AYRA

AYRA

Share

রাতের অন্ধকার কখনো শান্তির, আবার কখনো একাকিত্বের প্রতীক।
এই অন্ধকারে মন খুলে কাঁদা যায়,
কারণ কেউ দেখে

04/12/2025

আঁখির আকাশে রংধনু
২৭
নদীর কলোতান।
মুহুর্তটা যেনো উপন্যাসে পড়া কোনো এক গল্পের মত লাগছে আঁখির কাছে।এও সম্ভব। এত ভালো তো আঁখি তার জিবনে আশা করে নি । তবে ?
কিছু কি ভাবছো আঁখি বেগম?
সবুজের মৃদু কন্ঠে কাটা দিয়ে উঠলো আঁখির সর্বাঙ্গে। এমন পরিস্থিতি সাথে স্বামী নামক এক সুদর্শন পুরুষ যে পুরুষ কিনা একান্তই তার। এই ভালোলাগার নাম কি দেওয়া যায়।
মুচকি হাসে আঁখি।
আমার জিবনেও এমন একটি রাত আসবে তা আমি ভাবি নি কখনো জানেন।
তাহলে তো ধন্য বেগম তুমি আমার এহেন সঙ্গে।
কথাটায় কেমন অবহেলার সুর পাওয়া গেলো। তবে আঁখির কাছে তো বেশ লাগছে।

আচ্ছা আমরা কোথায় যাচ্ছি?
কেনো ভয় পাচ্ছো আঁখি বেগম।
না মানে অনেক খন তো হাঁটছি, একটু বসি এখানে ।
বসবে?
হুম।
আচ্ছা আসো।
গাছের ওপারে নদী। সবুজ ঘাসের উপর বসলো আঁখি আর সবুজ। চাঁদ টা রুপোর থালার মত চকচক করছে।
দুজনেই নিরবতায় ভাসছে।
বাতাসের শীতলতা গাঢ় থেকে গাঢ় হচ্ছে শীতের কাল এলো বলে। হঠাৎ দমকা হাওয়ায় আঁখির মাথার ঘোমটা পরে গেলো। ঘন কালো চুল গুলো অবাধ্য হয়ে উড়ছে । আঁখি বাধা দিলো না।
এতখন না দেখলেও এবার সবুজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে তার স্ত্রীকে। রাতের আলোয় কেমন মায়া মায়া লাগছে আঁখির মুখ খানা। ফর্সা গলায় স্বপ্নের পাতলা চেন বারবার নজর কাড়ছে, কানে ঝুমকা হাতে বালা,নাকে ফুল। সব মিলে কেমন বৌ বৌ লাগছে।
সবুজ এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে বৌটার দিকে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তে নেই কোনো মোহ আছে শুধুই মুগ্ধতা।
বিয়ের পর এই প্রথম আঁখিকে বেশ ভালো ভাবে দেখলো সবুজ। এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা সৌন্দর্যের অধিকারী আঁখি সবুজের চোখে।
আনমনেই আঁখির মুখের উপর অবাধ্য চুল গুলো পরম যত্নে গুঁজে দিলো কানের কোনে। সবুজের এমন তাকানোতে লজ্জায় লাল আঁখি।
আঁখি বেগম একটা প্রশ্ন করি ?
জি বলুন
আমার নামটা কি আপনার জানা আছে ?
সবুজের এমন কথায় ভ্রু কুঁচকে যায় আঁখির। কিন্তু কোনো কথা না বলে । উঃ দেয় সংক্ষেপে
জি সবুজ।
আঁখির উত্তরে চোখ ফেরায় সবুজ। চাঁদের দিকে নিবদ্ধ করে সেই চাহনি।
একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে যা এই নিরবতা কে বিষাদ করে তোলে।
আঁখি বেগম আমায় কি অন্য নামে ডাকা যায় ?
সবুজের কন্ঠ শীতল।
আঁখি কিছু বুঝতে পারছে না। তাই চুপ থাকাই সে ভালো মনে করছে।
সবুজ এবার আবারো তাকায় আঁখির পানে।
আমি সিকদার বাড়ির সাহেব। জানেন কি?
আঁখি এবার মাথা নাড়ে।যার অর্থ সে জানে।
তাহলে কি আমি আপনাকে সিকদার সাহেব বলবো?
আঁখির প্রশ্নে বোকা হাসে সবুজ।
বুঝলে বেগম মন্দ হয় না কিন্তু সিকদার সাহেব ডাকটা তোমার মুখে শুনতে ভালই লাগছে।
সবুজের বুক জুড়ে খেলে গেলো এক শান্তির আভা। যা সে এর আগে কখনো অনুভব করে নি।
সিকদার সাহেব তার বেগমকে নিয়ে নদীর তীরে বসে রইল ঘন্টার পর ঘন্টা এ যেনো প্রেমের এক শুরুর কবিতা।
সাক্ষী রইল চাঁদ এই রাত প্রকৃত নিজে।

কাক ডাকা ভোরে বাড়ির উঠোনে বসেছে পুতুল। তার গয়নার বাক্স নিয়ে আজকে তার সাজতে ইচ্ছে করছে । পা দুখানি আলতায় উবুঝুব হয়ে আছে ।

