20/01/2026
শহীদ আসাদ কোনো একক মানুষের নাম নয়, তিনি একটি সময়ের নাম। একটি অগ্নিগর্ভ সময়—যেখানে শাসকের বন্দুকের নলের মুখে দাঁড়িয়ে ছাত্রসমাজ প্রথম স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছিল, আর নয়। ১৯৬৯ সালের সেই জানুয়ারির দিনে আসাদ যখন রাস্তায় নামেন, তিনি জানতেন না তিনি ইতিহাসে ঢুকে যাচ্ছেন; তিনি জানতেন শুধু অন্যায় টিকে থাকলে মানুষও টিকে থাকতে পারে না।
আসাদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় তার মূল পরিচয় ছিল না। তার আসল পরিচয়—তিনি ছিলেন শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক সাধারণ তরুণ। আইয়ুব খানের সামরিক শাসন তখন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করে রেখেছে। ভোটাধিকার নেই, কথা বলার অধিকার নেই, অর্থনৈতিক শোষণ চলছে নির্লজ্জভাবে। সেই দমবন্ধ করা বাস্তবতায় আসাদ মিছিলে নেমেছিলেন বুকের ভেতর ক্ষোভ আর চোখে স্বপ্ন নিয়ে।
পুলিশের গুলি তার শরীর ভেদ করেছিল, কিন্তু আসাদের মৃত্যু আন্দোলনকে থামায়নি; বরং তাকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল। তার রক্তমাখা শার্ট হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের ভাষা—শব্দহীন কিন্তু তীব্র। সেই শার্ট দেখেই মানুষ বুঝে নিয়েছিল, এই রাষ্ট্র আর শুধরে নেওয়ার নয়, একে ভাঙতে হবে।
শহীদ আসাদের মৃত্যু ছিল আইয়ুব শাসনের নৈতিক মৃত্যুদণ্ড। তার পরের দিনগুলোতে রাজপথ আর চুপ করে থাকেনি। শ্রমিক, ছাত্র, সাধারণ মানুষ—সবাই নেমে এসেছিল রাস্তায়। এই গণঅভ্যুত্থানই পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের জন্য রাজনৈতিক ও মানসিক জমিন তৈরি করে দেয়। বলা যায়, ১৯৭১-এর বন্দুকের আওয়াজের আগে ১৯৬৯-এর রাজপথেই প্রথম বিস্ফোরণ ঘটেছিল, আর সেই বিস্ফোরণের নাম ছিল আসাদ।
আজ আসাদ গেট দিয়ে আমরা প্রতিদিন যাতায়াত করি, কিন্তু খুব কম মানুষ থেমে ভাবে—এই নামটা কেন? শহীদ আসাদ আমাদের মনে করিয়ে দেন, স্বাধীনতা কোনো দয়া নয়, এটি ছিনিয়ে নিতে হয়। তিনি শেখান, ইতিহাস এগোয় নামী নেতাদের বক্তৃতায় নয়, এগোয় অচেনা তরুণের রক্তে।
শহীদ আসাদ তাই শুধু স্মৃতির অংশ নন। তিনি প্রশ্ন হয়ে থাকেন—আমরা কি আজও অন্যায়ের সামনে দাঁড়াতে পারি, নাকি তার নামটা শুধু একটি বাসস্টপে সীমাবদ্ধ করে রেখেছি?
19/12/2025
একটা মানুষকে কোন যুক্তি, প্রমাণ, বিচার আদালত ছাড়াই ধর্ম অবমাননার দাবী তুলে আগুনে পুড়ায়ে মারা হলো। হাদী ভাইয়ের বোনের মতই সেই ছেলেটার বোনও কাঁদলো। আমরা যারা হাদীর শোকে কেঁদেছি, সেই ছেলেটার বাবা মাও এইভাবেই কাঁদলো নিজের সন্তানটার জন্য৷
একটা মানুষ জ্যন্ত আগুনে পুড়ছে, তার প্রতিটা লোমে আগুনের লোলুপ জিহবা স্পর্শ করছে, লক্ষ কোটি সূচ বিদ্ধ হওয়ার মতো আগুনের প্রথম আঁচ তার গায়ে লাগছে, আস্তে আস্তে তার চামড়া মাংস গলে গলে পড়ছে... একদল মানসিক জম্বি চারপাশে ঘিরে বুনো উল্লাস করছে, মানুষ ও মানবতার এ কী অপমান! মধ্যযুগীয় বর্বরতার ফেসবুকীয় রিল ভার্সন!
