30/05/2026
পিবিআই কর্তৃক নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আলোচিত মস্তকবিহীন আব্রাহাম হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারীকে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় কাতার থেকে গ্রেফতার; দেশে আনার পর আদালতে সোপর্দ, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি
গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সকালে আড়াইহাজার উপজেলার শ্রীনিবাসদী এলাকার একটি বালুর মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে মস্তকবিহীন এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ব্যক্তি রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার বাসিন্দা আব্রাহাম খান প্রকাশ আলিম খান (২৭)। এই ঘটনায় আড়াইহাজার থানার মামলা নং-১৪, তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত মামলা হওয়ায় পিবিআই স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই (নিঃ) মোঃ জাহিদ হোসেন রায়হান তদন্ত করছেন।
পিবিআই এর তদন্তে জানা যায় যে, নিহত আব্রাহাম খানের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত আসামি রাব্বির খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে আব্রাহাম তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন। এর জের ধরে রাব্বি, তার খালা এবং অন্যান্য সহযোগীরা মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার একদিন আগে বিদেশ থেকে গোপনে দেশে আসেন মূল পরিকল্পনাকারী মোবারক মন্ডল। পরে ১৫ ডিসেম্বর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আব্রাহামকে আড়াইহাজারে ডেকে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে তা গোপন করার চেষ্টা করা হয়, যাতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা না যায়। ঘটনার পর মোবারক মন্ডল পুনরায় বিদেশে পালিয়ে যান।
পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া ও ইন্টারপোলের সহায়তায় কাতারে তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং ইন্টারপোলের সহযোগিতায় অজ ২৭/০৫/২০২৬ ইং তারিখে
তাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
মামলার অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
20/05/2026
ফেসবুকে বিজ্ঞাপনে ভালো বেতনে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ মামলায় পিবিআই কর্তৃক মূল আসামীসহ মোট গ্রেফতার-০৩, আদালতে স্বীকারোক্তি
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গত ০১/১১/২০২৫ খ্রিঃ হতে ০১/০৩/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে সরাইল থানার মামলা নং-২২, তারিখ-১৫/০৩/২০২৬খ্রিঃ, ধারা- সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২২ দায়ের করেন।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার এসআই (নিঃ) মোঃ শাহাদাত হোসেন মামলাটি তদন্তভার গ্রহণ করে। গত ০১/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে চক্রের সক্রিয় সদস্য স্বপন কুমার রায় গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী স্বপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ১৭/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানা এলাকা থেকে সাইবার ও ভিসা প্রতারকচক্রের মূলহোতাসহ আরো ০২ জন মোঃ খাইরুল ইসলাম (২৪) এবং বিকাশ ডিএসও মোঃ জাবেদুল ইসলাম (৩৮) দ্বয়কে গ্রেফতার করে। এই নিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতারকচক্রের মূলহোতাসহ ০৩ জন আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায় যে, আসামীগণ একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রবাসীদের টার্গেট করে প্রতারণা চালায়। গ্রেফতারকৃত আসামী খাইরুল ইসলামকে মূল পলাতক আসামী প্রাণ ইসলাম বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘আরিফ মন্ডল’ ছদ্মনামে ভুয়া সফলতার ভিডিও তৈরি করায়। ওই ভিডিও ও পোস্ট ফেসবুকে বুস্ট করে অস্ট্রেলিয়ায় কম খরচে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। অপর আসামী জাবেদুল ইসলাম বিকাশ ডিএসও হিসেবে আত্মসাৎকৃত অর্থ ক্যাশ আউট ও অবৈধ লেনদেন গোপনে পরিচালনায় সহায়তা করে। তারা একই কায়দায় বর্ণিত মামলার বাদীর নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্নসাৎ করেছে। চক্রটি গত চার মাসে প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে। গ্রেফতারকৃত ০৩ জন আসামীই মামলার ঘটনায় সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে পিবিআই এর অভিযান অব্যাহত আছে।
মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।
20/05/2026
২৮ মামলার আসামী ‘চোরা মানিক’সহ ৩ জন পিবিআই ময়মনসিংহের জালে, হেরা মার্কেট থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার*
গত ২৯/০৪/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ১৮.১৭ ঘটিকায় ময়মনসিংহ শহরের হেরা মার্কেটের সামনে থেকে অজ্ঞাতনামা চোরেরা একটি সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি, নীল রংয়ের বাইক চুরি করে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম আলামিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ময়মনসিংহের কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৫৭, তাং-১৪/০৫/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩৭৯ পেনাল কোড ১৮৬০ রুজু হয়। জনাব মোঃ মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার, পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা মহোদয়ের নির্দেশে উক্ত চুরির ঘটনার ছায়া তদন্তকালে পিবিআই ময়মনসিংহ টিম ঘটনাস্থল হতে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে।
১৫/০৫/২০২৬ তারিখ ভোর ০৪.০৫ ঘটিকায় সন্ধিগ্ধ চোরা মানিক @ ফ্রিডম মানিক @মোঃ মানিক @ মোস্তাফিজুর রহমান মানিক চৌধুরী (৩৯) কে তার নিজ বাসা গৌরীপুরের সতিষা থেকে গ্রেফতার করা হয়। চোরা মানিকের দেয়া তথ্যমতে চোরাই মোটরসাইকেলটি নীল রং হতে কালো রং-এ পরিবর্তনকারী সোহেল (২৩) কে তার নিজ বাসা গৌরীপুরের শাহবাজপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। চোরা মানিক ও সোহেলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মোটরসাইকেলটি আশিক মিয়া (২৭) এর নিজ বাসা গৌরীপুরের পালান্দর থেকে জব্দ করা হয়।
20/05/2026
ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ীর পাওনা ৫০ হাজার ফেরত দিয়ে ঘটনাস্থলেই ছিনতাই এবং হত্যা; অজ্ঞাতনামা আসামীদের রিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তভার পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের নির্দেশ পেয়ে রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই নারায়ণগঞ্জ, ০৬(ছয়) এর মধ্যে ০২ (দুই) জনের স্বীকারোক্তি।
গত ১১/১১/২০২৩ তারিখ আলীগঞ্জ রেল লাইন সংলগ্ন মাছের খামারের পুকুরের পানিতে ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম (৩৯) এর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়। এ সংক্রান্তে ভিকটিমের চাচা জসীমউদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার মামলা নং- ২৪, তাং- ১১/১১/২০২৩ খ্রি:,ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন| থানা পুলিশ সূত্রোক্ত মামলাটি তদন্তকরাকালীন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর নির্দেশে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ এর উপর মামলা তদন্তের ভার ন্যস্ত হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান ।
তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম(১৯) হত্যাকান্ডের মূল আসামী মো: শান্ত হোসেন (২৭),ফতুল্লা, নারায়নগঞ্জকে গত ১৩/০৫/২০২৬খ্রি: আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে হত্যার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে এবং উক্ত হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্য আসামীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন তথ্য প্রদান করে।
