুকু পারিশ্রমিককে ' আজরে মিসিল বলা হয়।
তো ইজারায়ে ফাসিদাহ এর ক্ষেত্রে আজরে মিসিল নেওয়া জায়েজ। কিন্তু, আজরে মুয়াইয়ান নেওয়া জায়েজ নেই।
অর্থাৎ যতটুকু পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করা হয়েছে, ততটুকু নেওয়া জায়েজ নেই| বরং ঐ কাজের জন্য সমাজে প্রচলিত যতটুকু পারিশ্রমিক দেওয়া হয় , ততটুকু নেওয়া জায়েজ।
✍🏻তিন.
ইজারায়ে বাতিলাহ বা বাতিল চুক্তি।
পরিভাষায় ইজারায়ে বাতিলাহ বা বাতিল চুক্তি হলো,
ما لا يكون مشروعا بأصله ولا وصفه
অর্থাৎ যেই কাজের উপর চুক্তিবদ্ধ হয়েছে , ঐকাজটিও হারাম। সাথে যেই শর্ত করেছে , সেটিও হারাম।
✍🏻*** ইজারায়ে বাতিলাহ বা বাতিল চুক্তির হুকুম:
এই কাজে চুক্তিবদ্ধ হওয়াও হারাম। পারিশ্রমিক গ্রহণ করাও হারাম।
✴২য় বিষয়:
°°°°°°°°°°°°
ফাতওয়ায়ে শামির ইবারত হলো,
ما أخذته الزانية إن كان بعقد الإجارة فحلال عند أبي حنيفة
আরবি ভাষার ব্যবহারিক মারপ্যাচের সমাধান তো গুগল দিতে পারে না!
যদি গুগল সমাধান দিতে পারতো ,তাহলে তো আপত্তি উত্থাপনকারী ভাইয়েরা ফাতওয়ায়ে শামির ইবারত বুঝতে এতগুলো ভুলের সম্মুখীন হতো না!
.
তারা ইবারত বুঝতে গিয়ে চারটি ভুল করেছে।
🔀১নং ভুল:
ইবারতে উল্লেখিত ما দ্বারা ব্যভিচারের মূল্য উদ্দেশ্য নিয়েছে। অথচ ما দ্বারা ব্যভিচারের মূল্য উদ্দেশ্য নয়। বরং ما দ্বারা 'আজরে মিসিল' উদ্দেশ্য।যা একটু সামনের ইবারত তথা,
لأن أجر المثل في الإجارة الفاسدة
দ্বারা বুঝা যায়।
🔀২নং ভুল:
ইবারতে إن كان-এর সর্বনাম( pronoun) هو কে ما -র দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে। অথচ هو সর্বনামটি ما - র দিকে ফিরবে না। বরং الزانية শব্দের অন্তর্গত مصدر বা মূলধাতু زنى এর দিকে ফিরবে।
এমন ব্যবহার কুরআনেও রয়েছে।যেমন সূরা মায়েদার ৮ নং আয়াত:
اعدلوا هو أقرب للتقوى
উক্ত আয়াতে هو সর্বনামটি اعدلوا এর অন্তর্গত مصدر বা মূলধাতু عدل এর দিকে ফিরেছে।
🔀৩নং ভুল:
ইবারতে উল্লেখিত بعقد الإجارة এর با কে سببية তথা কারণ দর্শানোর با মনে করেছে। অথচ এটা কারণ দর্শানোর অর্থে ব্যবহৃত হয়নি।বরং এখানে با টি تلبس তথা মিলিত হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
🔀৪নং ভুল:
ইবারতে উল্লেখিত بعقد الإجارة দ্বারা ব্যভিচারের চুক্তি উদ্দেশ্য নিয়েছে। অথচ এখানে ব্যভিচারের চুক্তি উদ্দেশ্য নয়। বরং ইজারায়ে সহিহাহ তথা বৈধ চুক্তি উদ্দেশ্য।
এই চারটা ভুলের কারণে তারা অনুবাদেও ভুল করেছে এবং মর্ম অনুধাবনে ও ভুল করেছে।আর এই ভুল অনুবাদ দিয়ে আপত্তি তুলেছে।২য় পয়েন্টে সঠিক অনুবাদ দেওয়া হবে।
🌻দ্বিতীয় পয়েন্ট:
'''''''''''''''''''''''''''''''''''
আবু হানিফা রহ. বলেছে কি আর তারা বুঝেছে কি!
