Faaah

Faaah

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Faaah, Political Party, faridpur, Faridpur.

12/03/2026
11/03/2026

John Mearsheimer বলেন --
১৯৭১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চাপিয়ে দেওয়া সেইসব নিষেধাজ্ঞার পরিনতি আসলে কি ছিলো.? পরিনতি হলো আমরা ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষকে স্রেফ হত্যা করেছি।
৩ কোটি ৮০ লাখ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে আমরা যে অভাবনীয় ধ্বংসলীলা চালিয়েছি তা সত্যিই শিউরে উঠার মত। ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহ পরিনতির কথা একবার ভাবুন। ভেনেজুয়েলা , কিউবা কিংবা ইরানের মতো দেশগুলোতে আমরা যা করেছি তা আপনি দেখলেই বুঝতে পারবেন।

আমরা আমাদের বিপুল অর্থনৈতিক আধিপত্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মূলত সাধারণ মানুষকে ভাতে মারছি । তাদের অবর্ননীয়, দুর্দশার মুখে ঠেলে দিচ্ছি। তাদের ওপর চরম নিপীড়ন চালাচ্ছি কেবল এই আশায় যে তাঁরা যেনো বাধ্য হয়ে নিজেদের সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ভেবে দেখুন ভেনেজুয়েলায় আমরা ঠিক এই কাজটিই করছি। ইরানেও এক‌ই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছি।।

09/03/2026

হিউম্যানিজম : মুসলমান নাকি মানুষ?

আধুনিক যুগে পাশ্চাত্য সভ্যতার বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের অন্যতম প্রধানবিষয় হলো 'হিউম্যানিজম', যাকে বাংলায় মানববাদ বলা হয়। তবেমানববাদ না বলে ‘মানবপূজা' শব্দটাই এই ক্ষেত্রে যথার্থ হয়।হিউম্যানিজম মূলত ব্যক্তি ও সামাজিক জীবন থেকে ধর্মকে আস্তাকুঁড়েনিক্ষেপ করার মৌলিক ধারণা। পুরো পশ্চিমা সভ্যতা ও পুঁজিবাদ দাঁড়িয়েআছে এই একটা চিন্তার উপর। আদতে মানুষ এবং মুসলিম বিপরীতমুখী হিউম্যান বিয়িং : শতাব্দীর বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব কোনো বিষয় নয় যে, এর যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।

একজনব্যক্তি একইসাথে মানুষ এবং মুসলিম হতে পারে। তা হলে এই বিতর্ক কেন? কারণ, মানুষ (human) বলতে পশ্চিমারা দীনমুক্ত যে স্বাধীন সত্তাকে বুঝায়, ইসলাম তার অনুমোদন করে না। পশ্চিমা মানববাদ আজ মানবিকতার বৈশ্বিক স্ট্যান্ডার্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে; কিন্তু ইসলাম মানববাদের
এমন কার্মকাণ্ড মেনে নেয় না। আমাদের খুব ভালো করে বুঝতে হবে পশ্চিমাদের যে বল্গাহীন স্বাধীনতার মানববাদ তা দিয়ে একজন মুসলিমের মুসলিম পরিচয়ের যে দাবি ও গর্ব, তাকে সংকটে ফেলবার জন্যই এই বিতর্ক। পশ্চিমাদের কাছে 'মানুষ' নিছক আকৃতিগত বিষয় নয়; বরং তা হচ্ছে একটি দর্শন (Epistemological Concept), যা স্রষ্টা কিংবা অন্য কোনো অথরিটির কর্তৃত্ব থেকে দায়মুক্ত।

নিঃসন্দেহে যা কিছু ইসলাম নয় এবং যে মুসলিম নয়, ইসলাম তাকে নাকচ করে; কিন্তু এই অবস্থাকেও ইসলাম তার প্রতি ইনসাফ করে। তবে অবশ্যই সেই ইনসাফ হবে ইসলামের সংজ্ঞায়িত অধিকার। পশ্চিমা লাগামহীন স্বাধীনতার অধিকার নয় যে, মানুষ যা ইচ্ছা তা-ই করবে। ইসলামে মানবাধিকারের প্রথম সবক হচ্ছে মানুষকে তার স্রষ্টার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। অথচ পশ্চিমা মানবাধিকারের দাবি হচ্ছে মানুষকে এই অধিকার দেওয়া যে সে নিজেই তার স্রষ্টা। একজন মুসলিম কখনো এটা মেনে নিতে পারে না। আমি কি আল্লাহর দাসত্ব অস্বীকারকারী পশ্চিমা ‘হিউম্যান' নাকি আল্লাহর দাসত্ব স্বীকারকারী ‘মুসলিম’? প্রশ্ন হলো এটা। এবার আপনার দায়িত্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

