Ex-Joint Convener (1979 ),Dhaka College ,Ex-International Secretary JCD Central Committee( 1984-1986
১৯৮৪ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী, আপোষহীন এবং কোটি কোটি ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণপ্রিয় ছাত্রনেতা সানাউল হক নীরু শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে অধ্যায়নকালীন সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, স্বাধীনতার ঘোষক ও আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেন।সানাউল হক নীরু এদেশের এমন একজন ছাত্রনেতা যার নামে রীতিমত সমগ্র বাংলাদেশে
শ্লোগানের নামে জিকির ধ্বনী হত। সেই সময়ে বাংলাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কোন ছাত্র-ছাত্রী খুজে পাওয়া যাবে না যে সানাউল হক নীরুর নামে শ্লোগান দেয় নাই।সানাউল হক নীরু। এক সময়ের রাজপথ কাঁপানো ছাত্রনেতা। বিএনপির এ দুঃসময়ে হাল ধরতে দলে তার খুবই প্রয়োজন। ৮০ দশকে এরশাদ সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কঠিন আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ছাত্র-জনতাকে একত্রিত করেছিলেন তিনি। নীরুর আন্দোলন এবং ত্যাগের কথা কারোরই অজানার কথা নয়। সাবেক ঢাকসু নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জয়ের রুপকার সানাউল হক নীরু।সে সময় ডাকসুর হাঁকডাক ছিল চোখে পড়ার মতো। ছাত্রদলের ওপর নির্ভর করে বিএনপি সেবার ক্ষমতায় এসেছিল। আর ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিতকে মজবুত করে গড়ে তুলেছিলেন তিনি।বিজ্ঞ রাজনীতিকদের মতে, বিএনপির এই সময়ে নীরুর মতো রাজপথ কাঁপানো সংগঠকের প্রয়োজন। যার মেধা, যোগ্যতা, বিচক্ষণতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি আরো শক্তিশালী হতে পারে।ক্ষমতাসীন সরকারের অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, গুম, হত্যাসহ বিভন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। সরকার পতনে পিছপা হওয়ার নেতা নন তিনি। বিএনপিকে আবার ক্ষমতায় আনতে সেই দিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন। নীরুর মতো দুঃসাহসী নেতাই পারে সব অসাধ্য সাধন করতে।
সর্বকালের, সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ট মানবমহীরুহ ও মহামানব, এদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক স্বাধীনতার ঘোষক ও আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সৃষ্ট আদর্শবাদী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নির্ভীক, সত্যনিষ্ঠ, বলিষ্ঠ ও সাহসী সৈনিক হিসেবে সানানউল হক নীরু মূলত তাঁর সৃজনশীল চেতনার বহমান তরঙ্গেরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে নীরু ভাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকেও বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে, পথে-প্রন্তরে, আবাল-বৃদ্ধ, বনীতা এবং বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর হৃদয়ে, একান্ত আপন মহীমায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
যার ফলশ্র“তিতে ছাত্রদলেরই হাত ধরে ১৯৯১ সালে এদেশের ১৫ কোটি মানুষের নয়ন মণি, মহিয়সী ও আপোষহীন দেশনেত্রী, তিন-তিন বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বার বার সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস সানাউল হক নীরুই এদেশের একমাত্র ছাত্রনেতা যিনি তাঁর একক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বের মাধ্যমে তাঁর বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনের অভিব্যক্তিকে প্রত্যুষের অরুণালোকের মতো একটি স্পর্ধায়, অভিঘাতে আর উজ্জ্বেল্যে মূর্তিমান করেছেন।
বিনীত, সৌজন্য, সমাহিত, বিকাশচঞ্চল, জীবন্ময় এই মহান ছাত্রনেতা সানাউল হক নীরু জাতীয়তাবাদী দলের সূচনালগ্ন থেকে কখনও প্রকাশ্যে আবার কখনো বা নেপথ্যে থেকে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে আরো অধিক থেকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, বছরের পর বছর বিনিদ্র দিবা-রজনী অক্লান্ত পরিশ্রম করে এবং নিজের জীবনকে বাজি রেখে তার প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে একটি শক্ত ভীতের উপর দাড় করাতে সক্ষম হয়েছিলেন। হয়তো বা আজ অনেকেই তাঁর সেই সব অবদানের কথা ভূলে গেছেন। কিন্তু তাঁর সেই সব অবদানের কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।
আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের এই ক্লান্তিলগ্নে জাতীয়বাদী শক্তিকে নানান ষড়যন্ত্রের নীলনকশা ও ধ্বংসের হাত থেকে যদি রক্ষা করতে হয় তাহলে আর দেরি নয় এখনই প্রয়োজন বাংলাদশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা আলোচিত ও সর্বশ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় ছাত্রনেতা সানাউল হক নীরুকে দেশের স্বার্থে, দলের প্রয়োজনে যে কোন শর্তে আবার বাংলাদশে জাতীয়তাবাদী দলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে হবে নইলে জাতীয়াতাবাদী শক্তিকে ধ্বংসের যে নীল নকশা শুরু হয়েছে তা থেকে সহজে পরিত্রান পাওয়া সম্ভবপর হবে বলে মনে হয় না।
তাই বর্তমান জাতীয়তাবাদী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা আর সময় ক্ষেপণ না করে জাতীয়তাবাদী শক্তির হৃতগৌরব পুনঃরুদ্ধারের লক্ষ্যে, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে আরো অধিক সক্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও সুনিশ্চিত জীবনের প্রত্যাশায় বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাবেক ছাত্রনেতা সানাউল হক নীরুকে জনসমক্ষে নিয়ে আসা একান্ত অপরিহার্য বলে আমরা মনে করি। কেননা এই মুহুর্তে সানাউল হক নীরুর বিকল্প বিএনপিতে আর অদ্বিতীয় কেউ আছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না।