Tuly's Diary

Tuly's Diary লিখা-লিখিতে নিজেকে খুঁজে পাই!!

25/09/2026

অদৃশ্য স্পর্শ ।

বাতাসে উড়ছে হৃদয় ,,আর আলতো বাতাসে
উড়ছে চুল ,,,ছুঁয়ে যায়,, ঠিক যেন এক স্পর্শের গল্প-অদৃশ্য ,
কি গভীর !
কি করে কপাট বন্ধ করি,,,নেশা !
শুধু মায়া,, শুধু এইটু- 'আছি'!
আমার আনন্দ,,,,কি বেদনায়
একটুও ক্ষতি হবে না- চলার গতিতে
পৃথিবীর ।
তবুও,,
এক বুক শূন্যতা নিয়ে হেঁটে যাই চেনা গদিতে,
তুমি ছিলে ধুলোমাখা এক চিলতে রোদ,
আমি মগ্ন ছিলাম কোনো এক অদ্ভুত মোহে।
কপাট খোলেনি সেই অবাধ্য বাতাসের,
রয়ে গেছে শুধু কিছু স্মৃতির রেশ,
পৃথিবী চলুক তার আপন নিয়মে,
আমার এই মায়ার চাদরেই হোক সব শেষ।
তবুও...
কেউ আছে -অদৃশ্য
হোক ।

25/09/2026

হয়তো তোমায় হারিয়ে দিয়েছি, নয়তো গিয়েছি হেরে।
থাক না ধ্রুপদী অস্পষ্টতা কে কাকে গেলাম ছেড়ে!

25/09/2026
24/09/2026

সঙ্গী হবে।

দিতে জানতে হয়, শুধু শুধু আমি পাবো সব
-এমন কেন ভাবনা।
মনে হয় কতো বড় হাত বাড়ালে ছোঁয়া যায় ....
আগলে রাখবে অনুভবে ।
সঙ্গী হবে আমার রাতরি দিনের।
না...
কিছু না শুধু তারাদের বলবে -জেগে থাকতে আমার সাথে ।
হিসেব করবো কে বেশী চায়...কে বেশী অভিমানী...কে বেশী অবুঝ...কে বেশী বিশাল ...
তাঁকে ...
হাওয়াকে বলবে ছুঁয়ে যাবে ।
শুধু এইটুকুই ।
বিজয়ী হতে দেখতে চাই.....
বেশী দেবে!
আকাশ হয়ে লাভ কি বলো -মেঘ যদি না ঝরে?
বিশালতার হারাতে চাই।
'আমি আছি'।

23/09/2026

ইচ্ছে হয় সব বলি আজ বৃষ্টি হঠাৎ করে থেমে গেল,,,,,
অনেক কাদা হলো রাস্তায়।
সবজির বাজার দাম চাইলো অনেক!
একটা রিকশা আমার গায়ে পানি ছিটিয়ে থামলো না,, দুঃখিত বললো না,,,,
আবার সন্ধ্যায় কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি আমাকে ভিজিয়ে দিল বলেনি আসবে,,,
সব জানাতে ইচ্ছে হয়।
আকাশ আমাকে জিজ্ঞেস করিনি হঠাৎ বৃষ্টি থামিয়ে দিল,, আবার আমি হাটতে বেড় হলাম বৃষ্টি আমায়
ভিজিয়ে দিলো!
সব বলতে ইচ্ছে হয় তুমি শুনবে,,,,
শুনতে!
আমার সব কথা বলতে ইচ্ছে হয়,,,,তোমার পাশে বসে!
তুমি কি করতে....
আকাশকে বলতে আমার ইচ্ছে আর
অনিচ্ছের খবর রাখতে
বলতে?
আমার পাশে বসে থাকতে,, শুধু আমার জন্য।

