04/04/2026
ইফতার ২০২৬
বাংলাদেশকে শ্রেষ্ঠরুপে গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ গণঅভিযাত্রা দল ২২ মার্চ ২০২৫ যাত্রা শুরু করে
04/04/2026
ইফতার ২০২৬
04/04/2026
৪ এপ্রিল ২০২৬ রাজনৈতিক আড্ডা
16/08/2025
সংস্কার ও বিচারের দাবীতে বাংলাদেশ গণঅভিযাত্রা এর উদ্যোগে মধুর ক্যান্টিনে ১৫ অগাস্ট ২০২৫ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বড় নতুন রাজনৈতিক দল তৈরী করার ক্ষেত্রে অন্তরায় ও করনীয়
(৪০ পয়েন্ট )
(৩য় কিস্তি লেখার কাজ চলছে )
(১)
দেশে এত এত রাজনৈতিক দল থাকতে আপনি আপনারা বা উদ্যোক্তারা কেন নতুন রাজনৈতিক দল গড়তে চান এটা পরিষ্কার হওয়া জরুরী।
রাজনৈতিক দল দ্বারা কি কি অর্জন করতে চান সেটা স্পষ্টভাবে বুঝা জরুরী ও টার্গেট অডিয়েন্স বা নতুন রাজনীতি যারা গড়তে চায় ও সঙ্গী হতে চায় তাদেরকে বিভিন্ন কর্মশালার মাধ্যমে স্পষ্ট করা জরুরী। এটা স্পষ্ট না করাটা প্রথম সংকট। লুকোচুরি বা অস্পষ্টতা কোন অগ্রসর রাজনীতি হতে পারেনা।
(২) কাকে নিয়ে রাজনৈতিক দলটা প্রতিষ্ঠা করতে চান সেটা ঠিক হবে রাজনৈতিক দর্শন ঠিক হওয়ার পর।
প্রথম রাজনৈতিক দর্শন এর উপর বেইজ করে একটা চেকলিস্ট ঠিক করা জরুরী হয়ে পরে। যাতে আগ্রহী রাজনৈতিক নেতা কর্মীকে স্ক্যান ও ফিল্টার করা যায়।
গনজোয়ারের নেতা কর্মী দলের গুনগত অবস্থা ফিকে করে দেবে।
(৩) রাজনৈতিক দর্শন ও রাজনৈতিক কর্মী ঠিক হওয়ার আরও আগের কাজ হল কারা কারা মিলে দলটা প্রতিষ্ঠা করতে চান তাদের পরিচয় কি?
রাজনৈতিক উদ্যোক্তাদের যোগ্যতা ও সক্ষমতা কি?
যোগ্যতার মধ্যে একডেমিক যোগ্যতা, সংগঠিত করার অতীত অভিজ্ঞতা, সংগঠন করার অভিজ্ঞতা, একসাথে অনেক দিন থাকার অভিজ্ঞতা নাকি চামড়া পাতলা? অল্প সময়ে রিয়েক্ট করে, ধৈর্য্য না ধরে প্লাটফর্ম ত্যাগ করার প্রবনতা ইত্যাদি।
রাজনৈতিক উদ্যোক্তাদের ব্যক্তি চরিত্র কি?
হুট করে মানুষের অতীত চরিত্র পরিবর্তন হয়না।
রাজনৈতিক উদ্যোক্তাদের লেনদেন ও মানুষের হক নিয়ে সচেতন কিনা তা জানা জরুরী।
ব্যক্তি জীবনে ন্যায়বিচার, মানবিক গুনাবলির অধিকারী না হলে
তার দ্বারা নতুন রাজনীতি তৈরি করা সম্ভব না। যিনি রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন করবেন, রাজনীতির মাধ্যমে দেশের পরিবর্তন করবেন তাকে তো আগে গুণগতভাবে নিজে পরিবর্তিত হতে হবে। একজন বা একদল খারাপ মানুষের দ্বারা কখনও রাজনীতি বা দেশের পরিবর্তন করা সম্ভব না।
(৪)এরপর যেটা দরকার সেটা হলো যারা নতুন রাজনীতির উদ্যোক্তা তাদের মধ্যে সম্পর্কের আন্তরসায়ন । এই আন্তরসায়ন ঠিক করার জন্য দরকার অনেকগুলো কর্মশালা এবং বিভিন্ন ধরনের পিকনিক টাইপ আনন্দঘন ট্যুর। টুরের মাধ্যমে পারস্পরিক জানাশুনা বাড়বে।
যখন রাজনৈতিক উদ্যোক্তাদের ভিতরে সম্পর্কের আন্ত রসায়নটা স্ট্যান্ডার্ড বা অধিকতর মানসম্পন্ন হবে তখন টিম স্পিরিট বা কাজের স্পিরিট বেশি হবে এবং সম্পর্ক ও সংগঠনের অস্তিত্ব লং লাস্টিং হবে এবং প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কম থাকবে। ছোটখাটো বা বড় ভুল ত্রুটির জন্য বা গ্রুপিং কোন্দল কম হয়ে দলীয় অর্জন কতটুকু হচ্ছে তা মুখ্য বিষয় হয়ে উঠবে। কাজের মাধ্যমে সম্পর্ক হবে, দলীয় তৎপরতার মাধ্যমে সম্পর্ক হবে।
(৫)
দলের প্রোগ্রামে উপস্থিতি, দলে ডোনেশন, দলে রিক্রটমেন্টের মাধ্যমে নেতাকর্মী চিনতে হবে।
(৬)
এরপর যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল
নাম নির্ধারণ,
কর্মসূচি নির্ধারণ,
গঠনতন্ত্র ঠিক করা,
ঘোষণাপত্র ঠিক করা,
দলের দর্শনের ভিত্তিতে দলীয় সাহিত্য তৈরি করা,
দলের প্রতীক,
দলের লোগো,
দলের অফিস,
দলের শ্লোগান,
দলের সংগীত,
দলের বুলেট পয়েন্টে মিশন ভিশন,
দল নিয়ে জনগণের প্রশ্ন ও তার উত্তর তৈরি করা, দলকে প্রচার করা ও দলকে পরিচিত করে তোলা,
দল বিস্তৃত করার জন্য সারাদেশে দলের কমিটি করা, দলের কমিটিকে ফাংশানিং করা,
দলের কমিটিকে কার্যকর করে তোলার জন্য নেতাকর্মীদের মান উন্নয়ন করা ও দলের নেতাকর্মীদেরকে অধিকতর রাজনৈতিক বোদ্ধা হিসেবে গড়ে তোলা জরুরী । এসব অলংকারিক।
(৭)
এরপর নির্বাচন কে সামনে রেখে নির্বাচন করার মত নেতৃবৃন্দ দলে নিয়ে আসা জরুরী। অবশ্যই তারা নতুন রাজনৈতিক দলের দর্শনকে ধারণ করে এমন হতে হবে । নিছক নেতা হওয়া, ক্ষমতার জন্য, শো অফ করার জন্য, টাকার জন্য, পদের জন্য, দালালী করার জন্য এমন হবেনা। দেশও রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য ইনক্লুসিভ মানসিকতার নেতাকর্মী জরুরী। নেতা কর্মীকে সবসময় সত্য বলা, ন্যায় ও ন্যায্যতা বুঝা জরুরী। গনতান্ত্রিক মানসিকতার হওয়া জরুরী।
(৮)
ছোট পুরাতন দল গুলো জনগনের মনোযোগ আকর্ষন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার আলোচনা বাদ। ছোট দলে ঢুকে সে দল বড় করে কিছু করতে চাওয়ার চিন্তা বড়ই ফকিরি ও গরীবি।
(৯)
রাজনৈতিক দল গঠন প্রক্রিয়ায় যে ঘাটতিটি দেখা যায় সব বয়সের রাজনৈতিক নেতাকর্মী দলে স্থান না পাওয়া। সব ধর্মের রাজনৈতিক নেতাকর্মী দলে স্থান না পাওয়া। ডাক্তার,প্রকৌশলী, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ, সংস্কৃতি, কর্মী, সাহিত্যিক, কবি, সাংবাদিক, নারী, কৃষক, শ্রমিক, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাবেক বিচারপতি, সাবেক আমলা সহ বিভিন্ন পেশার অভিজ্ঞদের স্থান না হওয়া, ছাত্র, যুবক সহ সব বয়সী রাজনৈতিক নেতাকর্মীর দলে জায়গা না হওয়া।
(১০)
দলের কাজকে এগিয়ে নিতে হলে যেটা জরুরী সেটা হল বাজেট, একটি ভাল মানের ফান্ড রেইজ করে কাজে নামতে হবে। পরবর্তীতে প্রতি মাসে ডোনেশন দেয় এমন একটি ডোনার গ্রুপ প্রয়োজন হবে তবেই দলকে সামনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
(১১)
আরও প্রস্তুতি নেয়া, শুরু করার জন্য আরও আরও সময় নেয়া বিষয়ে বক্তব্য হল, নিখুত এর উত্তম সীমা দুনিয়াতে নাই। কতটুক নিখুত হলে নিখুত বলা হবে?
