04/09/2025
আমি একটা জিনিস সহসাই খেয়াল করি, যেখানে গোঁটা দেশের মনোযোগ কেন্দ্রিভুত হয় ভাইরাল হওয়া টপিকে। সমাজের সব জায়গায় আলোচিত হতে থাকে ঐ একটা বিষয়ই; ঘুরে ফিরে চায়ের টঙ দোকান থেকে বাড়ির খাবার টেবিল, ক্লাস রুম থেকে ফেসবুক । আহা কি চমৎকার মনে হচ্ছে না বিষয়টা?
আহ কত সচেতন আমরা! কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে আলোচনা–সমালোচনার বাইরে আপনি এক সিকে পরিমান পরিবর্তন দেখবেন না , অন্যকে সমালোচনা করে যেন নিজের ভুল গুলোকে যুক্তিসম্মত করার (জায়েজ) মিছে চেষ্টা চলে, সাধারন ব্যক্তি থেকে রাজনৈতিক পরিচয় থাকা সকলের মাঝেই।
তো নতুন একটা আলোচ্য বিষয় “সাদা পাথর”, কে পাথর লুট করলো না করলো এই আলোচনার আগে আলোচনা করা যাক পাথর শুন্য সাদা পাথর পরিবেশে কি প্রভাব ফেলবে?
ভূত্বক আমাদের বাসভূমি ,আর এই ভূত্বক আস্তে আস্তে তৈরি হলো গলিত লাভা থেকে (সরাসরি না) । আর্থ সারফেইস বা ক্রাস্ট মূলত মাটি , পাথর , বালি, পানি এসবের মিলন মেলা, সে যাই হোক সবই মাটির রুপভেদ আগে আর পরে সবই মাটিতে মিলাবে।
বড় বড় পাথর ভেঙ্গে ছোট পাথরে, তারপর মিনারেলস, সেডিমেন্ট সেখান থেকে চেনা জানা বালি-কাঁদা (Sand,Silt) পানি মিলে মাটির লেয়ার হলো ; প্রক্রিয়াটা কিন্তু হাজার বছরের তাপ-চাপ ,জৈবিক প্রভাব, বায়ু, পানি, বরফ এমনকি পূর্বে উৎপন্ন হওয়া মাটির প্রভাবে।
এটা নেচারাল প্রক্রিয়া, উজানের পাথরগুলো পানি, বাতাস, বরফ বা ঝড়ে ভাঁটির দিকে প্রবাহিত হবে, ওরা ভাঙবে আবার প্রবাহিত হবে - চর হবে নদির ধারে, অথবা সমুদ্রের পাড়ে ।
তো একদিনে তো হবে না তাইনা?
খুবই ধীর প্রক্রিয়া, বড় পাথর গুলো প্রবাহিত হওয়ার সময় সেগুলো ঝর্নার ঝিরিতে, উৎপন্ন হওয়া নদিতেই জমতে থাকবে । জমতে জমতে পানির অববাহিকায় একটা ইকোলজিকেল জোন হবে, পানি একটা ডাইরেকশন পাবে, আশেপাশে গাছ পালা জন্মাবে, পাথুরে পরিবেশে মাছ প্রজনন করার সুযোগ পাবে, পাখি আসবে, এই সেই করে একটা প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যতার দেখা মিলবে ।
সাদা পাথর এলাকাটা এভাবেই আপনার-আমার জন্মের আগেই ঐখানে ছিল।
আপনি-আমি জন্মালাম, এই নদির চর, ঐ ভিটা, এই বন-সেই বন দখল করে লোকালয় বানালাম, আরও বাসস্থান সঙ্কট হলো তখন ঝিরি, টিলা, পাহাড় দখল করলাম, প্রাকৃতিক আর কৃত্রিম পরিবেশের মিথস্ক্রিয়া হলো, প্রকৃতি কিন্তু টুঁ শব্দ টি ও করলো না, মানুষকে আপন করে নিলো।
মানুষ কি করলো, জায়গাটাকে শুন্য বালুস্তান বানালো এতে কি হবে, পরিবেশের অনেক ক্ষতি?
হ্যাঁ আর এতে মানুষের ও কি ক্ষতি হবে না?
আগে পরিবেশের কি কি ক্ষতি হবে চলুন দেখিঃ
১) অতিরিক্ত খননের ফলে পাহাড়ের ঢাল ভাঙবে, যা মাটির ক্ষয় (soil erosion) ঘটাবে। সিলেটের মতো বর্ষণপ্রবণ এলাকায় ল্যান্ডস্লাইড এবং নদীভাঙন বাড়বে। উদাহরণস্বরূপ, জাফলং এবং ভোলাগঞ্জে ২০২৪-২৫ সালে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির ৩০% এই কারণে হয়েছে।
২)জলস্রোত তার দিক পরিবর্তন করবে, এতেও সমস্যা না। সমস্যা হইলো পানি যাবে কই?
৩)জলদূষণ: কোয়ারি থেকে ধুলো এবং রাসায়নিক পদার্থ যা বের হবে ঐটা ইকো-ক্রিটিক্যাল এরিয়ায় জীববৈচিত্র্য হ্রাস করবে।
৪) জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি: পাহাড়ি বন্যজীবন (পাখি, প্রাণী, উদ্ভিদ) ধ্বংস হবে।
৫) মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তর নিচে নামবে, যা কৃষিকে বাজে ভাবে প্রভাবিত করবে। হাওর-বাঁওরে পানি সংকট সৃষ্টি করলে আপনার পাতে সুস্বাদু প্রাকৃতিক মাছ্টাও আর জুটবে না।
(পরিবেশ অধিদপ্তর-সিলেটে বার্ষিক ৫০০ হেক্টর জমি এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।)
জনসমাজে কি প্রভাব পরবে?
টাকার জন্যই তো এতো কিছু তাইনা? তো কিছু প্রশ্ন ছুঁড়লাম উত্তর আপনারাই দিয়েন -
১) জিডিপিতে ৩.০২% অবদান রাখা সিলেট পর্যটন খাত থাকবে?
২) আমদানি করা ১৬০০ কোটি টাকার পাথরের কতোটুকু মিয়া ঐখান থেকে পাবেন?
৩) ৬ লাখ বিদেশি পর্যটক (বেশিরভাগই সিলেট বা চট্টগ্রাম কে উদ্দেশ্য করে) আরো দৌড়ে দৌড়ে আসবে, তাইনা?
পরিশেষে, “সাদা পাথর আর নেই-শেষ হয়ে গেলো সাদা পাথর ~দুটো কান্নার ইমজি” দিয়ে পোস্ট করা শুভাকাঙ্ক্ষীদের বলতে চাই, সব সময় সোচ্চার থাকুন। পরের বার ট্যুর দিতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু যেন আপনি না ঘটান তা যেন মাথায় থাকে।
“রাস্তায় পলিথিন না ফেলা পরিবেশ নিয়ে ভাবার প্রথম স্তর” অন্যদিন এই টপিকেও কথা হবে। ধন্যবাদ এবং সালাম দিয়েই আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করছি।

22/12/2024
30/10/2024
30/08/2024
23/08/2024
22/08/2024
17/08/2024
15/08/2024
15/08/2024
14/08/2024