21/03/2026
ঈদ মোবারক। ঈদ মোবারক। ঈদ মোবারক।
Don't hurt anyone
21/03/2026
ঈদ মোবারক। ঈদ মোবারক। ঈদ মোবারক।
04/03/2026
কাওসার ভাই
২০২৬ সালের হজ সফরে ৭৮,৫০০ একজন আল্লাহর ঘরের মেহমান হবেন। সরকারিভাবে ৪,৫৬৫ , বেসরকারিভাবে ৭৩,৯৩৫ ।
মোট পুরুষ হাজি ৫১,০২৫ জন।
মহিলা হাজী ২৭,৪৭৫ জন।
তারমধ্যে :-
৭০ বছরের ঊর্ধ্বে ৩,৯৬৬ জন,
৬০-৭০ বয়সের মধ্যে ১৯,০২৫ জন।
৫০-৬০ বয়সের মধ্যে ২৬,১৭২ জন।
৪০-৫০ বয়সের মধ্যে ১৯,৮২২ একজন।
১৮-৪০ বয়সের মধ্যে ৯,৫১৫ জন ।
⭐ হজে যাওয়ার উপযুক্ত সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি দিক বিবেচনা করা হয়: একটি হলো শরীয়তের বিধান (কখন হজ ফরজ হয়) এবং অন্যটি হলো ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক প্রস্তুতি।
১. শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা (শারীরিক শক্তি থাকাকালীন)
হজ একটি শারীরিক ইবাদত। দীর্ঘ পথ হাঁটা, ভিড়ের মধ্যে চলাফেরা করা এবং মিনা-আরাফাতের প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকার জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই তরুণ বা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী থাকাকালীন হজে যাওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। বার্ধক্যে পৌঁছানোর আগেই এই ফরজ আদায় করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
২. অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ও ফরজ বিধান
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, যখনই কোনো ব্যক্তির কাছে হজে যাওয়া-আসা এবং সেই সময়ে পরিবারের ভরণপোষণের অতিরিক্ত অর্থ জমা হয়, তখনই তার ওপর হজ ফরজ হয়ে যায়। বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব অর্থাৎ প্রথম সুযোগেই হজে যাওয়া উচিত।
সারসংক্ষেপ:
হজে যাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো "এখনই"—যদি আপনার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ ও শারীরিক সামর্থ্য থাকে।
হজ ফরজ হওয়ার প্রধান শর্তগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মুসলিম হওয়া
ব্যক্তিকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। অমুসলিমের ওপর হজের বিধান প্রযোজ্য নয়।
২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (বালিগ হওয়া)
নাবালক অবস্থায় কেউ হজ করলে তা নফল হজ হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু হজ ফরজ হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে।
৩. সুস্থ মস্তিষ্ক (আকেল হওয়া)
মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তির ওপরই কেবল হজ ফরজ। পাগল বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির ওপর শরীয়তের এই বিধান কার্যকর নয়।
৪. শারীরিক সক্ষমতা
হজের সফর এবং হজের কার্যাবলি (যেমন: তাওয়াফ, সাঈ, মিনায় অবস্থান) সম্পন্ন করার মতো শারীরিক শক্তি ও স্বাস্থ্য থাকতে হবে। যদি কেউ অতি বৃদ্ধ বা এমন দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হন যা তাকে চলাফেরায় অক্ষম করে তোলে, তবে তার ওপর সরাসরি হজ ফরজ হয় না (সেক্ষেত্রে 'বদলি হজ' বা অসিয়তের বিধান রয়েছে)।
৫. আর্থিক স্বচ্ছলতা (আর্থিক সামর্থ্য)
এটি হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি। আর্থিক সামর্থ্য বলতে বোঝায়:
হজে যাওয়া-আসা এবং সেখানে অবস্থানের সমস্ত খরচ বহনের সক্ষমতা।
হজকালীন সময়ে দেশে অবস্থানরত তার পরিবার ও নির্ভরশীল ব্যক্তিদের (স্ত্রী, সন্তান) প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ দেওয়ার মতো অতিরিক্ত অর্থ থাকা।
যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ মেটানোর পর ব্যক্তি যেন ঋণগ্রস্ত না হয়ে পড়েন।
