15/01/2026
এক সময় ইয়েমেনের রাজত্ব দীর্ঘকাল ধরে নিজ জনগণের হাতেই স্থিতিশীলভাবে টিকে ছিল। বাইরের কোনো শক্তি সেখানে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পেত না। লোভ ছিল না। কোনো আগ্রাসনও ছিল না।
কিন্তু সময় তো আর সব সময় এক থাকে না। সেই নীতিতে একসময় এমন এক যুগ এল, যখন ইয়েমেনের ওপর হাবশিদের(আবিসিনিয়ার) প্রভাব পড়তে শুরু করল। সে সময় পারস্যের সম্রাট ছিলেন কিসরা আনুশিরওয়ান।
ইতিহাসবিদ হিশাম ইবন মুহাম্মদ বলেন—ইয়েমেনে হাবশিদের প্রবেশের মূল কারণ ছিলেন সে সময়কার ইয়েমেনের রাজা যু নুওয়াস আল-হিমইয়ারি। তিনি ছিলেন ইহুদি ধর্মের।
একদিন নাজরানের এক দাউস নামক ইহুদি ব্যক্তি রাজা যু নুওয়াসের দরবারে এসে হাজির হলো। সে অভিযোগ করল, নাজরানের খ্রিস্টানরা অন্যায়ভাবে তার দুই মেয়েকে হত্যা করেছে। সে রাজার কাছে বিচার ও প্রতিশোধ চাইল।
এই কথা শুনে যু নুওয়াস ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন। তার ভেতরে ধর্মীয় পক্ষপাত জেগে উঠল। তিনি নিজের ধর্মের লোকদের রক্ষার নামে সেনাবাহিনী নিয়ে নাজরানের দিকে রওনা হলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি ভয়াবহ হামলা চালালেন। সাধারণ মানুষের ওপর চালানো হলো নির্মম নির্যাতন ও ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ।
এই গণহত্যা থেকে নাজরানের এক লোক কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যায়। সে পালিয়ে হাবশার রাজা নাজ্জাশির কাছে পৌঁছে যায়। নিজের জাতির ওপর চালানো নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সব বিবরণ সে খুলে বলে। প্রমাণ হিসেবে সঙ্গে নিয়ে যায় একটি ইনজিলের কপি, যার কিছু অংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।
সব শুনে নাজ্জাশি বললেন—আমার কাছে সৈন্যের অভাব নেই, কিন্তু সমুদ্র পার হওয়ার মতো জাহাজ নেই। আমি রোমের সম্রাট কায়সারের কাছে চিঠি লিখব, যেন তিনি আমাদের জাহাজ পাঠান। তিনি কায়সারের কাছে চিঠি লিখলেন এবং সেই পোড়া ইনজিলটিও প্রমাণ হিসেবে পাঠালেন।
কায়সার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলেন এবং বহু জাহাজ পাঠিয়ে দিলেন। নাজ্জাশি সেই জাহাজে সত্তর হাজার হাবশি সৈন্য পাঠালেন। তাদের প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করলেন আরইয়াত নামের এক ব্যক্তিকে। তাকে তিনি নির্দেশ দিলেন—ইয়েমেন জয় করলে—এক-তৃতীয়াংশ পুরুষকে হত্যা করবে, এক-তৃতীয়াংশ দেশ ধ্বংস করবে, আর এক-তৃতীয়াংশ নারী ও সন্তানকে বন্দি করে নিয়ে আসবে।
