11/10/2026
গতকাল আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে Deprived Officers ইন্টারভিউ সেশনে অংশ নিয়েছি। শুরুতেই ইন্টারভিউ বোর্ডের সম্মানিত সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই। আমার প্রতি অতীতে যে অন্যায় হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সেটি স্বীকার করেছেন। বিশেষ করে বোর্ডের সম্মানিত সভাপতি দুঃখ প্রকাশ করায় সেনাবাহিনীর প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বেড়েছে।
আমার প্রত্যাশা, পরবর্তী সময়ে যাঁরা এই ইন্টারভিউ সেশনে অংশ নেবেন, তাঁদের প্রতিও একই সম্মান, সহমর্মিতা ও ন্যায্য আচরণ করা হবে। এতে এই শ্রদ্ধা ও আস্থার জায়গাটি অক্ষুণ্ণ থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরে আমার প্রতি অবিচারের কারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি যে অভিমান ও কষ্ট জমে ছিল, গতকালের এই স্বীকৃতি সেই কষ্ট দূর করেছে। আমার চাওয়া কোনো পদ, সুবিধা কিংবা পুনর্বহাল নয়। আমি শুধু চেয়েছিলাম, আমার পরিবার ও বন্ধুবান্ধব এবং সমাজ জানুক—আমার প্রতি যা ঘটেছিল, তা ন্যায়বিচার ছিল না। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতিটুকু আমি পেয়েছি। এখন পুনর্বহালের সুযোগ এলেও আমি আর সেনাবাহিনীতে ফিরে যেতে চাই না।
বোর্ডের সামনে স্পষ্টভাবে বলেছি—যাঁরা অন্যায় করেন, তাঁদের সম্মান ও নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা থাকে (এয়ারপোর্টে মুখে মাস্ক পরিয়ে হুইল চেয়ারে বসিয়ে প্লেনে উঠিয়ে দেয় এই দেশেরই একটি গোয়েন্দা সংস্থা ) অথচ অন্যায়ের শিকার সেনাসদস্যটি সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হয় পরিবারে নানা বঞ্চনার শিকার হন--এই পরিস্থিতির অবসান হওয়া জরুরি।
বোর্ডের সকল সদস্যদের একটি ম্যাসেজই দিয়ে এসেছি "আজ আমি ভুক্তভোগী; আগামী দিনে আপনার ভাই কিংবা সন্তান যেন একই অভিজ্ঞতার শিকার না হন সেই প্রত্যাশা থেকেই ব্রিটিশ আমলের সেনা আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রয়োজন । বোর্ড আমার বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আমি আশা করি, এই কথাগুলো একদিন বাস্তব পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে।
লিখনি- ইন্টারভিউ অভিজ্ঞতা থেকে : লেফটেন্যান্ট সাইফুল্লাহ খান সাইফ (অব:) , প্রেসিডেন্ট ,এক্স-ফোর্সেস এসোসিয়েশন।