MD. YASEN ALI

MD. YASEN ALI

Share

আমি আমার আল্লাহর দাস, অন্য কারো নহে।

14/03/2026

আমার নতুন ফলোয়ারদের স্বাগত জানাই! আপনাদের ফলোয়ার হিসাবে পেয়ে আমি খুবই খুশি! Hstane Gudl, Satendra Rathor, Lalu Kumar, Dhirubhai Baraiya

25/02/2026

হায়রে যৌবন

24/02/2026
22/02/2026

আত্মহত্যা
ইয়াছিন

ঘর সংসার চারিদিকে ধীরে ধীরে বৈরী হয়ে আসছে। একে একে যেন সকলেই বিমুখ আড়চোখে কটাক্ষ হেনে দেখছে। তাহলে কি আত্মহত্যা না অন্যকিছু? হঠাৎ রাতের আঁধারে দূর হতে শেয়ালের কেয়াহুয়া ডাক শুনতে পেল, আচমকা হৃদয়ের মাঝে পুলকিত শিহরণ জেগে উঠলো। এটাও কি আত্মহত্যা না অন্যকিছু? চারিপাশ জমকালোর মতো আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে, আত্মহত্যা ছাড়া কি বেরুনোর পথ নাই? কি করবে তপতী? গর্ভে ৬ মাসের শিশু সন্তান, পরিচয় দেওয়ার মতো ক্ষমতা নাই বিশু সন্তানের বাবা। এখনো তো মানব দেখানো বিয়ে হয়নি, সন্তান যখন জন্মলাভ করবে তখন বাবার পরিচয় কি দিতে পারবে? পারবেনা ধনী আর দারিদ্রে যোজন দূরের ব্যবধানে। ধনী বাবা কোনদিন মেনে নিবেনা বিশুকে। ঈশ্বরকে স্বাক্ষী রেখে দেবতার মন্দিরে বিয়ে করেছিলো তপতী আর বিশু। এ বিয়ে কখনো সমাজ মেনে নিতে পারেনা। বারবার বল প্রয়োগ আসে তপতীর উপরে, গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য। তপতী ভাবছে হৃদয়ের গভীর থেকে আঁখির বারি ফেলে। ঈশ্বরকে স্বাক্ষী রেখে যে বিয়ে করেছে, তারই প্রথম সন্তান।
রাতের আঁধারে হঠাৎ চারিদিকে কোলাহল বিশুকে কেবা কাহারা তাহার ভাঙ্গা কুটীরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে। এবার তপতী আরো দিশেহারা হয়ে পড়লো।
তাহলে কি আত্মহত্যা তাহার একমাত্র পথ? একজনের আত্মহত্যার জন্য গর্ভের শিশু বলি হতে পারেনা, কেন বলি হবে?
চারিদিকে কোলাহল তপতীর অন্তরে ঝড় বইছে, এখন কি হবে আগত সন্তানের? তপন বাবুর চাপ গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য। গর্ভের সন্তান কি নষ্ট করবে তপতী? একেএকে পাড়ার সকলে জেনে যায় তপতীর গর্ভে সন্তান, তপন বাবুর মুখ দেখানো সমাজে দায় হয়ে উঠে। কি আর করবে সমাজের বিধান মোতাবেক একদিন সালিশ বসে তপন বাবুর কন্যাকে ঘিরে। লোকে লোকারণ্য সালিশে। সভাসদগণ ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে আসনে উপবেশন। বিচারকার্যের সময় এগিয়ে, আসন্ন প্রায়। বিশুর এক মুসলিম বন্ধু রিয়াদ সেখানে উপস্থিত তপতীর সম্মানকে রক্ষা করার জন্য। সভার কার্যক্রম শুরু হইলো। সকলেই প্রশ্ন করেন তপতীকে, তপতী নিরব, কি জবাব দিবে বিশুতো নেই, কোথায় আশ্রয় মিলবে। বিশুর নাম বললেও আর কেউ বিশ্বাস করবেনা। তপন বাবুও জানেননা তপতীরগর্ভের শিশুর বাবা কে? জবাব দেওয়ার মতো কোন ক্ষমতা নাই। সভাসদগণ যখন কোন জবাব পেলেননা, তখন রায় প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিলেন একঘরে করে রাখার জন্য। হঠাৎ রিয়াদ বন্ধুর আগত সন্তানকে রক্ষা করার জন্য নিজেই ঘোষণা দিলো তপতীর গর্ভের সন্তানের বাবা সে নিজেই। সভাসদগণ বাকরুদ্ধ কি করবে আর? তপতী অবাক নয়নে তাকায়ে দেখে আর এক কোটিপতির সন্তান তার গরীব বন্ধুর জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়ে আগত সন্তানকে রক্ষা করার জন্য নিজের জীবনকে এমন করে বলি দিতেছে, আরো ভাবছে জন্মদাতা বাবার কথা সবচেয়ে এখন আপন কে? সভাসদগণের প্রশ্ন তপতীর নিকট এ সন্তান কি রিয়াদের? তপতী নিরব। নিরবতা দেখে রিয়াদ বলে উঠে যেখানে বিবাদিনী নিরব সেখানে বুঝার বাকী থাকে কোথায়।
সভাসদগণ বাকরুদ্ধ স্তব্ধ রিয়াদের কথা শুনে, সকলেই ভাবান্বিত তরতাজা একটা যুবক তপতীকে নিয়ে একি বলছে। সকলেই রিয়াদের বাবা রিয়াজের মুখপানে চেয়ে আছে জবাব পাওয়ার আশায়, কি জবাব দিবেন রিয়াজ সাহেব। আসন থেকে উঠে এসে সন্তানকে প্রশ্ন করলেন
সত্য বলো তপতীর গর্ভে কি তোমার সন্তান?
বন্ধুর কথা ও তপতীর কথা ভাবিয়া রিয়াদ বাবার প্রশ্নের উত্তর দেয়
হ্যাঁ বাবা তপতীর গর্ভে আমারি সন্তান, এবার যে শাস্তি আমায় দিবেন সে শাস্তি আমি মাথা পেতে নিবো।
সভাসদগণ রিয়াজ সাহেব কি বলবেন সেদিকে তাকিয়ে আছেন উৎসুক সকলে। ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে চলে রিয়াদ তপতীর নিকট পাশে এসে দাঁড়ায়ে
বলে
যে শাস্তি আপনারা দেন আমি মেনে নিবো তবু্ও তপতীকে কোন শাস্তি দিবেন না, ওর কোন দোষ নেই যতো অপরাধ আমার। আমার জন্যই আজ বিচারের কাঠগড়ায়।
সভাসদগণ রিয়াজ সাহেবকে বললেন এবার আপনার সন্তানের বিচার করেন।
রিয়াজ সাহেব হতবিহ্বল কি বিচার করবেন নিজ ঔরসজাত সন্তানের হিন্দু আর মুসলিমে বিভেদ। সহসা রায় ঘোষণা করলেন
আমার সন্তানকে আমি ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করলাম। জানিনা তাহারা কোথায় বসত করবে।
এই কথা বলে করুণ দৃষ্টিতে সন্তানের দিকে চেয়ে ধীর পদক্ষেপে বের হয়ে গেলেন শালিসি বিচার স্থল হতে। সকলেই অবাক। তপতীর চোখে জল, বন্ধুত্বের মর্যাদা দিতে যেয়ে বিলাসিতাকে বিসর্জন দিলো রিয়াদ। রিয়াদ সকলের সামনে বলে উঠলো,
আরতো কোন বাধা নাই, আপনাদের মাঝে থেকে হয়ে গেলাম মুক্ত স্বাধীন।
একে একে সকলে সভাস্থল পরিত্যাগ করেন। এখন মাত্র দুজন, দূরে দাঁড়ায়ে শুধু দেখছে রিয়াদের আর এক হতদরিদ্র বন্ধু, তাহার বাড়ীও অনেক দূর। পাশে এসে বললো
ভয় কিরে যার কেউ নেই তার স্বয়ং স্রষ্টা আছেন, চল আমার সাথে একবেলাতো নুন ভাত তোদের দিতে পারবো, আর কোথায় যাবি বল।
ধনীর দুলাল দুলালী হতদরিদ্র বন্ধু জীবনের মুখের দিকে তাকায়ে ভাবছে ধনী আর দারিদ্রে কতো প্রভেদ, ধনীদের মাঝে আছে অর্থ সম্পদ প্রতিপত্তি যশ আর গরীবের মাঝে আছে প্রাণভরা ভালবাসা।