22/10/2025

সকালের নাস্তা সেরে সবাই যে যার মত আবারো একই নিয়মে ব্যস্ত হয়ে পড়ল, জামাল সিকদার আর আকবর সিকদার বাজারের দিকে রওয়ানা দিলো। বাজারে সিকদার গোডাউনে আজ নতুন চাল উঠবে । সবুজকে ও বলে গেলো দুপুরের পর পর যেতে । জয়নাল সিকদার এখনো পিঠের ব্যাথায় বিছানা ছেরে উঠতে পারে নি ,যার কারনে জবাকেই খাবার নিয়ে উপরে যেতে হলো। রাতে স্বামীর কাছে নির্যাতন হওয়া বৌ টিও স্বামীর ব্যাথায় সব ভুলে স্বামীর সেবায় নিজেকে ব্যস্ত করে তোলে সকালে ।
আঁখি কুনছুম বেগমের সাথে উঠানে বসে বসে সুপারি কাটছে আর মাথা নিচু করে মুচকি হাসছে তার দেখে কুনছুম বেগম চোখ মুখ কুঁচকে বলে ও কি নাতির বৌ এরহম হাসো ক্যা ?
কই না তো দাদি হাসি না ।
আবার মিছা কথা কও , এইযে আমি দেখতাছি হাসতাছো ।
ওরেএএ বুড়ি আমার বৌয়ের লগে একটু চোখে চোখে প্রেম করতাছি এর মাঝে বা হাত না দিলে তোমার পেটের ভাত হজম হয় না ,শালি ।
সবুজের কথায় কুনছুম বেগম উপরে তাকায় , দোতলার বারান্দায় রেলিংয়ে দুই হাতে ভর করে একটু ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ,
বুড়ি তুমি যেমনে আমার বৌ টারে সারাক্ষণ নিজের লগে এমন চিপকাইয়া রাখো এতে মনটায় চায় পিছনের আম গাছের মগডালে তোমারে বসাইয়া রাখি । শালি একটা মিনিট একটু সুখ দুঃখের আলাপ করতে পারি না বৌয়ের লগে , খালি ডাকাডাকি করো, নাত বৌ নাত বৌ ।
শেষের লাইনটা এক প্রকার লাফিয়েই বলল সবুজ। সবুজের এমন কথায় আঁখির ইচ্ছা করছে লজ্জায় মাটির ভেতর ঢুকে যেতে । রান্না ঘরে ময়না বেগম বসে আছে , আর ও দিকে নিজের রুমে পুতুল আর রতন ভাই বসা , সবার সামনে সবুজ এমন ভাবে কথার বলার ধরন দেখে আঁখির যেনো মাথা আর উঠছে না লজ্জায়,
এদিকে কুনছুম বেগম কিছু বলতে যাবে তখনি জবার চিৎকারের আওয়াজে সবাই ছুটে যেতে লাগল দোতলায়, আঁখি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবাই গিয়ে জরো হলো জবার রুমের সামনে , পুতুল কে রতন যেতে দেয় নি , পড়া শেষ করে তবেই উঠতে হবে তাকে । আঁখি ধীরে পানের ঝুড়িটা পাশে রেখে দোতলার দিকে পা বাড়ায়, জবার গলার স্বর রিতিমত বেড়েই চলছে , ছোট বাচ্চা জয়ের কান্নার আওয়াজ ও আসছে ।
মালা বেগম ইতি মধ্যেই কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে, বন্ধ দরজায় গায়ের শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিচ্ছে, আঁখি কিছুই বুঝতে পারছে না , ময়না বেগম দরজার পাশেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে , কুনছুমু বেগম ও ডাকছে বারবার জয়নাল কে , আঁখির চোখ গেলো রেলিংয়ের কাছে শান্ত ভাবে দারানো সবুজের দিকে, সে আপন মনে ধুর আকাশের দিকে চেয়ে আছে, দেখে মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে আকাশে কয়টা পাখি উড়ছে, তা হিসেব করতে সে মহা ব্যস্ত। আবার মাঝে মাঝে হিসেবে ভুল হওয়াতে মুখের অবস্থা ও কিছুটা পরিবর্তন হচ্ছে,
জয়নাল এমন করিস না বাবা, দরজা খোল । বাচ্চা ডা কানতাছে, ওর মুখের দিকে তাকা বাবা।
জয়নাল। মালা বেগম আরো কত কথা বলে যাচ্ছে, কিন্তু যার উদ্দেশ্যে বলছে তার কোনো খেলায় নেই । অনবরত ঘরের ভেতর থেকে জবার কান্নার আওয়াজ বাড়ছে আর বাড়ছে। হঠাৎ আকাশ ফাটিয়ে বিকট এক চিৎকার দেয় জবা, যার কারনে বাইরে থাকা সবাই থম মেরে যায় , সবার মাঝে সবুজ এসে দাঁড়ায় শান্ত ভাবে , মালা বেগম ভেজা দৃষ্টিতে সবুজের দিকে তাকায় । সবুজ চোয়াল শক্ত করে শান্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে সামনে, এক কদম পিছিয়ে তেড়ে এসে সজোরে এক লাথিতে বন্ধ দরজায় খুলে ভেতরে প্রবেশ করল। তার সাথে সাথে সবাই হুমরি খেলে গেলো ভেতরে । আঁখি এতক্ষণ সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে ছিলো , ধীর পায়ে এসে সেও দরজার কাছে এসে দারালো। বিছানায় জয় এখনো কাঁদছে, ছোট বাচ্চা বিরতিহীন কাঁদার কারনে পুরো মুখ রক্তিম বর্ন ধারন করেছে হাত পা শক্ত করে রেখেছে, যা দেখলে সবার বুকেই ভয়ে ব্যাথা শুরু হয় । ফ্লোরে ভাত তরকারি ছরিয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে , যা জবা ঘন্টা খানেক আগে সযত্নে নিয়ে এসেছিলো তার স্বামীর জন্য, বড় পালঙ্ককের ওপাশে জয়নাল হাতে বেল্ট নিয়ে এক হিংস্র পশুর মত ফুঁসছে, আঁখি সারা ঘরে চোখ বুলিয়েও জবাকে দেখতে পেলো না । ময়না বেগম ছুটে গিয়ে জয়কে কোলে নেয় , বাচ্চা ছেলে কান্না করতে করতে হাঁপিয়ে উঠছে, তা দেখে এবার কুনছুম বেগম ও চোখের পানি ছেরে দিলো , ময়না বেগম জয়কে নিয়ে চলে গেলো সেখান থেকে । মালা বেগম আঁখি কুনছুম বেগম ঘরের ভেতর ঢুকতেই চোখে পড়ল অর্ধ নগ্ন জবাকে, গায়ের শাড়িটা বুক থেকে সরে মাটিতে পড়ে আছে ব্লাউজের অনেক খানি ছিরে গেছে, এলোমেলো পরে থাকায় জবার পায়ের দিকে অনেকটা শাড়ি উপরে উঠে গেছে যার দরুন বেল্টের করা দাগ গুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সারা শরীরে কালো দাগ ফুটে উঠেছে , আঁখির মাথাটা মুহূর্তেই ঘুরে গেলো মাথার মধ্যে ঝিমঝিম করছ

17/10/2025

সিকদার সাহেব, সে আমাকে ভালোবেসেছে আর আমি আপনাকে, সে আমাকে পাগলের মত ভালোবেসে আর আমি আপনাকে, সে আমাকে ভালোবেসে বহু বিসর্জন দিয়েছে আর আমি আপনাকে, সে আমাকে ভালোবেসে তার জিবন পর্যন্ত দিতে রাজি আছে আর আমি ... আপনি আমাকে তার মত কিংবা আমার মত করে আমাকে ভালোবাসেন নি সিকদার সাহেব, কিন্তু তবুও আমি আপনাকে পাবার জন্য সর্বোচ্চ স্বার্থপর হতে এখনো এই মুহূর্তটাতেও রাজি আছি , আমার একটা মহিলার কথা খুব মনে পড়ছে জানেন, প্রিন্স ডায়না, সে বলেছিলো আমি যাকে ভালোবেসেছি সে বাদে গোটা বিশ্ব আমায় ভালোবেসেছে , সবুজ সিকদার হলো আমার গল্পে গোটা বিশ্ব ।

