The Daily Bangladesh Arthonitee.bd

The Daily Bangladesh Arthonitee.bd

Share

সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্ত জাতীয় দৈনিক, প্রিন্ট অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া 🇧🇩

Photos from The Daily Bangladesh Arthonitee.bd's post 01/06/2026

তোফায়েল আহমেদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

অনলাইন ০১ জুন ২০২৬,
উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)।
gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সোমবার (১ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
তোফায়েল আহমেদ ৯ বার জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৌলভী আজহার আলী ও মা ফাতেমা বেগম। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও একমাত্র সন্তান ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীকে রেখে গেছেন।
অ্যাকাডেমিক জীবনে ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি সম্পন্ন করেন।
রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের হাতেখড়ি হয় ছাত্রলীগের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইকবাল হলের (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

১৯৬৮-৬৯-এ গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কারণে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার।
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সেই বছরেরই ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ।
প্রথমবারের মতো ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় লাভ করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন।
দেশ স্বাধীনের পরের বছর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নিজের জেলা ভোলা থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।
রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সাল থেকে টানা ৩৩ মাস-সহ অসংখ্যবার কারাভোগ করেন এই নেতা।

Photos from The Daily Bangladesh Arthonitee.bd's post 30/05/2026

রাজস্ব তহবিল থেকে আসিফ ১৫ ও হাসনাত ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন: কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক
কুমিল্লা অনলাইন ৩০ মে, ২০২৬
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া। আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া। আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতেছবি: প্রথম আলো
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। একই সঙ্গে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি এই কর্মসূচির আয়োজন করে। মোস্তাক মিয়া বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিকের পদে রয়েছেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের নিজস্ব রাজস্বের টাকা ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। আরেকজন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি নিয়ে গেছেন ১০ কোটি টাকা। এটা হলো সমন্বয়ের অবস্থা। তাঁরা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে সেটা ছিল না।’
মোস্তাক মিয়া আরও বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ সরকার আপনাদের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী, তিনি এই সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ধ্বংস হওয়া অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য আজ আমাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করছেন। তাঁর কাঁধে দায়িত্বে পড়েছে—যেই অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল, এটাকে পুনরুদ্ধারের জন্য। সেটা নিয়ে উনি কাজ করছেন।’
আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহ কীভাবে রাজস্ব তহবিল থেকে টাকা নিয়েছেন, তা জানতে অনুষ্ঠানের পর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী ফোনটি ধরে বলেন, মোস্তাক মিয়া একটি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত রয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন।
উপজেলার বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ
সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ
সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহছবি:
জেলা পরিষদ প্রশাসকের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রথম বলেন, ‘জেলা পরিষদের প্রশাসক যে কথা বলেছেন, তিনি সেটি দ্বারা উপজেলার জন্য বাজেট নেওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। আর উপজেলার জন্য বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বাজেট তো কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না। দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে।’
দেবীদ্বার উপজেলাকে কোন কোন খাতে, কোন কাজে টাকা দেওয়া, সে তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে আছে জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘উপজেলাও সে টাকা কোন খাতে কত টাকা, কোথায় খরচ করেছে, সে হিসাব আছে। তারা সেটি প্রকাশ করুক।’
উপজেলার উন্নয়নের জন্য সবকিছু করতে রাজি আছেন জানিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার উপজেলার মানুষের জন্য কোথাও যদি কোনো কিছু ভিক্ষা চাইতে হয়, সেটি নিয়েও আমার আপত্তি নাই। কারণ, আমি তো আমার জন্য চাচ্ছি না। আমি মানুষের জন্য চাচ্ছি।’ হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবীদ্বার উপজেলাকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে, টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উনি বলেছেন, রাজস্ব খাত থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি তো রাজস্ব খাতের বরাদ্দ নয়, এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ।’
‘জাতির দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান’
কুমিল্লার আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত জাতির প্রতিটি দুঃসময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জাতির হাল ধরেছেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক। তাঁর জীবনাদর্শ, সততা, দায়িত্ববোধ ও জনগণমুখী রাজনীতি দেশের মানুষের কাছে আজও অনুকরণীয়। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারীদের আচরণ, দায়িত্ববোধ, জনসম্পৃক্ততা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। জনগণ যেন তাঁদের কর্মকাণ্ডে শহীদ জিয়ার আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতিফলন দেখতে পায়, এ বিষয়ে নেতা–কর্মীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম। এতে বিএনপি, এর অঙ্গসংগঠনের নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