ইসলামে ইভেন কোন পোকামাকড়কেও পুড়িয়ে মারা নিষেধ৷ আগুন অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক। কুরবানিতে জবাই করা হয় এমন পদ্ধতিতে, যেখানে প্রাণী সবচেয়ে কম কষ্ট পায়। পশুভক্ষণ যেহেতু মানুষের খাদ্যচক্রের অংশই। ইসলামের নামে একটা মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয় কীভাবে? এটা তো একজাতের খৃষ্টধর্ম অনুসারীদের কুসংস্কারের প্রভাব। বর্বর যুগে নারীদের এভাবে ডাইনি অপবাদ দিয়ে পুড়িয়ে মারা হতো৷
এমন বিচার বহির্ভূত আদালত ও কাজীর রায় বিহীন হত্যা ইসলামে নিষিদ্ধ তো বটেই, জুলুম তো বটেই, এছাড়া মুসলমান হয়ে ধর্ম অবমাননা আর বিধর্মী কারু ধর্ম অবমাননার শাস্তির বিধানও আলাদা। কিঞ্চিৎ লঘুও। ছেলেটা ছিলো হিন্দু। ইসলামি শরীয়া বিচারের আওতা বা এখতিয়ারের মধ্যেই সে পরে না। এরপর নাই কোন প্রমাণ।
ওসমান হাদীর শাহাদাতের রাতে এই মজলুমের মৃত্যুর কথাও যেন আমরা ভুলে না যাই। পত্রিকা তো দূর, কোন অনলাইন পোর্টালেও নিউজটা নাই। পক্ষপাতগ্রস্থ ছেলেটার বাবার যে শোক, অন্যের কাঁধের ওপর ভর দিয়ে কাঁদছে, কান্নার গমকে সারা শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে, তা জাতীয় শোকের চেয়ে কোন অংশে কম?
ছেলেটার শরীরের সমস্ত রগ রেশা গলে গলে পড়ছে, আহত জন্তুর মতো চিৎকার করছে,মাংসপোড়া গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে এসেছে৷ অথচ কোন পুলিশ নেই আর্মি নেই৷ রাষ্ট্রটা চালাচ্ছে কারা? ভ্যাট ট্যাক্স কাকে দিচ্ছি আমরা?
এই বর্বর মব ট্রায়ালের বিচার চাই। সর্বপ্লাবী অনাচারের যুগে মজলুমের পক্ষ নেয়াই আমার জিহাদ। দীপু চন্দ্র দাস, দরিদ্র পোষাক শ্রমিক, তুমি আমার ভাই৷
19/12/2025
ময়মনসিংহে গাছে ঝুলিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে দেয়া হলো।ভিডিওটা পুরাই দেখছি। সামনে আরও ঘটনা ঘটবে যেহেতু সরকার এসব ঠেকাবে না,ফলে যারা ঘটাবে তারা অল্প লোক হলেও পারবে। যেহেতু সামনে হবে এরকম সে কারনে এখনি সেটা দেখার অভ্যাস করুন,এড়িয়ে যাবার দরকার নেই।
অল্প লোক নিয়ে মব করে আত্রাইতে জেএমবির বাংলা ভাই মানুশ মেরে গাছে ঝুলিয়ে রাখত।সে সময়ও পুলিশ পাহারা দিছে। বাংলাদেশে আমরা ১৯৭১ সালের সংগ্রামই শেষ করতে পারলাম না,শ্রেণিসংগ্রামটা কেমনে করবে এখানে?
