05/05/2026
৫ মে ২০২৬
২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের - ১৩ বছর।
অধিকার এর বিবৃতি
১৩ বছর আগে ঢাকার মতিঝিলে শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটায়। ঐ সময়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখায়।
অধিকার এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিষয়ে সরজমিনে তথ্যনুসন্ধান করে এবং অন্ততপক্ষে ৬১ জন বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দেশে এত বড় একটা হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটলেও ঐ সময়ে দেশে অন্য কোন মানবাধিকার সংগঠন কিংবা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনার কোনো প্রতিবাদ করেনি।
তথ্যনুসন্ধান প্রকাশ করার পর আওয়ামী লীগ সরকার অধিকার এর কাছে নিহতদের নাম ঠিকানাসহ বিস্তারিত তালিকা চাইলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অধিকার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবী জানায় এবং সেই কমিটির কাছে তালিকা হস্তান্তর করবে বলে জানায়। কিন্তু সরকার কোন তদন্ত কমিশন গঠন করে নাই। বরং ২০১৩ সালের ১০ অগাস্ট রাতে অধিকার এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খানকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র সদস্যরা তাঁর বাসার গেটের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়।
গুলশান থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা তাঁকে তুলে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে। সারারাত গুম করে রেখে পরদিন আদিলুর রহমান খানকে আদালতে হাজির করা হয়। ফৌজদারী কার্যবিধি ৫৪ ধারায় আদিলুর রহমান খানকে আটক দেখিয়ে ডিবি পুলিশ তাঁকে রিমান্ডে নেয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশে তাঁর রিমান্ড বাতিল করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর ২০১৩ সালের ১১ অগাস্ট গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা অধিকার কার্যালয়ে তল্লাশী চালিয়ে ল্যাপটপ ও ডেস্কটপসহ অধিকার কার্যালয়ে সংরক্ষিত বিভিন্ন ডক্যুমেন্ট নিয়ে যায়, যেখানে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, নির্যাতন ও নারীর প্রতি সহিংসতাসহ বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ভিকটিম ও তাঁদের পরিবারগুলোর সংবেদনশীল তথ্য ছিল। অধিকারকে হয়রানি ও এর সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সরকার সমর্থিত মিডিয়ার মাধ্যমে নিহতদের ভূয়া তালিকা প্রচারের ব্যবস্থা করে।
ঐ সময়ে সরকার সমর্থিত সংবাদ মাধ্যমগুলো গোয়েন্দা সংস্থার সরবরাহকৃত ভূয়া তালিকা নিয়ে মনগড়া রিপোর্ট প্রকাশ করে। পরবর্তীতে আদিলুর রহমান খান এবং অধিকার এর পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানকে নির্বতনমূলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধনী ২০০৯) এ অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়। আদিলুর রহমান খান এবং এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানকে যথাক্রমে ৬২ ও ২৫ দিন কারাগারে আটক রাখা হয়।
এরপর দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বিচারিক হয়রানীর পর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক জুলফিকার হায়াৎ ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এই মামলায় কোন তথ্য প্রমান ছাড়াই আদিলুর রহমান খান এবং এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানকে অভিযুক্ত করে দুই বছরের কারাদন্দ দেন।
এছাড়াও তৎকালিন হাসিনা সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অধিকার এর কণ্ঠরোধ করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, দুর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন এবং সরকার সমর্থকদের মালিকানাধীন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে হয়রানী করার চেষ্টা করে। এমনকি সরকার অধিকার এর এনজিও নিবন্ধন নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানায়।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞ চালানোর বিষয়টি সামনে আসে। ২০২৫ সালের ১২ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে হাসিনাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
অধিকারএর সুপারিশ
১. অধিকার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
২. অধিকার হতাহতের শিকার পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে।
৩. এই ঘটনায় যে সব মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহারের দাবী করছে।
ছবি: সংগৃহীত
#৫মে #শাপলাচত্বর #হেফাজতইসলাম
27/04/2026
BILINGUAL
গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ অধিকার এবং ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এগেইন্সট টর্চার (ওএমসিটি) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and OPCAT” শীর্ষক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রী , সরকার এবং বিরোধী দলের সাংসদ, সাবেক বিচারপতি, নির্যাতন বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের স্পেশ্যাল র্যাপোর্টিয়ার ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তা , আন্তর্জাতিক এবং দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক, আইনজীবী, সাংবাদিক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্রদের সমন্বয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এই সভায় উল্লেখযোগ্য যে সব সুপারিশগুলো এসেছে তা হল---
১। নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩-এর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
২। শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন করে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন এবং শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তদন্ত, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষমতা থাকতে হবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের।
৩। স্বাধীন, কার্যকর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা (National Preventive Mechanism) গঠন করতে হবে, যা সকল আটকস্থলে নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শন করতে সক্ষম হবে।
৪।জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
৫।স্বীকারোক্তি-নির্ভর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া পরিহার করে প্রমাণভিত্তিক তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। গ্রেফতার পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও রেকর্ড করতে হবে এবং জোরপূর্বক আদায়কৃত স্বীকারোক্তি আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য করতে হবে।
৬।ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ভিক্টিম ও সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে, যাতে তারা নির্ভয়ে বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন।
৭। ভিক্টিমদের জন্য সমন্বিত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে সরকারকে রাষ্ট্রীয় তহবিল গঠন করতে হবে।
৮। পুলিশ বাহিনীর ভেতরে অর্থবহ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
On April 25 and 26, 2026, a conference titled “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and OPCAT” was held in Dhaka as a joint initiative of and the World Organisation Against Torture ( ).
The conference brought together Bangladesh’s Minister of Law, Justice and Parliamentary Affairs; members of parliament from both the ruling and opposition parties; retired judges ,the United Nations Special Rapporteur on Torture; the Ambassador of the European Union to Bangladesh; UN officials; the Vice President of the UN Sub Committee against Torture; representatives of international and national human rights organizations and civil society; former members of the National Human Rights Commission, former police inspectors; lawyers; journalists; and teachers and students from various universities.
Some of the key recommendations that emerged from the conference include:
1. Ensure the effective implementation of the Torture and Custodial Death (Prevention) Act, 2013, and establish effective monitoring and accountability mechanisms to end the culture of impunity.
2. Enact a strong National Human Rights Commission Act to establish an independent, politically neutral, and robust National Human Rights Commission.
3. Establish an independent, effective, and internationally compliant National Preventive Mechanism (NPM) capable of conducting regular and unannounced visits to all places of detention.
4. Enact and effectively implement a law in line with international standards to prevent enforced disappearances.
5. Move away from confession-based investigations and judicial processes, and ensure evidence-based investigations. Interrogations after arrest should be video-recorded, and confessions obtained through coercion must be deemed legally inadmissible.
6. Enact an effective victim and witness protection law to ensure their safety and enable them to participate in judicial proceedings without fear.
7. Establish a state fund to provide comprehensive rehabilitation for victims, including financial, psychological, and medical support.
8. Implement meaningful institutional reforms within the police force.
#জাতীয়মানবাধিকারকমিশন
27/04/2026
জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে | আমার দেশ
অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ড. অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে ....