10/06/2026
হ্যাজাকের রোশনাই জ্বালানো টিমটিমে হলদেটে আলো গুলো কাপছে তখন দেয়াল ছুঁয়ে। মাটির দেওয়াল চুয়ে পড়েছে বৃষ্টির পানি। তাতে হাতে লেপে দেওয়া মাটির ছাপ গুলো ভিজে জঘন্য রকম শ্যাওলা জমেছে। দেখে মনে হচ্ছে এই পরিত্যক্ত মাটির ঘরটাতে এমন কেউ থাকে যে ঘরবাড়ির যত্ন খুব একটা করে না। উঠুন জুড়ে পড়ে আছে পুরনো পচা গলা বাঁশ কাঁঠাল আর আমের পাতা। একটা ম/রা পেয়ারা গাছ আর নারিকেল গাছ আঙিনায় এখনো গেড়ে বসে আছে। বৃষ্টির পানিতে ও ওদের জীবন ফেরেনি। রাত জাগা প্যাঁচাগুলো গলা থেকে অদ্ভুত আওয়াজ বের করছে। ঝিঁঝিপোকার গা ছমছমে ডাক আমবাগান টাকে ভুতুড়ে আস্তানায় পরিণত করেছে। বাহিরে নেই কোন কৃত্রিম আলোর ছাপ। চন্দ্র মামা দয়া করে দেওয়া শুভ্র ফর্সা ভাবটুকু ঘরটাকে যতটুকু আলোকিত করেছে ততটুকুই সই। ক্লান্ত পায়ে ভীষণ অবহেলা জড়িত পদক্ষেপ ফেলে কাঠের ভাঙা দরজার নোঙ্গর ধরে টান দেয় স্বচ্ছ। বৃষ্টির পানিতে ওর পরনের ইন করার শার্ট আর প্যান্ট ভিজে গেছে। জুতোটা খুলে মোজাটা ছুড়ে ফেলল বারান্দায় ধুলোবালিজমা চৌকির ওপর। কপালের সূক্ষ্য ভাজ গুলো প্রমাণ করছে যে অপেক্ষায় ভীষণ বিরক্ত সে। হাতে মাটির ল্যাম্প নিয়ে দরজার ছিটকিনি খোলে মধ্যবয়স্ক এক যুবক। বাবা বয়সী লোকটাকে অকস্মাৎ ভীষণ আক্রোশ নিয়ে ছু/রিকাঘাত করে ছেলেটা। ফিনকি দিয়ে গড়িয়ে পড়া র/ক্ত মুণ্ড ছাড়া শরীরটা থেকে ঝর্নার মত বেয়ে পড়ছে। চুল টেনে মস্তকটা এক হাতে তুলে আরেক হাত দিয়ে টেনে, বডি টা নিয়ে যায় জঙ্গলের মাঝে। তখনো অজ্ঞাত লোকের শরীরটা ঘড়ঘড় করে শব্দ করছে। মনে হয় লোকটায় ক্যারোটির ধমনী সবেমাত্র নিস্তেজ হল। নিথর হয়ে এলো দেহটা। চারপাশে মেহগনি গাছের দানবাকৃতির অবস্থান। বিষাক্ত ভ্যাপসা গন্ধে চারপাশ ভারী। পুরনো একটা গভীর গর্ত। তাতে আগে থেকে ফেলে রাখা একটা ম/রা কুকুর। মনে হয় কোন শেয়াল কিংবা জংলি জানোয়ার খুবলে খেয়েছে কিছু অংশ। সচ্ছর বিকৃত লালসাত্মক ভয়ানক হাসি তখন জেগে থাকা পেঁচাদের আতঙ্কের কারণ। এক টানে দেহটা গর্তে ফেলে উপরে মাটি চাপা দিল সামান্য। র/ক্তের গন্ধ গুলো ফেলে রাখল হয়তো কোন জংলি জানোয়ারের নাকে খাদ্যের গন্ধ দেওয়ার জন্য। একই গতিতে এগিয়ে গেল ঘরটার দিকে। খোলা দরজার ভেতর দিয়ে সটাং প্রবেশ করতেই চৌকিতে পড়ে থাকা বৃদ্ধাকে কৃত্রিম সাজানো হাসিতে বলল,
" ম*** তোর ঘুম হয় নাই!"
