নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।
সম্মানিত দলীয় প্রধানবৃন্দ,
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিকতা এবং জাতীয় সংসদে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রশ্নে আমরা, ‘নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম’, আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সংরক্ষিত নারী আসন নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হলেও, বাস্তবে এই আসনগুলোতে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, যোগ্যতাভিত্তিক নির্বাচন, এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ না থাকলে নারী প্রতিনিধিত্ব কেবল “সংখ্যা”তে সীমাবদ্ধ থাকে, “ক্ষমতা”তে নয়।
‘নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম’ শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে দাবি জানিয়ে এসেছে যে নারীর প্রতিনিধিত্বকে “সংখ্যা” নয়, ক্ষমতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা বারবার বলেছি: সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা শুরু করতে হবে; সাধারণ আসনেও দলগুলোকে উল্লেখযোগ্য হারে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, লিখিত মানদণ্ড ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; রাজনৈতিক দলে নারী নেত্রীদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা, সাংগঠনিক পদ এবং সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে; নির্বাচনী পরিবেশে নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা, সমান সুযোগ ও অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে; এবং নারী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অনলাইন-অফলাইন হয়রানি ও সহিংসতা রোধে দলীয় নীতিমালা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কার্যকর করতে হবে, যাতে নারী প্রতিনিধিত্ব কোনোভাবেই “প্রতীকী” বা নিয়ন্ত্রিত উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ না থাকে।
দু:খজনক হলো এবারের নির্বাচনেও সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন কার্যকর হয়নি। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েও আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই: সংরক্ষিত আসনগুলো যেন শুধু লোক দেখানো প্রতিনিধিত্ব না হয়ে থেকে যায় এবং সংসদে নারীর সক্রিয় রাজনৈতিক অবস্থান ও মতামতকে যেন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়। সংরক্ষিত আসনের লক্ষ্য হবে নারীরা যেন সংসদে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে ও বাস্তব প্রভাব রাখতে পারেন তা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলোর উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছি-
১। কে, কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় মনোনীত হবেন তা দলের পক্ষ থেকে লিখিত নীতিমালা তৈরি ও প্রকাশের মাধ্যমে মনোনয়নের পূর্বেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কিসের ভিত্তিতে ঐ প্রার্থীকে নির্বাচন করা হয়েছে তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা সংক্ষিপ্তভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
২। সংরক্ষিত আসন কোনো “সুবিধা” নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। তাই মনোনয়নে যোগ্যতাভিত্তিক মানদণ্ড অপরিহার্য। যেমন-
- রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও মাঠের কাজ: সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, ইউনিট পর্যায়ে কাজ, জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে নেতৃত্বের প্রমাণ থাকা বাঞ্ছনীয়।
- সংসদীয় সক্ষমতা: আইন প্রণয়ন, বাজেট, নীতি-পর্যালোচনা ও কমিটির কাজ বোঝার সক্ষমতা/প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রস্তুতি।
- জনআস্থা ও নৈতিক মান: সহিংসতা/ঘৃণা/নারীবিদ্বেষী আচরণ থেকে দূরত্ব, শুদ্ধাচার ও দায়িত্বশীলতা।
- অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি/আচরণ: যুব নারী, প্রান্তিক অঞ্চল, আদিবাসী, সংখ্যালঘু, ও প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতিনিধিত্বে বাস্তব অগ্রাধিকার।
৩। গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নারীদের অর্থবহ সদস্যপদ নিশ্চিতকরণ, যোগ্যদের ক্ষেত্রে কমিটির সভাপতি/উপ-সভাপতি/সাব-কমিটির নেতৃত্বে নারী প্রতিনিধিদের সুযোগ, এবং সংসদে প্রশ্ন, নোটিশ, বিল-পর্যালোচনা, বাজেট আলোচনায় নারী এমপিদের সক্রিয় নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
৪। সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত নারী এমপিদের ভূমিকা কার্যকর করার জন্য দলগুলোকে সংসদীয় নিয়ম, বিল বিশ্লেষণ, বাজেট, কমিটি-ওয়ার্ক বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, নারী রাজনীতিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং অনলাইন ও অফলাইন হয়রানি মোকাবিলায় দলীয় প্রটোকল নিশ্চিতে কাঠামোগত উদ্যোগ নিতে হবে।
আমরা প্রত্যাশা করছি আপনারা -
- সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের রোডম্যাপ (নীতিগত অবস্থান ও সময়ভিত্তিক উদ্যোগ) ঘোষণা করবেন;
- বর্তমান কাঠামোতে, মনোনয়নে লিখিত নীতিমালা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন;