17/05/2026

এপ্রিলে ৪৬ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে সরকার
অনলাইন রোববার ১৭ মে ২০২৬
ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে গত এপ্রিলে ৪৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে সরকার। এ অর্থের বড় অংশই আবার ব্যয় হয়েছে এর আগে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে নেয়া ঋণ পরিশোধে।
মূলত কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আহরণ না হওয়ায় সরকারকে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। তাছাড়া অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে সরকারি ব্যয়ের গতি বাড়ার কারণেও এ সময় সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যায়। তবে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যয় মেটাতে ঋণ করার পুরনো কৌশল থেকে বের হয়ে আসার তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, এ বছরের মার্চে সরকার ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ৩৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। এক মাসের ব্যবধানে গত এপ্রিলে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে সরকারের নেয়া অর্থের পরিমাণ ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৪৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এর আগে ইস্যু করা ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। ফলে এপ্রিলে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে সরকারের নেয়া নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকায়।
ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ বাড়ার কারণে গত এপ্রিলে এর সুদের হারও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের তুলনায় শেষ সপ্তাহে ৯১ দিন, ১৮২ দিন ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার বেড়েছে। এর মধ্যে ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার ৯ দশমিক ৮৮ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ১৮২ দিন মেয়াদি বিলের সুদহার ১০ দশমিক শূন্য ২ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়েছে এবং ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার ১০ দশমিক শূন্য ৮ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে সরকারি ব্যয়ের গতি ক্রমেই বাড়তে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবে এ সময়ে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণও বেড়ে যায়। যার প্রতিফলন দেখা গেছে গত এপ্রিলে। ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে সরকারের নেয়া ঋণের পরিমাণ বাড়ায় গত এপ্রিলে এ খাতের সুদহারও ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে সরকার যে অর্থ সংগ্রহ করেছে তার বেশির ভাগই এসেছে ব্যাংকের কাছ থেকে। উচ্চ সুদের কারণে ভালো মুনাফা আসায় ব্যাংকগুলোও বর্তমানে বেসরকারি খাতের চেয়ে সরকারকে ঋণ দিতেই বেশি আগ্রহী। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি শেষে দেশের ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নেয়া ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে তা ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকায় ঠেকেছে। সে হিসাবে এক্ষেত্রে এক বছরের ব্যবধানে সরকারের ঋণ স্থিতি ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা বেড়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। যেখানে দেশের বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি এখন মাত্র ৬ শতাংশ।
অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যে ঋণ নিচ্ছে তার মূল সুবিধাভোগী হচ্ছে ব্যাংক। সহজে মুনাফা করার মাধ্যম হিসেবে ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করছে। অথচ ব্যাংকের মূল দায়িত্ব হচ্ছে ভালো গ্রাহক খুঁজে বের করে তাকে অর্থায়ন করা।’
ট্রেজারি বিল-বন্ডের ক্ষেত্রে শুধু ব্যাংক নয়, যেন সাধারণ মানুষও সুবিধা পেতে পারে সেদিকে নজর দেয়ার পরামর্শ দিয়ে সাবেক এ সিনিয়র সচিব আরো বলেন, ‘সরকারকে যদি ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নিতে হয় তাহলে সেটি জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করা উচিত। কোটার কারণে বর্তমানে ট্রেজারি বিল-বন্ডে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ সবচেয়ে বেশি। নিশ্চিত মুনাফার গ্যারান্টি থাকায় ব্যাংকগুলো গ্রাহক খুঁজে ঋণ দেয়ার পরিবর্তে ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করতেই বেশি আগ্রহী। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ না আসার এটি একটি কারণ।’