তার দেওয়া তথ্য মতে ফতুল্লাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় গত ইং ১৪/০৫/২০২৬ তারিখে রাতভর অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর আসামী ২ নং মোঃ আহাদ আলী (২৩), ৩নং আসামী মোঃ রুবেল (৩২), ৪নং আসামী আশিক (২৩), ৫নং আসামী মোঃ জুম্মন (২৩) এবং ৬নং আসামী মোঃ জাহিদ হাসান শুভ (২৫) নারায়ণগঞ্জদেরকে আলীগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়|
তদন্তকালে জানা যায় যে, ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম গত ০৯/১১/২০২৩ তারিখ রাত্রি ২২:৩০ ঘটিকায় আলী সম্রাটের কথা মতো আলীগঞ্জ রেললাইন গেলে আলী সম্রাট ডিসিস্ট এর ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রথমে ফেরত দেয়। কিন্ত আলী সম্রাট এর পুর্ব পরিকল্পনামাফিক অত্র মামলায় গ্রেফতারকৃত ১নং,২নং,৩নং ,৪নং, ৫নং ও ৬নং আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম এর নিকট থেকে আলী সম্রাট এর দেয়া ৫০,০০০ টাকাসহ ডিসিস্ট এর নিকট থাকা আরো টাকা জোর করে ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে আসামিগন তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দ্বারা ডিসিস্ট আতিকুল এর পেটে, বুকে, ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য আলীগঞ্জ রেল লাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিন এর মাছের খামারের পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।
পুলিশ রিমান্ড শেষে ১৭/০৫/২০২৬ তারিখ সকল আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে মূল আসামী শান্ত এবং মোঃ আহাদ আলী(২৩) স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে সিআরপিসর ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে|
মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
20/05/2026
অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর নামে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ চক্রের আরও ২ সদস্য গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার দুজন—নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মো. খাইরুল ইসলাম (২৪) ও মো. জাবেদুল ইসলাম (৩৮)।
11/05/2026
স্ত্রীর প্রেমিক ভেবে ফুফাতো শ্যালককে হত্যা: গ্রেফতার ৩
‘নামে নামে জমে টানে’ প্রবাদ বাক্যটির সত্যতা মিলেছে নারায়ণগঞ্জে। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে নামের মিল থাকায়...
11/05/2026
জিএমপি পূবাইল থানার মেঘডুবি এলাকায় চা ও পান দোকানদার নারীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন , আসামী গ্রেফতার, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা ও একটি বাশের লাঠি উদ্ধার পূবর্ক জব্দ ও আদালতে আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী
শেফালী বেগম কুলসুম (৪৬) গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানাধীন মেঘডুবি (কড়ইটেক) এলাকায় নিজ বাসায় থেকে চা পানের দোকান করে এবং তিনটি রুম ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। গত ইং ২৬/০৪/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকা হতে রাত অনুমান ০৮.৩০ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় অজ্ঞাতনামা আসামীরা ধারালো অস্ত্র দ্বারা মাথায় ও মুখে এলোপাথারী কুপিয়ে হত্যা করে কৌশলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে এই সংক্রান্তে মৃতার মেয়ে ময়না আক্তার স্মৃতি বাদীনি হয়ে পূবাইল থানার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি রুজু হওয়ার পর জিএমপি পূবাইল থানা পুলিশ গত ২৭/০৪/২০২৬ তারিখ হতে ১২ দিন মামলাটি তদন্ত করে। থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই গাজীপুর জেলার একটি চৌকস দল ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য ছায়া তদন্ত অব্যাহত রেখে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামী ১। মোঃ কামরুজ্জামান (৩৫) কে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানাধীন রাজবল্লভ এলাকা হতে গত ইং ০৮/০৫/২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত ০৩.৩০ ঘটিকায়, আসামী ২। মোঃ আমজাদ হোসেন (৩০) কে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া একনাথ রামাকান্ত (খাস জমি) এলাকা হতে একই তারিখ দিবাগত রাত ০৪.