Royal Bengal

Royal Bengal

Share

This page is about the history of Bengal, Wildlife and Agriculture and others.

01/06/2026

**'শাহানামা'** (রাজাদের মহাকাব্য) হলো পারস্যের (বর্তমান ইরান) জাতীয় মহাকাব্য, যা কবি **ফেরদৌসী** প্রায় ৩০ বছর সাধনা করে রচনা করেছিলেন। এটি মূলত প্রাচীন পারস্যের সৃষ্টিজগৎ থেকে শুরু করে সপ্তম শতাব্দীতে মুসলিম বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত পারসিক রাজাদের ইতিহাস, বীরত্ব এবং সংস্কৃতির এক বিশাল পদ্যরূপ।

সংক্ষেপে শাহানামার মূল কাহিনিকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
১. পৌরাণিক যুগ (Mythological Age)
কাহিনির শুরু হয় পৃথিবীর সৃষ্টি এবং পারস্যের প্রথম পেয়াদাদীয় (Pishdadian) রাজাদের মাধ্যমে। এই অংশে দেখানো হয় কীভাবে মানুষ আগুন জ্বালা, পশুপালন, এবং সভ্যতা গড়ে তুলতে শিখল। এই যুগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চরিত্র রাজা **জামশিদ**, যার অহংকারের পতনের পর অত্যাচারী নাগ-রাজা **জহহাক** পারস্য দখল করে। জহহাকের কাঁধ থেকে দুটি সাপ বের হতো, যাদের শান্ত রাখতে প্রতিদিন দুটি যুবকের মগজ খাওয়াতে হতো। অবশেষে কামার কাভেহ এবং রাজপুত্র ফেরেদুন মিলে জহহাককে পরাজিত করে পারস্যকে মুক্ত করেন।

২. বীরত্বের যুগ (Heroic Age)
এটি শাহানামার সবচেয়ে দীর্ঘ, আকর্ষণীয় এবং রোমাঞ্চকর অংশ। এই অংশের মূল কেন্দ্রবিন্দু পারস্যের শ্রেষ্ঠ বীর **রুস্তম**। রুস্তম এবং তার পিতা জালের বীরত্বের কাহিনি, তাদের বিশ্বস্ত ঘোড়া 'রাখশ' এবং রুস্তমের অলৌকিক ক্ষমতার গল্প এখানে বর্ণিত হয়েছে।
* **রুস্তম ও সোহরাবের ট্র্যাজেডি:** রুস্তমের জীবনের সবচেয়ে বেদনাবিধুর ঘটনা হলো তার নিজের পুত্র সোহরাবের সাথে যুদ্ধ। তারা একে অপরকে না চিনে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় এবং রুস্তম নিজের অজান্তেই তার মহাবীর পুত্র সোহরাবকে হত্যা করে। মৃত্যুর মুহূর্তে সোহরাবের হাতের তাবিজ দেখে রুস্তম বুঝতে পারেন যে সে তারই সন্তান। এই বিয়োগান্তক কাহিনি বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজেডি।

৩. ঐতিহাসিক যুগ (Historical Age)
এই অংশে এসে রূপকথা কমে বাস্তব ইতিহাসের ছোঁয়া পাওয়া যায়। এখানে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের (যাকে কাব্যে 'সেকান্দার' বলা হয়েছে) পারস্য জয়, আশকানিয়ান রাজবংশ এবং পরবর্তীকালে শাসানীয় (Sasanian) রাজবংশের উত্থান-পতনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। শেষভাগে, পারস্যের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং আরব মুসলিমদের কাছে শাসানীয় সাম্রাজ্যের পরাজয়ের মাধ্যমে মহাকাব্যটি শেষ হয়।

**মূল সুর:** শাহানামা কেবল যুদ্ধবিগ্রহের গল্প নয়; এটি আসলে ন্যায় ও অন্যায়ের চিরন্তন লড়াই, ভাগ্যের নির্মমতা, এবং রাজাদের উত্থান-পতনের এক দার্শনিক দলিল। ফেরদৌসী এই কাব্যের মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা পারস্যের ভাষা ও সংস্কৃতিকে চিরদিনের জন্য অমর করে গেছেন।

30/05/2026

**মহুয়া সুন্দরী** হলো ময়মনসিংহের এক প্রাচীন, করুণ ও অমর লোকগাথা। বেদের দলপতি হুুমরা বাইদ্যা কর্তৃক চুরি হওয়া এবং পরে এক জমিদারের পদাঙ্ক অনুসরণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই ট্রাজিক প্রেমের গল্পটি।

