18/10/2026
ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলন সহিংস রুপ ধারণ করেছে, শিক্ষার্থীদের দেওয়া আগুনে পুড়ল ১৪৩ বছরের ঐতিহাসিক ভবন।
১৭ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলন ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেয়। অন্যদিকে, আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি, খাদ্য ও বিদ্যুতের দাম, শিক্ষক সংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং সামাজিক বৈষম্যকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হয়। শুরুতে শিক্ষার্থীদের স্কুলসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, সাবেক ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ যোগ দিয়েছে।
অধিকাংশ বিক্ষোভকারী শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নিলেও বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার জন্য মুখোশধারী উগ্র গোষ্ঠী, যাদের ফরাসি ভাষায় casseurs বলা হয়, তাদের দায়ী করছে সরকার। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীর সদস্যরাও সহিংসতায় জড়িত ছিল।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছে লিমোজেস শহরে। সেখানে প্রায় ১৪৩ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক সিটি হল Hôtel de Ville-তে আগুন দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। আগুনে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বেল টাওয়ার ধসে পড়েছে। এ ছাড়া পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং অন্যান্য শহরে সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের খবরও সামনে এসেছে।
ঐতিহাসিক স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ‘heritage catastrophe’ বা ঐতিহ্যের জন্য বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ফ্রান্সের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, জীবনযাত্রার ব্যয়, জনসেবা ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষ বড় আকারের আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। আর এসব অসন্তোষে বারুদ হিসেবে কাজ করে শিক্ষার্থীদের মনে জমে থাকা ক্ষোভ। দেশে দেশে আমাদের নতুন জেনারেশন যাদের আমরা GEN-Z বলছি তারা পুরনো সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে। আর তাতে সমর্থন দিয়ে তাদের সাথে যোগ দিচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।