- সংরক্ষিত আসনকে প্রতীকী পদ হিসাবে না দেখে বাস্তব ক্ষমতায়নের জায়গা করবেন;
- নারী সংসদ সদসদের স্ট্যান্ডিং কমিটি ও নেতৃত্বে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করবেন;
- নারী সংসদ সদস্যদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ চালু করবেন।
আপনাদের কাছ থেকে আমরা অনুরোধ করছি, এই চিঠিতে উত্থাপিত সুপারিশগুলোর বিষয়ে দলীয় অবস্থান/অঙ্গীকার লিখিতভাবে বা জনসম্মুখে জানাবেন।
বিনীত,
নারী আন্দোলন, নাগরিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীদের পক্ষে (বর্ণক্রম অনুসারে),
ক্ষুব্ধ নারী সমাজ
গণসাক্ষরতা অভিযান
দুর্বার নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন
নাগরিক কোয়ালিশন
নারী উদ্যোগ কেন্দ্র (নউক)
নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা
নারী সংহতি
নারীপক্ষ
নারীর ডাকে রাজনীতি
ফেমিনিস্ট অ্যালায়েন্স অফ বাংলাদেশ (ফ্যাব)
বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র
ভয়েস ফর রিফর্ম
নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম
Forum for Women's Political Rights (FWPR)
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৮৫ জন নারী প্রার্থীর প্রতি নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানাই। এই নির্বাচনে ৭ জন বিজয়ী হয়েছেন, যার মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে এবং ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে আমরা বিজয়ী সকল নারী সংসদ সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে আমরা মনে করি, যারা বিজয়ী হতে পারেননি, তাঁদের রাজনৈতিক সাহস, অধ্যবসায় এবং সংগ্রামও সমানভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তবে একই সঙ্গে আমাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে যে, ৩০০ আসনের বিপরীতে মাত্র ৮৫ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যা মোট প্রার্থীর তুলনায় অত্যন্ত কম। উল্লেখ্য যে, এরমধ্যে মাত্র ৬৬ জন দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন এবং ১৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। ৩০০ আসনের প্রেক্ষাপটে এই অংশগ্রহণ নারীর সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার রাজনৈতিক দলসমূহ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বারবার ব্যক্ত করা হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর মধ্যেও মাত্র ৭ জনের বিজয় প্রমাণ করে যে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখনও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, দলীয় মনোনয়নে বৈষম্য, অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক মনোভাবের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে নারী প্রার্থীরা অনলাইন ও অফলাইন হয়রানি, অপপ্রচার, ভয়ভীতি এবং সহিংসতার ঝুঁকির মুখে পড়েছেন, যা তাঁদের রাজনৈতিক সক্ষমতা ও সমান প্রতিযোগিতার সুযোগকে প্রভাবিত করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামোতে নারীর সীমিত উপস্থিতি এবং সাধারণ আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে অনীহা নারীর প্রতিনিধিত্বকে আরও সংকুচিত করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম সরকারের কাছে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে:
১. সাধারণ আসনে নারীর মনোনয়ন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নীতিগত বাধ্যবাধকতা প্রণয়ন, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো ন্যূনতম নির্ধারিত শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে বাধ্য হয়।
২. নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা, নির্বাচনী সহিংসতা ও অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৩. দলীয় কাঠামো ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, যাতে নারীরা কেবল প্রতীকী নয়, কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
৪. রাজনৈতিক অর্থায়নে সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ, নারী প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী তহবিল ও সহায়তা কাঠামো শক্তিশালী করা।
৫. নির্বাচনী সহিংসতা ও জেন্ডারভিত্তিক রাজনৈতিক সহিংসতার পৃথক মনিটরিং ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করা।
আমরা বিশ্বাস করি, নারীর প্রতিনিধিত্ব কেবল সংখ্যার বিষয় নয়, এটি গণতন্ত্রের গুণগত মানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নারীর সমান অংশগ্রহণ ছাড়া একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
বিজয়ী নারী সংসদ সদস্যদের আমরা আহ্বান জানাই, তাঁরা যেন সংসদে নারীর অধিকার, সমান প্রতিনিধিত্ব ও নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম ভবিষ্যতেও নারীর সমান রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তার গবেষণা, অ্যাডভোকেসি ও নীতিগত উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
#নারীররাজনৈতিকঅধিকারফোরাম
১২ জানুয়ারি, ২০২৬
ভিডিও সংগ্রহ: breakingnews .com
12/01/2026
নির্বাচনে ৫১ দলের ৩০টিতেই নেই নারী প্রার্থী নির্বাচনে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ন্যূনতম প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি বলে অ....