কাজ করতে করতে নিখুতের দিকে ধাবিত হবে।
(১২)
রাজনৈতিক দল শুরু করার পূর্বে একটা রাজনৈতিক উদ্যোগ ঘোষণা করা জরুরী কারন দল শুরু করে দলে অনেক যোগ্য লোক যোগ দিতে চায়না বরং তারা শুরু সময়ের সাক্ষী হতে চায়, শুরু সময়ে থাকতে চায়।
(১৩)
রাজনৈতিক দল করার পরিকল্পনা থাকলে, আগে সামাজিক কাজ করে পরিচিত হতে চাওয়া, আগে কাজ করার উদাহরন তৈরী করতে চাওয়া, রাজনৈতিক বিবেচনায় আরেকটি প্রান্তিক বিষয়। রাজনীতি কোন সেক্টরের মত নয়।
রাজনীতি মানে রাষ্ট্র নীতি বা জননীতি বা গণনীতি।
রাজনীতির মাইন্ডসেট আলাদা। নেতৃত্ব দেয়ার মানসিকতা না থাকলে, দেশ পরিচালনার মানসিকতা না থাকলে, রেডিমেট খাওয়ার মানসিকতা না থাকলে, বিতর্কিত না হওয়ার মানসিকতা থাকলে, রিস্ক নেয়ার মানসিকতা না থাকলে, সুখ করার মানসিকতা থাকলে, আরাম প্রিয় হলে তার জন্য রাজনীতি না।
রাজনৈতিক দলের নামে সামাজিক কাজ না হলে, রাজনীতি তা ক্যাশ করেনা, সামাজিক কাজ দ্বারা দল পরিচিত হয়না।
(১৪) সামাজিক ক্লাব, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসা, এনজিও, প্রজেক্ট একজনের যুদ্ধ হতে পারে। রাজনীতি কে সবার যুদ্ধ বানাতে না পারলে রাজনীতি এগিয়ে যায় না। রাজনীতি সবার যুদ্ধ না হলে, ব্যক্তি বা কয়েকজন ব্যক্তি ক্লান্ত হবে, তাই সমমনা উদ্যোক্তাদের হেন্ডশেকিং জরুরী। একতা জরুরী।
(১৫)
পৃথিবীতে ল্যান্ড লেবার ক্যাপিটাল এর সংকট নেই সংকট আছে শুধুমাত্র সংগঠকের উদ্যোক্তার ইনিশিয়েটরের। সুতরাং সংগঠকদেরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে সংগঠন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সংগঠন পরিচালনা করে কোন ভিভিআইপি সেলিব্রিটি নয় সুতরাং সংগঠকের চেয়ে সেলিব্রিটিদের দিকে গুরুত্ব দিলে সংগঠন মুখ থুবড়ে পড়বে। সবচেয়ে ভালো হয় সংগঠকদের মধ্যে অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো ।এক্ষেত্রে সাবেক ছাত্রদল, সাবেক শিবির, সাবেক বাম, সাবেক সেকুলার, সকল টাইপ দলের অভিজ্ঞ ছাত্র রাজনীতিকদের দলে নিয়ে আসা এবং দলের রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে তাদেরকে তৈরি করে দল পরিচালনা করা। তাহলে কায়েমি স্বার্থবাদীদের সাথে বিট করা বা জয়ী হওয়া সম্ভব হবে।
(১৬)
মিশনারি রাজনীতির জন্য আমার উদ্যোগে হতে হবে, আমার দ্বারা হতে হবে, আমি দলে যে নাম দিলাম সে রাজনৈতিক দলের নামে হতে হবে, আমার রাজনৈতিক উদ্যোগে সবাইকে যোগ দিতে হবে, এই ধরনের প্রান্তিক কামনা করা নতুন রাজনীতির জন্য, মিশনারী রাজনীতির জন্য, শক্তিশালী রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য এক ক্ষতিকর মানসিকতা। এই মানসিকতা থেকে দেশের স্বার্থে, দশের স্বার্থে, নতুন রাজনীতির স্বার্থে, নতুন বিশ্ব গড়ার স্বার্থে বের হয়ে আসা উচিত, শুধু উচিত নয় জরুরি দরকারও বটে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে বের হয়ে এসে মিডল পয়েন্টে আসতে হবে। সকল নাম থেকে বের হয়ে এসে নতুন নামে আসতে হবে। সকলে যে নাম গ্রহণ করে সে নামে আসতে হবে ।
