Department of Fisheries, GoB

Department of Fisheries, GoB

Share

This is an officio- personal page to post my activities and others related to and aimed at Fisheries Development for Bangladesh as well as global.

24/12/2025

ইউকা সমাচার:
ইউকা (Yucca schidigera) নিয়ে অনেকের মধ্যেই একধরনের বিভ্রান্তি আছে। কেউ মনে করেন এটা ব্যাকটেরিয়া, কেউ বলেন এটা অ্যামোনিয়া খেয়ে ফেলে, আবার কেউ মনে করেন এটা একবার দিলে অনেকদিন কাজ করে। এসব ভুল ধারণা ভাঙার জন্যই আজ ইউকা নিয়ে একটু বিস্তারিত বলার চেষ্টা করলাম।

Yucca schidigera মূলত একটি মরু উদ্ভিদ। এই গাছের কান্ড থেকে যে এক্সট্রাক্ট তৈরি করা হয়, সেটাই মাছ ও চিংড়ির পুকুরে ব্যবহার করা হয়। ইউকার কার্যকরী উপাদান হলো Saponin। তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো,সব স্যাপোনিন এক জিনিস নয়। মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা স্যাপোনিন প্রধানত দুই ধরনের হয়। এক ধরনের স্যাপোনিন আসে Yucca schidigera গাছ থেকে, যাকে বলা হয় steroidal saponin। আরেক ধরনের স্যাপোনিন আসে Tea seed বা Camellia গাছ থেকে, যাকে বলা হয় triterpenoid saponin। এই দুই ধরনের স্যাপোনিনের কাজ, শক্তি এবং নিরাপত্তা এক নয়।

Tea seed থেকে পাওয়া স্যাপোনিন তুলনামূলকভাবে বেশি বিষাক্ত। এটি সাধারণত অবাঞ্ছিত মাছ, শামুক বা কীট দমনের জন্য ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে Yucca schidigera থেকে পাওয়া steroidal saponin তুলনামূলকভাবে অনেক নিরাপদ, তাই এটি মাছ ও চিংড়ির পুকুরে অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এই দুইটাকে এক করে দেখলে অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এখন প্রশ্ন আসে, ইউকা পুকুরে আসলে কীভাবে কাজ করে? ইউকার স্যাপোনিন একটি surface active compound। সহজ করে বললে, এটি পানির উপরের টান বা surface tension কমিয়ে দেয়। পুকুরের পানিতে যে free ammonia বা NH₃ থাকে, সেটি মূলত গ্যাস আকারে পানির মধ্যে আটকে থাকে। ইউকার স্যাপোনিন এই free ammonia এর সাথে অস্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে তাকে পানির উপরিভাগে উঠে যেতে সাহায্য করে। ফলে অ্যামোনিয়া গ্যাস আকারে বের হয়ে যেতে পারে এবং পানির মধ্যে অ্যামোনিয়ার চাপ কমে যায়। এখানেই একটা কথা পরিষ্কার করে বলা দরকার যে ইউকা অ্যামোনিয়া ভেঙে ফেলে না, নাইট্রোজেন চক্র চালু করে না, বা অ্যামোনিয়াকে নাইট্রাইট কিংবা নাইট্রেটে রূপান্তর করে না। এটি শুধু অস্থায়ীভাবে অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ইউকা কতক্ষণ বা কয়দিন কাজ করে এই প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি করা হয়। Yucca schidigera থেকে পাওয়া স্যাপোনিন অভারঅল স্যাপোনিন মোলিকিউল নিয়ে করা একটি রিসার্চ পেপার Stability of saponin biopesticides: hydrolysis in aqueous solutions and lake waters” (published in Environmental Science: Processes & Impacts) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে (DOI: 10.1039/c9em00012g)। এই গবেষণায় দেখা যায়, পানিতে দেওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্যাপোনিন সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়। সাধারণত ২ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে এর সর্বোচ্চ কার্যকারিতা দেখা যায়। এরপর ধীরে ধীরে এর কার্যক্ষমতা কমতে থাকে এবং প্রায় ৬ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এটি অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যদিও স্যাপোনিন অণু পানিতে কয়েকদিন পর্যন্ত থাকতে পারে, কিন্তু অ্যামোনিয়া কমানোর সক্রিয় ক্ষমতা ২-৩ দিনের বেশি স্থায়ী হয় না। তাই ইউকাকে কখনোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বলা যাবে না।