অতঃপর নিজে ছুটে গেল হাতের লোহার র/ড টা নিয়ে। কাটা ছেঁড়া চুল মাথায় ঝুপড়ি হয়ে আছে হাড্ডিসার মানুষটার। তাকে ঐ লোহা দিয়ে আ/ঘাত করলে বাঁচার কথা নয়। ততক্ষণে বাহিরে নেড়ি কুকুরের দলবল হাজির। মানুষের পড়ে থাকা টাটকা তাজা র/ক্ত ওদের জীব থেকে লালা ঝরিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে মাটি। ঘেউ ঘেউ শব্দ আর শিয়ালের গান বাগানে থাকা কাক পংখি র ঘুম হারাম করেছে। দলে দলে ঝাঁকঝাঁক পাখি গাছ থেকে উড়ে গেল কোথাও। স্বচ্ছ বাকা হেসে দরজার ছিটকিনি খুলে দিল। ঘেঁউ ঘেঁউ করে তেড়ে ঘরে ঢুকলো , গোটা আর দশেক কুকুর। অবলীলায় ওদের ফেলে দিয়ে দরজা লাগিয়ে গা বাঁচিয়ে চৌকিতে বসে। ভেতরে তা/ণ্ডব চলছে ক্ষুধার্ত একদল নেড়ি কুকুরের।
পকেট থেকে আইফোন টা বের করে স্ক্রিন জ্বলজ্বল করতেই ভেসে উঠলো জিমিনের মায়া-ময়ির মায়াবী এক বোকা বোকা ছবি। এক ফুল দোকানে ফুলের তোড়া হাতে গন্ধ শুকছিল মেয়েটা হাসিমুখে। আকসাত একজোড়া কাক দম্পতি দেখে অবাক চোখে তাকিয়ে ছিল। সেই মুহূর্ত টাই স্বচ্ছ বন/্দী করেছে ক্যামেরায়। র/ক্ত প্লাবিত হাত দিয়ে নিজের চুলগুলো ব্রেক ব্রাশ করলো। অতঃপর কাঁপা আঙুলের র/ক্ত গুলো লেপটে দিল মুঠো ফোনের স্ক্রিন। গতি প্রতিক্রিয়া এতটাই কাতর ছিল যে ভেসে ওঠা মেয়েটার প্রতি ওর আসক্তি বোঝা বড় দায়। ছেলেটার দুই চোখ ক্ষুদ্র পানি কণার ঘোরে। দারুণভাবে ছোট চেয়ে টিচ করে ছবিটাকে একটা চু/মু দেয় ছেলেটা।
" মাই বেবি গার্ল ডু ইউ নোউ হাউ মাচ আই ক্রিভিং ফর ইউ!"
__________•
উৎসবের ভরা ক্লান্তি মাথায় নিয়ে বাড়ি বাড়ি ফিরছে অতিথিগণ। আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশী শিল্পপতি এবং কি খাতির করা ক্লায়েন্টগুলো হাসিমুখে বিদায় নিয়ে সেই কখন বেরিয়ে গেছে। পর্ণা এবং শর্মি লিয়ানের বাবা-মা এবং সুরিয়ান এর বাবা মাকে বগল বন্দি করে শেখ বাড়িতে আনেন। শেখবাড়ির অবস্থা করুন। সকাল থেকে নানানবিদ অনুষ্ঠানের মহড়ার কারণে পুরো বাড়ি এলোমেলো। দুজন জা য়ের মিল মহব্বত বেড়ে গেছে দারুন। শর্মি আত্মীয়দের নিয়ে গেলে বকুল কুঞ্জে। জিসান সাহেব রাহা এবং তুষারকে সাবধানে যেতে বলে প্রেসক্লাবের দিকে একবার টহল দিতে যাবেন। তাতে ঘোর আপত্তি করে ভাইয়ের সাথে বাগানে আড্ডা দেবেন বলে জিদ ধরলেন আয়ান সাহেব। দুই ভাইয়ের মুখে তৃপ্তির হাসি। সেই দিক থেকে আপত্তি আজ হলো না। সব ভুলে রাত দুপুরে বাগানে বসে অতীতের হিসাব নিকাশ করে আফসোস জুড়ে দিলেন। মাঝপথে ছেলে মেয়ের খবর নিতে সজীব আর সবুজকে ক্ষণে ক্ষণে কল করে যাচ্ছেন দুজন। সজীব বারবার ধরছে আর খবর জানিয়ে দিচ্ছে। এদিকে যে মেনে বেপরোয়া সব কাণ্ডকারখানা শুনে বাচ্চাদের মত হাসতে শুরু করেছেন দুজন।