🎨 প্যানেল ১: চুরি যাওয়া শৈশব
**[ছবির বিবরণ]:** রাতের অন্ধকার। একটি কুঁড়েঘরের ভাঙা বেড়া দিয়ে এক ব্যক্তি একটি ছোট ফুটফুটে বাচ্চাকে কোলে তুলে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। দূরে চাঁদের আলো দেখা যাচ্ছে।
* **বর্ণনাকারী:** কাঞ্চনপুরের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নিয়েছিল এক পরমা সুন্দরী কন্যা। কিন্তু তার বয়স যখন মাত্র ছয় মাস, তখন ‘হুমরা বাইদ্যা’ নামের এক বেদেন দলপতি তাকে চুরি করে নিয়ে যায়।
* **হুমরা বাইদ্যা (মনে মনে):** "এই রূপসী মেয়ে বড় হলে আমাদের দলের সেরা বাজিগর হবে! এর রূপ আর গুণ আমাদের অনেক টাকা এনে দেবে।"
* **মহুয়ার সংলাপ (নেপথ্যে):** "আমি জানতাম না আমার আসল পরিচয়। হুমরাকেই বাবা মেনে আমি বড় হচ্ছিলাম..."

🎨 প্যানেল ২: যৌবনে পদার্পণ ও বামনকান্দার জমিদার
**[ছবির বিবরণ]:** নদীর তীরে একটি বড় বটগাছের নিচে বাঁশ এবং দড়ির ওপর খেলা দেখাচ্ছে এক রূপবতী তরুণী (মহুয়া)। তার পরনে বেদেনীদের সাজ। নিচে এক সুদর্শন যুবক হাতির পিঠে চড়ে মুগ্ধ হয়ে সেই খেলা দেখছে।
* **বর্ণনাকারী:** দিন যায়, মাস যায়। মহুয়া এখন ষোড়শী রূপসী। হুমরা বাইদ্যার দল খেলা দেখাতে দেখাতে এসে পৌঁছাল বামনকান্দা গ্রামে।
* **নদের চাঁদ (জমিদার):** "আহা! এ তো কোনো সাধারণ বেদেনী নয়, এ যেন স্বর্গের কোনো অপ্সরী নদীর তীরে নেমে এসেছে!"
* **মহুয়া (মনে মনে):** "হাতির পিঠে বসা ওই যুবকটি কেন এভাবে আমার দিকে চেয়ে আছে? আমার বুকটা এভাবে কাঁপছে কেন?"

🎨 প্যানেল ৩: জলঘাটের গোপন প্রেম
**[ছবির বিবরণ]:** ঘাটে কলসি কাঁখে জল নিতে এসেছে মহুয়া। নদের চাঁদ একটি গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মহুয়ার মুখে লজ্জা ও আনন্দের মিশ্রণ।
* **নদের চাঁদ:** "সুন্দরী, তোমার পরিচয় কী? তুমি জল নিতে আসো, নাকি আমার মন হরণ করতে আসো?"
* **মহুয়া:** "আমি বেদেনী মহুয়া। আপনি বামনকান্দার জমিদার নদের চাঁদ। আমাদের মাঝে কোনো মিল হতে পারে না, ঠাকুর। দয়া করে আমাকে পথ ছাড়ুন।"
* **নদের চাঁদ:** "জাত-পাত আমি চিনি না, মহুয়া। আমি শুধু তোমাকে চিনি।"

🎨 প্যানেল ৪: হুমরা বাইদ্যার ক্রোধ ও পলায়ন
**[ছবির বিবরণ]:** রাগান্বিত মুখে হুমরা বাইদ্যা তার তাঁবুর ভেতর মহুয়ার হাত ধরে ঝাঁকুনি দিচ্ছে। বাইরে অন্ধকার রাত। বেদেনীদের দল জিনিসপত্র গোছাচ্ছে।
* **হুমরা বাইদ্যা:** "কলঙ্কিনী! তুই জমিদারের ছেলের প্রেমে পড়েছিস? এটা জানাজানি হলে আমাদের জাত থাকবে না, জেলের ভাত খেতে হবে! আজ রাতেই আমরা এই গ্রাম ছেড়ে পালাব!"
* **মহুয়া (কেঁদে):** "বাবা, দয়া করো! আমাকে ওনার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যেও না!"