(১৭)
দল সম্প্রসারণ করার জন্য মধুচন্দ্রিমা সময় থাকে। সেই মধুচন্দ্রিমা সময়ে দলকে সারা উপজেলায়, সব ইউনিয়নে বিস্তৃত করা না গেলে, দেখা যায় সেটা পরবর্তীতে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা, মনোযোগ জাগিয়ে তুলতে পারেনা, ধরে রাখতে পারেনা সুতরাং দল বড় করার ক্ষেত্রে মধুচন্দ্রিমা সময় বোঝা খুব জরুরী
আমার মতে বড় শক্তির রাজনৈতিক দল বড় করার মধুচন্দ্রিমা সময় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর।
(১৮)
ছাত্র রাজনীতি ছাত্র জননীতি।
আগামী ২০ বছর পরে যে রাজনীতিটা করতে চান মূলত সেই রাজনীতিটা করবে আজকের ছাত্ররা। যদি সামনের পাঁচ বছরে সামনের ১০ বছরে কোন রাজনীতি দাঁড় করাতে চান বা রাজনীতির পরিচালক হতে চান বা রাজনীতির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করতে চান তাহলে সমাজের যারা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার মত ভিভিআইপি তাদেরকে সাথে নেয়া জরুরী।
(১৯)
সংগঠন পরিচালনায় বা কোন চিন্তাভাবনায় আপনার চিন্তাটা সঠিক কিনা সেটা বিশেষজ্ঞের মতামত নিন। সেটা অভিজ্ঞদের দ্বারা চেক করিয়ে নিন । আপনি যে চিন্তাটি করছেন, মনে হবে সেটি পারফেক্ট। আসলে আপনার চোখ যতটুকু দেখছে সেটা যথাযথ কিনা, সেটা বুঝতে পারে বিশেষজ্ঞরা সুতরাং আন্তরিকতার সাথে আত্মবিশ্বাসের সাথে যে মতটি যে চিন্তাটি আপনি ধারণ করে আছেন সেটিতে রিজিড থাকবেন না। সেটির জন্য বিশেষজ্ঞ মত নিন। ৫-১০ বছর নষ্ট করে দেখবেন আপনার আত্মবিশ্বাসের সাথে লালন করা মতের উপর আর থাকতে পারছেন না। এটাকে বলে ঠেকে ও ঠকে শিকা। লাভ কি? মধ্যখানে অনেক সময় নষ্ট হল। হায়াত সংক্ষিপ্ত, সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।
(২০)
সংগঠন তৈরীর জন্য অনেক কষ্ট করলেন , অনেক পরিশ্রম করলেন । পরবর্তীতে দেখা যায় সংগঠনে ঘাপটি পেরে থাকা ক্ষতিকর অংশের হাতে সংগঠন চলে যেতে পারে। শুধু সংগঠন করা নয়, সংগঠন সঠিক সংগঠক, সঠিক চিন্তা লালনকারী, সংগঠকের হাতে থাকা ও জরুরী।
(২১)
সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সবচেয়ে যেটি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হল ভাঙ্গন এড়ানো ও রেপুটেশন চেক দেয়া। রেপুটেশন ধরে রাখা। সংগঠন করা সহজ কিন্তু পরবর্তীতে সংগঠনকে সাসটেইন করা ও ভাঙ্গন এড়ানো, সুনাম অক্ষুন্ন রাখা, ব্রান্ড হিসেবে সংগঠনকে জাতির সামনে পেশ করা গুরুত্বপূর্ণ । তাই সংগঠন শুরু করার সময় গুরুত্ব দিতে হবে কারা ভবিষ্যতে ভাঙ্গন ধরাতে পারে ও রেপুটেশন সমস্যা তৈরি করতে পারে।
(২২) রাজনীতি করতে আসা মানুষ যদি রাষ্ট্র কিভাবে ফাংশন করে,রাষ্ট্রের ডিপস্টেট কারা, রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কারা কারা ফ্যাক্টর, রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে কিভাবে পতন হয়ে যায় এসব না বুঝে তবে রাজনীতিকে সঠিক ধারায় পরিচালনা করা খুব কঠিন। এজন্য রাষ্ট্র কিভাবে ফাংশন করে এবং সঠিক ইতিহাস শিক্ষা দেয়া , ইতিহাস জানানো খুব জরুরী। এজন্য নিয়মিত কর্মশালা দরকার।
(২৩)
রাজনীতি রাজপথে যেমন থাকতে হবে মিছিলে মিটিংয়ে যেমন থাকতে হবে তেমনি নির্বাচনেও থাকতে হবে, বুদ্ধি চর্চায়ও থাকতে হবে, পেশাজীবীদের মধ্যে থাকতে হবে, কৃষক শ্রমিক মজুরের মধ্যেও থাকতে হবে। সকল ধরনের মানুষের কাছে নতুন রাজনীতিকে নিয়ে যেতে হবে। সেজন্য মেকানিজম থাকতে হবে। সে মেকানিজম কি? শুধু টকশো, মিডিয়া ব্রিফিং, মানববন্ধন, পথসভা, জনসভা কার্যকর নয়। নতুন রাজনীতির জন্য দরকার ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর রাজনৈতিক কর্মসূচি যেটা মানুষের প্রয়োজনকে ধারণ করে দেশের উন্নয়ন ঘটায়।
(২৪)
নতুন রাজনীতির জন্য ফান্ডামেন্টাল থটস দরকার। সেটা কি ? বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ইসলামী জাতীয়তাবাদ, হিন্দু জাতীয়তাবাদ, আদিবাসীতা, এরকম বিষয়ের বিপরীতে একটি ফান্ডামেন্টাল থটস দরকার যেটির জন্য আপনার দলকে জাতি চিনে নিবে, জাতি ইউনিক মনে করবে। সেটা হতে পারে বাংলাবাদ, বাংলা সভ্যতা তৈরী, বাংলার সার্বভৌমত্ব, বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করে বিশ্ব সভ্যতায় পৌঁছিয়ে দেয়া। যেখানে মানুষের দুঃখ বেদনা খুবই কম।
২য় কিস্তী
(২৫)
ঢাকার অবস্থা আর উপজেলা বা ইউনিয়ন লেভেলের রাজনৈতিক অবস্থা এক নয়। যে কোন একটি প্রোডাক্ট যেভাবে মার্কেটে আগে ঢুকলে আগে মাঠ দখল করতে পারে ঠিক তেমনি নতুন রাজনীতি করার জন্য মাঠে ময়দানে অনেক লোক নেই। বিএনপি আওয়ামী লীগ জামায়াত জাতীয় পার্টি হেফাজত চরমোনাই তাবলীগ বাম ইত্যাদিতে বিভক্ত জাতি। সুতরাং নতুন দল করার মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ কম তাই এই রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নতুন রাজনীতির জন্য উদ্যোক্তাদের জানান দিতে হবে।
(২৬)
অতীতে যারা শেখ হাসিনা ও তার ফ্যাসিস্ট মেশিনারিজের সাথে এলাই ছিল, যুক্ত ছিল, তাদেরকে নতুন রাজনীতিতে যুক্ত করা যাবে না। শেখ হাসিনার বিনাভোট রাতের ভোট ডামি ভোট নির্বাচনী কার্যক্রমের সাথেও যারা ছিল তাদেরকেও আপাতত দূরে রাখতে হবে ।
(২৭)
ছোট ছোট রাজনৈতিক যে দলগুলো আছে তাদের জনবল হচ্ছে ২,৪,৫ জন বা আরেকটু বেশী এবং সাইনবোর্ড সর্বস্ব। অনেক দল ওয়ান ম্যান নির্ভর। এদেরকে আপাতত একত্রিত করতে যাওয়া, এদের নিয়ে জোট করা একটি লস প্রজেক্ট,সময় নষ্ট করা। এদেরকে একিভূত করলে ভবিষ্যতে দলে ভাঙ্গন অনিবার্য । কারণ তাদের এডজাস্ট হওয়ার ক্ষমতা কম এবং তারা বিএনপি আওয়ামী লীগ বৃহৎ দুটি জোটের সাথে সখ্যতা ও চলাচল করতে খুব উৎসাহী । এদের মাধ্যমে এদেশের ঘুনে ধরা রাজনৈতিক পরিবেশ পরিবর্তন করা হয় সম্ভব নয়।