23/09/2026

হায় জীবন!
আমার বাসার ছয় তলায় এক ভদ্রলোক থাকেন। বয়সের ভারে শরীরটা এতটাই শুকিয়ে গেছে যে, সামনাসামনি না দেখলে বোঝানো যাবে না মানুষ কতটা জীর্ণ হতে পারে। আমার আব্বার বয়সী না তিনি, তবে বর্তমানে বেঁচে থাকা আমার সবচেয়ে বড় চাচার চেয়েও বয়সে অনেক বড় হবেন।
যখন সিঁড়ি দিয়ে নামেন, প্রতিটা ধাপে পা ফেলতে তাঁর এতটাই সময় লাগে যে মনে হয় তিনি কেবল সিঁড়ি দিয়ে নামছেন না, জীবনের শেষ দিনগুলো পার করছেন।"
এতো আস্তে, এতো সাবধানে তিনি এক একটি ধাপ পেরোন—যেন পায়ের নিচে সিঁড়ি নয়, প্রতিটি ধাপে জমা হয়ে আছে এক একটি বছরের দীর্ঘ ইতিহাস।
সিঁড়ি দিয়ে নামেন খুব আস্তে আস্তে ... উনি ছয়তলায় থাকেন আর আমি চার তলায়,, আমি বেড় হবার সময়
প্রায় ওনার মুখোমুখি হই,
সালামও দিই।
লক্ষ্য করি উনি কেমন যেন কাঁপছেন—হয়তো বয়সের ভারে, নয়তো কোনো কষ্টে।
খুব ইচ্ছে করে হাত বাড়িয়ে দিতে...একটু পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু থমকে যেতে হয়
এই সমাজের অদ্ভুত কিছু অলিখিত নিয়মের কাছে। কাউকে ভালো বলা, কাউকে শ্রদ্ধা করা কিংবা নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করতে যাওয়াটাও এখানে অপরাধের চোখে দেখা হয়।
কোনো ভালো কাজের পেছনেও মানুষ যখন চরিত্রের খুঁত খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন নিজের ভালো মানুষীটাকেও লুকিয়ে রাখতে হয়। এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বে ভরা সমাজে আমাদের বসবাস!"
কথা বলি না ... শুধু সালাম।
একদিন বলেছিলাম-
সিঁড়ি দিয়ে কেন লিফট।
বললেন- না সিঁড়ি ভালো ।
আমি কিছু বলিনি ।
আমার প্রচন্ড কষ্ট হয় উনাকে দেখলে।
একটা সময় এই মানুষটার জীবনে কত কম ব্যস্ততা ছিল, কত প্রাণোচ্ছলতা ছিল! নিজের জীবনে ছিল কত হাসি-আনন্দ আর আকাশছোঁয়া সব স্বপ্ন।
কত চিন্তাভাবনা করে, কত যত্নে মানুষটা নিজের জীবনটাকে গুছিয়ে নেয়—অথচ
জীবন গোছানোর এই লড়াইয়ে একদিন সেই পুরোনো মানুষটাই কেমন যেন হারিয়ে যায় ব্যস্ততার আড়ালে।"
নিজের !!
মানুষটা কাঁপতে কাঁপতে ....উনি নীচে নামেন।
আমার শুধু মনে হয় কেন নীচে নামছেন ...কেন সাথে কেউ নেই ...কেন হাতটা ধরে না কেউ।
আমি কখনো যাইনি অন্য ব্যাপারে কথা বলতে।
আমার কারো সম্পর্কে কোন আগ্রহ নেই কিন্তু আঙ্কেলকে দেখে এত কষ্ট হয় ।
আমি যখন এই বাড়িতে আসি ....
একদিন উনার ওয়াইফ আমার বাসায় এসেছিলেন.... আমার বাসায় বসে অনেক কান্নাকাটি করেছিলেন ওনার চার মেয়ে ....বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন ...দুটা ছেলে... ছেলে দুইটা ওনাদের কাছে থাকেন না... আলাদা থাকেন। এগুলোর জন্য অনেক কেঁদে ছিলেন ...আমাকে অনেক সান্তনা দিলেন... আমিও দিলাম ।
আমি একা থাকি বলে অনেক কষ্ট পেলেন।
বসতে চাইলেন না বললেন ওনার হাজব্যান্ড একা উপরে... আমি চা দিলাম।
একসাথে চা খেয়ে বললাম আর একটু বসেন ।
আমাকে বার বার বললেন -'আপনার খারাপ লাগলে আপনি উপরে আসবেন... আমি আর আপনার আঙ্কেল ছাড়া কেউ থাকি না।'
উনি আমার খালাদের বয়সে হবে ...আমার মেয়ের থেকে ওনার নাতি দুই বছরের ছোট।
এইটুকুই আমি জানি।
হঠাৎ একদিন ফ্ল্যাটে কান্নাকাটি... চিৎকার।
আমি দরজা খুলে নীচে গেলাম .. যেয়ে শুনি ছয় তলার খালাম্মাকে যিনি আমার বাসায় এসেছিলে তিনি ..... হাসপাতালে নিয়ে গেছে খালাম্মাকে ।
এই ভদ্রমহিলা মানে খালাম্মা ইফতারি করে সব গুছিয়ে- এশার নামাজ পড়ার জন্য অজু করতে গিয়েছেন বাথরুমে ...
অনেকক্ষণ বের হয় না... উনারা দুজনই থাকতেন উপরে।
আংকেল বাথরুমে গিয়ে দেখে দাঁড়িয়ে ..খালাম্মাকে ধরতে ... ... খালাম্মা আসতে কাত হয়ে পরে যাচ্ছিল আঙ্কেল ধরেন ....