🎨 প্যানেল ৫: বিরহী নদের চাঁদের সন্ধান
**[ছবির বিবরণ]:** ধূলিধূসরিত পোশাকে, ক্লান্ত চুলে নদের চাঁদ বনের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলেছে। তার হাতে একটি লাঠি, চোখে উদভ্রান্তের মতো চাহনি।
* **বর্ণনাকারী:** মহুয়াকে না পেয়ে পাগলপ্রায় নদের চাঁদ ঘর-সংসার, রাজপ্রাসাদ সব ত্যাগ করল। সে সন্ন্যাসীর বেশে বনে বনে, গ্রামে গ্রামে মহুয়াকে খুঁজতে লাগল।
* **নদের চাঁদ:** "মহুয়া! তুমি কোথায়? আমাকে ছেড়ে তুমি ভালো আছ তো?"

🎨 প্যানেল ৬: মিলন ও বিষাদময় পরিণতি
**[ছবির বিবরণ]:** একটি গভীর অরণ্যের নদী তীর। হুমরা বাইদ্যার অনুচরেরা নদের চাঁদকে ঘিরে ধরেছে। হুমরা মহুয়ার হাতে একটি ধারালো বিষাক্ত ছুরি তুলে দিচ্ছে এবং নদের চাঁদকে দেখিয়ে দিচ্ছে। মহুয়ার চোখ দিয়ে জল পড়ছে।
* **হুমরা বাইদ্যা:** "যদি নিজের আর আমাদের ভালো চাস মহুয়া, তবে এই ছুরি দিয়ে ওই জমিদারের বুকের রক্ত এনে দে! ও আমাদের ধ্বংস করতে এসেছে!"
* **নদের চাঁদ:** "মহুয়া, তোমার হাতে মরতেও আমার আনন্দ। তুমি ছুরি চালাও।"
* **মহুয়া (চিৎকার করে):** "না! যে হাত দিয়ে তোমাকে ভালোবেসেছি, সেই হাত দিয়ে তোমার ক্ষতি করতে পারব না!"

🎨 প্যানেল ৭: অমর প্রেমের ট্র্যাজেডি
**[ছবির বিবরণ]:** মহুয়া নিজের বুকেই সেই বিষাক্ত ছুরিটি বসিয়ে দিয়েছে এবং সে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। নদের চাঁদ চিৎকার করে তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। পটভূমিতে হুমরা বাইদ্যার দল স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে।
* **মহুয়া (শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে করতে):** "ঠাকুর... এ জন্মে আমাদের মিলন হলো না... ওপারে আমি তোমার জন্যই অপেক্ষা করব..."
* **নদের চাঁদ:** "মহুয়া! আমাকে ছেড়ে যেও না! তুমি ছাড়া এই জীবনের কোনো অর্থ নেই!"
* **বর্ণনাকারী:** মহুয়ার মৃত্যুর পর শোকে ভেঙে পড়া নদের চাঁদকেও হুমরা বাইদ্যার লোকেরা হত্যা করে (কিংবা কোনো কোনো মতে সে নিজেই নিজের জীবন দেয়)। এভাবে নদী আর বনের নীরব সাক্ষী হয়ে রয়ে গেল মহুয়া ও নদের চাঁদের অমর প্রেমগাথা।

**নোট:** এই কাহিনীটি মূলত কবি দ্বিজ কানাই রচিত এবং ড. দীনেশচন্দ্র সেন কর্তৃক সম্পাদিত 'ময়মনসিংহ গীতিকা'-র অন্তর্গত একটি বিখ্যাত পালা।

28/05/2026

ইদ মুবারক। সবাইকে ইদ-উল-আজহা'র শুভেচ্ছা।

08/04/2026

সবাইকে ফুলের শুভেচ্ছা ❤️

06/04/2026

মানুষ বড় একা.......….....

দেশের গান// বাংলা বারো মাসের গান// যে গান শুনলে দেশের প্রতি ভালোবাসা জাগে//দেশাত্মবোধক গান// ২০২৬ 03/04/2026

Please follow and subscribe my YouTube channel 👇
https://youtube.com/-animation-d4n?si=WV2upxH5h6a-pj6b

দেশের গান// বাংলা বারো মাসের গান// যে গান শুনলে দেশের প্রতি ভালোবাসা জাগে//দেশাত্মবোধক গান// ২০২৬ ঋতুর খেয়ায় বারো মাসবৈশাখ এলো রুদ্র বেশে, ধুলোর ওড়না উড়িয়েজ্যৈষ্ঠমাসে ফলের ঘ্রাণে, মনটা যায় যে জুড়িয়ে।আষ....

02/04/2026

Good Morning Friends

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Dhaka