তারপরও শ্রমিক কৃষকই ভরসা।
অল্প লোকের মবের ভয় না পেয়ে পাল্টা সংগঠিত হোন,পাড়ায় মহলায় গ্রামো হাটে মাঠে কারখানায়।মধ্যবিত্ত থাকুক তবে বেশি ভরসা কইরেন না। গৃহযুদ্ধ বাধলে কি করবেন সেই আলোচনা করেন,প্রস্তুতি রাখেন।
নির্বাচনের বিষয়টিও মাথায় রাখেন,গৃহযুদ্ধ এড়াতে পারলে রক্তপাত এড়ানো যাবে।ভাইয়ের রক্ত ভাইয়ের হাতে এমন দিন না আসুক।তবে যদি আসে আসে তার প্রস্তুতি রাখেন।
২৫ মার্চের মত যেনো না হয়,কোনো প্লান নেই প্রস্তুতি নেই।তাহলে হরেদরে মরার পর প্রতিরোধ করা লাগবে।
19/12/2025
ভারতীয় সহকারী হাই-কমিশান যারা হামলা করতে গেসিল তাদের ছাড়াতে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন স্বয়ং হারুন ইজহার। আল কায়েদা, টিটিপির নেটওয়ার্ক যে বাংলাদেশে যথেষ্ট সংঘবদ্ধ এই সত্য অস্বীকার করে আগানোর কোনো উপায় নাই। বৈষম্যবিরোধী কারামুক্তি আন্দোলনের নামে বাংলাদেশের অ্যাক্টিভ জঙ্গীদের একটা বড় অংশকে ৫ই আগস্টের পর মুক্ত করানো হইসে। পলিটিকালি হারুন ইজহারদের মেইনস্ট্রিম করা হইসে। হাসিনা আর প্রথম আলো মিলে জঙ্গী সাজাইতো এই ন্যারেটিভ দিয়ে বর্তমানে জঙ্গীবাদ নিয়ে সকল ধরনের ইনভেস্টিগেটিভ সাংবাদিকতা বন্ধ করায়ে দেওয়া হইসে। বাংলাদেশে যে জঙ্গি আছে এটা আমরা বুঝি মালোয়েশিয়ায় বাংলাদেশীদের জঙ্গি হিসেবে ধরা পড়ার নিউজ আসলে। এর বাইরে বাংলাদেশে আর কোনো জঙ্গি নাই।
রক মনু, শেহরীন আমিন ভূইয়া, মোহাম্মদ ইশরাক সবাই নিজ পক্ষরে ডেস্পারেটলি বলতেসে খবরদার শরমিন্দা হইয়ো না।
আওয়ামী লীগ আমলে এস আলমের দুর্নীতির গোমর ফাঁস করা, আয়নাঘর নিয়ে রিপোর্ট করা, জুলাইয়ে একাধিক ক্রিটিকাল আর্টিকেল লেখা জাঈমা ইসলাম যখন ডেইলি স্টার বিল্ডিংয়ে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হইতে হইতে স্ট্যাটাস দিতেসেন তখন সেটা শেয়ার দিয়ে শাহবাজ আমীন ভূইয়া লিখতেসেন, "We are not safe in Tel Aviv"। এটা থেকে খুব ক্লিয়ারলি বোঝা যায় জুলাই ঐক্য -টৈক্য হুদাই কথা-বার্তা। নুরুল কবিরের উপর আক্রমণ নিয়ে যারা লজ্জা পাইতে নারাজ, জুলাইয়ের সহযোদ্ধা জাঈমা ইসলাম আগুনে আটকা পড়া নিয়ে যারা মজা নিচ্ছেন, তাদের সাথে তো জুলাইয়ের ভিত্তিতেও কোনো সোশ্যাল কনট্র্যাক্ট দাঁড়ানো সম্ভব না। কালকে কেউ মরে নাই, কিন্তু মানুষ মরতেই পারত। তখনও এদের আচরণ এর চেয়ে ভিন্ন হইত না।
এরা অন্তত জুলাইয়ের প্রথম সারির নেতাদের চেয়ে সৎ। তারা প্রথমে তিন দিন এই ডেঞ্জারাস রেটোরিকে তাল দিলেন যে যারা হাদীর কড়া রাজনৈতিক সমালোচনা করেছে তারাই হাদীর মৃত্যুর জন্য দায়ী, লাশের বদলে লাশ চায়ে ফেললেন, আরেক গ্রুপ 'এবার নেবো রক্ত' স্ট্যাটাস দিলেন, ভারতের হাই-কমিশনের ইট খুলে নিতে চাইলেন, সুশীলতা পরিহারের হুংকার দিলেন, এখন সবাই বলবে ভাঙার নয় গড়ার রাজনীতি চাই।
মবের দায় কেউ নিবে না। পিনাকী ভট্টাচার্যও থারটিনথ আওয়ারে যায়ে 'শান্ত' থাকতে বলবে। কিন্তু মব কেউ ঠেকাবে না। খাইতে পারবে টিটিপি, খাইতে পারবে বড়জোর জামায়াত, কিন্তু মাখাবে সবাই। আমাদের যা যা বুঝার গতকাল আমাদের বোঝা শেষ।
19/12/2025
দক্ষিণপন্থীদের একটা অংশ লাশের রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বাঁচানোর জন্য। আমার দেশের খুনি ভারতে পালায় কীভাবে? পালানোর পর এই উপদেষ্টারা স্বপদে আসীন থাকে কীভাবে?