15/10/2025

আকাশের রং পাল্টে আগুন বর্ন কয়লায় রুপ নিয়েছে, কিছুখনের মাঝেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে চারিদিক এক রহস্যময় ছায়া বিছেয়ে দিলো , সিকদার বাড়ির উঠোনে আঁখি দাঁড়িয়ে, পরনের সাদা শাড়ি ধুলোবালিছাই হয়ে অন্যরকম লাগছে, আঁচল টা এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে মাটিতে, চুলগুলো কেমন উসকোখুসকো হয়ে পিঠে পরে আছে, ঠোঁটে আজ কতদিন হলো হাসি ফোঠে নি , তাই হয়তো ফেটে সুকিয়ে একাকার, খালি পা দুটোয় রক্তের হালকা ছাপ, বুক জুড়ে এক শূন্যতা , আঁখি তার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে দূর আকাশের দিকে হয়তো একটু পরেই সূর্য টা ডুবে অন্ধকার দিয়ে যাবে ধরনীর বুকে ।

15/10/2025

একটা কথা কি জানেন সিকদার সাহেব।
পুরুষ খোঁজে একটা নারীর সৌন্দর্য,আর নারী খোঁজে একটা পুরুষের ভালোবাসার অমরত্ব।

15/10/2025

আঁখির আকাশে রংধনু ২৫

কোথায় ?
রাত দেখতে।
আঁখি চুপচাপ কথা নেই? রাত আবার দেখার কি আছে তাই তো বুঝতে পারছে না । কিন্তু তবুও ধীরে মাথা উপর নিচ করলো যার মানে আঁখি যাবে।

সবুজ মৃদু হাসলো তাহলে চলো। তবে একটা কথা গাছ বাইতে পারো তো?
সবুজের মুখে এমন কথা শুনে চোখ বড় বড় করে চাইল আঁখি। মনে মনে ভাবলো গাছ বাইবো মানে। কি বলছে লোকটা।
জি না পারি না।
কথাটা শুনে যেনো একটু বিরক্ত হলো সবুজ তবে তা দেখতে পেলো না আঁখি। হয়তো না দেখাই ভালো। সবুজের প্রতি ভালোলাগা যে সময়ের সাথে সাথে বেরেই চলেছে।
নারী যে পুরুষের প্রতি ভালোলাগায় আটকায় তার বিরক্ত মুখটা যে খুব বেদানা দায়ক এক নারীর জন্য।

আঁখি বেগম তাহলে কিভাবে হবে বলো তো। সামনে গেট দিয়ে গেলে তো আমার রক্ষি থাকবে না। কুনছুম বেগম আমায় জানে মারবে। আলমারি থেকে একটা গামছা বের করতে করতে সবুজ বললো।
কেনো? আবারো আঁখির ধীর কন্ঠ।
তুমি হলে বাড়ির নতুন বৌ। তোমাকে এত রাতে বাইরে নেওয়া মহা পাপ । কিন্তু আমার যে আমার বৌয়ের সাথে রাত দেখতে বড্ড ইচ্ছে করছে।
বৌ শব্দ টা যেনো এক সুধাময় স্পর্শ দিয়ে যায় আঁখির পানে।
চলো।
সবুজের কথা মতো পা টিপে টিপে হাঁটছে আঁখি।
এখন সবাই বেঘুর ঘুম ঘুমাচ্ছে। একটা কাক পক্ষির ও সাড়া শব্দ নেই। বারান্দা ঘুরে বাড়ির পেছন দিকে গেলো সবুজ তার পিছু পিছু আঁখি। সিকদার বাড়ির দেয়াল ঘেঁষে বড় আম গাছ উঠেছে সকালে দেখতে ভালো লাগলেও রাতে গায় কাটা দেওয়া মত।
সবুজ হাতের গামছা টা কোমরে বেধে বারান্দার দেওয়াল টপকে খুব অভিজ্ঞতার সাথে গাছে এক মজবুত ডালে গিয়ে দাঁড়ালো। ফিসফিস করে আখির দিকে বললো।
আঁখি বেগম এভাবে চেয়ে থাকলে কি হবে এসো।

সবুজের এমন কথায় হকচকিয়ে গেলো আঁখি।
মানে আ আমি এখানে কিভাবে আসবো । আপনি যান আমি সামন গেট দিয়ে আসছি।
কি বলে বেগম। তুমি কি চাও অল্প বয়সে বিধবা হতে। কেউ যদি তোমায় দেখে। কাল সকালে আমায় সুলে চড়াবে।
কিন্তু আমি এখান দিয়ে নামতে পারবো না আমার ভয় করছে।
আমি থাকতে তোমার কিসের ভয় আঁখি বেগম, বরং তুমি ভয় করবে যখন আমি থাকবো না। আমার সাথে থাকলেও তোমার যদি ভয় করে তবে সেই ভয় যে এই সময়ে বড় বেমানান।
আঁখি শুধু দেখছে সবুজকে । লোকটা এত সুন্দর করে কথা বলে কেনো ?
সবুজ এক হাত গাছের ডালে অন্য হাত বাড়িয়ে দিল আঁখির দিকে।
আঁখি ও আর কোনো দ্বিধা করলো না । এখন এই হাতটাই যে তার ভরসার একমাত্র দিক।
আঁখি হাত ধরতেই খুব সাবধানে গাছের ডালে নিয়ে আসলো সবুজ আঁখিকে। নিজের বিবাহিতা স্ত্রীকে এই প্রথম ছুঁয়ে দিলো সবুজ কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই।
সবুজের চতুর চোখ জোড়া ঘুরপাক খাচ্ছে কিভাবে আঁখিকে নিয়ে নিচে নামবে।
হুট করেই একটু ঝুঁকে আঁখিকে কোলে তুলে নিলো সবুজের শক্তপোক্ত এক হাত দিয়ে আরেক হাত গাছের ডালের সারি বেয়ে নামছে। মুহূর্তেই দোতলা থেকে মাটিতে নেমে এলো সবুজ আঁখিকে নিয়ে।
আচমকা এমন ঘটনায় আঁখি ভয় পেয়ে খামচে ধরেছে সবুজের পিঠ। বেশি জোরে ধরায় নখের চাপে হয়তো রক্ত ও বের হয়ে গেছে। সেদিকে হুশ নেই সবুজের আঁখির হাত খপ করে ধরেই পা বাড়ায় বাড়ির পেছন দিক দিয়ে।


