13/02/2026
বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। জামাত বিরোধী দলে বসেছে। জুলাইয়ের তরুণ নেতৃত্বও সংসদে জায়গা পেয়েছে। দৃশ্যটা দেখতে ভালো লাগে। নতুন সাজে পুরনো নাট্যমঞ্চ।
চেয়ার বদলেছে, টেবিল একই আছে। সংসদের নিম্নকক্ষ, উচ্চকক্ষ। দুই টেবিলেই আলো জ্বলবে। আর অন্ধকারে আওয়ামী লীগের গুপ্ত রাজনীতি নিশ্চয়ই বাতি নিভিয়ে বসে থাকবে না। রাজনীতি তো কখনো অবসর নেয় না। শুধু চেহারা বদলায়।
নাসিরুদ্দিন জিতলে ভালো লাগতো। সংসদে একজন অন্তত থাকত, যে মাইক্রোফোনকে শুধু শব্দ তোলার যন্ত্র ভাবত না।
প্রশ্ন করার সাহস থাকত। কাউকে একটু অস্বস্তি দিত। অস্বস্তি ছাড়া গণতন্ত্র খুব আরামদায়ক হয়ে যায়।
আরামদায়ক গণতন্ত্র খুব বিপজ্জনক।
আগামীর পথ মসৃণ হবে না, এটা সবাই জানে। কারণ ছেলেপেলেরা এখন আন্দোলন শিখে গেছে। রাস্তা চেনে। স্লোগান চেনে। লাইভে যেতে জানে। গণতন্ত্রের নতুন পাঠ্যবইয়ে “প্রতিবাদ” অধ্যায়টা এখন মোটা অক্ষরে লেখা।
আমাদের চাওয়া খুব সামান্য।
দেশ শান্ত হোক।
স্থিতিশীল হোক।
গ্যাঞ্জাম-মারামারি কম হোক।
যদি চাঁদা তুলতেই হয়,
সেটারও যেন সুশৃঙ্খল নিয়ম থাকে।
লাইন ধরে তোলা হোক।
রশিদ দেওয়া হোক।
দুর্নীতিরও একটা অবকাঠামো দরকার।
এলোমেলো দুর্নীতি মানায় না।
একটু পরিকল্পিত হোক।
যাতে অন্তত বোঝা যায়,
কে কত নিল, কবে নিল, কেন নিল।
সবশেষে,
মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা,
এমন এক বোঝা,
যা নামিয়ে রাখলেও কাঁধ হালকা হয় না।
আমরা এই বোঝা নিয়েই বাঁচি।
এই বোঝা নিয়েই ভোট দিই।
এই বোঝা নিয়েই আবার অপেক্ষা করি,
কখনো হয়তো সত্যিকারের শান্তি আসবে বলে।
(লেখা : সংগৃহীত)