সুখ বিলাসিতাকে বিসর্জন দিয়ে অসহায়ের মতো গরীব বন্ধু জীবনের সাথে মেঠো পথ বেয়ে চলছে জীর্ণ শীর্ণ এক কুটিরের দিকে। পড়ন্ত বেলায় জীবনের ভাঙ্গা ঘরে ক্লান্ত দেহে এসে পৌঁছে। গ্রামময় সাড়া পড়ে গেছে জীবনের কুটীরে নতুন অতিথির আগমন। সকলেই আসে দেখতে অনেকে বলে জুটি মানায়েছে বেশ। হতভাগা দারিদ্র মাতা তাহাদের খাদ্যের অন্বেষণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অনেক দারিদ্রময় ঘর জীবনের জননীকে সহযোগিতা করিলেন। সন্ধ্যা লগনের আগে ধুম পড়ে যায় ভাঙ্গা ঘরে, কেহ ঘর সাজাতে ব্যস্ত, কেহ রান্নাতে ব্যস্ত, নতুন করে সাজায় তপতীকে বধূর বেশে। সন্ধ্যা প্রহর হয়ে আসছে খানা নিয়ে সকলে উদগ্রীব হয়ে উঠে। হাস্যবদনে সবার ইচ্ছে প্রকাশ নতুন বধূকে নিয়ে একই সঙ্গে অন্ন ভোজন করবে। নতুন করে ভাবছে তপতী দারিদ্রের মাঝে এতো ভালবাসা, যাহা ধনীদের মাঝে কৃত্রিম। একে একে খানা পর্ব শেষ আনন্দে বিদায় নিলো সকলে বর বধূকে আশীষ করে।
বাসর ঘরের পালা রিয়াদ কি তপতীর সম্ভ্রমের উপর আঘাত হানবে? সত্যই কি তপতীকে এবার আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে? বিষন্ন মনে বাসর ঘরে তপতী আজ ভাগ্যে নিয়ে দোলছে তার ভাগ্যের খেলা। রজনীর প্রথম প্রহর শেষে ভাঙ্গা কুটীরের মেঝেতে বিছানো সেই বাসর শয্যার মাঝে প্রবেশ রিয়াদের। চোখের জলে ভাসছে তপতী আর ভাবছে এই কি শেষ রজনী।
শান্ত ধীর স্থীর রিয়াদ, অবাক নয়নে তাকিয়ে দেখছে তপতীকে। কি বলবে ভাষা নাই মুখে। তবুও ক্লান্তিকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বলে উঠে
সমাজ জানলো তোমার আমার বিয়ে হয়েছে, শুধু আমি, তুমি ও ঈশ্বর জানেন আমাদের বিয়ে হয় নাই।
তবুও আজ মানব সমাজে স্বামীস্ত্রী, সকলে জানুক বাধা নাই, একটা কথা বলবো তোমায়।
বলো
একই ঘরে বসত হবে ঠিকই বিছান থাকবে আলাদা।
তপতী একটাই তো বিছানা, দুজনে না হয় ভাগ করে নিই।
রিয়াদ সম্ভব না তপতী আমি মাটিতে ঘুমাবো, তুমি বিছানে ঘুমাবে এটা কেহ জানবেনা, আমি আর তুমি ছাড়া। মনের মাঝে কখনো দুঃখ আনবেনা সদা খুশী থাকবে আজ কথা দিবে এই বাসরঘরে।
তপতী, রিয়াদ একটা কথা বলবো তোমায় শুনবে।
রিয়াদ বলো কি বলবে?
তপতী, আমার জীবনের জন্য তোমার জীবনকে কেন বিসর্জন দিলে বলতে পারো?
রিয়াদ, তপতী সমাজের চোখে তুমি দোষী হলেও তোমার সন্তান কি দোষী? বিশু আমার বন্ধু, বন্ধুর সন্তান তোমার গর্ভে, আমার দায়িত্ব তোমাকে ও তোমার সন্তানকে রক্ষা করা। আশা নয় বিশ্বাস রাখিও আমি কোনদিন তোমাকে স্পর্শ করিবনা।
এমন করে সারারাত কেটে গেলো রিয়াদ ও তপতীর। তপতী ভাবছে এমনও কি মানুষ হয় জগতের মাঝে, যে সমস্ত কিছু জেনেও দারিদ্রতাকে বরণ করে নিয়ে বন্ধুত্বের মর্যাদা দিতেছে।
ভোরে মসজিদে মুয়াজ্জিনের আজান, একই ঘরে হিন্দু আর মুসলিম। তপতী রিয়াদকে ডেকে বলে
এই ঘুম থেকে উঠো নামাজের সময় হয়ে গেছে নামাজ পড়ো।
রিয়াদ সহসা জাগিয়া দেখে তপতী তাহার পাশে অপলক নয়নে তাকিয়ে দেখছে আর মুখে মিষ্টি দুষ্টমির হাসি।