পায়ের নুপুরে ঝুনঝুন শব্দ হওয়ায় তা খুলে হাতে নেয় পুতুল। গায়ের কালো চাদরটা আরো বড় করে ঘোমটায় টেনে নেয়। পা টিপে টিপে হাঁটায় সে দক্ষ মাঝি।
কতবার যে এমন সবাইকে ফাঁকি দিয়ে রাতে বের হয়েছে লতার সাথে। তবে নুপুরের এমন ঝুনঝুনি আওয়াজে একটু বিরক্ত পুতুল যদি কেউ টের পায়। অবশেষে গন্তব্যে এসে পৌছালো পুতুল। রুমের দরজাটা ভিরানো। রতন ভাই কি নাই রুমে ? মনে মনে ভাবতে ভবতেই জানালা দিকে উঁকি দিতে লাগলো। ঘরের লাইট বন্ধ আরো এখন মাঝ রাত । অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। শাড়ির গুছ থেকে ছোট টর্চলাইট টা বের করে যেইনা ভেতরে লাইট মারবে অমনি। পেছন থেকে কারো কন্ঠস্বর।
আপনি এখানে ?
ধরা খেয়ে গেলো ভেবে ঘাবড়ে গিয়ে হাতের লাইটটা পরে গেলো মেঝেতে। সে আলোতে পুতুলের আলতা মাথা পা দুটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। P

রাতের অন্ধকারে রতন ভাইকে চিনতে বিন্দু পরিমাণ অসুবিধা হলো না পুতুলের। রাতের আলো এসে পুরো কলিকাটা গ্ৰামটাকে ঘিরে ফেলেছে। দুহাত পেছনে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রতন। গায়ে সুরভি পাঞ্জাবি সাদা প্যান্ট সুঠাম দেহখানা টান টান করে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির আঙ্গিনায়। তাকে দেখলে বলার কি সাধ্য আছে যে এই ছেলেটি সিকদার বাড়ির চাকর। না একদমই না যে কোনো লোক বলবে এই রতন নামের ছেলেটি এই সিকদার বাড়ির জমিদার। ভাবতে ভাবতেই ফিক করে হেসে ফেলে পুতুল।
তা দেখে ভ্রু কুঁচকানো ভাব নিয়ে চেয়ে আছে রতন।

কি হলো কথা বলছেন না যে আপনি এখানে কি করছেন?
এবার নিজেকে স্বাভাবিক করলো পুতুল একটু উঁচু গলায় বলে উঠলো।
আমি এইহানে কি করি তা তোমারে কমু ক্যান। আর তুমি জিগানের কে। তুমি যে বাড়ির চাকর তা কি ভুইলা যাও নাকি। একদম আমার লগে এমনে কথা কইবা না কইয়া দিলাম।
পুতুলের এমন কথায় যেনো রতন অভ্যস্ত। তাও কেনো কেনো একটু খারাপ লাগে। পুতুল কেনো তার সাথে এমন আচরন করে।
দেখুন আপনি সিকদার বাড়ির একমাত্র মেয়ে । জামাল সিকদার যদি জানে আপনি এত রাতে একটা চাকরের ঘরে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন তবে কিন্তু আপনার ই বিপদ।
রতনের কথায় মিছে রাগটা আরো বাড়িয়ে দিলো পুতুল।

এই বাড়ি আমাগো আমি কোন ঘরে উঁকি দিমু হেইডা আমার বিষয়। তুমি এত নাক গলাও কেন। খাড়া ও তোমার নামে আমি কাইল সকালেই বাজানের কাছে বিচার দিমু।
রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেলো পুতুল। যাবার সময় যে হাতে থাকা একটি নুপুর পরে গেলো তার দিকে খেয়াল রইল না। রতন খুব যত্ন সহকারে তা কুড়িয়ে নিলো। পাঞ্জাবির পকেটে তা রেখে দিলো।


ইট পাথরের শহরের রাত যতটা কঠিন গ্ৰামের রাত যেনো ততটাই নরম ।
আকাশের চাঁদ বুড়িটা যেনো চোখ বুলিয়ে দেখছে গ্ৰামের মাঝ দিয়ে হেঁটে যাওয়া সদ্য বিবাহিত একজোড়া দম্পতি।
এহেন দৃশ্য দেখে চাঁদ বুড়িটা হয়তো মুচকি হাসলো তাইতো তার রুপের কিছুটা ছায়া এসে ধাক্কা খেলো নব দম্পতির চলার পথে ।
পাশাপাশি হাঁটছে সবুজ আর আঁখি।
এই হাটাতে নেই কোনো তাড়াহুড়ো । প্রায় অনেক খন হাটছে তারা।
মধ্যে রাত , গ্ৰামের শীতল বাতাস। কাঁচামাটির দুই ধারে সাড়ি বদ্ধ গাছ। আবার গাছের ওপাশে বয়ে যাচ্ছে
..
গ্ৰামিন পরিবেশ কেমন লাগে ?

03/10/2025

আঁখির আকাশে রংধনু ২৪
পাশে বড় একটা বটগাছ। দুপুরের কড়া রৌদ যখন রাগে তার তাপ ছড়ায় তখন প্রায়ই দেখা যায় গায়ের অর্ধ বয়স্ক লোকদের এই গাছের নিচে বসে থাকতে কেউ শখে বসে কেউ ক্লান্তিতে নুইয়ে আশ্রয় নেয়। পুতুল বটগাছের নিচে দাঁড়িয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তার রতন ভাইকে দেখছে।
এ দেখা যে শেষ হবার নয়। এই তাকিয়ে থাকাতে যেনো বহু যুগের ভালোলাগার আভাস পাওয়া যায়।

পুতুল গলা ছেড়ে ডাকলো রতনকে।

ও রতন ভাই ঐহানে বইয়া কি করো।
রতন বসে ছিলো নদীর তীরে পুতুলের কন্ঠ পেয়ে পেছন ফিরে তাকায়।
তোমারে আব্বায় ডাকতাছে , তাড়াতাড়ি যাইতে কইছে বাড়িতে।
রতন নদীর তীর থেকে উঠে আসে পুতুলের কাছে। আপনারে এহেনে কে পাঠালো।
কেউ পাঠায় নাই আমিই আইছি।
আজকে যে বড় ভালো ব্যবহার করছেন।
পুতুল তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।ক্যান তোমার লগে কি আমি খারাপ ব্যবহার করি। আসলে কি জানো তোমার লগে কথা কওনি উচিত না। মুখ ভেংতে চলে গেলো পুতুল।
রতন অবাক নয়নে চেয়ে আছে চঞ্চল কিশোরীর দিকে।

সিকদার বাড়ির কাজের লোক হলেও যথেষ্ট সম্মান করে জামাল তাকে। লেখাপড়া জানা ছেলে এত টুকু সম্মান তো তার প্রাপ্য তবে গায়ের অনেকেই এ নিয়ে হাসাহাসি করে বাপ মা ছাড়া এতিম ছেলে তাকে এত মাথায় রাখার কি আছে। পুতুল ও তার সাথে ভালো একটা কথা বলে না। কথায় কথায় মনে করিয়ে দেয় সে যে সিকদার বাড়ির কাজের লোক।
মালা বেগমের কাছে যে এই নিয়ে কত মার খেয়েছে পুতুল তার হিসেব নেই তবুও সে রতন ভাইকে ভালো কথা বলতে নারাজ। কাজের ছেলের সাথে ওত ভালো কথা বলে কি হবে।