আসুন দেখি কোন প্রেক্ষাপটে আবু হানিফা রহ. এই মাসয়ালা বলেছেন।
এক ব্যক্তি বাসায় কাজের মেয়ে রাখল| মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করল। এত ভালো বেতনের চাকরি হাতছাড়া করা যায় না।মেয়েটি রাজি হয়ে গেল। কথাবার্তা ফাইনাল।
কাজ শুরু করার দুই- একদিন পর অসভ্য মালিক মেয়েটিকে বললো যে,
শোন! কাজের মেয়েদের বেতন ৫ হাজার টাকার বেশি হয় না।আমি তোমাকে খুশি করার জন্য ডবল বেতন দিচ্ছি।এবার তুমিও আমাকে খুশি করতে হবে।আমার সাথে বেডে যেতে হবে......
আবু হানিফার মাসয়ালা হলো উক্ত প্রেক্ষাপটের সাথে সম্পৃক্ত।
উক্ত পরিস্থিতিতে বাড়ির কাজ হালাল।তবে সাথে বেডে যাওয়ার যেই শর্ত করেছে তা হারাম।
তাই এই চুক্তি ইজারায়ে ফাসিদাহ তথা নষ্ট চুক্তি হয়েছে।আর ইজারায়ে ফাসিদার হুকুম হলো, আজরে মিসিল নেওয়া জায়েজ। আজরে মুয়াইয়ান নেওয়া জায়েজ নেই।
আবু হানিফা রহ. একথাই বলেছেন যে, ঐ মহিলা ব্যভিচারে লিপ্ত হোক বা না হোক তার জন্য আজরে মিসিল তথা ৫ হাজার টাকা নেওয়া জায়েজ।
কিন্তু, আজরে মুয়াইয়ান তথা ১০ হাজার টাকা নেওয়া জায়েজ নেই। কেননা , মালিক অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, মেয়েটি তার সাথে বেডে যেতে হবে।আর এটা যেহেতু হারাম , তাই অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা নেওয়াটাও হারাম।
এবার শামির ইবারত সামনে আনা যাক।সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।
ইবারতটি হলো,
ما أخذته الزانية بعقد الإجارة فحلال عند أبي حنيفة؛ لأن أجر المثل في الإجارة الفاسدة طيب
সহজে বুঝার জন্য ইবারতের সর্বনামসহ উল্লেখ করা হলো।
ما أي أجر المثل أخذته الزانية إن كان أي الزنا شرطا متلبسا بعقد الإجارة أي الصحيحة فحلال عند أبي حنيفة؛ لأن أجر المثل في الإجارة الفاسدة طيب
অর্থ: যদি বৈধ চুক্তির সাথে ব্যভিচারের শর্ত করা হয় এবং মহিলা ব্যভিচারে লিপ্ত হয় , তাহলে আবু হানিফা রহ. এর নিকটে আজরে মিসিল নেওয়া হালাল।কেননা , ইজারায়ে ফাসিদার ক্ষেত্রে আজরে মিসিল নেওয়া বৈধ।
তো স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আবু হানিফা কি বলেছেন এবং কেন বলেছেন!
পক্ষান্তরে অপপ্রচারকারীরা কী রটাচ্ছে!