এই কারণেই ইউকাকে সাধারণত আমি একটি emergency solution বলে থাকি। হঠাৎ অ্যামোনিয়া বেড়ে গেলে, গ্যাসের চাপ বেশি হলে বা দুর্গন্ধ বেড়ে গেলে ইউকা সাময়িক স্বস্তি দেয়। কিন্তু যদি নিয়মিতভাবে পানির মান ভালো রাখতে হয়, তাহলে Bacillus বা nitrifying bacteria অর্থাৎ প্রোবায়োটিকস ছাড়া বিকল্প নেই। ইউকা সমস্যা সাময়িকভাবে ঢেকে দেয়, আর প্রোবায়োটিকস ব্যাকটেরিয়া সমস্যার মূল জায়গায় কাজ করে।

অতিরিক্ত ইউকা ব্যবহার করলেও সমস্যা হতে পারে। বেশি মাত্রায় দিলে প্ল্যাঙ্কটন কমে যেতে পারে, পানির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং মাছ বা চিংড়ির উপর চাপ পড়তে পারে। তাই ইউকা ব্যবহারে সবসময় মাত্রা ও প্রয়োজন বোঝা জরুরি।

সবশেষে এক কথায় বলতে হলে,Yucca schidigera থেকে পাওয়া steroidal saponin পুকুরের পানিতে অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে কাজ করে, সাধারণত ৬ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত। Tea seed থেকে পাওয়া স্যাপোনিন আলাদা জিনিস এবং ভিন্ন কাজে যেমন শামুক বা অবান্চিত মাছ মারতে ব্যবহৃত হয়। এই দুইটাকে এক করে দেখলেই মূল ভুলটা হয়।

ইউকা দিয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেই পরেরদিন যদি ব্যাসিলাস বেইজড প্রোবায়োটিক দেয়া যায় তাহলে একইসাথে অ্যামোনিয়ার সাময়িক মুক্তি ও প্রোবায়োটিকস দিয়ে জৈব পদার্থ কমানোর মাধ্যমে দীর্ঘস্হায়ী সমাধান সম্ভব।

ধন্যবাদ
মিল্লাত হোসাইন।

25/10/2025

ভয়াবহ দু: সংবাদ! বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচ্য
আমার প্রাক্তন সহকর্মী Nazmus Salehin Jewel এবারের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে মাঠ পর্যায়ের কিছু বাসব চিত্র তুলে ধরেছে:
+++++
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫ কিছু প্রজননভিত্তিক পর্যালোচনা

১. এবার পূর্ণিমার "জো" তে প্রজননের জন্য প্রস্তুত মাছের সংখ্যা খুব কম ছিল, স্ট্রিপিং করলেও সহজে স্পার্ম বা ডিম বের হতো না

২. অমাবশ্যার "জো" তে যে মাছগুলো পাওয়া গিয়েছিল তাদের প্রায় সবাই প্রজননের জন্য পিক টাইমে ছিল, কারণ-

ক) কিছু মাছ (পুরুষ ও স্ত্রী) সদ্য প্রজনন সম্পন্ন করেছিল
খ) স্ত্রী মাছের জননছিদ্রের সাথে পুরুষ মাছের স্পার্মও লেগে থাকতে দেখেছি
গ) অধিকাংশ পুরুষ মাছ জাল থেকে ছাড়িয়ে নৌকায় রাখার সাথে সাথেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাদা স্পার্ম বেরিয়ে গায়ে লেগে যাচ্ছিল যা তার পিক টাইম নির্দেশ করে
ঘ) স্ত্রী মাছগুলোকে হালকা স্ট্রিপিং করলেই ডিম বের হয়ে আসছিল ও জননছিদ্র লাল হয়ে বাইরে কিছুটা বেরিয়ে ছিলো

৩. এবারের জালে আটকে যাওয়া মাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পুরুষ মাছ ছিল যা আমার গত ৯ বছরের ভোলা ও বরিশালের চাকরি জীবনে চোখে পড়েনি- একই সাইজের পুরুষ মাছগুলো তুলনামূলকভাবে চিকন ও স্ট্রিপিং করলে ধবধবে সাদা গাড় স্পার্ম বের হয় এবং স্ত্রী মাছগুলো মধ্যভাগে তুলনামূলক মোটা ও স্ট্রিপিং করলে ডিমগুলো বের হয়

৪. এবার মাছের গড় সাইজ ছিল বিগত ৯ বছরের মধ্যে আমার দেখা সবচেয়ে ছোট

৫. প্রজননক্ষম মাছের বেশিরভাগের গড় আকার ছিল ৬.৫ ইঞ্চি থেকে ১১ ইঞ্চি পর্যন্ত, আমি ৬.৫ ইঞ্চি সাইজের পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে হালকা স্ট্রিপিং করেই ফিনকি দিয়ে স্পার্ম ও খুব সহজেই ডিম বের হয়ে আসতে দেখেছি

পর্যবেক্ষণ স্থান: সুগন্ধ্যা, সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদী, বাবুগঞ্জ, বরিশাল