এই বিশাল বাহিনীর মধ্যেই ছিল এক সেনা। নাম তার আবরাহা আল-আশরাম। হাবশি বাহিনী সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইয়েমেনের দিকে রওনা হলো। যখন যু নুওয়াস এই সংবাদ পেলেন, তিনি হিমইয়ার গোত্রসহ ইয়েমেনের অন্যান্য গোত্রকে একত্র করলেন এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেন। দুই বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হলো।
শেষ পর্যন্ত যু নুওয়াস পরাজিত হলেন।
এদিকে আরইয়াত ও তার বাহিনী বিজয়ীর বেশে ইয়েমেনে প্রবেশ করল। পরাজয় ও ধ্বংস দেখে যু নুওয়াস গভীর হতাশায় ডুবে গেলেন। তিনি নিজের ঘোড়া ঘুরিয়ে সমুদ্রের দিকে ছুটলেন। ঘোড়াকে সাগরে নামালেন। গভীর জলে ঢুকে পড়লেন এবং শেষ পর্যন্ত ডুবে মারা গেলেন। এভাবেই তার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটল।
আরইয়াত ইয়েমেনে ঢুকে নাজ্জাশির আদেশ বাস্তবায়ন করল—এক-তৃতীয়াংশ পুরুষ হত্যা করা হলো, এক-তৃতীয়াংশ দেশ ধ্বংস করা হলো, আর এক-তৃতীয়াংশ নারী ও সন্তানকে বন্দি করে নাজ্জাশির কাছে পাঠানো হলো।
এরপর আবরাহা-কে সানা নগরী ও ইয়েমেনের অন্যান্য অঞ্চলের শাসক নিযুক্ত করা হলো। কিন্তু আবরাহা নাজ্জাশির কাছে কোনো খাজনাই পাঠাল না।
এই খবর নাজ্জাশির কানে পৌঁছালে তিনি বুঝলেন—আবরাহা বিদ্রোহ করেছে এবং নিজেই শাসন শুরু করেছে।
তিনি আবার সেনাবাহিনী পাঠালেন। নেতৃত্বে আবারও আরইয়াত। উদ্দেশ্য, আবরাহাকে দমন করা। আরইয়াত সানার কাছাকাছি পৌঁছালে আবরাহা তাকে একটি চিঠি লিখল—"তুমি আর আমি এক। আমাদের ধর্ম এক, দেশ এক। আমাদের উচিত নিজেদের দেশ ও ধর্মের কল্যাণ নিয়ে ভাবা। চাও তো আমরা দু’জন দ্বন্দ্বযুদ্ধে নামি। যে জিতবে, রাজত্ব তার হবে। এতে হাবশিদের রক্তপাত হবে না।"
আরইয়াত এতে রাজি হয়ে গেল। কিন্তু আবরাহা ভেতরে ভেতরে বিশ্বাসঘাতকতার পরিকল্পনা করেছিল। সে তার এক দাস আরাঞ্জাদা'কে গোপনে একটি গর্তে লুকিয়ে রাখল। যুদ্ধ শুরু হলে আরইয়াত প্রথমে বর্শা নিক্ষেপ করল। বর্শা আবরাহার মাথা এড়িয়ে তার নাকে আঘাত করল। নাক কেটে গেল, চিরে গেল। এই ঘটনার পর থেকেই তার নাম হয়ে গেল—আবরাহা আল-আশরাম (কাটা নাকওয়ালা আবরাহা)।
ঠিক তখনই গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে আরাঞ্জাদা এক আঘাতে আরইয়াতকে হত্যা করল। আবরাহা তখন তাকে বলল—'তুমি যা চাও, চাইতে পারো।'
আরাঞ্জাদা বলল—'আমি চাই ইয়েমেনের কোনো নারী তার স্বামীর কাছে যাওয়ার আগে আমার কাছে আসুক।'
আবরাহা সেই ঘৃণ্য দাবি মেনে নিল। কিছুদিন সে এই অমানবিক কাজ চালিয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত ইয়েমেনের মানুষ বিদ্রোহ করে আরাঞ্জাদাকে হত্যা করল।
তখন আবরাহা ইয়েমেনবাসীদের বলল—'এখন তোমাদের মুক্ত হওয়ার সময় এসেছে।'
আরইয়াত নিহত হওয়ার খবর নাজ্জাশির কাছে পৌঁছালে তিনি শপথ করলেন—'আমি শান্ত হব না, যতক্ষণ না আবরাহার রক্ত ঝরাই।'