সুতরাং হিউম্যানিজমের ধারণা অনুযায়ী মানুষের প্রকৃত অবস্থান বান্দা নয়; বরং স্বাধীন (Autonomous) এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তা (Self- determined)। সেক্যুলারিজম খুব জোরালোভাবেই দাবি করে যে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করার জন্য আমাদের 'ইনসানিয়্যাত' তথা
মানবতার ভিত্তিতে ভাবা শিখতে হবে; কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বর্ণ ও বংশের ভিত্তিতে নয়। অর্থাৎ সমাজব্যবস্থার ভিত্তি এমন কোনো বিষয় হতে হবে, যা আমাদের সবার মাঝেই আছে আর তা হলো ‘ইনসানিয়্যাত' । পশ্চিমাবিশ্ব এই ধারণাকে 'হিউম্যান রাইটস' নাম দিয়ে একটি পৃথক ধৰ্ম বানিয়ে নিয়েছে। আর গোটা পৃথিবীকে তারা নিজেদের
বানানো এই মাপকাঠি দিয়েই বিচার করছে।

সেক্যুলাররা তাদের ‘হিউম্যানিজম' ধারণার যৌক্তিকতা প্রমাণ করার জন্য
-
একটি কমন প্রশ্ন তোলে – আমাদের আসল পরিচয় মানুষ নাকি মুসলিম!' তাদের নিকট এই প্রশ্নের ব্যাপক এবং প্রচলিত উত্তর হলো, আমাদের আসল পরিচয় 'আমরা মানুষ'। আমাদের নিজেদের প্রথমে মানুষ হিসেবে ভাবতে শেখা লাগবে। মুসলিম হিসেবে চিন্তা করলে মাত্র কয়েক কোটি মানুষ নিয়ে ভাবতে হবে। কিন্তু মানুষের জায়গা থেকে চিন্তা করলে পুরো পৃথিবীর সকলেই এসে যাবে। মূলত এই ধারণার মাধ্যমেই সেক্যুলারিজম ধর্মকে ব্যক্তিগত বিষয়ে রূপান্তরিত করেছে। কারণ হিউম্যানিজমকে মাপকাঠি হিসেবে মেনে নেওয়ার পর এটাই যৌক্তিক মনে হবে যে সামাজিক জীবনের ভিত্তি এমন কোনো বিষয় হওয়া উচিত,
যা সবার জন্যই মূল এবং সবার মাঝেই আছে। যেন একটি সামগ্রিক জীবনাদর্শ অস্তিত্ব লাভ করতে পারে।

যদি ধর্মের ভিত্তিতে সমাজ কায়েম হওয়া সঠিক হয় তা হলে বংশ বর্ণ ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে সমাজ কায়েম হওয়াকেও সঠিক মনে করতে হবে। মানুষের মূল অবস্থান ‘ইনসানিয়্যাত’ মেনে নিলে ধর্ম কেবল ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে যায়। এটা এর আবশ্যিক ফল। আর এটাই সমস্ত সেক্যুলার রাষ্ট্র-ব্যবস্থার ভিত্তি (সেটা লিবারেলিজম হোক কিংবা সমাজতন্ত্র)। সেক্যুলারিজম দ্বারা আমাদের
উদ্দেশ্য হলো এমন জীবনব্যবস্থা, যা ওহির পরিবর্তে মানবীয় বিবেকের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, কোনো কোনো ইসলামি বুদ্ধিজীবী যখন সেক্যুলারদের সাথে কথা বলে তখন তারা হিউম্যানিজমের ভিত্তিতে কথা বলে।

