আমরা অনেক সময় বলি এতো গরম সহ্য করতে পারছি না।
অনেক সময় বলি এতো ভারী জিনিসগুলো নিয়ে আমি যেতে পারবো না।
অনেক সময় বলি ভালো লাগছে না।
কতো কিছু বলি ,,,পারছি না ,,,পারবো না কিন্তু
কতো ভারী ব্যথা,, কষ্ট ,,বেদনা এতো ভারী মনে হয় তবুও পারচ্ছি।।
তবু যে পারতে হয়।
চিন্তার সাথে,,,, ভাবনার সাথে,, ইচ্ছের সাথে,,, কতো!!! তারপরও আমরা পারি ,,,পারছি ,,, পারতে হয়,,,পারবো ইনশাল্লাহ!
Tuly's Diary
লিখা-লিখিতে নিজেকে খুঁজে পাই!!
'মা'।
আমার রাত জাগা তারা!
আমি স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি,, অনেক স্বপ্ন দেখি,,, জেগে জেগে স্বপ্ন দেখি।
ভেবো না কষ্ট নেই...ভুলে গেছি...পাই.....তবে এখন নিজেকে পছন্দ করি ...ভাবি আর কতো দেবো!
একটু শুধু চেষ্টা....
নেই .... আমার জীবনে এর থেকে আর বড় কষ্ট কি!
থাক,
সবার থেকে দুরের নিজেকে নিয়ে নিজে এই আমি......
চায়না!
আমার কাছে চায়না মানে এখন রুজু আপা !!
আমাদের পরিবারের মা-খালাদের সবার পায়ে ব্যাথা, হাঁটুতে ব্যাথা।
পারিবারিক সূত্রে পাওয়া।
এটা আমাদের কাছে অনেকটা স্বাভাবিক।
আমার যেমন ১৮ বছর আগে একটা অ্যাক্সিডেন্টে পা ভেঙ্গে গেছে তাই স্ক্রু লাগানো আছে সাথে পারিবারিক সূত্রে পাওয়া এই ব্যথা ।
অনেক কষ্ট পেয়েছি বা পাচ্ছি,,অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি,, থেরাপি নিচ্ছি।
সাথে আমার বড় বোনের ব্যথা ছিল।
জানিনা কি বলবো ডাক্তারদের ভুল না আমাদের ভাগ্য নামকরা একটা হাসপাতাল অনেক দিন ধরে চিকিৎসা করছিল বুঝতে পারিনি ব্যাপারটা কি!
যখন ব্যাপারটা কি ,,,ডাক্তার বললেন তখন আমাদের সবার মাথার উপরে আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।
একটা পরিবারের উপরে কতোটা কষ্টের একটা অসুখের নাম যারা এই অসুখটার সাথে পরিচিত তাঁরা হয়তো কিছুটা অনুধাবন করতে পারবে!
আমি যখন শুনলাম সেই রাত আমার ,,,আমার অনুভূতি আমি প্রকাশ করতে পারবো না,, প্রেসার এত বেড়ে গেল ,,, আমি একা থাকি নিজস্ব অনেক সমস্যা কিন্তু
আমার রুজু আপা!
আমি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না কোন ভাবেই না !
আজও মুখে আমি সে অসুখটার নাম মুখে আনতে পারিনি। প্রতি মুহূর্তে আকাশের দিকে তাকিয়ে নামাজের বিছানায় যত রকমের দোয়া করেছি,,, করছি।
আমার রুজু আপা আমার থেকে অল্প কিছুদিনের বড়,,, একসাথে বেড়ে উঠেছি ।
আব্বা আম্মার আদরের রোজ !
খালাম্মাদের প্রথম ভাগ্নি প্রিয় রোজ।
আর আমার বড় বোন ,,বন্ধু ,,গার্জিয়ান,,শাসনকর্তা যাই বলে আমি আখ্যায়িত করি আমার ছোটবেলা 'ও'কে ঘিরেই!
আমার স্বভাব আর ও স্বভাব পুরোপুরি বিপরীত ।
আমি কারো সাথে কথা বলতে লজ্জা পেতাম লাজুক ঘরের কোণে আর রোজ আপা যেখানে থাকতো পুরো জায়গা মাতিয়ে রাখতো,, পাড়ায় কাকে কি নববর্ষের খেতাব দিতে হবে,,, তখন আমরা যখন ছোট ছিলাম এটা খুব ছিল।
প্রচন্ড আলাপী,, প্রচন্ড প্রতিভাবান ,,ভালো কবিতা লিখতেন,,, ভালো গান গাইতো ,,সুন্দর করে সাজতে পারতো,,, পাড়ার সবাই এক নামে সবাই পছন্দ করতো,,,রোজ আপার অনেক ভক্ত ছিল !!