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংক খাত থেকে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে এ ঋণ নেয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন তিন মাসে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে সরকার ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিতে চায়। এর মধ্যে ৯১ দিন মেয়াদি ৪৪ হাজার কোটি, ১৮২ দিন মেয়াদি ৩৬ হাজার কোটি ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ৩০ হাজার কোটি টাকার ট্রেজারি বিলের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি সপ্তাহের রোববার অনুষ্ঠিত এ বিলের নিলাম হবে ১২টি। সমসংখ্যক ট্রেজারি বন্ডের নিলামের মাধ্যমে আরো ৩৯ হাজার কোটি টাকার মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই বছর মেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে ১১ হাজার ৫০০ কোটি, তিন বছর মেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে ১ হাজার ৫০০ কোটি, পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে ৯ হাজার ৫০০ কোটি, ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেয়া হবে। এছাড়া ১৫ বছর মেয়াদি বন্ডে আরো ৩ হাজার ৫০০ কোটি ও ২০ বছর মেয়াদি বন্ডে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিতে চায় সরকার। সাধারণত প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ট্রেজারি বন্ডের নিলাম আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব মিলিয়ে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে সরকার ঋণ নিতে চায় ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকার।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল সরকার। যদিও অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে শুল্ক ও কর আহরণে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই-মার্চ সময়ে সংস্থাটি মোট ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আহরণ করতে পেরেছে। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সে অনুযায়ী নয় মাসে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকায়। মার্চে সংস্থাটির জন্য আহরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল ৬০ হাজার ৫০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ৩৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা আহরণ হয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ঋণ নিয়ে ব্যয়ের একটি অংশ মেটাতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। কিন্তু এর ফলাফল এ মুহূর্তে ভালো হবে না, কারণ এরই মধ্যে আমাদের মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ নিলে সেটি মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করবে। তাই এক্ষেত্রে সরকারকে সুচিন্তিতভাবে এগোতে হবে।’
ব্যয় মেটাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে ড. ফাহমিদা খাতুন আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার আগামী বাজেটে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছে। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে নতুন করদাতাদের করজালের আওতায় আনতে হবে। কর ফাঁকি রোধ ও আদায়ে দক্ষতা বাড়াতে এনবিআরের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। ঋণ নিলে সুদ পরিশোধ করতে হয় এবং এটিও একটি খরচ। তাছাড়া ঋণ বাড়লে সেটি অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। তাই ঋণ কমিয়ে অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।’
বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে বাকি ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে ৭২ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে কেবল ব্যাংক খাত থেকেই ৬৪ হাজার ৯২৩ কোটি টাকার ঋণ নেয়া হয়েছে। যেখানে গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিয়েছিল ১৫ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। আর ব্যাংকসহ অন্যান্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ৪০ হাজার ১৪৪ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল সরকার। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে বর্তমান সরকার চলতি মে মাসে এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ২৬ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ১১ মে অনুষ্ঠিত নিলামে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ১৩ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সুদহার ছিল ১০ শতাংশের বেশি। তাছাড়া এ সময়ে বিভিন্ন মেয়াদের ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে আরো ৭ হাজার ৫২১ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রেও সুদের হার ছিল ১০ শতাংশের ওপরে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের মোট ঋণ প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় ঋণ ১২ লাখ ৪৭ হাজার ১৫১ কোটি ও বিদেশী ঋণ ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার বা ১১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা ধরে)।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ট্রেজারি বিল-বন্ড ইস্যু করে সরকারকে ঋণের জোগান দেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব। আমরা সে দায়িত্বটিই পালন করছি। এক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ বা চাহিদা কত হবে, সেটি সরকার ঠিক করে। সরকারের চাহিদার আলোকে আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিল-বন্ডের নিলাম আয়োজন করে। আগে কেবল ব্যাংকসহ প্রতিষ্ঠানগুলো বিল-বন্ড কিনতে পারত। কিন্তু এখন সাধারণ ব্যক্তিও সরকারি সিকিউরিটিজ কিনতে পারছেন।’