দোতালায় উনার মেয়ে থাকেন ফোন দিয়েছেন ।
সবাই দৌড়াদৌড়ি করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে নিয়ে গেছে হাসপাতালে ...
ফিরে এসেছেন তবে ....
উনার শরীরটা!
ডক্টর বলেছে অনেক আগে উনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে
কিন্তু আল্লাহ ইচ্ছে দাড়িয়ে ছিলেন ...পরে যাইনি।
জীবন কি বিচিত্র... আমরা!!
মানুষের জীবন যে কে কিভাবে যাবে আমরা কেউই জানিনা।
আজ আঙ্কেলকে দেখলে প্রচন্ড কষ্ট হয় !
দুই ছেলে এক ছেলে খবর কিছুই জানি না ..সে আসেন না।
ছোট ছেলে মাঝে মাঝে আসে এক বিদেশী মেয়েকে বিয়ে করেছেন ...বাংলাদেশেই থাকেন কিন্তু উনি ।
(দারোয়ানের কাছে যতটুকু শুনেছি)
উনি মানে অ্যাডিক্টেড।
বাবার কাছে আসে টাকার জন্য ..এসে টাকা নিয়ে আবার চলে যান.... প্রচন্ড রাগারাগি উনি যেদিন আসেন প্রচন্ড চিৎকারে শব্দ শুনতে পাই।
আঙ্কেলের ছেলে এই ভদ্রলোক কিছুটা পাগল... আমার সাথে একদিন লিফটের ভিতর
আমাকে জিজ্ঞেস করছে -"আপনি একা থাকেন ?"
আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছি আমি চুপ করে ছিলাম।
হঠাৎ করে বলে কি ব্যাপার....
"আমি তো মানুষ কথা বলছি... আপনি উত্তর দিচ্ছেন না। "
তাও চুপ করেছিলাম।
আমি চলে এসেছি আর কিছু বলিনি। আমার পাশে যে ভাই থাকেন উনাকে আমি জানালাম ।
পাশের ভাই বললেন -কোন ভয় নেই আমি দেখছি।
আরেকদিন উনি দেখি লিফটের ভেতর..আমি আর লিফটে উঠিনি।
আরেকদিন আমি নামছি উনি লিফটের পুরোটা আটকে নিচে দাঁড়িয়ে আছে আমি বললাম- একটু সরবেন আমি নামবো।
আমাকে
এমনভাবে কথা বললেন - "আমাকে কি যে মনে করেন আপনি ...আমি কি মানুষ না।'
আমি কিছু বলিনি।
আমি উপরে উঠে এসেছি।
দারোয়ান বললো- এসে এই সব করে সবার সাথে।
দারোয়ান বলল ৬ তালায় যে ভদ্রলোক আঙ্কেলের নাম বললেন...
বললেন হায়রে মানুষের জীবন এই ছেলে আসে বাবার সাথে প্রচন্ড খারাপ ব্যবহার করে চলে যান ।
বাবা মানে আঙ্কেল একাই থাকেন দোতলার মেয়ে খাবার পাঠায়...
গাড়িটা বিক্রয় করে দিয়েছেন .... রেখে কি লাভ বাবার লাগবে না ... বাবা তো কোথাও যায় না শুধু খরচ..ছেলে মেয়েদের সিদ্ধান্ত ।
গাড়িটা বিক্রি করে দিয়েছেন .. গ্যারেজ ভাড়া দিয়েছে । দোতলায় যে ছোট মেয়ে থাকে তিনি চাকরি করেন কিনা জানিনা।
সকালের চা দশটা এগারটার দিকে কিংবা বিকেলে যে নামে সিঁড়ি দিয়ে সামনে গিয়ে দোকানে চা খেয়ে আসেন।
এক কাপ চা!
মেয়ে চা পাঠায় না শুধু খাবার।
আমাদের পৃথিবী .... আমাদের সন্তান।
আমরা সব কিছু আমাদের সন্তানকে ঘিরে করি ।আমাদের সন্তান আমাদের আনন্দ বেদনা। আমরা সন্তানের জন্য সব ছেড়ে দিতে পারি কিন্তু একটা বয়সে এসে বাবা মাকে দেখার দায়িত্ব ।
দায়িত্ব!!
অবাক লাগে সব রেখে তো যাবেন....
এই গাড়ি বিক্রি করে মেয়ে নিয়েছে ।
বাবা-উনি শুধু অপেক্ষায় আছেন মৃত্যু !
একটু যত্ন!
আঙ্কেলের গায়ের শাট কি পুরনো ময়লা।
দারোয়ান বললো -মেয়ে নাকি বলে বাবার জন্য কোন. কাজের ছেলে পাওয়া যাচ্ছে না যত্ন নেওয়ার । কাজের মেয়ে মানুষ বাবা একা কিভাবে ঢুকবে।
আমারই মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় চা নাস্তা পাঠাই কিন্তু বাংলাদেশ!
আমার দেশ বাংলাদেশ।
কাউকে ভালো বললেও অপরাধ হয়ে যায় যেহেতু আমার হাজব্যান্ড নেই ।
অনেক চিন্তা ভাবনা করে চলতে হয় ।আমি এই ফ্ল্যাটের কারো সাথেই কোন কথা বলি না ।
আজকে আট বছর নয় বছর এখানে আছি আর আমি শুধু বের হই আর ঢুকি বাসায়।
কিছু মানুষ আছে পৃথিবীতে কিছু মানুষকে বিনা কারণে অপছন্দ করেন এমনই একজন আছেন ছয় তলায়। আমাকে প্রায় বলবেন -আপনি কারো সাথে কথা বলেন না কেন ।
আমি কিছু বলি না ...হেসে উপরে উঠে চলে আসি।