রতনের এতে অবশ্য কোনো কষ্ট নেই। পুতুলের মত এত সুন্দর একটা মেয়ে তার উপর জমিদার কন্যাও বলা যায়। রাজকন্যার মত থাকে কি না। তার থেকে সম্মান রতন আশা ও করে না।
রোজ বিকেলে এই নদীর তীরে সময় কাটাতে তার ভালো লাগে। সিকদার বাড়ির নানা কাজে সে ব্যস্ত থাকে । এমনকি রাতেও নিজের জন্য সময় পায় না প্রায়ই জামাল সিকদারের কাজে তার রাতেও বাইরে থাকা লাগে। পঁচিশ বছরের এই জিবনে কম পরিশ্রম করতে হয় নি তাকে।
রতন নিজের চিন্তায় নিজেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে যা হয়তো এই নদী প্রতিদিন ই দেখে।

জামাল সিকদার বাড়ির বাইরের রাস্তায় ক্রমোশয় পাইচারি করেই যাচ্ছে তো করেই যাচ্ছে। রতন কে ডাক পাঠিয়েছে দুবার এখন পর্যন্ত আসার নাম গন্ধ নেই। বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে গেলো ওদিকে সবুজের কোনো খবর নেই। যেই কাজে পাঠিয়েছে সেই কাজ আদৌ হয়েছে কি না কে জানে। চিন্তায় মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে।
কিছু খন পর রতনকে দূর থেকে আসতে দেখে হাফ ছেরে বাঁচে যেনো জামাল সিকদার। রতন তার বা হাত বলা যায়। তাকে ছাড়া সে অর্ধেক অচল। গ্ৰামের চেয়ারম্যান বলে কথা বিপক্ষের দল তো আর বসে থাকবে না। ক্ষতি করার জন্য সব সময়ই ফাঁদ পেতে রাখে। রতন অতি চালাক প্রখর দৃষ্টির একটা ছেলে । জামাল সিকদার কে সব বিপদ থেকে এর আগেও অনেক বাঁচিয়েছে গায়ের জোরে আর বুদ্ধিতে।
আসসালামুয়ালাইকুম চাচা।
রতনকে দেখা মাএ জামাল সিকদারের সকল রাগ যেনো পানি সবার মত। আয় রতন আয়।
কই ছিলি এতখন সেই কখন থিকা খুজতাছি।
চিন্তা করবেন না চাচা। সবুজ ভাই ঠিক আছে আমি খবর নিছি। বড় ভাইজান চইলা আসবো রাতের মধ্যে ই।
আচ্ছা এহন যা কিছু খাওয়া দাওয়া কইরা বিশ্রাম নে রাতে আবার ঐ কামাল সরদারের কাছে তোর একবার যাওয়া লাগবো। কাজের ব্যাপারে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা আমি সহ্য করমু না। তারে ভালো কইরা বুঝাইয়া আইবি।
জি চাচা।

গ্রামের রাত মানেই নীরবতার মধুর সুর।
কুয়াশা ঢেকে রাখে চারপাশ, আকাশে তারা জ্বলে ওঠে।
দূরে বাঁশঝাড়ে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যায়।
কখনো শিয়ালের হাঁক, কখনো দূরের মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি।
কেরোসিনের আলোয় বসে মানুষ গল্প করে, আড্ডা দেয়।
গ্রামের রাতের শান্তি শহরের আলো-ঝলমল রাতেও মেলে না।খোলা আকাশে পূর্ণিমার আলো পড়ে মাঠে, মনে হয় রূপার চাদর বিছানো।
তালগাছের মাথায় হাওয়া বয়ে যায়, মিষ্টি সুর তোলে।
পুকুরের জলে চাঁদের প্রতিবিম্ব কেঁপে ওঠে।
দূরে গরুর ঘুমঘুম ডাক শোনা যায়।
নিস্তব্ধ রাতে মাঝেমধ্যে কুকুরের ঘেউ-ঘেউ ভেসে আসে।
খেজুরগাছ থেকে টপটপ করে রস পড়ার শব্দ পাওয়া যায় শীতে।রাত বাড়লে চারপাশ যেন আরও গভীর শান্তিতে ডুবে যায়।
গ্ৰামের এই রাত মন ভরে দেখছে আঁখি বারান্দার গ্ৰিল আকরে।
ভালোলাগা মানেই অন্তরের এক মিষ্টি অনুভূতি।
হঠাৎ কোনো পুরোনো গান শুনে মন ভরে যাওয়াই একধরনের ভালোলাগা।
বৃষ্টির ফোঁটা জানালায় পড়ে টুপটাপ শব্দ করলে মনে যে শান্তি আসে, সেটাও ভালোলাগা।
কারও হাসি দেখে নিজের মুখে অজান্তেই হাসি ফোটে—এটাই ভালোলাগা।
মাঠের সবুজে তাকিয়ে বা আকাশভরা তারা দেখে হৃদয় যে হালকা হয়ে যায়, সেটাই ভালোলাগা।
ভালোলাগা কখনো খুব ছোট ছোট জিনিসে লুকিয়ে থাকে—এক কাপ চা, বন্ধুর আলাপ, কিংবা ভোরের প্রথম আলোয়। কিন্তু আমি এখন কোন ভালোলাগায় ভুগছি কিছুই বুঝতে পারছি না।
আঁখির চিন্তার মাঝে কেউ একজন বাঁধা দিলো।দরজায় ঠকঠক আওয়াজ করছে। রাত এখন এগারোটা পেরিয়ে এত রাতে কে এলো। পুতুল তো একটু আগে বলে গেলো সবুজের আসতে নাকি মাঝরাত হবে।
দরজার কাছে এসে নিচু সরে আওড়ায় আঁখি।
কে?
কোনো সাড়া নেই
কে বলছেন?
না এখনো কোনো সাড়া নেই।
এবার একটু ভয় হলো আঁখির। শাড়ির আঁচল টা মাথায় তুলে। হাতে একটা ছোট লাঠি তুলে নিলো। কুনছুম বেগম দিয়ে গেছে। কে যানে কি ভেবে দিয়েছে।
দরজার খিল আস্তে করে খুলা মাএ। আঁখির সিরদারায় একটা স্রোত হয়ে গেলো।
আপনি?
দরজার দুপাশে হাত দিয়ে একটু ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ, পরনে সাদা ময়লা একটা পাঞ্জাবি, হাতে ঘড়ি ,কালো প্যান্ট , কালো বেল্টের চপ্পল। সেই ছবির সাথে মিল রেখে এখনো চুলগুলো এলোমেলো।
সবুজ রুমে ঢুকেই খাটে বসে পড়ল। আঁখি এখনো দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সবুজকে দেখছে।
কেমন আছো? আঁখি বেগম।
সবুজের শীতল কন্ঠস্বর যেনো তীরের গতিতে লাগল আঁখির কানে। বিয়ের পর এই প্রথম স্বামীর মুখে তার নাম। ডায়রিতে এ পর্যন্ত এই লোকটার লেখা যে কতবার পড়েছে আঁখি তা জানা নেই। তবে ডায়রিতে আপনি সম্মধোন করলেও বাস্তবে তুমি বলাতে একটু লজ্জা লাগছে আঁখির।
কি হলো কথা বলছো না যে?
না মানে ভালো আছি । আঁখির উঃ
আঁখি বেগম যাবে আমার সাথে?