🌻তৃতীয় পয়েন্ট:
''''''''''''''''''''''''''''''''
হানাফি মাযহাবের কোন কিতাবের মধ্যে ব্যভিচার মূল্য গ্রহণকে হালাল বলা হয়নি। বরং হারাম বলা হয়েছে।
দেখুন হানাফিদের কিতাবে কি লেখা আছে,
✍🏻১. মোল্লা আলী কারী হানাফি তার কিতাবে লেখেন,
مهر الزانية حرام إجماعا لإنها تأخذ عوضا عن الزنا ووسيلة الحرام حرام
অর্থ: ব্যভিচারী মহিলার মূল্য গ্রহণ সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। কেননা ,এটা ব্যভিচারের বিনিময়। আর হারাম জিনিসের বিনিময়ও হারাম।
(মিরকাতুল মাফাতিহ: ৬/১২)।
✍🏻২. ইমাম সাইয়্যিদ যাদাহ আল হানাফি তার কিতাবে লিখেন,
إنه خبيث حرام بالإجماع, فإن الزنا حرام فكذلك أجرته حراما أيضا
অর্থ: ব্যভিচার মূল্য গ্রহন সর্বসম্মতিক্রমে নিকৃষ্ট হারাম।কেননা, ব্যভিচার হারাম। তেমনিভাবে তার বিনিময়ও হারাম।
( মিফতাহুল জিনান: ২৭১)।
✍🏻৩. আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরি রহ. তার কিতাবে লিখেন,
إن أجرة الزنا حرام عندنا
অর্থ: আমাদের নিকটে ব্যভিচারের বিনিময় হারাম।
( ফায়যুল বারী: ৩/৪৯৯)।
জবাবের সারাংশ হলো:
↕১. আবু হানিফা রহ. এর মাসয়ালাটি ইজারায়ে ফাসিদাহ তথা নষ্ট চুক্তির সাথে সম্পৃক্ত। আর উক্ত মাসয়ালাটি ফাতওয়ায়ে শামির ইজারায়ে ফাসিদার অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
↕↕২. উক্ত মাসয়ালায় ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মতে ব্যভিচারের বিনিময় নেওয়া জায়েজ নয়। বরং আজরে মিসিল নেওয়া জায়েজ। অর্থাৎ উক্ত কাজের বিনিময় সমাজে যতটুকু প্রচলিত ,ততটুকু নেওয়া জায়েজ।
↕↕↕৩. হানাফি মাযহাব মতে ,ব্যভিচারের বিনিময় নেওয়া জায়েজ নেই।
আশা করি সকলে বুঝতে পেরেছেন।
✳টিট ফর টেট এবং এন্টিভেনাম জবাব:
ব্যভিচারের বিনিময় গ্রহণ হানাফিদের নিকট জায়েজ নেই।বরং আহলে হাদিস শায়েখদের নিকট জায়েজ।
আসুন এব্যাপারে আহলে হাদিসের সাথে একটু কথা বলি,
📘হানাফি: ভাইয়া! বৈধ কাজের বিনিময় গ্রহণের উপর চুক্তিবদ্ধ হওয়া কি জায়েজ??
📗আহাফি: হুম,, অবশ্যই জায়েজ।
📘হানাফি: তাহলে তো ব্যভিচারের বিনিময় গ্রহণও জায়েজ?
📗আহাফি: এটা জায়েজ হবে কেন?
📘হানাফি: না, মানে,,, আপনাদের শায়েখ যে ব্যভিচারকে জায়েজ বলেছে। আর জায়েজ কাজের বিনিময় গ্রহণও তো জায়েজ। তাই জিজ্ঞাসা করলাম আরকি।
📗আহাফি: কোন শায়েখ বলেছে? কোথায় বলেছে? দলিল দিন।
📘হানাফি: আপনাদের শায়েখ নবাব নুরুল হাসান খান সাহেব তার এক কিতাবে লিখেছেন যে,
ہر کہ مکرہ شد بر زنا اورا زنا جائز ست,وحد غیرواجب...........................