শরীফ ওসমান হাদীকে কেউ হত্যাযোগ্য করে তোলেনি। কাউকে হত্যাযোগ্য করা হয় এই নিয়তে যে, যখন তাকে হত্যা করা হবে তখন যেন তার একটা জাস্টিফিকেশান তৈরি হয়ে যায়। অর্থাৎ, বিচার চাওয়ার বদলে মানুষ ভিক্টিমের আচরণ ও কৃতকর্ম নিয়ে কথা বলতে শুরু করে। অথচ আমরা দেখলাম হাদীর উপর আক্রমণ হওয়ার সাথে সাথে তাঁর নিজ শিবির ও প্রতিপক্ষ শিবির উভয়ই কোনো যদি, কিন্তু ছাড়া বিচার চাইল। তাহলে ঠিক কীভাবে হাদী হত্যার দায় আব্দুন নূর তুষার, শাহেদ আলম ও প্রথম আলোর হয়, আই হ্যাভ নো ক্লু।
বিচার প্রশ্নে গোটা জাতি আপনাদের সাথে একমত। কিন্তু আপনারা কী এই পলিটিকাল ক্যাপিটালকে কাজে লাগিয়ে ইন্টেরিমকে দায়বদ্ধ করবেন, নাকি আরও নানাবিধ ভাঙাভাঙির কারবারে নামবেন সেটা আপনাদের উপর।
18/12/2025
হাদী হত্যায় যে ডিপস্টেট জড়িত, সেটাতো এখন সবাই কম বেশি বুঝতাছেন। কিন্তু এই ডিপস্টেটের স্বরূপ নিয়েই বিভিন্ন পক্ষে মতভিন্নতা রয়েছে। এসব মতভিন্নতা বাদ দিয়ে যদি আমরা ডিপস্টেটের কিছু কর্মপদ্ধতি বিচার করি, তবে এর স্বরূপ বোঝাটা আমাদের জন্যে সহজ হয়। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা ডিপস্টেটের গ্রুপ আছে অন্ততপক্ষে দুইটা। এই দুই পক্ষ রাজনীতি করে মূলত তাদের প্রতিনিধিত্ব করা কয়েকজন সেলিব্রেটি সাংবাদিক ও ইউটিউবারকে দিয়ে। এই সেলিব্রেটিদের মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে পাওয়া নানান নতুন খবর ফেসবুকে প্রচার হওয়াটা আজকাল ডালভাত হয়ে গেছে। গোয়েন্দারা এবং তাদের প্রতিনিধিত্ব করা সেলিব্রেটিরা এখন এতোটাই প্রভাবশালী যে জুলাইয়ের পর থেকে রাজনীতির ইস্যু এবং গতিপ্রকৃতি মূলত তারাই ঠিক করে দিচ্ছেন। অন্যরা হয় পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াচ্ছেন অথবা মোকাবেলা করার চেষ্টা করছেন।
এখন, হাদী হত্যাকাণ্ডে ডিপস্টেটের কোন পক্ষটা জড়িত? লীগের ফ্যাকশন জড়িত, এটা বলা খুবই সহজ। কিন্তু সেইক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে, ইলিয়াস কি লীগের ফ্যাকশনের? হাদীর উপর হামলা হওয়ার সাথেসাথেই শিবির এবং ইলিয়াস-পিনাকীরা চেষ্টা করেছিল বিএনপির উপর দোষ চাপাতে। কিন্তু হাদির বন্ধুবান্ধব ও ডিসেন্ট পত্রিকার তৎপরতার ফলে খুনির পরিচয় সামনে এসে যাওয়ায় ফার-রাইটদের এই অপচেষ্টা তখন ধোপে টেকে নাই। আজকে হাদী হত্যার বিচার দাবির আন্দোলনকে বিপথে চালিত করলো সেই ইলিয়াস, বাল্কায়েদাপন্থী গ্রুপ, এবং আরো কিছু গোষ্ঠী (যাদের পরিচয় উদঘটিত হওয়া জরুরি)। এর অর্থ হইতে পারে দুইটাঃ
১। হাদী হত্যাকাণ্ডের সাথে ডিপস্টেটের ফার-রাইট অংশটি জড়িত, যারা পিনাকী-ইলিয়াস-মাহমুদুরদের মতো সিভিল সোসাইটির মাধ্যমে নিজেদের রাজনীতি করে।
২। পিনাকী-ইলিয়াস-মাহমুদুররা আওয়ামী লীগের ডিপস্টেটের হয়ে রিভার্স খেলছে।