উল্লেখ্য:
১. ০৪.১০.২৫ তারিখ হতে ২৫.১০.২৫ তারিখ পর্যন্ত এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়
২. ০৭.১০.২৫ তারিখ পূর্ণিমা ও ২০.১০.২৫ তারিখ অমাবশ্যা ছিল

পর্যবেক্ষণকারী
এ. এফ. এম. নাজমুস সালেহীন
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা
বাবুগঞ্জ, বরিশাল
বিসিএস (মৎস্য)

বিএসসি (অনার্স) (মৎস্যবিজ্ঞান), এম এস (মৎস্যবিজ্ঞান)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

12/10/2025

মাছ নিয়ে গবেষণা
আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের
প্রকাশ : দৈনিক আমার দেশ,১১ অক্টোবর ২০২৫।

নদীমাতৃক বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম মৎস্য উৎপাদক দেশ হিসেবে পরিচিত। নদী, হাওড়, বাঁওড়, খাল-বিল, পুকুর, লেক, অন্যান্য জলাশয় এবং বঙ্গোপসাগর মৎস্য খাতের বিস্তৃত উৎস। বাংলাদেশে মৎস্য গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যা দেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। মৎস্য খাত বাংলাদেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে এবং দেশের অনেক মানুষের জীবিকানির্বাহের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশে মৎস্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়, বদ্ধ জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে পঞ্চম, ইলিশ আহরণে প্রথম এবং তেলাপিয়া উৎপাদনে চতুর্থ। এ অর্জন নিঃসন্দেহে আমাদের জাতীয় গৌরব। মৎস্য খাতের মাধ্যমে দেশের খাদ্য ও পুষ্টিচাহিদা পূরণ, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, আধুনিক চাষ পদ্ধতি, কৃত্রিম প্রজনন প্রভৃতি সব ক্ষেত্রে মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বিজ্ঞাপন

বাঙালির খাদ্যতালিকার প্রধান উপাদান মাছ ও ভাত। তাই আমাদের ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ বলা হয়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক এবং কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় চাল ও মাছ বাঙালির দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে পরিণত হয়। বাংলাদেশে নদী, হাওড়-বাঁওড় ও খাল-বিলে মাছের প্রাচুর্য ছিল, সহজলভ্য ছিল। আমিষের উৎস মাছ বাঙালির একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রিয় খাদ্য হিসেবে সুপরিচিত। প্রাচীনকাল থেকেই মাছ-ভাত বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। এটি শুধু একটি খাবার নয়, বাঙালির জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাছ প্রোটিন ও পুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা আমাদের শারীরিকভাবে সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে। এ কারণেই ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটি বাঙালি চরিত্রের একটি বিশেষ পরিচিতি বহন করে।

আমাদের অভ্যন্তরীণ মৎস্যসম্পদের পাশাপাশি সামুদ্রিক মৎস্য একটি অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি আমাদের জন্য এক বিরাট সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এখন সময় এসেছে এ সম্পদকে টেকসইভাবে আহরণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার। উপকূলীয় অঞ্চলে চাষাবাদে আমরা দীর্ঘদিন ধরে মূলত চিংড়ির ওপর নির্ভর করেছি। তবে চিংড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাছ ও কাঁকড়ার মতো আরো অনেক প্রজাতি রয়েছে যেগুলো সুস্বাদু ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) ইতোমধ্যে এ প্রজাতিগুলোর প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনে সফল হয়েছে। অন্যদিকে সুনীল অর্থনীতির অংশ হিসেবে সিউইড, ঝিনুক, ওয়েস্টার ও মুক্তা উৎপাদনেও গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। মিঠাপানির ঝিনুকে মুক্তা উৎপাদনের প্রযুক্তি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নারীর কর্মসংস্থান, আত্মনির্ভরতা ও ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট জাতীয় চাহিদার আলোকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮৭টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে দেশীয় মাছের কৃত্রিম প্রজনন কৌশল, জিনপুল সংরক্ষণ, জাত উন্নয়ন, উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন, রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উন্নয়ন, চাষাবাদের আধুনিক কৌশল উদ্ভাবন এবং মুক্ত জলাশয়ে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রযুক্তি অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে ইনস্টিটিউট ‘বিএফআরআই সুবর্ণ রুই’ নামক উচ্চ ফলনশীল রুই উদ্ভাবন করেছে, যা চাষিদের জন্য খুবই লাভজনক। কই মাছের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এটা খুবই আনন্দ ও গর্বের বিষয় যে, বিএফআরআইয়ের গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের ফলে কৃষক, মৎস্যচাষি ও উদ্যোক্তারা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে ২০০৬ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্বাদুপানি উপকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা ধরনের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে; এর মধ্যে অল্প সময়ে চাষযোগ্য কই, শিং, তেলাপিয়া ও থাই সরপুঁটি মাছের চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করে। উত্তরবঙ্গের নদ-নদীতে আগে প্রচুর পরিমাণে ছোট মাছ পাওয়া যেত। কালের বিবর্তনে নদীভরাট, কম বৃষ্টিপাত ও জলবায়ুর প্রভাবের ফলে মাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আইইউসিএনের তথ্যমতে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশের মিঠাপানির ৬৪ প্রজাতির মাছ বিপন্ন হওয়ার তালিকায় ছিল। বিগত কয়েক বছরের গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৩টি বিপন্ন প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে। মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশীয় প্রজাতির টেংরা, লইট্যা টেংরা, গুতুম, বৈরালী, খলিশা, বালাচাটা, নাটুয়া, আঙ্গুস, কুর্শা, নারকেলি চেলা, জারুয়া, গোটালী ও বগাট। এ মাছগুলোর মধ্যে টেংরা এখন সারা দেশে চাষাবাদ হচ্ছে। বৈরালী, আঙ্গুস ও কুর্শা মাছের চাষ পদ্ধতিও প্রায় সমাপ্তির পথে। এভাবে বাকি মাছগুলোর চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করে ছড়িয়ে দিতে পারলে একদিকে মাছগুলো প্রকৃতিতে রক্ষা পাবে, অন্যদিকে মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বিএফআরআইয়ের গবেষণা কার্যক্রম দেখার জন্য ময়মনসিংহ, কক্সবাজার ও সৈয়দপুর সফর করেছেন এবং বিজ্ঞানীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন। মাছের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে যারা অবদান রাখছেন, তাদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে বিজ্ঞানীরা নিষ্ঠা ও উদ্দীপনা নিয়ে গবেষণা করতে পারবেন এবং আমাদের মৎস্য সম্পদ আরো বিকশিত হবে।

মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছে। ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন ছিল ৭ দশমিক ৫ লাখ মেট্রিক টন; ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাছ উৎপাদিত হয়েছে ৫০ লাখ মেট্রিক টন। তথাপি আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নদীর নাব্য হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন, পানিদূষণ, ভয়ংকর প্লাস্টিক বর্জ্য, অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের অবৈধ দখল মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা, টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সঠিক ব্যবস্থাপনা। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে মৎস্যচাষিরা আধুনিক কৌশল ব্যবহার করে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি করতে পারেন।

বাংলাদেশে মৎস্য গবেষণা আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাণিজ প্রোটিনের জোগান, রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান, টেকসই উন্নয়ন, জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান বৃদ্ধি, জীবনমান উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি সব ক্ষেত্রে মৎস্য গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং করবে।

বাংলাদেশে মৎস্য গবেষণার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া খুবই জরুরি—১. মাছের জাত উন্নয়ন ও উন্নত চাষাবাদ; ২. মাছের রোগ নিরাময়ে প্রতিকার ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা; ৩. জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণ মোকাবিলা; ৪. ইলিশসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মাছের উৎপাদন ও টেকসই ব্যবস্থাপনা; এবং ৫. সাগরের মৎস্য সম্পদ আহরণ ও সংরক্ষণ। এর পাশাপাশি মৎস্য খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের জলবায়ু ও পরিবেশের জন্য উপযুক্ত, দ্রুত বর্ধনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন মাছের জাত উদ্ভাবন ও প্রজননের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের কারণে মৎস্যসম্পদের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য গবেষণা ও সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইলিশসহ অন্যান্য দেশীয় মাছের টেকসই উৎপাদন, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য গবেষণার প্রয়োজন। গভীর সমুদ্রের মৎস্যসম্পদের জরিপ, আহরণ কৌশল এবং টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্লু-ইকোনমি সম্পর্কে গবেষণা অপরিহার্য। মৎস্যচাষের ক্ষেত্রে নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি, যেমন স্মার্ট অ্যাকুয়াকালচার, রিসার্কুলেটরি অ্যাকোয়াকালচার, বায়োফ্লক প্রযুক্তি, বটমক্লিন অ্যাকোয়াকালচার, অ্যাকোয়াপনিক্স প্রভৃতি উদ্ভাবন এবং মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের ওপর জোর দিতে হবে। মৎস্য বিজ্ঞান, মেরিন বায়োলজি এবং অ্যাকুয়াকালচার বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করা প্রয়োজন, যারা গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করতে পারবে। গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল যাতে মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেজন্য বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

লেখক : সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Matshya Bhaban, 13, Shaheed Captain Monsur Ali Sarani, Ramna
Dhaka