02/07/2026
জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬ এর গেজেট।
A lawyer (also called attorney, counsel or Counselor) is a licensed professional who advises and represents others in legal matters.
02/07/2026
জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬ এর গেজেট।
03/05/2026
পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মাধ্যমে চেকের মামলা (NI Act) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রায়: 56 DLR (AD) 17
মামলার পটভূমি:
আসামি হাসিবুল বাশার তার আত্মীয় আনোয়ারুল ইসলামের কাছ থেকে ৩০,৭৭,০০০ টাকা ধার নিয়েছিলেন। এই টাকা পরিশোধের জন্য তিনি ৩টি চেক প্রদান করেন। কিন্তু চেকে উল্লিখিত টাকা ব্যাংকে না থাকায় বা পেমেন্ট বন্ধ করে দেওয়ায় চেকগুলো বারবার ডিজঅনার হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার পরও টাকা পরিশোধ না করায় আনোয়ারুল ইসলামের নিয়োজিত অ্যাটর্নি (পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি প্রাপ্ত ব্যক্তি) গুলজার রহমান ঢাকার সিএমএম আদালতে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
আসামি পক্ষের বক্তব্য:
আসামিপক্ষ মামলাটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে (৫৬১এ ধারা অনুযায়ী) কোয়াশমেন্টের আবেদন করেন। তাদের প্রধান যুক্তি ছিল:
১. এনআই অ্যাক্টের ১৪১ ধারা অনুযায়ী, মামলাটি সরাসরি 'পেয়ী' (Payee) বা যার নামে চেক তাকেই করতে হবে।
২. যেহেতু আনোয়ারুল ইসলামের বদলে তার অ্যাটর্নি মামলা করেছেন এবং জবানবন্দি দিয়েছেন, তাই এই আইনি প্রক্রিয়া অবৈধ।
হাইকোর্ট বিভাগের রায়:
হাইকোর্ট বিভাগ বিভাগ রুলটি খারিজ করে অভিমত দেন যে, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দ্বারা চেকের মামলা চলতে আইনি কোন বাধা নেই।
আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ:
* পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি আইন অনুযায়ী, একজন আমমোক্তার (Attorney) তার দাতার পক্ষে মামলা করা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
* পূর্বের নজির (যেমন- ১৯৯৬ BLD (AD) ২০৬) টেনে আদালত বলেন, পেয়ীর পক্ষে তার অ্যাটর্নি মামলা দায়ের করলে এবং আদালত ২০০ ধারায় ওই অ্যাটর্নির জবানবন্দি গ্রহণ করে আমল (Cognizance) নিলে তা সম্পূর্ণ বৈধ।
ফলাফল:
আপিল বিভাগ হাসিবুল বাশারের লিভ টু আপিল পিটিশনটি খারিজ করে দেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখেন।
নজির:
চেক ডিজঅনারের মামলায় মূল পাওনাদারের পরিবর্তে তার আইনগত প্রতিনিধি বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি প্রাপ্ত ব্যক্তি মামলা করতে পারবেন এবং তা আইনের পরিপন্থী নয়।
17/04/2026
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনী - ২০২৬
15/04/2026
নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সাক্ষাৎকার বিষয়ে নোটিশ।
# শুভ_নববর্ষ_১৪৩৩
সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা💐
07/04/2026
আগামীকাল থেকেই কোট গাউন পরতে শিথিলতা।
আজকের নোটিশ।
07/04/2026
ঢাকা আইনজীবী সমিতির জরুরী নোটিশ!
02/04/2026
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচন আগামী ১৯ মে….
চেকের মামলায় নোটিশ জারি নিয়ে যুগান্তকারী রায়ঃ ৩৯ বিএলডি ও ৬৪ ডিএলআর-এর ব্যাখ্যা
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক:
ব্যাংকিং বা ব্যবসায়িক লেনদেনে 'চেক ডিজনার' বা এন.আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলার প্রাণভোমরা হলো 'লিগ্যাল নোটিশ'। যদি লিগ্যাল নোটিশ জারিতে সামান্যতম ত্রুটি থাকে, তবে পুরো মামলার ভিত্তি ধসে যেতে পারে। উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বারবার উঠে এসেছে, নোটিশ জারি না হওয়া বা জারিতে অনিয়ম আসামিকে খালাস দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এম.এ লতিফ বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলা যা ৩৯ বিএলডি (২০১৯) ২২২ (হাইকোর্ট বিভাগ) মামলার মূল ঘটনায় দেখা যায় এই মামলায় আসামি (দরখাস্তকারী) এর বিরুদ্ধে একটি চেক ডিজনারের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগকারী দাবি করেন যে, চেকটি ব্যাংক থেকে ফেরত আসার পর তিনি আইন অনুযায়ী আসামিকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আসামি দাবি করেন যে তিনি কোনো নোটিশ গ্রহণ করেননি এবং অভিযোগকারী নোটিশ জারির কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ যেমন: একনলেজমেন্ট ডিউ বা এডি কার্ড আদালতে পেশ করতে পারেননি।
মূল প্রশ্নটি ছিল কেবল ডাকযোগে নোটিশ পাঠানোই কি ১৩৮ ধারার শর্তপূরণের জন্য যথেষ্ট, নাকি সেটি আসামির নিকট পৌঁছানো বা পৌঁছানোর চেষ্টার বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে তার সুবিধা আসামি পাবেন?
হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটি পর্যালোচনাকালে কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন। ১৩৮ ধারার (বি) উপধারা অনুযায়ী, চেক ডিজনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে দেনাদারকে লিখিত নোটিশ প্রদান করা একটি আবশ্যিক পূর্বশর্ত। এই শর্ত পূরণ না হলে মামলার কোনো ভিত্তি থাকে না। আদালত বলেন, যদি নোটিশ জারির বিষয়ে কোনো যৌক্তিক সন্দেহ তৈরি হয় এবং রেকর্ড থেকে দেখা যায় যে আসামি নোটিশটি পাওয়ার সুযোগ পাননি বা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাননি, তবে সেই সন্দেহের সুবিধা আসামি পাবেন। এক্ষেত্রে অভিযোগকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি সঠিক ঠিকানায় নোটিশটি পাঠিয়েছিলেন। যদি পোস্টাল রসিদ বা জারিকারকের রিপোর্টে কোনো অসংগতি থাকে, তবে ধরে নেওয়া হবে যে নোটিশ যথাযথভাবে জারি হয়নি। এ বিষয়ে আদালত মন্তব্য করেন যে, কোনো ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ অর্থাৎ নোটিশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি ফৌজদারি জালে জড়ানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এর ফলে উচ্চ আদালত আসামির দ-াদেশ বাতিল করেন এবং তাকে মামলার দায় হতে খালাস প্রদান করেন।
মোঃ আজহার আলী বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য মামলা, ৬৪ ডিএলআর (২০১২) ২৫৫ মামলার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ২৭ ধারা মতে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ পাঠালে একটি প্রাথমিক অনুমান তৈরি হয় যে নোটিশটি পৌঁছেছে। কিন্তু এটি একটি বা খ-নযোগ্য অনুমান। যদি আসামি প্রমাণ করতে পারেন যে পিয়নের রিপোর্ট ভুল ছিল বা ঠিকানা সঠিক থাকা সত্ত্বেও তিনি নোটিশ পাননি, তবে মামলার কার্যকারিতা থাকবে না। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নোটিশ জারির ত্রুটি কোনো সামান্য টেকনিক্যাল ভুল নয়; এটি একটি মৌলিক ভুল। যেহেতু ১৩৮ ধারা একটি বিশেষ আইন এবং এটি দ-মূলক, তাই এর শর্তাবলী কঠোরভাবে পালন করতে হয়। যদি বাদী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন যে তিনি আইনসম্মতভাবে নোটিশ জারি করেছেন, তবে আসামি ফৌজদারি দায় থেকে মুক্তি পাবেন।
ধারা ২৭-এর শুরুতেই বলা আছে, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট (১৮৯৭) পাস হওয়ার পর যেসব আইন তৈরি হয়েছে, কেবল সেই আইনগুলোর ক্ষেত্রেই ২৭ ধারার এই সুবিধা পাওয়া যাবে।
লিগ্যাল নোটিশ হলো এন.আই অ্যাক্টের মামলার প্রবেশদ্বার। এই দ্বারে ত্রুটি থাকলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত আসামিকে খালাস দিতে বাধ্য। আইনজীবীদের উচিত নোটিশ জারির সময় পোস্টাল রসিদ, এডি কার্ড এবং সঠিক ঠিকানার দিকে নজর রাখা। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ যদি প্র্রমাণ করতে পারে যে নোটিশটি তাদের হাতে পৌঁছায়নি বা জারিকারক কোনো কারসাজি করেছে, তবে তারা খালাস পাওয়ার পূর্ণ দাবিদার।
আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করলে করনীয়:-
আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে মিথ্যা অভিযোগকারী বা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আপনি পাল্টা মামলা করতে পারেন। এছাড়া দন্ডবিধির ১৯১ ও ১৯৩ ধারায় মিথ্যা সাক্ষ্যদানের শাস্তির জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদন্ডসহ অর্থদন্ডের কথা উল্লেখ আছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ১৭ ধারায়ও মিথ্যা মামলা দায়েরের শাস্তির কথা উল্লেখ আছে।