তপতী বলে তুমি মুসলিম নামাজ পড়ো, আজান হয়ে গেছে। যাও ওজু করে এসো, জায়নামাজ বিছিয়ে দিতেছি।
রিয়াদ ঘর থেকে বেরিয়ে পুকুরে এসে ওজু করে পুনরায় ঘরে প্রবেশ করে দেখে ছেঁড়া একটা গামছা সুন্দর করে জায়নামাজের মতো বিছিয়ে রেখেছে তপতী। মনে অনেক আনন্দের বন্যা, ভাবছে সত্যই রিয়াদের মতো বন্ধু পাওয়া কার ভাগ্যে লেখা থাকে। রিয়াদ নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে জায়নামাজে একাগ্রতা চিত্তে মহানের ধ্যানে মশগুল। তপতী নয়নভরে দেখছে আর দেখছে রিয়াদকে, এযেন তপতীর একান্ত হৃদয়ের দেবতা। আরো ভাবছে বিশুর সন্তান গর্ভে জন্মের পর কি হবে, সর্বশেষ সন্তান রেখেই কি আত্মহত্যার মুখোমুখি দাঁড়াবে?
নামাজ শেষান্তে দুজনে হাসিমুখে বের হলো ঘরের ভেতর থেকে। ছোট্ট উঠান তপতী নিজ হাতে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করতে লাগলো, সকলে নতুন বৌয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অপরের কাজে না গেলে তো উদরে অন্ন জুটবেনা, জীবন রিয়াদকে ডেকে বলে
দোস্ত তোরা আরাম আয়েশ কর, আমি এখন বের হবো কাজের সন্ধানে, দেখা হবে সেই সন্ধ্যা বেলায়।
হাসিমুখে কাজে বের হয়ে যায় কাজে, পাড়ার সকলে আসছে জীবনের বাড়ীতে যেন একটা আনন্দময় ঘণ মুহুর্ত, মিষ্টি আলাপ হৃদয়ের একান্ত গভীর থেকে গভীরে। তপতী নিজ হাতে জীবনের মায়ের সমস্ত কাজ করে কিছুই করতে দেয়না দেখে যেন মনে হয় আপন মা ও সন্তানের মতো। এখন ওদের হাসিখুশির সংসার, কিছুদিন পর জন্ম হবে তপতীর গর্ভে থেকে আগত একটা ফুটফুটে সন্তান, সকলেই জানবে রিয়াদের সন্তান।
রিয়াজ সাহেব তাহার নিজের ঔরসজাত সন্তানকে সালিশের মধ্যে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করে বিষন্ন মনে একাকী বাটীস্থ পথ অভিমুখে যাত্রা করেন। দোর গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন রিয়াদের স্নেহময়ী জননী রাহেলা,ছোটভাই রাশেদ আর ভাবছে কখন ফিরে আসবে আদরের সন্তানকে সঙ্গে করে নিয়ে। একাকী আসতে দেখে বুকের পাঁজর ভেঙ্গে পড়ে রাহেলার। চোখেমুখে বিষন্নতার ছাপ মুখে নাই কোন ভাষা, নির্বাক স্তব্ধ সকলে। কি বলবে রিয়াজ সাহেব নিজের স্ত্রীকে ও তাহার ছোট সন্তানকে? সমাজের নিকট সম্মান বজায় রাখতে যেয়ে নিজের কাঠগড়ায় নিজেই আসামী, হায়রে সমাজ, সমাজ কি দিতে পারবে সন্তানকে ফিরায়ে স্নেহময়ী জননীর ক্রোড়ে, সমাজ কি পারবে ফিরায়ে দিতে একটু আদর স্নেহ নিতে বড়ভাইয়ের নিকট? সহসা রিয়াজ সাহেব বলে উঠলেন
জীবন যুদ্ধে হেরে গেছি রাহেলা, নিজের সন্তানকে আজ ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করে আসলাম, জানি তোমাদের নিকট কোনদিনই ক্ষমার যোগ্য আমি নই।
রাহেলা ও রাশেদের মুখে কোন ভাষা নাই, অবাক দৃষ্টিতে স্ত্রী দেখছে তার স্বামীকে, সন্তান দেখছে তার বাবাকে। কি জবাব দিবে রিয়াজ সাহেব? রাশেদ সহসা বলে উঠে
