জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ

জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ

Share

জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ

প্রখ্যাত সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী আনোয়ার জাহিদ ঝিনাইদহ শহরের দাড়িয়া গোবিন্দপুর গ্রামে ১৯৩৫ সালে ১২ জুন জন্মগ্রহণ করেন। লেখাপড়া করেন ঝিনাইদহ উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়, দৌলতপুর বিএল কলেজ, রাজশাহী সরকারী কলেজে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এ ভর্তি হন। কিন্তু জেলে বন্দি থাকার কারণে এম. এ পরীক্ষা দিতে পারেননি।

একজন বামপন্থী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিকজীবন শুরু। ছাত্রজীবনে নিখিল পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র

10/10/2025

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার ৭২তম জন্মজয়ন্তী আজ

মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি ও আদর্শে এক আলোকবর্তিকা

ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০২৫ (শুক্রবার):
আজ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)-এর চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার ৭২তম জন্মজয়ন্তী।
১৯৫৩ সালের ১০ অক্টোবর পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা প্রয়াত খোন্দকার মুর্শিদুল হোসেন এবং মাতা প্রয়াত সালেহা মুর্শিদ ছিলেন সমাজে সৎচরিত্র, শিক্ষানুরাগ ও মানবিকতার প্রতীক।
মুক্তিযুদ্ধের সাহসী যোদ্ধা

কৈশোরেই তিনি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তরুণ বয়সে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মাতৃভূমির মুক্তির জন্য জীবন বাজি রাখা এই তরুণ যোদ্ধা যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে রাষ্ট্রগঠন, রাজনীতি ও সমাজবিকাশের চেতনায় নিজেকে নিবেদিত করেন।
শিক্ষা ও চিন্তার বিকাশ

স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭২ সালে ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন এবং পরবর্তীতে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি সমাজতন্ত্র, মানবিকতা ও গণতন্ত্রের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পড়েন।

জাসদ ছাত্রলীগ থেকে জাতীয় রাজনীতিতে

সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের উত্থানের সময় তিনি যুক্ত হন জাসদ সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগে।
১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মহসিন হল শাখা জাসদ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
দেশ ও সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রণী কর্মী। আন্দোলন–সংগ্রামে পাঁচবার কারাবরণ করেন তিনি— যা তাঁর আদর্শিক দৃঢ়তা ও নীতিনিষ্ঠার সাক্ষ্য বহন করে।

এনডিপি প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্বের পথচলা

১৯৮৯ সালে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনীতিক আনোয়ার জাহিদ- এবং শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান।
১৯৯০ সালে আনোয়ার জাহিদ দল থেকে পদত্যাগ করলে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন এবং পরবর্তীতে দলীয় কাউন্সিলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা–২ আসনে এনডিপির বাঘ প্রতীক নিয়ে প্রার্থীতা করেন, যেখানে তাঁর জনপ্রিয়তা তৃণমূল রাজনীতির দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে।
২০০৬ সালের এনডিপি কাউন্সিলে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এখনো দলকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
নীতিনিষ্ঠ, কর্মনিষ্ঠ ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির দৃষ্টান্ত

খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা সবসময় বলেছেন—

“রাজনীতি অর্থের নয়, আদর্শ ও মানুষের বিশ্বাসের লড়াই। রাজনীতি হতে হবে সেবার, ত্যাগের এবং মূল্যবোধের।”

তাঁর নেতৃত্বে এনডিপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন এক দল হিসেবে, যা অর্থায়ন নয়, কর্মে বিশ্বাসী।
তিনি রাজনীতিতে সততা, অধ্যবসায় ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে একজন আদর্শ রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অগ্রসৈনিক

তিনি ১/১১ সামরিক শাসিত সরকারের আমলে অন্যায়ভাবে কারাবন্দী হন, তবুও গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান থেকে সরেননি।
ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী এই নেতা সর্বদা বলেন—

> “সত্য রাজনীতি হলো ন্যায়, মানবতা ও বিশ্বাসের সম্মিলিত শক্তি।”

শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা এক বিবৃতিতে বলেছেন—

“ জননেতা খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা শুধু এনডিপির নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক জীবন্ত ইতিহাস। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্রচিন্তা ও নৈতিক রাজনীতির সমন্বিত প্রতীক। তাঁর চিন্তা, প্রজ্ঞা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের অনুপ্রেরণা।”