৩০ ঘটিকায় এবং আসামী ৩। মোঃ আফজাল (৩৩) কে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া একনাথ রামাকান্ত (গুচ্ছ গ্রাম) এলাকা হতে একই তারিখ দিবাগত রাত ০৪.১০ ঘটিকায় গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি পিবিআই এর সিডিউলভূক্ত হওয়ায় স্ব—উদ্যেগে পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করে এবং এসআই সঞ্জিত বিশ্বাসকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ঘটনায় জড়িত আসামীরা এওয়ান (A1) পলিমার ফ্যাক্টরীতে লেবারের কাজ করে ভিকটিমের দোকান থেকে নগদ ও বাকীতে মালামাল নিত। পাওনা টাকা নিয়ে ডিসিস্ট এর সাথে আসামীদের মনোমালিন্য হয়। গত ২৩/০৪/২০২৬ তারিখে আসামী কামরুজ্জামান, মনোয়ার, আমজাদ ডিসিস্ট এর বাসায় টাকা ও স্বর্ণালংকার ডাকাতি করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘটনার আগের দিন গত ২৫/০৪/২০২৬ তারিখ রাতে আসামী মনোয়ার ডিসিস্ট এর দোকানে গিয়ে ডিসিস্টকে বলে তার একজন গার্লফ্রেন্ড আসবে, তাকে নিয়ে ডিসিস্ট এর বাসায় একটু খাওয়া দাওয়া ও টাইম পাস করবে। পরের দিন দু্পুর ২.০০ টার দিকে আসামী মনোয়ার ফল, স্পিড, বিস্কুট, চানাচুর ও ঘুমের ঔষুধ নিয়ে আসে । আসামী আফজাল মনোয়ারকে ঘরে ঢুকতে দেখে তার ভাই আমজাদকে জানায়। আসামী কামরুজ্জামান বাশের একটি লাঠি দিয়ে ডিসিস্ট এর মাথায় বারি মারলে ডিসিস্ট চিৎকার দেয়। পরে আসামী মনোয়ার পাশের রুম থেকে দা নিয়ে খাটের উপর উঠে ডিসিস্ট এর মুখসহ হাত ও পেটে এলোপাথারি কোপায়। এরপর আসামী কামরুজ্জামান ও মনোয়ার ডিসিস্ট এর ঘরের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করে ৩২৫০/—টাকা এবং লকারে গলার হার, টিকলি, চুরি, ছোট বাচ্চার হার, কানের দুল নিয়ে যাওয়ার সময় আসামী মনোয়ার রক্তমাখা দা বাথরুমে ধুয়ে পাশে রেখে পালিয়ে যায়।
ইং ০৯/০৫/২০২৬ তারিখ অপরাহ্নে গ্রেফতারকৃত আসামী ১। মোঃ কামরুজ্জামান (৩৫) ও ২। মোঃ আমজাদ হোসেন (৩০) দ্বয় ডিসিস্ট শেফালী বেগম কুলসুম (৪৬) কে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করতঃ নগদ টাকা ও গহনা চুরি করার দায় স্বীকার করে নিজেদেরকে জড়িয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত অপর আসামী ৩। মোঃ আফজাল হোসেন (৩৩) কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত উক্ত আসামীকে ০২(দুই) দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়াও উক্ত ঘটনায় ডিসিস্টকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা ও একটি বাশের লাঠি উদ্ধার পূবর্ক জব্দ করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।
08/05/2026
কুমিল্লায় রোড ডাকাতির ঘটনায় পিবিআই কর্তৃক ডাকাত গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার
গত ২৩/০৩/২০২৬ ইং মামলার বাদী যমুনা ও সেনা এলপি গ্যাসের স্থানীয় ডিলার মোঃ জহরুল হক হাওলাদার তার ব্যাক্তিগত প্রাইভেটকার যোগে ঢাকা থেকে লালমাই যাওয়ার পথে রাত অনুমান ৩:০০ ঘটিকা নাগাদ লালমাই থানাধীন কেশনপাড়া জ্যাতব্বল বৌদ্ধবিহার এর পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন ডাকাত মহাসড়কে গাছ ফেলে তাদের প্রাইভেট কারটি জোরপূর্বক থামাতে বাধ্য করে। পরে ডাকাতদলের সদস্যরা তাদের সাথে থাকা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে প্রাইভেট কারের গ্লাস ভেঙ্গে ব্যবসায়ী জহুরুল হক ও তার সাথে থাকা ড্রাইভার সাইফুল ইসলামদের জিম্মি করে তাদের সাথে থাকা নগদ ৯,২৫,০০০/- (নয় লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা ও চারটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ব্যবসায়ী জহুরুল হক হাওলাদার লালমাই থানায় একটি ডাকাতি মামলা রুজু করেন (লালমাই থানার মামলা নং-০৬, তারিখঃ ১৩/০৩/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩৯৫/৩৯৭, পেনাল কোড)।
থানা পুলিশের তদন্তকালে মামলার তদন্তে উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় মামলার বাদী গত ২৯/০৩/২৬ খ্রিঃ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করে পিবিতাই দ্বারা তদন্ত করার আবেদন করেন। বিজ্ঞ আদালত বাদীর
আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি তদন্ত কারার জন্য
পিবিআই কুমিল্লা জেলাকে নির্দেশ প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালতের আদেশ মোতাবেক পিবিআই, কুমিল্লা জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন কারে। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ০৬/০৫/২৬ খ্রিঃ ২০:১০ ঘটিকার সময় কুমিল্লার কোতয়ালী থানাধীন ক্যান্টনমেন্ট নিশ্চিন্তপুর এলাকা হতে ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত আসামী মোঃ একরাম হোসেন (৩২), পিতা-মোঃ গিয়াসউদ্দিন, সাং- ভূইশ্বর মধ্যপাড়া, থানা- সরাইল, জেলা- ব্রাহ্মনবাড়িয়া ও মোঃ শাহাজান মিয়া, পিতা- মৃত রব্বান মিয়া, সাং- বাঁশচর, থানা-নবীগঞ্জ,জেলা- হবিগঞ্জদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে লুন্ঠিত একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয় এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকা জব্দ করা হয়। ধৃত আসামী ইকরাম হোসেন নিজেকে জড়িত করে ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর ডাকাতদলের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
জড়িত ডাকাতদলের অপরাপর সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
07/05/2026
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ২০ লাখ টাকার ডাকাতি: ৪ বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি
২০২২ সালের ৯ এপ্রিল দিবাগত রাত তথা ১০ এপ্রিল ভোররাতে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন বাড়ৈই পাড়া এলাকায় ফারুক হাসানের বাড়িসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে। বাধা দিলে ফারুক হাসান, তার স্ত্রী, ভাই মাসুম ও চাচা গিয়াস উদ্দিন গুরুতর আহত হন; এ সময় মাসুম গুলিবিদ্ধ হন। একই রাতে খায়রুল বাশার ও তমিজ উদ্দিনের বাড়িতেও ডাকাতি সংঘটিত হয়। ঘটনায় সর্বমোট প্রায় ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুণ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফারুক হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা নং-৩৮, তারিখ: ১০/০৪/২০২২ খ্রি., ধারা ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোডে দায়ের করেন।প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ প্রায় ১০ মাস তদন্ত পরিচালনা করে। পরবর্তীতে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ০৬/০৩/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে মামলাটি পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলায় হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এসআই (নিঃ) মোঃ মফিজুর রহমান মামলাটির তদন্ত করছেন।
তদন্তকালে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য হোসেন মিয়া (৩৫) উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত। তাকে অন্য একটি মামলায় হাজতি অবস্থায় “শোন অ্যারেস্ট” দেখিয়ে এ মামলায় গ্রেফতার করা হয় এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তার দেওয়া গত তথ্যের ভিত্তিতে ৩০/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত আনুমানিক ১:৩০ ঘটিকায় রূপগঞ্জ থানাধীন বরপা উত্তর পাড়া বালুর মাঠ এলাকা থেকে ডাকাত দলের অপর সক্রিয় সদস্য মোঃ আজিজুল হক ভূইয়া ওরফে আজিজুল হককে গ্রেফতার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন এবং বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
জবানবন্দিতে পর্যালোচনায় জানা যায় ২০২২ সালের ৯/১০ এপ্রিল রাতে তিনি সংঘবদ্ধ ১৫-২০ জনের একটি পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য হিসেবে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ পরিকল্পিতভাবে ফারুক হাসান, খায়রুল বাশার ও তমিজ উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যান। এছাড়া, তিনি দলের অন্যান্য সদস্যদের অংশগ্রহণ, লুণ্ঠিত মালামাল ও হামলার কৌশল সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন।
উক্ত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।