এর মধ্য প্রথম অপশনটাই সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেটা এই গ্রুপের কাজকর্ম এবং রাজনৈতিক এফিলিয়েশন দেখলেই বোঝা যায়। এটাতো পরিষ্কার যে মাহমুদুর-পিনাকী-ইলিয়াসরা জামাত এবং বৃহত্তর ফার-রাইট বলয়ের সবচাইতে প্রভাবশালী সেলিব্রেটি। এছাড়াও, আমি বাংলাদেশে থাকতেই ডিপস্টেটের এই ফার-রাইট গ্রুপটার দেখা পেয়েছিলাম। তেরো সালে পিনাকী ছিল না এই গ্রুপে। তখন এই গ্রুপের সিভিল সোসাইটি এক্টর ছিল মাহমুদুর-গৌতম-ফরহাদ মজহাররা।
অবশ্য ডিপস্টেটের এই ফার-রাইট অংশটার মধ্যে ভারতের হয়ে রিভার্স খেলা লোকজনও আছে কিনা, তা বলতে পারবো না।
16/12/2025
আরিফ সোহেলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তাকে পোস্ট মর্ডান বট বলা আমার ভুল হইছে। সে হতে পারে ক্লাসিক কীংবা মর্ডান বট, জাশি লেবেলের আরকি।
আমার পোস্টরে কেন্দ্র কইরা উনি লিখছেন, "ওরে জিজ্ঞেস করেন, নিরস্ত্র জনগনের উপরে যখন নির্বিচারে গুলি চলে জুলাইয়ে তখন কয়টা থানা আক্রমন ও আর ওর ভাই ব্রাদাররা কো-অর্ডিনেট করছে, সশস্ত্র বিপ্লবের কোন প্ল্যান-প্রোগ্রাম হাতে নিছিলো তারা?"
প্রথমত উনি জানে না, জুলাইয়ে আমাদের কতোজন আহত হইছে, কে কোন জায়গায় কো-অর্ডিনেট করছে। সেটা বিষয় না। কিন্তু সে কীভাবে কোন প্রেক্ষাপটে বললো জুলাইরে কেন্দ্র করে থানা-আক্রমন আর সশস্ত্র বিপ্লবের কথা?
স্বতঃস্ফূর্ততাবাদ, এনার্কিজম আর কমরেড সিরাজ সিকদারের বিপ্লবী পথ; ডিফারেন্সিয়েট করতে পারে নাই। অর্থাৎ সে বুঝেই না তাহলে সিসির রাজনীতি গ্রহণ করবে কীভাবে? সে গ্রহণ করুক বা না করুক তাতে আমার যায় আসেনা; সিসিকে নিয়ে ব্যবসা করলে তো আমি কথা বলবোই।
জুলাইয়ে থানা আক্রমণ সহ অন্যান্য ভায়োলেন্স সমর্থনযোগ্য, আমাদের অংশগ্রহণও ছিলো কিন্তু সেটা ছিলো রাজনীতিহীন স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং প্রতিরোধ শক্তি। আর বিপ্লব হলো, জনগণকে বিপ্লবী রাজনীতিতে শিক্ষিত করে সংগঠিতভাবে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি হাতে নিয়ে বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তোলা। যার কিছুই জুলাইয়ে ছিলো না।
তাও আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিলো। ৫ আগস্টের অনেক আগেই আমরা ডাক দিয়েছিলাম শহর থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-শ্রমিক-কৃষকদের নিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে তোলার। ডাক দিয়েছিলাম ১-১১ এর পরিক্ষিত শক্তি, মার্কিন সেবাদাস ইউনুসের নেতৃত্বে যেকোনো সরকারকে প্রত্যাখ্যান করার। ডাক দিয়েছিলাম সকল শ্রেনী পেশার প্রত্যাহারযোগ্য প্রতিনিধি নিয়ে গণসরকার এবং নতুন সংবিধান সভার নির্বাচন আয়োজন করার। শক্তি সামর্থ্যের জন্য হয়তো পেরে উঠি নি কিন্তু মেনে নেই নি। যেটা মেনে নিয়ে উদযাপন করেছে আরিফ সোহেলেরা। আমেরিকার নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের কাছে দেশ বিক্রির দায় এই আরিফদেরও আছে।
আর স্লোগান? স্লোগান প্রসঙ্গে সিরাজ সিকদারের ইন ডিটেইল লিখা আছে। সেটা পড়েছে কি আরিফ সোহেল?