তিনি দলের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যানের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও অব্যাহত নেতৃত্বের সফলতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, মুক্তিযোদ্ধা, জাসদ ছাত্রনেতা ও আদর্শিক রাজনীতির ধারক খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা আজও বাংলাদেশের চিন্তা ও রাজনীতির জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় নতুন প্রজন্মের কাছে সাহস, সততা ও প্রজ্ঞার অনন্ত প্রেরণা হয়ে থাকবে।

09/09/2025

এনডিপির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : নতুন প্রত্যাশায় ভবিষ্যতের পথচলা

১৯৮৯ – ২০২৫, দীর্ঘ ছত্রিশ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা। বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের আবির্ভাব ঘটে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি–এনডিপির জন্মের মাধ্যমে। সময়টা ছিল ১৯৮৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধকে ধারণ করে ন্যায় বিচার, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে এনডিপির আত্মপ্রকাশ ঘটে।

প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও পথচলা

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জননেতা আনোয়ার জাহিদ ও প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ বহু পরীক্ষিত নেতৃত্বের হাত ধরে এনডিপির যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই দলটি গণমানুষের অধিকার, শ্রমিক শ্রেণির দাবি, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে। সময়ের প্রয়োজনে নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু আদর্শ থেকে দল কখনো সরে যায়নি।

বর্তমান চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক জাসদ ছাত্রনেতা ও কারা নির্যাতিত ব্যক্তিত্ব, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দলকে কালিমার হাত থেকে রক্ষা করে সুসংগঠিত করেছেন। তাঁর পাশে আছেন মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, যিনি তৃণমূল থেকে উঠে আসা একসময়ের ছাত্রনেতা, কারা নির্যাতিত মানবাধিকার সংগঠক এবং রাজনীতির মাঠে দৃঢ় কণ্ঠস্বর।

স্মরণ ও শ্রদ্ধা

৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এনডিপি প্রথমেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে দলের প্রয়াত নেতৃবৃন্দকে—প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আনোয়ার জাহিদ, শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আলমগীর মজুমদারসহ সকল প্রয়াত নেতা-কর্মীদের। পাশাপাশি ১৯৫২-এর ভাষা শহীদ, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, সাংবাদিক মেহেদী হাসানসহ সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। আহতদের দ্রুত সুস্থতা ও উন্নত চিকিৎসার দাবি জানায় এনডিপি।

জাতীয় প্রেক্ষাপটে এনডিপির অবস্থান

এনডিপি তার ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এমন এক সময় প্রবেশ করছে, যখন বাংলাদেশ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে দেশ চলছে, নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এনডিপি বিশ্বাস করে—রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার ছাড়া দেশের গণতন্ত্র টেকসই হবে না। ইতোমধ্যে গুম তদন্ত কমিশন গঠন ও জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

কর্মসূচি ও উদযাপন

৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এনডিপি গ্রহণ করেছে নানান কর্মসূচি:

সকাল ৭টা: জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন

বেলা ১২টা: আলোচনা সভা ও কেককাটা অনুষ্ঠান, স্থান—আনোয়ার জাহিদ মিলনায়তন, ১১৬/২ নয়াপল্টন, বক্স কালভার্ট রোড, ঢাকা

সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে আলোকসজ্জা

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করবেন এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, সঞ্চালনায় থাকবেন মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা। উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাজমুন নাহার মিনতি, এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া, অনামিকা আজমী, ভাইস চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ, আশরাফুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

ভবিষ্যতের প্রত্যাশা

এনডিপি নেতৃত্বের প্রত্যাশা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করবে, ন্যায় বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের পদক্ষেপ নেবে। দলটির অঙ্গীকার—অর্থায়নে নয়, বরং কর্ম ও আদর্শের ভিত্তিতে নেতৃত্ব বাছাই করা।

৩৬ বছরের এই পথচলায় এনডিপি যেমন লড়াই করে টিকে আছে, আগামী দিনগুলোতেও গণমানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে যাবে।

দুর্নীতি আর দুবৃত্তায়নের কারণে জনগনের আস্থা হারাচ্ছে : গোলাম মোস্তফা 13/08/2025

https://www.vodbangla.com/news/14654/QDhmysV2PC/

দুর্নীতি আর দুবৃত্তায়নের কারণে জনগনের আস্থা হারাচ্ছে : গোলাম মোস্তফা বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি - বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, দুর্নীতি আর দুবৃত্তায়নে...