(২৮) ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে যখন আওয়ামী লীগের যখন দুঃসময় তখন ১৯৭৮ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৪% ভোট পায় এবং ১৯৯১ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০% ও বিএনপি ৩০% সামথিং ভোট পায়। ২০০১ এর নির্বাচনে বিএনপি ৪০% সামথিং ভোট পায়। আওয়ামী লীগও ৪০% ভোট পায় । সুতরাং ভোটের রাজনীতিতে মূল খেলা আওয়ামী লীগের ভোট ভাগ করা অথচ বিভিন্ন নতুন দলগুলো বিএনপির ভোটগুলো ভাগ করে যাচ্ছে। এই সমস্যাটি address করছেনা। এক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিমের পাস পার্টিকে স্টাডি করা যেতে পারে।
(২৯) এদেশে শিক্ষিত মানুষরা রাজনীতি করতে চায় না, চাকরি করতে চায় । কেন? এই সমস্যাটিকে এনালাইজ করতে হবে। উচ্চশিক্ষিত মানুষকে রাজনীতিতে আসার সুযোগ করে দিতে হবে। ভালো মানুষগুলো নির্বাচন করতে চায় না।কেন? কারণ নির্বাচনের অধিকতর খরচ। বাংলাদেশের নির্বাচনকে প্রার্থীর জন্য প্রায়শূন্য খরচ তত্ত্বে নিয়ে যেতে হবে।
(৩০)
দলের সংগঠক কমিটি ও আহবায়ক কমিটি সিভিলিয়ানদের মাধ্যমে হওয়া দরকার বিশেষ করে সভাপতি এবং সেক্রেটারি।
(৩১) ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করতে হলে ফ্যাসিবাদকে বুঝতে হবে। ফ্যাসিবাদের আচরণ কে বুঝতে হবে, ফ্যাসিবাদের কার্যক্রম ও আচরণের উপর লেখনী থাকা দরকার। ফ্যাসিবাদের দুঃসহ আচরণ থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে হবে। আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ২০২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থান খুব বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হলেও দিন যেতে যেতে, বছর যেতে যেতে সেটি ফিকে হয়ে আসবে। ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান,৯০ এর গণঅভ্যুত্থান এখন ইতিহাস। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ইতিহাস হয়ে উঠবে। ফিকে ও ম্লান হয়ে উঠবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। সুতরাং কোন পয়েন্টকে একমাত্র ফোকাস মনে করা যাবে না। সাময়িক ফোকাস হতে পারে।
(৩২) বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রয়েছে ।জনগণ এই দলকে কতটুকু বিপ্লবী মনে করে? কেউ কেউ মনে করে। দলের নামের মধ্যে বিপ্লব থাকলেই সেটি বিপ্লব হবে, এমন নাও হতে পারে। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ একটি দলকে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেখেছি, সেটা কতটুকু বিপ্লবী জাতির অজানা । সুতরাং বিপ্লব শব্দের চেয়েও দলের কাজে বিপ্লবী হওয়া অধিকতর কার্যকর।
(৩৩) রাজনীতির জন্য জুলাই গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী এ সময়ের এক ঘন্টাকে এক বছরের সমান মনে করছি। এখনকার রাজনীতি প্রতি ঘন্টায় পরিবর্তিত হচ্ছে, প্রতিদিন তো বটেই। সুতরাং সংস্কার সহ অন্তবর্তীকালীন ইউনুস সরকারের সময়ের রাজনীতিকে ডিল করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ ও রাজনৈতিক দল ঘোষণা করা জরুরী।
(৩৪)
