30/03/2026
৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫, ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে দ্রুত লাহোরের দিকে অগ্রসর হয়। জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
এই প্রতিরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল খেমকরণ ফ্রন্ট, যেখানে ভারতীয় আক্রমণের জবাবে পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। তৎকালীন তরুণ অফিসার ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান লাহোরকে রক্ষা করার জন্য ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৪৬৬-সদস্যের একটি ইউনিটের নেতৃত্ব দেন।
যুদ্ধের সময়, জিয়ার নেতৃত্ব এবং সাহসিকতা অনুকরণীয় ছিল। তার নেতৃত্বে, ইউনিটটি বারবার ভারতীয় আক্রমণের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলি সফলভাবে ধরে রেখেছিল। এই যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনী অসংখ্য ট্যাঙ্ক হারিয়েছিল এবং সেই ট্যাঙ্কগুলির মধ্যে একটি এখনও চট্টগ্রাম টাইগার্স জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
তার অসাধারণ সাহসের জন্য, মেজর জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান হিলাল-ই-জুরাত প্রদান করা হয়েছিল। তার ইউনিট তিনটি সিতারা-ই-জুরাত এবং নয়টি তমঘা-ই-জুরাতও অর্জন করেছিল, যা ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে বাঙালি সৈন্যদের ব্যতিক্রমী অবদানের প্রতিফলন।
#ইস্টবেঙ্গল
30/03/2026
শ্রদ্ধাঞ্জলি: শহীদ লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ইস্ট বেঙ্গল, বীর উত্তম এর ৫৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী
ঢাকা, ৩০ মার্চ ২০২৬ (সোমবার): বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ১ ইস্ট বেঙ্গল (সিনিয়র টাইগারস) রেজিমেন্টের অকুতোভয় যোদ্ধা লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন মাতৃভূমির জন্য জীবন উৎসর্গ করেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে সংঘটিত সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে শহীদ প্রথম সামরিক কর্মকর্তা।
১৯৪৭ সালের ৫ মে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তিতে জন্মগ্রহণকারী আনোয়ার ১৯৬৫ সালে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে ম্যাট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে বুয়েটে অধ্যয়নরত অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং প্রথম বদলি পান ১ ইস্ট বেঙ্গল (সিনিয়র টাইগারস) রেজিমেন্টে।
১৯৭১ সালে যশোর সেনানিবাসে অবস্থিত এই ইউনিটটিকে শীতকালীন প্রশিক্ষণের অজুহাতে দূরে পাঠানো হয় এবং তাদের রেডিও যন্ত্র কেড়ে নেওয়া হয় যাতে ২৫ মার্চের গণহত্যার খবর তারা জানতে না পারে। পরবর্তীতে ব্রিগেড কমান্ডারের আদেশে ৩০ মার্চ সকালে পাকিস্তানি সৈন্যরা ১ ইস্ট বেঙ্গল (সিনিয়র টাইগারস)-এর অস্ত্রাগার দখলের চেষ্টা করলে সৈনিকরা আত্মরক্ষায় অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় ক্যাপ্টেন হাফিজ ও লেফটেন্যান্ট আনোয়ার বিদ্রোহী সৈনিকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং ইউনিটে প্রকৃত সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়।
প্রায় ৭ ঘণ্টার টানা লড়াইয়ের পর গোলাবারুদ প্রায় ফুরিয়ে এলে বাঙালি সৈনিকরা কৌশলগতভাবে অবস্থান ত্যাগ করে চৌগাছার দিকে সরে যেতে শুরু করে। এই অপ্রস্তুত ও অসম লড়াইয়ে শত্রুর সাথে প্রত্যক্ষ সশস্ত্র সংঘর্ষে লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গুরুতর আহত হন এবং অল্পক্ষণ পরই বীরোচিতভাবে শহীদ হন। সহযোদ্ধারা তাঁর মরদেহ নিয়ে হয়বতপুর গ্রামে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় নজরুল ইসলাম কলেজের সামনে তাঁকে সমাহিত করেন।
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে। ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত শহীদ বীর উত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গার্লস কলেজ তাঁর স্মৃতির বহমান প্রতীক। সেই প্রাথমিক প্রতিরোধে ১ ইস্ট বেঙ্গল (সিনিয়র টাইগারস)-এর প্রায় ৪০ জন বাঙালি সৈনিক শহীদ হন।
#বীরউত্তম #মহানমুক্তিযুদ্ধ #ইস্টবেঙ্গল #সিনিয়রটাইগারস #শহীদলেফটেন্যান্টআনোয়ার
21/03/2026
ক্যান্টনমেন্টে নতুন ব্রিগেড কমান্ডার এসেছেন। যোগ দেয়ার পরদিন থেকে তিনি লক্ষ্য করলেন মাঠের পাশের একটা বেঞ্চে দুই পাশে দুই সৈনিক রোজ দাঁড়িয়ে থেকে পাহারা দেয়। বেঞ্চটি মাঠের পাশের বাকি বেঞ্চগুলোর মতোই, কিন্তু বাকিগুলোতে পাহারা নেই, এই বেঞ্চটায় পাহারা। কয়েকদিন দেখার পরে তিনি সেখানকার সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে ডেকে বললেন- এই বেঞ্চটা প্রতিদিন পাহারা দেয়া হচ্ছে কেন?🤔
সেকেন্ড-ইন-কমান্ড- “স্যার, এটাই রেওয়াজ, আমি গত দশবছর ধরে এমনটাই দেখে আসছি।”
ব্রিগেডিয়ার সাহেব অবাক হয়ে তাঁর আগের দায়িত্বরত ব্রিগেডিয়ারকে ফোন দিলেন। আগের ব্রিগেডিয়ার সাহেবও বললেন; “হ্যাঁ, হ্যাঁ, এটাই নিয়ম। বেঞ্চের দুই পাশে দুইজন সেন্ট্রি দাঁড়িয়ে পাহারা দেবে।”
কিন্তু কী কারণে পাহারা দেবে, সেটা সেই ব্রিগেডিয়ারও বলতে পারলেন না।
এভাবে খোঁজ নিতে নিতে জানা গেল, ২০ বছর আগে একজন ব্রিগেডিয়ার এই নিয়ম করে গেছেন। তো নতুন ব্রিগেডিয়ার সাহেবের খুব কৌতূহল হলো। তিনি ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে জানলেন, ২০ বছর আগের তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার সাহেব যদিও বহু আগে রিটায়ার করেছেন, তবু এখনও বেঁচে আছেন। তো কৌতূহল চাপতে না পেরে তিনি সেই বৃদ্ধ সিনিয়র অফিসারকে ফোন করে বললেন- “স্যার, আপনি কেন দুইজন সৈনিককে দিয়ে বেঞ্চ পাহারা দেয়ার নিয়মটা চালু করেছিলেন?”
সেই বৃদ্ধ অফিসার অবাক হয়ে বললেন- “বলো কী! আমি যখন বলেছিলাম, তখন বেঞ্চটা নতুন রঙ করা হয়েছিল। তাই একজনকে ডেকে বলেছিলাম, এখানে দুইজন সেন্ট্রি দাঁড় করিয়ে দাও, যাতে কেউ বেঞ্চে বসে প্যান্টে রঙ না লাগিয়ে ফেলে! এখনও সেই বেঞ্চ পাহারা দিয়ে চলছে নাকি”😁
12/03/2026
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা সদস্যের আত্মত্যাগঃ মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ নাজিম উদ্দিন, এসবিপি এর ৩য় শাহাদাত বার্ষিকী
ঢাকা, ১২ মার্চ ২০২৬ (বৃহস্পতিবার): মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ নাজিম উদ্দিন, এসবিপি ৩ ইস্ট বেঙ্গল, রুমা জোনের একজন দায়িত্বশীল সুবেদার মেজর ছিলেন। তিনি সৎ, মেধাবী, কর্মঠ ও দক্ষ একজন সৈনিক হিসেবে দীর্ঘদিন অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
গত ১২ মার্চ ২০২৩ তারিখে বান্দরবান রিজিয়নের অধীনস্থ রুমা জোনের কাটাপাহাড় এলাকায় টহল পরিচালনাকালে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণের মুখে পড়েন। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে সন্ত্রাসীদের সাথে গুলি বিনিময় কালে একপর্যায়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাতবরণ করেন।