এই খবর পেয়ে আবরাহা নাজ্জাশির কাছে একটি চিঠি লিখল—'হে বাদশাহ, আরইয়াত আপনারই দাস ছিল, আমিও আপনার দাস। সে আপনার রাজত্ব দুর্বল করতে চেয়েছিল এবং আপনার সৈন্যদের ধ্বংস করতে চেয়েছিল। আমি তাকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলেছিলাম, যাতে আপনার কাছে দূত পাঠাতে পারি। কিন্তু সে যুদ্ধ ছাড়া কিছুই মানেনি। আমি যুদ্ধ করেছি এবং জয়ী হয়েছি। আমার শাসন আপনার জন্য; নিজের জন্য নয়। আমি শুনেছি আপনি শপথ করেছেন—আমার রক্ত ঝরাবেন ও আমার দেশ ধ্বংস করবেন। তাই আপনার শপথ পূর্ণ করার জন্য আমি আমার রক্তের একটি শিশি এবং আমার দেশের মাটির একটি থলে পাঠালাম। আমার উপর আপনার অনুগ্রহ বজায় রাখুন। আমি আপনারই দাস। আমার সম্মান আপনার সম্মান থেকেই।
চিঠি পড়ে নাজ্জাশি সন্তুষ্ট হলেন। তিনি আবরাহাকে ক্ষমা করলেন এবং ইয়েমেনের শাসক হিসেবে বহাল রাখলেন।
📚 সূত্র: ইমাম আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি (রহ.)
আল-মুনতাযাম ফি তারিখিল মুলুক ওয়াল উমাম
খণ্ড: ২
14/01/2026
লুকমান ইবনে ‘আদ ছিলেন ‘আদ জাতির একজন ব্যক্তি। দীর্ঘজীবনের কারণে আরবদের মাঝে তাঁকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হতো। বলা হয়—তিনি সাতটি ঈগলের সমান জীবনকাল অতিক্রম করেছিলেন। অর্থাৎ, জীবনের সাতটি দীর্ঘ অধ্যায় তিনি পার করেছিলেন।
তবে এই দীর্ঘ জীবন পরীক্ষাহীন ছিল না। লুকমান নারীদের দ্বারা কঠিন পরীক্ষায় পড়েছিলেন। তিনি যতবারই বিবাহ করেছেন, প্রতিবারই তাঁর স্ত্রী তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এতে তিনি চরমভাবে বিরক্ত হয়ে পড়েন এবং নারীদের প্রতি তাঁর ধারণা নষ্ট হয়ে যায়।
এই বিপদ থেকে বাঁচার আশায় একবার তিনি এক অল্পবয়সী দাসীকে বিয়ে করেন—যে আগে কোনো পুরুষকে চিনত না। তিনি ধারণা করেছিলেন, সে নিশ্চয়ই পবিত্র ও বিশ্বস্ত হবে।
সন্দেহ দূর করতে তিনি তাকে একটি উঁচু পাহাড়ের পাশে পাথর কেটে তৈরি করা ঘরে রাখেন। সেই ঘরে ওঠানামার জন্য ছিল লোহার শিকলের সিঁড়ি। যখনই তিনি বের হতেন, শিকল তুলে নিতেন—যাতে কেউ তার কাছে পৌঁছাতে না পারে।
কিন্তু তাকদীর এমন কিছু ঘটাল, যা তিনি কল্পনাও করেননি। আমালেক গোত্রের এক যুবক একদিন তাকে দেখে প্রেমে পড়ে যায়। নারীটির মনও তার দিকে ঝুঁকে পড়ে। যুবকটি তার গোত্রের লোকদের বলল—'আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ওপর এমন এক যুদ্ধ ডেকে আনব, যা সহ্য করার শক্তি তোমাদের থাকবে না।'
তারা জিজ্ঞেস করল—
'কীভাবে?'
সে বলল—
'লুকমান ইবনে ‘আদের স্ত্রী—সে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।'
তারা বলল—
'তার কাছে পৌঁছাবে কীভাবে?'