17/05/2026

ড. ইউনূসের বিচার দাবিতে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ
অনলাইন : ১৪ মে, ২০২৬
হাম মহামারিতে শিশুমৃত্যুর জন্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচার দাবিতে ঢাকার আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন আইনজীবীরা।
গতকাল বিকালে মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের একাংশ অংশ নেন। উপস্থিত আইনজীবীরা ড. ইউনূস ও নূরজাহানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইউনিসেফের পক্ষ থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার টিকার প্রচলিত সংগ্রহপদ্ধতি পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্র (ওপেন টেন্ডার) পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফের অনুরোধ উপেক্ষা করায় দেশে হামের টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।
এজন্য ৪ শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
আয়োজকদের পক্ষে কায়েস আহমেদ অর্ণব নামে এক আইনজীবী বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নূরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শুধু হাম নয়, অন্যান্য টিকার ক্ষেত্রেও ওই সরকারের চরম গাফিলতি ছিল। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
’ কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে কয়েকজন আইনজীবী চোখে ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
কমিটি গঠনের দাবি এবি পার্টির : স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি তদন্তে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারকে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। একই সঙ্গে হামের টিকা কার্যক্রমে থাকা অসংগতিগুলো খুঁজে বের করারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি। গতকাল সকালে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বর্তমানে দুর্নীতির হাবে পরিণত হয়েছে।
প্রতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা যথাযথভাবে বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা করতে ব্যর্থ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। হামের টিকা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঢালাওভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না।
তার দাবি, আগের বছরগুলোতে টিকাদানের উচ্চহার দেখানো হয়েছিল। তাই বাস্তবে কোথায় এবং কীভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে, সেটি তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শেষ বাজেটে যেখানে ৪০০ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ ছিল, সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। টিকা সরবরাহও নিয়মিত আসছে, কোনো সংকট নেই।

17/05/2026

শাহ আলীর মাজারে হামলা: ৯ জনের নামে ও ১৫০ অজ্ঞাত জামায়াতকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩
অনলাইন: ১৭ মে ২০২৬
হামলাকারীরা মাজারের ভক্তদের গুরুতর জখম করে এবং মাজারের গাছের লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।
হামলাকারীরা মাজারের ভক্তদের গুরুতর জখম করে এবং মাজারের গাছের লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত হজরত শাহ আলী (র.) মাজারে হামলা ও অর্থ চুরির ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জন জামায়াতকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় শাহ আলী থানায় মামলাটি করেন মাজারের ভক্ত ও নিয়মিত দর্শনার্থী রেসমি বেগম (৪০)।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- মো. আলী আকবর (৪৮), মো. বাপ্পা (৩৫), মো. বাবু (৪৫), মো. কাউসার (২৬), আজম (৪০), শেখ মো. রাসেল (৩৮), কাজী জহির (৫২), মো. মিজান (৩৮) ও কাজী পনির (৫০)। তাদের সবাই শাহ আলী থানা এলাকার বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে শেখ মো. রাসেল ও আজম মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া আরমান দেওয়ান নামে আরও একজনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শাহ আলী মাজারে জিয়ারত করে আসছেন। গত ১৪ মে দিবাগত রাতে জিয়ারত ও মানতের সময় একদল ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে প্রবেশ করে দর্শনার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
এসময় হামলাকারীরা মাজারে থাকা ভক্তদের মারধর করে আহত করে এবং মাজারসংলগ্ন গাছের লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। পাশাপাশি মোমবাতির প্লেট ভাঙচুরের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগও করা হয়েছে।
বাদী জানান, তিনি হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং শ্লীলতাহানি ঘটায়। এক আসামি লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করে।
হামলাকারীরা মাজারের জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকার মতো চুরি করে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়

17/05/2026

শাহ আলী মাজারে হামলা: ভিডিও ফুটেজ দেখে জামায়াতের ৩ কর্মী গ্রেপ্তার
অনলাইন: ১৭ মে ২০২৬,
রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী মাজারে জিয়ারতকারী ও ভক্তদের ওপর বর্বর হামলার ঘটনায় নয়জনকে সুনির্দিষ্ট নামীয় এবং আরও ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), মো. আজম (৪০) এবং মো. আরমান দেওয়ান (২৯)। শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই তিনজনকে হামলায় সরাসরি অংশ নিতে দেখা গেছে এবং মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে ওসি জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী বলে জানতে পেরেছেন।
হামলায় গুরুতর আহত রেশমি বেগম নামের এক নারী ভক্ত বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান ৯ আসামি হলেন— মো. আলী আকবর (৪৮), মো. বাপ্পা (৩৫), মো. বাবু (৪৫), মো. কাউসার (২৬), মো. আজম (৪০), শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), কাজী জহির (৫২), মো. মিজান (৩৮) এবং কাজী পনির (৫০)। মামলার এজাহারে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে রেশমি বেগম বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শাহ আলী মাজার জিয়ারত ও ওরসের সময় ভক্তদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সহযোগিতা করে আসছেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে যখন মাজার প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ছিল, ঠিক তখন জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০০ থেকে ১৫০ জন নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটাসহ মাজারের প্রধান গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে আকস্মিক তাণ্ডব শুরু করে।
এজহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা মাজারের শিরনির ডেগের ঐতিহ্যবাহী লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষঙ্গ ভাঙচুর করে। এতে রেশমি বেগম বাধা দিতে গেলে তাকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং পরনের কাপড় ছিঁড়ে তার শ্লীলতাহানি করা হয়। এই হামলায় মাজারের প্রায় ৩০ হাজার টাকার জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে এবং হামলাকারীরা জিয়ারত করতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে বলে বাদী এজাহারে দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের চিরুনি অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।