দেশমাতৃকার নিরাপত্তা ও পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গকারী এই বীর সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ ও বীরত্ব সকলের জন্য গর্বের ও অনুকরণীয়। তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সেনাবাহিনী পদক (এসবিপি) প্রাপ্ত হন।
23/02/2026
বান্দরবানের রুমার মুরঙ্গ বাজার এলাকায় জেএসএস'র সাথে সেনাবাহিনীর আবারো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সন্তু লারমা সমর্থিত জেএসএস এর সন্ত্রাসীরা চাঁদা সংগ্রহ করতে গেলে তাদেরকে ধাওয়া দেয় সেনাবাহিনী, এবং এখান থেকেই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
গত কিছুদিন আগেও সেনাবাহিনীর সাথে গোলাগুলিতে জড়ায় এই সংগঠনটি। সম্প্রতি পাহাড়ে আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফকে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার পরপরই জেএসএস এর উত্থান ঘটেছে নাটকীয়ভাবে।
22/02/2026
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে ব্যাপক রদবদল হয়েছে। আজ দুপুরে সেনাসদর থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান। এর আগে গতবছরের ১৫ই অক্টোবর আর্টডকের জিওসি করা হয়েছিল
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসের লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে!এ ধরণের বদলকি বাহিনীর পরিভাষায় ডাম্পিং পোস্ট বলা হয়। নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। তাকে গতবছরের অক্টোবরে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছিল
এছাড়া মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলামকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশন থেকে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। আবার ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসানকে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে।
বেইজিং ও সর্বশেষ দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাফিজুর রহমানকে মেজর জেনারেলে পদোন্নতি দিয়ে যশোর সেনানিবাসের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে।
22/02/2026
শুধুমাত্র ত্রাস সঞ্চার ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই ৪০ হাজার লোককে গুলি করে বা ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছিল ইংরেজরা।
এইসব মজলুমের মধ্যে ছিলো অবুঝ শিশু,বৃদ্ধ,কিশোর যুবক,নারী সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।
অবিশ্বাস্য লাগছে তাইনা?
হ্যা তখন প্রতিবাদ করার সাহস টুকুও ছিলো না কারো।
শুধু কি তাই?
প্রায় ১ লক্ষ ভারতীয় ও বিদ্রোহী সেনাদের ও হত্যা করেছিল
অমানুষেরা।
হিন্দু মুসলিম সকল ধর্মের সেনাদের দাড় করিয়ে নির্বিচারে গুলি করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে লাশগুলি প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
অগনিত আলেমদের ও পুন্যবান ব্যাক্তিদেরকে গাছের সাথে ফাঁসি দিয়ে ওই গাছেই লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে দিনের পর দিন।
এই প্রাণ গুলি বিপন্ন হয়েছিল সিপাহি বিদ্রোহে পরাজিত হওয়ার কারণে।
বিদ্রোহ শুরুর পিছনে মূল কারণ ছিলো ১০০ বছরের ব্রিটিশদের শোষন ও শাসন।