বনানীর এলিফ্যান্ট রুট ধরে এগিয়ে গেল সারি সারি বাইকের মহড়া। বেশ খানিকটা সময় ঘুরিয়ে পেচিয়ে সঠিক রুটে ফিরে এল ওরা। তখন রাত বারোটা ছুয়েছে ঘড়ির কাটা। রাস্তার একপাশে দাঁড় করানো দুটো টয়োটা। দল বেঁধে নামলো একদল টোকাই। ওদের অবশ্য টোকাই ছাড়া কিছু বলে সম্বোধন করার উপায় নেই। মেয়েগুলো তিনটায় বমি করে শেষ। জেনি ইজরা আর এইজেল। ওদের ধরাধরি করে মুখ ধুতে সাহায্য করছে স্বামীগুলো। মূলত ফুচকা স্টল থেকে অধিক পরিমাণে ফুচকা খাওয়ার ফলে পেটে গড়বড় হয়েছে সবার। একসাথে সবার পেটে সমস্যা হওয়াটা বেশ সন্দেহজনক ঠেকলো থাইমের কাছে। সমস্যাটা এখানেই থেমে থাকে না। রেগে গিয়ে জিসান সাহেব তদন্ত শুরু করে দিলেন। বেরোলো ফুচকার টকে কেউ কোন ট্যা/বলেট ফেলে দিয়েছে। তবে বিষয়টা বেশী ঝুঁকিপূর্ণ হয়নি বলে থাহিম আশ্বস্ত করল। ওরা সবাই জিমিনের পিছু পিছু যেতে পারেনি। নিজেদেরকে বেশি সময় দেওয়ার সময়ও পেল না ওমনি গাড়িতে উঠে কোথায় যেন যাত্রা শুরু করলো। নীল ক্যাট ক্যাট করে হেসেই চলেছে। থাইম আড় চোখে ওর দিকে তাকাতে ই বেচারা ধরা পড়া ইঁদুরের মতো ট্যাপ করতে শুরু করল। জানা গেল ফুচকার টকের ভিতর কাস্টম ট্যা/বলেটটা ওই দিয়েছে বসের হুকুমে। কথাটা জানা মাত্রই শেখ বাড়িতে হৈচৈ ।
মূলত বাসরঘরে টাকা তোলার যন্ত্রনা থেকে বাঁচতেই কাঙ্গাল এই বুদ্ধি পেতেছে। তাতে কি আর থেমে থাকে ওরা। বিসিএস পরীক্ষার ভাইবার মতই জান লাগিয়ে ছুটছে গাড়ি দুটো বনানীর দিকে।
" ইয়াস আজ যদি বাসর ঘরের টাকা তুলতে না পারি, তাহলে জেনে রাখ তোর আমার রুম আলাদা!"
তাতে ইয়াসের টনক নড়লো। চোখ দুটো বড় বড় করে বউয়ের দিকে তাকিয়ে রইল।
" ভাই দেখে গাড়ি চালা "
লিয়ানের আকস্মিক সতর্কতায় চোখ তুলে তাকাতে একটা ট্রাক মুখোমুখি এসে পড়েছে। দ্রুত সেটা ওভারটেক করে চিৎকার করে উন্মাদের মত ড্রাইভ করতে শুরু করেছে ইয়াস।
" এলি, তুই আমার বাচ্চার মা না হওয়া অব্দি আমি তোর গোলাম। "
সঙ্গে সঙ্গে হাসির হো হো শব্দ ে কেঁপে উঠল টয়োটা। ইজরা চেঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করল।
" বাচ্চা হওয়ার পর কি হয়ে যাবে? "
ইয়াশ ভাবার সময় নেই নি। অটল শক্ত আর আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ বেবাগী হয়ে বলল,
" গোলাম প্রো ম্যাক্স!"
রুট এগারোর মাঝে মাঝে এসে থামলো বাইকগুলো। সাইরেন শব্দ ইঞ্জিনের বর্জন শান্ত জায়গাটাকে এতটা অশান্ত করে তুল্য আশেপাশের বিল্ডিং থেকে মানুষ বেরিয়ে এসেছে জানালা কিংবা বারান্দায়। মুখে হাত দিয়ে কোন ঝামেলা বেধেছে মনে করে আতঙ্কগ্রস্থ হয়েছে সকলে। তখনো বাইকগুলো সবগুলো এসে থামেনি একে একে এসে যেখানে জায়গা পাচ্ছে আটকে যাচ্ছে। মাথায় হেলমেট পরেই তো আপাদমস্তক ঢাকা এত এত পুরুষ মানুষ কিংবা পাতি নেতাদের দেখে গুঞ্জন শুরু হলো। ভয়ে ভীত হয়েছে বাসা বাড়ির লোকজন এবং মালিকরা। পাশে অবস্থান নেওয়া শোরুম গুলো নিজেদের দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়েছে অর্ধেক কিংবা সম্পূর্ণ। ঘুম হারাম করে এতখানি ভয় নিয়ে দাঁড়াতে পারলেন না রওশনারা বেগম। উনি চটজলদি করে ভাইয়ের কাছে কল দিলেন। রাস্তার পাশাপাশি বিল্ডিং হওয়ায় সে ঘটনা অবশ্যই ভালোভাবে বুঝতে পারবে।
" আপা মনে হচ্ছে এলাকায় কোন ঝামেলা হয়েছে! তুমি ভাগনা ভাগ্নিরা বের হতে দিও না। ওরা ভেতরেই থাক। ঘুমিয়ে যাও ঘরের ভেতর সমস্যা নেই!"