আরো দেখি, আরো দেখি, আরো নিখুত সময় দরকার, আরো পারফেক্ট প্রস্তুতি দরকার, আরো মানুষ যুক্ত করতে পারলে ভালো হয়, আরো হোমওয়ার্ক দরকার, আরো গ্রাউন্ড ওয়ার্ক দরকার, এরকম করতে করতে আমাদের সময় গুলো চলে যাচ্ছে, আমি মানছি হোমওয়ার্ক দরকার, ইনডোর প্রস্তুতি দরকার, সেটা রাজনৈতিক উদ্যোগ ঘোষনা করার পরও সম্ভব। তারপর যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে দল ঘোষণা হবে।
(৩৫) আরেকটা কথা আমরা দেখি ও শুনি।আমার চিন্তা চেতনায় দল না হলে আমি থাকবো না, তো আপনার চিন্তা চেতনার একটা লিস্ট দেন, এভাবে সবার চিন্তা চেতনার লিস্ট নিয়ে, প্রত্যেকের সাথে রিকনসাইল করে, একটা কমন লিস্ট তৈরি করে সেটাকে ভিত্তি ধরে আমরা অগ্রসর হতে পারি।
(৩৬) পার্বত্য চট্টগ্রাম বা সিলেট, চিকেন নেক বা ফেনী, কোন এলাকা আমাদের অগ্রাধিকার হতে পারে না। সাময়িক ফোকাস হতে পারে। পুরো বাংলাদেশই আমাদের অগ্রাধিকার।
(৩৭) দলের শুরু সময়ে যারা থাকেন,এসে যুক্ত হন, তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। যারা ওয়েট করে আরেকটু দেখি দেখি করে, শুরু যারা করছে তারা কি করতে পারে তা দেখতে চায় একটা গ্রুপ। তারা দ্বিতীয় অগ্রাধিকার । আবারো বলছি ভিভিআইপির চেয়ে সংগঠকদেরকে গুরুত্ব দিতে হবে, সংগঠকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। দল পরিচালনা ও দল এগিয়ে নিয়ে যাবে সংগঠক গণ।
(৩৮) ৮ বিভাগে আট জন, প্রতি জেলায় একজন, প্রতি উপজেলায় একজন সংগঠক সেট হওয়া দরকার। যারা দলকে এগিয়ে নিতে, দলের রিক্রটমেন্ট বাড়াতে, দলের প্রচার প্রসার ঘটাতে প্রাথমিক কাজ করবে।আর সেটা রাজনৈতিক উদ্যোগ ও ঘোষনা না করলে সম্ভব হচ্ছে না।
(৩৯) রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো জটিল, এক তৃতীয়াংশ উপজেলা, এক তৃতীয়াংশ জেলা তে কমিটি লাগবে, অফিস লাগবে। এগুলো করতে সময় দরকার। দলের উদ্যোগ ঘোষনা না হলে সেসব কাজ এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না।
(৪০) বিভিন্ন গ্রুপ উপগ্রুপকে একমোডেট বা merge করতে হলে পদায়ন বা পদবী একটি জরুরী বিষয় । ব্যক্তিগত মত হল সিনিয়রদের আহবায়ক ও যুগ্ন আহবায়ক রেখে, নবীনদের সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এই লেয়ারে সংযুক্ত করে প্রবীন ও নবীন সমন্বয়ে কমিটি ফর্মেশন প্রয়োজন।
***
মুখে অনেকে বলেনা, কিন্তু নতুন উদ্যোগ থেকে ঝরে পরার আরেকটা কারন পদবী।
সর্বোপরি মিশন ভিশন স্বপ্ন অগ্রাধিকার পাওয়া জরুরী। সবার আচার আচরন ভাল হওয়া জরুরী।
***** পরিচিতি দল ঘোষনার পরেও ডিল করা সম্ভব।
08/08/2025
সম্মানীয়
নেতৃবৃন্দ ও নেত্রীগণ
আসসালামু আলাইকুম
আজ শুক্রবার ৮ অগাস্ট ২০২৫ বিকাল সাড়ে তিনটায় বাংলাদেশ গণঅভিযাত্রা'র উদ্যোগে
ফ্যাসিস্ট রেজিম বিদায়ের ১ বছর পূর্তি এবং বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন কতদুর শীর্ষক
আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
স্থান: রাজারবাগ পুলিশ লাইন ***২ নং গেইটের বিপরীতে আলবারাকা হাসপাতালের পাশে।