চারিদিকে ছিলো কেবল নাই নাই রব।
ডাল, চাউল, তেল-ঘি সবই বিত্তবানদের ঘরে মজুদ হতো। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ পাঁচ পয়সায় এক পয়সার পন্য ও সংগ্রহ করতে পারতো না।
ঐ সময় আম কাঠাল সস্তা হওয়ায়, সাধারণ মানুষ এসবই খেতো ভাতের মতো। জানা যায় প্লেট ভরে কাঠাল খেয়ে সাহরি করতো, আবার ইফতারেও সেই কাঠাল ই জুটতো।
এই অবস্থা বছরের পর বছর যুগ যুগ ধরে বিদ্যমান ছিলো। যে কারণে বিদ্রোহ মনভাব বাসা বেধেছিল জনমনে।
**-------------
যার বিস্ফোরণ ঘটে সিপাহী বিদ্রোহের মাধ্যমে।
এটা শুরু হয়েছিলো বাংলায়।
ভারতীয় সেনা নিয়োগের সময় শর্ত ছিলো,
তাদের ভারতের বাইরে পাঠানো হবে না।
কিন্তু বারাকপুরের এক বাহিনীকে ভ্রম্মদেশে পাঠাবার চেষ্টা হলে, তারা অস্বীকৃতি জানায়।
ফলে তাদের প্রাণদন্ড দেয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটেছিলো ১৮২৪ সালে।
সৈনিকেরা গোলামীর জীবন থেকে জনতাকে মুক্তি দিতে বিদ্রোহের আটঘাট পেতে আশেপাশের সেনা ক্যাম্পে চিঠিপাঠায় এবং বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনার সূত্রপাত ঘটায়।
এক সময় অধিকাংশ সেনা ক্যাম্প থেকেই সেনাবাহিনীরা একত্রে বিদ্রোহের ঘোষনা দিয়ে ময়দানে নেমে পড়ে।
তাদের সাথে সাধারণ আপামর জনতা সম্মতি দিলেও
বিদ্রোহের দিন তারা ভীত হয়ে ময়দানে নামে নাই অনেকেই।
অন্যদিকে সিপাহীরা মাঠে নেমে গেছে।
অনেক হিন্দু জমিদাররা এমনকি মুসলম শাসকরাও ছিলো বিদ্রোহের বিরুদ্ধে ।
কারণ তাতে তাদের পেনশন চলে যাবে,
আয়েশি জিন্দেগীর কবর হবে,
মুঠোয় যে চারপয়শা পায় তা আর আসবেনা।
এ জন্য তারা ইংরেজদের গোলামীতেই স্বাদ খুজে পেত।
(তবে এটা সত্য ইংরেজরা তাদের আয়েশি জীবন যাপনের যাবতীয় উপকরণ দিয়েছিল।)
তারা ভয় পেত ব্রিটিশ প্রভুরা বিরক্ত হলে যদি এসব সরকারি সুযোগ সুবিধা চলে যায়।
তাই সিপাহীদের সাথে তারা তো যুক্ত হয় ই নাই, পাশাপাশি নিজ নিজ রাজ্যের জনতাদের ও আন্দলোনে নামতে দেয়নি।বরং হাত মিলিয়েছে ইংরেজ দের সাথে।
ফলাফল কি হলো?
বিদ্রোহ দমনে ইংরেজ কোম্পানি গুলি অমানবিক নিপীড়নের আশ্রয় নিল।
ব্রিটিশ ও অব্রিটিশ শ্বেতাঙ্গ অধিবাসীরাও
বিদ্রোহী হত্যাযজ্ঞে অংশ নেয় এবং বিদ্রোহী সন্দেহভাজনে ভবঘুরে বালকদের ও হত্যা করে
দোষী নির্দোষী নারী পুরুষ, বৃদ্ধ শিশু নির্বিশেষে ভারতীয়দের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিলো।
বাড়িঘর পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছিলো।
গ্রামের পর গ্রাম আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে যায়।
চাবুক মেরে ভারতীয়দের জিভ দিয়ে রক্ত চাটতে বাধ্য করে, গাছের ডালে ডালে ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিলো, উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো কামানে পুরে তোপের মুখে। আরো বহু নৃশংসতম ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারে।
ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, “তিনমাস ধরে প্রতিদিন মৃতদেহ বোঝাই আটখানি গাড়ী সূর্যোদয় থেকে সূর্যানস্ত পর্যন্ত শবদেহ স্থানান্তরিত করতো। ঐ সব শব চৌমাথা ও বাজারে ঝুলানো থাকতো। এইভাবে হাজারকে হাজার লোককে খুন করে বলে মাত্র ৬ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।
বিস্তারিত জানতে ইতিহাসের বই পড়ুন।
"সিপাহি বিদ্রোহের ১৫০ বছর"কমল চৌধুরীর লেখাটিও মন্দ নয়।
--------------------
বাংলাদেশে কি এরকম অবস্থা হতে পারে বলে মনে হয়??