ভাসানী যদি মিম বুঝতো, তাহলে আরিফ প্রসঙ্গে বলতো, সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ আর পুঁজিবাদের প্রশ্নকে উহ্য রাখিয়া তাহার মানদন্ড যদি কেবলই হয় ভারত বিরোধিতা, তাহলে পিনাকী-ইলিয়াস-সরোয়ারের ছবিও রাখিতে পারেন।
16/12/2025
দেখেন, ইন্ডিয়া তাদের পুরো ইতিহাসে বহুবার যুদ্ধ করেছে। কিন্তু জিতেছে কেবল একবারই। সেটা একাত্তর সালে, বাংলাদেশ পাশে ছিল বলে। এসব নিয়ে রাষ্ট্রটির শাসক শ্রেণীর হীনমন্যতা আছে। একারনেই তারা একাত্তরের বিজয়কে শ্রেফ নিজেদের বিজয় বলে চালিয়ে দিতে চায়। একাত্তর নিয়ে নিজেদের সুবিধামতো নানান বয়ান তৈরি করে। কিন্তু এতে আমাদের এমন কি ক্ষতি? আমাদের আছে নয় মাস যুদ্ধের স্মৃতি। আমাদের আছে বেহাত হওয়া বিপ্লবের মধ্যকার সঞ্চিত সম্ভাবনা। সেই স্মৃতি ও সম্ভাবনাকে আকড়ে ধরুন। ভারতকে তাদের মতো আনন্দ করতে দেন। তাদের গলা বড়। আওয়াজ বেশি। তাতে কী? একদিন আমাদের কন্ঠও এতোটা জোরালো হবে যে প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি আর এমন অভব্য আচরণ করবে না। বিজয় দিবসে তেমন একটা বাংলাদেশ গঠনের শপথ নিন।
16/12/2025
তারেক রহমানকে আসতে দিন
জামাতি বাবল ফেটে যাবে
সারা দেশের ৩০০ আসনে ৪২৭৬১টি ভোটকেন্দ্র আছে। এইসব ভোটকেন্দ্রে মোট বুথ আছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি। এর মধ্যে পুরুষ বুথ ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি, নারীদের জন্য বুথ আছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি।
কোন দল, ধরেন জামাত ইসলাম যদি ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে চায় তাহলে তার নারী পুরুষ মিলিয়ে বুথেই লোক দিতে হবে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯ জন। এই বুথে যারা যাবে তারা সাধারণ পাবলিক হলে হবে না, ভোট করার অভিজ্ঞতা, জাল ভোট রুখে দেওয়ার সাহস ও যোগ্যতা দুটোই থাকতে হবে। আর ভোট করতে গেলে প্রশিক্ষিত কর্মী লাগবে ৫০ লাখের বেশি। যার ভোট গুনে আনবে। আর যদি কেন্দ্র রক্ষা করার কথা বলি, কেন্দ্র ঘিরে রাখার কথা বলি। তাহলে সেটা ১ কোটি খানেক কর্মী ও জনতা লাগবে।
বিষয়টি এত সহজ না। যদি তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরে তাহলে জামাতের বাবল ওইদিনেই ফেটে যাবে। দেখবেন মিডিয়াতে জামাত তেমন কোনো অ্যাটেনশন পাচ্ছে না। তারেক রহমানকে নিয়ে মিডিয়া এমন হাইপ তুলবে যে, তারেক রহমানের যে পোষা কুকুর ছিল সে কী খায়, সে কয়বার গোসল করে, কী সাবান বা শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয় তাকে, সেটা কোন কোম্পানি বানায়, সেই কোম্পানি ইহুদি নাকি কমিউনিস্ট সেসব হিসাব বের হবে। এসব তোড়ে, মানুষ ধানের শীষ বলতে বলতে জ্ঞান হারাবে, মুর্ছা যাবে। তাদের মনেও থাকবে না তারেক রহমানের দল বিএনপির বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তারা র্যাব বানিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিনাবিচারে হত্যার লাইনে প্রথম উঠিয়েছে, তাদের সময় সারা দেশে গ্রেনেড হামলা হয়েছে; চরমপন্থী কমিউনিস্ট নামে যারে তারে খুন করছে। যারা খুন হয়েছে তাদের