Md Abubokor Siddique

Website

Md Abubokor Siddique সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বৈধভাবে প্রবাসে যেতে পেজটি ফলো করে সাথে থাকুন
(1)

হাসিনার রেখে যাওয়া সব কিছু ব্যবহার করতে মজা লাগে, শুধু হাসিনার করে যাওয়া চুক্তিতে শ্রমিক পাঠাইতে লজ্জা লাগে
05/10/2026

হাসিনার রেখে যাওয়া সব কিছু ব্যবহার করতে মজা লাগে,

শুধু হাসিনার করে যাওয়া চুক্তিতে শ্রমিক পাঠাইতে লজ্জা লাগে

05/10/2026

" #মালয়েশিয়া #কলিং নিয়ে #সর্বশেষ আপডেট" বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমবাজার খোলা নিয়ে আর কোনো আনুষ্ঠানিক বাধা নাই, একমাত্র বাধা,,,,

গত ৮ মাসে এই সরকারের সফলতা কি? না কোনো দেশে নতুন শ্রমবাজার খুলতে পেরেছে, না কোনো নতুন দেশে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট করতে পের...
04/10/2026

গত ৮ মাসে এই সরকারের সফলতা কি? না কোনো দেশে নতুন শ্রমবাজার খুলতে পেরেছে, না কোনো নতুন দেশে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট করতে পেরেছে, বরং শত শত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক উর্ধগতি ও ভ্যাট ট্যাক্সের কারণে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা পথে বসতে চলেছে, বিভিন্ন শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে, আর অন্যদিকে নতুন করে কোটিপতি হয়েছে ৫ হাজার ৩০০ জন,,,

যে মন্ত্রী তিন মাস আগে ঘোষণা দিয়ে, তিনবার ডেট দিয়েও একটি শ্রমবাজার খুলতে পারেনা, সেই মন্ত্রী পদে থাকার যোগ্যতা রাখে না...
04/10/2026

যে মন্ত্রী তিন মাস আগে ঘোষণা দিয়ে, তিনবার ডেট দিয়েও একটি শ্রমবাজার খুলতে পারেনা, সেই মন্ত্রী পদে থাকার যোগ্যতা রাখে না

ফ্যাক্ট: মালয়েশিয়া শ্রমবাজার

04/10/2026

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপের ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দালালমুক্ত রাখতে BOESL এর মাধ্যমে পাঠানো হবে।

*. যোগ্যতা কি লাগবে?
• বয়স ১৮-৪৫ বছর • বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ২ বছর মেয়াদ) • শারীরিকভাবে ফিট • প্ল্যান্টেশন, কনস্ট্রাকশন, ম্যানুফ্যাকচারিং, সার্ভিস সেক্টরে কাজের আগ্রহ • পূর্বে মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে থাকার রেকর্ড নেই
* কোথায় আবেদন করবে?
কোনো এজেন্সি বা দালালের কাছে নয়। সরাসরি:
• ওয়েবসাইট: boesl.gov.bd -> 'Ongoing Recruitment'

জনশক্তি রপ্তানিকারক সূত্র বলছে,  #মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায়  #আড়াই  #লাখ কর্মীর  ...
01/10/2026

জনশক্তি রপ্তানিকারক সূত্র বলছে, #মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় #আড়াই #লাখ কর্মীর #কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার কর্মীর অ্যাম্বাসি অ্যাটাস্টেশনের জন্য আবেদন জমা পড়েছে।
‎
‎কয়েকজন কর্মীর অ্যাটাস্টেশন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন বরাদ্দ পাওয়া কর্মীদের দ্রুত নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা দরকার বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎সূত্র বলছে, বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকায় ১৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এখনো এসব প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

🇲🇾 ** #মালয়েশিয়া  #কলিং নিয়ে  #সর্বশেষ আপডেট** 🇲🇾মালয়েশিয়া কলিং নিয়ে অনেকেই হতাশায় আছেন—কবে শুরু হবে, কেন এত দেরি হচ্ছে?...
25/09/2026

🇲🇾 ** #মালয়েশিয়া #কলিং নিয়ে #সর্বশেষ আপডেট** 🇲🇾

মালয়েশিয়া কলিং নিয়ে অনেকেই হতাশায় আছেন—কবে শুরু হবে, কেন এত দেরি হচ্ছে? মন্ত্রী ৭–১০ দিনের কথা বলেছিলেন। তবে বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, **২৫টি লাইসেন্সের মালিক**, যারা এই প্রসেসিংয়ের সঙ্গে যুক্ত, তারা প্রায় ২ দিন আগে মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন। গতকাল ও আজ সেখানে এ বিষয়ে একাধিক মিটিং হয়েছে।