28/09/2025

আঁখির আকাশে রংধনু ২৩
প্রশংসা করলো। মন ভরে দোয়া করলো। আঁখি প্রায় পনেরো মিনিট বসে আছে। এত কোলাহলে তার কেমন যেনো লাগছে। আচ্ছা তার কি বিরক্ত লাগছে?
না তেমন টা মনে হচ্ছে না পুতুল বসে আছে নতুন বৌয়ের কাছে গা ঘেঁষে। আর একটু পর পর হাসছে।
হঠাৎ এক মহিলা বলে উঠলো।
কইগো মালা তোমার পুতেরে ডাকো বৌডার পাশে খাড়া করাও দেহি কেমন মানায়। বলতে বলতেই সবুজ এসে দাঁড়ায় আঁখির পাশে, মাথায় বেশ করে ঘোমটা থাকার কারনে স্বামীকে আর দেখা হলো না আঁখির।
ওরে মা গো এই তো দেখি সিনামার নায়ক নায়িকার জুরি। বলতেই নিচতলার সবাই হাসিতে মেতে উঠলো। আঁখির এতখন অসস্থি লাগলেও এখন কেমন যেনো লজ্জা লাগছে। আড়চোখে একবার দেখার চেষ্টা করলো আঁখি সবুজকে, চোওরা দেহে এক ধারের সাদা পাঞ্জাবি টাই চোখে পড়লো শুধু, আঁখি চেয়ারে বসে থাকায় মাথা উঁচু করে আর মুখটা দেখতে পারো না সবুজের।

মাওই মা আহেন খাইয়া লন । সালেহার মার ব্যস্ত কন্ঠ কেউ খেলো আবার কেউ চলে গেলো, আবার কেউ এসে আঁখিকে দোয়া করে হাতে টাকা গুঁজে দিলো। বড় উঠানে মাদুল পেতে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে সিকদার বাড়িতে। সকাল থেকেই বাড়ির পেছনে রান্নার আয়োজন চলছে। সেখানেই ব্যস্ত ছিলো আকবর আর জামাল ।
অতিথীদের বিদেয় করতে করতেই বেলা পেরিয়ে বিকেল নেমে এলো।
আঁখির খাবার তার রুমেই দেওয়া হয়েছে। নতুন বৌ কে যেনো সবার সামনে না খেতে দেওয়া হয় সবুজের কড়া বারন।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে একটা হালকার ভিতর সুতি শাড়ি পড়লো আঁখি। শাড়ি পড়তে খুব একটা কষ্ট হয় না তার তবে এখন একটু ঝামেলা হচ্ছে পড়তে , এইখানে নাকি শহুরের মত শাড়ি পড়া যাবে না। গায়ের মেয়ে বৌদের মত বাংলা শাড়ি পড়া লাগবে। জবা এসে শাড়ি পড়িয়ে দিয়ে গেছে কিছু খন আগেই।

অস্তগামী সূর্যের রঙে যখন আকাশ রাঙে, তখন বিকেল যেনো প্রকৃতির সবচেয়ে কোমল হাসি।
শীতল হাওয়ায় দুলতে থাকা গাছপালা, পাখিদের ফিরে যাওয়া—সব মিলিয়ে বিকেল মানেই এক শান্তির ছবি।
নদীর ধারে বসে সূর্য ডোবার দৃশ্য দেখতে দেখতে মনে হয়, প্রকৃতি যেনো দিনের শেষ কবিতাটি লিখে যাচ্ছে।
বিকেলের সোনালী আলোয় ঘাসের মাঠ ঝিলমিল করে ওঠে, যেনো প্রকৃতি তার গোপন রত্নগুলো খুলে দিয়েছে।
বারান্দায় দাড়িয়ে বিকেলের সময়টা উপভোগ করছে আঁখি। দোতলা থেকে একটু দূরে গায়ের ছোট নদীটা দেখতে খুব ভালো লাগে।
সিকদার বাড়ির যে যার কাছে ব্যস্ত। আঁখির এখন ভালো লাগছে না কাকে যেনো দেখার জন্য চোখ দুটি অস্থির হয়ে আছে । এ বাড়িতে পুতুল আর জবা অতি অল্প সময়ে কাছের হয়ে উঠেছে আঁখির।
ও বৌ একলা খাড়াইয়া কি করো।
পেছন থেকে কুনছুম বেগমের ডাকে হুস ফেরে আঁখির। সাথে সাথে বারান্দা থেকে ঘরে যায় সে। কুনছুম বেগমের বয়স আশির এপার ওপার হবে কিন্তু বয়স তাকে কাবু করতে পারে নি বেশ শক্ত হয়ে চলে সে।
আহো বৌ এহেনে বহো।
আঁখি গিয়ে বসলো কুনছুম বেগমের পাশে।
নতুন বাড়ি নতুন মানুষ বুঝি আরো তুমি হইলা শহরের মাইয়া। তোমার এহনে পরান মানাইতে সময় লাগবো। তয় চিন্তার কারন নাই তোমার সতিন আছে না হের লগে থাকলেই তোমার পরান মাইনা যাইবো। দেখবা স্বামীর কথাও আর মনে থাকবো না বুঝলা। বলেই হেসে ওঠে কুনছুম বেগম।
আঁখি যেনো বুঝে উঠতে পারলো না কথাটা সতিন মানে?
সবুজ কি এর আগেও বিয়ে করেছে? মুহূর্তেই বুকটা ভার হয়ে এলো তার। কাঁপা গলায় সুধালো সে।
দাদি সতিন মানে। সে কি আগেও বিয়ে করেছে?
ওমা জানো না। তোমায় সুয়ামি তোমারে আনোনের আগে আমার লগে ঘুমাইছে। আমি তার প্রথম বৌ। পান চিবোতে চিবোতে বললো কুনছুম বেগম।
তার কথায় যেনো বোকা বনে গেলো আঁখি। ইস নিজের উপর নিজেরই রাগ হচ্ছে তবে আবার ভালো ও লাগছে।
আঁখির মুখ দেখে হাসছে কুনছুম বেগম।
হুনো বৌ আমার সবুজ লাখে একটা গো লাখে একটা। এই গেরামের কত মাইয়া হের লেইগা পাগল তুমি গুইনা শেষ করতে পারবা না। কিন্তু আমার সবুজ কারো দিকে নজর দেয় নাই। মাসে একবার আহে গেরামারে এক দুইদিন থাকে আবার যায় গা বাপের ব্যবসায়ী কামে।
হঠাৎ একদিন আমারে আইয়া কয় হের নাকি শহরে একটা মাইয়া মেলা ভালা লাগে। তার লেইগা হে প্রতিদিন রাস্তায় খাড়াইয়া থাকে। হেই মাইয়ার নাম কি যানো?
আঁখি তাকিয়ে আছে কুনছুম বেগমের পানে।
মাইয়ার নাম হইলো আঁখি। হাহাহা
সময়ের সাথে সাথে এই লোকটার প্রতি আঁখির ভালোলাগা যেনো ক্রমশয় বেড়েই যাচ্ছে।
কিন্তু উপায় কি কও বৌ বাপের ব্যবসায়ী কামে হের বিদ্যাশের মাডিতে পাও রাখতে হইলো। কত যে মন খারাপ করছে আবার সবুজে হে যাইবো না তাও যাইতে হইলো।তিন বছর পর আইয়া জিদ ধরলো হে বিয়া করবো। হের একখান মাইয়া পছন্দ আছে । নাম নাই ঠিকানা নাই কোনো কিছুই জানি না আমরা কেউ। পনেরো দিনের মাথায় দেখো হের পছন্দের মানুষরে লইয়া আইলো। তুমি খুব ভাগ্যবতী বৌ আমার সবুজের মত একখান সঙ্গী পাইছো। বলতে বলতে চোখের পানি মোছে কুনছুম বেগম।
আঁখির মুখ থেকে কোনো কথা বের হচ্ছে না। একটা মানুষ এত ভালোবাসতে পারে তাকে তা তো জানা ছিলো না?

