17/11/2025
আইভি লিগ অ্যালামনাই মূলত বিশ্বের নামকরা আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ( হার্ভার্ড, ব্রাউন, কলাম্বিয়া, কর্নেল, ডার্টমাউথ, প্রিন্সটন, ইয়েল ও পেনসিলভানিয়া) সাবেক শিক্ষার্থীদের বোঝায়।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কাজ করা অর্থনীতিবিদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক কৃষি অর্থনীতির উপর পিএইচডি করেছেন আইভি লিগের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
আর অক্সফোর্ড গ্রাজুয়েট ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এল এল এম করেছেন আইভি লিগের হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি এবং বারাক ওবামাও আইভি লিগ অ্যালামনাই।
কম হলেও ২০ জন আইভি লিগ আলামনাই আছে যারা বিএনপির পলিসি মেইকিং সহ বিভিন্নভাবে বিএনপির হয়ে কাজ করছে। যারা হয়তো নির্বাচন করছেন না বা করবেন না সামনে। কিন্তু বিএনপির পলিসিতে তাদের অবদান সবথেকে বেশি।
02/10/2025
ফেসবুকের একটা বিষয় আছে অনেকে হয়তো জানেন, অথবা জানেন না। কোনো একটা নির্দিষ্ট পোস্ট যদি নূন্যতম ৩ ঘন্টার মধ্যে মোটামুটি ভালো একটা লাইক, কমেন্ট,শেয়ার হয়। ঐ পোস্টটা ফেসবুক থেকেই বুস্ট করে অনেক মানুষের সামনে দেওয়া হয়।
তাই প্রত্যেকটা কমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ, প্রত্যেকটা লাইক, শেয়ার। দল অনলাইনে সবাইকে একত্রিত করার জন্য যা যা করা দরকার সব চেষ্টা করছে।
কিন্তু সবার আগে আমাদের নিজেদের ইগোকে কুরবানি করতে হবে। প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে লাইক দেওয়া, বেসিক একটা কমেন্ট করা তো কঠিন না, অভ্যাস করতে হবে। প্রত্যেকের ফ্রেন্ডলিস্টে ৫ হাজার ফ্রেন্ড থাকতে হবে, খুজে খুজে একজন আরেকজনের সাথে কানেক্টেড থাকবেন। আপনি নিজেই হয়ে উঠবেন একটা ছোট নেটওয়ার্ক।
অনলাইনে আসার পরেই ভুলে যাবেন আপনি কোন গ্রুপের। মাঠের রাজনীতিতেও গ্রুপ থাকবে, হ্যা অনলাইনেও আলাদা আলাদা গ্রুপ হয়ে পরিকল্পনা করে সামনে আগাবেন। কিন্তু এক গ্রুপ এর সাথে আরেক গ্রুপ সং যোগ রাখবেন৷ অনলাইনে এখানে কেউ কারো প্রতিপক্ষ না, দল হারলে আমরা প্রত্যেকে হেরে যাবো, দল জিতলে আমরা সবাই জিতবো৷
15/09/2025
শুধু প্রচার নয়, ব্র্যান্ডিং ও আলাপ এখন জরুরি: বিএনপির ৩১ দফা ও ছাত্রদলের ৯ দফার কার্যকর উপস্থাপনঃ
বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা ও ছাত্রদলের ৯ দফা দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা কি শুধু লিফলেট, পোস্টার আর ব্যানারের মাধ্যমে এই দফাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি? মানুষ কি সেটা অনুধাবন করছে? নাকি সেগুলো কোচিং সেন্টার কিংবা দোকানের কোণে পড়ে থেকে কাগজের স্তুপে পরিণত হচ্ছে?
বিশ্বের অভিজ্ঞতা বলছে—রাজনীতিতে শুধু প্রচার নয়, কার্যকর ব্র্যান্ডিং ও সংলাপ হলো সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
কেন শুধু লিফলেট যথেষ্ট নয়?