16/05/2026

শাশুড়িকে ধর্ষণের অভিযোগে সাকিল ফকির,গ্রেপ্তার
অনলাইন
সাকিল ওরফে সাকিল ফকির
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ৬৬ বছর বয়সী শাশুড়িকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে ফয়েজ হক সাকিল ওরফে সাকিল ফকির (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৫ মে) রাতে নাসিক ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওমরপুর আইয়ুবনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সাকিল ফকির বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানার বড় বাড়িয়া এলাকার মো. জাহিদুল হক ফকিরের ছেলে। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর আইয়ুবনগর এলাকায় একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বৃদ্ধার মেয়ে প্রায় ছয় মাস ধরে দুবাই প্রবাসী। ওই নারী তার সাত বছর বয়সী নাতিকে নিয়ে ওমরপুর আইয়ুবনগর এলাকার তোফাজ্জল সাহেবের ১০ তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
একই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে থাকতেন অভিযুক্ত সাকিল এবং অন্য কক্ষে থাকতেন ওই বৃদ্ধা ও তার নাতি।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ মে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সাকিল ঘুম থেকে ডেকে শাশুড়িকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার পর লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে বিষয়টি গোপন রাখেন ভুক্তভোগী নারী।
পরবর্তী সময়ে প্রবাসী মেয়েসহ আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুম বিল্লাহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত সাকিলকে গ্রেপ্তার করেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ‘শাশুড়িকে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।

11/05/2026

ব্যাংকিং খাত লুটে জড়িতরা আবার ফিরলে নতুন বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে : বিএবি সভাপতি
অনলাইন১১ মে, ২০২৬ ডেশেয়ার
ব্যাংকিং খাত লুটে জড়িতরা আবার ফিরলে নতুন বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে : বিএবি সভাপতি
যারা অতীতে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও লুটপাটে জড়িত ছিল তারা আবার ফিরলে ব্যাংক খাতে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার। তিনি বলেন, ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধিত) আইনের ধারায় যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে গেছে, তাদের ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে—এ বিষয়টি নিয়ে আমরা ভয়ে আছি।
আজ সোমবার (১১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান সংগঠনটির সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এ কে আজাদ, ইউসিবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান এবং ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরী।
আব্দুল হাই সরকার বলেন, ‘সংশোধিত আইনের ধারায় যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে গেছে, তাদের ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে—এ বিষয়টি নিয়ে আমরা ভয়ে আছি। যারা অতীতে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা আবার ফিরে এলে, ব্যাংক খাতে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘কারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে গেছে, তা সাধারণ মানুষও জানে। তাই তাদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হলে ব্যাংকখাতের প্রতি জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে।
এতে নতুন করে সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের আরো গভীরভাবে ভাবা উচিত।’
বিএবি সভাপতি জানান, বৈঠকে গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, সংশোধিত আইনের ১৮(ক) ধারার শর্ত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করে সাবেক মালিকদের ফেরার সুযোগ হবে না। একই সঙ্গে পাঁচটি ব্যাংকের চলমান একীভূতকরণ প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আব্দুল হাই সরকার আরো বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। তাহলে সিদ্ধান্তগুলো আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর হতো।