ফলে দেখা যায়, হয়তো তারা আলোচনায় পরাজিত হয়; কিংবা অত্যন্ত দুর্বল এবং ঠুনকো দলিলের আশ্রয় নেয়। হিউম্যানিজমকে প্রত্যাখ্যান করা ব্যতীত ধর্মকে সামাজিক জীবনে শামিল করার পলিসি বানানো অসম্ভব। আমাদের আলোচিত প্রশ্ন 'আমরা মানুষ নাকি মুসলমান'-এর সুস্পষ্ট এবং অকাট্য উত্তর হবে 'আমি মুসলমান (আল্লাহর সৃষ্টি ও তার কাছে আত্মসমর্পণকারী অর্থে)'। তা হলে আমি কি মানুষ নই? হ্যাঁ, আমি মানুষও। তবে আমি পশ্চিমা সংজ্ঞায়িত অর্থে মানুষ নই যে, আমি আমারই দাস। মানুষ হওয়া তো একটি সৃষ্টিগত ঘটনা এবং আমার মুসলমানিত্ব প্রকাশের মাধ্যম। আমাদের মূল পরিচয় হলো আমরা গোলাম তথা আল্লাহর সৃষ্টি। মানুষ হওয়ার পূর্বের কথা হলো আমরা মাখলুক (সৃষ্টি)। আমাদের একজন স্রষ্টা আছেন। এখন মানুষ হওয়ার ব্যাপারটি একটি ঘটে যাওয়া বিষয়ের মতো।

বিষয়টি ভালো করে বুঝার জন্য এভাবে চিন্তা করা যেতে পারে যে যদি আমরা মানুষ না হতাম তা হলে কী হতাম? এর দুটি সুরত রয়েছে। হয়তো ফেরেশতা হতাম নয়তো কোনো প্রাণী, উদ্ভিদ, জড়পদার্থ হতাম; কিন্তু আমরা যা-ই হই না কেন- সর্বাবস্থায় আমাদের মৌলিকত্ব হলো আমরা মাখলুক। অর্থাৎ অস্তিত্বের সম্ভাব্য প্রতিটি অবস্থাতেই আমাদের মৌলিক অবস্থান একজন আবদ, বান্দা বা গোলামের। এখন আমার গোলামির বহিঃপ্রকাশ বিভিন্নভাবে হতে পারে। উদাহরণত, আমি যদি পোকা হই, তা হলে আমার ‘আবদিয়্যাত'-এর প্রকাশ পোকার সুরতেই হবে।

আবার আমি যদি ফেরেশতা হই তা হলে ফেরেশতার সুরতেই আমার আবদিয়্যাতের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। এবার আমি যদি মানুষ হই তবে এটা আমার আবদিয়্যাত প্রকাশের মাধ্যম মাত্র। মোটকথা, আমার সুরত তো পরিবর্তন হতে পারে; কিন্তু আমি যদি সৃষ্টি হই তবে আমার অবস্থান সর্বদা মাখলুক, আবদ এবং বান্দাই থাকবে। কোনোক্রমেই এই অবস্থা পরিবর্তনযোগ্য নয়। আমার সকল অবস্থা এই অর্থে নির্ধারিত যে আমার
অস্তিত্বের কিছুই আমি নিজে সৃষ্টি করতে পারি না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যেভাবে চেয়েছেন, আমার কোনো ইচ্ছা ছাড়াই, ঠিক সেভাবেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাকে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করার ব্যাপারে বাধ্য ছিলেন না।

সুতরাং প্রমাণিত হলো, আমার সত্তাগত অবস্থান মুসলিম (আবদিয়্যাত)। ইনসানিয়্যাত আমার আবদিয়্যাত প্রকাশের মাধ্যম মাত্র। আবদিয়্যাত ছাড়া আমার ইনসানিয়্যাতের কোনো মূল্য নেই। মুসলমানিত্বকে আবদিয়্যাত দ্বারা ব্যাখ্যা করার কারণ হলো আক্ষরিক অর্থে প্রত্যেক বান্দা মুসলমানই হয়; সে স্বীকার করুক বা না করুক। প্রতিটি মানুষই গোলাম। এখন সে যদি অন্তর ও জবান দ্বারা এর স্বীকৃতি দেয়, তা হলে সে মুমিন ও মুসলিম (স্বীয় অবস্থান স্বীকারকারী)। আর যদি এটা মেনে নিতে অস্বীকার করে, তা হলে সে কাফের (স্বীয় অবস্থান অস্বীকারকারী)। অন্যভাবে বললে, কাফের কোনো নতুন কিংবা ভিন্ন অবস্থান নয়; বরং মূল অবস্থান অস্বীকারকারী মাত্র।