হায়রে জীবন ...সব পড়ে থাকবে উনি হয়তো চলে যাবে যেকোনো সময়.....
দারোয়ান বললো ছেলে হঠাৎ করে বাসায় এসে টাকার জন্য সব খোঁজাখুঁজি করে .... ছেলে মাঝে মাঝে রাতে এসে বাসায় থাকেন...উনি চা খেয়ে যে টাকাটুকু বাকী থাকে দারোয়ানের কাছে রেখে যান ।
তারপর উপরে উঠে!
আঙ্কেলকে দেখে এতো কষ্ট হয় ।
মনে হয় বাসাটা কি কেউ ঝাড় দেয় !
না .....
ধুলোবালিতে নিশ্চয়ই মাখামাখি .... বিছানার চাদর নিশ্চয় অপরিষ্কার.... শুয়ে থাকেন ।
বসেই থাকেন আঙ্কেল এই ধুলো মাখা বাড়িতে ।
পৃথিবী কত রকমের....
আনন্দ বেদনা দিয়ে গড়া ..
কত বিচিত্র মানুষের জীবন!
একেকজনের একেক রকম কষ্টে গড়া পৃথিবী!
পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের জীবন আসলেই যে কতটা বৈচিত্র্যময় এবং ভিন্ন ভিন্ন গল্পে ঘেরা।
একই পৃথিবীর নিচে কেউ হয়তো পরম সুখে দিন কাটাচ্ছেন.... আবার কেউ চেনা ওই আঙ্কেলের মতো ধুলোবালি আর অপরিচ্ছন্নতার মাঝেও ...এক অদ্ভুত সান্ত্বনা বা নিয়তি মেনে নিয়ে বেঁচে আছেন।
একেকজনের কষ্টের ধরন একেক রকম—
কারও কষ্ট হয়তো দৃশ্যমান অভাবের...কারও কষ্ট একাকীত্বের...আবার কারও কষ্ট মনের ভেতরের কোনো না বলা বেদনার।
এই আনন্দ...বেদনা আর বিচিত্র লড়াইয়ের যোগফলই হলো মানুষের জীবন।

22/09/2026

"তুমি যেখানেই যাও, আমি সঙ্গে আছি!"

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

21/09/2026

যতটুকু সময় ভালো থাকি,,, তুমিও থাকো সাথে।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tuly's Diary posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category