ভাইয়ের কথায় আশ্বস্ত হতে পারলেন না রওশনারা। পাড়ায় পাড়ায় খবর ডেলিভারি করা যার কাজ সে কি আর এমন ঘটনায় চুপ করে বসে থাকতে পারে। তবে এখন যাওয়ার উপায় নেই। যেহেতু শতাধিক বাইকের ভির। সেখানে যাওয়ার মত বোকামি তিনি করবেন না। ভিড়ের মাস থেকে একটা প্রসারের কন্ঠ হই দিয়ে উঠলো।
এতক্ষণে শক্ত করে আঠার মত আগলে রাখা হাতটা জিমিন আলগা করেছে। লামি পাঞ্জাবির পকেট থেকে হাতটা বের করে বাইক থেকে নামে। ভারী লেহেঙ্গা জুড়ে পাথরের কাজ। বহন করা চাট্টিখানি কথা নয়। তার ওপর এলিদের গাড়িটাও আশেপাশে দেখা যাচ্ছে না।
সজীব হাত উঠছে বাইক গুলোকে পেছাতে বলল। এর মাঝে একটি কথাও হয়নি বাইকারগুলোর। ধীরে ধীরে নিঃশব্দে বাইকগুলো পাশ কাটিয়ে একের পর এক উল্টো পথে ফিরতে লাগলো। সবুজের হাতের ইশারায় নীল রঙের ছড়াছড়ি হলো আশপাশটা। গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো রাস্তা ওদের ফ্ল্যাটের বেসমেন্ট জুড়ে।লামি অবাক ভারী। ওর হাতে পায়ে জোর বল নেই এগিয়ে যাওয়ার। পাশে দাঁড়িয়ে নেই স্বামীটি। সজীবের ইশারায় প্রতিটা বাড়ির বারান্দা খালি আড় জানালা গুলো বন্ধ হলো নিভে গেলো বাড়তি আলো। এসব বুঝি প্রয়োজন নেই বলেই সিগারেট মুখে হাতে বিদেশী হ্যা/ন্ড গা/ন পেছনে দুলিয়ে ইশারা করলো সজীব সবুজ। এসবের কিছুই মেয়েটার চোখে ধরা দেয়নি।
" মে এই ওয়াইফি? "
শ্বাস বিদ্ধ অনুমতি টুকু চেয়ে উত্তরের আশা করেনি জিমিন। সৃষ্ট মুখে বেপরোয়া হাসির ছটা দেখিয়ে ডান হাতের বাহু দিয়ে পা পেঁচিয়ে ধরলো লামির। টাল সামলাতে গলা শক্ত করে জড়িয়ে কাকিয়ে উঠলো মেয়েটা। পরোক্ষনে সামলে চুপ করলো। চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যের আলোক বাতির উজ্জ্বলতায় বেজমেন্ট আলোকিত। ওয়াটার ফাউন্টেন্ট টা আগে ছিলো না। নতুন হয়েছে। লিফ্ট থামলো এগারো তলায়। এতখন মানুষ মৌমাছির মত থাকলেও এখানে কেউ নেই।। জিমিন লিফ্ট থেকে লাগেজ টা আনতে গেছে। এক বুক অনুভূতি লোম খাড়া আবেশ নিয়ে লজ্জায় উঁকি ঝুকি দিচ্ছে রমণী। আর এখানে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। কেননা ভিতরে আসার আগে নিচের ফার্মেসিতে গিয়েছিলো ছেলেটা। তাই দেখে সজীব গলা খাখড়ি দিয়ে কি যেনো ইশারা করলো ভাতিজাকে। জিমিন কটমট করে তাকিয়ে থামতে বললেও সে থামে না। উল্টো বলে,
" এখানে এসে মনে পড়লো? আমাদের মামা হওয়ায় সুযোগ দিবি না নাকি? "
লামি গোল গোল চোখে দেখে ঝুলিয়ে রাখা প্রটে/কশন প্যা/ক গুলো। যেগুলোতে ইশারা করে সজীব কথা বলে। মুহূর্ত টা মনে পড়তেই নিষিদ্ধ কিছু আঠালো অনুভব দখল করে মস্তিষ্কের কোটর। জিমিন ঘরের পাসওয়ার্ড দিয়ে ক্লান্ত হাত চুল বুলিয়ে গেলো। দরজা খুলেই হতবাক। লামি যতটা তার চেয়েও বেশি জিমিন। সাথে সাথে চোয়াল শক্ত করে আবার ডোর টানতে গেলে হিস্ হিসিয়ে থামিয়ে ভিতরে ঢোকে লামি। চোখ বুজে দাঁতে দাঁত চেপে রেগে দেওয়ালে পা/ঞ্চ মারে ছেলেটা। ডুম করে শব্দ হয় বন্ধ গুমোট ঘরে। লেহেঙ্গার কিছু অংশ ধরে পুরো ঘরের ম/রা অবস্থায় চোখ ছলছল রমণীর। ফ্লোরে