যখন প্রমাণিত হলো আমাদের মৌলিক অবস্থান বান্দা হওয়া আর ইনসানিয়্যাত আমাদের আবদিয়্যাত প্রকাশ করার মাধ্যম মাত্র, তখন এটা বুঝা খুব সহজ হয়ে গেল যে আমাদের ইনসানিয়্যাতের সেই বহিঃপ্রকাশই সঠিক ও গ্রহণযোগ্য হবে, যাতে আবদিয়্যাত রয়েছে। সেখানে নিজের প্রবৃত্তি ও নফসপূজা থাকলে গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ আল্লাহর কাছে আমাদের আবদিয়্যাত প্রকাশ করার একমাত্র পন্থা হলো ইসলাম। এজন্য আমাদের ইনসানিয়্যাত তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র ইসলাম অনুযায়ী হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ
যে ইসলাম ছাড়া অন্য জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন,
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ
আল্লাহর কাছে (আবদিয়্যাত প্রকাশের) একমাত্র দীন হলো ইসলাম।”

কেউ কেউ বলতে পারেন মানুষ হওয়ার নিশ্চয় আলাদা কোনো মর্যাদা রয়েছে। কারণ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই কথার জবাব উপরের আলোচনাতেই রয়েছে। ইনসানিয়্যাত মূলত আবদিয়্যাত প্রকাশের উত্তম
সুরত। আবদিয়্যাতের জন্যই ইনসানকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আশরাফুল মাখলুকাত বলেছেন। কারণ আবদিয়্যাতের সবচেয়ে কঠিন এবং ব্যাপক বিষয় ইনসানের সাথে সংশ্লিষ্ট। পুরো শরিয়ত তাদের সাথেই ব্যাপকভাবে সম্পর্ক স্থাপন করে রেখেছে, যা অন্য কোনো মাখলুকের সাথে সম্ভব নয়। এখন যেই আবদিয়্যাতের খাতিরে মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত হলো, তা-ই যদি না থাকে তা হলে কী করে মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত হবে! এজন্য আল্লাহ তাদেরকে পশুর সাথে তুলনা করেছেন; বরং পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট বলেছেন।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আরেকটি ভুল ধারণা দূর হওয়া উচিত। তা হলো, ধর্মশিক্ষা দেওয়ার আগে বাচ্চাদের মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেওয়ার ধারণা। অর্থাৎ প্রথমে তাকে শেখানো হবে মানুষ কী? এরপর ধর্মের কথা। বাস্তবে এটাই হিউম্যানিজম তথা মানববাদকে সঠিক প্রমাণের একটি চিত্র। কারণ ধর্মের বাইরে নিজের অস্তিত্ব জানার অর্থই হলো মানুষ তার অস্তিত্বের ক্ষমতা এবং পরিচিতি নিজের মাঝেই সংরক্ষণ করে। এটার
অথরিটি তার আছে এবং সেটা নবীদের শিক্ষা ব্যতীতই সম্ভব।

অর্থাৎ আল্লাহকে বাদ দিয়ে ‘মানুষ’-ই স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি অবস্থান, being without God. প্রশ্ন হলো, নিজেকে ধর্মের বাইরে শুধু মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কী উদ্দেশ্য? আমি নিজের ইনসানিয়্যাতকে কী ভাবি আবদিয়্যাত প্রকাশের মাধ্যম, নাকি মৌলিক সত্তা? যদি ইনসানিয়্যাতকে মৌলিক অবস্থান ও সত্তা মেনে নেওয়া হয়, তবে এটাই মানববাদ। আর যদি আবদিয়্যাত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তা হলে ধর্মের
বাইরে নিজেকে পরিচিত করানো কেবল হাস্যকরই নয়; বরং ক্ষেত্রবিশেষ কুফরও।।

06/03/2026

৭ই মার্চের ভাষণ-

গত পনেরো বছর ধরে দাবি করা হয়েছে যে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন সুত্রঃ বলছে ভিন্ন কথা। শেখ মুজিবর রহমান সেদিন ভাষনে স্পষ্টত স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নাই।

মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ূর রহমান রেন্টু তার ব‌ইয়ে লেখেন -

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভা ডাকলেন । ভোর না হতেই লক্ষ লক্ষ বাঙালি রেসকোর্স ময়দানে সমবেত হলো স্বাধীনতা প্রশ্নে নেতার রায় শোনার জন্য। লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে এসে দাঁড়ালেন জনতার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেও স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন না। পাকিস্তান সরকারের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মূলত ৪টি কন্ডিশন বা দাবি দিয়ে তার ভাষণ শেষ করলেন।।