🔹 **মূল সমস্যা কোথায়?**
আগের প্রক্রিয়ায় ই-ভিসা হওয়ার পর টাকা পরিশোধ করে পাসপোর্ট নিয়ে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হতো। কিন্তু এবার নতুন সিস্টেমে **অ্যালোকেশনের সময় মাথাপিছু ২,০০০ রিঙ্গিত** পরিশোধের বিষয়টি এসেছে।

এতে বাংলাদেশে আসার পর মেডিকেলসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ার সময় কর্মীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে যাত্রীদের পাশাপাশি যারা কর্মী পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্যও বিষয়টি জটিল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যই সংশ্লিষ্ট ২৫টি লাইসেন্সের মালিকরা মালয়েশিয়ায় গিয়ে আলোচনা করছেন। বর্তমানে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

🇲🇾 **আশা করা হচ্ছে, আগামী ২–৫ দিনের মধ্যে মালয়েশিয়া কলিং নিয়ে একটি ঘোষণা আসতে পারে।** তবে ঘোষণা বাংলাদেশ থেকে নয়, বরং মালয়েশিয়ায় থাকা হাইকমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইনশাআল্লাহ, যারা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন এবং যারা কর্মী পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য একটি ভালো সমাধান আসবে।

🤲 **আশা রাখুন, ধৈর্য ধরুন। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।** 🇲🇾

ছবি ও লেখা: সংগৃহীত

22/09/2026

কথা ছিল নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সব ঠিক হয়ে যাবে,,,,!

দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আওয়ামী লীগের সাথে ষ/ড়যন্ত্র করে ক?কটেল ফোটাচ্ছে কারা দেখুন,,,
21/09/2026

দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আওয়ামী লীগের সাথে ষ/ড়যন্ত্র করে ক?কটেল ফোটাচ্ছে কারা দেখুন,,,

আমি জীবনে প্রায় দশ হাজার খাতা দেখেছি। বাংলা পরীক্ষার খাতা। লাল কালির কলম দিয়ে নম্বর দিয়েছি। কোথাও আট। কোথাও বারো। কোথাও ...
21/09/2026

আমি জীবনে প্রায় দশ হাজার খাতা দেখেছি। বাংলা পরীক্ষার খাতা। লাল কালির কলম দিয়ে নম্বর দিয়েছি। কোথাও আট। কোথাও বারো।

কোথাও পঁচিশ। কোথাও শূন্য। মানুষের লেখা দেখে মানুষকে বিচার করা আমার পেশা ছিল। কখনো ভাবিনি, একদিন একটা খাতা আমার নিজের জীবনটাকেই বিচার করবে।

ঘটনাটা আজ থেকে প্রায় বাইশ বছর আগের।

তখন আমি মোহনগঞ্জ হাই স্কুলের শিক্ষক। নবম শ্রেণির খাতা দেখতাম। সেবার একটা রচনা ছিল, “আমার দেখা একটি বর্ষার দিন।”

বেশিরভাগ ছাত্র একই কথা লিখেছিল। বৃষ্টি। কাদামাটি। ছাতা। ভেজা রাস্তা। খিচুড়ি। নদী। কারও কারও লেখায় রবীন্দ্রনাথও এসেছিলেন।

কারও লেখায় নজরুল। কেউ লিখেছিল, “বর্ষা আমার প্রিয় ঋতু।” কেউ লিখেছিল, “বর্ষার সৌন্দর্য অপরূপ।” সবই পরিচিত কথা।

তারপর একটা খাতা পেলাম। খাতাটা অন্যগুলোর মতো ছিল না। ছেলেটা লিখেছিল,
“আমাদের বাড়িতে বৃষ্টি হলে মা হাঁড়ির নিচে আরেকটা হাঁড়ি বসায়। কারণ ছাদ দিয়ে পানি পড়ে।”
আমি পড়তে থাকলাম।

“আমার মা বলে, বৃষ্টি ভালো। কারণ বৃষ্টি হলে ধুলো কমে।”
তারপর,
“আমি বৃষ্টি পছন্দ করি না।”
পরের লাইনে কারণ লিখেছে,
“বৃষ্টির দিনে বাবার মেজাজ খারাপ থাকে।”
আমি একটু থেমে গেলাম।
ছেলেটা লিখেছে,

“বাবা রিকশা চালায়। বৃষ্টি হলে মানুষ রিকশায় কম ওঠে। তাই সেদিন আমাদের ভাত কম হয়।”

তারপর শেষ দিকে একটা লাইন,
“আমি বড় হয়ে এমন একটা কাজ করতে চাই, যেদিন বৃষ্টি হলে কারও ভাত কমবে না।”