লিফলেট মানুষ হাতে পেলেও তারা পড়ে না, পড়লেও জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার মতো সময় বা আগ্রহ তৈরি হয় না। সেখানেই ব্যর্থতা। দফাগুলোকে কেবল “বিলি” করলেই হবে না; বরং মানুষের জীবন, স্থানীয় সমস্যা ও প্রত্যাশার সাথে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে।
বিশ্ব মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা
Scott Cook (Intuit সহ-প্রতিষ্ঠাতা):
“একটি ব্র্যান্ড আসলে আমরা যা বলি তা নয়—মানুষ একে অপরকে যা বলে, সেটিই আসল ব্র্যান্ড।”
অর্থাৎ, দফাগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে মানুষ নিজেরাই আলোচনা শুরু করে।
Li Evans (ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ):
“কন্টেন্ট নিজে জয়ী হয় না, অপ্টিমাইজড কন্টেন্টই জয়ী হয়।”
তাই শুধু বক্তব্য নয়—সহজ, ভিজ্যুয়াল, আকর্ষণীয় ও যুগোপযোগীভাবে তা উপস্থাপন জরুরি।
Charlene Li:
“টুইটার কোনো প্রযুক্তি নয়, এটা হলো আলাপচারিতা। আর এই আলাপ চলছেই—আপনি থাকুন বা না থাকুন।”
অর্থাৎ, জনগণের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা গেলে দফাগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে।
বিশ্ব রাজনীতির ব্র্যান্ডিং কৌশল
বারাক ওবামা তার “Yes We Can” স্লোগান দিয়ে কেবল কথা বলেননি—মানুষের আশা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছিলেন। তার প্রচারণা ছিল একধরনের আবেগময় গল্প বলার কৌশল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এর “MAGA” ক্যাপ কেবল একটি টুপি ছিল না, বরং একটি প্রতীক—যা সমর্থকদের পরিচয় ও সংহতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ (AOC) তার পোস্টার ডিজাইন, রঙ, ভাষা এবং সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতির মাধ্যমে তরুণদের মনে বিশ্বাসযোগ্য ও কাছের মানুষ হিসেবে জায়গা করে নেন।
জাস্টিন ট্রুডো তার প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ছোট কমিউনিটি মিটিং ব্যবহার করে জনগণের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে করণীয়
১. লোকালাইজড বার্তা: প্রতিটি দফাকে এলাকার বাস্তব সমস্যার সাথে যুক্ত করতে হবে। যেমন, কৃষি অঞ্চলে কৃষি সম্পর্কিত দফা, শিল্প অঞ্চলে কর্মসংস্থানমুখী দফা ব্যাখ্যা করা।
২. উঠান বৈঠক ও আলোচনা সভা: শুধু লিফলেট না দিয়ে সেই মুহূর্তেই অন্তত একটি দফা বুঝিয়ে বলা।
৩. মাঠকর্মীদের প্রশিক্ষণ: যারা প্রচারণায় থাকবেন, তাদের প্রত্যেককে দফাগুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
৪. ডিজিটাল ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট: ভিডিও, ইনফোগ্রাফিক, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট—যা মানুষ সহজে শেয়ার করতে পারে।
৫. প্রতীক ও স্লোগান: এলাকা ভিত্তিক একটি সংক্ষিপ্ত, স্মরণীয়, আবেগময় স্লোগান তৈরি করা জরুরি—যা সাধারণ মানুষ মুখে মুখে বলবে।
রাজনীতি আজ কেবল দেয়ালে টাঙানো পোস্টার বা লিফলেটের স্তূপে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এখন মানুষের সঙ্গে সংলাপ তৈরি করা, তাদের বিশ্বাস অর্জন করা এবং একধরনের ব্র্যান্ড অভিজ্ঞতা গড়ে তোলা। বিএনপির ৩১ দফা ও ছাত্রদলের ৯ দফা যদি সত্যিই জনমানসে গভীরভাবে পৌঁছাতে চায়, তবে সময় এসেছে প্রচার নয়—প্রমোশন, মার্কেটিং নয়—ব্র্যান্ডিং, এবং বক্তৃতা নয়—আলাপের পথে হাঁটার।
✒️🖍️ মোঃ রাকিব হোসেন (খাঁন)
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।