লাল নীল সবুজ বাদামি কালো ড্রিংকের বোতলের গুড়ো গুড়ো কাচ।
ব্লু লেবেল, ম্যাকালান, হেনেসি এক্সও, রয়্যাল স্যালুট, গ্রে গুস, ক্রিস্টাল শ্যাম্পেন, শিভাস রিগ্যাল, ব্ল্যাক লেবেল, গ্লেনফিডিক, জ্যঁক ড্যানিয়েলস কোনটা বাকি রেখেছে এই ছেলে। এটা বাড়ি কম ম/দের বার বেশি মনে হচ্ছে। কিচেন কাউন্টার থেকে শুরু করে সোফা ডাইনিং এবং কি বেডরুমের কিছু জায়গায় ভাঙা কাঁচের টুকরো।
পড়ে আছে দু তিনটে ক্রেডিট কার্ড। সেটাও যেন তেন জায়গায় নয়। কুকিং পাউডারের একটা বক্স ফেটে পড়ে আছে। হয়তো এই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এসব কনজিউম করা হতো। লামি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ছুটে যায় ভেতর ঘরের দিকে। নিলে সে ততক্ষণে দাঁড়িয়েছে দরজায়। যা সর্বনাশ হওয়ার হয়ে গেছে। তাই নিঃশব্দে গা ঢাকা দিল ছেলেটা। নিজের গালে গোটা বিশেক চ/ড় থা/প্পড় দিয়ে শান্ত হল। কাউকে কল দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি/গালাজ করল। মূলত কেবল বাহির টানা ভেতরটা পরিষ্কার করে সাজানোর কথা ছিল। কিন্তু বোঝাপড়ায় সামান্য ভুল হওয়াতে ডেকোরেশনের লোক গুলো ঘরের ভেতরে ঢোকেনি।
জিমিন মূলত এই ফ্ল্যাটে বেশি একটা আসতো না। কেবল সহ্যের সিমা ছাড়িয়ে যখন অতিরিক্ত মা/তাল অবস্থায় থাকতো। তখন এখানে এসে ড্রিঙ্ক করত। কিংবা ড্রা/গ কনাজিউম করত। জিসান সাহেবের চোরা/কারবারির মাঝে বৃহৎ অংকের টাকার ড্রা/গ সাপ্লাই হয়। আমদানি রপ্তানি দুটোতেই উনি পারদর্শী। সে সময় সব থেকে বড় ক্লায়েন্ট হিসেবে তার নিজের ভাতিজা সব লুফে নিতো। তার প্রমাণ পাওয়া গেল ঘরের ভেতর পড়ে থাকা কো/কেন, হিরো/ইন, মেথা/মফেটামিন আর এম/ডিএমএ পাউডার দিয়ে। কার্ডগুলো হাতে নিয়ে কটু গন্ধ সহ্য করলে আমি। রাগ দুঃখ আর ক্ষোভে তীর্তির করে কাঁপছে ওর ভেজা ঠোঁট দ্বয়।
ইন/জেকশন ড্রা/গস ও কম নেয় নি। সিরি/ঞ্জ গুলোর সংখ্যা চোখে পড়লো বেডের উপর। এখানে মানুষ থাকা যায়? বিষাক্ত গন্ধ দিয়ে তোলপাড় করে তুলেছে ঘরের বাতাস।
পেছনে অবহেলায় দাঁড়িয়ে আছে এত অপরাধ করা প্রাণটা। চালচলনে হকচোকে ভাবটা নেই।নেই অপরাধবোধ লুকানোর কোন বাহানা। মুখভঙ্গি পরিবর্তন হয়নি নিজের সহজাত প্রবৃত্তির বাহিরে। ওর হাব ভাব দেখে মনে হচ্ছে না এটা বড় কোন ইস্যু। শার্টের কলার চেপে সর্বশক্তি দিয়ে কাঁদুনে রুপি প্রশ্ন করে মেয়েটা।
" তুই এসব কি করেছিস? বেঁচে আছিস কি করে? "
জিমিন আরও খানিক এগিয়ে গেলো মেয়েটার টানাটানি র সুযোগে। গমগমে ম্যানলি গলায় বলল,
" ম/রণ আমার দরজায়। একটা চু/মু দে, মৃ/ত্যুকে চড় মেরে ফিরে আসবো। "
" মজা! মজা হয় আমার সাথে?এখানে মানুষ থাকতে পারে? "
" এই না বললি কেবল আমি হলেই হবে। "
লামি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকালো। ফুসে উঠছে রাগে। নাক মুখ ঘেমে একাকার। জিমিন তাই দেখে গাল টেনে দাঁত দাঁত পিসলো। রেগে আছে নাকি মজা নিচ্ছে বোঝা গেলো না।
" বলেছিলি তো অগোছালো বাসরে লন্ডভন্ড আমায় চাই। তাহলে অভিযোগ কেনো?'