তিনি আরো লিখেন - বিশ্লেষণ এবং সামরিক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যদি পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে ঘোষণা করতেন এবং সুদূর ১২ হাজার মাইল দূর থেকে আসা পাকিস্তানী সৈন্যদের বন্দী করতে বলতেন, তাহলে পাকিস্তানী সৈন্যদের সাথে বাঙালি সৈন্য, ইপিআর, পুলিশ ও জনতার যে লড়াই বা যুদ্ধ হতো, সেই যুদ্ধে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সামান্য রক্তপাতের বিনিময়েই আমাদের দেশ মুক্ত বা স্বাধীন হতো ।

মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ূর রহমান রেন্টুর কথা অনুযায়ী সেদিন শেখ মুজিব স্পষ্ট স্বাধীনতা ঘোষণা করলে হয়তো এতো মানুষ মারা যেতো না।।

৭ই মার্চের পর থেকে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি । পাকিস্তান যে আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা ছাড়বে না এটা ও নিশ্চিত হয়ে গিয়ছিলো।
কিন্তু শেখ মুজিব তখনো স্পষ্ট কোনো স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নাই , স্বাধীনতার যুদ্ধের কোনো রোডম্যাপ ও কারো কাছে স্পষ্ট নয়। এদিকে বাংলাদেশে অফুরন্ত সেনাবাহিনী অনুপ্রবেশ করিয়েছে পাকিস্তান।

তাজ‌উদ্দিনের মেয়ের লেখা নেতা - পিতা ব‌ইতে তিনি লিখেন-- ২৩ মার্চে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডে, মুজিব কাকুর বাড়িতে ছাত্ররা স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করল। ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করলেন। আলোচনার আবরণে অপারেশন সার্চলাইট গণহত্যার নীল নকশা তখন সম্পন্ন। দুবছর আগে ইয়াহিয়ার ক্ষমতা গ্রহণের দিনকে বেছে নেওয়া হলো বাঙালির ওপর মরণ আঘাত হানার জন্য।

তাজউদ্দিন আহমেদ সকল ব্যবস্থা করে রাখছিলেন যে স্বাধীনতার ঘোষণার পরে তাঁরা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবেন এবং সেখানে থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করবেন। সেই প্রস্তাবনা যখন শেখ মুজিবের সামনে করা হয় তখন শেখ মুজিব বলেন - , ‘বাড়ি গিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকো, পরশুদিন (২৭ মার্চ) হরতাল ডেকেছি।'
তাজ‌উদ্দিন তার কথা শুনে বিস্ময় ও বেদনায় বিমূঢ় হয়ে পড়লেন। তাজউদ্দিনের মেয়ে আরো লিখেন --

এদিকে বেগম মুজিব ঐ শোবার ঘরেই সুটকেসে মুজিব কাকুর জামাকাপড় ভাঁজ করে রাখতে শুরু করলেন। ঢোলা পায়জামায় ফিতা ভরলেন। পাকিস্তানি সেনার হাতে মুজিব কাকুর স্বেচ্ছাবন্দি হওয়ার এইসব প্রস্তুতি দেখার পরও আব্বু হাল না ছেড়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে মুজিব কাকুকে বোঝাবার চেষ্টা করলেন। তিনি কিংবদন্তি সমতুল্য বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উদাহরণ তুলে ধরলেন, যাঁরা আত্মগোপন করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু মুজিব কাকু তাঁর এই সিদ্ধান্তে অনড় হয়ে রইলেন।

তিনি শেখ মুজিব কে বোঝাবার চেষ্টা করেন কিন্তু মুজিব বললেন, 'তোমরা যা করবার কর। আমি কোথাও যাব না-

তাজউদ্দিনের মেয়ে এই বিষয়ে লিখেন --

পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী আব্বু স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে নিয়ে এসেছিলেন এবং টেপ রেকর্ডারও নিয়ে এসেছিলেন। টেপে বিবৃতি দিতে বা স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর প্রদানে মুজিব কাকু অস্বীকৃতি জানান। কথা ছিল যে, মুজিব কাকুর স্বাক্ষরকৃত স্বাধীনতার ঘোষণা হোটেল
ইন্টারকন্টিনেন্টালে (বর্তমানে শেরাটন) অবস্থিত বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং তাঁরা আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনা করবেন।

আব্বু বলেছিলেন, 'মুজিব ভাই, এটা আপনাকে বলে যেতেই হবে, কারণ কালকে কী হবে, আমাদের সবাইকে যদি গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়, তাহলে কেউ জানবে না, কী তাদের করতে হবে। এই ঘোষণা কোনো-না- কোনো জায়গা থেকে কপি করে আমরা জানাব। যদি বেতার মারফত কিছু করা যায়, তাহলে সেটাই করা হবে।' `