যে সুখের বিলাসে ভাইয়া নাই , সেখানে থেকে আমার কি বলতে পারো মা? একদিন হয়তে এমনি করে বাবাও আমাকে অনেক দূরে সরায়ে দিবে।
রিয়াজ সাহেবের আঁখি ছলছল, জল ঝরাতে পারছেনা, হৃদয়ের মাঝে কান্নাকে অতি কষ্টে সন্তানের জন্য দাফন করছে ভাবনার গহীন সাগরে। স্নেহময়ী জননী বাকরুদ্ধ, রাশেদ জলতরঙ্গের মতো ফুঁসে ফুঁসে উঠছে নিজের ভাইকে গৃহে ফিরায়ে আনার জন্য, আর বলছে
ভাইয়া কোথায় গেছে বলো, আমি ভাইয়ার কাছে যাবো, যে আমায় আদর স্নেহ মায়ামমতা দিয়ে আগলে রেখেছিল তাহারে ছাড়া কখনো আমি একবিন্দু জল স্পর্শ করিবনা। কোনদিন ধনী গরীব প্রভেদ করেনি সেই ভাইকে আজ সমস্ত সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে আসলে।
রিয়াজ সাহেবের দম বন্ধ হয়ে আসছে ছোট সন্তানের কথা শুনে কোথায় খুঁজে পাবে রিয়াদকে। কোথায় থেকে ফিরায়ে এনে দিবে রাশেদের কাছে ও রাহেলার ক্রোড়ে, জানেনা কোথায় চলে গেছে।
ঘরে কচুর শাকভাত ছাড়া আর কিছু নাই ভাবনায় অস্থির তপতী। কি করবে ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়ে। রাশেদ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে অভুক্ত উদরে খানা নাই ভাবীকে বলে
ভাবী বড্ড ক্ষুধার্ত আমি, আমায় কিছু খেতে দাও।
তপতী বলে উঠে
চলো পুকুর ঘাটে হাতমুখ ধুয়ে ধুয়ে আসবে তারপর তো খানা খাবে।
তপতী সঙ্গে করে পুকুর ঘাটে নিয়ে যায় হাতমুখ ধুয়ে আসে রাশেদ, ভাবনা অস্থির তপতী কি খেতে দিবে, ঘরেতো শুধু শাকভাত ছাড়া আর কিছুই নাই। ইতস্তবোধ তপতীর, ক্ষুধায় পেট জ্বলছে রাশেদের। রাশেদ বলে উঠে
কই ভাবী আমি ক্ষুধার জ্বালায় মরে গেলাম আর তুমি এখনো আমায় খেতে দিলেনা।
সহসা তপতী বলে
ভাই তোমায় কি খেতে দিবো ঘরে শাকভাত ছাড়া আর কিছুই নাই।
অতি আপন করে স্নেহ আদায়ের লক্ষ্যে রাশেদ ঘরের ভেতর যেয়ে পাতিল থেকে নিজে ভাত খুলে নিয়ে শাক দিয়ে অনেক আনন্দে পেট পুরে খেতে থাকে। অবাক হয়ে দেখছে আর ভাবছে রিয়াদ ও রাশেদের ভেতর কোন পার্থক্য নাই। ভাত খাওয়ার শেষে হাতমুখ ধুয়ে ভাবীর শাড়ীর আঁচলে মুখ মুছে। বহুদিন পরে গরীবের ঘরে তৃপ্তি সহকারে উদর পুরে খানা খেয়ে মুখ মুছে বলে
ভাবী ভাই কখন আসবে বাড়ীতে?
বলতে পারছেনা তপতী তার ভাই অন্ন জোগানের জন্য পরের কাজ করতে গেছে আঁখির জল ছলছল কি বলবে ভেবে দিশেহারা
হঠাৎ রাশেদ বলে
জানি ভাবী তুমি বলতে পারবেনা, আমি বলছি শোনো বড়ো ভাই আমার সংসার চালানোর জন্য পরের কাজ করতে গেছে তাই তুমি বলতে লজ্জায় সঙ্কোচ বোধ করছো, লজ্জা কিসের ভাইতো চুরি করতে যায়নি,এটা আমার অহঙ্কার, আরো জেনে নাও তুমি শুধু আমার ভাবী নও মাতৃ সমতুল্য জননীও। তোমার চরণে আমার ঠাঁই দিও।
জীবনের মা যতই শুনছে ততই অবাক হয়ে পড়ছে আর ভাবছে এখনো কি পৃথিবীতে এমন মানুষ আছে।
বাবা রাশেদ তোমার দুটি ভাই সেতো আসবে সন্ধ্যা বেলায় ওদের সাথে দেখা করে তারপর যেও।