আমাকে আমার আব্বা আম্মা কখনোই খুব একটা শাসন করেনি ।শাসন করেছে রুজু আপা আর আদরো করেছে রোজ আপা।
যখন মেট্রিক পাশ করলো কলেজে ভর্তি হলো বান্ধবীরা সবাই মিলে সিনেমা দেখতে যেতো,,,,রোজ আপা সবাইকে বলতো তোমরা চলে যাও,,, আমি বাসায় যাবো আমার ছোট বোনটাকে নিয়ে আসতেছি। 'ও' বাসায় আসতো এসে আমাকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যেতো,,, কারো ছোট বোনের সাথে থাকতো না,, একমাত্র আমি,, ওর বান্ধবীরা ।
প্রচন্ড সৌখিন একটা মানুষ ,,,অভিমানী একটা মানুষ,,, কিছু হলে রাগ করতো আমি আর আমার ছোট বোন তিথি অনেক কষ্ট করে রাগ ভাঙ্গাতাম ছোট সময়ের কথা বলছি।
যখন শুনলাম অসুখটার নাম !
তার সাথে সাথে আমার চোখের সামনে ভেসে উঠলো অসংখ্য স্মৃতি ।
আমার দু চোখে শুধু স্মৃতি আর রোজ আপার এই অসুখ আমি মেনে নিতে পারছিলাম না কোন ভাবেই!
সে অন্ধকারে একা রুমে আমি খুব কম কাঁদতে পারি,,, পারি শুধু একা ,,যখন একা থাকি তখন একা থাকি ,,, নিজেকে বারণ করতে পারি না,, বাধা দিতে পারি না !
সে কষ্ট শুধু আমার সাথে অন্ধকার রাত ,,আমার পাশে আমি !!
শুরু হলো আমার পরিবারের আমার ভাই ,,বোনের ছেলে,, দুলাভাই ,,আমার ছোট বোনদের কোথায় ভালো চিকিৎসা। একেকজনের একেক রকম,, শুরু হলো সেই জার্নি,,, সে জার্নি কতটুকু বেদনাদায়ক আমি লিখে বোঝাতে পারবো না!
প্রতি ডাক্তারের কাছে দুলাভাই, আমি রোজ আপা।
দুলাভাইয়ের দিকে তাকালে মায়া লাগতো হার্টের রিং পরানো বয়স্ক একজন মানুষ। ৪২ বছর যার সাথে জীবন কাটিয়েছে তার আজ এই দুঃসময় ,,,কিছুটা এলোমেলো করছিল ।
আমি কখনো দুলাভাইকে বড় মতো শাসন,, ছোট বোনের মত ,,,কখনো ছোট বোনের মতো বড় ভাইকে বলা "ভুল হচ্ছে আপনার ভুল হচ্ছে,,
আপনাকে শক্ত থাকতে হবে! "
কত রকমের টেস্ট ইউনাইটেড এখন কন্টিনেন্টাল যার নাম তারপর স্কয়ার তারপর এভার কেয়ার প্রতিটা টেস্ট একবার থেকে দুবার তিনবার করেছি আমরা,, যদি ভুল হয়,, মনে হয় যদি বলে, না ভুল হয়েছে ।
দুর্ভাগ্য!!
তারপর সিদ্ধান্ত এই দেশে না শুরু হল অর্থের যোগান আমরা একটা মধ্যবর্তী পরিবার আলহামদুলিল্লাহ ।অনেকের থেকে হয়তো বা কিছুটা কিন্তু এই রোগ প্রচন্ড ব্যয়বহুল একটা চিকিৎসা।
তারপর কোন দেশ ভালো হবে আমার বোনের ছেলে খবর নিতে থাকলো ।
আমার বড় বোনের ছেলে দেশের বাইরে থাকে ।সে পাগলের মত তাঁর মায়ের জন্য। তখন আসতে পারছে না তাঁর পায়ে একটা অপারেশন হবে।
কি পরিস্থিতি ,, কি কঠিন সময়!!
আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন সম্পদ ,,সন্তান,, অর্থ ,,স্বাস্থ্য দিয়ে আমরা পরীক্ষা দেবো!
কতটুকু পারবো !!
তা শুধু আমাদের মহাশক্তি বলতে পারবেন।
এই বিশ্বাসে আমরা এগোতে থাকলাম!
আমি আমার বোনের দিকে তাকিয়ে শুধু লুকিয়ে চোখের পানি ফেলি।
আব্বা আমাকে বলতো 'ও'র মন্ত্রী ।ওকে বলতো রাজা !
আমি মন্ত্রী!!