সে বলল—
'তোমরা তোমাদের তলোয়ারগুলো জড়ো করো। আমাকে সেগুলোর মাঝে লুকিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলো। তারপর লুকমানের কাছে গিয়ে বলো—আমরা সফরে যাচ্ছি, ফিরে আসা পর্যন্ত তলোয়ারগুলো তার কাছে আমানত রাখতে চাই। আর একটি নির্দিষ্ট দিনের কথা ঠিক করে দিও।'
তারা ঠিক তাই করল। তলোয়ারগুলোর ভেতরে লোকটিকে লুকিয়ে লুকমানের কাছে জমা দিল। লুকমান নিশ্চিন্ত হয়ে সেগুলো ঘরে রেখে বাইরে চলে গেলেন।
লোকটি বের হয়ে এলে দাসী তাকে মুক্ত করে দিল। সে গোপনে আসত, আর লুকমানের ফিরে আসার আশঙ্কা হলে তাকে আবার তলোয়ারগুলোর ভেতরে লুকিয়ে রাখা হতো।
এইভাবে বহুদিন চলতে থাকল। নির্ধারিত দিনে লোকেরা এসে তলোয়ারগুলো নিয়ে চলে গেল। কিছুদিন পর একদিন লুকমান হঠাৎ ঘরের ছাদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন—শুকনো থুতুর দাগ। তিনি স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন—'এই থুতু কে ফেলেছে?'
সে বলল—
'আমি।'
লুকমান বললেন—
'এখন থুতু ফেলো।'
সে ফেলল, কিন্তু থুতু ছাদে পৌঁছাল না।
তখন লুকমান সব বুঝে গেলেন এবং চিৎকার করে বরে উঠলেন—'হায়! আমাকে তো তলোয়ারই সর্বনাশে ফেলেছে!'
তিনি সব তলোয়ার একত্র করে পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে ছুড়ে ফেললেন। সেগুলো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। তারপর তিনি প্রচণ্ড ক্রোধে পাহাড় থেকে নেমে এলেন।
পথে তাঁর এক কন্যার সঙ্গে দেখা হলো—তার নাম ছিল সাহর। সে বলল—
'হে পিতা, কী হয়েছে? আপনাকে এত অস্থির দেখাচ্ছে কেন?'
নারীদের প্রতি চরম অবিশ্বাসে অন্ধ হয়ে লুকমান বললেন—
'তুমিও তো নারী!'
এই বলে তিনি একটি পাথর দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলেন এবং নিজের নির্দোষ কন্যাকে হত্যা করলেন।
এই ঘটনার পর আরবদের মুখে একটি প্রবাদ চালু হয়—
“ما أذنبت إلا ذنب صَحْر”
"সাহরের মতো, যার কোনো অপরাধই ছিল না।"
এটি বলা হয় এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যাকে অপরাধ ছাড়াই শাস্তি দেওয়া হয়। সীরাতবিদগণ বলেন—লুকমান ইবনে ‘আদ মোট একশো পঞ্চাশ বছর জীবিত ছিলেন।
এই ঘটনা, শুহদা বিনতে আহমাদ,আবু মুহাম্মদ ইবনে আস-সিরাজ, প্রমুখদের দ্বারা বর্ণিত হয়েছে।
(সূত্র: আল-মুনতাযাম ফি তারীখিল মুলূক ওয়াল উমাম)
কপিঃমাহমুদ বিন নুর
08/11/2025
Intelligentce talking book
Price-900tk
04/09/2025
ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর দ্বিতীয় বিয়ের গল্প
ইমাম আবু হানিফা হচ্ছেন ফকিহদের ইমাম। ইরাকে জন্মগ্রহণকারী বিশিষ্ট আলেম। তাঁর দৈহিক গঠন ছিল খুবই সুন্দর। কথাবার্তায় ছিলেন বেশ সাহিত্যিক। ছিলেন অত্যন্ত সুমিষ্ট স্বরের অধিকারী। মনের কথা ব্যক্ত করতে পারতেন খুব সুন্দর করে।
গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল শ্যামলা। কাপড়-চোপড় পরতেন খুব সুন্দর। আতর ব্যবহার করতেন খুব বেশি। গাম্ভীর্য ফুটে উঠত তাঁর চোখেমুখে। অনেক সহনশীলতা ছিল তাঁর মধ্যে। ইমাম আবু হানিফা রহ. বিবাহিত ছিলেন। সেই স্ত্রী থেকে হাম্মাদ নামে এক ছেলে জন্মায়।
একদিন চাইলেন আরেকটি বিয়ে করতে। ইচ্ছানুযায়ী ভালো এক পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করলেন ইমাম আবু হানিফা। কিন্তু এ কথা জানতে পেরে তাঁর প্রথম স্ত্রী ছেড়ে চলে যায় তাঁকে। আর বলে, যতক্ষণ আপনি দ্বিতীয়াকে তালাক না দেবেন ততক্ষণ আপনার প্রতি আমি সন্তুষ্ট হব না এবং আপনি আমার কাছে আসার চেষ্টাও করবেন না।
স্ত্রীর এই হঠকারিতা থেকে বাঁচার জন্য ইমাম আবু হানিফা একদিন একটি কৌশল অবলম্বন করলেন। সেটা হচ্ছে, নতুন স্ত্রীকে তিনি বলে দিলেন, যখন তুমি দেখবে আমি প্রথম স্ত্রীর সাথে বসে আছি তখন আমাদের ঘরে প্রবেশ করবে। এমন ভাব ধরবে যেন তুমি আমাকে চেনই না। এমনি মাসআলা জিজ্ঞেস করতে এসেছ।
এরপর প্রশ্ন করবে, এক স্ত্রী থাকতে যদি স্বামী আরেক বিয়ে করে তাহলে কি প্রথম স্ত্রীর জন্য স্বামীকে ছেড়ে যাওয়া বৈধ আছে? কথামতো নতুন স্ত্রী এসে তা-ই করলেন। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরে আবু হানিফা তাকালেন তাঁর প্রথমার দিকে। বোঝার চেষ্টা করলেন তার মনোভাব। প্রথমা বলল, যাই হোক না কেন দ্বিতীয়াকে তালাক না দিলে কিছুতেই আমি মেনে নেব না আপনাকে।
আবু হানিফা তখন বললেন, আচ্ছা, এই ঘরের বাইরে আমার যত স্ত্রী আছে সবাইকেই তালাক দিলাম। (দ্বিতীয়া কিন্তু ঘরের মধ্যেই আছে তখনো। কিন্তু প্রথমা তো তাকে চিনে না। ফলে আবু হানিফার বক্তব্যে সে তালাক হয়নি। অর্থাৎ এতে সাপও মরেছে লাঠিও ভাঙেনি।) তাঁর এই কথা শুনেই সন্তুষ্ট হয়ে যায় প্রথমা এবং তাঁকে মেনে নেয়। অপরদিকে দ্বিতীয়াকেও আর তালাক দেওয়া লাগেনি।(ত্ববাকাতে হানাফিয়্যা: ১/৪৮৩; ইমাম যাহাবি, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ৬/৩৯০-৩৯৯)
‘নবি ও ওলিদের বিয়ের গল্প’ বই থেকে নেয়া।
20/02/2025
উদ্ভোধনী অফারে ৫৬% ছাড়ে মাত্র ১২০০ টাকা। সাথে পাবেন ১৩৬ পৃষ্ঠার একটি বই ফ্রি।
বই : জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম (১,২,৩ খণ্ড বক্সসহ)
মূল : ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি রহ.
তাহকিক : শাইখ শুআইব আরনাউত রহ.
অনুবাদ : সাদিক ফারহান
ফ্রি বইয়ের নাম : অনুরোধগুলো রেখো
লেখক : ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহ.