মেয়েটা কিছু বলে গিয়ে গুমড়ে উঠে কাঁ/দে। হিচকি তুলে। আশেপাশে অবস্থা দেখে পাঞ্জাবির হাঁত জোরাজুরি করে উপরে তুলে হাতের শিরা গুলো দেখে। ইন/জেকশন পুষ করার জায়গা গুলো ক্ষ/ত হয়ে শক্ত হয়ে গেছে। ডান হাতটা দেখার মত হলেও বাম হাতে অবস্থা করুন। এগুলো লামি আগে খেয়াল করিনি। সব সময় ঢেকে রাখা হত।
" এতো জঘন্য নেশা করে এখন তুমি তোমার মাঝে কি করে আছো?"
" আমার মায়াবড়ি টা ফিরে পেয়েছি তো। "
" জিমিনা!"
ক্লান্ত হলো জিমিন। ভেঙ্গে পড়লো শরীর। দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বলল,
" অ্যান্টি-অ্যাডিকশন ভ্যাকসিন নিয়েছি। জিন থেরাপি হয়েছে আমার। সম্পূর্ণ সচল মস্তিষ্কে তোর হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। চিন্তা তোর কলিজাকে কোনো নারীর হাতে তুলে দেয়নি। "
_________________•
গা ছমছমে অন্ধকার চারিপাশ। অ্যাপার্টমেন্টের সামনে নিজস্ব ভঙ্গিমায় কবুতরের জোড়া বাক তুলেছে।
" ও শেখ মশাই। "
রওশনারা চেচিয়ে ডেকে উঠলেন। সেদিকে চোখ ঘুরাতে দেখা মিলল ছেলেমেয়ে সমেত বারান্দায় বসে আড্ডা দিচ্ছেন উনি। তখন মনে হয় জেগে যাওয়ার পর আর ঘুমানো হয়নি। এদিকে তাকিয়ে বেশ আফসোসের সুরে চুচু শব্দ করে উঠলেন ভদ্রমহিলা। স্বভাব গতিকে হাতে সিগারেট নিয়ে কুন্ডলি পাকিয়ে ধোঁয়া ওড়াচ্ছে ভদ্রলোক। শেরওয়ানি খুলে পড়েছে খুব সাধারন একটা ক্যাজুয়াল টি শার্ট।
"এখনো কি বেবাগি স্বভাব যায়নি ছেলে? আর কতো অপেক্ষা করবে? বলি পাগলেও নিজের ভালো বোঝে। তুমি বোঝোনা কেনো হে? সারাদিন স্মোক করলেই কি ক্ষুধা মিটবে? এলাকায় তো তুমি ফেমাস হয়েছ মজনু হয়ে। আর না। আমার বোনের মেয়েটা পরীর মত সুন্দর। নাম্বার টা নাও দেখি। "
জিমিন হাসছে। হাতের আঙুলে চু/মু দিয়ে বলল,
" তাই নাকি? মেয়ে কি অনেক সুন্দর? "
উনি বুঝি আকাশের চাঁদ হাতে পেলেন। মেয়ের দিকে তাকিয়ে গদগদ হয়ে বলেন,
" ডানা কাঁটা পরী। "
আঙুলে এক দুই তিন গোনার আগে ছেলেটা বলে বসলো,
" নাম্বার টা নিন আমার 0179321758...."
ঠিক ঠিক তিন সেকেন্ডের মাথায় এক দুর্যোগ এসে আছড়ে পড়ল ছেলেটার বুকে। মুখ চেপে ধরে থাই গ্লাসে আটকে দিল। রওশনারা ভড়কে গেলেন। ভূ/ত দেখার মত চমকে গেলেন। তুতলে বললেন,
" ভু ভু ভু ভু ভু ভু ভু ভু/ত!"