কেন যেন আমার আম্মা আব্বা আমার পরিবার ছোট থেকে আমি কিছু বললে খুব শুনে ।
আমি যদি আব্বার কাছে কিছু চাইবার জন্য দাঁড়ালে আব্বা বলতো" মন্ত্রী তুমি কি নিয়ে এসেছো ,,,,তোমার রাজার ফরমাস নিয়ে !"
দুলাভাই এখনো বলে- তুলি তোর কথা তোর বোন খুব শুনে"।
আমি যা বলি শোনার চেষ্টা করে।
সে রুজু আপা আমার পাশে বসে আছে চুপচাপ শুনছে তাঁর অসুখের কোন পর্যায়ে কতটুকু যাচ্ছে !
কি কঠিন সময় !
আমি আমার ভাইকে বললাম আমি শুনতে পারবো না আমাকে রুমে ডেকো না!!
রুজু আপা ডাক্তার দেখিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে আমরা দুই বোন পাশাপাশি বসে থাকতাম,, কোন কথায় নেই আর আমার মনের ভিতর চলত সেই ছোটকালের কথা !
সেই সুন্দর পুতুল খেলার দিনগুলো !
আমি কোন কথা না শুনলে,,,
আমার উপর অভিমান করলে আমার পুতুলগুলো নিয়ে যেতো।
যে বলতাম আর কখনো ভুল করবোনা মিষ্টি হেসে সেগুলো ফেরত দিতো।
আমি কোন গল্পের বই পড়ছি ,,,বড়দের বই পড়ছি না তো,, আমার আম্মা সেদিকে খেয়াল করতো না কিন্তু রোজ আপা তা করতো!
আজ আমি রোজ আপার পাশে বসে রোজ আপার দিকে তাকিয়ে ভাবছি ,,কি করে সম্ভব! কিভাবে ,,,কি করলে সব আগের মতো হয়ে যাবে!
সুস্থতা সবচেয়ে বড় নেয়ামত আল্লাহর!
আল্লাহ আসলে মানুষকে ধৈর্য দিয়ে দেন ,,শক্তি দিয়ে দেন মানুষ সব পারে আলহামদুলিল্লাহ!!
মাঝে মাঝে বলে" তুলি আমি আর নিতে পারছি না। "
তখন আমি বলি -রুজু আপা আমি তোকে নিয়ে গর্ব করছি ,,আমি তোকে নিয়ে অহংকার করছি! তুই এতো কঠিন পরিস্থিতিতে শান্ত হয়ে বসে আছিস ,, আল্লাহর রহমত দান করবেন ইনশাল্লাহ !
একটু চঞ্চল ,,একটু সৌখিন,, একটু অভিমানী বোনটা আমার !!
সবার কাছে কৃতজ্ঞ। রুজু আপা কৃতজ্ঞ খবর নিচ্ছে যারা বারবার বলে রুজু আপা।
আমাকে বারবার বলছে "তুলি তুই আমার সাথে দৌড়াদৌড়ি করছিস তোর শরীর খারাপ এমনিতেই ,,আমি তো তোরে ঋণশোধ করতে পারবো না। "
আমি বললাম -"তুই যদি আর একবার কথাই বলিস আমি আর তোর সাথে আসবো না !"
আমি কি করে বোঝাই আমার কোন জায়গায় ব্যথা ,,,আমি কি করে বোঝাই আমার কষ্ট ,,,আমি কি করে বোঝাই তোকে আমি কি দিয়ে সান্ত্বনা দিবো,, সামর্থ বা শক্তি আমার নেই!
শুরু হলো কোন দেশে গেলে ভালো হবে ইন্ডিয়া ব্যাংকক ,,, সিঙ্গাপুর ,,চায়না !
প্রচন্ড খরচ সব জায়গায় আমরা চালাতে পারবো না।
ইন্ডিয়া যোগাযোগ করা হলো 'ও'র ছেলে সবকিছু পাঠালো ঠিক হলো ইন্ডিয়া যাবে।।
তার মধ্যে আমার ভাই খবর নিলো ,,ইন্ডিয়া ডক্টর এবং চায়নার ডক্টরের সাথে কথা বলে ,,,,চায়নায় চিকিৎসাটা ভালো আছে শুরু হলো চায়না !
চায়না! চায়না।
আমি রোজ আপার সাথে সাথে থাকি আর টিভিতে চায়নার হাসপাতালের সব youtube এ সব ব্লক গুলো দেখা শুরু করলাম ।
শুধু দেখছি আমি জানি আমি কিছুই করতে পারবো না।
আমার ভাই দৌড়াচ্ছে চায়নার ভিসার জন্য বোনের ছেলে ওদিক থেকে সব করছে ।
সব ঠিক হয়ে গেল চায়না রওনা দিবে হঠাৎ খবর আসলো চায়না তাঁদের নববর্ষের জন্য এক মাস সবাই ,,সব ডক্টর নার্স ছুটিতে ।
আমরা প্রচন্ড ভেঙ্গে পড়লাম!