12/01/2026
আজ, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
আলোচনার বিষয় - নারী প্রার্থী মনোনয়নের সংকট: দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের ব্যবধান এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা।
আমরা আমাদের সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছি যে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০৯ জন অর্থাৎ মাত্র ৪.২৪ শতাংশ নারী। তাদের মধ্যে ৭২ জনকে বিভিন্ন দল মনোনীত করেছে, বাকি ৩৭ জন স্বতন্ত্র, এর মানে প্রায় ৩৪% নারী দলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রয়াস নিয়েছেন, যা দলগুলোর “যোগ্য নারী নেতৃত্ব নেই” যুক্তিকে দুর্বল করে এবং দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কাঠামোগত বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়।
কোনো রাজনৈতিক দলই ১০ জনের বেশি নারীকে মনোনয়ন দেয়নি, যা অন্তর্ভুক্তির তথাকথিত উদ্যোগ কতটা সীমিত ও প্রতীকী—তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এর ধারা ২২(খ)-(ঘ) অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে সংসদীয় নির্বাচনে ন্যূনতম ৫% নারী প্রার্থী মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৩৩%–এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। অথচ খোদ নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে - আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টিরই কোনো নারী প্রার্থী নেই— এই পরিসংখ্যান এক বিশাল ভারসাম্যহীনতা তুলে ধরছে।
এ প্রেক্ষাপটে নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম এর দাবি -
১। জুলাই সনদে নারীর মনোনয়নে ক্ষেত্রে ন্যূনতম ঐক্যমত্যে রাজনৈতিক দলগুলো এসেছিলো, তাতে কেন সকল রাজনৈতিক দলগুলো ব্যর্থ হলো সে বিষয়ে অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে জবাবদিহি করতে হবে
২। নারীর রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণে যে কোনো নির্বাচনী নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
৩। রাজনৈতিক দলসমূহকে নারী প্রার্থী মনোনয়নকে কোনো অনুগ্রহ বা প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে না দেখে জুলাই সনদে দেওয়া ন্যূনতম প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের দায় নিতে হবে।
৪। দলের ভেতরে নারীর রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে এটিকে গণতান্ত্রিক দায়িত্ব ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে বিবেচনা করে দলীয় কার্যক্রম, মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও নেতৃত্ব বিকাশে বাস্তব ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে।
আমরা, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতিতে বাংলাদেশের নারীর অংশগ্রহণে সকল মহলের অবস্থান, সদিচ্ছা এবং পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবো এবং সে প্রেক্ষিতে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নারীর রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতে সকল রাজনৈতিক দলের নারী কর্মীদের সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক বলয় কীভাবে তৈরি করা যায় সে বিষয়ে কাজ করবো।
একইসঙ্গে দলীয় মনোনয়নে নারী রাজনৈতিক কর্মীরা যাতে সরাসরি নির্বাচন করতে পারেন সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে সংরক্ষিত আসনে প্রত্যক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবিতে FWPR ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে। তাই ৫% নারী প্রার্থী মনোনয়ন নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তাৎক্ষণিক ন্যায্যতার ন্যূনতম দাবি; এর নিচে কোনো অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়।
18/10/2025
জুলাই জাতীয় সনদে বাংলাদেশের নারীর আকাঙ্ক্ষা নিদারুণভাবে অনুপস্থিত!