নিজে এসে জোর করে হাত আঁকড়ে কুঁকড়ে গেলো বুকে। জিমিন ওকে বসিয়ে কানে হেড সেট দেয়। মন দিয়ে দেখে তাকে। নিশীথ কালো রাতে ক্ষণিক বাদে ভোর নামবে। অথচ ঘন্টার পর ঘন্টা একে অপরের দিকে তাকিয়ে ছিলো ওরা।
" যদি আমি না ফিরতাম তুমি কি আমার জন্য পাগল হতে কলিজা? এ শহর কি জানতো তোমায় আমার প্রেম রূপে। যেদিকে তাকাই কেবল তোমার পাগলামি খুঁজে পাই।কষ্ট ছাড়া কিছু তো দেইনি।ভুগিয়ে চলেছি আজও। এই দুনিয়ায় তোমায় আমি কিভাবে পেলাম বলো। মা কি করে বুঝলো তুমি ই আমার সেফ জোন? "
জিমিন এতক্ষন শান্ত থাকলেও আর পারলো না। শক্তি দিয়ে পিষে ফেললো বুকে। ওকে থামাতে মুখে শব্দ করলো,
" শুউউউ! একদম কাদঁবি না। তুই আমার ইমোশনাল স্যাটিসফেকশন। কাঁচা বয়সের আবেগ। ভরা বয়সের আসক্তি। সম্পদ চিনিস? আমি আগলে আগলে তোকে বড় করেছি নিজের সম্পদ রূপে। এই রিপিট দিস জাস্ট মাইন। আমার ভালোবাসা পাওয়া সস্তা না। যে পায় তাকে মোছা সম্ভব না। এই প্রুভ ইট না? "
" আমি ম/রে গেলে তোমার কি হত? নিশ্চই পাগল বেসে রাস্তায় থাকতে। কিংবা ওভা/র ডোজে.... না না, আস্তাগফিরুল্লাহ।।।। "
"আমায় ছেড়ে আর আসবি? টেল মি? আমি মৃ/ত্যুর সাথে খেলে এসেছি তোর কাছে। হার্ট ব্ল/ক হতে হতে বেঁচেছি। মারবি আমায় আর? ব্যাথা দিবি.? আনসার মি।!"
" কসম আমার রবের। আমার বউ পরিচয় তোমার নামে। তুমি না চাইলে আমি....!"
" চাইবো বলে মনে হয়? "
" কেনো চাইতে পারো না। লামিয়া কে না বিয়ে করতে চেয়েছো। ওই মুখে বলেছো। আমি ভুলে গেছি? "
জিমিন আলতো করে দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে নিঃশব্দে হাসে। মেয়েটা চোখে চোখ রাখেনি। বুঁকের দিকে তাকিয়ে কথা বলেছে। হাত দুটো জিমিনের টিশার্ট খামচে দুই বাহুতে। কোমল স্পর্শ দাগ টেনে যাচ্ছে মাঝে মাঝে। রেগে গিয়ে খামচে ধরছে থেকে থেকে। জিমিন মুখটা নামিয়ে চোখে চোখ খোঁজার ভান করে শুধায়,
" এই মুখে বলেছি? "
" ভুলে তো যাবেই এখন। আমার সব অধিকার তাকে দিতে চেয়েছো। আমার হাতের পানি রিজেক্ট করেছো। ধরতে দাওনি, ছুঁতে দাওনি। আমায় দেখা দাওনি। জানো আমি চিৎকার করে কেঁদে তোমায় দেখতে চেয়েছি। তোমার এটেনশন পেতে সেজে থেকেছি।তোমার ঘরে অন্য মেয়ে ঘুরঘুর করতো। আমি কিভাবে সহ্য করেছি আইডিয়া আছে? "
" আমি কি করে সহ্য করেছি? আমায় পোড়ানো হয়নি? জ্বালানো কম হয়েছে? গাধা, মাথামোটা, আমার সব মনে করাস না লামি। "
মেয়েটা চুপ করলো সবে। থামলো আতঙ্ককে। হাত দুটো নিজের গালে ছুঁয়ে নিলো,
" আমি গাধা তো। ভুল করি খুব!"
" ইডিয়েট!"