আমার বোন আমাকে ধরে প্রচন্ড কাঁদলেন আমি বললাম আল্লাহ ভরসা ,,,আল্লাহ ভরসা!
আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য !
এক মাস পারি দিলাম তারপর সব ঠিক হলো আবার সাত দিন ছুটিতে ডাক্তারদের।
শেষ পর্যন্ত আমাদের সেদিনকে আসলো রোজ আপা গেলন চায়না,,, পাড়ি দিলেন!
বলছিলো আমি বিদেশে যাবো না,,, আমি আমার ভাই বোন আত্মীয়স্বজনের মাঝে থাকবো!
প্রিয়জন প্রিয় মানুষ মধ্যে থাকবো।
চিকিৎসা,,, ভালো চিকিৎসা।
সাথী আমার দুলাভাই।
৪২ বছরের সঙ্গী।
আমাদের বড় ভাই নেই ,,আমাদের বড় ভাই আছে সাথে এই ভরসায় ,,, আল্লাহ ভরসা।
ভাগ্যের উপর নির্ভর করে পাঠিয়ে দিলাম আমার রুজু আপা কে!
বারবার শুধু বলে আমার ভাইবোনরা আমাকে এতো আদর করে আগে বুঝিনি।
আমরা অনেক সময় ভালোবাসা দেখাই না,, দেখাতে পারি না ,,,কখনো সময় হয় না আমাদের কিন্তু যখন যতটুকু সময় হয় তখন আমরা বুঝাতে পারি ,,, আমরা ভালোবাসি !!
এইটুকুই অনেক ,,,আমি মনে করি !
ভালবাসা দেখাতে হয় ,,,ভালবাসতে জানতে হয়,, পাশে থাকতে হয় ,,,হাতটা ধরতে হয়!!
এই পর্যায়ে এসে এখানে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারছি অর্থ কত বড় একটা জায়গা রাখে জীবনে !
তারপর অর্থ তো আছেই সাথে সহযোগিতা !
সাহস একটা মানুষ বেঁচে থাকার জন্য শক্তি সঞ্চয় করে যুদ্ধ করে তাঁর ভিতরে থাকা শত্রুর সাথে এটা অনেক।
আমি কৃতজ্ঞ ,,,আমার পরিবার কৃতজ্ঞ সে মানুষটার কাছে সেটা হচ্ছে আমারই একটা ছোট বোন আমার খালাতো বোন বিভা।
জমি জামা বিক্রি করা,, ব্যাংকে ফিক্স ডিপোজিট ভাঙ্গা জন্য সময় লাগে ,,সে সময়টা অনেক সময় পাওয়া যায় না অনেকে বুঝতে চায় না !
যে বুঝেছে তাঁর জন্য রইলো অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া।
এইটুকুই বলতে চাই একজনকে বুঝুন,, একজনকে জানুন,, একটু মানবতা প্রদর্শন করুন।
কষ্টের সময় কষ্টের কথা না বলে সান্তনার কথা বলুন।
সেই কষ্ট পাওয়া মানুষগুলোর দোয়া ,,দোয়ায় আপনার জীবনে কি আসবে আল্লাহ কতটুকু রহমত দিবে আপনাকে,, আপনি হয়তো জানেন না!
কেউ জানে না !!
জীবনে প্রত্যেক ক্ষেত্রে অর্থের প্রয়োজন আছে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই!
কিন্তু মানবতার!
মানবতার জয় হোক!
মানবতা!
আল্লাহ বিনয় পছন্দ করেন ,,সহযোগিতা পছন্দ করেন,, একজনের জন্য একজন হাত বাড়িয়ে দেওয়া পছন্দ করেন ,,তার ভেতরে থেকে দোয়া খুঁজে নেওয়া উচিত আমাদের!
কে কি করছে? কে কতটুকু পারছে। সেটা বিষয় না ।
আমি কি করছি সেটা বড়!!
কে কি করছে সেটা পরে,, আমি পারছি সেটাই আলহামদুলিল্লাহ!!
দোয়া চাই,,,দোয়া ।
পঁচা।
আকাশের কাছে বৃষ্টি চাইলাম,,,দিলো এক টুকরো মেঘ।
জানে মেঘ....জানে বৃষ্টি....জানে তারা.... চাঁদ জানে....আর আকাশ উড়তে দেয়.... শুধু.....
Click here to claim your Sponsored Listing.