শর্ট পিডিএফ লিঙ্ক : https://shorturl.at/EzcrX
অর্ডার করুন ইনবক্সে। অথবা আপনার পরিচিত যেকোনো অনলাইন শপে।
প্রয়োজনে: 01765-771773
05/02/2025
রমাদান প্লানার এবং কুরআনের বার্তা এসে পরেছে স্টক শেষ হওয়ার আগে অর্ডার করে ফেলুন।
রমাদান-৯০
তারাবীহ-১৪৫টাকা
19/01/2025
ইংলিশ আর রাহিক ৪কালার
মূল্য মাত্র ২০০০টাকা
13/11/2024
❝গুজারিশ❞ বই পরিচিতি
মানুষের জীবনে, স্মৃতিতে এমনও কোনো ঘটনা থাকে, যা তাকে সারা জীবনের জন্য অর্ধমৃত ও আতঙ্কিত করে রাখে। আমরা হয়তো জানি অথবা জানি না; কিংবা জেনেও না জানার ভান করি—আঙুল তুলে চুপ করিয়ে দেই অভিযোগকারীকে, যা মানুষটাকে সারা জীবনের জন্য মানসিকভাবে পঙ্গু করে রাখে।
নানামুখী নদীর উপর দিয়ে বয়ে গেলেও এই বইয়ের উৎস, তেমনি তিক্ত এক গল্প। পাঠকের সামনে হয়তো খুলে যাবে স্মৃতির দরজা; না হলেও পাঠপরবর্তী অনুভূতিতে সে আগলে রাখবে তার নিকটজন ও স্বজনকে। চোখ-কান খোলা রাখবে, যাতে কোনো শিশু-কিশোরের জীবন তিক্ত না হয়ে ওঠে। এটাই পাঠকের কাছে নিবেদন—গুজারিশ।
বই : গুজারিশ
জনরা : উপন্যাস
লেখিকা : মাজিদা রিফা
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৩১১
মুদ্রিত মূল্য : ৫৬০
প্রকাশনায় : রাহনুমা প্রকাশনী
বইমেলায় পাওয়া যাবে আগামী শুক্রবার থেকে। এই বইটি সহ মোট নতুন ৪টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হবে শুক্রবার।
স্থান : বায়তুল মোকাররম পূর্ব গেইট
স্টল নং : ৩৫।
শর্ট পিডিএফ দেখুন কমেন্টবক্সে।
13/11/2024
৫৫% ছাড়।
#নতুন_বই।
#নবিজির_হাদিসের_দরসে
উপমহাদেশের বিখ্যাত আলিম শাইখ মনজুর নোমানী রহ. হাদিসের বিশাল ভান্ডার থেকে সর্বসাধারণের উপযোগী করে বিষয়ভিত্তিক এক হাজার হাদিস নির্বাচিত করেছেন খুব সুনিপুণভাবে। তারই ভাষান্তরিত রূপ হলো—‘নবিজির হাদিসের দরসে৷’
প্রায় এক হাজার পৃষ্ঠার বই দুটিতে রয়েছে মানব জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় হাদিস। প্রয়োজনীয়তার বিবেচনায় হাদিসগুলোকে তিনি অধ্যায়ভিত্তিক উল্লেখ করেছেন৷ ফলে প্রতিটি অধ্যায় যেন নবিজির একেকটি দরসে রূপান্তরিত হয়েছে৷
হাদিসগুলোকে সহজভাবে বুঝার জন্য প্রতিটি হাদিসে রয়েছে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা। হাদিসের বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে ব্যাখ্যাগুলো যুক্ত করা হয়েছে৷ নিশ্চিত থাকুন, সুখপাঠ্য একটি বই হবে ইনশা আল্লাহ।
বই : নবিজির হাদিসের দরসে (১,২ খণ্ড বক্সসহ)
মূল : মাওলানা মনজুর নোমানী রহ.
অনুবাদ ও ব্যাখ্যা : মুফতি সাইফুল্লাহ আল মাহমুদ
তাহকিক (সংকলন): শাইখ শুআইব আরনাউত রহ.
মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৮৪
বইয়ের ধরণ: হার্ডকভার, প্রিমিয়াম কোয়ালিটি
মুদ্রিত মূল্য: ১৬০০ টাকা
৫৫% ছাড়ে অফার মূল্য: ৭২০ টাকা
ফ্রি আইটেম: (৮০ টাকা মুদ্রিত মূল্যের) একটি বই, দুটি বুকমার্ক।
অফারটি চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইনশা আল্লাহ।
অর্ডার কনফার্ম করতে ইনবক্সে আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার দিন।
11/11/2024
কাঁটা ও ফুল-৬৫০
বিক্রি মূল্য-৪৫০