প্রস্তুতি: প্রোগ্রামের সবার বক্তব্য লাইভ হবে। তাই সুন্দর পোষাকে আসা দরকার।
***প্রোগ্রামে কয়েকজন অতিধি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবাইকে যথাসময়ে প্রোগ্রামে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ রইল।
নিবেদক
দুরুল হুদা মারুফ
প্রকৌশলী মুহাম্মদ লোকমান লিমন
রমজান মল্লিক
প্রকৌশলী মেজবাহুল ইসলাম
02/08/2025
১১ জুলাই ২০২৫ বনশ্রীতে কোর কমিটির মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
01/08/2025
৩০ জুন পুলিশ প্লাজায় কোর টিমের বৈঠক
01/08/2025
কোর কমিটির অনলাইন প্রোগ্রাম ১২ জুলাই ২০২৫
01/08/2025
১৮ জুলাই ২০২৫
01/08/2025
নিউজ:
আজ ১ অগাষ্ট ২০২৫ বাংলাদেশ গণঅভিযাত্রা'র মাসিক সাধারন সভা ঢাবির মধুরক্যান্টিনে বিকাল সাড়ে পাচটায় দলের আহবায়ক দুরুল হুদা মারুফ ভাইয়ের সভাপতিত্বে ও মুখপাত্র মুহাম্মদ লোকমান লিমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
এতে নিম্মোক্ত বিষয়ে আলোচনা হয়:
১)আগামীর কর্মসূচী ৫ বা ৭ এবং ১৬ অগাস্ট।
২)সবার মাইক্রোফোন ও মোবাইল স্ট্যান্ড কিনার তদারকি
৩) প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক পড়াশুনা করে সংগঠক মানউন্নয়ন তদারকি
৪) প্রতিটি প্রোগ্রামে অতিথি রাখা প্রসঙ্গ
৫) প্রত্যেক সংগঠক নিজেকে অনলাইন অফলাইনে পরিচিত করে তোলা
৬) মেইন অফিস, আঞ্চলিক অফিস
৭) ফান্ড রেইজিংয়ে ডোনেশানের পরিমান নির্ধারন
৮) কমিটি সম্প্রসারন
৯) ইনডোর প্রোগ্রাম থেকে সংগঠক মূল্যয়ন প্যারামিটার নির্ধারন
১০)প্রচার সেলের দায়িত্ব রমজান মল্লিক ভাই
ভারপ্রাপ্ত অর্থ সম্পাদক একজনকে করা হবে।
এসিস্টেন্ট সেক্রেটারী মাহফুজ ভাই।
এসিস্টেন্ট সেক্রেটারী শিহাব ভাই।
ঢাকা মহানগর আহবায়ক রমজান মল্লিক ভাই
ঢাকা মহানগর যুগ্ন আহবায়ক মঈন মোর্শেদ ভাই
গাজীপুর মহানগর আহবায়ক মাহফুজ ভাই।
মাসে দুটি অনলাইন ও দুটি অফলাইন প্রোগ্রাম করার চেষ্টা করা হবে।
===
এছাড়া সমমনা সংগঠন বাংলাদেশ আন্দোলনের নীতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ আন্দোলন আহবায়ক লায়ন আজম ভাই
বাংলাদেশ আন্দোলন যুগ্ন আহবায়ক প্রফেসর কামরুল ইসলাম
সদস্য সচিব প্রকৌশলী লোকমান লিমন ভাইকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
এছাড়া পাঠচক্র, নারীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট, রাত্রিকালিন ফ্রি সহায়স্কুল, নিরাপদ খাদ্য প্রজেক্টে সহায়তার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
উপস্থিত ছিলেন
লায়ন দুরুল হুদা মারুফ
প্রকৌশলী লোকমান লিমন
প্রকৌশলী মেজবাহুল ইসলাম
রমজান মল্লিক
প্রফেসর কামরুল ইসলাম
লায়ন আজম ভাই
প্রকৌশলী ফাহিম
প্রভাষক শিহাব
মাহফুজ ভাই
অলিউল্লাহ রাব্বানী
মঈন মোর্শেদ
আরিফা
মনিরুল ইসলাম
লিমা প্রমুখ।
ধন্যবাদ
নোটিশ:
বাংলাদেশ গণঅভিযাত্রা'র সাথে
যোগাযোগের মোবাইল নং 01707127141, 01919127141
ধন্যবাদ
30/05/2025
সংগঠক কর্মশালা ৩০ মে ২০২৫