বৌ এই বাড়িতে তোমার কোনো কিছুর ই অভাব হইবো না। তোমার শশুর।নানা শশুরের ধন দৌলতের কোনো অভাব নাই। কিন্তু বেডা মানুষ তো তাও টাকার পিছনেই দৌড়ায়। তয় আমার সবুজ এইহান দিয়া অন্য রহমের মানুষ। হেয় তোমারে সময় দিবো। তুমি যা চাইবা তাই দিবো। এহন থিকা এইডাই তোমার বাড়ি । আর আমি হইলাম তোমার সতিন আমারে কিন্তু ভুইলা যাইও না ।
আঁখি ও কুনছুম বেগমের সাথে এবার হেসে উঠলো। এমন কথার সাথে সে পরিচিত না তবে কুনছুম বেগমের কথায় একটা আপন আপন ছোঁয়া আছে।
বৌ বিয়া বাড়ি তো তোমার সুয়ামির আইতে রাইত হইবো হগক কাম কাইজ গুছাইয়া আইতে তুমি আবার ভয় পাইও না। এহন একটু ঘুমাও । আমি যাই বাতের ব্যাথাডা মনে হয় আবার উঠতাছে। আমি যাই।
দাদি আমি কি দিয়ে আসবো আপনাকে।
ও মা মাইয়া কয় কি আমারে দিয়ান আহোন লাগবো না। বুড়ি হইলে কি হইছে গায়ে এহনো জোর আছে। কুস্তিতে এহনো বেডা হারাইতে পারমু হাহাহা।

আলতা পায়ে গ্ৰামের মেঠো পথে হাঁটছে পুতুল। দক্ষিণা বাতাস এসে বারবার ছুঁয়ে দিছে পুতুলের সর্বাঙ্গে।

তোমারে দিখিবার মোনে চায়।
দেখা দাও আমায় তোমারে দেখিবার মনে চায়

মনের আনন্দে গান গাইতে গাইতে যাচ্ছে সে নদীর ঘাটে।
ঘাটের এক

21/09/2025

আঁখির আকাশে রংধনু 22
সে ময়না বেগমও মুচকি হাসছে।
হাসতে হাসতেই কুনছুম বেগম চলো গেলো বাড়ির ভেতর। পুতুল নাচ শেষ করে এসে বসলো আঁখির পাশে।
ষোলো কি সতেরো বয়সের এই কিশোরী যে বেশ চঞ্চল তা কিছু সময়েই বুঝা হয়ে গেছে আঁখির। সাথে সাজগোজ প্রিয়ও।মাথার মাঝ বরাবর লম্বা সিঁথি দুই বেনীতে রঙ্গিন ফিতা, গ্ৰামের বাকি মেয়েদের মত কোমড় বেঁধে শাড়ি পড়েছে পুতুল, সব সময়ই অবশ্য শাড়ি পড়া হয় না মাঝে মাঝে পড়ে। হাতে লাল সবুজ কাজের চুড়ি পায়ে নুপুর প্রতিটা সময়ের পুতুলের উপস্থিতি তুলে ধরছে।
নতুন ভাবি তোমারে কিন্তু মেলা সুন্দর লাগতাছে। তোমার লগে তো কাইল রাইতে কথাই কইতে পারলাম না। এত রাইত কইরা আইছো আমি তো ঘুমাইয়া গেছিলাম। আঁখি মুগ্ধ নয়নে দেখছে পুতুল কে। কুনছুম বেগমের কথা অনুযায়ী এই কিশোরী আঁখির একমাত্র ননদ পুতুল।

আমগো বাড়িত আইয়া কেমন লাগতাছে তোমার।
মুচকি হেসে বলল আঁখি, অনেক ভালো লাগছে। তোমাকে দেখে আরো ভালো লাগছে। আঁখির কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বললো পুতুল আর ভাইজানরে কেমন লাগছে ?
বলেই ফেঁসে ফেললো পুতুল। এত ছোট মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে একটু অবাক ই হলো আঁখি।
এ বাড়িতে সবাই ই খুব মিশুক স্বভাবের। তা বোঝা গেলো।
মালা বেগম রান্না ঘর থেকে আঁখির উদ্দেশ্য বলে উঠলো। বৌ যাও ঘড়ে যাও। এহনি তোমার শশুর আরো বাড়ির বেডারা আইয়া পড়বো। ঘড়ে গিয়া একটু হুইয়া থাকো গিয়া। পুতুল যা তো মা বৌ রে নিয়া ঘড়ে যা। শাশুড়ির মুখে এই প্রথম কথা শুনলো আঁখি।
আহো নতুন ভাবি তোমারে লইয়া যাই।
পুতুলের সাথে সাথেই চলে গেলো আঁখি। আম্মা মাংস কি আরো হইবো দেখেন তো জবার দিকে তাকিয়ে মাংসের দিকে তাকালো মালা বেগম। মাংসের রঙ দেখতে দেখতে জবার উদ্দেশে বললো মালা বেগম। বৌ আঁখি মাইয়াডা বেশ চুপচাপ। ওরে আগে বুঝবা, হেরপর মানায়া নিবা। তোমার শশুড়ের কাছে হুনছি মাইয়া নাকি শহরে বড় হইছে গেরামের আদব কায়দা শিখাইয়া নিতে হইবো বুঝলা। আম্মা আব্বা কি আর কিছু কয় নাই। হুট কইরাই সবুজ ভাইর বিয়া দিয়া দিলো। মাইয়া সম্পর্কে তো কিছুই জানলাম না। মালা বেগম যে এই সংসারে একটা সদস্য মাএ। স্বামী তার কিছুই যে বলে না । বরাবরই চুপচাপ স্বভাবের মালা বেগম । এবারও তাই রইল।