আমি অবাক হয়ে দেখলাম, ছেলেটা সবগুলো প্রশ্নের উত্তর লেখেনি। মাত্র তিনটা প্রশ্নের উত্তর লিখেছে।

বাকী দুইটাতে তেরো পেয়েছে। অর্থাৎ রচনায় বিশের মধ্যে বিশ না পেলে ছেলেটা ফেইল করবে।

জানি না কেন, আমি আমার শিক্ষাগত জীবনে প্রথমবারের মতো নিয়ম ভাঙলাম।

আমি খাতাটা বন্ধ করলাম। উপরে নম্বর দিলাম, ৩৩।
৩৩ খুব বেশি নম্বর না। ছেলেটা ভালো লিখেছিল।

আমি খাতার উপর ছোট করে লিখে দিলাম,
“ভাষা ভালো। নিজের অভিজ্ঞতা ধরে রাখবে।”

সেদিন প্রায় একশো বিশটা খাতা দেখেছিলাম। রাতে বাসায় ফিরে খাতাটার কথা ভুলে গেলাম।

বারোদিন পর স্কুল থেকে একটা চিঠি এলো। কয়েকটা খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়েছে।

একটা খাতায় অভিযোগ, নম্বর বেশি দেওয়া হয়েছে। খাতাটা আমার হাতে এলো। আমি নাম দেখে চিনতে পারলাম। সেই ছেলেটা। নাম,
সাইফুল ইসলাম।

তার নম্বর ৩৩ থেকে ২০ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কারণ হিসেবে হেডস্যার লিখেছেন,
“অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ। প্রশ্নের বিষয়বস্তু যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি।”

আমি আবার খাতাটা পড়লাম। একই লেখা। একই বৃষ্টি। একই ভাঙা ছাদ। একই রিকশাওয়ালা বাবা। আমি ৩৩ ই রাখলাম।

হেডস্যার আমার উপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হলেন। এই কারণেই কি-না, মাসখানেক পর আমাকে রাঙামাটি সরকারি হাইস্কুলে বদলি করা হলো।

তারপর অনেক বছর কেটে গেল।

আমি অবসর নিলাম। আমার ছাত্ররা দেশের নানা জায়গায় ছড়িয়ে গেল। কেউ ডাক্তার। কেউ ব্যাংকার। কেউ শিক্ষক। কেউ বিদেশে।

কেউ আর কোনোদিন যোগাযোগ করেনি। এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষকের জীবনে ছাত্ররা আসে। থাকে।তারপর চলে যায়। শুধু কিছু খাতা থেকে যায়। কিছু বাক্য থেকে যায়।

একদিন দুপুরে আমার বাসায় একজন যুবক এল। বয়স পয়ত্রিশের কাছাকাছি। পরনে খুব সাধারণ শার্ট। হাতে একটা ফাইল।

সে বলল,
“স্যার, আমাকে চিনেছেন?”
আমি বললাম,
“চেহারা পরিচিত লাগছে।”
সে হাসল।
“চিনবেন না।”
তারপর ফাইল খুলে একটা পুরোনো কাগজ বের করল।
আমার লেখা।
লাল কালিতে।
“ভাষা ভালো। নিজের অভিজ্ঞতা ধরে রাখবে।”
আমি অনেকক্ষণ কাগজটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
তারপর বললাম,
“সাইফুল?”
সে মাথা নেড়ে হাসল।
“জি।”
আমি অবাক হয়ে বললাম,
“এত বছর পর?”
“আপনাকে একটা জিনিস দেখাতে আসছি।”

সে ফাইল থেকে একটা ছবি বের করল। ছবিতে একটা বড় ঘর। অনেকগুলো মেশিন।

দেয়ালে লেখা,
“বৃষ্টির দিনেও কাজ বন্ধ হবে না।”
আমি ছবিটার দিকে তাকিয়ে বললাম,
“এটা কী?”
সে বলল,
“আমার কারখানা।”
“তুমি কারখানা করেছ?”
“জি।”
“কী তৈরি করো?”
“রেইনকোট।”
আমি হেসে ফেললাম।

সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
আমি তাকে চা দিলাম।
সে বলল,
“স্যার, আমি একটা কথা বলতে চাই।”
“বলো।”
“আপনি যদি ঐ খাতায় ৩৩ না দিতেন!”
সে থেমে গেল।
“তাহলে?”
“বাবা আমার লেখাপড়া বন্ধ করে দিতো।”
তারপর একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।
”হয়তো বাবার মতো আমাকেও রিকশা চালাতে হতো।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“তুমি সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দাওনি কেন?”