মুজিব কাকু তখন উত্তর দিয়েছিলেন, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে দলিল হয়ে থাকবে। এর জন্য পাকিস্তানিরা আমাকে দেশদ্রোহের জন্য বিচার করতে পারবে।।

05/03/2026

গ্রেট গেইম - উসমানি খিলাফতের পতন

ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল উসমানি খিলাফত। কেননা, ফিলিস্তিন তাদের অধীনে ছিল। আমিরুল মুমিনিন উমর (রা:)ফিলিস্তিন বিজয় করে খ্রিষ্টানদের সাথে যে চুক্তি করেছিলেন, সেখানে এই শর্ত ছিল, ইহুদিদের ফিলিস্তিনে বসবাস করতে দেওয়া হবে না। তাই যখন ইহুদিদের গোপন প্রতিনিধি উসমানি খিলাফতের সর্বশেষ শক্তিশালী সুলতান আব্দুল হামীদকে অনেক ঘুষের বিনিময়ে এই আকাঙ্ক্ষা পেশ করে যে, তিনি যেন ফিলিস্তিনে ইহুদিদের আবাদির অনুমতি দেন। তখন তিনি তাদের সমস্ত সম্পদ ফিরিয়ে দেন এবং কঠিন ভাষায় অস্বীকৃতি জানান। ফলে ইহুদিদের নিশ্চিত বিশ্বাস হয়ে যায় যে, উসমানি সালতানাতকে ধ্বংস করা ব্যতীত তারা নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে না।

উসমানি সালতানাতের পতনের ষড়যন্ত্র তো অনেক পূর্ব থেকে হচ্ছিল। একদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স আর অপরদিকে রাশিয়ানরা ধারাবাহিকভাবে তাদের দুর্বল করছিল। তারা প্রথমে ইউরোপে উসমানিদের দুর্বল করে। এই ক্ষেত্রে আর্মেনিয়া, বসনিয়া ও বলকানের ষড়যন্ত্র ছিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শাম-লেবাননেও এই তিন শক্তি (ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া) খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে মানবাধিকারের স্লোগান নিয়ে কনফারেন্স করত এবং সেখানে খ্রিষ্টানদের স্বাধীনতার কথা বলত। এটা ছিল ৫০ বছরের দীর্ঘ এক চক্রান্ত; যার ফলে উসমানিদের শক্তি অনেক দুর্বল হয়ে যায় । অতঃপর বলকান যুদ্ধ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চক্রান্ত ও বিভিন্ন গোপন চুক্তির মাধ্যমে মুসলিমদের মূল কেন্দ্রকে খতম করে দেওয়া হয়।

1 . প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন আরবকে জাতীয়তাবাদ ও গোত্রপ্রেমের ভিত্তিতে সংগঠিত করে তোলে। তাদেরকে উসমানিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সাহায্য করার বিনিময়ে আরববিশ্ব শাসনের স্বপ্ন দেখায়। বর্তমান জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহর বাবা হুসাইনের পিতার পরদাদা হুসাইন বিন আলি উসমানিদের অধীনে হিজাজের গভর্নর ছিল, যাকে শরিফে মক্কা বলা হতো। ইংরেজরা প্রথমে তাকে এবং পরে তার ছেলে শাহ ফয়সাল ও শাহ আব্দুল্লাহকে এই শর্তের ওপর ইরাক ও সিরিয়াতে ক্ষমতা প্রদান করতে সম্মত হয় যে, তারা উসমানিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে।

এ ছাড়াও তাদেরকে এর বিনিময়ে প্রতি মাসে পঁচিশ হাজার পাউন্ড সোনা ঘুষ হিসেবে দেওয়া হতো। আরবদেরকে উসমানিদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর এই কাজ ব্রিটেনের সিক্রেট এজেন্সির কর্নেল লরেন্স আঞ্জাম দিয়েছিল, যে ‘লরেন্স অফ আরাবিয়া' (Lawrence Of Arabia) নামেও পরিচিত। এভাবেই আরব ও উসমানিদের মধ্যে যুদ্ধ হয়; যার ফলে ফিলিস্তিন ব্রিটেনের হাতে চলে যায়। ১৯২৩ সালে কামাল আতাতুর্ক খিলাফতকে বিলুপ্ত করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় এবং গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করে ।

Want your business to be the top-listed Government Service in Faridpur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address

Faridpur
Faridpur