শালিশি শেষ করে বাড়ি ফিরলো জামাল সিকদার। সাথে তার ছোট ভাই আকবর সিকদার। সাথে করে বাড়ির দুই পাহারাদার , তাদের হাত ভর্তি বাজারের ব্যাগ। দুজনেই ব্যস্ত কন্ঠে শুধালো মালা বেগমকে ।
মা এগুলা কই রাখমু ?
এইহানে রাইখো না গো ওসমান কাকা কল পারের ঐহানে রাইখা আহো। ছালেহার মায় সব দেখবো নি।
আকবর সিকদার একবার আড়চোখে দেখে নিলো স্ত্রী ময়না বেগমকে । ঘড় থেকে যাওয়ার সময় যে অবস্থায় দেখে গেছে এখনো সেই অবস্থায় ই আছে। আকবর সিকদার আর দাঁড়ালো না ধীর পায় চলে গেলো নিজ কাজে।

আলতা মাখা দুটি পা নাচাচ্ছে পুতুল আর তার নতুন ভাবিকে দেখছে। আঁখি গোসলে যাবার জন্য আলমারি থেকে শাড়ি বের করছে।
আচ্ছা ভাবি শহর কেমন লাগে তোমার কাছে। পুতুলের এমন কথায় পিছনে ফিরে তাকায় আঁখি। খাটে পুতুলের পাশে বসে।
ভালো লাগে তবে এখন আর লাগে না , সকালের এমন সুন্দর পরিবেশ দেখে এখন শহরের পরিবেশ একটু কম ভালো লাগে। আঁখির কথায় হাসে পুতুল।
আচ্ছা ভাবি তুমি কি এমনেই কথা কও। শহরের মাইনষেগো মত।
কেনো?
না আমাগো মতো তো কও না।
আঁখি পুতুলের একটু কাছে এসে বসে আর বলে।কেনো আমার কথা কি শুনতে বাজে লাগছে।
পুতুল হাসে। না ভালাই লাগে । তুমি মেলা সুন্দর ভাবি।
কিন্তু তুমি তো সুন্দর না পুতুল।
মুহূর্তেই পুতুলের মুখটা চুপসে গেলো এখন পর্যন্ত তাকে এই কথা কেউ বলে নি। বাড়ির খুব আদরের মেয়ে পুতুল।তাই সবাই আদর করে নাম রাখে পুতুল।
পুতুলের এমন মুখ দেখে ফিক করে হেসে ফেলে আঁখি।
কি হইলো তুমি হাসলা ক্যান?
তোমাকে দেখে। তোমায় সুন্দর বলি নি বলে রাগ করেছো।
পুতুল কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না।
পুতুল তুমি শুধু সুন্দর নও তুমি মায়াবী ও বটে মানুষ হয় সুন্দর হয় নয় মায়াবী কিন্তু তুমি দুটোই। তোমায় একবার যে দেখবে সে বারবার দেখার স্বাদ করবে।
নতুন ভাবির কথায় মুচকি হাসে পুতুল।
প্রশংসা শুনতে প্রতিটা নারীর ই প্রিয়। সে নারী হোক ভালো বা কালো।

সূর্য সময় বলে দিচ্ছে এখন বেলা বারোটা প্রায়। নতুন বৌ দেখতে সিকদার বাড়িতে মহিলাদের কোলাহল। এখনো বৌয়ের মুখ না দেখতে পেরে কেউ কৌতুহল আবার কেউ বিরক্ত। ওদিকে তার কোনো খেয়াল ই নেই জবার সে আপন মনে নিজের জা মানে আঁখি কে সাজাতে ব্যস্ত। এক গাদা সোনার বাক্স নিয়ে বসেছে সে।
একটা করে গহনা বের করছে আর একটা করে গল্প বলছে আঁখিকে। আঁখি ও খুব মন দিয়ে শুনছে নিজের শশুর বাড়ির গল্প।
হাতের একটা বালা বের করে আঁখির হাতে পড়াতে পড়াতে বললো জবা।
সবুজ ভাই মেলা শখ কইরা এগুলা কিনছে । কইছে তার হবু বৌ আইলে এগুলা দিবো। কে যানি এহন কই গিয়া কামে আটকাইয়া পড়ছে। এইযে দেখতাছো গয়না গুলি এগুলা সব কিন্তু তোমার শাশুড়ি মানে বড় আম্মার। হেরে দিছিলো আবার হের শাশুড়ি মানে আমগো কুনছুম বুড়ি বুঝলা। এইযে সব গয়না এগুলার আসল মালিক হইলো বুড়ির শাশুড়ি। ভাবুক কন্ঠে বলে জবা।
বুড়ির শাশুড়ির নাম যেনো কি আছিলো মনে পড়তাছে না।
আচ্ছা বাদ দাও তো ।আইজ থিকা এগুলা তোমার তুমি আবার তোমার পোলার বৌরে দিবা বুঝলা। বলেই হাসে জবা। আঁখির ভালো লাগছে জবার কথাগুলো। কেনো যানি মনে হচ্ছে এই বাড়ি এই মানুষ কত দিনের চেনা আঁখির।
নিচ থেকে মালা বেগমের ডাকে হুস ফেরে জবার ।
মাথায় হাত দিয়ে জিবে কামড় দেয়।
আল্লাহ গো মেলা দেড়ি হইয়া গেছে তোমারে দেখোনের লেইগা গেরামের মেলা মানুষ আইছে চলো নতুন বৌ। তোমারে নিয়া যাই।
আঁখির কাছে সবটা কেমন অদ্ভুত লাগছে । চোখ দুটো পুতুল কে খুঁজছে,
দোতলা থেকে নেমে নিচতলায় নামতেই বড় পর্দা সরায় ছালেহার মা। সবার চোখ যায় নতুন বৌয়ের দিকে। রানি গোলাপি টকটকে একটা জামদানি শাড়ি গায় দিছেয়ে আঁখি। হাতে গলায় কানে নাকে সোনার গহনা । হালকা সাজে যেনো পরীর মতো লাগছে আজ আঁখিকে। গায়ের রং শ্যামলা বলা যায় না তবে ফর্সা ধরা যায় এই মুহূর্তে। কথায় আছে তামা সুন্দর মাজলে আর নারী সুন্দর সাজলে। আঁখিকেও আজ সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।
সবাই সিকদার বাড়ির বড় বৌয়ের

17/09/2025
Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address

Dhaka
১২১৬