12/09/2026
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা যাঁকে আমি একজন উদীয়মান রাজনীতিবিদ হিসেবে মনে করতাম এবং শিক্ষিত সংসদ সদস্য হিসাবে তথ্য ভিত্তিক সত্য ও মার্জিত বক্তব্য প্রত্যাশা করতাম কিন্তু গতকাল ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংসদে বর্তমান সরকারকে তিরস্কার করে ৪ টা বিষয়ের উপর তাঁর বক্তব্য আমাকে শুধু নিরাশই করেনি বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের উপর সাধারণ মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার যৌক্তিকতা খুঁজে পেয়েছি! সাধারণ মানুষ মনে করে রাজনীতিবিদেরা মানুষকে মিথ্যা বলে বিভ্রান্ত করে।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিএনপি সরকার বিরোধী উদ্দেশ্য প্রণোদিত ৪ টি মন্তব্য ও তার ব্যাখ্যা:
১। মন্তব্য: বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস বিদুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না!
ব্যাখ্যা: গ্যাস ও তেল অর্থাৎ জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক সমস্যা! ইসরাইল - আমেরিকার ইরানের উপর আগ্রাসনের সময় থেকে অর্থাৎ বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১০ দিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় যা এখনও চলমান। মধ্য প্রাচ্যেও এই প্রভাবে জ্বালানি সংকট হচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে ভারতকে অবারিত ভাবে গ্যাস উত্তোলনের সুবিধা দিতে বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলনের জন্য কোন কূপ খনন করা হয়নি। বাংলাদেশের প্রায় সকল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ও গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জ্বালানি আমদানি সীমিত হয়ে যায়। সার কথা বালাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট জন্য প্রথমতঃ দায়ী শেখ হাসিনার ভারত প্রীতির দেশ ধ্বংসকারী নীতি, দ্বিতীয়তঃ ইরানে ইসরাইল আমেরিকার আগ্রাসী যুদ্ধ!
২। মন্তব্য: বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, সারে যারা গরিব কৃষক আছে তারা সার কারখানায় গিয়ে লুট করবে না সেটাও হতে পারে না!
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশে সার আছে কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসলে মাত্র ৭ মাস। সাড়ে ১৫ বৎসরে দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিস্ট প্রতিনিধিত্ব ও কিছু গুপ্ত ষড়যন্ত্রে দেশকে অস্থিতিশীলতার পরিকল্পনায় কিছু সমস্যা হচ্ছে তবে নিশ্চিত করে বলা যায় ধানের পরবর্তী মৌসুমে এমন পরিস্থিতি আর থাকবে না, ইনশা আল্লাহ্। বিগত বিএনপি সরকারের সময় প্রকৃত পক্ষে সাধারণ কৃষক সেই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল না। আওয়ামী কৃষকলীগ, যুবলীগ পরিকল্পিত ভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করে!
৩। মন্তব্য: বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না সেইটাও সম্ভব না!
ব্যাখ্যা: ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর Transparency International এর Corruption Perceptions Index (CPI) বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০ এর মধ্যে ২.৩ আর আওয়ামীলীগ ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর স্কোর হয় ০.৪ যা সর্বনিম্ন এবং ঐ বৎসরে বিশ্বের মধ্যে দুর্নীতিতে প্রথম। প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চাপ থাকায় পর্যায়ক্রমে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রিত হয়ে ২০০৬ সালে স্কোর বেড়ে হয় ২.৭ অর্থাৎ বিএনপি আমলে দুর্নীতি কমে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের তকমা দুর হয়ে দেশের মর্যাদা বেড়ে ছিল।
৪। মন্তব্য: বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ ১ম বারের মত ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না সেইটাও হইতে পারে না!
ব্যাখ্যা: সাড়ে ১৫ বৎসর লুটেরা সরকার দেশ শাসন করার পর ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা, তার আত্মীয় স্বজন ও দোসররা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে ছিল। দেশের প্রায় সকল শিল্প কারখানা ও ব্যাংক তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আওয়ামীলীগ সরকার আমলে প্রায় প্রতি বৎসর খেলাপি ঋণ অবলোপন করে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম দেখানো হত! শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার আগে ২০২৪ সালের জুনে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। ঋণ গ্রহীতারা পালিয়ে গেলে দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে এবং শিল্প মালিক পালিয়ে যাওয়ায় এবং তৎকালীন মব কালচারে অনেক শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঋণের কোন ইনস্টালমেন্ট না দেয়াতে খেলাপি ঋণ দ্রুত বেড়ে যায়। বর্তমান সরকার পরিকল্পিত ভাবে কিছু ব্যবসা সচল করে ও কিছু ব্যবসায়ীকে চাপ সৃষ্টি করে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনছেন!
জানিনা, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসবে শুনে ফ্যাসিস্ট সহযোগী হওয়ার খায়েশে ব্যারিস্টার রূমিন ফারহানা এখন থেকে মিথ্যা বলা ও গোয়েবলসের উক্তি তার নীতি ও রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে চান কিনা!
জোসেফ গোয়েবলস (Joseph Goebbels) এর উক্তি "একটি মিথ্যা বারবার বলতে থাকলে মানুষ একসময় তা বিশ্বাস করতে শুরু করবে, এমনকি এক সময় আপনিও তা বিশ্বাস করে বসবেন।"
"If you repeat a lie often enough, people will believe it, and you will even come to believe it yourself"