হাদি ভাই বলে গেছিলেন এই জুলাই অভ্যুথান সফল না হলে সিপাহির মতো ন্যাক্কারজনক বিপ্লব ঘটবে এই দেশে।
আসলেও কি তা সম্ভব?
22/02/2026
রাষ্ট্র চালানোর দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের জন্য রাষ্ট্র কী কী সুবিধা দেয়—সেটা জানা নাগরিক হিসেবে আমাদের অধিকার।
বাংলাদেশের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার চিত্রটা এমন—
প্রথমেই বেতন ও দৈনিক ভাতা।
একজন মন্ত্রী মাসে মূল বেতন পান ১,০৫,০০০ টাকা। প্রতিদিনের ভাতা ২,০০০ টাকা।
একজন প্রতিমন্ত্রীর মাসিক বেতন ৯২,০০০ টাকা, দৈনিক ভাতা ১,৫০০ টাকা।
উপমন্ত্রীর বেতন ৮৬,৫০০ টাকা, দৈনিক ভাতা ১,৫০০ টাকা।
এর বাইরে রয়েছে আলাদা আলাদা মাসিক ভাতা।
নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াতের জন্য মাসে ৭,৫০০ টাকা।
আপ্যায়ন ভাতা—মন্ত্রী ১০,০০০ টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৭,৫০০ টাকা, উপমন্ত্রী ৫,০০০ টাকা।
মন্ত্রীদের জন্য অতিরিক্ত সম্মানী ভাতা ৫,০০০ টাকা, টেলিফোন ভাতা ৭,৮০০ টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১,৫০০ টাকা।
এছাড়া মাসে ৬,০০০ টাকা ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ কেনার জন্য বরাদ্দ থাকে।
যাতায়াত সুবিধার দিক থেকে—
প্রত্যেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী একটি করে সরকারি গাড়ি পান।
এই গাড়ির জন্য ৫৪০ লিটার জ্বালানির সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়।
ঢাকার বাইরে অফিসিয়াল সফরে গেলে অতিরিক্ত জিপ গাড়ি দেওয়া হয়, যার সব খরচ সরকার বহন করে।
বিদেশ ভ্রমণও সরকারি খরচে।
আবাসনের ক্ষেত্রে—
তারা সম্পূর্ণ আসবাবপত্রসহ (ফুল ফার্নিশড) সরকারি বাসা পান।
বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোন—সব বিল সরকার দেয়।
যদি সরকারি বাসায় না থাকেন, তাহলে মন্ত্রী মাসে ৮০,০০০ টাকা বাড়িভাড়া পান।
প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী পান ৭০,০০০ টাকা করে।
কর্মকর্তা ও কর্মচারী সুবিধা—
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পান উপসচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব (PS), সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন APS, ক্যাডারের বাইরে আরেকজন একান্ত সচিব এবং ১০ম গ্রেডের দুইজন কর্মকর্তা।
উপমন্ত্রীও উপসচিব ও সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা পান।
এছাড়া সবার জন্য থাকেন জমাদার, আর্দালি, দুইজন এমএলএসএস এবং একজন পাচক বা পিয়ন—যাদের বেতন রাষ্ট্র বহন করে।
এলাকা উন্নয়ন ও দাতব্য খাতেও বার্ষিক তহবিল আছে—
মন্ত্রী পান ১০ লাখ টাকা,
প্রতিমন্ত্রী ৭.৫ লাখ টাকা,
উপমন্ত্রী ৫ লাখ টাকা।
এগুলো আইনসিদ্ধ ও কাঠামোবদ্ধ সুবিধা। প্রশ্নটা অন্য জায়গায়—
এই সুযোগ-সুবিধার বিপরীতে জনগণ কি সমান মানের সেবা পাচ্ছে?
রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত হচ্ছে?
ট্যাক্স দেয় জনগণ।
সুবিধা পান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।
সুতরাং প্রশ্ন তোলাও জনগণের অধিকার, আর জবাব দেওয়া তাদের দায়িত্ব।