মধ্যে একজন হলেন মোফাখখার চৌধুরী, মোফাখখার চৌধুরী পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এম এল) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধও করেছেন। ঠিক আজকের দিনে মানে ১৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে মানে ১৬ ডিসেম্বর প্রথম প্রহরে তাকে ক্রসফায়ারে খুন করা হয়। বিশ্বাস করেন, তারেক রহমানকে দেশে আসতে দেন, তার প্লেন রানওয়ের মাটি স্পর্শ করুক আমাদের মিডিয়া দেশে কী বাধাইয়ে দেয় তখন বুঝবেন।
আসতে দিন তারেক রহমানকে। সব ফানাফিল্লাহ হয়ে মাতম করবে দেশ। কারণ ধানের শীষ ও নৌকা আমাদের বিশ্বাসের ধর্মে পরিণত হয়েছে। ক্ষুধার চেয়ে এখানে রাজনীতির বিশ্বাস বড়, শ্রেণির চেয়ে এখানে নতুন শ্রেণি হয়ে জন্ম নিয়েছে পার্টিগুলো। এ যেন জীবন থেকেও বড়, এ যেন ক্ষুধার চেয়ে বড় কিছু।
ওই যে কবীর সুমনের একটা গান আছে না, গানটি কি শুনেছেন আপনারা। সেই গানের শেষ লাইনের মতো,
’’নামলে বিমান রানওয়ের মসৃন এ
বোয়িং কিম্বা রুস্কি ইলেউসিন
ককপিট থেকে পাইলট বুঝে নেন
এসে গেল তার তোমাকে দেখার দিন ’’।
16/12/2025
ভিয়েতনাম, কিউবা ইত্যাদি দেশ তাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছিল। কারণ, তাদের ‘মুক্তি’র যুদ্ধটা ছিল পরিকল্পিত এবং বিজয়ী যোদ্ধাদলই রাজনীতির নেতৃত্ব নিয়েছিল। ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪–এ বাংলার মানুষ লড়ছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। তারা অকুতোভয় ছিল। তাদের সৎ ও ন্যায্য আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু সেই সৎ ও ন্যায্য আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে অনুবাদের জন্য আমলাতন্ত্র ও কায়েমি স্বার্থবাদী গ্রাম-শহরের গোষ্ঠীগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে পারেননি যোদ্ধারা।
পুরোনো রাজনীতি একাত্তর, নব্বই, চব্বিশ—তিন যুদ্ধেই যোদ্ধাদলকে ভাড়াটে সৈনিকের মতো যুদ্ধ শেষে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। দেশ গঠনে অংশ নিতে দেয়নি। আগামীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তাই রাজনৈতিক পুনর্ভাবনা জরুরি এবং এখনই তার সময়।
15/12/2025
বাংলাদেশ: আজ মহান কমিউনিস্ট নেতা মোফাখখার চৌধুরী'র ২১তম শহীদ দিবস
কমরেড মোফাখখার চৌধুরী, যিনি চারু মজুমদার(সি. এম’)র বিপ্লবী লাইনকে পূর্ববাংলার নির্দিষ্ট বাস্তবতায় প্রয়োগের মধ্য দিয়ে উর্ধ্বে তুলে ধরার লাইনে সংগ্রামরত ছিলেন।
২০০৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পুতুল ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের পদলেহী ক্ষমতাসীন তৎকালীন খালেদা-নিজামী সরকারের নির্দেশে RAB, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি(এমএল) সম্পাদক কমরেড মোফাখখার চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ভূয়া এনকাউন্টারের নামে নির্মমভাবে হত্যা করে।
যে মানুষ জনগণের ভালাবাসা অর্জনের মধ্য দিয়ে জনগণের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন উৎসর্গ করে সে বিপ্লবীর মৃত্যু নেই।
কমরেড মোফাখখার চৌধুরী
লাল সালাম