৬. পথের নিরাপত্তা
যাতায়াতের রাস্তা নিরাপদ হতে হবে। যদি যুদ্ধবিগ্রহ বা অন্য কোনো কারণে প্রাণের ঝুঁকি থাকে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হজ ফরজ হয় না।
৭. মহিলাদের জন্য মাহরাম (অতিরিক্ত শর্ত)
মহিলাদের ক্ষেত্রে হজের সফরে স্বামী বা এমন কোনো নিকটাত্মীয় (মাহরাম) সাথে থাকা আবশ্যক, যার সাথে বিবাহ হারাম। তবে বর্তমান সময়ে অনেক ওলামায়ে কেরাম নিরাপদ পরিবেশে বিশ্বস্ত কাফেলার সাথে নারীদের হজের বিষয়ে বিশেষ ফতোয়া দিয়ে থাকেন।
⭐একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
অনেকে মনে করেন ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দেওয়া বা দুনিয়াবী সব ঝামেলা শেষ করে বৃদ্ধ বয়সে হজে যাবেন। এটি একটি ভুল ধারণা। ওপরের শর্তগুলো (বিশেষ করে আর্থিক ও শারীরিক সক্ষমতা) পূরণ হওয়া মাত্রই বিলম্ব না করে হজ করা ফরজ।
(সংগৃহীত)
12/02/2026
আজ থেকে বিশ বছর আগে (১২/০২/২০০৬) । মাশাআল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ ।
হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আজান বা আহ্বান
পবিত্র কোরআনের সূরা হাজ্জ-এ আল্লাহ তাআলা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-কে হজের ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন:
"আর মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে।" (সূরা হাজ্জ, আয়াত: ২৭)
💛 তাফসিরে বর্ণিত আছে যে, যখন হযরত ইব্রাহিম (আ.) এই ঘোষণা দেন, তখন আল্লাহ তাআলা এই আওয়াজ কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মানুষের রুহের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। যারা রুহানি জগতে এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘লাব্বাইক’ বলেছিল, তারাই জীবনে হজ বা ওমরাহ করার সুযোগ পায়। যারা যতবার লাব্বাইক বলেছিল, তাদের ততবার হজে যাওয়ার নসিব হয়। (তাফসিরে ইবনে কাসির)
💛 আল্লাহর মেহমান (দুয়উফুর রহমান)
রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে হাজিদের "আল্লাহর মেহমান" হিসেবে অভিহিত করেছেন। হাদিসে এসেছে:
"হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা হলো আল্লাহর প্রতিনিধিদল (মেহমান)। তিনি তাদের ডেকেছেন, আর তারা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। এখন তারা যদি আল্লাহর কাছে কিছু চায়, তবে তিনি তাদের তা দান করবেন।" (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৮৯৩)
💛 এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, হজে যাওয়াটা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ‘দাওয়াত’। আর মেহমান কেবল তখনই যেতে পারে যখন মেজবান (স্বাগতিক) তাকে অনুমতি দেন বা ডাকেন।
💛 সামর্থ্য বনাম তৌফিক
অনেক সময় দেখা যায় অনেক অর্থবিত্ত থাকা সত্ত্বেও কেউ হজে যেতে পারছেন না, আবার অতি সাধারণ মানুষ অভাবের মধ্যেও আল্লাহর ঘরের ডাক পেয়ে যাচ্ছেন। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, হজের জন্য কেবল 'আর্থিক সামর্থ্য' যথেষ্ট নয়, বরং 'তৌফিক' বা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ মনোনীত হওয়া জরুরি।
সারকথা
💛 কথাটি আক্ষরিকভাবে কোরআনের আয়াত না হলেও এর মূলভাব সম্পূর্ণ সঠিক। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, হজ কেবল শারীরিক বা আর্থিক সক্ষমতার বিষয় নয়, এটি মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা একটি আধ্যাত্মিক আমন্ত্রণ। তাই যারাই সেখানে যান, তারা আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবেই গণ্য হন।
💛💛 "ক্রমাগত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ভাগ্য বা তাকদীরের পরিবর্তন আনতে পারেন" তিরমিজি হাদিস নং ২১৩৯.
(সংগৃহীত)
26/01/2026