17/09/2026
যে ব্যাপারটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে -
সর্বোচ্চ দমনপীড়নের পরও শেখ হাসিনা এমেরিকার কাছে মাথা নত করেননি।
★
বিশ্ব রাজনীতিতে পরিস্কার ২টা বলয় তৈরি হয়ে গেছে।
মার্কিন বলয় -
যেখানে এমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া - ৪ ভাই। এটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই হয়ে এসছে, এখনো অটুট আছে।
এবং এই ৪ রাষ্টের স্বার্থের জায়গা হুবহু এক। অস্ট্রেলিয়া খানিক ভিন্ন হলেও বাকি ৩ দেশের স্বার্থ শুধু এক নয়, বরং পরস্পর নির্ভরশীল।
রুশ বলয় -
এই বলয়ে আছে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, উত্তর কোরিয়া এবং বাংলাদেশ।
এটা এখনো নির্মাণাধীন।
এই বলয় গড়তে পুতিনকে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে।
বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতা পুতিনের বলয়কে অনেকটা বেগ দিয়েছে। ফলে এই বলয়ের রাষ্ট্রগুলো বিশ্ব বাস্তবতা মেনে ক্রমশই ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। সবার বাস্তবতা সবাইকে তাগিদ দিচ্ছে আরো জোটবদ্ধ হওয়ার। এবং প্রয়োজনে নিজেদের কিছু স্বার্থ ত্যাগ করে হলেও জোটবদ্ধ হওয়ার।
★★
শেখ হাসিনাকে মার্কিন বলয়ে টানার বহু চেষ্টা ইতিমধ্যে করা হয়েছে।
এমেরিকার পক্ষ থেকে তাঁকে আবারও ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়েছে একাধিকবার।
কিন্তু শর্ত আগেরগুলো - যেগুলো শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে দেয়া হয়েছিল - চট্টগ্রামে ঘাঁটি, বঙ্গোপসাগরের সম্পদ এবং বাংলাদেশের বাজার।
এই শর্তগুলো বিগত ১ দশক ধরে এমেরিকার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেয়া হয়েছিল। তিনি যদি মেনে নিতেন বাংলাদেশে তাহলে ২০২৪ ঘটতো না। তিনি এখনো এবং আজীবন প্রধানমন্ত্রী থাকতেন।
২০২৪ এ শুধু বাংলাদেশে ষড়যন্ত্র হয়েছিল - তা নয়।
নেপালের ঘটনা সবার জানা আছে। কারণ সেটা ঘটেছে।
কোনো ঘটনা না ঘটার মধ্যেও যে আরো বড় ঘটনা থাকতে পারে - তার প্রমাণ ২০২৫ এর ইন্দোনেশিয়া।
একজন শেখ হাসিনা যে কে - সেটা বুঝতে ইন্দোনেশিয়ার দিকে তাকালেই চলে।
বাংলাদেশের মতো করে ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও মাত্র ১ সপ্তাহে এমেরিকার কাছে মাথানত করেছেন। ফলে ইন্দোনেশিয়াতে ঘটনা ঘটেছে - নিরবে।
তিনি চীনকে এভয়েড করেছেন, চীনের সম্মেলনে যাওয়া ক্যান্সেল করেছেন, চীনের সাথে আলোচনারত সকল চুক্তি বাতিল করেছেন।
শুধু তাই নয়। তিনি ১ মাসের মধ্যে ওয়াশিংটন গিয়ে ট্রাম্পের পা ছুঁয়ে সালাম করে এসেছেন। তারপর থেকে এমেরিকার সাথে একের পর এক চুক্তি হয়েছে, হচ্ছে।
২০২৬ এর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই এমেরিকার সাথে ইন্দোনেশিয়ার চুক্তিগুলো হয়েছিল। শর্তগুলো পর্যন্ত আমাদের চুক্তির হুবহু।
মনে আছে - রজার খলিল এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন - ইন্দোনেশিয়ার সাথে তুলনায় আমাদের শর্তগুলো বেটার?
বাংলাদেশে যেসব গোলামী চুক্তি নিয়ে আন্দোলন চলে, অন্তত আমরা কিছু মানুষ আওয়াজ তুলে যাচ্ছি - ইন্দোনেশিয়ার সাথে এমেরিকার হুবহু সেইম চুক্তি হয়েছে। কিন্তু সেখানকার মানুষ সেগুলো নিয়ে এমনকি অবগতও নয়। কারণ - সরকারি দল চুক্তি করেছে, বিরোধী দল এমেরিকার টাকায় সেসব চুক্তির জন্য আন্দোলন করেছিল।
তাহলে উভয়ের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। উভয়েই মার্কিন গোলামী মেনে নিয়েছে।
সুতরাং কথা বলার কেউ নেই।
ব্যাপারটা কোথায়?
ব্যাপারটা মেরুদণ্ডে।
একজন শেখ হাসিনার মেরুদণ্ড আছে।
কিন্তু একজন প্রাবোও সেই মেরুদণ্ড রাখেন না। মেরুদণ্ড অন্য জিনিস রে ভাই!
★★★
তারপরও শেখ হাসিনাকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে -
এমেরিকার বলয়ে এসে এমেরিকার হয়ে কাজ করলে ক্ষমতা অব্যাহত থাকবে।
অব্যাহত মানে চলমান প্রধানমন্ত্রী।
কিন্তু তিনি শর্ত মানতে রাজি নন।
দেশ বিক্রি করে ক্ষমতায় থাকতে চান না তিনি - যেটা ইউনুস - তারেক করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। শেখ হাসিনা মাথা নত করেননি। শেখ হাসিনা দেশ বিক্রি করার কোনো শর্তে পা বাড়াননি।
ইতিহাস এই ঘাউড়া, জাঁদরেল শেখ হাসিনাকে স্যালুট দেবে।
[] Hasnat Nagasaki