অর্থাৎ যাদের ব্যভিচার করতে বাধ্য করা হয়, তাদের জন্য ব্যভিচার করা জায়েজ এবং কোন হদ ও ওয়াজিব হবে না।
নারী বাধ্য হওয়ার বিষয়টি তো স্পষ্ট।পুরুষ ও যদি বলে যে,আমার ব্যভিচার করার ইচ্ছা ছিল না।কিন্তু,সেক্সুয়াল পাওয়ার তথা কামতাড়না আমাকে ব্যভিচার করতে বাধ্য করেছে ,তাহলে তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে।
( উরফুল জাদি:২০৮)।
একথা দ্বারা তো স্পষ্ট বুঝা যায়, ব্যভিচার করা জায়েজ।
📗আহাফি:আরে ভাই! এখানে তো বলা হয়েছে ,
পুরুষের কামতাড়না যদি বাধ্য করে ,তাহলে জায়েজ।অন্যথায় জায়েজ নেই।
📘হানাফি:আচ্ছা ভাই!সেক্স না উঠলে কি কেউ একাজে লিপ্ত হয়?
📗আহাফি :না,,
📘হানাফি:তাহলে,,,,,,,,।
📗আহাফি: আসলে আপনি একটা ফালতু লোক।এত ঘুরিয়ে পেচিয়ে সাব্যস্ত করার কি প্রয়োজন? পারলে সরাসরি জায়েজ বলেছে এমন একটা দলিল দিন।
📘হানাফি : ভাইয়া! মুতআ কাকে বলে জানেন?
📗আহাফি: না,, জানিনা। আপনি বলে দিন।
📘হানাফি: মুতআ হলো,
هو أن يستمتع الرجل المرأة إلى أجل معين بقدر من المال
অর্থাৎ পুরুষ মহিলাকে নির্দিষ্ট অর্থ দিয়ে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উপভোগ করাকে মুতআ বলে।
ভাইয়া! বুঝতে পেরেছেন?
📗আহাফি: হুম,, এখন কি হয়েছে?
📘হানাফি: ভাইয়া! মুতআ কি জায়েজ?
📗আহাফি: আরে! এটা জায়েজ হবে কেন? মুতআ আর ব্যভিচারের বিনিময় গ্রহণ একই কথা।
📘হানাফি: কিন্তু, আপনাদের শায়েখ তো জায়েজ বলেছে!
📗আহাফি: কোত্থেকে এসব কথা আমদানি করেন? আচ্ছা, দেখান তো!
📘হানাফি: আপনাদের শায়েখ আল্লামা ওহিদুজ্জামান খান সাহেব তার দুটি কিতাবে লিখেছেন,
"মুতআ জায়েজ হওয়া কুরআনের অকাট্য আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। এবং এটা উত্তম ও বটে।"
(নুযুলুল আবরার :২/৩৩,আল-হাদিয়্যাতুল মাহদি:১১২)।
দেখলেন তো ?
📗আহাফি: হুম,, দেখেছি। এখন কি বলতে চাচ্ছেন? বলেন।
📘হানাফি: দেখলেন! কারা হাদিস বিরোধী ফাতওয়া দেয়? আমরা না আপনারা?
📗আহাফি: এখানে হাদিস বিরোধিতার কি পেলেন?
📘হানাফি: আর কতদিন মানুষকে হাদিসের নামে ধোকা দিবেন?
আর কবে শায়েখপূজা ছাড়বেন?
আচ্ছা হাদিসে কি বলেছে দেখেন,
يا أيها الناس! إني قد كنت أذنت لكم في الاستمتاع من النساء وإن الله قد حرم ذلك إلى يوم القيامة
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন , হে মানুষসকল ! আমি পূর্বে তোমাদেরকে (কারণবশত) মুতআ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামত পর্যন্ত এটাকে হারাম করে দিয়েছেন।
(মুসলিম:২৫০২, ইবনে মাজাহ:১৯৫২)।
এবার বুঝলেন তো কারা হাদিস বিরোধী ফাতওয়া দেয়??
📗আহাফি: হুম,, বুঝেছি।
📘হানাফি: তাহলে আর কোনদিন হানাফি মাযহাবের ব্যাপারে অপপ্রচার করবেন না।ঠিক আছে?
📗আহাফি: আচ্ছা, ঠিক আছে।
আল্লাহ সকলকে বুঝার তাওফিক দান করুন।আমিন।
ইনশাআল্লাহ চলবে,,,,,,,,,,,,,,,