16/10/2025
আগামীকাল ১৭ অক্টোবর, জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে যেখানে নারীদেরকে অনুপস্থিত রাখা হয়েছে, সেখানে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ পাওয়ায় আমাদের মাঝে মিশ্র অনুভূতি কাজ করে। নারীর উপস্থিতি বরাবরের মতো কি শুধুই আলংকারিক কারণেই চাওয়া হবে? গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের একটি তাৎপর্যপূর্ণ নীতি নির্ধারনী কাজে নারীদের বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় আমাদের ফোরাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং সর্বোপরি পরিস্থিতির উপর এই প্রতিবাদলিপিটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও প্রেসে পাঠিয়েছে।
নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের প্রতিবাদলিপি:
জাতীয় জুলাই সনদ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী নাগরিকের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। কিন্তু এই সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগতভাবে দেশের জনগোষ্ঠীর ৫১ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকে অগ্রাধিকার না দেয়া, এবং একই সঙ্গে অন্যান্য সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না করার অবধারিত পরিণাম যা হওয়ার কথা ছিল, ঠিক তাই হয়েছে – জুলাই সনদ সকলের হয়নি। ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বাছাইয়ে নারীর প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনসহ, শ্রম, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্যবৃন্দ বা সুপারিশমালাকে এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক সুযোগ, যা সরকারি নির্দেশমালার (Terms of Reference) দোহাই দিয়ে হেলায় হারানো হলো। আলোচনা প্রক্রিয়ায় আহ্বান করা হলো শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলিকে, এবং সেখানেও নারীর অংশগ্রহণকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি– সত্যিকার সদিচ্ছা থাকলে প্রত্যেক রাজনৈতিক দল থেকে এক তৃতীয়াংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যেত।
নাগরিক পরিসর থেকে নানানভাবে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে অনেকগুলি যৌক্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ ঐকমত্য কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অক্টোবর ২০২৫-এ প্রকাশিত জুলাই জাতীয় সনদে নারীর অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে কোনো বাস্তব পরিবর্তন আনা হয়নি। এই সনদে বাংলাদেশের নারীর আকাঙ্ক্ষা নিদারুণভাবে অনুপস্থিত। তাই আমরা এই সনদকে প্রত্যাখান করছি, এবং সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর এ ন্যাক্কারজনক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলো নারীর সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব উপেক্ষা করেছে, ভবিষ্যতের জন্য কোনো অঙ্গীকার রাখেনি, এবং মাত্র ৫ শতাংশ দলীয় মনোনয়ন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়ে ২০৪৩ সাল পর্যন্ত সময়ক্ষেপণের পথ বেছে নিয়েছে। এটি কেবল হতাশাজনক নয়, এটি নারীর নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক সমতার দাবির প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা যা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে বাংলাদেশের নারী ভোটাররা এ বৈষম্যের জবাব দিবে।
আমরা স্পষ্টভাবে আবারও আমাদের দাবিগুলি উল্লেখ করতে চাই —
● রাজনৈতিক দলে ন্যূনতম ৩৩% নারী প্রার্থী মনোনয়ন বাধ্যতামূলক করা , যা পর্যায়ক্রমে ৫০%-এ উন্নীত হবে;
● কেবল ২০২৬ সালের নির্বাচনেই সাময়িক বিশেষ বন্দোবস্ত হিসেবে সংরক্ষিত ১০০ আসনে নারীদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন নিশ্চিত করা;
● জুলাই সনদে এমন একটি ধারা যুক্ত করা যাতে ২০২৫-এর পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নারীর অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন যাতে ভবিষ্যতের সংসদ অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।
আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, আমাদের কোনো দাবিই গৃহীত হয়নি। জাতীয় জুলাই সনদ নারীর নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে আরও সংকুচিত করেছে, এবং রাজনৈতিক দলে নারীর প্রতিনিধিত্বের লক্ষ্যমাত্রাকে ২০৩০-এরও পেছনে ঠেলে দিয়ে পশ্চাদপদ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই অবস্থায় চূড়ান্ত সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।
এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; এটি আমাদের নীতিগত অবস্থান ও নারীর রাজনৈতিক সমানাধিকারের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন, এবং পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো জিইয়ে রাখার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ।
আমরা, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম, এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অঙ্গিকার ঘোষণা করছি এবং দাবি জানাচ্ছি-
জুলাই সনদ অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করে নারীর সরাসরি নির্বাচনের রোডম্যাপ ও দলীয় অন্তর্ভুক্তির বাধ্যতামূলক কাঠামো সংযোজন করতে হবে।