11/05/2026

আইএমএফের আপত্তি সত্ত্বেও ভর্তুকি বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইন১১ মে ২০২৬ |
ভর্তুকি কমাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ থাকলেও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তির সময় ভর্তুকি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিবছরই এ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ মূল বরাদ্দ ছিল এক লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে এক লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে এ বরাদ্দ কমিয়ে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা করা হয়। সেই হিসাবে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় আগামী বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নেও অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন হবে।
২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার পর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিভিন্ন খাতে বেশি ভর্তুকি দেওয়া কঠিন হবে। যদিও এলডিসি উত্তরণে আরও তিন বছর সময় চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে জোরালো পরামর্শ দিয়ে আসছে আইএমএফ।
গত মাসে অনুষ্ঠিত আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার-সংক্রান্ত সমন্বয় কাউন্সিল ও সম্পদ কমিটির বৈঠকে এসব অঙ্ক চূড়ান্ত করা হয়। একই বৈঠকে ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার যৌক্তিকীকরণ নিয়ে আইএমএফের আপত্তি নিয়েও আলোচনা হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে আইএমএফ। পরে ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ঋণ পাওয়ার শর্ত হিসেবে বাংলাদেশ ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর অংশ হিসেবে জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নির্ধারণ শুরু হয় এবং ভর্তুকি কিছুটা কমানো সম্ভব হয়। তবে বিদ্যুৎ খাতে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এখনই এসব খাতে ভর্তুকি কমানো সম্ভব নয়। এ বিষয়গুলো নিয়ে আইএমএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আগামী অর্থবছরেও সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বিদ্যুৎ খাতে। এ খাতে ভর্তুকি বাবদ ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বাজেটেও একই পরিমাণ বরাদ্দ ছিল। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ আরও বাড়বে বলে সম্প্রতি অর্থ বিভাগকে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
এলএনজিতেও বাড়ছে
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অনেক বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়ও প্রয়োজনীয় এলএনজি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারকে স্পট মার্কেট থেকে দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
চলতি বাজেটে এ খাতে ছয় হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ থাকলেও গত এপ্রিল পর্যন্ত আট হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ বিভাগ। চলতি মাসেই আরও অন্তত চার হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে। আগামী বাজেটে এ খাতে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।
সারে ভর্তুকি ২৭ হাজার কোটি টাকা
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য সরকার সারের দাম বাড়াতে চায় না। এ জন্য আগামী বাজেটে সারে মোট ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যয় হবে ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা সরকারের অন্যান্য সার উৎপাদন ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যয় হবে। এই ১০ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ২৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি ‘অন্যান্য’ কোডে রাখা হচ্ছে।
অন্যান্য খাতে বরাদ্দ
স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সারাবছর চালু রাখার চিন্তা থেকে আগামী অর্থবছরে খাদ্য ভর্তুকি বাবদ ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বাজেটেও একই পরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে।
রপ্তানি প্রণোদনায় সাত হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, প্রবাসী আয় আনার জন্য সাত হাজার কোটি টাকা এবং পাটজাত দ্রব্যে প্রণোদনা বাবদ এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন দুর্বল প্রতিষ্ঠানকে নগদ ঋণ দেওয়ার জন্য মোট ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ মত
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, ভর্তুকি কমানো গেলে অর্থনীতির জন্য লাভজনক হবে। কারণ, সাশ্রয় হওয়া অর্থ অন্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্ব রাজনীতি ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সবকিছুর দাম বাড়ছে। দেশে মূল্যস্ফীতি গত মাসে ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতেও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে সব পণ্যের দাম বাড়ছে। এই অবস্থায় আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে স্বল্প আয়ের ও দরিদ্র মানুষের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে। তাই যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। গত প্রায় তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ভর্তুকি কমানোর ফলে বাড়তি চাপ তারা কতটা সহ্য করতে পারবে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তির সময় বর্তমানের মতো অনিশ্চয়তা ছিল না। তাই এখনকার বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেখানে জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের স্বার্থে প্রয়োজন হলে আগের সিদ্ধান্তও পরিবর্তন করা উচিত। মুস্তফা কে মুজেরি আরও বলেন, ভর্তুকির চাপ কমাতে শুধু দাম বাড়ানোই সমাধান নয়। বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, মিটার টেম্পারিং ও সিস্টেম লস কমাতে হবে। বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করা গেলে ভর্তুকির প্রয়োজনও কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো বা সরকার থেকে ভর্তুকি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। গত ১৫ বছরে এ খাতে যে ব্যাপক লুণ্ঠন হয়েছে, তা বন্ধ করতে পারলেই অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাঁর মতে, জ্বালানি খাতে যারা লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত, তারা ‘জ্বালানি অপরাধী’। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব হলে জ্বালানি খাতের অপরাধীদের বিচারও সম্ভব হওয়া উচিত। এ খাতের অনিয়ম ও লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address

85/1, Naya Paltan (4th Floor)
Dhaka
1000