সে একটু নিচের দিকে তাকাল।
“আমার মা খুব অসুস্থ ছিল।”
আমি চুপ করে শুনছিলাম।

“নেত্রকোনা হাসপাতালে ভর্তি ছিল। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময়ও জানতাম না মা বাঁচবে কি না। হলের মধ্যে বসে বারবার মনে হচ্ছিল, আমি এখানে কী করছি?”
সে একটু থামল।

“সেদিন আমার মাথায় পরীক্ষা ছিল না, স্যার। শুধু মনে হচ্ছিল, মা একা শুয়ে আছে।”
“তোমার মা?”
“একমাস পর মারা গেছেন।”
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম।
বললাম,
“কলেজে ভর্তি হয়েছিলে?”
“জি”
“বিশ্ববিদ্যালয়?”
“জি?”
“কী নিয়ে পড়েছো?
“টেক্সটাইল।”
আমি হেসে বললাম,
“তাহলে রেইনকোটের সঙ্গে সম্পর্ক আছে।”
সে বলল,
“আছে।”
তারপর কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
“কিন্তু আমার আসল কাজ অন্য।”
“কী?”

সে জানালার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি এমন কাপড় বানানোর চেষ্টা করি যেটা খুব সস্তায় মানুষের শরীর শুকনো রাখতে পারে।”
আমি বললাম,
“কেন?”
সে আমার দিকে তাকাল।
“কারণ আমি বৃষ্টিতে ভাত কম খেয়েছি।”

আমি আর কথা বললাম না। তারপর সে আমাকে কারখানায় নিয়ে গেল। বিশাল কারখানা। হাজারের উপর কর্মী। বেশিরভাগই নারী।

একটা মেশিনের সামনে দাঁড়িয়ে সাইফুল বলল,
“বৃষ্টি হলে এখানে কারো ভাতের অভাব হয় না।”
আমি বললাম,
“তুমি কি সব কর্মীকে বৃষ্টির দিনে বাড়তি টাকা দাও?”
সে বলল,
“না।”
“তাহলে?”
“বৃষ্টি হলে কাজ বেশি দিই।”
আমি বুঝলাম না।
সে বলল,
“বাইরে যারা রাস্তায় কাজ করতে পারে না, তাদের জন্য এই কারখানাটা খোলা থাকে।”

তারপর আরেকটা মেশিনের পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
একজন মহিলা সেলাই করছিল।
সাইফুল তাকে বলল,
“খালা, আজ কয়টা?”
মহিলা বললো,
“বত্রিশ।”
সাইফুল হেসে বলল,
“ঠিক আছে।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“তার নাম?”
“শাহিদা।”
“কতদিন ধরে কাজ করে?”
“দুই বছর।”
শাহিদা আমাদের দিকে তাকিয়ে একটু হাসলো।
তারপর আবার কাজ করতে লাগলো।

বাড়ি ফেরার আগে সে আমাকে একটা ছোট প্যাকেট দিল।
আমি বললাম,
“এটা কী?”
“পড়ে খুলে দেখবেন।”
“কেন?”
“আমার সামনে খুললে আমি লজ্জা পাব।”
আমি হেসে প্যাকেটটা নিলাম।

বাড়ি ফেরার পথে খুলে দেখি, একটা রেইনকোট। খুব সুন্দর। ভেতরে ছোট একটা কাগজ। তাতে লেখা- “স্যার, আপনি আমাকে নম্বর দিয়েছিলেন। আমি শুধু চেষ্টা করেছি, নম্বরটার মান রাখতে।”

আমি অনেকক্ষণ কাগজটা হাতে নিয়ে বসে থাকলাম। সময়টা উদযাপন করতেই কি-না, বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো।

আমি রেইনকোটটা ব্যাগ থেকে বের করে গায়ে দিলাম। রাস্তা ভিজে যাচ্ছিল। রিকশাগুলো ধীরে চলছিল। দোকানের টিনের চাল থেকে পানি পড়ছিল।

একটা বাচ্চা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল। তার হাতে ছাতা নেই। কিন্তু সে ভয় পাচ্ছিল না। আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তাকে দেখলাম।

তারপর হঠাৎ মনে হলো, মাঝে মাঝে পৃথিবীর এক প্রান্তে নিয়ম ভাঙতে হয়, যেন পৃথিবীর আরেক প্রান্তে দারুণ কিছু গড়ে ওঠে।

আমি হয়তো সারা জীবন খাতায় নম্বর দিয়েছি। কিন্তু সেদিন প্রথমবারের মতো বুঝতে পেরেছি, কখনো কখনো একজন শিক্ষক শুধুমাত্র ছাত্রের খাতা দেখেন না।

তার সামনে পড়ে থাকে একজন মানুষের ভবিষ্যৎ। আর সেই ভবিষ্যৎকে পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য সামান্য কয়টা নম্বরই যথেষ্ট!

© Sohel R Rana

Address

পুরানা পল্টন
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Md Abubokor Siddique posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share