লামি সায় দিলো। নাকের নোলক খুলে পড়েছে। নাক টেনে বলল,
" একটু বোকাফুল ডাকবে? "
" কথা দিতে হবে আমার অনুমতি ছাড়া কোথাও যাওয়া যাবে না। "
" যাবো না কলিজা। আমার ভুল হয়েছে। বুঝিনি তুমি এতটা পাগলামি করবে। "'
জিমিন দাঁড়ালো। লামিকে শূন্য এ তুলে জড়িয়ে রাখলো। এতো শক্ত সেই বাঁধন আর জোরাজুরি যেনো হারিয়ে যাবে। উন্মাদের মত মুখ জুড়ে চু/মু দিয়ে গেলো। এলোপাথারি আক্রমণ।
" বোকাফুল আমার। তোকে চাওয়ার সাথে না দেখলে চোখে ভাসে ধ্বং/স। মনে হয় মিথ্যা স্বপ্নে দেখিছি তোকে। তুই দুনিয়ার কোথাও নেই। ওই বকুল তোলার বেলি গাছটা আমার ভয় লাগে জান। আমি সেখানে তোকে রাখতে চাইনা। বুকে রাখবো তোকে। তুই এখানে থাক। "
" কিভাবে? সেখানে তো লামিয়া থাকে। "
" তোর দুনিয়ায় আমি কোনো বাদুড় ইঁদুর ঢুকতে দেইনা। ওটা আমার বিড়াল ছানার জায়গা। "
লামি খুশি হয়েছে। চুপ করে দাড়িয়ে বলল,
" আমরা কি এখানে ঘুমাবো? "
"আজ তো বা/সর রাত। ঘুমাবো কেনো?"
অকস্মাৎ ভড়কে গিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল মেয়েটা,
" শো শো নো!"
জিমিন হাট করে খুলে দিলো বেড রুমের দরজা। চোখ কপালে উঠলো মেয়েটার। এত দ্রুত ঘরবাড়ি ঝাঁকচকে পরিষ্কার করলো কারা? লামির মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।খুশিতে ঘুট ঘুট করে সারা বাড়ি রিনঝিন শব্দে দাপিয়ে বেড়ায়। প্রতিটা কোনা চকচক করছে। ওর নুপুরের শব্দে হৃদপিন্ড ধুকধুক করে ওঠে। বিশ্বাস হয় মেয়েটা সত্যি আছে। রঙিন পর্দা বিছানার চাদর সব কিছু নতুন। আহ্লাদে আটখানা হয়ে ঘরে এলো রমণী। হাত এগিয়ে দিলো। জিমিন গহনা চুরি খুলে ওকে হাল্কা করলো। চুলের বাঁধন আলগা করতেই গলার নরম জায়গায় হাত চলে যায়। লামি কেঁপে কেঁপে ওঠে। সেই দৃশ্য আয়নায় দেখে শুষ্ক ঢোক গেলে জিমিন। লামির হাতে টাওয়াল দিয়ে ওয়াশরুমে পাঠিয়ে কল পিক করে। এলি হাঁফাতে হাঁফাতে বলছে,
" তুই দরজা খোল বলছি। নীলকে বেঁধে রেখেছি। টাকা দিবি নাকি ওকে ফেলে দেবো। "
নীল চুপ করে মুরগির মত পড়ে আছে। হাঁতা খুন্তি চুরি বটি সব হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওরা। পুরো বিল্ডিং সাফ করিয়ে নিয়েছে নীল। বলেছে একটা পার্টি আর ইচ্ছা মত শপিং করার সুযোগ দেবে। এখন কাজ শেষে সবাইকে পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়ে বেঁচেরা দৌঁড়াতে গিয়ে ধরা পড়েছে। এদিকে ঘর থেকে বের হয়ে আর ঢোকার উপায় নেই। পাসওয়ার্ড কেউ জানে না। সব গুলো অনশনে বসে ছে। জিমিন ঠোঁট টিপে হাঁসি থামায়। বলে,
" ফেলে দে। আমার নাম্বার টা ডিলেট করে দিবি। পুলিশ যাতে বুঝতে না পারে। এন্ড ডোন্ট ডিসটার্ব। বা/সর আমার। "
এইযেল হাঁ করে দাঁত কটমট টিয়ে কিছু বলার আগেই ওদিকের লাইন কেটে ফোন বন্ধ হলো। সব কটা গায়ের ব্যাথায় হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়েছে। নীল বেচারা আবার ফেঁসে গেছে মাইনকার চিপায়।
(আংশিক )
চলবে.....[ বাকিটা পরশু]
যেখানে বোঝোনি প্রশ্ন করবে | উত্তর দিবো। প্রশ্ন না পেলে লেখে মজা পাইনা।
#অভিশাপের_আফিম পর্ব ৮০❤️🫀🕊️✨🍁
#নাজ_নাবহান
⚠️এই গল্পের প্লট, চরিত্র, থিম, ঘটনা, ডায়লগ, কথা অনুকরণ করে লেখা - ফ্যান ফিকশন তৈরী করে গল্প কপি করা এবং ডাবিং করা - অন্যের নাম দিয়ে ফ্যান ফিকশন বানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে গল্প বিকৃত করে চালিয়ে দেওয়া থেকে সাবধান।⚠️
⛔কার্টেসি / ক্রেডিট ছাড়া কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ⛔
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

09/06/2026
06/06/2026
05/06/2026
04/06/2026
04/06/2026
02/06/2026
29/05/2026
28/05/2026
28/05/2026