আমাদের এই দাবি আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে; বাংলাদেশের নারীরা তাদের ন্যায্য রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে সামনের দিনে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলির সাথে তাদের মত বিনিময়, রাজনৈতিক দল ও সরকারের সাথে দরকষাকষি ও আলোচনা চালিয়ে যাবে। সত্যিকার ন্যায্যতা ও বৈষম্যহীন প্রতিনিধিত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বাংলাদেশের নারীরাই।
13/10/2025
আগামী ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
আমরা জুলাই সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাই। এটি জাতীয় ঐকমত্য তৈরির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের ধারাবাহিক আলোচনায় নারীকে অদৃশ্যকরণের দায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর উপরে বর্তায়। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—নারীর প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে আমাদের প্রস্তাবগুলো কেবল নারীর অধিকারই সংরক্ষণ করবে না, বরং ভবিষ্যৎ সংসদকে একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা দিবে—যাতে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও নারী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নারীর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।
বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে মত বিনিময়ের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে আমাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলি সত্যিকারভাবে কতটা জনসম্পৃক্ত এবং সত্যিকারভাবে কতখানি তাঁরা জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়িত করা এবং বৈশ্বিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের মানুষকে গড়ে তোলার বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা সম্প্রতি বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের গবেষণা থেকে দেখেছি যে দেশের মাত্র ১২% নাগরিক মনে করেন যে বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলি জনগণের চাহিদা ও সমস্যার প্রতি মনযোগ দিচ্ছে। অর্থাৎ প্রায় ৯০ ভাগ জনগণ মনে করেন না যে রাজনৈতিক দলগুলি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবেন। এই বাস্তবতায় জুলাই সনদ চূড়ান্ত হতে চলেছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে। সাময়িক বন্দোবস্ত হিসেবে সংসদে সংরক্ষিত আসনে নারীর সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসার বিষয়টি জুলাই সনদ থেকে বাদ পড়লে তাতে জনগণ এই বিষয়ে তাদের মতামত জানানোর সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবেন। আমরা জানি যে রাজনৈতিক দলগুলির এক অংশ এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আমরা নানান জনমত জরীপের ফলাফল থেকে জানি যে বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক সংসদে নারীদের সরাসরি নির্বাচনের পক্ষে (বিবিএস-এর জরীপ অনুযায়ী ৭৪%, বিইআই-এর গবেষণা অনুযায়ী ৯১%)। তাই আমরা দৃঢ়ভাবে দাবী জানাতে চাই যেন কতিপয় রাজনৈতিক দলের আপত্তির চেয়ে জনগণের ইচ্ছাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংরক্ষিত আসনে নারীর প্রতিনিধিত্ব সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে করার বিষয়টি জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। জনগণ এ বিষয়ে তাদের রায় জানানোর সুযোগ পাক।
- নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম কর্তৃক গত ৯ অক্টোবর আয়োজিত সম্মেলন “সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীরা কোথায়? – জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্বের দাবীতে সম্মেলন” এ আমাদের কি-নোট বক্তব্যের একটি অংশ।
10/10/2025
সম্মানিত অতিথি, বক্তা, অংশগ্রহণকারী ও সহযোগীদের প্রতি নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম এর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
আপনাদের উপস্থিতি, মূল্যবান মতামত ও উৎসাহ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং আমাদের গতকালের সম্মেলনকে সফল করেছে।
এটি শুধু একটি ইভেন্ট নয়; এটি নারী নেতৃত্ব ও সমান রাজনৈতিক অধিকারের পথে আমাদের সম্মিলিত যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
আমরা বিশ্বাস করি, একসাথে আমরা এগিয়ে যাব এমন এক রাজনীতির পথে, যেখানে নারী কণ্ঠ আরও দৃশ্যমান ও বলিষ্ঠ হবে এবং নারী তার যোগ্যতা ও নেতৃত্বের শক্তিতেই সংসদে সমান প্রতিনিধিত্ব অর্জন করবে।
কিছু ছবি আমাদের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের সৌজন্যে সংগৃহীত।
08/10/2025
সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীরা কোথায়? – জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্বের দাবীতে সম্মেলন
স্থান: কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ
তারিখ: ০৯ অক্টোবর, ২০২৫, বৃহস্পতিবার
সময়: দুপুর ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা
Click here to claim your Sponsored Listing.