20/02/2026

খুঁজিছো
ইয়াছিন আলী

কোথায় খুঁজিছো ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবানকে?
ধূলির ধরায় লুটোপুটি খায় দেখেছ কি তাহাকে?
মন্দির, মসজিদ, গীর্জাতে খুঁজে ফিরো যতো
কোথাও পাবেনা তাঁহাদেরে মনের মাঝে শতো।

জীর্ণ শীর্ণ অনাহারে পেট ঠেকেছে যাহার পিঠে
তাহারে না খুঁজে, খুৃৃঁজেছো ভাই কাহারে মিঠে?
মক্কা, মদিনা, গয়া কাশি, জেরুজালেম ঘুরে
উপাধি নিয়ে আসিলে বলো আজ কোন সুরে?

বেদন বুকে হাহাকারে ক্রন্দন অবলা নারী
বলতে পারো সে আজ কোন মানবের দ্বারী?
আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বর রয়েছে দেখো সারি।
কোথায় খুঁজে বেড়াও হন্যে হয়ে আজ তাঁহারি?

পথের ধারে ভিখ মাগিছে দেখো মোল্লা আজি
আল্লাহর পথে আনার তরে সকল শরম ত্যাজি।
অর্থ তোমার দিয়েছে উপাধি, দেয়নি সেই জ্ঞান
ফন্দি ফিকির করে সন্যাস রূপে যতই করো ধ্যান।

19/02/2026

I've just reached 2K followers! Thank you for continuing support. I could never have made it without each and every one of you. 🙏🤗🎉

19/01/2026

কে তুমি আড়াল থেকে ডাকো ❤️

12/01/2026

With Farjana Akter – I just got recognized as one of their top fans! 🎉

10/01/2026

তুমি তোমার শরীর যেমন পরিষ্কার করো, ঠিক তেমনি যদি হৃদয় পরিষ্কার করো, তাহলে তুমি একজন প্রকৃত মানুষ।
ইয়াছিন আলী

09/01/2026

মৃত্যু যাহার নিত্য সাথী, সে কেমনে ভালো থাকতে পারে?
ইয়াছিন আলী

Want your business to be the top-listed Government Service in Khulna?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Khulna
KHULNA GPO 9000 & KHULNA HEAD OFFICE 9100