26/02/2026
নোয়াখালী সোনাইমুড়ী মেইন রোডে ‘পৌর চাঁদা’র নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি।
আতঙ্কে ড্রাইভার-যাত্রী, নীরব প্রশাসন
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী মেইন রোডে দীর্ঘদিন ধরে ‘পৌর চাঁদা’র নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সিএনজি অটোরিকশা, পিকআপ, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থেকে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। কলেজ গেট এলাকা থেকে শুরু করে বাইপাস হয়ে সোনাইমুড়ী চৌরাস্তা পর্যন্ত চলাচল করলেও একাধিক পয়েন্টে চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন চালকরা।
স্থানীয় ড্রাইভারদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। চাঁদা না দিলে গাড়ি আটকে রাখা, চালককে হুমকি দেওয়া, এমনকি যাত্রীদের সামনেই অপমান করার ঘটনাও ঘটছে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ চালকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে যাত্রীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
একজন সিএনজি চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“প্রতিদিন রাস্তায় নামলেই টেনশনে থাকতে হয়। চাঁদা না দিলে গাড়ি চলতে দেয় না। যাত্রী নামিয়ে অপমান করে। আমরা কোথায় যাব?”
পিকআপ ও ট্রাক চালকদের ভাষ্যও একই। তাঁদের দাবি, দিনে একাধিকবার চাঁদা দিতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপরও।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করতে গেলেই শুরু হয় নতুন হয়রানি। অনেকের দাবি, থানায় বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করার চেষ্টা করলে উল্টো হুমকি, মানসিক চাপ কিংবা প্রকাশ্যে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
স্থানীয় এক যাত্রী বলেন,
“ড্রাইভারদের সঙ্গে ঝামেলা হলে আমাদেরও রাস্তায় বসে থাকতে হয়। এটা তো প্রকাশ্য চাঁদাবাজি, কিন্তু দেখার কেউ নেই।”
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান অভিযান বা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সোনাইমুড়ী মেইন রোড ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে এই অনিয়ম কখনোই বন্ধ হবে না।
এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কবে সাধারণ মানুষের এই ভয়, ক্ষোভ ও অনাস্থার জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
Tarique Rahman
BBC News
Anowar Bari Pintu
#সোনাইমুড়ী
#সোনাইমুড়ী
#নোয়াখালী
#মেইনরোড
#পৌরচাঁদা
#চাঁদাবাজি
#চাঁদাবাজিবিরোধী
#সিন্ডিকেট
#সিএনজি
#অটোরিকশা
#পিকআপট্রাক
#ড্রাইভারহয়রানি
#যাত্রীহয়রানি
#আইনেরশাসন
#প্রশাসনেরনীরবতা
#জনদুর্ভোগ
#স্থানীয়সংবাদ
#বাংলাদেশ