সম্প্রসারণবাদ বিরোধী রাজনীতির পথিকৃৎ ছিলেন আনোয়ার জাহিদ ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে রাজনৈ 13/08/2025

সম্প্রসারণবাদ বিরোধী রাজনীতির পথিকৃৎ ছিলেন আনোয়ার জাহিদ ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে রাজনৈ ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদ বিরোধী রাজনীতির পথিকৃৎ, সব্যসাচী সাংবাদিক ও দেশবরেণ্য রাজনীতিক জননেতা আনোয়া....

দেশবরেণ্য রাজনীতিক ও সাংবাদিক, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার জাহিদের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার | Your Websit 13/08/2025

দেশবরেণ্য রাজনীতিক ও সাংবাদিক, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার জাহিদের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার | Your Websit বরেণ্য রাজনীতিক, সাংবাদিক ও সাবেক মন্ত্রী জননেতা আনোয়ার জাহিদের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী বুধবার (১৩ আগস্ট) যথায...

Photos from জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ's post 13/08/2025

সম্প্রসারণবাদ বিরোধী রাজনীতির পথিকৃৎ ছিলেন আনোয়ার জাহিদ
১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

ঢাকা, ১৩ আগস্ট ২০২৫:
ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদ বিরোধী রাজনীতির পথিকৃৎ, সব্যসাচী সাংবাদিক ও দেশবরেণ্য রাজনীতিক জননেতা আনোয়ার জাহিদের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় জনতা ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদের আয়োজনে বুধবার (১৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, সততা ও অবদান স্মরণ করেন উপস্থিত বক্তারা।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন লেখক, কলামিস্ট, জাতীয় জনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সেলিম খান, সাইদুর রহমান, জামাল সরকারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় আনোয়ার জাহিদের দেখানো পথে পথহারা রাজনীতিকে সংস্কার না করা গেলে রাজনীতি আবারো পথ হারাতে পারে, যার ফলে জুলাইয়ের অর্জন ছিনতাই হয়ে যেতে পারে। তাঁরা আনোয়ার জাহিদকে একজন সংগ্রামী জাতীয়তাবাদী নেতা, নির্ভীক সাংবাদিক এবং নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিক হিসেবে অভিহিত করেন, যিনি সারাজীবন জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি করেছেন এবং রাজনৈতিক জীবনে প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করলেও কখনো কটূক্তি বা অশালীন শব্দ ব্যবহার করেননি।

বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, দুর্নীতি ও দুঃবৃত্তায়নের কারণে রাজনীতি জনগণের আস্থা হারাচ্ছে, আর সুবিধাবাদী ও লুটেরা গোষ্ঠী রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যে বিভক্তি সৃষ্টি হওয়ায় রাজনীতিবিদরা পরিহাসের পাত্রে পরিণত হচ্ছেন, যা জাতির জন্য কল্যাণকর নয়। তিনি আরও বলেন, “উজান স্রোতের যাত্রী জননেতা আনোয়ার জাহিদ শেষ জীবনে তথাকথিত জাতীয়তাবাদী সুবিধাবাদী রাজনীতির শিকার হয়েছিলেন, কিন্তু কখনো তাঁর রাজনীতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। আমরা যখন রাজনৈতিক বিশ্বাসকে ক্ষমতার জন্য পদদলিত করি, তখন আনোয়ার জাহিদ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন রাজনীতির প্রকৃত সংজ্ঞা।”

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, আনোয়ার জাহিদের মতো মেধাবী ও দেশপ্রেমিক নেতাদের রাজনীতি থেকে ছিটকে দেওয়ার মাশুল আজও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দিতে হচ্ছে। তিনি মওলানা ভাসানী ও মশিউর রহমান যাদু মিয়ার পরবর্তী জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম স্বার্থক নেতৃত্ব ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে আঙুল উঠলেও, সততার উদাহরণ হিসেবে আনোয়ার জাহিদকে সামনে আনা যায়।

এনডিপি মহাসচিব ও আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদের সমন্বয়কারী মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, “আনোয়ার জাহিদ আমাদের ছেড়ে গেছেন অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে। তিনি সারাজীবন নীতির সাথে আপস না করে, জাতীয় ঐক্যের জন্য কাজ করেছেন। তাঁর আদর্শ আমাদের জন্য চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

বক্তারা একসঙ্গে আহ্বান জানান, নীতিনিষ্ঠ, দেশপ্রেমিক ও আদর্শবান রাজনীতিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁদের আদর্শকে রাজনৈতিক চর্চায় বাস্তবায়ন করার জন্য, যাতে দেশের রাজনীতি আবারো জনগণের আস্থা ফিরে পায়।

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address

Naya Polton
Dhaka
1000